somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ঘুষখবর!

ইয়ে, মানে একটা ব্যাক্তিগত প্রশ্ন করি, শেষ কবে ঘুষ দিয়েছিলেন? মানে ইচ্ছায়, অনিচ্ছায় কিঞ্চিত তেলপানি দেয়া লেগেছিল? পাসপোর্ট করার সময়? বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল সামলানোর জন্য? কলেজের সার্টিফিকেট ইংরেজী করার সময়? বাড়ি সংক্রান্ত কোন কাজে রাজউকে? নাকি বছরশেষে ইনকাম ট্যাক্সের ঝামেলা ভদ্রলোকের মত মেটানোর জন্য আপনার ট্যাক্স লইয়ার আপনাকে বলেছিল আপনার ট্যাক্স এত টাকা, আমার ফী এত টাকা আর এই টাকার ভেতরে জান ছুটানোর জন্য ট্যাক্স অফিসের খরচ এত টাকা?

ভালো লাগুক আর না লাগুক প্রতিনিয়তই বাংলাদেশের আনাচে কানাচে আমরা নানাপদে ঘুষের পাল্লায় পড়ে থাকি। আমি সহজভাবে এই প্র্যাক্টিসকে এইভাবে দেখি, মোটামুটি এমন কোন সরকারী বিভাগ নেই, যেখানে যা আইন অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে হবার কথা সেটি কিঞ্চিত পয়সা খরচ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে হয়ে যাবে, আর উলটো করে বললে এমন কোন বিভাগ নেই, যেখানে কিঞ্চিত পয়সা খরচ করলে, যা আইনে নাই, তা করে ফেলা যায়না। আর আমাদের সচ্চরিত্র জাতির বেসরকারী পর্যায়েও যে বিশাল আকারের টেবিলের তলায় টাকার লেনদেন হয় সেটিও বেশ ভীতিকর। ফলে সত্যি কথা হল, যারা সেবা দানকারী হিসেবে বিশেষ কোন সুবিধা দিতে চান না, অথবা গ্রাহক হিসেবে বিশেষ কোন সুবিধা নিতে চান না, তাদের জন্য দেশের মাটিতে অনেক সময়েই নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা হয়ে যায়।

আমরা জনগণ যেখানে নিয়মিত কিছু লোভী, স্বার্থপর, ধান্দাবাজ লোকের সমন্ময়ে গঠিত দুটি রাজনৈতিক দলকে উলটে পালটে আমাদের ত্রাতা হিসেবে নির্বাচিত করি, সেখানে সরকার বা রাজনৈতিকভাবে এই পরিস্থিতির থেকে উত্তরণের সুযোগ কম। আর দূর্নীতির শিকার যারা তাদের ভিন্ন ভিন্ন হয়রানীগুলোর কোন একত্রিত প্ল্যাটফর্ম বা একত্রিত কন্ঠ নেই। ফলে অবস্থা যা ছিল তাই থাকছে বছরের পর বছর। মাঝখানে কিছুদিন বিজ্ঞাপন দেখতাম র‍্যাবের, যে দূর্নীতির শিকার হলে ধরণের ঠিকানায় ইমেইল করে জানাতে, আদৌ কেউ ইমেইল করত কিনা, বা ইমেইল করে ফল পেয়েছে কিনা সেটি সম্পর্কে তেমন জানা যায়না।

আমি নিজে প্রায়ই ভাবতাম, যে ঘুষের গল্প/বিভীষিকাগুলো যদি কোন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ করা যেত তাহলে সেটি কোন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য কার্যকরী টিপ হতে পারত। একই সাথে সেখানে “কি ছহি পদ্ধতি ব্যাবহার করলে” অমুক অফিসে ঘুষ দেয়া থেকে বাঁচা যাবে এই রকম বিশেষ তরিকাও দেয়া থাকবে যদি সম্ভব হয়। আর ঠিক সেই রকমেরই একটি উদ্যোগের খবর চোখে পড়ায় সেটি নিয়ে আজকে লিখছি।


দূর্নীতি আর ঘুষ বাংলাদেশের একক সমস্যা না। আমরা একসময় চ্যাম্পিয়ন থাকলেও আমাদের ভাই বেরাদেন আরো দেশও তো আছে। আমাদের প্রাক্তন জ্ঞাতি পাকিস্তান নিয়মিতই দেশে-বিদেশে ঘুষ সংস্কৃতির পথিকৃত হিসেবে নাম কুড়ানো। নিকট প্রতিবেশী ভারতের অবস্থাও সত্যি কথা বলতে খুব দূরে না। সেই ভারতেরই দুজন বিলেত ফেরত উদ্যোক্তা নিজ দেশে ফিরে ঘুষোঘুষি করতে করতে ক্লান্ত, ত্যাক্ত, বিরক্ত হয়ে খুলে ফেললেন ওয়েবসাইট “আই পেইড এ ব্রাইব ডট কম/ iPaidaBribe.Com”। মতলব আমি ঘুষ দিয়েছি ডট কম।

ওয়েবসাইটির মুল কাজ হল, হাস্যকর হলেও সত্যি – ঘুষের বাজারদর জনসমাক্ষে প্রকাশ করা। আপনি গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট আনার জন্য গেছেন? ইন্সপেক্টর আপনাকে বলে দিল গাড়ির যা অবস্থা তাতে ফী ছাড়াও আরো হাজারদুয়েক টাকা অতিরিক্ত “তেলপানি” খরচ করা লাগবে। ওয়েবসাইটে যদি দেখেন যে এই কেইসের স্বাভাবিক বাজারদর পাঁচশো টাকা, তাহলে কমপক্ষে দরাদরি করার মত সুযোগ আপনার থাকে। আর একই বিভাগের একই কর্মচারীর বিরুদ্ধে দিনের পর দিন, নিয়মিত অভিযোগ থাকলে, সেটিকে প্রমাণ হিসেবে কর্তৃপক্ষের কাছেও উপস্থাপন করা যায়।

এই ওয়েবসাইটের বারংবার অভিযগের প্রেক্ষিতে ব্যাঙ্গালোরের ট্রান্সপোর্ট কমিশন তাদের বেশকিছু অফিসারদের বকুনি, শাসানী, তিরস্কার, বহিস্কার ইত্যাদি করেছে। একই সাথে এই চিন্তাধারা কিছু কর্মকর্তার মাথায় হলেও ঢুকেছে যে, আজকে আমি একটু বামহাত খরচ করলে সেই খবর শুধু গ্রাহক আর আমার মাঝেই থাকছে না, সেটি অফিস পেরিয়ে জনসমাক্ষে এমনকি অনলাইনের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর কাছে খবর হয়ে যেতে পারে। ফলে অনেকেই একটু বুঝেশুনে চলার চেষ্টা করছেন। আর মোটরবাইক চালকদের নিয়মিত অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথিবীর প্রথম সেন্সরভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় মোটরবাইক ড্রাইভিং টেস্ট সেন্টার চালু হয়েছে ব্যাঙ্গালোরে যেখানে প্রতিদিন আটশোর বেশি পরীক্ষার্থী নিয়মিত পরীক্ষা দিচ্ছেন।

আমার কাছে আইডিয়া এবং তার এক্সিকিউশন দুটোই বেশ মানসম্মত মনে হয়েছে, যা উইকিলিকসের চেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতেও কেউ যদি এরকম একটি ওয়েবসাইট খোলার উদ্যোগ নেন, তবে সেটিও ঠিকমত কাজে লাগাতে পারলে একটি কার্যকরী সাহায্যকারী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

http://ipaidabribe.com/

এই সংক্রান্ত অন্যান্য খবর সংবাদমাধ্যমে
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29395398 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29395398 2011-06-12 09:42:28
খান একাডেমী নিয়ে আরো দুই এক খান কথা

কিছুদিন আগে মার্কিন প্রবাসী বাংলাদেশী সালমান খানের শিক্ষাবিষয়ক ওয়েবসাইট খান একাডেমী নিয়ে লিখেছিলাম । মনে হল, এর ফলোআপ হিসেবে আরো কিছু বিষয় মনে হয় আসা উচিৎ ছিল।

প্রথমতঃ পাঠক ও দর্শকদের আলোচনার কমন প্রশ্ন ছিল যে, সালমান খানের এই ভিডিওগুলি বাংলাদেশের ব্যাবহারের উপযোগী কিনা। আমার হিসেবে একই সাথে হ্যাঁ এবং না। না হল দুটো কারণে, প্রথমত, দেশের গড়পড়তা ছাত্রের ইংরেজী ভীতি ও অদক্ষতা, দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের আধমরা ইন্টারনেট কানেকশনের দ্বারা ইউটিউবের শত শত ভিডিও থেকে জ্ঞানলাভ করার চিন্তা করাই রীতিমত দুঃসাহস। এই পর্যন্ত এসে আমি মোটামুটি সমস্যার শেষ দেখছি। আমার হিসেবে সমস্যার দিকে না তাকিয়ে সমাধানের প্রায়োগিক দিক নিয়ে কাজ করলে অনেকটাই এগিয়ে যাওয়া যায়।

এইটা ধ্রুব সত্য যে বাংলাদেশে ছাত্রদের ইংরেজী শেখা, বোঝা ও বলার মান বেশ খারাপ। তবে এইটাও সত্যি যে, ঢাকা চট্টগ্রাম সহ মহানগরীগুলোতে গত দুই দশকে এক গুচ্ছের ইংরেজী স্কুল তৈরি হয়েছে যেগুলোতে ইংলিশ মিডিয়াম নামের ফার্মের মুরগী চাষ করা হয়। এইসব ছাত্রদের অনেকেরই বাপমায়ের একগুচ্ছের টাকা খরচ হলেও আসল পড়াশোনার অংশে তথৈবচ। বেশী খোঁজা লাগবে না, আপনার নিজের আত্মীয়-স্বজন চিন-পরিচিতের মধ্যেই এরকম কয়েকটা কেস পেয়ে যাবেন। সেইরকম কেস যদি থাকে তাহলে তাদেরকে এই ভিডিওগুলি মজার বস্তু হিসেবে যদি ধরিয়ে দিতে পারেন তাহলে হয়তো তার বিরাট একটা উপকার করবেন আপনি। একই সাথে বাংলা মিডিয়ামের বহু ছাত্রছাত্রী আছে যারা ক্লাস ফাইভ সিক্স থেকেই ইংরেজী মুভী, গানবাদ্যি আর টিভি প্রোগ্রামের পোকা। এদেরকে জোর করেও বাংলা বা হিন্দী গেলানো যায়না, এইরকম কেসও আমাদের পরিচিতদের মধ্যে একদম কম না। তাদের জন্যও একটা খুব ভাল এডুকেশনাল রিসোর্স হওয়া উচিৎ এই টিউটোরিয়ালগুলো। একই সাথে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে কর্মক্ষেত্রে যারা আছেন বা আরো উচ্চতর পড়াশোনা করছেন কিন্তু প্রাথমিক বা মাধ্যমিকের কোন বিষয়ে দুর্বলতা রয়ে গেছে, তাদের জন্যেও জড়তা কাটিয়ে উঠে নিজের দুর্বলতা সারিয়ে নেবার জন্য চমৎকার রিসোর্স। আরেকটি জিনিষ বিশেষভাবে খেয়াল করার জন্য বলছি তা হল, আমেরিকা ও সারা বিশ্বেই এই ভিডিওগুলি মূলত জনপ্রিয় হয়েছে কিছুটা দুর্বল ছাত্রদের কাছেই। অনেকেই আছে যে কলেজে শিক্ষক ত্রিকোনোমিতির একটি অধ্যায় পড়িয়ে চলে গেলেন কিন্তু ছাত্রের জন্য সেইটুকু সময় বা ব্যাখ্যা যথেষ্ট ছিলোনা, তাই বাড়িতে বসে নিজের সময়ে কয়েকবার দেখে নিলে হয়তো জিনিষটা স্পষ্ট হয়ে যেতে পারতো। তাই এই জ্ঞানসাগরের টার্গেট সুপার জিনিয়াসরা না হয়ে একটু দুবলা পাতলা ধরনের শিক্ষার্থী হলেও কোনো সমস্যা নেই।

দ্বিতীয় যে স্পীড ও ব্যান্ডউইথের সমস্যা সেটির ঠেকায় কাজ চালানোর মত একটি সমাধান আছে। সেটি হল, ভিডিওগুলো অফলাইনে ছড়িয়ে দেয়া। আমার বাড়িতে একটু দ্রুতগতির কানেকশন থাকায় প্রায় বারো গিগাবাইটের দেড়হাজারের মত ভিডিও আমার কম্পিউটারে ডাউনলোড করা। কেউ আগ্রহী হলে আমার থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারেন। আমার পরিকল্পনা হল, এলিফেন্ট রোডের একটি কম্পিউটারের দোকানে আমি এই খান একাডেমীর পুরো ভিডিওর কালেকশন রাখব। কেউ নিতে চাইলে হয় নিজের ল্যাপটপ ইত্যাদি নিয়ে এসে কপি করে নিয়ে যাবেন, অথবা তিনটি ভালো মানের খালি ডিভিডি দিয়ে এক সেট কালেকশন নিয়ে যেতে পারেন। তাতে জ্ঞানটুকু ফ্রি হলেও একটু নিজের গতর খাটানো লাগবে। আশা করি কিছু হলেও আগ্রহী দর্শক পাঠক এথেকে উপকৃত হবেন। আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আশা করছি, আরো কয়েকজন এই প্রয়াসকে আরো বেগবান করার জন্য এগিয়ে আসবেন। আমার মনে হয় ঢাকার মধ্যে উত্তরা, মিরপুর, পুরান ঢাকা, মালিবাগ, বনানী এইরকম আট দশটা যায়গায় এক বা একাধিক দোকানে বিনামূল্যে, স্বল্পমূল্যে, নামমাত্রমূল্যে এইগুলোকে পাবার ব্যাবস্থা করে দিলেই হুজুগে বাঙ্গালী হয়তো এই থেকে অনেকটুকুই এগিয়ে নিতে পারবে। ঢাকার বাইরে হলে অবশ্য সমস্যা, তবে সেটার জন্য ভাবছি হয়তো মোবাইলে ফ্লেক্সি করে দিলে আমি কুরিয়ারে পাঠিয়ে দিতে পারব। আরেকটা অপশন মনে হয়, সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রাবাসগুলোতে ছড়িয়ে দেয়া। যেখানে একজনের কম্পিউটারে কোন ইন্টারেস্টিং বস্তু ঢুকলে আটচল্লিশ ঘন্টার ভেতরে সারা হলে বা ডিপার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে সেখানে এই জিনিষ চললেও চলতে পারে। তবে সব কথার শেষ কথা হল, আপনি যদি মনে করেন সারা দেশে বিলি করা আমার দায়িত্ব তবে মোটামুটি নিশ্চিত যে আসলে কিছুই হবে না, কিন্তু যদি ঠিক করেন যে আমার মেজো খালার ছোট ছেলে, পাশের বাড়ির বদমাশ পিচ্চি আর মহাখালীর চাচাতো ভাই এই তিনজনকে আমি এই বস্তু খাওয়াবো তাহলে হয়তো প্র্যাক্টিকালি করা সম্ভব। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থির করে সেটি অর্জনের চেষ্টা করাই যথেষ্ট।



আমার আগের লেখায় খান একাডেমীর ভিডিও গুলো অনুবাদ করার পক্ষে বিপক্ষে কথা হচ্ছিল। তখন অনেকেই বলেছিলেন যে, ভিডিওগুলির জনপ্রিয়তার মূল কারণ কঠিন বিষয়গুলোক সহজভাবে বুঝিয়ে দেবার জন্য সালমানের দক্ষতা। যেটি বাংলায় একই ঢঙ নিয়ে করা মুশকিল। তার বদলে বাংলায় একই বিষয় নিয়ে আলাদাভাবে ভিডিও টিউটোরিয়াল করার বিষয়ে অনেকে মত দিয়েছিলেন। এইখানে আমি আপত্তি তুলব একটু অকারণেই। আমার আপত্তি এই কারণে, যে সালমান খান বাংলাদেশের ছেলে আর তাকে অলরেডী পাকিস্তানী বানানোর জন্য জোর চেষ্টা ইতোমধ্যে হয়েছে এবং এখনো চলছে। উইকিতে রেফারেন্সের এক্সটার্নাল লিঙ্কে গেলে দেখবেন অর্গানাইজেশন ফর পাকিস্তানি এন্টারপ্রেনুয়ার্সের পৃষ্ঠা থেকে সালমানের জীবনীর রেফারেন্স নেয়া হয়েছে। কদিন পরে হয়তো দেখব যে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সম্মান ধরণের কিছু দেয়া হচ্ছে আর সেটি উনি গ্রহণও করে নিয়েছেন। তখন আমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে দেখানোর মত কিছুই থাকবে না। আশঙ্কা এই জন্য করছি যে, খান একাডেমীর ক্রেডিটস এর পাতায় গেলে স্বচ্ছাসেবীদের তালিকা পাওয়া যায়। তাতে অনুবাদের কাজের জন্য দুজনের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা হয়েছে, একজন স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদের জন্য আর দ্বিতীয়জন উর্দু!



ভালো হোক, মন্দ হোক, জঘন্য হোক, বাংলার ছেলের অসামান্য কীর্তির কয়েকশো ভিডিও বাংলায় থাকবেনা এটা কি হতে পারে?



খান একাডেমীর ভিডিওগুলোর জন্য অনেকেই ইমেইলে প্রাপ্তিস্থান জানতে চেয়েছেন। বর্তমানে (৮৩ ল্যাবরেটরী রোড) / এলিফেন্ট রোডের স্মার্ট কম্পিউটারে তিন ডিভিডির ভেতরে সবগুলো ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে। কেউ চাইলে সংগ্রহ করতে পারেন আর যতখুশী কপি পেস্ট করে সবাইরে ফ্রী বিলি করতে পারেন। দোকানে বলেছি তিনটা খালি ডিভিডি নিয়ে কেউ আসলে তারে ফ্রী দিয়ে দিতে আর নাহলে ১০০ টাকা খসায়ে রাখতে। চলে নাকি?



ডিভিডির জন্য যে কভারটা বানিয়েছি সেটি সবার সাথে শেয়ার করলাম

কোন স্বেচ্ছাসেবী যদি ঢাকার অন্য কোথাও দোকান ঠিক করতে পারেন অথবা যারা ডিভিডি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করেন, তাদের মাধ্যমে ছড়ানোর ব্যাবস্থা করতে পারেন তারাও মন্তব্যের ঘরে যোগ করতে পারেন


ফরিদ
প্রশ্ন থাকলে করুনঃ

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29295843 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29295843 2010-12-25 14:45:05
সালমান খানের আরেকজন ভক্ত বলছি

হিন্দী সিনেমার নায়কদের নামগুলো অনেক সময় জনমানুষের সাথে মিলেমিশে যায়। এই যেমন ধরেন আপনি বিলেতের উত্তরের কোন শহরে গিয়ে বললেন যে, আমি আমির খানেরে ‘সাপোট করি’, তাহলে ভাল সম্ভাবনা হল, যে আপনার কথার অর্থ ধরে নেয়া হবে অলিম্পিকে মেডেল পাওয়া কিশোর বক্সার আমির খানের কথাই বলছেন। এই অল্প কদিন আগ পর্যন্তও শাহরুখ নাম বললে তার সাথে ভারতীয় কারো সম্পর্ক ধরা হোত না, বরং শাহরুখ নামে ইনিই বেশী পরিচিত ছিলেন। তেমনি আরেক নায়োকচিত কিংবাদন্তী পুরুষ হলেন সালমান খান। হ্যাঁ আমি এইবারও স্বল্পবসনা পেশীবহুল কারো নাম নিচ্ছিনা, আরেকজন সালমান খান যিনি তার নায়োকোচিত নাম নিয়েই বসে ছিলেন না বরং একাই পৃথিবীর মানচিত্র পালটে দেবার মত এক দুঃসাহসী কাজ ইতিমধ্যে করে ফেলেছেন।

শুরুটা হয়েছিল মোটামুটি সহজ ভাবেই, খানবাবা আম্রিকা থাকেন, এম,আই,টির ট্রিপল গ্র্যাজুয়েট (একলগে ম্যাথ, ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিরি আর কম্পু), লগে হার্ভার্ডের এম্বিএ আর লাগে কি। হেজ ফান্ড, ক্যাপিটাল মার্কেট এইসব নিয়া কাজকাম। একদিন তার এক খালা এসে ধরল, আমার মাইয়াটারে একটু অংক দেখাইয়া দাওগো। খান থাকে এক শহরে বইন থাকে আরেক শহরে, হাইফাই ব্রডব্যান্ডের জমানায়, নো পেরবলেম, ইয়াহু ম্যাসেঞ্জারের ডুডল নোটপ্যাডে ভয়েস চ্যাট আর আঁকিবুঁকি নিয়ে ভার্চুয়াল ক্লাস নেয়া শুরু হল। পরীক্ষায় রেজাল্টে ফেল্টুশ বোন দিব্যি ছক্কা মারল। এইরকম আরো দুচারটা কেসের পরে সালমান চিন্তা করছিলেন এই অনলাইন মাস্টারিগিরিকে কিভাবে আরো ছড়িয়ে দেয়া যায়। পরবর্তীতে এইগুলোকে পুরোদস্তুর ভিডিও করে ইউটিউবে আপলোড করা হল। তার কিছুদিন পরে এক আশ্চর্য জিনিষ দেখা গেল, সারা পৃথিবীর বিভিন্ন যায়গা থেকে বিশেষ করে আমেরিকারই বিভিন্ন যায়গা থেকে অসম্ভব হিট আসা শুরু করল এবং এর প্রায় সব দর্শকই দেখা যাচ্ছে স্কুল ও কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা। এই পাবলিসিটি এতই বাড়া বাড়ল যে, এক পর্যায়ে তিনি এক দুঃসাহসীক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। নটা-পাঁচটার নিয়মিত চাকরী ছেড়ে দিয়ে অনলাইন ফ্রি টিউটোরিয়াল বানানোকেই ফুলটাইম কাজ হিসেবে নিয়ে নিলেন। নিয়মিত কিছুকিছু করে তৈরি করতে করতে আজ পর্যন্ত ১৮০০+ টিউটোরিয়াল একদম একাএকাই তৈরি করে ফেললেন।

এইবারে আসি ভিডিওগুলির ব্যাপারে। প্রথমত কোন ঝকমকা এনিমেশন নাই, গ্রাফিক্সের বলিহারি নাই, দিব্যি কালো একটা স্ক্রীন তার মাঝে কিছুক্ষণ পরে পরে কাঁচা হাতে আঁকিবুকি হচ্ছে আর কেউ একজন ঘ্যানঘ্যান করে অডিওতে কথা বলছে। প্রশ্ন হল এইখানে ম্যাজিকটা কোথায়? একটু ফিরে যান আপনার ছোটবেলায় স্কুলের দিনগুলিতে। আমার বিশ্বাস প্রত্যেকেরি অভিজ্ঞতা আছে নিজের বড়ভাই, পাড়ার বড়ভাই বা পাশের বিল্ডিং এর ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া যিনি আপনার পড়াশোনার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গী বদলানো ও সমস্যা সমাধানের মৌলিক আগ্রহ জাগানোর জন্য অসাধারণ অবদান রেখেছেন। ভিডিওর ধরণটাও অনেকটা তেমনই। শুনলে মনেই হবেনা যে ক্লাস করছেন, মনে হবে এই সাধারণ একটা জিনিষ কেউ একজন আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। যিনি বোঝাচ্ছেন, তিনি নিজেও আপনার চেয়ে মহা আঁতেল কেউ না, বরং ভাবখানা যেন আমিও গত সপ্তাহেই শিখেছি ব্যাপারটা, ভূলে যাবার আগেই তোমারে একটু শিখায়ে দেই। খুব সীমিত দৈর্ঘের (৩-৭ মিনিট) এই ভিডিওগুলোতে যেকোন বয়সের শিক্ষার্থীর জন্য একদম ডুবে যাওয়াই স্বাভাবিক। তাই টের পাবার আগেই দেখা যাচ্ছে উল্লেখিত ক্লাসের বিষয়টি শিক্ষার্থী শিখে ফেলছে। আর এই অদ্ভূত অভিজ্ঞতা একজন, দুইজন না বরং আমেরিকা ও সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর এখন। উঁচু বেতনের অফিস ফেলে গোঁয়ারের মত লেগে থাকার ফলে সালমান খান বর্তমানে আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় শিক্ষকদের মধ্যে একজন প্লাস রীতিমত সেলিব্রিটি।

সালমান খানের করা ইউটিউবের ভিডিও নিয়ে ওয়েবসাইট খান একাডেমী। এই আকর্ষণীয় প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে আমি প্রথম দেখি ২০১০ সালের প্রথম দিকে। তখুনি প্রচন্ড কাজের একটা জিনিষ মনে হয়েছিল আর এই নিয়ে ব্লগেও লিখব মনে করেছিলাম। আজকে খান একাডেমী নিয়ে একটু অতিরিক্ত বাকবাকুম হয়ে আছি আমি কয়েকটা কারণে। এই মহা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফ্যান হিসেবে বিল গেটস নিজেকে পরিচয় দিতে সম্মানিত বোধ করেন। মাইক্রোসফটের এডুকেশন এওয়ার্ড পেয়েছিল এই সাইটটি আগেই। আজকে যেটা আবিষ্কার করলাম যে, গুগল ২০০৮ সালে প্রোজেক্ট ১০ টুদিপাওয়ার ১০০ নামে প্রোজেক্টটি চালু করে। তাতে পৃথিবী বদলে যেতে পারে এমন আইডিয়া চাওয়া হয় সারা পৃথিবীর কাছে। প্রায় ১৫,০০০ আইডিয়া জমা পড়ে সারা পৃথিবী থেকে। সেখান থেকে প্রায় দেড় বছর যাচাই বাছাই করে ১৬ টি পরিকল্পনা ঠিক করা হয়, সেখান থেকেও ভোটাভুটির মাধ্যমে ৫ টি আইডিয়াকে গুগলের পক্ষ থেকে ২ মিলিয়ন ডলার করে দেয়া হয়। শিক্ষা খাতে পৃথিবীর সেরা প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হয় এই খান একাডেমী। আমার দৃষ্টিতে এক হিসেবে নোবেল পুরস্কারের চেয়েও বড়ো অর্জন পৃথিবীর সেরা চ্যালেঞ্জ জিতে নেয়া এই সম্মান। এই অর্থ দেয়া হয় আরো অনেক বেশী ভিডিও আরো বেশী ভাষায় অনুবাদ যেন করা যায় সেই জন্য।

এই তো গেলো পুরস্কার পাবার পরের কথা, কিন্তু সালমান খানের এই ভিডিওগুলির কল্যাণে তিনি যখন ছোট বা মাঝারি আকারে পরিচিত, তখনই বিভিন্ন যায়গা থেকে অফার এসেছিল এইগুলোকে বাণিজ্যিকিকরণ করার। তাতে তিনি দিব্যি সেলিব্রিটি থেকে ধনী সেলিব্রিটিতে পরিণত হতেন একই সাথে বানিজ্যিক বিপনন মাধ্যমগুলোতে তার শিক্ষা ছড়ানো যেত। কিন্তু ধীরস্থী বিনয়ী এই শিক্ষাতাপস সযত্নে এইসব প্রোলভন এড়িয়ে গেছেন আর তার ভিডিওগুলি বিতরণ করেছেন ওপেন সোর্স লাইসেন্সের মাধ্যমে। অর্থাৎ, যে কেউ ডাউনলোড করে যতখুশি বিতরণ করতে পারবে, দিব্যি ইংরেজীর যায়গায় চীনে ভাষায় অনুবাদ করতে পারবে কোন আইনী বাধা ছাড়াই। এই বিষয়ে ব্লগার ডেভিড তাকে উৎসাহিত করেন তার প্রকল্প মুক্ত রাখার জন্য।

আরেকটা যেই কারণে অমানুষিক আনন্দ হচ্ছে সেটা বলছি। গতবার খান একাডেমী দেখার পরে ইচ্ছে হয়েছিল এই চমৎকার উদ্যোগ নিয়ে ব্লগে লিখব। কিন্তু আলসেমী সহ আরো অন্যান্য কারনগুলোর মধ্যে একটা ছিল যে সালমান খানের বাড়ী পাকিস্তান অথবা উত্তর পশ্চিম ভারত বলে মনে হচ্ছিল। তাই আরেকদিন লিখুমনে বলে মনে মনে ড্রাফট করে ফেলেছিলাম। আজকে চেক করে দেখলাম যে কয় কি! মনুর বাড়ী বরিশাল! বাংলার জন্য, বাংলাদেশের জন্য এটা বিপুল এক গৌরব!

স্প্যানিশ সহ আরো বেশ কিছু ভাষায় ইতমধ্যে সালমান খানের করা ভিডিওগুলি অনুবাদ করা শুরু হয়ে গেছে। স্রেফ আলসেমীর কারণে খুব সম্ভবত বাংলার মুখ দেখবে না। তবুও আমন্ত্রণ রইল খান একাডেমীতে।

পূর্বে প্রকাশিত ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29260496 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29260496 2010-10-24 14:28:07
ই-কমার্সের সোনার পাথরবাটি

গল্পটা শুনেছিলাম বেশ কিছুদিন আগেই, এক লোকের মানিব্যাগ চুরি গেল, দেখা গেল যে অন্যান্য কাগজপাতির কপি বের করলেও ক্রেডিট কার্ডের জন্য আর এপ্ল্যাই করেনা। কদিন পরে তার বউ ধরল, হ্যাঁগো! সব করছ, আর টাকাপয়সার এই জরুরী জিনিষটাই ব্যাঙ্কে রিপোর্ট করলেনা? ভদ্রলোক বিরস কন্ঠে বললেন গতমাসে দেখলাম তুমি প্রতিমাসে গড়পড়তা যা খরচ কর, তার চেয়ে চোর বাবাজী কমই খরচ করেছে। তাই যদ্দিন ঐ বেচারা কম খরচে চালাতে পারে তদ্দিন কার্ড অর কাছেই থাকুক। এই হল আজকালকার প্লাস্টিকের পয়সার সমস্যা। এক কার্ডেই পকেট পুরো ফাঁকা করে দেয়া যায় আর ঐ এক কার্ডেই পৃথিবীর যেকোন যায়গায় গিয়ে দিব্যি বিকিকিনি করা যায়।অনলাইনের জমানা আসার পরে তো এই প্লাস্টিক মানি’র বৈশ্বয়িক প্রয়োগ আরো বহুগুণে বেড়ে গেছে। ঢাকায় বসে ই-বে’তে ফোনের মেমোরী কার্ড অর্ডার করলেন, যেটা চায়না থেকে একেবারে আপনার বাড়িতে পৌঁছে গেল। আমাদের কাহিনী এতোদিন পর্যন্ত মোটামুটি এইখানেই শেষ ছিল।

আমাদের জন্য অনলাইনে কেনাকাটা এক নিষিদ্ধ প্রাচীরের ওপারের জিনিষ, যেখানে বাংলার অধিবাসীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। তথ্য পাচার হয়ে যাবে, টাকা হুন্ডী হয়ে চলে যাবে, চোর ডাকাতের উপকার হবে, হ্যান ত্যান ম্যালা ফ্যাকড়া লাগিয়ে বাংলাদেশে অনলাইনে কেনাবাচার সুযোগটি এতোদিন বন্ধ ছিল।বিদেশ থেকে দশ কোটি টাকা পাঠান, কোন সমস্যা নাই, কোটিপতি ব্যাবসায়ী আপনি হলিডে করতে ইউরোপ যাচ্ছেন, তখন ব্যাগভর্তি ৫০০ ইউরোর নোট নিয়ে যান এয়ারপোর্টে সালাম করে যেতে দেবে, কিন্তু আপনার নিজের টাকা দিয়ে অনলাইনে কয়েক হাজার টাকার কেনাকাটা করবেন, তো আপনি মেগা ক্রিমিনাল হয়ে গেলেন। আপনাকে ঠেকানোর জন্য জনদরদী সরকার সর্বশক্তি খরচ করবে। সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্রের সামান্য পরিবর্তন হয়েছে, যার কিছুটা আভাষ দেবার জন্যই এই লেখার অবতারণা।

ই-কমার্সের অংশঃ
গেলবছর নভেম্বর মাসে মনে হয় বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে অনলাইনে ট্র্যাঞ্জাকশন করার সুযোগ করে দেবার জন্য নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই থেকে একটু আশায় ছিলাম যে কবে এই বন্ধ দুয়ার খুলবে। কিছুদিন পরে ডাচ বাংলা ব্যাঙ্ক তাদের প্রথম অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে গ্রাহকদের ব্যাবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। এই বিষয়ে সবচেয়ে তথ্যবহুল লেখা পেলাম প্রজন্ম ফোরামের সমন্ময়ক হাংরি কোডারের ব্লগে । খোঁজখবর নিয়ে দেখলাম যে আরেকটি প্রতিষ্ঠান ব্যাঙ্ক আর ওয়েবের মাঝামাঝি সমন্ময়কারী হিসেবে কাজ করে। তাদের সাথে যোগাযোগ করে কিছুদিন আগে বইমেলা ডট কমে ‘বাংলাদেশী’, ‘ডিজিটাল’, ‘যুগান্তকারী’ ই-কমার্স যোগ করলাম।

এখন তাত্বিকভাবে বাংলাদেশের ভেতর থেকেই অনলাইনে কেনাকাটা করা যাবে দেশী কার্ডের মাধ্যমে। তবে দুরাশার কথা হল, পদ্ধতিটি এখন পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক বিদেশী কার্ডের সাথে কাজ করছে (আমার লন্ডনী কার্ড নিল, কিন্তু আমার এক বড়ভাইয়ের আমেরিকান কার্ড নেয়নি) আর দেশী কার্ডের মধ্যেও সীমিতসংখ্যক ব্যাঙ্কের ভিসা এবং মাস্টারকার্ড কাজ করে। আমার নিজের ডাচবাংলার যে এটিএম কার্ড আছে সেটির পাত্তা নেই। তবে আশার কথা হল, আরো বিস্তৃত আকারে আরো বেশী সংখ্যক গ্রাহকের সেবা দেয়ার জন্য সমন্বয়ের কাজ চলছে। আমাদের কপাল ফাটা, তাই এখনো অধিকাংশ ব্যাঙ্কের মনোভাবই দ্বিতীয় প্যারায় যেরকম বলা হয়েছে গ্রাহকদের প্রতি সেরকমই। বইমেলাকে পাঠনো অফারটি শেয়ার করলাম এখানে। ডাচ বাংলার আরো দুটো লিঙ্ক এখানে এখানে
বর্তমানে অনলাইন ব্যাঙ্কিং সমর্থিত কার্ডের দুটো তালিকা আছে আমার কাছে। আর এছাড়াও বিদেশের কার্ড কিছু কাজ করে কিছু করেনা।

অনলাইন ট্র্যানজাকশনের উপযোগী বাংলাদেশী ভিসা কার্ড

অনলাইন ট্র্যানজাকশনের উপযোগী বাংলাদেশী ভিসা ও মাস্টারকার্ড



তাই টুকটাক অনলাইন ব্যাঙ্কিং এর যুগ শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশে অবশেষে। আরো কয়েক বছর লাগবে হয়তো সম্পুর্ণ কাঠামো দাঁড়িয়ে যেতে, কিন্তু বাংলাদেশে বসে আপনি বাংলাদেশী পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশী গ্রাহকের কাছেই আর সেই অর্থ আপনার দেশী ব্যাঙ্কেই জমা হবে। এটা প্রায় স্বপ্ন হল সত্যি টাইপের অনুভূতি।

বইমেলার অংশঃ
আর আমাদের বইমেলার যে ওয়েবসাইট সেটি দুই দিক থেকে বেশ কার্যকরী হতে পারে বলে আমার মনে হয়। প্রথমতঃ ঢাকার বাইরের শহরগুলোতে, বিশেষতঃ বিভাগীয় শহরের বাইরে, জেলা শহরগুলোতেও বইয়ের সংগ্রহ নিতান্তই সীমিত। গৎবাঁধা কিছু জনপ্রিয় বই থাকে আর পাঠ্যবই নিয়েই সংগ্রহ শেষ। আর দোকানদারেরও খুব দোষ নেই, যেই বই পাঁচ কপি আনলে পাঁচ বছরে এক কপি বিক্রী হবে, সেটি নিয়ে আর কি করবে? এক্ষেত্রে অনলাইনে ক্রয়ের সুবিধাসমৃদ্ধ কার্ডের প্রচল আরো বাড়লে প্রত্যন্ত্য অঞ্চলেরও নেট সচেতন পাঠকদের জন্য বইয়ের বিপুল সংগ্রহ হাতের নাগলে চলে আসবে।

দ্বিতীয়তঃ আমার হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য বাংলাদেশের ভেতরে উপহার হিসেবে পাঠানোর জন্য বই বেশ মানানসই ও চলনসই আইটেম। আমাদের সবারই বাড়িতে ভাগিনা, ভাতিজা, ছোট ভাইবোন আছে, অনেকেরই দেশে “বিশেষ কেউ” আছে যার কাছে চিরন্তন আবেদন হিসেবে পাঠানোর জন্য বই চমৎকার জিনিষ। কদিন আগেই বই উপহার দিবস নিয়ে অনলাইনে বেশ লেখালিখি হল, বিদেশে বই পাঠানো বেশ খরচসাধ্য হলেও দেশে ভেতরের ডাকমাসুল মোটামুটি সহনীয় পর্যায়েই আছে এখন পর্যন্ত।

বাংলাদেশী গেটওয়ে দিয়ে অর্ডার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে এ মেইল করে দিতে পারেন, আমি গেটওয়ের কাছে পাঠিয়ে দেব। সম্পুর্ণ সিস্টেম এখনো সাইজে আসেনি বলে ওনারাও বলেছেন সমস্যা থাকলে ওনাদের নিয়মিত বিরক্ত করতে।

বাঘ ভাল্লুক, পোকামাকড়ঃ
বইমেলার সাইট মোটামুটি হাতুড়ী বাটালি দিয়ে নিজেদেরই করা, তাই মাঝেমধ্যে এদিক সেদিকে এক দুটা পোকামাকড়ের খবর পাওয়া যায়, তাই আগে থেকেই সাবধান করে দিচ্ছি। প্রথমতঃ একদম অর্ডার করার পাতায় গেলে দু-একজনের সময় এরর দেয়। ব্রাউজার বন্ধ করে, নতুন ব্রাউজার খুলে ট্রাই করতে পারেন, অথবা অন্য সময় ঢুকে দেখতে পারেন। দ্বিতীয়তঃ ডাচ বাংলার যে গেটওয়ে সেটি অনেক বিদেশী কার্ডই নেয়না, সেটির সমাধান হল পেপ্যালে একাউন্ট থাকলে তার মাধ্যমে কাজ সারা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29245966 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29245966 2010-09-27 11:54:06
রেডমন্ডের ফটোকপিয়ারগুলো
প্রচন্ড প্রতিযোগিতার প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক মুহুর্তের বিশ্রামও মহা সমস্যার কারণ। কারণ আপনার প্রতিযোগীরা মোটেও থেমে নেই আর তারাও আপনার মতই বা আপনার চেয়ে বেশী পরিশ্রমী। তাই কাছাকাছি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস থাকলে নতুন কোন ফিচার একজন আবিষ্কার বা তৈরি করলে খুব দ্রুতই সেটি অন্যান্য প্রতিযোগীদের প্রোডাক্টে চলে আসে। আর আপনার পরবর্তী ভার্সন আসতে যদি দেরী হয় তবে আপনার ভার্সন স্বভাবতই অন্যদের অনুকরণ বলে মনে হবে। ঠিক এই বিষয়টিই ঘটেছিল উইন্ডোজ এক্সপির ব্যাপারে। প্রচন্ড জনপ্রিয় এই অপারেটিং সিস্টেমের পরবর্তী সংস্করণ আনতে বেশ অনেক বছর সময় নেয় মাইক্রোসফট এই চার পাঁচ বছরে সম্পুর্ণ প্রযুক্তিবিশ্বেই যেসব নতুন ধারণা ও আবিষ্কারগুলো এসেছিল তার অনেকগুলোই আরো ছোট লাইফ সাইকেলের অপারেটিং সিস্টেমগুলো নিয়ে এসেছিল। তাই প্রতিবছর নতুন ভার্সন সমৃদ্ধ এপেলের OS-X প্ল্যাটফর্ম তখন মাইক্রোসফটকে নিয়ে বেশ রগড় করত। ২০০৬ সালের ডেভেলাপার কনফারেন্সের তো স্বাগতম ব্যানারেই লিখে ফেলল। “রেডমন্ড স্টার্ট ইয়োর ফটোকপিয়ার্স |” অর্থাৎ আমাদের নতুন ফীচারগুলো দেখে তারপরে তোমাদের সিস্টেমে ঢুকাও। মাইক্রোসফট অপারেটিং সিস্টেমের ভেতরে সার্চ ঢোকানোর বেশ আগেই এপেলের ফাইন্ডার রেডী। উইন্ডোজের ডেস্কটপের গ্যাজেটের বহু আগে থেকেই ম্যাকে আছে উইজেটগুলো। আরো ম্যালাকিছু। এইখানে মাইক্রোসফটের দোষ একেবারেই নেই তা নয়, অনেক অর্থেই ম্যাকের একুয়া ইন্টারফেসের কপিই মনে হবে আজকালকার উইন্ডোজগুলোকে।

তবে সত্যি কথা হল, ঠিক মাইক্রোসফটের বদনাম করার জন্য আজকের পোস্ট না, বরং উল্টোটাই সত্যি। অনেক ক্ষেত্রেই মাইক্রোসফট বহু বছর ধরেই প্রতিযোগীদের ধরার জন্য হাঁসফাঁস করে দৌড়াচ্ছে, বিশেষ করে ইন্টারনেটের তো কথাই নেই। গুগলকে ধরা তো দূরের কথা সুদূর ভবিষ্যতেও ধরতে পারবে তার সম্ভাবনাও নিতান্তই ক্ষীণ তা মাইক্রোসফট নিজেও জানে। এক্কেবারে হোপলেস হবার পরেও প্রথমে এমএসএন সার্চ, তারপরে লাইভ সার্চ ও বর্তমানে বিং সার্চ ইঞ্জিন বেশ চেষ্টা করে যাচ্ছে গুগলের সার্চ দুর্গে ক্ষীণ আক্রমনের। তবে এই প্রথম দেখলাম গুগল তাদের মূল কোন প্রোডাক্টের পরিবর্তন করল যেটি দেখতে মাইক্রোসফটের প্রডাক্টের মত। গুগলের আগেও সার্চ ইঞ্জিন অনেকগুলোই ছিল কিন্তু যতদূর মনে পড়ে ছবি খোঁজার ব্যাবস্থা গুগলই প্রথম বা একদম প্রথমগুলোর মধ্যে ছিল। আর সত্যি কথা হল, এতদিন গুগল ছেড়ে অন্য সার্চ ইঞ্জিনে ছবি খোঁজার কথা চিন্তাও কখনো করিনি। সেই প্রথম উদ্বোধনের পরে এই প্রথম গুগল ইমেজ সার্চের বড়সড় ইন্টারফেসগত পরিবর্তন দেখে প্রথম যেই কথা মনে হয়, তা হল, এইটা মাইক্রোসফটের সার্চ থেকে কপি করা হয়েছে। একেবারে প্রায় দশপাতা পরিমাণে ছবি দেখানো, ছবির ওপরে মাউস রাখলে বড় প্রিভিউ সাথে সাথে সম্পুর্ণ লুক এন্ড ফিল অনেকটাই বিং থেকে ধার করা মনে হয়। (আগের চেহারা আর আজকের চেহারা , বিং চেহারা ) তবে কিছুটা প্রেরণা মনে হয় ফায়ারফক্সের প্রচন্ড জনপ্রিয় ছবির প্লাগিন কুলিরিস থেকেও নেয়া হয়েছে। সাবাশ মাইক্রোসফট!

শুধু একটি বিষয় নিয়ে এতো লম্বা লেখার উৎসাহ থাকতো না যদি না আরেকটি মহা কাজের টুল আবিষ্কার করতাম। উইন্ডোজের রিমোট ডেস্কটপের ব্যাবহারকারী সবাই নাহলেও খুব কম না। শুধু রিয়েল আইপি থাকলেই আপনার মেশিনকে সারা পৃথিবীর যেকোন খান থেকে নিজের সামনের টার্মিনালে নিয়ে আসার বেশ চমৎকার একটি ব্যাবস্থা। আর রিমোট ডেস্কটপের সাথে সংযোগের জন্য উইন্ডজের সাথেই বিল্টইন থাকে “রিমোট ডেস্কটপ কানেকশন ”। সেটিও মোটামুটি কাজের জিনিষ। কিন্তু সমস্যা বাধে যখন আপনাকে বেশকিছু কম্পিউটারে নিয়মিত লগিন করা লাগে, আর একই মেশিনে একাধিক একাউন্টে ঢোকা লাগে, সেই অবস্থায় অথেন্টিকেশন তথ্য গুছিয়ে রাখার জন্য উইন্ডোজের রিমোট ডেস্কটপ কানেকশন মহা ফালতু জিনিষ। প্রতিবার ইউজার বদলানোর জন্য ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড লেখো। কি ঝামেলা! কিছুদিন আগেই খুঁজতে গিয়ে দেখলাম কানেকশনগুলোর তথ্য নিয়ন্ত্রনের জন্য “রিমোট ডেস্কটপ কানেকশন ম্যানেজার ” নামে একটী টুল বের হয়েছে, আর বের করেছে স্বয়ং মাইক্রোসফট আর জেনুইন উইন্ডজ থাকলে একদম ফ্রী! ইচ্ছেমত সার্ভার যোগ করে তাদের প্রয়োজনমত তথ্য সংরক্ষণ করে কাজ করার জন্য দেখলাম এটি চমৎকার টুল। সত্যি কথা বলতে একদম ড্রীম কাম ট্রু টাইপের। বেশী লিখলাম না, যারা রিমোট ডেস্কটপ নিয়মিত ব্যাবহার করেন তারা ঘেঁটে দেখতে পারেন।

তৃতীয় ফীচার যেটির কথা লিখব এখন তা হল এন্টিভাইরাস! সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাইরাসবান্ধব অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজের অপারেটিং সিস্টেম পরিবার এখনো অপ্রতিদ্বন্দী। আর তাই যত ভাইরাস ততো এন্টীভাইরাস কোম্পানী। বাংলাদেশে থেকে চুটিয়ে ব্যাবসা করতে পেরেছে এমন রেকর্ড মাইক্রোসফট, এডোবি, সান, এপল কারোরই নেই কিন্তু সেই দুর্গে একমাত্র আঘাত হেনেছে ক্যাস্পার্স্কি আর নড৩২ । সেই রাশিয়া আর পোল্যান্ডের এন্টিভাইরাস কোম্পানী এসে বাঙ্গালীর পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে যাবে কে ভেবেছিল? সম্ভবত মুদি দোকানে বাকী রাখা যায়, ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া যায় কিন্তু চাঁদা দিতেই হয়, নাকি? এই প্রসঙ্গে যা লেখা শুরু করেছিলাম তা হল, সব এন্টীভাইরাস কোম্পানী লুটেপুটে খাচ্ছে দেখে বিলু মামারও শখ হল যে তিনিও এন্টিভাইরাস বানাবেন। তাই লাইভ ওয়ানকেয়ার নামে বেশ খেটেখুটে এন্টিভাইরাস বানালো ডেভুরা। কিন্তু জনগণ মুরগী পাহারার জন্য শেয়ালকে বিশ্বাস করে সারতে পারলো না। তাই গড়পড়তা ভাল হবার পরেও তেমন কেউ কিনলো না সেটি। ফলে মনের দুঃখে কিছুদিন পরে সেটিকে ফ্রি করে দিল মাইক্রোসফট। বর্তমানে মাইক্রোসফট সিকিউরিটি এসেনশিয়াল নামে কাজ ডাউনলোড করা যায় এই এন্টিভাইরাসটি। রিসোর্স খাবার দিক থেকে বেশ হালকা চুপচাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে আর গত দেড় বছর ব্যাবহার করছি একই অপারেটিং সিস্টেম নতুন ইন্সটলেশন ছাড়াই আরামে। আর সর্বোপরি ফ্রি। এটিও জেনুইন উইন্ডোজে চলে।

আরেকটি ফীচার যদিও এটি গুগলের সাথে ‘ক্যাচ আপ’। গুগলের ডকুমেন্টস ব্যাবহার করে আসছি প্রায় গত তিন বছর ধরেই। আজকাল সব ফাইলেরই এক কপি থাকে মেঘের ভেলায়। কিছুদিন হয় মাইক্রোসফটও তাদের অফিস লাইভ চালু করেছে। দিব্যি ডকুমেন্ট, স্প্রেডশীট, প্রেজেন্টেশন, নোট ইত্যাদি অনলাইনেই সেরে ফেলা যায় অফিসের পরিচিত ইন্টারফেসে । হটমেইলের স্কাইড্রাইভ থেকেও সারা যায়। আজকাল ২৫ গিগাবাইট যায়গা দিচ্ছে ফাইলপত্র রাখার জন্য। মন্দ না।

আর ওপেন সোর্স ? তাদের সাথেও আজকাল একটু নরম সুরে কথা বলা শুরু করেছে। হাজার হোক তারাও তো কাস্টোমার

[নোটঃ আমেরিকার ওয়াশিংটনের সিয়াটলের রেডমন্ডে মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের হেড অফিস। তাই অনেক সময়েই রেডমন্ড ] নামেই ডাকা হয় মাইক্রোসফটকে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29235982 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29235982 2010-09-06 12:21:02
সোজা বাংলায়

আমরা প্রায়ই বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ‘সোজা বাংলায়’ কথাটি ব্যাবহার করি। এই সোজা বাংলা যে আসলে কি, আর সেটি কার জন্য সোজা আর কার জন্য কঠিন তার কোন কুলকিনারা মনে হয় কারোরই জানা নেই। সোজা বাংলার বিষয়টি এই জন্য অবতারণা করা যে, ইংরেজী ভাষার সহজ একটি সংস্করণ কিন্তু আছে। শুধু আছেই না, তা দিয়ে রীতিমত লেখালিখি করা হয়।

কদিন আগেই উইকিপিডিয়াতে ঘোরাঘুরি করতে করতে দৈববশে বেড়াল বিষয়ক একটি প্রবন্ধের মুখোমুখি হলাম। বেড়ালের মত এমন নিরীহ প্রাণীকে নিয়ে যে অঙ্কের এমন জটিল প্যাঁচ লাগানো যায় আমার ধারণাতেও ছিলনা। কয়েক মিনিট গুঁতোগুঁতির পরে যখন চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলাম তখন দেখলাম পাশের অনুবাদগুলোর মধ্যে সহজ ইংরেজীর একটি লিঙ্ক। সেখানে একনজর বুলাতেই জিনিষটা বেশ সহজবোধ্য হয়ে গেল।

বিষয়টা এইরকম যে পরীক্ষার নিমিত্তে একটি ঘরে বিষাক্ত তেজস্ক্রিয় পদার্থ একটি পাত্রে রেখে সেখানে একটি বেড়ালকে প্রবেশ করানো হল। এখন তেজস্ক্রিয় পদার্থটি কিছু সময় পরে বিক্রিয়া করে বিকিরণ ঘটাতে পারে যার ফলে বেড়ালের মৃত্যু হতে পারে। এখন এক ঘন্টা পরে আমাদের জানা নেই যে বেড়ালটি জীবিত না মৃত। এই সময়ে বিক্রিয়া নাও হতে পারে এবং বেড়ালটি বাঁচতে পারে আবার বিকিরণের ফলে মারাও যেতে পারে। কিন্তু দরজা খুললেই পরিক্ষাটি সমাপ্ত হয়ে যাবে। ফলে বেড়ালের স্বাস্থ্যের খবর জানা যাবে কিন্তু পরীক্ষাটি শেষ হয়ে যাবে। কোয়ান্টম পদার্থবিজ্ঞানের অনিশ্চয়তা বোঝানোর জন্য এটি একটি বেশ বিখ্যাত মনসপরীক্ষা। এখন আপনারাই খুঁজে দেখেন অজ্ঞানীদের উইকি আর গিয়ানীদের উইকি

চার্লস কে ওজেন নামের এক দার্শনিক ও ভাষাবিদ ১৯৩০ সালের দিকে বেসিক ইংলিশঃইন্ট্রোডাকশন টু রুলস এন্ড গ্রামার নামের একটি বই লেখেন তাতে সীমিত আকারে ইংরেজী শেখানোর বিশেষত বিদেশীদের ইংরেজী শেখানোর জন্য তিনি মৌলিক ইংরেজীর ভিত্তি প্রস্তাব করেন। এই সহজ ইংরেজীতে সাকুল্যে ৮৫০ খানা শব্দকে তিনি স্থান দিয়েছেন। যেসব শব্দ প্রতিদিনের ভাবপ্রকাশের জন্য সর্বত্র ব্যাবহার হয়। এর মধ্যে শপাঁচেক ক্রিয়া, শদুয়েক বিশেষ্য, শখানেক বিশেষণ আর গোটা পঞ্চাশেক বিপরীতের সমাহার। শব্দের তালিকার লিঙ্ক এখানে দেয়া হল।এই লিস্টি দেখলে নিজেরে বেশ গিয়ানী গিয়ানী মনে হয়। ভদ্রলোক মরার আগে আরো বেশকিছু শব্দ নিয়ে আরেকটু বৃহত্তর শব্দের তালিকা করে গেছেন যেগুলো আরেকটু উৎসাহী শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্য।

সহজ এই ইংরেজী শুধু তাত্বিকভাবেই সীমাদ্ধ নেই বরং উইকিপিডিয়ার আলাদা একটি ভাষা হিসেবে এটিকে লালন করা হয় এবং বহু দাঁতভাঙ্গা প্রবন্ধের সহজ ব্যাখ্যা পাবেন এই ভাষার লিঙ্কে গেলে।

বিদেশীভাষীদের জন্য বাংলা শেখার খুব বেশী মানসম্মত উপকরণ অনলাইন অথবা অফলাইন কোথাওই নেই। সোজা বাংলার একটি কাঠামো কেউ দাঁড় করালে হয়তো অনেকেরই জন্য সহজ হবে এই মিষ্টি ভাষার রস আস্বাদনের।

এই সীমিত ভাষার ব্যাবহার কম হলেও এক্কেবারে নাই বলাও যাবে না

বাচ্চাকাচ্চাদের বই লেখা ক্ষেত্রে। ৪-৮ বছর বয়সীদের বই লেখা যেতে পারে।

স্বল্পশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য নির্দেশিকা অথবা বইয়ের জন্য সার্বজনীন ভাষা হতে পারে

বাংলা শিখতে আগ্রহীদের জন্য বই এই নয়া বাংলায় হতে পারে

এখানে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন এই বেড়াল বিষয়ে আগ্রহের কারণ। বেশী ব্যাখায় না গিয়ে সরাসরি ভিডিও দিয়ে দিলাম।


আমাদের দুর্ভাগ্য যে যথেষ্ট স্থুলমস্তিষ্ক না হলে ক্ষমতায় যাওয়া অসম্ভব। দেখি আর হিংসা করি। এটি নির্বাচিত হবার আগে গুগলের ক্যাম্পাসে ওবামার ইন্টারভিউর একটি অংশ।কান্নাকাটি করতে চাইলে ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে মিলিয়ে দেখতে পারেন

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29232285 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29232285 2010-08-30 13:06:38
আফগান মাংশে


এই যে! হ্যাঁ আপনেকি বলছি আজকাল দুচার টুকরো লিথিয়াম ছাড়া আপনার মোটেই চলেনা। ফোনে রিং বাজলো? আচ্ছা, তার ব্যাটারি দিব্যি লিথিয়ামে চার্জ হয়। বিছানায় হেলান দিয়ে ল্যাপটপে লেখা পড়ছেন? তা পড়তেই পারেন কারণ আজকাল টেবিলযন্ত্রের চেয়ে কোলযন্ত্রের প্রতিই মানুষের আগ্রহ বেশী ।সেটিকে ওল্টালেও দিব্যি আরেকটুকরো লিথিয়াম পাবেন।টেবিলের পাশে বাড়ির পিচ্চি বেশী তাফালিং করছে? ছবি তুলে রাখবেন? তার ব্যাটারীতেও লিথিয়াম। আর বছর দশেকের মধ্যে যে গাড়িতে চড়বেন তাও লিথিয়াম ব্যাটারী চালিত হবার সম্ভাবনা ধরেন সিকিভাগ।কারণ হালকা, উচ্চ তাপ ক্ষমতাসম্পন্ন ধাতুটি সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটারীর এনোড হিসেবে সর্বক্ষেত্রে প্রচন্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাপী লিথিয়ামের সাম্প্রিতিক ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে সাথেই এর উৎসের সংখ্যা কিন্তু তেমন বাড়ছে না। আজকালকার সময়ে চিলি এবং আর্জেন্টিনা সাথে অজিরা মিলে অধিকাংশ চাহিদার যোগান দিচ্ছে। সম্প্রতি চীনেরাও কমবেশী উৎপাদন শুরু করেছে।

লিথিয়াম প্রাকৃতিকভাবে কমবেশী পাওয়া গেলেও তাকে বিশুদ্ধভাবে আলাদা করা মনে হয় বেশ ঝামেলার কাজ। লিথিয়াম মেশা নোনাপানি থেকেই সম্ভবত কিঞ্চিত কম খরচে এই বস্তু আহরন করা সম্ভব। আর এই রকম পানির বৃহত্তম উৎস হল বলিভিয়ার ইউনি হ্রদে। নাম শোনেন নাই? ম্যাটের নাচানাচির দ্বিতীয় ভিডিওটি দেখেছেন? না দেখলে প্রথম পনের সেকেন্ড দেখে নেন।



শ্বাসরুদ্ধকর রকমের ভয়াবহ সৌন্দর্যের আধার এই হ্রদটি খুব অল্পদিনেই ছিড়েখুঁড়ে একাকার করে ফেলবে মনে হয় আন্তর্জাতিক চক্র। কাছাকাছি রকমের একটা গল্প ছিল বন্ডের কোয়ান্টম অফ সোলেস মুভিটিতে। মনে পড়ে? তবে আসলেই কাছাকাছি রকমের চক্রান্ত সম্ভবত চলছে বলিভিয়াতে খাবার পানি নিয়ে। কই যেন একবার পড়েছিলাম বলিভিয়ার সরকার পরিকল্পনা করছে তাদের লিথিয়াম তারা নিজেরা উৎপাদন করে প্রয়োজনে রপ্তানী করবে। আমি বলব স্লিম চান্স!

সমস্যা খানিকটা সেরকমই আফগানীদের।প্রাচীনকাল থেকেই কিছু আখরোট-বাদাম আর আজকালকার পপিচাষ ছাড়া তেমন কোন আয়ের উৎস নেই এই ঝাঁজরা হয়ে যাওয়া দেশে।কদিন আগেই ন্যুয়র্ক টাইমস বোমা ফাটালো (রিপোর্টটি না পড়তে পারলে এখান থেকে পাসওয়ার্ড দেখে নিন ) এই বলে যে মাটির তলায় লিথিয়ামের যেই পরিমাণ সংগ্রহ সাম্প্রতিক সময়ে আবিষ্কার হয়েছে তাতে দিব্যি সাতপুরুষ পায়ের ওপরে পা তুলে খাবার জন্য যথেষ্ট। ভিন্ন রিপোর্টে যদিও বলা হচ্ছে যে, মার্কিন আর রাশান ভূবিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরেই আফগানিস্তানের এই ডিপোর কথা জানতো কিন্তু ওপর মহলে এই নিয়ে তেমন সাড়া না থাকায় আর এই নিয়ে আগানো হয়নি।

দুর্বল ব্যাবস্থাপনার অস্থিতিশীল রাষ্ট্রের যখন বিপুল পরিমাণে প্রাকৃতিক সম্পদ আবিষ্কার হয়, তখুনি আমি বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যাই। এমনিতেই ভোটাভুটির আগে থেকেই ওবামার নজর ছিল ইরাক থেকে সরিয়ে আফগানিস্তানের দিকে সামরিক শক্তি নিয়োগের। এখন আশঙ্কা করছি তার এই আকাঙ্খা বহুদূর আর বহুদিনের হবে।

যদি লিথিয়াম আহরণের দিকে যায় তাহলে যথারীতি ওপরমহলের হাতেগোণা পরিবার তারছিড়া রকমের পয়সাওয়ালা হয়ে যাবে আর পায়ে ধরে আমেরিকান কিছু মাইনিং কোম্পনী “সুলভে” কাজ করবে। আর গণতন্ত্র বলেন বা সুশাসনই বলেন তার পথ মোটামুটি চিরদিনের জন্য এই হার না মানা জাতির কাছ থেকে বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে যুদ্ধবাজ এই প্রজাতি সেই আলেক্সান্ডারের সময় থেকে বিদেশীদের জন্য মাথাব্যাথা ছিল আছে এবং সম্ভব থাকবে। এখন এই মুহুর্তে আফগানিস্তানে কিন্তু ফুল স্কেল যুদ্ধ চলছে। আজকালকার মিডিয়া তেমন ফলাও করে প্রচার না করলেও মার্কিন জেনারেলদের এখনো ঘুম হারাম করে ছাড়ছে এই ভাঙ্গাচোরা বিরতিহীন পাগলারা। অনেকেই হয়তো আগেই দেখেছেন কিন্তু সেই এলাকার অস্ত্রবাজীর প্রত্যক্ষদর্শী রিপোর্টটি আবার শেয়ার করলাম।



আপনা মাংশে হরিণা বৈরি, আপনা লিথিয়ামে?

বহুদিন আগে এক বুড়োর কাছে শুনেছিলাম তাদের ছেলেবেলায় কাবুলিওয়ালা আসতো। রাস্তায় ডেকে বেড়াতোঃ

কাবুল কি আনার,
আনে মে চার,
খাও বাবু,
বাড়া মযাদার

সেই দিন কি আর কখনো আসবে মানুষ নিশ্চিন্তে বলতে পারবে? কাবুলিওয়ালা! তোমার ঝোলার ভেতর কি?

(কন্সপিরেসি থিউরি হয়ে গেল নাকি? আগামী দশকে দেখা যাবে )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29214802 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29214802 2010-08-04 11:51:52
অনলাইনে সাবধান!

[কিছুদিন আগে অন্যত্র প্রকাশিত, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে কিঞ্চিত পরিবর্ধিত]

এই মনে করেন আপনি অনলাইনে কাজকর্মে মাঝারি থেকে বেশীরভাগ অংশই সারেন। আপনার আত্মীয় স্বজন আর বন্ধু বান্ধবের সামাজিকতার একটা বড় অংশও ফেসবুকের কল্যাণে তেমন সমস্যার না। আর কাউকে চটজলদি পেতে হলে তো মোবাইল আছেই এক রিং দিলেই পৃথিবী হাতের মুঠোয়। আপনার মত প্রযুক্তিমনস্ক মানুষকে নিয়ে আপনার পরিচিতরাও খুশী আর আপনারো আপত্তি নেই। যাদের বেশ কয়েক বছর ধরে অনলাইনে পদচারণা তাদের জীবনের এক বড় অংশ দেখা যাচ্ছে অনলেইনে সংরক্ষিত হয়ে থাকছে। এই অনলাইন সংগ্রহশালার মধ্যে এমন বহু তথ্য বা ছবি বা স্মৃতি থাকে যা আপনার নিতান্তই ব্যাক্তিগত। আর সেগুলো প্রকাশ হয়ে গেলে আপনার ব্যাবসায়িক বিড়ম্বনা, বা ব্যাক্তিগত সমস্যার মুখোমুখি হবেন অথবা অন্যান্য কারণে সমস্যা হতে পারে। তাই অনলাইনে আপনার ব্যাক্তিগত তথ্যাদি যেন ব্যাক্তিগত থাকে তার জন্য কম্পিউটার নিরাপত্তা বিশারদরা দিনরাত কাজ করে যান আর ব্যাবহারকারীদেরও নিরাপদে থাকার জন্য উপদেশ দিয়ে থাকেন।

এখন আপনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে প্রধানত দুভাবে। প্রথমত আপনার একাউন্ট যদি কেউ হ্যাক করে। এটি একটি অতি প্রচলিত ইস্যু আর এই ঝুঁকি থেকে মোটামুটিভাবে বাঁচা তেমন কঠিন কিছু না। যেই কম্পিউটার আপনি ব্যাবহার করবেন সেটি মোটামুটি ভাইরাস, স্পাইওয়ার ইত্যাদি পোকামাকড় থেকে মুক্ত রাখলে আর আন্দাজ করা মুশকিল এমন জটিল পাসওয়ার্ড ব্যাবহার করলে গড়পড়তা হ্যাকিং থেকে বাঁচা সম্ভব। ব্যাক্তিগত তথ্য বিঘ্নিত হবার দ্বিতীয় ঝুঁকি হল সরকার যদি আপনার সম্পর্কিত তথ্য আপনি যেই ওয়েবসাইট ব্যাবহার করেন তাদের থেকে চায় তাহলে। আমার জানামতে খুব কম ব্যাবহারকারীই এই বিষয়ে কখনো চিন্তা করেন বা ভেবে দেখেন কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়ন্ত্রণের কাছে আমাদের ব্যাক্তিনিরাপত্তা মোটামুটি অর্থহীন।

আমেরিকার সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে একটি পরিচ্ছেদ যোগ করা হয় যার অর্থ মোটামুটি এই যে – একজন নাগরিক তার বাড়িতে, কার্যক্ষেত্রে, দলিলাদিতে অন্যায্য সরকারী জেরা ও যব্দের হাত থেকে নিরাপদ থাকবে যদি না আইন/বিচারবিভাগ প্রয়োজনীয় সার্চ ওয়ারেন্ট ইস্যু করে।

এই আইনের আওতায় যেকোন নাগরিকের ব্যাক্তিগত জীবনে হাত দিতে গেলেই সরকারকে প্রয়োজনীয় ওয়ারেন্ট ইস্যু করা লাগে ও তার বিপরীতে একজন সন্দেহভাজন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয় ও তার ব্যাক্তিগত তথ্যাদি তদন্ত করা হয়। প্রচলিত পরিস্থিতিতে এই আইন কার্যকর হলেও অন্তর্জালীন যোগাযোগের যুগে এই আইনের হালনাগদ করার দরকার হয়ে পড়ে। ফলে ১৯৮৬ সালে আমেরিকায় আরেকটি নতুন আইনের প্রবর্তন হয় যেটি ইলেক্ট্রনিক কমিউনিকেশনস প্রাইভেসী এক্ট । এই আইনের আওতায় সরকার চাইলে কোন ব্যাবহারকারীর ইমেইল তাকে না জানিয়েই এবং কোন সার্চ ওয়ারেন্ট ইস্যু না করেই পড়তে পারবে (তবে তার জন্য মেইলের বয়স ১৮০ দিনের বেশী হওয়া লাগবে, মেইলটি গ্রাহকের আগে থেকে পড়া লাগবে আর মেইলটি সার্ভারে সংরক্ষিত হওয়া লাগবে ইত্যাদি)। আর এই আইন নিয়ে এখন আমেরিকায় প্রচুর বাদানুবাদ হচ্ছে আইএসপি, টেকনলজী প্রোভাইডার আর সরকারের মধ্যে ভাল যুদ্ধ চলছে। সরকার চায় হল সে চাইলেই যেকোন নাগরিকের যেকোন তথ্য নিতে পারে। আর টেকনলজী কোম্পানী নীতিগতভাবে চায় যে সে তার কাস্টোমারের গোপনীয়তা ও ব্যাক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করবে।

তাই কিছুদিন ধরে আমেরিকার প্রধান প্রযুক্তি কোম্পানীগুলো একত্রে একটি ফোরাম করে সরকারের কাছে আবেদন করছে যেন আমেরিকান সরকার বর্তমান সময়ের তুলনায় পিছিয়ে পড়া এই আইনটি হালনাগাদ করে। অর্থাৎ বর্তমানে একজন মানুষের অনলাইন পরিচয় তার রক্তমাংসের পরিচয়ের মতই অনেকটি বাস্তব আর সামাজিক নেটওয়ার্কগুলোর বিস্তারের ফলে অনেক ব্যাবহারকারীরই প্রচুর তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণ করা হয়। একই ভাবে নিতান্ত পারিবারিক যোগাযোগ রক্ষা করা বা হালকা দাফতরিক চালাচালির বদলে বর্তমানে ইমেইলই হয়ে গেছে বহু যায়গায় যোগাযোগের একমাত্র এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম। তাই ইমেইলের গোপনীয়তার নিশ্চয়তার গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। কয়েক বছর আগে চীনে এক ব্যাবহারকারীর ইমেইলের তথ্য চীনা সরকারের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয় ইয়াহু আর সেই তথ্যের ভিত্তিতে সেই মানবাধিকার কর্মীকে জেলে যাওয়া লাগে। সেই ঘটনার পরে অনলাইনে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়, কিন্তু আমেরিকার নিজের মাটিতেই অনলাইন নিরাপত্তার বেড়াটি তেমন শক্ত না।

মাইক্রোসফট, ইয়াহু, এওএল, গুগল সহ প্রধান সেবাদানকারীদের এই আন্দোলনের ফলে যদিও আমেরিকান আইন হালনাগাদ করা হয় তবুও মনে হয় আইনের মাঝে যথেষ্ট পরিমাণে ফাঁক রাখা হবে যেন এই আইন শুধু আমেরিকান ব্যাবহারকারীদের ওপরেই বলবৎ হয়। অর্থাৎ আমেরিকান সরকার যদি বাংলাদেশী বা ব্রাজিলিয়ান কোন নাগরিকের তথ্য ফেসবুক বা গুগলের কাছে চায় তবে দিব্যি তারা দিয়ে দেবে। যাদের জীবন মরণ অনলাইনে তারা নিজেদের অবস্থা আরেকবার চিন্তা করে দেখেন।

আর আমেরিকার প্রতিরক্ষা বাজেটে কালো অপারেশনের জন্য যেই পরিমানে টাকা বরাদ্দ করা হয় তাতে মনে হয় দু-পাঁচটা বাংলাদেশ দিব্যি চরে খেতে পারবে তাই বিশ্বব্যাপী মানবতার মোড়লদের নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই।

একই সাথে একটু অস্বস্তিকর একটি খবর দেখলাম কিছুদিন আগে। প্রথম আলো রিপোর্ট করছে জননিরপত্তার স্বার্থে গোয়েন্দা বিভাগের হাত থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশের ফোনে আড়িপাতার দায়িত্ব। পত্রিকার ভাষ্যমতে “সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা মন্ত্রী ও সরকারদলীয় কয়েকজন নেতার মুঠোফোনে আড়ি পাতে এবং এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতনদের কাছে পাঠায়। এ নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে হইচই পড়ে যায়।“ সমস্যার কথা হল, ভিআইপিদের ওপরেই যদি যখন তখন আড়িপাতা হয় (যদিও রাঘব বোয়ালরাই বড়মাপের ‘সুকর্ম’ গুলো করে থাকে) তবে সাধারণ জনগণ যাবে কই। বাস্তব প্রমাণিত সত্য যদিও এই যে মোবাইল নেটওয়ার্কের নজরদারীর কারণে গত কয়েকবছরে বেশকিছু বড়মাপের অপরাধী ধরা পড়েছে, তবুও বাংলাদেশের পুলিশ/ গোয়েন্দাদের ওপরে খুব বেশী ভরসা করতে সাহস হয়না। একই সাথে কোন নির্দিষ্ট ব্যাবহারকারীর তথ্য ‘নির্দিষ্ট ফী’ এর বিনিময়ে যে তার প্রতিপক্ষের কাছে পাচার হবেনা তারই বা নিশ্চয়তা কি, যেখানে যেকারো ওপরে নজরদারী শুরু করতে আইন বা বিচার বিভাগের কোন অনুমতির প্রয়োজন হয়না?

দুনিয়া বড়ই জটিল… একটু সাবধানে থাকবেন

ফরি

পুর্বপ্রকাশঃ

আপডেটঃ সম্প্রতি আরো কিছু ভেজাইল্যা খবর অনলাইনে ইতিউতি করছে। সব মিলায়ে লক্ষণ সুবিধার না

১। অজিদের বহুদিন ধরেই কিঞ্চিত দুর্নাম আছে ইন্টারনেটের ওপরে সর্দারি করার বিষয়ে। বর্তমানের সরকারী দল নতুন আইন প্রণয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে যার আওতায় সরকার চাইলে “খারাপ” ওয়েবসাইটে প্রবেশ সবার জন্য নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু তাতে সমস্যা হল, তাহলে প্রতিটি আইএসপির প্রতিটি কর্মকান্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব সরকারের কাছে থাকবে আর তার ইচ্ছেমত ব্যাভার করতে পারবে।

২। ইওরোপের টেলিকম জায়েন্ট ওটু তাদের আয়ারল্যান্ডের গ্রাহকদের জন্য আইএমজিউআর নামের ছবি শেয়ারিং এর সাইটটি বন্ধ করে দিয়েছে। আয়ারল্যান্ডের নতুন আইনের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে এই পদক্ষেপ জানিয়েছে ওটু। যুক্তরাজ্যেও ডিজিটাল ইকনমি আইনের নয়া ভার্সন আসছে।

৩। ব্লগার নৈষাদ জানিয়েছেন ল’ফুল ইন্টারসেপশন নামে এক বস্তু আছে। যার আওতায় আইনের ভেতরে থেকেই দিব্যি জনগণের ওপরে টিকটিকিগিরি করা যায়।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29199247 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29199247 2010-07-14 09:07:20
ফুন্সুখের সাথে হাউ কাউ
মনে করেন এক ব্যাটা দুপুরবেলা শান্তিমত রমনা পার্কে বসে কান চুলকাচ্ছে। শান্তিমত কিছুক্ষণ কান চুলকিয়ে পরে আরো মিনিটদুয়েক নাসিকারন্ধ্রে খোঁচাখুচি করে পার্কের বেঞ্চিতে মিনিটদশেক ভাতঘুম দিয়ে উঠে আস্তে হাঁটা দিয়ে উঠে চলে গেল। এখন পর্যন্ত তেমন মহা আপত্তিকর কিছু ঘটেনি। কিন্তু এইটুকু অংশ যদি আপনার ক্যামেরায় রেকর্ড করে আপনি ইউটিউবে দিলেন আর সেটা এক সপ্তাহে পাঁচ কোটি হিট হয়ে ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করে ফেলল। তাহলে তাহলে আমার হিসেবে কিছু হিংসুক নিন্দুক বলবে যে, এইটা এমন হিট হবার মত কি হল? আর যদি হিট হবিই তাহলে এইরকম নাক আর কান চুলকানোর জিনিষ ছাড়া কি হিট করার কোনো রাস্তা ছিলোনা? ইত্যাদি ইত্যাদি…

তিন বান্দরের কাজকারবার নিয়ে করা সুপারহিট মুভিটি আমাকে কদিন আগে দেখা লাগলো। ছবি শেষ হবার পরে প্রথম আমার মাথায় ছবিটা বানালো কৈ। কারণ নায়িকার এক টাকডুম টাকডুম নাচের জন্য হাফ দুনিয়া ঘুরে আসার অভ্যাস তো বহুবছর ধরেই আছে। একটু ঘাঁটাঘাটি করে দেখলাম ছবি করা হয়েছে আই আই এম ব্যাঙ্গালোরের ক্যাম্পাসে। এই প্রথম কিঞ্চিত আফসোস হল, গ্র্যাজুয়েশনের জন্য তিন বছর ইন্ডিয়ার ঘানি টানলামই যখন আরেকটু খানদানী যায়গাতেই পড়তাম। আসলেই ভারতের প্রথম সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পৃথিবীর যেকোন স্থানের শিক্ষার্থীদেরই কাছে টানার মত। নজরকাড়া শুটিং এর জন্য স্যুজারল্যান্ড দরকার নেই। তবে আমার পড়ার সময় আমাদের ক্যাম্পাসে ভগৎ সিং নিয়ে একটা মুভি হয়েছিল অজয় দেভগান ভাই নায়কের রোলে ছিলেন। দেখি দেখি করেও এখনো ছবিখান দেখা হয় নাই। ব্যাঙ্গালোরের প্রশাসন বিদ্যায়তনের ভেতর বাহির বেশ ভালই লাগলো। তার তুলনায় দেশের হল,ক্যাম্পাস একটু ম্যাদামারাই লাগলো।

এই তিন ঘন্টার ছবিখান নিয়ে আমার এতো আইঢাইয়ের কারণ হল। এই ছবিখান শুধু যেনোতেনো ছবি না বরং প্রথমত আমির খান ছবি যেটা শুনলেই মোটামুটি সবাইই ধরে নেয় ভাল ছবি, তার সাথে হল আমির খান কমেডী সিনেমা অর্থাৎ অফিশিয়ালি ইউনিভার্সার রেটিং সব্বাই দেখতে পারবে তার সাথে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল শোলের পয়ত্রিশ বছরের রেকর্ড ভাঙ্গা বক্স অফিস সেরা হিট ভারতীয় ছবি। ফলাফল হলঃ ভারতীয় প্লাস উপমহাদেশীয় জনগণ এইবস্তু খাচ্ছে, খাবে এবং খাইতেই থাকবে। যেমন আমার এক মামা এখনো মাসে রুটিন করে কমপক্ষে একবার শোলে দেখেন (পাগল যে কতরকম আছে দুনিয়ায়)।

তাই দেখলাম ভূলে গেলাম ছবির চেয়ে এই ছবির প্রভাব অনেক গভীর আর দীর্ঘস্থায়ী হবে আর এইখানে মহা আপত্তিকর বেশকিছু থীমকে মোটামুটি উৎসাহই দেয়া হয়েছে। এই যেমন ধরুন, রাজুর অসুস্থ বাবা, মা আর বোনকে নিয়ে দিব্যি বেশকিছু রূঢ কথাবার্তা বলে পার পেয়ে গেছে রাঞ্চো। যেগুলো সামাজিক মাপকাঠিতে অত্নত আমি কখনোই গ্রহণযোগ্য বলব না। পরে রাজুর বাপকে হসপিটাল রাইড দিলেও তা মাফ হয়না।

এই সিনেমা দেখে বাড়ির পিচ্চিরা মহা উৎসাহে ফার্ট আর রেপ জুক্স নিয়ে রিহার্সেল দিচ্ছে, আমার হিসেবে তেমন উৎসাহদায়ক সীন না। আর কথা বাড়ালাম না।

মদিরাচ্ছন্ন অবস্থায় ঢুলতে ঢুলতে গিয়ে প্রস্তাব দিল আর লাড়কী এক্কারে আই ডু বলে লাফিয়ে উঠল। ভাল্লাগেনাই!

পরীক্ষার প্রশ্ন চুরি রাঞ্চোর এথিকসের সাথে মিলে নাই।

সব মিলিয়ে ভালমন্দের পাল্লায় ফেলার পরে মনে হয়েছে এইমাপের ছবিতে মন্দগুলো যেনো আরো বড় আকারে ফুলে ফেঁপে ওঠে। তার তুলনেয় লাগে রহো মুন্নাভাই অনেক ভারসাম্যপূর্ণ ছিল।

আর ফুন্সুখ? ঐ ব্যাটা এক তিব্বতী বিপ্লবী [টেররিস্ট?] ভিক্ষু। চীনেপটকার সাথে টেক্কা দিতে গিয়ে আজকাল জেলহাজতে আছেন। তারে ঠ্যাক দিতে গিয়ে চীনেমামারা আবার আমির সাহেবের ব্লগে হানা দিয়েছিলেন ।তাই নিয়ে কত কি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29151013 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29151013 2010-05-08 11:34:48
হ্যাক হওয়া শিক্ষাবোর্ডের বইগুলো যদি পেতে চান
বাংলাদেশের চিরায়ত ঐতিহ্যের মধ্যে একটি হল প্রতি বছরই বোর্ডের বই প্রকাশে গড়িমসি করা। রমজানে জিনিষপত্রের দাম বাড়ার মতই আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে এই সমস্যাটি। এবছর সরকার বেশ যুগান্তকরী যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সেটি এখনো অনলাইন জনগোষ্ঠীর অনেকের কাছেই অজানা রয়ে গেছে। যদিও সমস্যার সমাধান না করে বিকল্পের ব্যাবস্থা করা এক ধরণের ফাঁকিবাজি তাও মন্দের ভাল হিসেবে একেবারে খারাপ না। বাংলাদেশের স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা সরকারী কারিকুলামে চলে এবং তার পাঠ্যবই প্রণয়ন ও মূদ্রণের দায়িত্বও সরকারেরই। আর এবছর এই বইগুলো সরকারের পক্ষ থেকে অনলাইনে ডাউনলোড করে পড়ার জন্য দিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে একজন শিক্ষার্থীর ইন্টারনেটের সংযোগ থাকলে সে কম্পিউটারেই বইগুলো ডাউনলোড করে দেখে নিতে পারবে।



যদিও এই সমাধানের বাস্তবতা নিয়ে সমস্যা আছে। কারণ বই নিয়ে মূলত সমস্যায় পড়ে গ্রামে শিক্ষার্থীরা যাদের ইন্টারনেট তো দূরের কথা কম্পিউটারেরও কোন সংযোগ নেই। ফলে তাদের পক্ষে এই সুযোগ থেকে সেবা নেয়া মোটামুটি অসম্ভব। তবে আমার ব্যাক্তিগত মতামত হল এই সেবার ফলে শহরের কিছু শিক্ষার্থীও যদি বই ডাউনলোডের নামে কিছু জিনিষ ভাল শেখে তাও পরিকল্পনাটি একেবারে মাঠে মারা যায়না।

আরেকটি মজার জিনিষ হল, এই ব্লগেরই একজন ব্লগার বেশ কিছুদিন আগে বলেছিলেন সরকার কেন পাঠ্যপুস্তকগুলো ওপেনসোর্স ধরণের কিছু করে দেয়না যেন যে কেউ ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারে? মনে হয় যেন তার চিন্তার প্রতিফলনেই সরকারের এই কার্যক্রম। ব্লগার হামীমের লেখা পোস্টটি কেউ চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এই লিঙ্ক থেকে।

এখনো এই সেবার কিছু সমস্যা রয়ে যায়। আমি নিজে যখন শিক্ষা ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ওয়েবসাইটটিতে যাই, তখন কোন বই ডাউনলোড করতে গেলেই দেখাচ্ছিল যে “ব্যান্ডউইথ লিমিট এক্সিডেড”। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার বেশী দর্শক ওয়েবসাইটটি ব্যাবহার করতে চাইবার কারণে এখন কেউই ব্যাবহার করতে পারছে না। দ্বিতীয়তঃ এই সাইট থেকে বই ডাউনলোড না করে বই পড়ার কোন সুযোগ নেই। তৃতীয়তঃ বাংলাদেশের সীমিত ক্ষমতা ইন্টারনেটে ডাউনলোড জিনিষটা অনেক সময়েই দূর্বিষহ এক বস্তু। ৯৫% ডাউনলোড হবার পরে লাইন কেটে যাওয়া মোটেই দূর্লভ অভিজ্ঞতা না। তাই নির্ভরযোগ্য সার্ভার ও সংযোগ থাকার বিকল্প নেই।

এতো সমস্যা দেখে ভাবলাম এর মধ্যে আমি কোন সাহায্য করতে পারি কিনা। আমার বইমেলা ওয়েবসাইটের কারণে বইপড়ুয়া পাঠকেরা নিয়মিত আমার ওয়েবসাইটে ঢুঁ মারেন। তাই মনে হল বইগুলোর লিঙ্ক এখানে রাখলে অনেকেই হয়তো উপকৃত হবেন। কিন্তু সেই সমস্যা রয়েই যায় যে মূল সার্ভারে যদি ফাইল নিয়ে সমস্যা হয়, বা নিয়মিত সরকারী সাইটের মত এইটাও যদি হ্যাক হয়ে বসে থাকে তবে আমার সাইটের দর্শকরাও সমস্যায় পড়বেন। তাই বইগুলো গুগল ডক্সে আপলোড করে ডকুমেন্ট ভিউয়ারের লিঙ্ক দিয়ে দিলাম। এখন যদি বাঙ্গালী ব্যাবহার করে গুগলের সার্ভার ক্র্যাশ করাতে পারে তবে তার জন্য মেডেল দেয়া যাবে। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত সবার আমন্ত্রণ রইল বইমেলা থেকে পিচ্চিকালের বইগুলো আবার নেড়েচেড়ে দেখার জন্য (বিনামূল্যে অবশ্যই!)।




আপডেটঃ
১। লেখাটি আগেই লিখেছিলাম। এখন পোস্ট করতে গিয়ে ভাবলাম শিক্ষাবোর্ডের ব্যানার ছবি হিসেবে দেই। যথারীতি শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইট হ্যাকড!!!! শিরোনাম পাল্টালাম
২। চাইলে কিন্তু আমরাও অন্যদের বইয়ের সমস্যা হলে সাহায্য করতে পারি। এই সংক্রান্ত বিষয়ে ফিউশন ফাইভের পোস্ট দ্রষ্টব্য।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29145050 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29145050 2010-04-29 20:40:31
হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজায় আগুন!
অন্ধকারে ছবি নিলাম দুটো।

এতোক্ষনে সবে ফায়ারট্রাক আসল প্রায় আধা ঘন্টা আগুন জ্বলার পরে

মগবাজেরের বস্তি ছারখার হবার পরে ওরা এসেছিল। এটি ভদ্রলোকদের নিবাস তাই একটু জলদি এলো
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29048162 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29048162 2009-11-23 01:19:01
প্রযুক্তির পালাবদলে বাংলাদেশের পথচলা
বছরের শুরুতেই বাংলাদেশের প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য আমরা নিজেরাই সরকার সাহেবকে বাইপাস করে কি করতে পারি সেই বিষয়ে লিখেছিলাম । এখন দুহাজার নয় সালের শেষ মাথায় এসে মনে হচ্ছে আগামী এক বছরের মধ্যে যেই বাংলাদেশে আমরা থাকব তার সাথে আজকের বাংলাদেশকে মেলানো মুশকিল হয়ে যেতে পারে। আর অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি হল এই বিষয়ের কার্যকরী পদক্ষেপ গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের যথেষ্ট অবদান থাকছে।

তাই পরিবর্তনের যে ছোঁয়া দেখছি তারই কিছু একত্রিত করার জন্য এই লেখা।



দ্রুতগতির ইন্টারনেট
আমাদের বাপের জন্মের আমল থেকেই বলা যায় মানে সেই নব্বইয়ের দশকের সেই “তথ্য পাচার” মশকরার খেসারত আমাদের পুরো দেশ তো প্রায় দেড় যুগ ধরে দিতেই থাকল। কিন্তু কিছুটা দ্রুতগতির ইন্টারনেট মনে হয় বাংলাদেশে আর একেবারে অধরা আর দূর্গম নয়। এইতো ২০০৫-৬ তেও ৮-১০ কিলোবাইট ছিল গড়পড়তা ইন্টারনেট কানেকশন যা পাড়ার কোন আই এস পি থেকে বাড়িতে ইথারনেট তারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হত। এইবছর দেখি ১৮-২০ কিলোবাইটের সংযোগ তেমন দূষ্প্রাপ্য না। কিন্তু আজকের লেখার অবতারণা এর পরবর্তী যুগের ইন্টারনেটের খবর জানানোর জন্য।



আমার নিজের বাসার কানেকশনের স্পীড টেস্টের রেজাল্ট সাধারণত আপলোড স্পীড আরো বেশী থাকে

উন্নত বিশ্বে আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি কেবল ইন্টারনেট অথবা এডিএসএল কানেক্টিভিটি ব্যাবহার হয়। এর মধ্যে দ্বিতীয়টির জনপ্রিয়তাই বেশী। বাড়িতে থাকা টেলিফোনের তার ব্যাবহার করেই একই সাথে ফোন এবং ইন্টারনেট ব্যাবহার করা যায় দেখে নিরবিচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেটের মাধ্যম হিসেবে এটি একটি চমৎকার ব্যাবস্থা। বাংলাদেশেও অল্প কিছুদিন হয় এই সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিছুদিন আগে ব্লগার/ডেভেলপার লাভলুদার একটি পোস্ট দেখে প্রথম এর সম্পর্কে জানতে পারি তারপরে কিছু দৌড়াদৌড়ি করার পরে গত দু-সপ্তাহ ধরে ঢাকায় বসে 1Mb/s গতির ইন্টারনেট ব্যাবহার করছি। এখন পর্যন্ত সার্ভিস ভালই। মাঝে মধ্যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য লাইন কেটে গেলেও দ্রুতই আবার ফেরত আসে। প্রয়োজনীয় লিঙ্ক সমূহ

অনলাইন ব্যাঙ্কিং
অনলাইন ব্যাংকিং নিয়ে কান্নাকাটি করতে করতে বাংলাদেশী ডেভেলাপারদের চোখের পানি মোটামুটি শুকিয়ে গেছে ইতিমধ্যে। তবে গত চার তারিখের আনুষ্ঠনিক ঘোষণার মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে অনলাইন ব্যাঙ্কিং এর জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। আমার ধারণা বেশ কিছু ব্যাঙ্ক যারা আগে থেকেই অনলাইন ব্যাঙ্কিং করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে রেখেছিল তারা রাতারাতি সেবার সুযোগ করে দিচ্ছে। আমার নিজের ডাচ বাংলা ব্যাঙ্কে একাউন্ট আছে। ঘরে বসেই দিব্যি আমার ভাইয়ের একাউন্টে কিছু টাকা পাঠিয়ে দিলাম নিয়মাবলী অনুসরণ করে। শুনছি কিছুদিনের ভেতরেই প্রয়োজনীয় এপিআই রিলিজ করবে ব্যাঙ্কগুলো যেন ই-কমার্স আরো সহজ করা যায়। ইউটিলিটি বিল সহ আরো বেশকিছু বিল ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইট থেকেই দেয়া যাচ্ছে। নট ব্যাড। তবে সারা দেশের সব ব্যাঙ্কের জন্য সেন্ট্রাল পেমেন্ট গেটওয়ে হলে সবার জন্যই ভাল হবে।
ডাচ বাংলা ব্যাঙ্কের নতুন অনলাইন ফান্ড ট্রান্সফারের নীতিমালা

অনলাইন ব্যাঙ্কিং চালু হবার পরের মিডিয়া কভারেজ


Click This Link

Click This Link

Click This Link



চেক ক্যাশিং
ব্যাঙ্ক থেকে কদিন আগে নোটিশ এলো যে আমার আগে চেকবই বাতিল হয়ে গেছে। ব্যাঙ্কে গিয়ে নয়া চেকবই তুলে আনতে হবে। এটিএম এর যুগে কে আর চেকের জন্য বসে থাকে আর গা করিনি। তবে খবরে দেখলাম যে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কে অটোমেটেড চেক ক্যাশিং এর প্রবর্তন করছে। তাতে অন্য ব্যাঙ্কের চেক দ্রুত ভাঙ্গিয়ে নেয়া যাবে। ব্যাক্তিজীবনে তেমন এর প্রভাব না থাকলেও ব্যাবসায়িক দিক থেকে এর প্রভাব বিশাল ও দীর্ঘমেয়াদী। সম্পূর্ণ ব্যাবস্থা চালু হতে আরো কিছু সময় লাগবে তবে যদি একদিনে দুঘন্টায় চেক ছাড়ানোর টার্গেটে পৌঁছাতে পারে আমার হিসেবে সেটি একটি বিশাল অর্জন হবে। কারণ আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতায় যুক্তরাজ্যে এখনো চেক জমা দিলে ৫-৭ কর্মদিবসের কথা বলে আর বার্কলেস ব্যাঙ্ক নিয়ে যারা কাজ করেছেন আপনাদের কথা বলে লাভ নেই।

প্রস্তুত স্বয়ংক্রিয় চেক নিকাশঘর পরীক্ষামূলক নিষ্পত্তি হচ্ছে

মোবাইল কমার্স
মোবাইল ব্যাঙ্কিং নিয়েও কিছু গুঞ্জন শুনছি। আমাদের জলপাই ভাইদের ট্রাস্ট ব্যাঙ্ককে কদিন আগে মনে হয় বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাঙ্কিং দেখভাল করার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। আর সাথে ছমাসের সময়সীমা দিয়ে দেয়া হয়েছে যেন এরই মাঝে কর্মক্ষম ডেমো দেখাতে পারে। প্রযুক্তির বাজারে বেশ ভাল নাড়াচাড়া চলছে এই বিষয়ে তবে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে আশা করা যায় যেমন ফ্লেক্সি লোড করা যায় তেমনি আইন অনুযায়ীই আনলোড ও করা যাবে। চান্দাবাজীর জন্য সুবর্ণ সুযোগ হলেও এর সব মিলিয়ে ফলাফল ভাল হবারই কথা।

খবর

Click This Link

তার আগের খবর

Click This Link



আরো কিছু খুচরো জিনিষ দেখছি এদিক সেদিকে। যেমন ঢাকা শহরের সম্পূর্ণ খাবার পানি সরবরাহ, বিতরণ ও উত্তোলনের ব্যাবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য এডিবির দেয়া ২০ কোটি ডলারের একটি প্রোজেক্ট চলছে। ওয়াসা ভবনের দশতলায় গেলে দেখবেন জনাবিশেক দেশী বিদেশী বিশেষজ্ঞ উদয়স্ত কাজ করে যাচ্ছেন এবং জিআইএস, স্যাটেলাইট ম্যাপিং সহ আধুনিক প্রযুক্তির যথেষ্টই ব্যাবহার হচ্ছে। যদি কোনক্রমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় তবে ঢাকার পানি সঙ্কট কিছুটা হলেও উন্নতি হতে পারে।

বাংলাদেশের অনেকেরই ধারণা নেই যে দেশের কর বিভাগ কতটা লেজেগোবরে অবস্থা নিয়ে চলছে। বাংলাদেশের সংগৃহীত করের প্রায় আশিভাগই আসে ভ্যাটসহ অন্যান্য পণ্যের ভেতরের লুকানো কর থেকে। অর্থাৎ শ্রমিক বা ফকির পণ্য কেনার সময় কর দিয়েই কিনছে কিন্তু প্রকৃত সম্পদশালীর কাছ থেকে কর নেবার ক্ষমতা কর বিভাগের নেই। আয়কর বিভাগ সম্ভবত অর্থের সকল উৎসে একত্রে যাচাই করার জন্য কেন্দ্রীয় ডাটাসেন্টার বসানোর জন্য কাজ করছে। তাতে এক যায়গা থেকেই ব্যাঙ্কের হিসাব, শেয়ার বাজারের হিসেব, জমিজমার পরিমাণ থেকে শুরু করে গাড়ির নম্বরসহ একজন ব্যাক্তির সম্পদের বড় উৎসগুলো যাচাই করা যাবে। বুদ্ধিমান বাঙ্গালী তার পরেও পিছলে যাবে কিন্তু যদি ঠিকমত করা হয় কর ব্যাবস্থার যথেষ্ট উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

বর্তমানে আমরা ডিজিটাল টাইমে চলছি। যদিও আন্তর্জাতিক সময় নির্ধারণের নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশের এখনকার সময় নিতান্তই একটা হাস্যকর পরিবর্তন। রাস্তায় দেখি এক পাব্লিক আরেকজনকে বোঝাচ্ছে। আমাদের দেশে কারেন্ট গেলে সব ডিজেলে চলে। যা ডিজেলে চলে তার ইংরেজী নাম নাকি ডিজিটাল। ব্যখ্যাটা নিতান্তই হাস্যকর হলেও এর চেয়ে ভাল আর কিছু বেচারাকে বোঝাতে পারিনি সেদিন।

আশংকা করছি কিছুদিনের মধ্যেই বর্তমান সরকার “তাদের ডিজিটাল সাফল্যগাথার” কথা জনগণকে শোনানো শুরু করবেন আর তার জের চলবে আরো কয়েক সরকার পর্যন্ত। তবে আমি সরাসরি এই আটমাস বয়সী সরকারের সরাসরি অবদান ওপরের যেকোনটির ব্যাপারেই নাকচ করে দেব। কারণ এই পরিবর্তনগুলোর প্রায় সবগুলোই দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প যার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে অনুমোদন, অর্থ সংস্থান ও প্রযুক্তি নির্মাণ পর্যন্ত কয়েক মাস নয় বেশ কয়েক বছরের বিষয়। যা মনে হচ্ছে গত সরকারের শেষ সময় অথবা দুবছরের নির্দলীয় সরকারের সময় বেশকিছু সাহসী ও দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল যার প্রভাব আমরা এখন দেখছি বা আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত দেখব। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল স্বপ্নের গাছে তাল ধরতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করা লাগবে।

শুভকামনা সেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29043800 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29043800 2009-11-15 11:18:29
এই ফোনটা ছিলনা <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_15.gif" width="23" height="22" alt=":(" style="border:0;" /> , এখনো নাই <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_16.gif" width="23" height="22" alt=":((" style="border:0;" /> , ভবিষ্যতে সম্ভবত থাকবে <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" />
বলে তাই নাই?

আমি বললাম হুঁ।

বলে ভাইয়া কিরকম ফোন চান?

আমি বললাম এই যেমন ধর নরমাল ফোন হবে, সেই ফোনে মোটামুটি ২ বা তার বেশী মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা হবে, (ও দেখি মাথা নাড়ছে, বুঝলাম তার মেমরী থেকে ঝট করে ফিল্টার করে সাবসেট বের করল) তারপরে তার ব্লুটুথ , আর থ্রিজি ইন্টারনেট থাকবে (আবার মাথা নাড়ল), তারপরে ওয়াইফাই থাকবে (এইবার মাথা নাড়ল কিন্তুক আস্তে, বুঝলাম চয়েসের ফোন বেশী নাই), আর সাথে একটা জিপিএস হলে ভাল হয়।

ছেলের চেহারা দেখি খুশী, এতো বাছবিচার করেও কয়েকটা ফোন বেঁচেছে। এইবারে আসল কথা বললাম, আরেকটা গুণ দরকার, ফোনের দাম এই ধর দশ হাজার টাকার ভেতরে হতে হবে। এইবারে দেখলাম ছেলের চেহারা ফিলিপস বাত্তি থেকে এক ধাক্কায় লোডশেডিং হয়ে গেল। বলে ভাইয়া কি যে বলেন পাঁচ ছয় হাজার টাকায় এইসব মোবাইল হয় নাকি? আমি বিরস মুখে বললাম বাজেট নাই বলে কি শখও বাজেট করে করতে হবে নাকি।

এই আলাপ ছিল আমাদের যদ্দুর মনে পড়ে ২০০৭ সনের শেষের দিকে। তখন আপমার্কেট ফোনগুলোরই দুই মেগার ক্যামেরা হত। এখন তিন সিরিজের অনেক ফোনেই ফীচারগুলো থাকে। ফোন কোম্পানীগুলো সবসময় নতুন ফীচারে জন্য হন্যে হয়ে বেড়ায়।নোকিয়ার ক্ষেত্রে ভাল ফীচারগুলো সাধারণত ওপরের দিকের এন সিরিজ বা ই সিরিজে আনে পরে ধীরে ধীরে সাধারণ ফোনগুলোতে যোগ করতে থাকে।এখনকার সময়ের টপ ফীচারগুলোর মধ্যে ওয়াইফাই, জিপিএস আর টাচ এই তিনটিই প্রধাণ। আর সেই সাথে নানাবিধ এপ্লিকেশন চালানোর সুযোগ। যদিও এক্ষেত্রে এপেলের ধারেকাছে কেউ নেই।

আজকালকার সময়ে আর ভাইরে বিরক্ত করা লাগেনা, পছন্দমত ফোন বাছাই করার জন্য জিএসএম এরিনার সার্চের জুড়ী নেই। আমি মোটামুটি সিম্বিয়ানের ট্রাস্টেড প্ল্যাটফর্মের ভেতরে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি আর এন সিরিজের ফোনগুলো চমৎকার হলেও ওজন বাটখারার দেখে এখন পর্যন্ত্য হাতে উঠাইনি। এখন ব্যাবহার করছি 6120c ঢাকায় সেকেন্ডহ্যান্ড ছহাজার টাকায় কেনা। কম বাজেটে ডুয়েল ক্যামেরা সহ থ্রিজি এনাবেল্ড চমৎকার ফোন। সাড়ে তিনশো মেগাহার্জের ওপরে প্রসেসর স্পীড আর ১২৮ মেগার রম। ফলে অপেরামিনি বা জিমেইল এপ্লিকেশন মুহুর্তেই খুলে যায়। মনে পড়ে আমার প্রথম কেনা কম্পিউটারের স্পীড ছিল ২৩৩ মেগা আর র‌্যাম ৬৪। হাতের মুঠোয় পৃথিবী কথাটা মন্দ না।ফোনটা চমৎকার হলেও এর কীপ্যাড বেশ খটমটে। ওপরের নেভিগেশনের অংশে অতিরিক্ত বাটন দিয়ে আমার মত বড় আঙ্গুলের মানুষের জন্য ভ্যাজালের করে ফেলেছে। তাই নেক্সট ফোন কি হবে তার খোঁজ নেয়া শুরু করেছি।



অনেক দেখেটেখে নোকিয়ার E52 ফোনটা বেশ মনে ধরেছে। দিব্যি পাওয়ারফুল প্রসেসর আর ওয়াইফাই জিপিএস এনাবল্ড। সেই সাথে ই সিরিজের ফোন হিসেবে কিপ্যাডও দুর্দান্ত।আর সেই হিসেবে চমৎকার স্লিম ওজন ১০০ গ্রামের ভেতরেই। সমস্যা একটাই দাম এখনো ২৫ হাজার টাকার ওপরে । তবে আমি খুব একটা ডরাচ্ছি না। লন্ডনে প্রথম যখন N95 রিলিজ হল তখম মানুষ লাইন দিয়ে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচশ পাউন্ড খরচ করে কিনল আর এক্সপেন্সিভ কন্ট্রাক্টে গেল এখন দিব্যি শপাউন্ডের নিচেই ব্যাবহৃত সেট পাওয়া যায়।

তাই আশা করছি আগামী বছরে কোন এক সময়ে এই E52 ফোনের দামও হাজার দশেক টাকায় নেমে আসবে। তখন একবার কেনার চান্স নিয়ে দেখব। তাই এই ফোনটা আগে আমার জন্য ছিলনা, এখনো নাই [বাজেট ফেল], ভবিষ্যতে সম্ভবত থাকবে <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29019952 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29019952 2009-10-03 22:33:20
প্রথম আলোঃ স্বাগতম পরিবর্তন
আগের সাইট সম্পর্কে সব সময়েই অভিযোগ ছিল যে ডাইনোসর যুগের ওয়েফট ফন্ট এমবেড আর সম্ভবত বৈশাখী বা এইধরণের জগাখিচুড়ি এক লেআউট যা কেউই ব্যাবহার করেনা সেই নিয়েই এখনো চলছে প্রথম আলো। যাদের বাজেট, ভিশন আর প্রেজেন্টেশনের দিক থেকে সবাইই একধাপ এগিয়ে থাকবে বলে আশা করে। আর এর ফলাফল ছিল যে মাইক্রোসফটের ব্রাউজার ছাড়া অন্য কোন ব্রাউজার দিয়ে প্রথম আলো পড়া যেতনা। এর ফলে অনেক মানুষকে চিনি আমি যারা উবুন্টু বা ম্যাক ব্যাবহার করলেও শুধু প্রথম আলো পড়ার জন্য উন্ডোজ আর ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার রেখে দেন। তাই নতুন সাইট পেয়েই পেছনে চলে গেলাম সোর্স দেখতে।

যা দেখলাম মন্দনা। সোর্স কোডের একটা স্ক্রীনশট দিয়ে দিলাম।
১। ইউনিকোডের চিরচেনা ইউটিএফ-৮ ক্যারেক্টার টাইপ।
২।ফলে সাধারণ গ্রাফিক ভিউয়ারেই দেখা যাচ্ছে বাংলা লেখা।
৩।আর ফন্ট প্রেজেন্টেশন সুন্দর করতে ওয়েফটের ইওটিও যোগ করে দেয়া হয়েছে।

সাইট সিধা হতে মনে হয় আরেকটু সময় লাগবে। নতুন সাইট আসে আবার চলে যায়। যাউগগা। গরম থাকতে থাকতেই বেড়ে দিলাম <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29012106 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/29012106 2009-09-17 15:42:49
আলোর নাচন
কদিন আগে ইকনমিস্টের একটা লিঙ্ক পেলাম। তাতে দেখলাম এক বেচারা মাথা চুলকাচ্ছে তার বাড়ির জন্য সোলার প্যানেল বসালে লাভ হবে না ক্ষতি হবে (ব্যাবসাপাতির লোক আগে পয়সায় লাভক্ষতি খোঁজে)। তবে সব মিলিয়ে সে বেচারার সিদ্ধান্ত হল গলিত লবণের মিনি রিএক্টর যদি একটা পাওয়া যেত তবে তার কাজ হয়ে যেত। তাই পড়ে মনে হল সৌরশক্তির বিষয়ে আরেকটু খোঁজখবর করে দেখি দুনিয়া কদ্দুর আগালো।

বিকল্প শক্তির সমস্যা হল, এই শক্তির ঘনত্ব কম, জমিয়ে রাখা যায়না, ঠিক প্রয়োজনের মূহুর্তে উৎস কার্যকরী নাও থাকতে পারে আর প্রাথমিক স্থাপনা খরচ বেশ বেশী। এরমধ্যে প্রাথমিক খরচের ধাক্কাই আমাদের বেশীরভাগকে উল্টিয়ে ফেলে দেয়। সেই সূত্রে আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে মনে হয় দুটি ভাল খবর আছে। প্রথমতঃ গতবছরের তেলের দাম বাড়াতে সারা পৃথিবীতে প্রচন্ড চাহিদা বেড়ে যায় সোলার প্যানেলের। তাই আমেরিকা আর চায়নায় অসংখ্য নতুন কারখানা গড়ে ওঠে আর বর্তমান কারখানাগুলোও তাদের ক্ষমতাকে অনেক বাড়ায়। কিন্তু কারখানা তো আর একদিনে তৈরি হয়না। তাই যন্ত্রপাতি আর কারখানা বসে উৎপাদন শুরু হতে হতেই তেলের দাম পড়ে ফুট্টুশ আর বিপুল উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে আছে । ফলে যেই সোলার প্যানেলের দাম গতবছর দেড় হাজার ডলারে ছিল সেটি দিব্যি পাঁচ ছশ ডলারে নেমে এসেছে। আর দ্বিতীয় খবর হল সম্ভবত এবছরের বাজেটে সোলার প্যানেলের ওপর থেকে ট্যাক্স না ভ্যাট কি যেন কমানো হয়েছে যেটি নিয়ে ব্যাবসায়ীরা দুনম্বরী না করলে জনগণের কিছু সুফল পাবার কথা।

সেই সাথে আরো কিছু চোখ বুলানোর পরে সামনে আসল, সৌরশক্তিকে আরো ভালভাবে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেই নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই। আর সেই নিয়ে দুচারটি লিঙ্ক আরো শেয়ার করছি। যেমন স্কাইফুয়েল তাদের বড়মাপের সোলার ট্রাফ নিয়ে কাজ করে রূপোর পাত লাগানো আয়না দিয়ে সৌররশ্মি কেন্দ্রীভূত করে তা দিয়ে আবার লবনের গলিত মিশ্রণকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুত উৎপাদন। উইকির কনসেন্ট্রেটিং সোলার পাওয়ারের পাতাটিতে বেশ গুছিয়ে লেখা আছে। আর তার ভেতরের লিঙ্কগুলো ঘাঁটলেও আরো ইন্টারেস্টিং মেলা তথ্য। পাইরন টেকনলজী সোলার সেলের সামনে কি যেন লেন্স বসিয়ে আর ক্যাপটিভ হিট ধরার সিস্টেম করে মেলা কারসাজী করে যাচ্ছে।

আজকের পৃথিবীর অবস্থায় এগুলো ছড়ানো ছিটানো বিচ্ছিন্ন আলোর ফুলকি মনে হলেও বিভিন্ন যায়গায় ছড়িয়ে থাকা প্রযুক্তিগত আবিষ্কারগুলো এক সময় পরে একটির সাথে অন্যটি যুক্ত হওয়া শুরু করে। আশা করছি আগামী দশ থেকে পনর বছরের মধ্যেই সৌরশক্তিগত ক্ষেত্রে পৃথিবীর মানচিত্র পালটে যাবে। সারা পৃথিবীর মরুময় প্রান্তরগুলো শক্তির আধার হিসেবে আমাদের সাহস যোগাবে।

বাংলাদেশে সৌরশক্তির ভবিষ্যত কি সেটিই আমি ভাবি মাঝেমধ্যে। গুগল তাদের হেডকোয়ার্টারের পুরো ছাদ সোলার প্যানেল দিয়ে ঢেকে দিয়েছে বহু আগেই। ফেডেক্সও কদিন আগে তাদের পুরো অফিসের ছাদ সোলার করে নিল। তাতে প্রাথমিকভাবে মেলা খরচ হলেও তাদের হিসেবে বিদ্যুত বিলের ত্রিশ থেকে চল্লিশভাগ ছাদের থেকেই মিটে যায়। আমাদের কর্পোরেট কসাইগুলোর মাথায় যদি এই জিনিষ মারপিট করেও ঢুকানো যেত তবে একটা উপকার হত। সারা ঢাকাময় সোলার প্যানেল বসিয়ে যদি শহরভরা এয়ার কন্ডিশনের বিদ্যুতটুকুও সাপ্লাই করা যেত তবে মনে হয় সারা দেশের মানুষের মৌলিক বিদ্যুত চাহিদার এক বড় অংশ যোগান দেয়া সম্ভব হত।

আর এই আগামাথাবিহীন বিদ্যুত উৎপাদন করে সেটি কোথায় সংরক্ষণ করা? সেটি আরেক বিশাল গল্প। বেশকিছুদিন ধরে ইচ্ছা ছিল যে বলিভিয়া নিয়ে লিখব কিন্তু সেদিন দেখি আরেকজন সেটি নিয়ে ইতিমধ্যে লিখে ফেলেছে । তাই মিজাজ ত্যাক্ত করে এই অফটপিকেই ঝেড়ে দিলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28997232 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28997232 2009-08-21 00:32:13
গুগলকে নোংরামী শেখাবো কিভাবে?
আমাদের সময়ে 'ছাপার অযোগ্য' বলে একটা জিনিষ ছিল। সেই সময়ে অক্ষরের কাগজীয় রূপ লাভ করা ছিল উল্লেখযোগ্য কিছু। আর যেকোন কিছু শালীনতার সীমা ছাড়ালে সেটিকে ছাপার অযোগ্য বলে উহ্য করে দেয় হত। সেই রীতি এখনো কাগুজে মাধ্যমে কিছুটা থাকলেও অন্তর্জালীয় জগতে যেখানে যেকারো যাকিছু করার বা লেখার সুযোগ সেখানে মানুষ তাই করছে। যেকেউ যা কিছু করে যাচ্ছে, লিখে যাচ্ছে, বলে যাচ্ছে।

বাংলা কম্পিউটিং জনপ্রিয় করার বিষয়ে যদি কোন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে তবে আমার হিসেবে সেটি হবে গুগল। নিজের স্বার্থে হলেও বাংলাদেশের নিজস্ব ডোমেনে বাংলায় হোমপেজ তৈরি। সম্পুর্ণ ইন্টারফেসের বাংলা ইমপ্লিমেন্টেশন (যদিও কদিন আগ পর্যন্ত্যও জঘন্য বাংলা ছিল, রাগিব ভাইয়ের পোস্টের পরে কিছু মানুষ হয়েছে)। একই সাথে বাংলায় ফনেটিক অটোকম্পলিট ফীচার গুগলের এক সেরা উপহার। গুগলের সর্বোচ্চ জনপ্রিয় সার্চ টার্মগুলো এখন এক দুই অক্ষর লেখার পরেই পুরোটা চলে আসে।

আমাদের বাঙ্গালীর কামের চেয়ে অকাম কুকাম করার দূর্নাম যে বেশী তার উজ্জ্বল প্রমাণ হল এই গুগল বিডি। যা বোঝা যাচ্ছে গুগলে এইরকম ‘বেশরম চিজ’ খোঁজার ব্যাপারেই বাঙ্গালীর বিপুল আগ্রহ। আর তাই ইংরেজীর বেশকিছু অক্ষর চাপলেই প্রথম লিস্টে বেশকিছু শব্দ সামনে চলে আসে যেগুলো নিতান্তই আপত্তিকর। আমাদের কালে পোলাপান নীলক্ষেত যেত সেগুলো পড়ার জন্যি। সেই থেকেই বলি যা শুরু করেছিলাম। পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় হোমপেজগুলোর মাঝে একটি হল গুগল। আর আজকের শিশুদের অনেককেই দেখেছি আমি তাদের পরিচিত শব্দগুলো কম্পিউটারে (গুগলে) লিখে সেগুলো নিয়ে গুঁতোগুঁতি করতে। হয়তো ভবিষ্যতের লার্নিং প্রোসেস এইরকমই হবে। তবে আমি অবশ্যই চাইনা আজকের বা আগামীর কোন শিশু 'এস' চেপে কোন এক ভাবীর ওয়েবসাইটে গিয়ে দিন কাটাক।

গুগলের ইংরেজী ও অন্যান্য বেশকিছু ভাষার ওয়েবসাইটে 'সেফসার্চ' নামে একটি ফিল্টারের ব্যাবস্থা থাকে। যেটির কারণে গুগল ব্যাবহারের সময় গুগল এইসব ছাপার অযোগ্য আর বেশরম চিজ জনগণের চোখের একটু আড়ালে রাখে। আজকের গুগলকে খুব জলদিই ব্যাবস্থা নেয়া দরকার এই অতি জরুরী ফীচারটি যোগ করার জন্য। গুগল যন্ত্র হলেও ভালমন্দের সর্বনিন্ম স্তরটুকু তাকে পেরতেই হবে।

আজকের গুগলের নোংরামীর কিঞ্চিত নমুনা।

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28961673 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28961673 2009-06-08 11:25:44
চলনসই প্রযুক্তিই সই!
তবে অন্যান্য সব কিছুর চেয়ে কম্পিউটার আর তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে এই পাগলা ঘোড়ার ছুট সবচেয়ে বেশী। কম্পিউটারের মূল চালিকাশক্তি মাইক্রোপ্রসেসরের ক্ষমতা প্রতি আঠারো মাসে দ্বিগুণ হবার কথা। এবং গত তিন দশক ধরে তা চলেও আসছে। কিন্তু এই পাগলা ঘোড়াকে ছুটাতে হলে সেই পরিমাণে গবেষণার প্রয়োজন আর তার খর্চা মেটানোর জন্য সেই পরিমাণেই বিক্কিরি বাট্টার দরকার। তাই প্রযুক্তি কোম্পানীদের বিরামহীণ বিপণন শ্লোগানে আমরা প্রতিদিন মুখরিত থাকি, এই আজকে আসলে অমুক প্রতিষ্ঠানের লেটেস্ট প্রসেসর, তার পরের দিনেই আসল পরবর্তী প্রজন্মের র‌্যাম আর তার কদিন পরেই নতুন অপারেটিং সিস্টেম যার খাঁই মেটাতে পুরো যন্ত্রেরই রদবদল। আধুনিক বিশ্বের হিসেবে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর পরে কম্পিউটার পালটানো দরকার হয়। কিন্ত কাজের প্রয়োজন হিসেব করলে দেখা যায় যেই এই হুড়মুড় করে দৌড়ের অনেকটাই অপ্রয়োজনীয়। আমার বাড়ির যন্তরটা প্রায় পাঁচ বছর হতে চলল। এক প্রোসেসরের পেন্টিয়াম ফোর, একটু বাড়িয়ে নেয়া এক গিগা র‌্যাম দিয়ে দিব্যি চলছে। মাঝেমধ্যে মনে হয় কোর দুচারটা বাড়াই কিন্তু পকেটের দিকে দেখে নিজেরে সংযমের মহত্ব সম্পর্কে দুচারটা কথা মনে করিয়ে দেই।


তবে মজার কথা হল, কমসমের মধ্যে ভাল প্রযুক্তির দাম মনে হয় মানুষ ভালই দেয়। তাই আজকালকার প্রযুক্তির বাজারে নতুন এক প্রবণতা দেখছি। সেরা আর লেটেস্ট মডেলের প্রযুক্তির বদলে কোনরকমে কাজ চলে যায় এইরকম প্রযুক্তির এক বিশাল বাজার তৈরি হয়ে গেছে। এই যেমন, ক্যানন, সনি আর নাইকন যখন সেরা প্রযুক্তির মুভি ক্যামেরা নিয়ে নিযেদের মাঝে মহাসমরে ব্যাস্ত সেই সময়ে পিওর ডিজিটাল নামে একটা পিচ্চি প্রতিষ্ঠান ফ্লিপ নামে একটা পিচ্চি ক্যামকর্ডার বের করল বাজারে। ছবির কোয়ালিটির দিক থেকে সনি আর প্যানাসনিকের সামনে নিতান্ত হাসি তামাশার কোলালিটি খুব বেশী হলে সেই সময়ের মোবাইলের ক্যামেরা থেকে একটু ভাল। কিন্তু ফট করে পকেট থেকে বের করে ভিডিও করে সেই ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করে দেবার জন্য চমৎকার জিনিষ। আর শ ডলারের প্রাইসরেঞ্জ হিসেবে গিফট আইটেম হিসেবেও ফাটাফাটি। এই এক পিচকি ক্যামেরা এমনই নাম করল যে দুবছরের মাথায় আমেরিকার মুভি ক্যামেরা মার্কেটের প্রায় ১৩% খেয়ে ফেলল। যেখানে এক শতাংশের ভগ্নাংশের জন্য মারামারি হয় তার জন্য এটা বিশাল সংখ্যা। তাই গতবছর থেকে ক্যানন, সনি আর প্যানাসনিকও দেখি এইরকম মাইক্রো মুভি ক্যামেরা অফার করা শুরু করেছে।

নাগ্রোপান্টের ওএলপিসি মুভমেন্ট যখন শ ডলারে বাচ্চাকাচ্চাদের ল্যাপ্টপ দেবার ঘোষণা দিয়েছিল তখন তাই নিয়ে বিশাল হইচই পড়ে গেছিল। তার বছরখানেক পরেই আসুস ঘোষণা দিল যে তারাও কমসম বাজেটের ল্যাপটপ বাজারে ছাড়বে। তার কদিন পরে যখন সেই ল্যাপটপের স্পেসিফিকেশন আসল তাতে বড়রা হেসেই বাঁচেনা । সাত ইঞ্চি স্ক্রীণ আর নাই কোন অপটিকাল ড্রাইভ, আর হার্ড ডিস্কের বদলে পিচকি ফ্ল্যাশ ডিস্ক, চলবে আবার লিনাক্সে কে ব্যাভার করবে এই জিনিষ? কিন্তু দুতিন বছরও মনে হয় যায়নি এখনকার প্রযুক্তির বাজারের সবচেয়ে বড় বিক্রির বাজার হল ‘নেটবুক’ কম্পিউটার। সাইজে ছোট্ট, ফলে স্ক্রীনের জন্য খরচ কম, অপটিকাল ড্রাইভ নাই ফলে আরেকটা খরচ নাই, নিজস্ব গ্রাফিক্স কার্ড নেই বলে গেমের জন্যও ভাল না, কিন্তু টুকটাক অফিস ডকুমেন্ট আর ব্রাউজিং এর কাজ আরামে হয়ে যায়। আর বাড়ির টিনেজারদের ঘ্যানঘ্যান থেকে বাঁচার জন্য বাপমায়ের পার্ফক্ট এক্সকিউজ। তাই ডেল এর মিনি ৯ , লেনোভোর এস১০, সনির ভায়ো পি সবগুলোই কম বাজেটের দুবলা মেশিন, কিন্তু পাবলিকের কাজ চালানোর জন্য তাইই সই।

তাই আজকে অনেক চেষ্টা করেও মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এক্সপির বুকে ছুরি বসাতে পারছে না। আর ভিস্তার পরের প্রজন্মের উইন্ডোজ সেভেনে অপারেটিং সিস্টেমের ভেতর থেকেই এক্সপি এবং এক্সপির লেগ্যাসি সফটওয়ারগুলো চালানোর ব্যাবস্থা করে দিতে হচ্ছে

তাই প্রযুক্তির বাজারে আজকের নতুন শ্লোগান সেরা প্রযুক্তি তো আছেই কিন্তু কাজ চালানোর মত প্রযুক্তি হলেই দিন চলে যায়।

আর সত্যি কথা হল, ভবিষ্যতের কম্পিউটিং প্রযুক্তি কি হবে আর কি যন্ত্র ব্যাবহার করে আমরা কি কাজ করব আজকেই তা বলা মুশকিল। এই সপ্তাহের হিট খবরের মধ্যে একটা হল, আমেরিকান সম্ভ্রান্ত পত্রিকা দি নিউ ইয়র্কারের প্রচ্ছদ করেছেন জনৈক শিল্পী। দেখে চমৎকার জলরঙ্গের কাজ বলে যা মনে হয় তা আসলে আইফোনে দেড় ঘন্টা নয় ডলারের ড্রইং এপ্লিকেশন নিয়ে করা কারুকাজ।

গিজমোডোর যেই প্রবন্ধে অনুপ্রাণিত হয়ে.... চিন্তাগুলোকে গুছিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28957035 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28957035 2009-05-28 16:42:21
আমার আকাশের দুইশটি তারা

পরিসংখ্যান বলছে দুই বছর এক মাস হয়ে গেছে। আর তার কিছু ওপরেই বলছে এটি দুইশত তম পোস্ট। বেশ অবাক বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছি সংখ্যাগুলোর দিকে। একটু পাতা ওল্টালে মনে পড়ে প্রথম যখন ১০০তম লেখা পাবলিশ করা হয় তখন অদ্ভূত এক উত্তেজনা ছিল। তাই ব্লগের হিস্ট্রিতে প্রথমবারের মত একটু ফাজলামী নিজের থেকেই করেছিলাম।

আমাদের প্রতিদিনের দরকারী আর বেদরকারী সময় কেড়ে নেয়া এই ব্লগের প্ল্যাটফর্ম নিয়ে প্রায়ই ভাবি। আমরা প্রায় সবাইই জীবনের একাংশ ব্লগে বিনামূল্যে দান করে নিজেরাই তাতে তৃপ্ত হই। সামগ্রিক নেটবিশ্বে ব্লগের যে প্রচলন তার থেকে কিছুটা আলাদাভাবেই বাংলা ব্লগের স্ফুরণ হয়েছে গত তিন সাড়ে তিন বছরে। আধুনিক জনপ্রিয় ব্লগমাধ্যমগুলোর মধ্যে ব্লগস্পট আর ওয়ার্ডপ্রেসের নামই সবার সামনে আসে। কিন্তু এদুটো ছাড়াও অন্যান্য ব্লগিং প্ল্যাটফর্মগুলোও মূলত ব্যাক্তিগত ব্লগের সমাবেশ হিসেবেই গড়ে উঠেছে। সেই তুলনায় বাংলা ব্লগিং এর যেকটি প্ল্যাটফর্ম তার প্রায় সবগুলোই কমিউনিটি ব্লগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আর এক অর্থে এই প্রবণতাটি মন্দও নয়। অর্থাৎ একাধিক ব্লগারে লেখা এক পাতায় ছাপা হচ্ছে আবার ব্লগারদের নিজস্ব পাতাও থাকছে। ফলে যারা নিজমনে লিখে যেতে চান তারা তাদের মত লিখছেন আর বাকিরা সবাই প্রথম পাতায় লিখছেন সবার সাথে আইডিয়া শেয়ারে জন্য।


আজকের আন্তর্জাতিক ব্লগচিত্র

আমাদের দেশের অবস্থা আর পরিপ্রেক্ষিত হিসেবে ব্লগ প্ল্যাটফর্মের প্রতি আমার প্রচন্ড আশা ছিল যে আমাদের সময়ের সমাজ, সংস্কার আর নিয়মতান্ত্রিকতার যে কাঁচের দেয়ালগুলো আছে তার অনেকগুলোই ব্লগ শেয়ায়েরে মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা যাবে। এর মাঝে একটি হল দুই বাংলার মাঝে যে অনতিক্রম্য দেয়াল দাঁড়িয়ে গেছে গত অর্ধশতাব্দীতে তা দিনে দিনে শুধু উঁচুই হয়ে যাচ্ছে। বাংলার মান আর ব্যাবহার নিয়ে যে যত কথাই বলুক না কেন, কোলকাত্তাই বাংলাও বাংলা আর ঢাকাইয়া বাংলাও বাংলা। আর ভৌগলিক ব্যারিয়ারের কারণে কাছাকাছি অবস্থানে থাকলেও দিনকে দিন এই দুইয়ের মাঝের বিভেদ বেড়েই চলছে। আর দুই প্রজন্ম পরে আমি বা আপনি পশ্চিমবঙ্গে গেলে বা সেখান থেকে অন্যকেউ এলে আসলেই বিদেশ বিদেশ লাগবে। যদিও একই সূতিকাগারের দুই সন্তান এরা। আমার আশা ছিল ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম দুই বাংলার ব্লগারদের এক ছাদের তলে আনতে পারবে। কিন্তু বাস্তবতা বলে অন্যকিছু। নিতান্ত ভুদাই কিসিমের দুইচারজন পশ্চিমবঙ্গের ক্লেইম করে সামহোয়ারে লেখে আর বাংলাদেশী ব্লগার ওপারের কোন ব্লগ প্ল্যাটফর্মে লেখে বলে তেমন জানিনা। তা হলেও নগণ্যই হবে। ব্লগিং বিশ্বের এক ব্যার্থতাই বলব একে আমি।

একই ভাবে দায়িত্বপূর্ণ পেশাজীবিদের কর্মজীবনের চিত্র ব্লগের মাধ্যমে কিছুটা হলেও ফুটে উঠবে বলে আমি আশাবাদী ছিলাম। যদিও এখন পর্যন্ত এর তেমন কোন প্রয়োগ পাইনি কিন্তু আশা করি এর জন্য এখনো অনেক সময় আছে। তবে কিছু ব্যাতিক্রম আছে, যেমন সচলে যুবরাজ নিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্য লাইবেরিয়ার বাংলাদেশ বাহিনীর ওপরে নিয়মিত লিখে গেছেন। অনেক বাংলাদেশী বিদেশ থেকে তাদের ব্লগ লিখছেন নিয়মিত কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো ব্যাক্তিগত লেখাই উঠে এসেছে, পেশাজীবনের ছাপ তাতে কমই। মিডিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকেই তাদের লেখায় টুকটাক ব্লগিয়ে থাকেন। হাসিনার পুত্র জয় বেশ কিছুদিন হয় ব্লগ লিখছেন। সেটি নিয়েও মাঝেমধ্যে বিতর্কের ঝড় ওঠে। ব্লগের মাধ্যমে পৃথিবীকে কাঁপানোর সবচেয়ে দর্শনীয় উদ্যোগ মনে হয়েছে মাহাথির মোহাম্মাদ। আজকের মালেশিয়াকে নিতান্ত পাড়াগাঁ থেকে আধুনিক রাষ্ট্রে রুপান্তরের সফল প্রণেতা হিসেবে তার অবদান অনস্বীকার্য আর কয়েক দশক দেশ পরিচালনার পরে স্বেচ্ছায়ই ছেড়ে দিয়েছেন ক্ষমতা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে। তবে ক্ষমতায় থাকার পরে ক্ষমতাহীন হয়ে কাটানো এক বিচিত্র অনুভূতি। তাই নিয়মিত ব্লগ লেখেন প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপতি। কখনো ইংরেজী আর কখনো মালে ভাষায় লেখা এই ব্লগ মালেশিয়ার প্রথম দশটি জনপ্রিয় ওয়েব ঠিকানার একটি হয়ে গেছে।

আমার ব্যাক্তিগত ব্লগিং এর দিকে ফিরে তাকালে নিজেই মাঝেমধ্য অবাক হতে হয়। তবে প্রথম বছর ব্লগীয় ইন্টারএকশনে যতটা নিয়মিত ছিলাম আজকাল অনেকটাই অনিয়মিত হয়ে পড়েছি। নিজের ব্যাক্তিগত ব্লগেই সাধারণত কমেন্টের জবাব দেয়া হয় আর তার বাইরে তেমন কমেন্ট করা হয়না, যদিও মাঝেমধ্যে ব্লগ খুলে অন্যদের লেখা পড়ি। নিয়মিত ব্লগানোর ফলে লাভের মধ্যে মাথার চিন্তাগুলোকে গুছিয়ে এক দুপাতায় নিয়ে আসার অভ্যাস মনে হয় আরেকটু সুশৃঙ্খল হয়েছে আর একই সাথে বাংলা বইয়ের সঙ্ঘবদ্ধ তথ্যমাধ্যম হিসেবে বইমেলার আজকের অবস্থানের পেছনেও ব্লগ কমিউনিটির অবদান অনস্বীকার্য।

ব্লগের নিয়মিত প্রসারের পরিমাপযোগ্য ফলাফল হিসেবে এবারের বইমেলার চেয়ে ভাল উদাহরণ মনে হয় নেই। ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক বই বের হয়েছে যাদের লেখকদের মূল পরিচয় হল তারা ব্লগার আর তাদের অনেকেই ব্লগিং এর প্ল্যাটফর্মে না এলে তাদের প্রথম বই কখনোই ছাপাখানার মুখ দেখত না। একই সাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, কর্পোরেট ইররেসপনসিবিলিটি আর অসহায়ের সাহায্যে ব্লগাররা ঐক্যবদ্ধভাবে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছেন সেগুলো অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। একই সাথে এক্সট্রা হিসেবে আছে ফিরে দেখা ৭১ আর অপর বাস্তব সিরিজের মত বইগুলি।

এবারের বইমেলার সময় ব্লগের কর্তৃপক্ষ আমার বইমেলার তথ্যসূত্র ব্যাবহার করে যে চমৎকার টুলটি সবাইকে উপহার দিয়েছেন আর একই সাথে অপর বাস্তব-৩ এর অনলাইন রিসেলার হিসেবে বইমেলার লিঙ্ক ব্যাবহারের জন্য তাদের প্রতি অভিনন্দন। মনে হয় দুইশ পোস্ট পূর্তির জন্য এর চেয়ে চমৎকার সময় আর হোতনা।

তাই সকল ব্লগবাসীকে অভিনন্দন। আপনাদের ব্লগিং কার্যকরী, আনন্দদায়ক আর কল্যাণকর হোক। ধন্যবাদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28913692 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28913692 2009-02-20 05:56:53
এ-টীমের সাতকাহন <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" />


সামহোয়ারইনে এটীম নিয়ে কিছু লিখা বেশ বিপজ্জনক <img src=" style="border:0;" />। কারণ ব্লগের বিশিষ্ট এ-টীমের কারণে ব্লগে সিরিয়াস এটীম আর এন্টি-এটীম পার্টি অলরেডী আছে। কিন্তু আসল এটীম যার অনুপ্রেরণায় এতো বছর পরে ত্যাঁদোড় ব্লগাররা এ-টীমের পতাকাতলে একত্রিত হয়ে তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।

পিচ্চিকালের এক সমস্যা হল সেই সময় যেইসব জিনিষ ফাটাফাটি লাগত এখন বড় হয়ে দেখি সেগুলোর অনেক কিছুই কেমন পানসা লাগে। তাই সুখী হবার এক সিক্রেট হল ন্যাদাকালের জিনিষপাতি নিয়ে তেমন ঘাটাঘাটি না করা। তারপরেও অল টাইম ক্ল্যাসিক বলে কিছু জিনিষ থাকে যেগুলো সবসময়েই ফাটাফাটি।

সেদিন কোথায় যানি এ-টীমের এক পর্ব দেখে মনে হল আরে বেশ তো! সেই সময়েও জিনিষ খারাপ বানাতো না। তাই একবার য়্যুট্যুবে এটীম নিয়ে একটু ঘাঁটতেই বের হয়ে পড়ল দি এ-টীমের টীমকে নিয়ে করা আরেকটি ফাসকেলাশ প্রোগ্রাম। তিরাশি থেকে সাতাশি এই চার বছর চলেছিল দি এ-টীমের সিরিজ। আর তার দশবছর পূর্তি হিসেবে লন্ডনের চ্যানেল ফোরের এক প্রেজেন্টার এ-টীমের সব জীবিত চরিত্রদের একসাথে করার জন্য চেষ্টা চালায়। তার ফলাফল? নট ব্যাড। হ্যানিবলের চরিত্রের জর্জ পেপ্পার্ড মারা গেছিলেন অনেক আগেই তাই তার ছেলে এসেছিলেন আর বাকিদের ঠেলা ধাক্কা দিয়ে একসাথে করা হয়েছিল একঘরে। মজার বিষয় হল, এ-টীমের প্রতি এপিসোডে যেই গোলাগুলি হত সেগুলো দিয়ে মোটামুটি ছোটখাট দুচারটা যুদ্ধ করে ফেলা গেলেও এ-টীমের ট্রেডমার্কের মধ্যে এইটাও একটা ছিল, যে এ-টীমের গুল্লিতে কেউ মরে নাই। তাই চার বছরে এক বুড়া জেনারেল ছাড়া বাকি সবাইই হয় গুলি লাগে নাই নাইলে এট্টু জোড়াতালি দিয়েই আবার ঢিশাঁ! ঢিশাঁ!

আর কথা বাড়ালাম না, ব্রিং ব্যাক দি এ-টীমের প্রোগ্রামটা লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি ইয়ুটুব থেকে। দেশের বাইরে থাকলে দেইখা নেন আর দেশে থাকলে স্লো স্পীডরে মাইনাচ দ্যান।

















মার্ডাক বেচারা, কি আছিল <img src=" style="border:0;" /> আর কি অবস্থা এখন <img src=(" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28911879 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28911879 2009-02-16 07:57:52
কোক পেপুসির ঠান্ডাযুদ্ধ <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" />
প্রতিবারের মতই কোক আর পেপসি তাদের দুই তিনটি বিজ্ঞাপন প্রচারিত করে। এর মাঝে প্রতিটির একটি করে আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। কোকের বিজ্ঞাপনে আমাদের অনলাইনে আসক্ত প্রজন্ম যে বাস্তবতা থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে তার ওপরে প্রাধান্য দিয়ে, মানুষের মাঝে বাস্তব যোগ সংযোগের ওপরে ফোকাস করা হয়। আর পেপসি বব ডিলন আর উইলআইএম যুগলবন্দী ফরএভার ইয়াং এর লিরিকের মাঝে প্রজন্মান্তরের তারুণ্যের জয়গানকে সামনে বাড়িয়েছে।






দুটি বিজ্ঞাপনেই আমার কাছে মনে হয়েছে যতটুকু বাইরে তার চেয়ে অনেক বেশী গভীর ভাবের দিকে দর্শককে টানার চেষ্টা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বেশ উপভোগ্য। সাথে বোনাস হিসেবে কবছর আগে গ্র্যান্ড থেফট অটোর থিমে করা কোকের বিজ্ঞাপনটি যোগ করে দিলাম।



ছাত্রজীবনের একসময় আমার ভারতে কেটেছিল। আর সেই সূত্রে সেখানকার কিছু স্মৃতিও মাঝে মধ্যেই ফিরে আসে। ভারতের কোমল পানীয়র লোকাল ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে একটি ছিল থামস আপ। কোকাকোলা একসময় সেটিতে 'বিনিয়োগ' করতে করতে এক পর্যায়ে কিনেই ফেলে। তারপরে থেকে কোকের তিন নম্বর বাচ্চার মতই লাফালাফি করলেও ভারতের মূল মার্কেট হারিয়ে ফেলে কোক আর পেপসির কাছে। থামস আপের মূল আবেদন ছিল কোক আর পেপসির ৩০০ মিলির তুলনায় থামসাপের ৩৩০ মিলি আর দামও মনেপড়ে একদুই রূপী কম ছিল বিদেশীদের তুলনায়। আর যদিও আমার কাছে টেস্ট ভূয়া লাগত কিন্তু অন্য 'লালপানি'র কাস্টোমারদের কাছে বেশ কদর ছিল মনে পড়ে। আর সেই বিদঘুটে স্বাদকেই কিছুটা ম্যাচো টেস্ট বলে বিজ্ঞাপন প্রচারণা চালাত। আর সেই ম্যাচো ফিগার হিসেবে অক্ষ্ময় কুমারকে বেছে নেয় তারা। আর আমার কাছে সেই দুহাজার থেকে তার পরের বেশীরভাগ থামস আপ এডই টপ ক্লাস এক্সিকিউশন মনে হয়েছে। আমার ভারত থাকা কালেই যদ্দুর মনে পড়ে সালমান আর সুনীল শেঠীকে দিয়ে চেষ্টা করেছিল কিন্তু ক্যান জানি তেমন যুত লাগেনি। গতবার দেশে গিয়ে দেখলাম পার্কুরের স্টাইলে বেশ চমৎকার একটা এড বানিয়েছে। ইয়ুটুবে খুঁজে পেয়ে গেলাম।



তাই লাস্ট ডায়ালগ আখেরী থামস আপ ও ক্যায়া হোতা হ্যায়?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28910933 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28910933 2009-02-14 09:08:54
অনলাইনে বইমেলা দখল
তবে ই-জেনারেশনের উন্নতির ফলে আমাদের অনলাইন রিটেইলারদের বেশ সুদিন। বইমেলা শুরু হবার সাথে সাথেই দেখলাম সাইটের ট্র্যাফিক আপনা আপনিই প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আগে প্রতিদিন দু-আড়াইশোর মত দর্শক পাওয়া গেলেও বইমেলা শুরুর পরে থেকেই তা নিয়মিত সাড়ে চারশো ছাড়াচ্ছে। প্রবাসে থাকার এক বিরক্তিকর যন্ত্রণা হল বইমেলার সময় দেশে থাকতে না পারা। আর তাই মেলার সময় কোন আপডেটও করা যায়না। এইবছর মনে হয় সেই মহাসমস্যার এক সমাধান না হলেও সমাধানের খুব কাছাকাছি যাওয়া গেছে।

বাংলা একাডেমী প্রতিদিন সেদিনের বের হওয়া বইগুলোর নাম সংরক্ষণ করে। তাই সেটার প্রিন্টাউট পাওয়া যায় বর্ধমান ভবনের বারান্দায় যেসব তরুণরা তথ্যকেন্দ্রে বসে থাকেন তাদের কাছে। এবছর বাংলা একাডেমীর থেকে সেই লিস্ট ইমেইল করে বেশকিছু সাংবাদিকের কাছে দেয়া হচ্ছে। কিছু খোঁজখবর করার পরে এক সাংবাদিক নিজেই যেচে পড়ে সেই লিস্ট নিয়মিত আমাদেরকে সরবরাহ করতে রাজী হয়ে গেলেন। তাই সব তথ্য একসাথে গোছানোর জন্য বইমেলায় এক পাতা করে ফেললাম।

পরে দেখি অবাক কান্ড, boi mela 2009 লিখে সার্চ দিলেই দুই তিন নম্বরে চলে আসে আমার বানানো বইমেলার পাতা। আর সেটা আমি লাইভ করার চব্বিশ ঘন্টা পার হবার আগেই। <img src=" style="border:0;" />গুগলের ক্রলারগুলোর প্রতি আরেকটু শ্রদ্ধা বাড়ল। লাইভ সার্চে দেখি এক নম্বরে <img src=" style="border:0;" /> আর ইয়াহুতে পাত্তাই নাই (ধুত্তোরিকা!) <img src=" style="border:0;" />

পরে অনেক চিন্তাভাবনা করে প্রতিদিনের বই প্রতিদিনই আপডেট করা শুরু করলাম। আর সেই বইমেলার বইগুলো খুঁজে বের করার জন্যও একটা পাতা বানিয়ে ফেললাম। দেখি ভালই জনগণের কাজে লাগছে। <img src=" style="border:0;" />

আপনারাও ঘুরে আসতে পারেন অনলাইনে বইমেলার আপডেট। এখানে কিছু জিনিষ এখনো মিসিং। বইমেলার লেয়াউট প্ল্যানটা হাতে পেলে ভাল হত। সাধারণত বইমেলার চত্বরের কোথাও বোর্ডে লাগানো থাকে। কেউ কি ছবি তুলে পাঠাতে পারেন? একই সাথে বইমেলার নতুন বইগুলোর প্রচ্ছদ এখনো যোগাড় হয়নি। সেটাও আস্তেধীরে যোগাড় করতে হবে। আর আপনাদের কোন পরামর্শ থাকলে তাও জানাতে পারেন। সম্ভব হলে যোগ করা হবে।

ব্লগারদের কারো Digg এ একাউন্ট থাকলে বুকমার্ক করে রাখতে পারেন। আর ফেসবুকেও শেয়ার করতে পারেন। <img src=" style="border:0;" />

বইমেলা ২০০৯ এর নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য ঘুরে আসুন বইমেলার বইমেলা ২০০৯
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28909498 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28909498 2009-02-11 06:11:10
ফেলে আসা গল্পের প্রতিজ্ঞা অমিতের লেখা পড়েন? আমাদের কানাডাপ্রবাসী রাজপুত্তুরের চেহারার ব্লগার? যে হটাৎ করেই সামহোয়ারে লেখা শুরু করল তার নটরডেমের দিনগুলির কথা , আমি পড়ি আর মাথা চুলকাই, আরে আমাদের বছরেও তো নবীণবরণের সময় সেই অকান্ড হয়েছিল, আরে আমাদের সময়েও তো ঐটা হয়েছিল। পরে দেখি দিব্যি দুবছর আমরা একই করিডোর দিয়ে হেঁটেছি কিন্তু মোটেই চিনিনি আর মতিঝিলের দিনগুলির প্রায় আধাযুগ পরে নেটের জালের দুই প্রান্তে দেখি আমরা তারের দুমাথায় আটকা।

নেটে দেখার প্রায় বছরখানেক পরে সেই গতবইমেলার সময় আমি দেশে, হটাৎ দেখি আমার মেসেঞ্জারে অমিত যোগ করল আমাকে। আর সেদিন বিকেলেই তার প্রথম বই গন্দমের মোড়ক উন্মোচনের কথা। সেদিন মেলায় গিয়ে দেখি জাগৃতি প্রকাশনী স্টলে একটা কিউট টাইপের ছেলে ফ্রেশ বাইন্ডারের থেকে আসা গন্দমের এক কপি হাতে নিয়ে সুখী সুখী চেহারা নিয়ে বসে আছে। চেহারা দেখেই বুঝলাম নিজের বই না হলে এইরকম সুখ চোখেমুখে আসেনা। তাই সোজা গিয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললাম অমিত? ছেলে অনেক চিন্তাভাবনা করে মাথা চুলকায়ে কইল ফরিদ? আমি কইলাম হ মিয়া! তারপরে বেশ জমিয়ে আড্ডা চল্ল। সেদিন আরিফ জেবতিক, অচেনা বাঙ্গালী আরো দুচারজন ব্লগারের সাথে প্রথম দেখা।

সেই থেকে মাঝেমধ্যেই নেটে টুকটাক আলাপ হয়, অদ্ভূত ব্যাপার লক্ষ্য করলাম যে আমার এই বইয়ের ওয়েবসাইটের প্রতি তার অদ্ভূত মায়া। প্রায়ই ছোটখাট পরামর্শ দেয়, নতুন কিছু করলে নিজেই খুজে বের করে আলাপ করে, কখনো শুধরে দেয়।

আমাদের ব্লগবিস্ফোরণ যে কজন সিরিয়াস লেখককে নতুন করে পাঠকের সামনে নিয়ে এসেছে তাদের মধ্যে শিমুল আর অমিতকে সবসময়েই মনে পড়ে। কদিন আগে ছেলে নিজেই তার ছোটখাটো গল্প যেগুলো ছড়ানো ছিটানো আছে সেগুলো একসাথে করে ই-বুক বানিয়ে ফেলল। আর আমাকে অনুমতি দিল বইমেলায় প্রথম রাখার জন্য।

বমেলার প্রথম পাতায় সাধারণত কোন একটা বই নির্দিষ্ট করে রাখা হয় কিছুদিনের জন্য। বহুদিন ধরে ফিরে দেখা একাত্তর ছিল , গতমাসে নাফিসের ইন্টারনেটের প্রকৃত ইতিহাস তার যায়গা নিল। অমিতকে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম বইমেলায় তার বই প্রথম পাতায় আসবে। তাই গতকাল রাতে হোমপেজ বদলেই তাকে জানালাম।

আজকে ভাবলাম সবার সাথেই শেয়ার করি অমিতের ফেলে আসা গল্প যতো


বইমেলার প্রথম পাতাতেই আছে কিছুদিনের জন্য। সেটিও দেখার আমন্ত্রণ রইল। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28905354 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28905354 2009-02-01 19:17:12
ইহা একটি নিতান্ত জ্বালাময়ী পোস্ট! <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" />

আগুনজনিত দূর্ঘটনা বাংলাদেশে নিতান্তই অহরহ ঘটে। আর মহা দূর্ভাগ্যজনক হল অনেক সময়েই একটু সাবধানতা গ্রহণ করলেই এর অনেকগুলো থেকে বাঁচা সম্ভব। আর অনেক সময়ে দূর্ঘটনাবশত আগুন লাগলেও অনেক সহযেই নিভিয়ে ফেলা যায় যদি দূর্ঘটনার স্থানের কারো ফায়ার ড্রিলের ট্রেনিং থাকলে অনেক ছোটখাটো দূর্ঘটনা সহযেই নিভিয়ে ফেলা যায়। আমাদের বাংলাদেশের একটা অন্যতম সমস্যা আমার কাছে মনে হয়, যে বড় আবাসিক এলাকা ছাড়া বহু এলাকারই গলি চিপাগলি এমন আছে, যে নিতান্ত জরুরী হলেও সেখানে দমকল বাহিনীর পৌছানোর উপায় নাই। আরেক বিপদ আজকালকার হল, যে বড় শহরগুলোতে গজিয়ে ওঠা বহুতল দালানগুলো। একটা পচিশতালা বাসা বা অফিসের পনের বা বিশ তলায় আগুন লাগলে ঢাকার বেশীরভাগ এলাকার দমকলের সেখানে পৌছানোর মত প্রস্তুতি নেই। কিছুদিন আগেই ইস্পাত ভবনের ওপরের দিকের তিনতালা আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেল কিন্তু যথেষ্ট ইচ্ছা থাকা সত্বেও দমকল বাহিনীর প্রস্তুতি নিতান্তই অপ্রতুল মনে হয়েছে। বিদেশে বিশেষত যুক্তরাজ্যে প্ল্যানিং পারমিশন এক নিতান্তই কম্পলসারি চিজ। আপনার নিজের বাড়িতেও যদি আপনি বাগানে দুইথান ইট বসাতে চান, তাহলে তার আগে পরিকল্পনা দফতর থেকে অনুমতি নিতে হবে। কারণ তারা হিসেব করে দেখবে সেই নতুন স্থাপনা বা বর্তমান স্থাপনার পরিবর্তনের ফলে সেখানে এম্বুলেন্স, দমকল, পুলিশ ইত্যাদি জরুরী পরিস্থিতির জন্য কোন সমস্যার সৃষ্টি হবে কিনা। যখন নিশ্চিত হবে যে এই পরিবর্তন যথাযথ তখনি শুধু আপনি নিজের বাড়িতে পরিবর্তন আনতে পারবেন। বাংলাদেশেও মনে হয় আইনে সেরকম থাকলেও কামে সেরকম নেই।

রাগিব ভাইয়ের লেখায় উনি গুগলের বাংলা অনুবাদের দূরবস্থার উন্নয়নের জন্য উনার ব্যাক্তিগত উদ্যোগ এবং একই সাথে এই উদ্যোগের বিষয়ে ব্লগ কমিউনিটির সহায়তা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন। গুগলের বাংলার এই করুণ অবস্থার জন্য নিতান্তই দায়সারা এপ্রোচই দায়ী মনে হয়েছে। একই সাথে এই অনুবাদের অনেকটুকুই কমিউনিটি ট্রান্সলেশন ফলে যথাযথ অনুবাদের বদলে যে যেমন খুশী অনুবাদ জমা দিয়ে কাজ চালানোর মত একটা কিছু দাড় করানো হয়েছে। তবে দেশের বাইরে থেকেও ইচ্ছে থাকলে এবং কিঞ্চিত মালপানি খরচ করলে দিব্যি ভাল অনুবাদ দাঁড় করানো যায়। টেকনিকাল বিষয় হলেও অসুবিধা নেই। কদিন আগে অগ্নি নিরাপত্তার ওপরে একটা চমৎকার ম্যানুয়াল পেলাম আমাদের পাড়ার মসজিদে। কদিন পরে পরেই বিভিন্ন বিষয়ে সরকারী নোটিশ আর নির্দেশিকা রেখে যায় জনগণের অবগতির জন্য। তাই ভাবলাম সবার সাথে শেয়ার করি। অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে এরকম গোছানো নির্দেশিকা আমার চোখে পড়েনি বাংলাদেশে।

অরিজিনাল ডকুমেন্টের অনলাইন স্ক্যান

Click This Link


তামাশা <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />


আরো তামাশা!

http://banglaglobal.blogspot.com/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28902886 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28902886 2009-01-27 07:41:59
ওপেনসোর্সের ভাঙ্গা রেকর্ড

ছবিঃ বিভিন্ন কাজে ব্যাবহৃত ওপেন সোর্স টুলস

আজকের কথা না, এই বছরদশেক আগের কথা, বাংলাদেশে প্রথমবারের মত কম্পিউটার কেনা আর ব্যাবহার মেইনস্ট্রীম হওয়া শুরু করেছে। আজকাল জিপিএর সিস্টেমে মহাপড়ুয়াদের আলাদা করা যায়না, তখন স্ট্যান্ড করা নামে একটা ব্যাপার ছিল আর যারা স্ট্যান্ড করত তাদের মোটামুটি সবারই নামছবি রেজাল্টের মাসখানেকের মধ্যেই সব পত্রিকার স্পেসফিলার হিসেবে কাজে লাগত। এখনকার অবস্থা খুব একটা ভাল জানিনা।

সেই সময়ের কথা মনে আছে, যখন আমরা সবে স্কুল শেষ করে কলেজে ভর্তির চিন্তাভাবনা করছি, যেকোন বোর্ডেরই যেকোন স্ট্যান্ড করা ছাত্রকেই যখন প্রশ্ন করা হত, আগামী জীবনে কি হবার ইচ্ছা, বিজ্ঞানবিভাগের মোটামুটি সবারই একবাক্যে উত্তর হত, কম্পিউটার 'সাইন্টিস্ট' হব। পিছন ফিরে যখন এর কারণগুলো দেখতে চাই, তখন যেটুকু মনে হয়, দক্ষ কম্পিউটার পেশাজীবি হলেই বিশাল টাকার চাকুরী, বিদেশ যাবার সুনিশ্চিত সূযোগ, সামাজিক স্ট্যাটাসের একদম ওপরের দিকে একলাফে উঠে যাবার সুযোগ সর্বোপরি পাস করে বেকারত্বের ভূতের সাথে দেখা না হবার নিশ্চয়তা ইত্যাদি ছিল সারা দেশের সেরা মেধাবীদের একবাক্যে তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি নিজেদের কমিটমেন্ট দেখানোর মূলমন্ত্র।


ছবিঃ ওপেনসোর্সে উইন্ডোজ এর ছায়া


তাই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আর সরকারী বিদ্যাপীঠগুলোতে কম্পিউটারে চান্স পাওয়া মানেই কেল্লা ফতে আর সেই সুযোগেই আমার মনে হয় বাংলাদেশের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মেজরিটি টিকে গেল। বিবিএ আর কম্পিউটিং এর কোর্স না থাকলে এদ্দিনে কয়টা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান টিকে থাকত কে জানে।

তৃতীয় সহস্রাব্দের প্রথম দশকের ক্রান্তিকালে তথ্যপ্রযুক্তির মোহ মনে হয় কেমন যেন একটু মিইয়ে গেছে বাংলাদেশে। আর এই একই প্রবণতা শুধু বাংলাদেশেই না, মনে হয় সারা বিশ্বেই কম্পিউটিং পড়ার জন্য দেশের সেরা মেধাবীদের লাইন ছোট থেকে ছোটই হচ্ছে আর শুধু তাই না অনেক যায়গাতেই যথেষ্ট পরিমানে ছাত্রের অভাবে কোর্স কমিয়ে আনতে বা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। তার একদিকের কারণ হল, এই খাতে একপর্যায়ের সেচুরেশন চলে এসেছে। অর্থাৎ যারা নব্বই বা দুহাজারের প্রথমদিকে আইটির ওপরে পড়াশোনা করেছিলেন আজকে তাদের দিয়েই চাহিদার অধিকাংশ পূরণ হচ্ছে আর দ্বিতীয়ত মনে হয় একটা কম্পিউটিং ডিগ্রি থাকলেই ধুমধাড়াক্কা চাকরী হয়ে যাবে তার নিশ্চয়তা আর নেই মনে হয়।

আর এই একই সময়ে প্রযুক্তি উন্নয়ন ও বিপণনের দুইধারা নিয়ে কিছুটা মনে হয় আলোচনা হওয়া উচিৎ। প্রযুক্তির উন্নয়নের (মতলব সফটওয়ার বা টেকনলজী ডেভেলাপমেন্টের ) জন্য নির্মাতারা ওপেনসোর্স বা ক্লোজড সোর্স যেকোন এপ্রোচই নিতে পারেন। যেখানে একদিকে প্রোজেক্টের সোর্স ওপেন করে দিলে সেটি সবার জন্য দৃশ্যমান, যে কেউ অরিজিনাল সোর্সকোড ডাউনলোড করে নিজের মত কম্পাইল করে নিতে পারেন আর কোডিং এ কোন খুঁত থাকলে সেটি যে কেউ ধরিয়ে দিতে পারেন। ফলে এক দিক থেকে সবখানের ডেভেলাপারদের মূল্যবান টাইমের ফ্রী এডভান্টেজ নেয়ার জন্য ওপেন সোর্স চমৎকার আইডিয়া। আর অন্যদিকে সোর্স নিজেদের মধ্যে রাখলে সাধারণত কোডের দুর্বলতা বাইরে সবার কাছে প্রকাশ পায়না, একই সাথে ডকুমেন্টেশন আর সোর্স ম্যানেজমেন্ট সাধারণত মজবুত হয়।


ছবিঃ ওয়েবসার্ভার ম্যানেজমেন্ট টুলস

আজকের বাজারে আপনি যদি একজন সাধারণ ব্যাবহারকারী হন তাহলে আপনার জন্য ওপেন সোর্স প্রোজেক্টগুলো ফাটাফাটি জিনিষ, হাজার হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয় এরকম অসংখ্য সফটওয়ারের সমমানের চমৎকার সব সফটওয়ার পাওয়া যায় যেকোন প্ল্যাটফর্মের জন্য বিনামূল্যে এবং প্রায় একই ক্ষমতার এমনকি কখনো আরো বেশী সুবিধাসমৃদ্ধ। আর ব্যাবহারবান্ধব অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে লিনাক্স তো গত এক দশকে অনেক এগিয়ে এসেছে। এখন অনেক পুরনো ব্যাবহারকারীও উইন্ডোজের মত হেভীওয়েট ছেড়ে উবুন্টু বা ফেডোরা ব্যাবহার করেন।

কিন্তু সমস্যা হল আপনি যদি ওপেনসোর্স ডেভেলাপমেন্টের সাথে যুক্ত থাকেন, আর দিব্যি কপালজোরে আপনার কোনার রুমে বসে বসে যেই কোড লেখা শুরু করেছিলেন সেটি জনপ্রিয় হয়ে মোটামুটি হিট করে যায়। ফলে আপনাকে জনাপাঁচেক ফুলটাইম ডেভেলাপারের দরকার হয় আর ডেভেলাপিং কমিউনিটি দিব্যি হাত বাড়িয়ে দেয় আপনার সাথে। তখন ওপেনসোর্স কোড চিপে পয়সা বের করা তেমন সুখকর বিষয় না।

কারণ যদি আপনি সফটওয়ারের জন্য টাকা চান, তাহলে সেটি হবে হাস্যকর। কারণ সেটির জন্য কোড আপনি আগেই উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, যে কেউ কম্পাইল করে নিলেই হল। দি আইডিয়া ঠিক করলেন সফটওয়ার যারা কিনবে তারা টেক সাপোর্ট নিবে আপনার থেকে, এইখানেও কিঞ্চিৎ ভ্যাজাল আছে, দেখা গেল রাস্তাঘাটের ডেভেলাপাররা, (মতলব আপনার কোম্পানীর বাইরের) দিব্যি সাপোর্ট দিচ্ছে ক্লায়েন্টদের আপনার বদলেই। আর দ্বিতীয় বিষয় হল, ওপেন সোর্স কোড বেশ শক্তপোক্ত হয়, তাই তেমন ঝুটঝামেলা করেনা যে রোজ টেকসাপোর্ট ডাকবে। কিছু পয়সা আসতে পারে ট্রেনিং সার্টিফিকেশন ইত্যাদি থেকে। আর আপগ্রেড ইত্যাদি তাও ফ্রীই থাকছে। কারণ সেই আগের মতই সোর্স ওপেন। আরেক বুদ্ধি হল, আপনার সফটওয়ারের সাথে কিঞ্চিৎ বিজ্ঞাপন ইত্যাদি ঢুকিয়ে দিলেন কিন্তু তাতে দেখবেন ক্লায়েন্ট নাখোশ আর আপনার প্রিয় ডেভেলাপাররা দিব্যি বিজ্ঞাপনফ্রী একটা কম্পাইলেশন করে জনগণের মধ্যে সুন্দর ছড়িয়ে দেবে।



ছবিঃ ওপেনসোর্স কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম

এখন সবদিক থেকে হিসেব করলে ব্যাবহারকারীর জন্য ওপেন সোর্স চমৎকার জিনিষ, কিন্তু আপনি কম্পিউটার পেশাজীবি হিসেবে, ওপেনসোর্স ডেভেলাপমেন্টকে যদি বেছে নিতে চান, তাহলে হাইফাই বাড়িগাড়ী করার তেমন কোন রাস্তা দেখছি না। বিদেশের বেশীরভাগ ওপেনসোর্স প্রোজেক্টই মনে হয়, ডোনেশন আর ফান্ডিং এর ওপর নির্ভর করে মূল খরচটুকু চালিয়ে নেয়, আর বাংলাদেশ থেকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া কোন ওপেন সোর্স প্রোজেক্টের নাম এখন পর্যন্ত মনে করতে পারছি না।

এই লম্বা লেখা পড়ার মত যদি কারো ধৈর্য্য থাকে তাহলে এতোক্ষণে আমার বিরুদ্ধে একগাদা যুক্তি তৈরি করে ফেলার কথা। কিন্তু বিশেষ করে আমার প্রিয় প্রায় সব প্রযুক্তিবিদই ওপেনসোর্সের এডভোকেট। ওপেনসোর্স নিয়ে এই বিশাল বিতর্কের গোড়াতে আমি না, এই নিয়ে এক ভেজাইল্যা আর্টিকেল কদিন আগে পড়লাম স্টুয়ার্ট কোহেনের। স্টুয়ার্ট এখন আছেন কোলাবরেটিভ সফটয়ার ইনিশিয়েটিভের সিইও হিসেবে আর তার আগে বহুদিন কাজ করেছেন ওপেন সোর্স ডেভেলাপমেন্ট ল্যাবস এর সিইও হিসেবে। ওপেন সোর্সের ব্যাবসায়ীক দিক সম্পর্কে অত্যান্ত অভিজ্ঞ এই প্রবীণ বোদ্ধার এই মহা 'বিতর্কিত' প্রবন্ধ নিয়ে প্রযুক্তিমহলে বেশ হইচই চলছে। কিন্তু আমার এক দিক থেকে ওনার যুক্তিগুলো খারাপ লাগেনি।



Open Source: The Model Is Broken


মাইক্রো সাইজের ড্যামস্মল লিনাক্সের জনক লিখেছেন ওপেন সোর্স থেকে কিভাবে সারভাইভ করতে হয়।
http://damnsmalllinux.org/income-guide/

বিভিন্ন কাজে ব্যাবহৃত ওপেন সোর্স সফটওয়ারের তালিকা


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28901661 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28901661 2009-01-24 07:43:50
ডিজিটাল বাংলাদেশ? কেন নয়? আমরা নিজেরাই পারব!



একটা ব্যাপার নিয়ে অনেক দিন ধরেই লিখব ভাবছিলাম, কিন্তু এইসেই করে লেখা হচ্ছিলনা। গতকালকের প্রথম আলোর খবরটা পড়ে মনে হল দু-চার লাইন লিখেই ফেলি।

আমাদের একটা কমন অভিযোগ হল তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে সরকার সাহেবের অবদান / প্রতিবন্ধকতা/ বাইরের দুনিয়া থেকে কমপক্ষে বিশ বছর পিছিয়ে থাকা ইত্যাদি। এখন পর্যন্ত আমরা একমাত্র লাইন দিয়ে চলি যেটা প্রায় দেড় দশক দেরী করে পেয়েছি আর সেটারও মেজরিটি ক্যাপাসিটি আনইউজড আর সেইটাও নিয়মিত কোদালের কোপ খেয়ে চেনস্মোকারের লাং ক্যান্সার আক্রান্ত ফুসফুসের মত অবস্থা। আর সরকারী ওয়েবসাইটগুলোর তো কোন কথাই নাই আর অনলাইনে ট্রানজাকশন করা এখনো 'বৈধ' না আর তার কোন সুযোগও নেই। তাই দেশের তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে সরকারকে অগ্রগণ্য করে রাখলে আর সরকারের আশায় বসে থাকলে খবরই আছে।

অনলাইন ট্র্যানজাকশন সুবিধা না থাকার কারণে অনেক কিছুই করি করি করে করা হয়না আমাদের দেশে। এর একটা অল্টারনেটিভ হতে পারে মোবাইলের ফ্লেক্সি/টপআপের মত জেনেরিক একটা সিস্টেম থাকতে পারে যেটির জন্য যেকোন প্রতিষ্ঠিত ভেন্ডার সেলার হিসেবে মেম্বার হতে পারবেন আর যেকোন গ্রাহক কাস্টোমার হিসেবে মেম্বার হতে পারবেন। আর মেম্বার হলে গ্রাহক পাড়ার পানদোকান থেকেও তার সার্ভিস বা পণ্যের জন্য তার একাউন্টে টাকা জমা দিতে পারবেন। আর ভেন্ডার তার পণ্য বা সেবা বিক্রি করে সেই অনলাইন একাউন্ট থেকে তার ব্যাংকে টাকা জমা করে নিতে পারবেন। আর দ্বিতীয় অল্টারনেটিভ হল, বিশ্বস্ত গ্রাহক বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছে অগ্রীম টাকা জমা রেখে অনলাইনে সেবা বা পণ্য কিনে সেটি খরচ করবেন। কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এখনো ক্রেডিটে কেনা বা বিক্রীর বিস্তৃত পরিসর মনে হয় তৈরি হয়নি।

কিন্তু আমি মনে করি ব্যাক্তিগত পর্যায়ে এবং বেসরকারী পর্যায়েও যদি উদ্যোগ নেয়া হয় তাহলেও এক ধাক্কায় অনেক এগুয়ে যাওয়া যাবে। অনেকদিন দেশে থাকিনা আর দেশের অনেক জিনিষপাতি সম্পর্কে আইডিয়াও কমে গেছে তারপরেও মনে হয় আমরা কিছু আইডিয়া একত্র করতে পারি যেগুলো কাজে লাগানো অসম্ভব না।


বাস/যাতায়তঃ
মূলত ভলভোর RFID কার্ডের সিস্টেম দেখেই লেখা তাই বাস নিয়েই প্রথমে লিখব। দু-তিন অবছর আগেই মনে হয় দেখেছিলাম সোবহানবাগে সোহাগ পরিবহনের অফিসে। উনারা নিজেদের সুবিধার্থেই পুরো টিকেটিং সিস্টেম অনলাইন করে নিয়েছেন নিজেদের জন্য। ফলে সোবহানবাগ থেকে সকাল দশটার চট্টগ্রামের টিকেট বুক করলে সেটা আর কাওরানবাজার থেকে ডবল বুকিং হবার সম্ভাবনা নাই। এখন সেইটাই যদি পাবলিকের জন্য ওপেন করে দেয়া হয় তাহলে অনেক ঝামেলা থেকে দুই পক্ষই বেঁচে যেত। এখানে সমস্যা দুটা মনে হয়, এক হল পেমেন্ট, আর দুই হল ব্ল্যাকমার্কেট ঠেকানো। কারণ ছুটিছাটার সিজনে টিকিট পাওয়া যে কি জিনিষ তা সবাই জানে।

আমার মনে হয় সবার জন্য ইউনিভার্সালি ওপেন না করে দিয়ে কিছু পরিচিত বিশ্বস্ত কাস্টোমার বেজ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। অনেক পরিবারই আছে ঢাকায় যাদের বছরে ১০-১৫ টা টিকেট লাগে। তারা হয়ত সরাসরি সোহাগের অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে কিছু টাকা অগ্রীম জমা দিয়ে দিল আর যখন দরকার অনলাইনে টিকেট কিনে ইমেইল প্রিন্ট করে নিয়ে বাসে উঠে পড়ল। আবার জমা দেয়া টাকা কমে আসলে একসময় গিয়ে বাসের অফিসে আবার কিছু এডভান্স জমা দিয়ে দিল। আর সোহাগ, হানিফ, সাউদিয়া এইরকম চারপাঁচটা বড় সার্ভিস যদি একসাথে একসাইটে সুবিধা দেয় তাহলে তো কথাই নাই।

হাসপাতাল/ডায়গনস্টিকঃ
ট্রাফিক জ্যাম যদি এক্সপোর্ট কমোডিটি হত তাহলে ঢাকা এদ্দিনে বিশাল বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করতে পারত মনে হয়। ঢাকার একমাথা থেকে আরেক মাথায় যাওয়া মানেই দেড়দিনের সফর। আমাদের সব পরিবারেই কমবেশী রুগী আছে তাছাড়া আমাদের নিজেদেরও জ্বরজ্বালা হাবিজাবি লেগেই থাকে। তাই কদিন পরপরেই ব্লাড, ইউরিন হাবিজাবি টেস্ট করতে হয়ই। এই টেস্ট করতে যাওয়া এক ঝামেলা আর সেই টেস্টের রেজাল্ট আনতে যাওয়া হল আরেক ঝাক্কি। আবার অনেক সময়েই দেখা যায় জলদির মধ্যে রেজাল্ট না পেলে ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট মিস হয়ে যাবে অথবা ক্লিনিক বন হয়ে যাবে। আজকালকার বেশীরভাগ ক্লিনিকেই দেখেছি কিছুটা থেকে মাঝারিগোছের কম্পিউটারাইজড। ইনারা যদি এইটুকু সুবিধা দিয়ে দেন যে টেস্টের সময় দশটাকা বেশী নেবেন কিন্তু রেজাল্টের সাথে সাথেই আমার ইমেইলে রেজাল্টের এককপি পিডিএফ চলে আসবে। তারপরে আমি আমার সুবিধামত কাগজের কপি নিয়ে নিতে পারব। তাহলে মনে হয় মন্দ হয়না।

এপাচে বসিয়ে একটা মেইলসার্ভার চালাতে এমন বড়ো খরচ মনে হয় হবেনা কিন্তু সার্ভিস হয়তো অনেকেরই উপকারে আসবে।

স্কুল/কলেজ/ইউনিঃ
বেশী ঝামেলায় না গিয়ে, স্কুলের পক্ষ থেকেই ইয়াহু বা গুগল গ্রুপস মেইনটেইন করে দিব্যি ক্লাস রুটিন, নোটিশ ইত্যাদি পাঠিয়ে দেয়া যায়। বিনিপয়সাতেই বড়সড় ঝামেলা ছাড়া। আর গার্জিয়ানদের ইমেইল নিয়ে সেখানে আরামসে পুত্র/কন্যাধনের রেজাল্ট পাঠিয়ে দেয়া যায়। রিপোর্ট কার্ডে চোরামী দিন শ্যাষ! আরো ম্যালাকিছু মনে হয় করা যায়। গুগল এপস অনেকগুলো ফ্রী টুল দেয় এডুকেশনের জন্য।

বাজারসদাইঃ
অনলাইন শপিং ভিসা/মাস্টারকার্ডের ভায়াঘুইরা বাংলাদেশে আসতে অনেক দেরী। মাগার নিউমার্কেট বা হাতিরপূলের কোন কাঁচাবাজারের দোকান যদি বলত যে বাজার তো আমাগোর থিকাই করেন, যা বাজার দাম তার থিকা ৫০ টেকা বেশী দিয়েন অনলাইনে আমরা মাইপা, প্যাকেট কইরা বাড়িত পৌছাইয়া দিমু যদি বাড়ি ১৫ টেকা রিশকাভাড়ার ভিতরে হয়। মাসের শুরুতে টেকা এডভান্স কইরা যাবেন আর অফিস বইসা লাঞ্চটাইমে অনলাইনে বাজার করবেন।

শিউর একবছরে তাগোর ইনকাম ৫০গুণ বাইড়া যাইব।

আরো কতকিই করা যায়। আপনাদের আইডিয়াও জানান। আর এইসব এলেবেলে আইডিয়াগুলোরও ভালমন্দ কিছু থাকলে শেয়ার করতে পারেন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28899192 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28899192 2009-01-18 21:10:58
রাজনীতির ভেতর পলিটিক্সঃ লন্ডনচিত্র

সাত বছর পরের নতুন নির্বাচনে আশা করি দেশ আবার নতুন কিছু পাবে। কিছু স্বপ্নপূরণ আর থাকবে একগুচ্ছ স্বপ্নভঙ্গ। এই নিয়েই হয়ত এগিয়ে যাব আমরা।

কয়েক মাস আগে লন্ডনে মেয়র নির্বাচন হয়েছিল। সেটির একপিস লিফলেট ছিল আমার কাছে। ভাবলাম শেয়ার করি সবার সাথে। লিফলেটে বিস্তারিতভাবে কেন প্রাক্তন কমুনিস্ট নেতা লিভিংস্টোনকে পুনঃনির্বাচিত করলে (তৃতীয় বারের মত) দেশ ও জাতির কি উন্নতি হবে আর বিদেশী আর বাংলাদেশীদের কি সুবিধা হবে তা জানিয়ে ভোটভিক্ষা



লিফলেটটির প্রাপ্তিস্থান বাংলাদেশীপ্রধান এক মসজিদের গেট।


মাগার যথারীতি এই দূঁদে পলিটিশানকে পরাজিত করে তরুণ বরিস জনসন জিতে যান এই নির্বাচন। আর গত ছমাসে মোটামুটি কেন লিভিংস্টোনের করা আট বছরের প্রকল্প আর আইনগুলো বাতিল আর নিষ্ক্রিয় করেছেন। পলিটিক্স পলিটিক্স!




এই ছবিটা তোলা হয়েছে বেথনাল গ্রীন লেবার পার্টির অফিসের সামনে থেকে। নিচের ইংরেজী পড়তে সমস্যা হলে বুঝবেন সেটা সোমালী। পৃথিবীর অনেক ভাষাই নিজের বর্ণমালা হারিয়ে ফেলেছে রোমানের কাছে। আমরা এখনো ভাল ফাইট দিচ্ছি! <img src=" style="border:0;" />

বিস্তারিত প্লাস আরো ফটুকঃ http://banglaglobal.blogspot.com/
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28890327 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28890327 2008-12-30 11:45:13
ক্রোমিয়াম অরণ্যে প্লাগইন ফুলের অপেক্ষায় অফিশিয়াল রিলিজ বের হল ক্রোমের। মাঝখানের সময় ? ঠিক ১০০ দিন। তার মাঝে আপডেট? ১৫ বার। ফায়ারফক্সও লজ্জা পাবে ডেভেলাপমেন্ট স্পীডের কাছে, আর পুরোটাই পর্দার আড়ালে কোন বিরক্তিকর ইয়েস নো নাই।

মজার তথ্যঃ ক্রোম বেটা রিজিজের প্রথম ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ইউজারবেসের প্রায় ১% দখল করে ফেলে ক্রোম। আইই বা ফক্সের জন্য রীতিমত ভীতিকর একটি সংখ্যা আর অপেরা আর সাফারির জন্য স্বপ্ন। অনেকেই মনে করেছিলেন এই এলোরে এই দখল করে ফেললরে। কিন্তু সপ্তাহ আর মাস ঘুরতেই সেই সংখ্যাটি বেশ নিচে নেমে আসে। কারণ যেই প্রত্যাশা নিয়ে সবাই ক্রোমে হাত দিয়েছিল তা পূরণ করতে ব্যার্থ হয় এই নতুন গুগলশিশু।

বেটা থাকা অবস্থাতেই সপ্তাহদুয়েক আগে আবার নামিয়েছিলাম ক্রোম। মূল যেখানে কমতি মনে হল, তা হল প্লাগইন প্ল্যাটফর্মের অভাব। প্লাগইনের কাসুন্দি ঘাঁটলে চলে যেতে হবে গুগল টুলবারের দিকে। ঠিক এখন না, এখনকার ব্যাবহারকারীদের অনেকেই তখনো অফলাইনে, সেই দুহাজার সালের শেষের দিকে টুলবার বের করে গুগল । কি ছিল তাতে? প্রথমত, আমার মনে আছে পপআপ ব্লকার (তখনো গুগল পাব্লিক হয়নি, আর এডসেন্স আবিষ্কার করেনি)। বিরক্তিকর পপআপ এলেই টিক করে শব্দ করে টুলবার আটকে দিত আর কাউন্টার বাড়ত। কার মেশিন কদ্দিনের পুরনো সেটাপ আমরা বুঝতাম তার পপআপ কাউন্ট দেখে। আর ছিল সার্চ ইঞ্জিনে না গিয়েই টুলবার থেকে সরাসরি সার্চ মোটামুটি এইই। আর এতেই কোটি ব্যাবহারকারীর ব্রাউজারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়ে গুগল। (কারো মনে পড়ে? পুরো এক বছর ইয়াহুর সার্চ ইঞ্জিন ছিল গুগল ? সেই পয়সা দিয়েই নিজেরা মিনি সার্চ টেকনোলজী থেকে একলাফে মাঝারী গোছের মহীরূহে পরিণত হয়)। সেখান থেকে ইয়াহু আর মাইক্রোসফট থেকে শুরু করে প্রায় সব টেক কোম্পানীই তাদের ব্রাউজার এক্সটেনশন শুরু করে। আর মোজিলার ওপেন কোডকে ব্যাবহার করে রীতিমত টুলবার সহ ফায়ারফক্স নামানোর জন্য পয়সা দেয়া শুরু করে গুগল। আর ফায়ারফক্সের জনপ্রিয়তারও একটি মূল চালিকা হল হ্যান কাজ নেই যার জন্য ফায়ারফক্সের দুচারটা প্লাগিন নেই। কিন্তু এদ্দিন বেটা থাকার অবস্থায় ক্রোমের কোন প্লাগইন এর সুযোগ ছিলনা।

এখনকার ক্রোমের ফীচারলিস্টের দিকে তাকালে আমি বলব গুডসাইডে হল ফাঁকা ইন্টারফেস, বেশ ফাস্ট রেন্ডারিং, প্রতিটি ট্যাবকে আলাদা প্রসেস হিসেবে ধরা তাতে একটা ট্যাব ধরা খেলে বাকিগুলো টিকে থাকে, আর ফ্লিপসাইডে আছে, ফাঁকা ইন্টারফেস ফলে অনেক কিছুই নাই, প্লাগইনের অভাব, প্রতি প্রসেস নিজস্ব থ্রেডে রান করে ফলে ম্যালা মেমোরি খায় আর সব সাইট এখনো চেনেনা ক্রোমরে ফলে অপেরার মত আনসাপোর্টেড ব্রাউজারের ক্যাচাল, ইউনিকোড বাংলায় এখনো পার্ফেক্ট না।

গুগলের ক্রোম পুরোটাই ওপেন সোর্স প্রোজেক্ট হিসেবে ডেভেলাপমেন্ট চলছে। ফলে বাগগুলোও চটজলদি ধরা পড়ছে। ফায়ারফক্সের এখনকার জনপ্রিয়তা আর টেক ডেভেলাপমেন্টে গুগলের ইঞ্জিনিয়ারদের ম্যালা কন্ট্রিবিউশন আছে। তাই এবার পুরো লড়াইটাই গুগল এখন নিজের মাঠে নিয়ে আসতে চায়। কারণ অন্য সবার আগেই গুগল জানে, যে নেক্সট প্ল্যাটফর্ম কোন অপারেটিং সিস্টেম না বলে কোন ব্রাউজার বলাই ভাল, কারণ, নেটকানেক্টেড জেনারেশনের প্রায় সব অপারেশনই চলে ওভার দি ব্রাউজার। ডেস্কটপ এপ্লিকেশন আর নেট ইউটিলিটির মাঝখানের পার্থক্যটুকু খুব জলদি হারিয়ে যাচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং এর যুগে। তাই ব্রাউজার যার ইউজার তার আর ব্রাউজার মানেই সার্চ আর সার্চ মানেই পয়সা। সহজ ফর্মুলা, গ্যারান্টীড সাকসেস।

সম্পূর্ণ ব্রাউজার দিয়েই অপারেটিং সিস্টেম কিভাবে চলে তার একটি ছোট উদাহরণ এখানে। প্রসঙ্গত এখানের ব্যাবহৃত ব্রাউজার ক্রোম।
http://www.thinkgos.com/

গুগলের ওপেন স্টেটমেন্ট যা ছিল যে, আমরা ওপেন সোর্স প্রজেক্ট, তাই আমরা আশা করব সকলে এতে অংশগ্রহণ করবে আর এই প্রোজেক্টের ফলে যে নতুন প্রযুক্তিগুলো তৈরি হবে তা ধীরে ধীরে অন্য ব্রাউজারগুলোও ব্যাবহার করবে। এক কথায় তালগাছ যারই হোক, আইন আমার। তবে আশা করছি একজন ব্যাবহারকারী হিসেবে আমাদের অভিজ্ঞতা খারাপ হবেনা।

ক্রোম, যার কম্প্যাটিবিলিটি আর ডিফল্ট ওএস বেজ এখনো ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের ধারে কাছেও না, যার প্লাগইনের চয়েস বলতে কিছুই নেই ফায়ারফক্সের তুলনায় আর এসিড টেস্ট আর পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট এখনো অপেরার চেয়ে অনেক পিছিয়ে, আর সাফারির মত যার নিজস্ব ডিফল্ট ওএস নেই, তারপরেও আমি নতুন এই ব্রাউজারের আগমনকে স্বাগতমই জানাচ্ছি। আশা করছি খুব দ্রুতই ফাংশনাল ফীচার রিচ ব্রাউজারে পরিণত হবে গুগলের ক্রোম। তাই ক্রোমিয়াম অরণ্যে প্লাগইনের ফুল ফোটার অপেক্ষায় আছি পথ চেয়ে।


[কার্টুনের থীমটা বেশ মনে ধরেছে, যেই বেসিক রঙগুলোকে মাইক্রোসফট ব্যাবহার করে উইন্ডোজ এর লোগোর জন্য সেগুলোকেই চ্যিঁড়েচ্যাপ্টা করে ক্রোম]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28883074 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28883074 2008-12-16 05:16:06
টুকরো টুকরো বাংলাদেশ
নতুন পেলাম ন্যুয়র্কের বাঙ্গালীপাড়ার ছবি


মেডিকেল সেন্টার



আড়ং


আমার তোলা হাতে লেখা ফার্মেসী

সিংহপূর


একজন ব্লগারের সৌজন্যে।

প্রচূর ঝামেলা করার পরে পাওয়া এইসব ছবি। কিন্তু এখনো বেশকিছু যায়গার ছবি পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় বেশীরভাগ দেশেই হাজার লাখ বাংলাদেশী আছেন। তাদের দোকানপাটের ছবি পাচ্ছিনা। জাপানে আছেন বেশকিছু। ভারতের বা পাকিস্তানের ছবি হলেও মন্দ হয়না।

আমেরিকার মিড কি সাউথের এলাকাগুলোর ছবি নাই। ব্লগারদের কেউ থাকলে আওয়াজ দিয়েন।

আর সবাইকে স্বাগতম রইল বাংলাগ্লোবালে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28877472 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28877472 2008-12-03 01:02:57
মকবুলের ভূত
মকবুলের ভূত
-----------------------


আমি ভুতে বিশ্বাস করি না তবে ভয় পাই। কথাটা আমার জন্য একেবারে একশভাগ মানানসই। আমি ভুত বিশ্বাস করি না কারন আমি জানি ভুত বলে কিছু নেই। কোনকালে ছিল না। যে যত বড়বড় কথাই বলুক না কেন আসলে কেউ কখনো ভুত দেখেনি। নিজেরা অকারনে ভয় পেয়েছে সেই ভয় অন্যদের দেখানোর জন্যই ভুতের গল্প করেছে। যে শুনেছে সে গল্প করেছে অন্যের কাছে। এখন সারা পৃথিবীর মানুষই শতশত ভুতের হাজার হাজার গল্প জানে।
তবে ভয় পাওয়ার বিষয়টা আলাদা। রাতের বেলা সবাই ঘুমিয়ে গেলে, চারিদিকে নিস-ব্ধ হয়ে গেলে জানালার বাইরে অন্ধকার আমগাছের দিকে তাকিয়ে মনে হয় ওখানে কিছু যেন রয়েছে। কিছু একটা গাছকে নাড়াচ্ছে। আমি জানি যে নাড়াচ্ছে সে বাতাস। বাতাসকে ভুত নামে ডাকার কোন কারন নেই। তাহলেও অন্যদিকে মুখ করে থাকতে চেষ্টা করি। সময়সময় জানালা বন্ধ করে দেই। মনে হয় অশরীরী কিছু জানালা দিয়ে ঢুকে পরতেও পারে। তার ওপর যখন কেউ রসিয়ে রসিয়ে নিজের দেখা ভুতের কিংবা জ্বীনের গল্প করে তখন কয়েকদিনের জন্য এই বিষয়টা আরো বেড়ে যায়।
যাক সেসব কথা। যা বলতে চাইছি তা হল এতকিছুর পরও একদিন ভুতের দেখা পেলাম। সত্যিকারের ভুত। আর তারচেয়ে মজার কথা, তাকে দেখে আমি মোটেও ভয় পেলাম না।
রাতের বেলা আধো ঘুমে আধো জাগরনে কার যেন অসি-ত্ব টের পেলাম ঘরের মধ্যে। খুটখাট শব্দ। একবার মনে হল ইদুর দৌড়ে বেড়াচ্ছে। তারপর মনে হল আরো বড় কিছু। রীতিমত মানুষের মত আকৃতি। বুঝতে পারছি তার অসি-ত্ব অথচ দেখতে পাচ্ছি না। ভয় পাচ্ছি নিজেই। সেটা কাটানোর জন্য তাকেই ভয় দেখাতে চেষ্টা করলাম। বললাম, ‘কে রে বাবা চোর নাকি ? দামি জিনিষপত্র নেই, সময় থাকতে কেটে পর। নাকি ভুত ? নিজের পরিচয়টা দাও দেখি। নইলে দেব মাথায় বাড়ি।’
মনেমনে বললাম বাড়ি দেয়ার মত কোনকিছুই হাতের কাছে নেই। পুরো ঘর খুঁজলেও পাওয়া যাবে না। হাতের নাগালে বালিশ রয়েছে, বড়জোর সেটাই ছুড়ে মারা যেতে পারে।
শুধু কথাতেই কাজ বল। সে বলল, ‘আমি মকবুলের ভুত।’
মকবুল নামে একজনকে আমি চিনতাম। আমার সাথে ছোটবেলায় স্কুলে পড়ত। এছাড়া অন্য কোন মকবুলকে আমি চিনি না। সেই মকবুল মারা আছে কিনা তাও জানি না। এর কথা সত্যি হলে সে মারা গেছে। মরে ভুত হয়েছে। তারপর এসেছে আমার কাছে। মকবুলের সাথে একসময় খুব ভাল বন্ধুত্ব ছিল আমার। হয়ত সেকথা ভেবেই।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কি বললে ? তুমি মকবুলের ভুত ?’
সে বলল ‘হ্যাঁ, আমি মকবুলের ভুত। আমাকে চিনতে পারছ না। এতবছর একসাথে পড়লাম, একসাথে থাকলাম। এতদিনের বন্ধুত্ব।’
আমার খটকা লাগল। নিশ্চয়ই কেউ ঠকবাজি করতে এসেছে। এসে এটাওটা বলে আমাকে ভোলানোর চেষ্টা করছে। আমি বললাম, ‘তুমি বললেই আমি বিশ্বাস করব কেন ? তুমি যে ভুত তার প্রমান দাও।’
ভুত বলল, ‘বেশ, কি প্রমান চাও ?’
আমি বললাম, ‘তুমি মকবুলের ভুত তার প্রমান কি ?’
সাথেসাথে সে গড়গড় করে মকবুলের কথা বলতে শুরু করল। তার অনেকগুলো আমি জানি, অনেকগুলো জানি না, অনেকগুলো ভুলে গেছি, অনেকগুলি নতুন করে মনে পরল। তাকে জোর করে থামাতে হল।
‘আচ্ছা, থামো-থামো। তোমাকে মকবুলের প্রমান দিতে হবে না। তুমি যে ভুত তার প্রমান আগে দাও।’
ভুত বলল, ‘বেশ। কি প্রমান চাও ?’
আমি ভুতের জন্য কি পরীক্ষা নেয়া যায় তা ভাবতে শুরু করলাম। একটা মোক্ষম যুক্তি পেয়ে বললাম, ‘আগে তোমার পা দেখি। ভুতের পা পিছন দিকে থাকে। সেজন্য ভুত সবসময় উল্টোদিকে যায়। দেখি তোমার পা কেমন ?’
ভুত বলল, ‘আমার পা নেই। একসিডেন্টে আমার দুপা কাটা গেছে। আমি সেই চেহারা নিয়ে ভুত হয়েছি।’
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, ‘তারমানে কারো যদি মাথা কাটা যায় তাহলে সে মাথাকাটা ভুত হবে ?’
ভুত বলল, ‘সেটাই নিয়ম।’
আমি বললাম, ‘নিয়ম না কচু। তোমার কাছে প্রমান নেই তাই মিথ্যে কথা সাজাচ্ছ।’
শুনে ভুত খুব মন খারাপ করল। মাথা নিচু করে এমন ভঙ্গি করল যেন কাঁদছে। দেখে আমারও খুব খারাপ লাগল। একেবারে যেন পুরনো দিনের সেই মকবুলের কথাই মনে হল। এবারে সহজভাবে বললাম, ‘আচ্ছা, পায়ের কথা তাহলে যাক। তোমাকে কিছু একটা প্রমান দিতেই হবে। প্রমান ছাড়া আমি তোমাকে চিনব কেন ? প্রমান ছাড়া আমি ব্যাংকে গেলে কি টাকা দেবে ? নাকি ভোট দিতে দেবে ? ধরে সোজা থানায় নিয়ে যাবে। ভুতের দেশে থানা পুলিশ এসব নেই ?’
ভুত বলল, ‘না নেই।’
আমি চমকে উঠলাম শুনে, ‘নেই। তাহলে পুলিশ মরার পর কি হয় ? চোর মরার পর কি হয় ? দুজন পাল্টাপাল্টি করলেও চোর-পুলিশ দুইই থাকে।’
ভুত বলল, ‘ভুতের দেশে চোর পুলিশের খেলা নেই। বড়লোক ছোটলোক নেই। নতুন নতুন যারা আসে তারা কিছুদিন এটা ওটা নিয়ে বড়াই করে, তারপরই ঠান্ডা হয়ে যায়। এখানে কার কি আছে তাতে কারো কিছু যায় আসে না। যে বড়াই করে তারদিকে কেউ ঘুরেও তাকায় না।’
আমি অবাক হলাম, ‘তারমানে কেউ বড়াই করে না! কেউ তার বিষয়সম্পত্তি, টাকাপয়সা, স্বাস্থ্যচেহারা, বংশপরিচয়, শক্তি এসব নিয়ে বড়াই করে না!’
ভুত বলল, ‘একবার একজন কোন বংশের কতবড় কেউকেটা ছিল তা নিয়ে বাহাদুরি দেখাতে চেয়েছিল। তখন থেকে কেউ তারসাথে কথা বলে না। সে মরার জন্য গলায় ফাঁস লাগিয়ে তালগাছে ঝুলে থাকল কয়েকদিন। তারপর নিজেই আবার নেমে এসে মাফ চাইল সবার কাছে।’
আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম, ‘কয়েকদিন ঝুলে থাকল মানে ?’
ভুত বলল, ‘মানে মরার চেষ্টা করল। জেলখানায় ওকে ফাঁসি দিয়ে মেরেছে তো, ভেবেছে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে থাকলে আবার মরবে।’
আমি বললাম, ‘তারমানে একবার মরলে আর মরার ভয় নেই।’
ভুত বলল, ‘একেবারেই না।’
আমি বললাম, ‘আচ্ছা ধরে নিলাম তুমি মরে ভুত হয়েছ, কিন' মকবুল তো মরেনি। ওরসাথে বছরখানেক, নাকি বছর দেড়েক আগে ফার্মগেটে দেখা হয়েছে। দিব্যি আমার সাথে গল্প করল। রীতিমত সুস্থ সবল পাজোড়া। বলল মালয়েশিয়া যাচ্ছে। তার পা কাটা গেল কখন আর মারাই বা গেল কখন?’
ভুত বলল, ‘সেকথা আমারও মনে আছে। আমিই তোমাকে ডেকে কথা বললাম। তুমি আমাকে নিষেধ করলে মালয়েশিয়া যেতে। তখন সেটা শুনিনি। তারপর মালয়েশিয়া গেলাম। এয়ারপোর্ট থেকে ধরে নিয়ে গেল, আটকে রাখল। দশদিন পর ফেরত প্লেনে উঠিয়ে দিল। আমার পা কাটা গেছে দেশে ফিরে, গাড়ি চাপা পরে। আর মরেছি-’
আমার আর মরার কারন শোনার আগ্রহ হল না। বরং মনটা একটু নরমই হয়ে গেল তার বলার ভঙ্গি দেখে। একেবারেই সেই মকবুলের ভঙ্গি। শব্দের ব্যবহার, উচ্চারন সবকিছু। হয়ত সত্যিকথাই বলছে। শেষবার যখন মকবুলকে দেখি তখন তার চেহারা দেখেও মন খারাপ হয়েছিল। আমি বললাম, ‘বেশ, এখন আমি কি করতে পারি বল। টাকাপয়সা খরচ করতে পারব না। একটু আধটু ধান্দাপানি করে যা পাই তার পুরোটাই ঘরভাড়া দিতে চলে যায়। এরপর হাতে কিছু থাকলে খাই না থাকলে পানি খেয়ে থাকি। যদি টাকা পয়সার জন্য এসে থাকো তাহলে আগেই জানিয়ে দিচ্ছি সেটা পারব না।’
মকবুলের পরিচয় দেয়া ভুত বলল, ‘আমি তোমাকে বিপদে ফেলতে আসিনি। আর ভুতের টাকাপয়সা প্রয়োজন হয় না। তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে আমি যত যাই করি কখনো কারো কাছে হাত পাতিনি। যাকিছু পেয়েছি একমাত্র তোমার কাছেই। কখনো চাইতে হয়নি। সেজন্যই বন্ধু হিসেবে তোমার কাছে একটু দাবী নিয়ে এসেছি।’
আমাকে আরো কাবু করে ফেলল মকবুলের ভুত। আমি মনে করে দেখলাম আসলেই মকবুল কখনো কারো কাছে কিছু চায়নি। এমনকি বাড়িতেও নাকি খিদে পেলে খাবার কথা বলত না। ওকে খাবার জন্য ডাকলে যেত, না ডাকলে না খেয়ে থাকত। আমার কাছে-। না, আমি তাকে বন্ধুত্ব ছাড়া অন্যকিছু কখনো দিয়েছি বলে মনে পরল না। টাকাপয়সা বা কোন জিনিশ তো কখনোই না।
আমি যেন মকবুলের সাথেই কথা বলছি এমনভাবে বললাম, ‘আচ্ছা ঠিক আছে। এখন কি করতে হবে বল।’
ভুত বলল, ‘আমি তোমার সাথে কদিন থাকতে চাই।’
আমি চমকে উঠলাম। ভুত আমার সাথে থাকবে কিভাবে ? আমার সাথে খাবে ? ঘুমাবে ? ভুতের নিশ্চয়ই খাওয়া ঘুম কোনটাই দরকার হয়না।
জিজ্ঞেস করলাম, ‘সাথে থাকবে মানে কি ?’
মকবুলের ভুত আরো পরিস্কার করে বলল, ‘তোমার সাথেসাথে থাকব, যেখানে যাও সেখানে যাব আর মাঝেমাঝে কথা বলব। অন্য কেউ জানতে পারবে না। আমি সবসময় অদৃশ্য হয়ে থাকব। অন্য কেউ থাকলে কথা বলব না। তোমাকে এসব নিয়ে এতটুকু ভাবতে হবে না।’
আমি বিরক্ত হলাম তার কথা শুনে। মরে ভুত হওয়ার পরও তার মাথায় বুদ্ধি গজায়নি। বললাম, ‘কিন' আমার প্রাইভেসি বলে তো কিছু আছে। সবসময় কেউ আমাকে দেখছে, আমি কি করছি, কারসাথে কথা বলছি, কি বলছি সবকিছু জানছে এটা কি কেউ মেনে নেয়। প্রাইভেসি হল গিয়ে সাংবিধানিক অধিকার। সংবিধান তুমিও পড়নি আমিও পড়িনি তবু দুজনেরই সেটা মানা উচিত। সংবিধান লংঘন হল গিয়ে, সেই যাকে বলে, দেশদ্রোহিতার সামিল। হাজতবাস, রিমান্ড, জেল-জরিমানা থেকে ফাঁসি পর্যন্ত হতে পারে।’
বলতে বলতেই মনেমনে ভাবলাম এজন্য আমাকে অনায়াসে জেলে ঢুকানো সম্ভব, লাঠিপেটা করা সম্ভব কিন' মকবুলের কে কি করতে পারে ? তাকে কোন জেলে রাখবে আর ফাসিই বা দেবে কে ? একটু আগেই তো বলল কে যেন কয়েকদিন গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলেছিল।
মকবুলের ভুত বলল, ‘তোমার সমস্যা হবে এমন কিছু করব না কথা দিচ্ছি। ব্যক্তিগত আলাপেও কান দেব না। তখন দুরে দুরে থাকব।’
আমি বললাম, ‘সেকথায় বিশ্বাস কি ? আমি যখন জানতে পারছি না তখন সেটা করতেও পার।’
মকবুলের ভুত বলল, ‘ঠিকই বলেছ। তাহলে বল দেখি- তোমাদের সরকার যখন ঘোষনা দেয় তোমাদের প্রত্যেকের টেলিফোন আড়ি পাতা হবে, প্রত্যেকের চিঠি খুলে দেয়া হবে, ঘরেঘরে মাইক্রোফোন-ক্যামেরা লাগানো হবে তাহলে কি হইচইটাই না কর তোমরা। যখন না জানিয়ে করে তখন কি কর ?’
আমি মনে মনে বললাম মরে গিয়ে মকবুল অনেক যুক্তি শিখেছে। ওর মুখ থেকে এসব কথা বেরুচ্ছে ভাবাই যায় না। তখনই মনে হল ভুত হয়ত মনের কথাও পড়তে পারে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুমি কি মনের কথা জানতে পার।’
মকবুলের ভুত বলল, ‘না।’
আমি ঠিক আস্বস- হলাম না। তাহলেও আর কথা বাড়ালাম না। বললাম, ‘বেশ তোমার যদি ইচ্ছে হয় থাকো। কিন' এখন আমাকে ঘুমাতে হবে।’
মকবুলের ভুত বলল, ‘আমি জানতাম তুমি না করবে না।’
আমি ঘুমাতে চেষ্টা করলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28872673 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28872673 2008-11-22 19:09:53
সুপার ওবামাঃ অনলাইন রাজকুমার উইথ ব্র্যাডলি এফেক্ট
আর ফলাফলে দেখা গেল ওবামার নিজেকে নিয়ে করা নিজের মন্তব্যই সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

My weakness is I'm just too awesome...

I was born in the planet Cripton. Sent by my father to save the world...

এগুলো যদিও অনেকবার চর্বিতচর্বণ করা হয়ে গেছে তবুও গুড ফান। তাই ওবামার বিজয়ের সাথে সাথেই ওবামাকে সুপারম্যানের সাথে তুলনা করা শুরু হয়ে গেছে। আর আমেরিকান নির্বাচনে কোন প্রার্থীর জন্য বিশ্বব্যাপী এমন ব্যাপক সমর্থন বহুদিন ধরেই দেখা যায়নি। তবে ম্যাককেইনের সমর্থনেও মানুষ ছিল। যেমন, ভারত চাইছিল ম্যাককেইন আসুক তাহলে ভারতের আউটসোর্সিং এর বাণিজ্য আরো কিছুদিন বেঁচেবর্তে থাকবে সেদিকে ওবামা আমেরিকান কর্মসংস্থান আমেরিকাতেই রাখার পক্ষপাতী ছিল। আবার বিলেতের প্রধান দুই দলের মধ্যে বর্তমানে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি হিলারীরে হালকা সাপোর্ট করেছিল আর প্রধান বিরোদীদল তাদের জনভায় ম্যাককেইনকে গেস্ট স্পীকার রেখেছিল। ফলে ওবামার বিজয়ে অনেকেই এট্টু বিব্রত।

আরেকটি বিষয় নিয়ে নির্বাচনের আগে বিপুল বিতর্কের ঝড় বয়ে যাচ্ছিল সেটি হল ব্র্যাডলি এফেক্ট । যারা জানেন না, সেটি হল মৌখিকভাবে কোন কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া সত্বেও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাকে ভোট না দেয়া তার বর্ণের কারণে। আজকাল সবাই বলছেন যে ওবামা ব্র্যাডলি এফেক্ট কাটিয়েই বিজিত হয়েছেন। কিন্তু আমার পর্যবেক্ষণ হল, ওনামা যা অর্জন করেছেন তা সমাজবিজ্ঞানের পাতায় ওবামা এফেক্ট নামেই থাকা উচিৎ। কারণ এই বছর গত নির্বাবাচনের তুলনায় প্রায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ লক্ষ ভোটার বেশী অংশগ্রহণ করেছিলেন আর গতবারের নির্বাচনও ছিল চার দশকের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণকৃত নির্বাচন। তাই এই বিশাল পরিমাণে ভোটার সংগ্রহের পরেও ওবামার ৫২% জনপ্রিয় ভোটের বিপরীতে ম্যাককেইনের ৪৬% জনপ্রিয় ভোট মানে হল একটাই। এইবছর বহু মানুষ যারা অন্যান্য বছরে মনে মনে রিপাবলিকান সমর্থন করলেও কষ্ট করে ভোট দিতোনা তারাও ভোট দিয়েছে শুধু ওবামাকে ঠেকানোর জন্য। তবুও হাড্ডাহাড্ডির এই নির্বাচনে জেতার কারণে কৃষ্ণকুমারকে অভিনন্দন।

ওবামার বিজয় পৃথিবীর জন্য কি বয়ে আনবে তা সময়ই জানিয়ে দেবে। তবে ইনফর্মেশন টেকনলজীর সর্বোচ্চ ব্যাবহার কি হতে পারে তা দেখিয়ে দিয়েছেন ওবামার টীম। সেদিন ওবামার একজন স্ট্র্যাটেজী এডভাইজরের সাক্ষাতকার দেখছিলাম। প্রতি সমর্থকের নাম ঠিকানা তো অর্গানাইজড ডাটাবেসে ছিলই একই সাথে ভোট সংগ্রহের জন্য তারা লোকাল লাস্টনেম দিয়ে ক্যামপেইন করেছে। যেমন কোন পাড়ায় আপনে থাকেন আর আপনার নামের শেষে চৌধুরী আছে আর আপনি ওবামার কড়া সাপোর্টার, তাহলে আপনার কাছে লিস্ট চলে যাবে সেই পাড়ার আরো পাঁচজন চৌধুরীর নাম ঠিকানা আর আপনাকে দায়িত্ব দেয়া হবে আপনি তাদের ভোট জয় করার চেষ্টা করবেন।

এইরকম আরো অনেক ফিউচারিস্টিক টেকনিকের দূরদর্শী ব্যাবহার প্রাচীনপন্থী প্রতিপক্ষকে তো বটেই এমনকি বহু ঝানু রাজনীতি বিশেষজ্ঞকেও অভিভূত করে ফেলেছে। আর জুয়ার দোকানগুলোতে এখনি জুয়াবাজী শুরু হয়ে গেছে ক্ষমতাগ্রহণের দুবছরের মাঝেই ওবামাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া হবে। দেখাই যাক কি হয়। :-*


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28868211 http://www.somewhereinblog.net/blog/boisellerblog/28868211 2008-11-12 18:38:00