বুড়ো বয়সে ভীমরতি বলে চালু প্রবাদের সাথে রামায়নের ভীম কিংবা রতিক্রিয়ার সম্পর্ক কতোটা তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। কিন্তু ব্যবহারিক প্রয়োগে 'ভীমরথি' হইতে উৎপন্ন 'ভীমরতি' শব্দের আভিধানিক কিংবা উৎপত্তিগত অর্থ প্রায় চাপা পড়িয়া গিয়াছে।
বুড়ো বয়স নিয়া আমরা যতই হাসিঠাট্টা করিয়া থাকি না কেন, বুড়ো বয়স মারাত্মক সিরিকাস ধরনের রিস্কে ভরপুর বেতাইল্যা জিনিস। আপনে বুড়ো হইলে কেউ আপনারে পুছতে চাইবো না, কথা শুনবো না, তাগোরে বাগে আননের লাইগা গিফট দিবেন; সবাই গিফট লইয়া ফুট মারবো। বুড়ো বয়সে আপনি বড় নিঃসঙ্গ হয়া যাইবেন। এই নিঃসঙ্গতা দূর করনের জন্যই পত্রিকায় নিউজ দেখবেন ৮০ বছরের সবিরুদ্দির লগে ৫০ বছরের করিমন বিবির শুভবিবাহ সম্পন্ন হইতেছে।
তবে বুড়ো বয়স মানে শুধু নিঃসঙ্গতা হইলে তেমুন কুনু ঝামেলা আছিলো না। ঝামেলার শুরু হয় সেই বয়সে আবার ভীমরতিতে পাইলে। বুড়োবাবা কর্তৃক চতুর্থ পক্ষের মেয়ে ধর্ষনজাতীয় বাজপড়া খবরও পত্রিকার পাতায় পাইবেন। এই ভীমরতিতে আক্রান্ত হইয়াই সবিরুদ্দি ৫০ বছরের করিমন বিবিরে রাইখা ২০ বছরের মৌসুমী আক্তারের গলায়ও মালা পরাইতে পারে।
কেন এমনটা ঘটে? বুড়ো বয়সে যখন অপচিতি সামলাইতেই শরীর ব্যতিব্যস্ত, তখনই বা কেন এমন ভীমরতিতে পেয়ে বসে? মনোবিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান করে জেনেছেন, এর সাথে সেক্সুয়াল অর্গানের সম্পর্ক খুবই অপ্রতুল; বরং দেহের ক্ষুধার চেয়ে মনের ক্ষুধাই বেশি কাজ করে। স্বভাবতই প্রথম যৌবনে এই মানুষগুলো বিপরীত লিংগের কাছ থেকে অনেকভাবে অবহেলা পেয়ে থাকেন। একসময় বিয়ে করেন; ভাবেন সুদে আসলে সব উসুল করে নিবেন; কিন্তু যতোটা চান, ততোটা পারফর্ম করতে পারেন না। নিজের সম্পর্কে অতিউচ্চ ধারণাই বাস্তবতা থেকে তাকে দূরে সরিয়ে রাখে। তিনি যখন ২ ঘন্টার প্লান করে হাই ভোলটেজে হম্বিতম্বি করছেন, তখন হয়তো ২ মিনিটের মাথায়ই ফিউজ হয়ে যাচ্ছেন। ফলাফল, স্ত্রীর কাছে অপদস্ত হওয়া এবং কালক্রমে স্ত্রীও মিলনে অসম্মতি জানান।
সময়, নদীর স্রোত এবং যৌবন কারো জন্য বসে থাকে না। একসময় প্রৌঢ়তায় পৌঁছে নিজের জীবনের চারিদিকে শূন্যতা দেখে আঁতকে ওঠেন। হায় হায়! সময় যে চলে গেলো, কিছুই হয় নি করা! ঠিক এ পর্যায়ে একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ভীমরতি জেগে ওঠে। মনে হয়, তিনি তেজী অশ্বের মত সবকিছু ভেঙ্গেচুরে দুনিয়া উলটে ফেলতে পারবেন। মনে করেন, কারো প্রেমিকার সাথে তিনি সময় কাটালে সেই প্রেমিকা প্রেমিককে ছেড়ে তার ভক্ত হয়ে যাবে; নববিবাহিত কাউকে তার ভয়ে দেশ ছাড়তে হবে, পৃথিবীর সমস্ত মেয়েই তাকে এবং একমাত্র তাকেই নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য আশ্রয় ভাবে।
মনোবিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে, এই ভীমরতি রোগে আক্রান্তরা পাগল এবং বিকলাঙ্গদের চেয়েও অনেক বেশি করুন জীবনযাপন করে। সমাজের কাছেও এরা সহমর্মিতা না পেয়ে বরং অপমানের শিকার হয়। অথচ সবার সহমর্মিতাই এ রোগ থেকে উত্তোরণের একমাত্র উপায়। আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হয়।
প্রথমত, তার যৌনক্ষমতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে, তাকে সপ্তাহ দুয়েক কোনো পতিতালয়ে রেখে দেয়া যেতে পারে। সেখানে যখন ইচ্ছা যৌনকার্য সম্পাদনের সুবিধা থাকতে হবে। তাহলে সে বুঝতে পারবে আসলে সে যতোটা মনে করে, তার পুরোটাই ভ্রান্তি।
দ্বিতীয়ত, তাকে অপমান না করে বুঝতে হবে যে, ভীমরতি একটি রোগমাত্র। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে, সে হাট্টিমাটিমটিম কবিতা বললেও হাততালি দিতে হবে, ৬০এর দশকের বেলবটম প্যান্ট পরলেও তাকে সুদর্শন এবং স্মার্ট বলতে হবে। এরকম প্রশংসায় সে নিজে কনফিউজড হয়ে যাবে, নিজের দিকে আরেকবার তাকাবে এবং তাকিয়েই বুঝবে তার প্রকৃত পরিস্থিতি।
অতএব, ভীমরতিসম্পন্ন কাউকে আপনারা অপমান বা অবহেলা করবেন না; পাগল কিংবা বিকলাঙ্গদের চেয়েও তাদের প্রতি বেশি সহানুভূতি প্রদর্শন করুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



