একজন কবির মহাপ্রয়াণ।
২২ শে জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৫
লেখাটি নিছক খসখসে কাগজে বলপয়েন্ট ঘষে তৈরি কিছু আঁকিবুকি নয়।লেখাটির সাথে মিশে আছে চোখের জল,ক্ষোভ,কষ্ট।কাগজটা ভিজে নরম হয়ে গিয়েছিলো,লেপ্টে গিয়েছিলো লেখাগুলোও।হয়তো জল খানিকটা বেশিই ঝরেছিলো।লেখাটিও বোধহয় একটু বড় হয়ে গেছে...
''তিনি একজন কবি।সমুদ্রগুপ্ত ছদ্মনামে কবিতা লেখেন।জানা গেল আসল নাম আব্দুল মান্নান।
ভদ্রলোকের মাথায় ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া চুল,ইয়া বড় গোঁফ।কেমন যেন পাগলাটে চেহারা।কাছে এসে ঝোলা হাতড়ে বের করলেন একটি কমলা।''ভাবি খান।'' ''না ভাই,এখন খাবনা।'' ''আরে খানতো,আমার পুকুরের কমলা।''হেসে ফেললাম আমি।সবসময় এভাবে কথা বলতেন তিনি,গাছের মাছ,পুকুরের কমলা।খুব হাসিখুশি ছিলেন,মজা করতেন সবসময়।''কথা ক'টা বলতে গিয়ে গলা ধরে এলো আমার মায়ের,আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম।মাকে শেষ কবে কাঁদতে দেখেছি আমি?
সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন অনন্য একজন কবি।শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে লিখে যেতেন অসাধারন সব কবিতা,খেলতেন শব্দ নিয়ে।নিজের কবিতা পাঠ করতেন উদাত্ত কন্ঠস্বরে।মন্ত্রমুগ্দ্ধের মত শুনে যেতাম আমরা।বিনিময়ে আমরা কি দিতে পেরেছি কবিকে?কবির সংসারে অভাব অনটন লেগেই ছিল,সচ্ছলতার স্বপ্নভূমি ছিল অনেক দূরের পথ।একবার কবি অভাবে পড়ে বন্ধুর কাছে বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন স্ত্রীর প্রিয় তানপুরাটা।এ অভাব পেছু লেগে ছিল শেষ পর্যন্ত।টান পড়েছিলো চিকিৎসার টাকাতেও।কোথায় মুখ লুকাব আমরা?এ দেশে একজন শব্দসৈনিককে অর্থাভাবে পড়ে বিক্রি করে দিতে হয় স্ত্রীর শখের জিনিসটি!!আমরা কোথায় যাচ্ছি?এতটা অক্ষম কেন আমরা?
তবু কবি কখনো হতাশ হননি।কলম চালিয়ে গেছেন অক্লান্তভাবে,তিনি যে কবি!তিনি তো জানতেন আমরা তাঁকে কতখানি ভালবাসি।তিনিও খুব স্নেহ করতেন আমাদের।তাঁর ভালবাসায় ছিল অসীম বিশালতা,ঠিক যেন সমুদ্রের মত।
কবি,কেমন আছ তুমি আমাদের ছেড়ে?তুমি কি জান কতটা কষ্ট হবে তোমার কফিনটা কবরে নামাবার সময়?কতবার চোখ ভিজে উঠেছে এ দুপাতা লিখতে গিয়ে?তুমি ভাল থেকো কবি,ভাল থেকো।


















