পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে ২৫ ছাত্রী লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে শামসুন্নাহার হলের তিন ছাত্রীর গায়ের জামা-কাপড় ছিড়ে অর্ধ-নগ্ন করা হয়েছে।
জানা গেছে, রাজু ভাস্কর্য চত্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র মুক্তবান সাংস্কৃতিক সংসদের আয়োজনে বৈশাখী বর্ষবরণ গানের অনুষ্ঠান চলছিল। এর স্পনসর করে বাংলালিংক মোবাইল কোম্পানী। রাত সাড়ে আটটার দিকে শিল্পী মাকসুদের ‘মেলায় যাইরে’ গান পরিবেশনের পূর্ব মুহূর্তে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশার নাম মাইকে ঘোষণা করতে বলেন মুক্তবান সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি ও কবি জসীম উদ্দীন হলের ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রহমান জীবন । ওই শিল্পী বারবার দাবি অনুযায়ী নাম ঘোষণা করতে রাজী না হওয়ায় জীবন তাকে লাঞ্ছিত করেন।
এসময় ছাত্রলীগ সভাপতি টিপু, সাধারণ সম্পাদক বাদশা ও কেন্দ্রীয় নেতা সিদ্দিকী নাজমুল আলমের নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী মঞ্চে ওঠে অনুষ্ঠান সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়। তখন বাংলালিংকের অনুষ্ঠান ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা রেজা আহমেদ ছাত্রলীগ নেতাদের অনুরোধ করলে তারা মঞ্চের নীচে নামেন। গান শেষ হওয়ার পরপরই শিল্পীরা বিশ্রাম কে চলে গেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শিল্পী মাকসুদ ও গিটারবাদকদের মারধর করে। এসময় ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য লিটন মাহমুদের লাঠির আঘাতে জিয়া হলের আরিফ নামের এক ছাত্রের মাথা ফেটে যায়।
রাত পৌনে নয়টার দিকে টিপু মঞ্চে ওঠে অনুষ্ঠান স্থগিতের ঘোষণা দেন ও শিল্পী মাকসুদকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই বছরের জন্য ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেন। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীরা মাকসুদের বিরুদ্বে শ্ল্গোন শুরু করলে বিশৃংখল পরিস্তিতির সৃিস্ট হয়। তখন কিছু কর্মী আশেপাশে অবস্থান করা ছাত্রীদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। কয়েকজন জন ছাত্রী লাঞ্ছিত হয়। এছাড়া টিএসসির সামনের গেইটে দু’দফায় আটজন, পেছনের গেইটে তিনজন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভেতরের প্রবেশ রাস্তায় চারজন লাঞ্ছিত হন। লাঞ্ছনার শিকার হয়ে পরে শামসুন্নাহার হলের তিনজন ছাত্রী সাংবাদিক সমিতিতে আশ্রয় নেন। সূত্র জানিয়েছে, রাত আটটার দিকে টিএসসির পেছনের গেইটে তিন ছাত্রীর ওপর ঝাপিয়ে পড়ে ওঠতি বয়সের কিছু যুবক। দুস্কৃতকারীরা তিন ছাত্রীদের ওপর এমনভাবে ঝাপিয়ে পড়ে ফলে তাদের কামিজ ছিড়ে যায়। ্ওড়না নিয়ে য্ওায়া হয়। পরে দুই ছাত্রীকে দুইজন দর্শক শার্ট দিয়ে সম্মান রা করেন। টিএসসির সামনের গেইটে নির্যাতনের শিকার হন পাঁচ ছাত্রী। তারা পুলিশের সহায়তা চাইলে পুলিশ তাদের রা করতে ব্যর্থ হয়। পরে ওই পাঁচ ছাত্রী টিএসসির জনতা ব্যাংকের ভেতরে গিয়ে প্রাণ বাঁচান।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে তিনজন ও কলা ভবনের সামনে আরও দুইজন ছাত্রী লাঞ্ছনার শিকার হন। ডাসের সামনে আরও দুই ছাত্রী লাঞ্ছনার শিকার হন। পরে তারা শাহবাগ থানার এএসআই মনিরুল ইসলামের সহায়তায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ছাত্র রোকন, মনিরসহ আরও কয়েকজন দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সহায়তা চান।
জানা গেছে, ছাত্রী নির্যাতনকারীরা জিয়াউর রহমান হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ছাত্রলীগ কর্মী। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ বলেন, এধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা খুবই দু:খজনক। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এধরনের ঘটনা জাতি কখনো প্রত্যাশা করে না। যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারা অবশ্যই একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের রচনা করেছে।
পুলিশ বলেছে, তারা বেশকিছু মেয়েকে উদ্বার করে বাসায় পৌছে দেয়ার ব্যব¯থা করেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

