নিচের খবরটি পড়লাম। এরকম খবর প্রায় প্রতিদিন পড়া হয়। বিশেষ কোন অনুভূতি হয় না। তবে এ খবরটির শেষের দুটি লাইন বিশেষ দৃষ্টি কাড়লো। আত্মহত্যাকারী গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগানোর পর আর্তচিৎকার করে বলছিল 'আমাকে বাঁচাও, আমি ভুল করেছি! আমি বাঁচতে চাই!!'
আমার সবসময় কেনো যেন মনে হতো- একজন মানুষ যত কষ্ট, যত বিরক্তি নিয়েই আত্মহত্যা করতে যাক না কেন, যখন দড়িতে ঝুলে পড়ে, যখন বিষ ভিতরে চলে যায় অথবা কেরোসিন ঢেলে যখন গায়ে আগুন লাগিয়ে ফেলে, ঠিক তখনই সে তার ভূল বুঝতে পারে। তখন পৃথিবীর সকল সৌন্দর্য এসে তার চোখে ধরা দেয়, দুনিয়াটাকে বড় মোহময় মনে হয় তখন। খুব বেশি বেচে থাকতে ইচ্ছা করে। তার আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত যে ভূল ছিল কয়েক মূহুর্তের মধ্যে নিজের কাছেই তা ধরা পড়ে। কিন্তু সময় ততক্ষণে পার হয়ে যায়! শরীর ধীরে ধীরে নেতিয়ে আসে। পৃথিবীটা অনেক দুরের হয়ে যায়।
আত্মহত্যা একটি মহাভুল পথ। এই সত্যটা আত্মহত্যাকারীকেও একটু দেরিতে হলেও বুঝতে হয়।
শেষ পর্যন্ত যখন ভুল স্বীকার করতেই হবে, তবে একটু আগে তা বুঝার চেষ্টা করলে ক্ষতি কী?
আসুন আমরা আগেভাগেই ভুলটা বুঝার চেষ্টা করি।
সবাই বলি 'আর নয় আত্মহত্যা'!!!
খবরটি হল এই--
স্বামীর তালাকের খবর শুনে গায়ে আগুন লাগিয়ে এক মেধাবী ছাত্রীর আত্মহত্যা[/sb
মীর সউদ আলী চন্দন মেহেরপুর থেকে ঃসেলফোনে তালাক দেয়ার খবর শুনে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে আরফা আফরোজ বিপাশা নামের এক মেধাবী ছাত্রী। গত রাত সাড়ে ১১টার সময় ঘরে দরজা লাগিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগায়। আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা নেয়ার পথে রাজবাড়িতে সে মারা যায়। বিপাশা মেহেরপুর শহরের বোস পাড়ার আবুল বাসারের কন্যা। মেহেরপুর সরকারী মহিলা কলেজ থেকে সে উচ্চ মাধ্যমিক পরীা দিচ্ছিল। বিপাশার পিতা আবুল বাসার জানান, ১১ মাস আগে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার বোয়ালমারী গ্রামের আমিন মাস্টারের ছেলে ওমর ফারুকের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকে তার মেয়েকে মেনে নিতে পারেনি স্বামীর পরিবারের লোকেরা। স্বামীর অনুমতি নিয়ে সে উচ্চ মাধ্যমিক পরীা দিতে বাবার বাড়ি আসে। গত ৯ এপ্রিল জামাই ওমর ফারুক এসে ব্যবসার নাম করে মেয়ের কাছ থেকে ৩ ভরি সোনার গহনা নিয়ে যায়। কয়েক দিন আগে জামাই তার মেয়েকে তালাক দেবে বলে জানায়। এরপর হঠাৎ করে গত রাত ১০টার দিকে স্বামী ওমর ফারুক মোবাইল ফোনে তাকে জানায়, তালাকের কাগজপত্র তার নামে পাঠানো হয়েছে। এ খবর শুনে রাত সাড়ে ১১টায় সে এ ঘটনা ঘটায়। ঢাকা নেয়ার পথে সে বার বার জানায়, আমাকে বাঁচাও, আমি ভুল করেছি। আমি বাঁচতে চাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বিপাশা এসএসসি পরীায় সে জিপিএ- ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। এবারও সে ভাল পরীা দিচ্ছিল। বিষয়টি থানা কে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তারা শুনেছেন ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



