ব্লগ ছেড়ে যাওয়া, সাংস্কৃতিক অপঘাত ও সামহোয়ার ইন (সহ ব্লগার চোর ও মিয়া মুহাম্মদ হুসাইনুজ্জামানের উদ্দেশে)
০৬ ই জুন, ২০০৭ সকাল ১১:৪৯
বাংলাদেশের সমাজ সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বড়ো অদ্ভুদ সব ব্যাপার স্যাপার ঘটেছে অবলোকন করেছেন। '৪৭ পরবর্তী সাংস্কৃতিক অপঘাত একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বাঙালি সংস্কৃতির উৎস, ঐতিহ্য এগুলো গৌণ হয়ে হাসান আজিজুল হকের 'সরকারি সংস্কৃতি' টার্মটি বিশেষ টানে আমাকে। সরকার নিজ প্রয়োজনে পছন্দের সয়স্কৃতিকে "...বাংলাদেশের একমাত্র সংস্কৃতি সেটা প্রমাণ করে ছাড়েন এবং দেশের মানুষের জন্য এটাকে গায়ের জোরে বাধ্যতামুলক করার ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন।"
সত্যিই তাই। দ্বি-জাতি তত্ত্বের সুড়সুড়ি দিয়ে বিভাজন সংগঠিত হল। বাংলাদেশের (তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান) সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য যাক না রসাতলে বরং ঝেঁটিয়ে বিদায় করা যাবে। 'ইসলাম আর সাম্প্রদায়িকতা' বেশ গিলবে বাঙালি। নিজে না গিললেও আল্লাহ্'র ইচ্ছায় গিলবে। সেই পুরোনো গল্পের মত। জঙ্গলে রাজার সেপাই পিটিয়ে গিলাবে। গিলতে হবেই।
প্রশিতি সামরিক বাহিনী, আধা সামরিক, দালাল, চেলা-চামুণ্ডা, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বুদ্ধিজীবি, আইয়ে জনাব তাশরিফ লায়ে আরও কত কী। হলোটা কী? ৫২,৬৯,৭১ এবং বাংলাদেশ। সবই জায়গায় বসেই। এই ৫৫,৫৯৮ বর্গমাইলেই।
তড়িঘড়ি করে বঙ্গবন্ধুকে সরানো হল বটে গদিনশীন হলেন স্বয়ং মেজর জিয়াউর রহমান। খান আতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "আমাদের কোন সংস্কৃতি নেই বুঝলেন। আমাদের একটা সংস্কৃতি বানাতে হবে।" গরীবের গরীব খান আতা এত ভারি কথা বুঝবেন কী করে? হয়ত তাঁকিয়ে ছিলেন দুর আকাশে। কাজ তো আর থেমে থাকে না। জিয়া সংস্কৃতি তথা বাংলাদেশি সংস্কৃতিরও গোড়া পত্তন হলো। জাতীয় সঙ্গীতের বিপরীতে "প্রথম বাংলাদেশ আমার..." কী চমৎকার শোনা গেল। বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতি, বাঙালিত্ব স্বাধীনতার নিয়ামক। পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ হলো বাঙালির জীবন প্রবাহে কি অদ্ভূদভাবে সেই গৌরবের ধনগুলো সরিয়ে ফেলার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ। রেডিও, টিভি, মিডিয়া? জ্বী স্যার, হ্যাঁ স্যার। হিন্দুয়ানী! রবীন্দ্রসঙ্গীত? প্রথম জীবনে একেশ্বরবাদী ও শেষ জীবনে ’মানুষই ঈশ্বর’ অর্থাৎ নাস্তিকতার দর্শনে মুগ্ধ রবীন্দ্রনাথ নামটা তো হিন্দু। হিন্দু বলে পরিত্যাজ্য। আর নজরুল (অবশ্যই আপাদ মস্তক সেক্যুলার) প্রচণ্ড ভক্তিবাদী আর হিন্দু দেব-দেবীর প্রেমী হলেও নজরুল গ্রহিত হবে। হলো।
আরও কত কী! এরশাদের আগমনের তাৎপর্য কোন অংশে কম নয়। শুরু হলো এরশাদী নিয়šত্রণ। খ্যামটা। খোঁয়াড় ছেড়ে শুয়োরের পাল। নুতন বাংলাদেশ! ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলো বাংলাদেশ বাঁচলো! সংস্কৃতি? জীবনবোধ? ঐতিহ্য? বাদ ছিল কোনটা। নব্য সাম্প্রদায়িকতা পূর্ণ জাতীয়তাবাদে গিয়ে ঠেকলো পর্যন্ত।
সর্বশেষ বাঙালির রক্তগড়া সংসদে রবীন্দ্র সঙ্গীতের মাহাত্মÍ বিশ্লেষণ করেননি কেবিনেট সদস্য মহামাণ্য নিজামী, সে তো নিছক বাঙালিকে করুণা করেই।
সামহোয়ার প্রসঙ্গে ফিরি খানিক। অপরিণত ব্যবস্থাপনা চলছে সন্দেহ নেই। ধরেই নিচ্ছি রাজাকার নিয়ন্ত্রিত সাইট এটি। কিন্তু সাইটটি বাংলাদেশে, বাংলাদেশের সমাজসংস্কৃতির কাছে দায়বদ্ধ। বাঙালির তুমুল পদচারণা এখানে। পরিসংখ্যান নিন কতজন স্বাধীনতা বিরোধীর পদচারণা এখানে, আর বাঙালি সন্তান কতজন? কিছু কুলাঙ্গার আবোল তাবোল ছড়ালেও, মূল লেখাগুলো আসে বাঙালি চেতনায় উজ্জীবিত তারুণ্যের কলম নিংড়িয়ে। কবিতা কি রম্য, বিশ্লেষণ অথবা নিবন্ধ, গল্প হোক আর সাহিত্য কে লিখে, কে পড়ে এসব। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসগুলো যখন ব্লগের পাতায় ভেসে আসে আমরা পড়ি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মিথস্ক্রিয়ায় অংশ নেই। জানি, জানতে পারি। নিজামী গংদের ছবি সম্বলিত পোস্টগুলোতে ধিক্কার আঁছড়ে পড়ে। এসবই প্রয়োজন। খুব বেশী প্রয়োজন।
আইয়ূব-ইয়াহিয়া থেকে নিজামী পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অপঘাত নিশ্চিত হয়েছে নব নব আঙ্গিকে। বাঙালি সামগ্রিক চেতনা রুদ্ধ করা গেছে কি? রমনা বটমূলে বোমাবাজি করে থেমে দেওয়া গেছে কি জনতার স্রোত? পথ ছেড়ে দেওয়া নয়, প্রতিবাদী হতে হবে পথে থেকেই।
চানাচুর বলেছেন:
ভাই এতো গভীরে যান কেন
মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান বলেছেন:
ধন্যবাদ। অ্যাকাডেমিক বাঁশডলার উপরে আছি .. .. প্রতিক্রিয়া অন্তত ১২ ঘন্টা পরে.... কপি করে রাখলাম। (ডিলিটের ভয় আছে মনে
)
মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান বলেছেন:
যেহেতু প্রতিক্রিয়া জানাবো বলেছিলাম তাই এই মন্তব্য:... .... ... এই মন্তব্য করার আগে ব্লগার চোর, ধুসর ছায়া, জেবতিক আরিফের পোস্টগুলো পড়ে এলাম। কাজেই ... ... ....
গতকাল সারাদিন কাজ করেও শেষ করতে পারলাম না কাজ। প্রফেসর দয়াপরাবশ হয়ে আরও ৪দিন সময় দিতে চেয়েছিলেন, দুই দিন নিলাম। তারপর বাসায় ফিরে স্ত্রীর প্রাপ্য সময়টাও দিতে পারিনি। ৪র্থ বিবাহবার্ষিকীতে শুধু বাইরে খাওয়া একটা সাধারণ ডিনারের চেয়ে অনেক বেশি ডিসার্ভ করে ও। কিন্তু গত প্রায় এক/দুই সপ্তাহ ধরে দৈনিক ৩/৪ ঘন্টার বেশী ঘুমের অভাবের শরীরটাকে গতকাল আর জাগিয়ে রাখতে পারিনি .... ... তাই প্রতিক্রিয়াটাও দেরী হল।
.
মানুষের ব্রেন/মগজ অসম্ভব দ্রুতগামী। একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে কতগুলো এনসাইক্লোপেডিয়ার সমান বিবেচনা কাজ করে, তা কিন্তু সেকেন্ডের ভগ্নাংশে নেয়া সিদ্ধান্ত দেখে বোঝা যায় না অনেক সময়। ছোট্ট উদহরণ রোবট: শুধু হাটার সময় ব্যালেন্স ঠিক রাখার জন্য মোটরগুলো কন্ট্রোল করতে যে প্রোগ্রাম রান করে, তা যথেষ্ট বড়। আমরা কিন্তু তাঁর চেয়ে অনেক দক্ষতার সাথে ব্যালেন্স রাখি।
.
উপরের অনুচ্ছেদটা লেখার কারণ হল, মুহূর্তে নেয়া ডিসিশনের পেছনের কারণটা (বা বিবেচনাগুলো) ব্যাখ্যা করা যে কতটা দুরূহ সেটা সম্পর্কে একটা আইডিয়া/কৈফিয়ত দেয়া।
.
কালচারাল আগ্রাসন এবং সেলফ প্রচাররের জন্য নতুন আদর্শ/কালচার তৈরীর কথাটা আপনার কথায় উঠে এসেছে। এটা কিছুটা বিবর্তনবাদের ধারা, কিছুটা এডিডাস, ফেরারী ইত্যাদি ব্র্যান্ডনেমের মত ইফেক্ট সৃষ্টির জন্য বিপনন উদ্দেশ্যে বানানো।
.
দেশটা স্থাপন করেছিলো দেশদরদীগণ। এটা বেদখল হলে তাই পূণর্দখল নেয়ার লড়াই করা আদর্শিক নিরিখে যুক্তিযুক্ত। ...প্র্যাকটিকালি ফিজিবল না হলেও আদর্শিক ভাবে চেষ্টা করা উচিৎ - সেটা সংশপ্তক হয়ে হলেও...। কিন্তু এই ব্লগের স্থপতির ক্ষেত্রে কথাটা আর আত্মবিশ্বাসের সাথে বিশ্বাস হচ্ছে না (রাজাকার পেট্রোনাইজেশন কিন্তু হঠাৎ বেদখলের কারণে শুরু হয়নি... অন্যদের পোস্টে ব্যাপারগুলো এসেছে: বিশ্বকাপ ফুটবল ভার্সেস স্বাধীনতার লোগো ইত্যাদি... অনেক সিম্পটম আগে মনের ভুলে ঘটেছে ভাবা হয়েছিলো।
.
তাই এটা পূণর্দখল করার জন্য থাকার সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না (! কিয়ের পূণর্দখল, জিনিসটাই তো অন্য মালিকানার!)। আগে ভুল করে থেকেছিলাম (স্থপতি চিনতে পারিনি)।
.
চলে গেলে ওদের আষ্ফালন বেড়ে যাবে ... এই দায় দেখাচ্ছেন অনেকে। ভাইরা, তাইলে তো সেলফ ডিক্লেয়ারড রাজাকারদের সাইটেও (জা.ই./জা.শি.) এ্যাটাক করতে হবে .... .... ....।
.
এতটুকুই শুধু বলার ছিল।
প্রমিত প্রবাল বলেছেন:
মি.মো.হু:ঠিকাছে।
অফিসের চিপার মধ্যে। সময় বের আপনার কমেন্টটা ভালোভাবে বুঝে নেব। আপাততঃ ধন্যবাদ।



















এটা নিয়ে একটা সিরিজ করেন।
জরুরী কাজে বাইরে যাচ্ছি। কপি করে রাখলাম। পরে পড়ব।