somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ত্রিভূজ খ্যাত বালকের ধৃষ্টতা ঃ জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের ইন্ধন ও দেশপ্রেমহীন রবি সাহেব (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)!

১১ ই জুন, ২০০৭ সকাল ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আফগানিস্তানের জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তিত হয়েছে, বাংলাদেশেও এর পরিবর্তনের আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে বৈকি! নিশ্চয়ই আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে ইরানে প্রবর্তিত কয়েক কয়েক মিনিট বা ঘন্টা স্থায়ি বিবাহ্ পদ্ধতি 'সিঘেহ্‌'র দ্রুত প্রচলন নিশ্চিত করার। অসম্ভব প্রয়োজন হয়ে পড়েছে সৌদি আদলে 'লিখিত' চারটি ও 'অলিখিত' যত সম্ভব স্ত্রী গ্রহণ দুরস্ত করার। আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে জনপ্রিয় সৌদি ডিশগুলোকে সারা বাংলায় দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলার। শিক্ষাক্ষেত্রে খুব বেশী দরকার সৌদি তকমার। সকল বিষয়ে নারীদের প্রবেশাধিকার বন্ধের সময় এখনই। দেরি হয়ে গেলেই বড্ড বিপদ!

কতখানি স্পর্ধা থাকলে এই উক্তি করা সম্ভব। জ্ঞানের গভীরতা কত সুগভীর হলে এই উক্তি করা সাজে। জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে মস্করা তাও নিতান্ত এক বালক সুলভ লিখিয়ের মাধ্যমে। মূর্খের মূর্খতা প্রমানে কোন সুনির্দিষ্ট যুক্তির প্রয়োজন নেই। যেমন প্রয়োজন নেই এই অদ্ভুদ মানসিকতা সম্পন্ন চিড়িয়ার ক্ষেত্রে। তিনি বাংলাভাষী বাংলা সংস্কৃতির কাছাকাছি অবস্থান করেন ভাবলেও পাপ হয়। অথচ তিনিই কিনা শ্রেষ্ঠতম বাঙালিকে 'রবি সাহেব' বলতেও দ্বিধা করেন না। আমরা ব্লগবাসী তাঁর উম্মাদীয় আচরণে পুলকিত হই। সেও বঙ্গ সন্তান! বাংলাভাষী! বাংলার কোন্ বিশেষ ব্যক্তিত্ত্বের অবদান এঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেটাও বোধকরি অচিরেই জানা যাবে। কী প্রমাণ করতে চান এই বালক? জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে তামাশা করা বা বাঙালির তাবত জীবন দর্শন প্রণেতা কবিগুরুকে অশ্রদ্ধা করার সাহস আসেই বা কী করে?

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথে তিনটি ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্টের বিজয় অন্যটি হলো একষট্টির রবীন্দ্র জন্ম শতবার্ষিকী। এটি ছিল সাংস্কৃতিক বিদ্রোহ। স্বাধীনতা অভিমূখে সাংস্কৃতিক জাগরণের মূলেই ছিল রবীন্দ্র শত বার্ষিকী। এগারো দিন জুড়ে- তিনশো গান-চারটি নৃত্যণাট্য, চারটি নাটক ও নানাবিধ প্রদর্শনীর সমন্বয়ে।
টনক নড়ে পাকিস্তানি কর্তাদের। সবশেষ কেন্দ্রীয় তথ্য মন্ত্রী ঢাকা নবাব বাড়ির ট্যারা শাহাবুদ্দিন (ম্যাট্রিক পাশ না হয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হওয়াতে যাকে নিয়ে কলঙ্ক হয়েছিল) রেডিও থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীত প্রচার নিষিদ্ধ করেন। চট্টগ্রাম রেডিও’র বাঙালি কর্মকর্তা ঘোষণা করেন আমার লাশের ওপর দিয়ে এই কেন্দ্র থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীত প্রচারিত হবে।

ইয়হিয়া পার্লামেন্টের মার্চের অধিশেন বাতিল করলে দেশে ঝড় ওঠে। গঠিত হয় বিক্ষুব্ধ শিল্পি সমাজ। প্রতি মোড়ে শহীদ মিনারে শিল্পিরা গাইতে থাকে দেশোদ্দীপনার গান। ’ও আমার দেশের মাটি’, ’আমার সোনার বাংলা’, ’জনতার সংগ্রাম চলবে’, ’বিপ্লবের রক্তরাঙা ঝাণ্ডা ওড়ে আকাশে’, ’বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে এই জনতা’, ’বাংলার মাটি বাংলার জল পূণ্য হোক, হে ভগবান’ ইত্যাদি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মানুষ এক রইল চোখের জলে ’আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গাইতে গাইতে।

এত সবের মধ্যে মূল ঘটনা দু’টোঃ
১. রাষ্ট্রভাষা তথা বাঙালির আপন ভাষা সংস্কৃতি অভিমূখে যাত্রারম্ভ;
২. বাঙালির সমাজে মননে রাজনীতিতে রবীন্দ্রনাথের প্রত্যাবর্তন ও পূণঃপ্রতিষ্ঠা তথা সাম্প্রদায়িকতা উর্ত্তীণ হয়ে মানবতান্ত্রিক সহিষ্ণুতা ও উদার সৃজনশীল জীবন ও সমাজের মধ্যে প্রবেশের যোগ্য প্রস্তুতি।

বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথের অবস্থান এইটুকুই। মননশীল জাতি নির্মাণে মানববতার পথ ধরে উদারনৈতিক সমাজ সংস্কৃতির আহ্বান। তাঁর রচিত ’আমার সোনার বাংলা’ শুধুমাত্র বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতই নয়, বাঙালির রক্ত দিয়ে কেনা কোটি প্রাণের গুঞ্জন। তিরিশ লক্ষের আত্মাহুতি আর দু’লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম হানি এই ছোট্ট সুমধুর রবীন্দ্র সঙ্গীতকে ঘিরেই। আমার সোনার বাংলা এমনকি রবীন্দ্রনাথের থাকেনি, বাংলাদেশের প্রবাহমান প্রজন্মের রক্তধারায় নিদারুণ বঞ্চনার শ্রেষ্ট উপহার হিসেবে মিলেমিশে একাকার। বাঙালি নিশ্চিহ্ন হলেই এর মৃত্যু হতে পারে নচেৎ নয়।
২১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×