ঈদের আগেরদিন রাতে ডুবে যায় সহস্রাধিক যাত্রী নিয়ে কোকো-৪ নামের একটি লঞ্চ । শতাধিক যাত্রী নিখোজ। লাশ উদ্ধার হয়েছে প্রায় একশত। সব থেকে দুঃখজনক ঘটনা হলো মৃত আর বিপদগ্রস্থ সকলেই দ্বিতীয়বার নিহত হয়েছে সরকারের ইচ্ছামূলক অবহেলায়। বিপদগ্রস্থ ও নিহতদের পরিবারের হাজার হাজার মানুষ যখন ৪দিন ধরে তেঁতুলিয়া নদীর তীরে খুজে ফিরেছে স্বজনের লাশ বা সংবাদ, তখন ডিজিটাল সরকারের মন্ত্রীরা ঈদের আনন্দে এমনই মশগুল যে উদ্ধারকারী জাহাজের ৩৬ ঘন্টা সময় লেগেছে ঘটনা স্থলে পৌঁছতে। আর আহতদের মালামাল লুটের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনায়ও নিরাপত্তা দিতে পারেনি ডিজিটাইজড সরকার।
ঘটনার পরদির দুপুরে নৌমন্ত্রী মহোদয় ঘটনাস্থলে গিয়ে লঞ্চমালিকের (জিয়া পরিবার) উপর দায় চাপিয়ে নিজের দায় পালন করেন। তিনি ১ ঘন্টার মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজের আগমনের ঘোষনা দিলেও সেটি আসতে সময় নেয় আরও ২২ ঘন্টা।
নিঃসন্দেহে লঞ্চমালিক কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে এ দুর্ঘটনায় আর এজন্যে তাদের উপযুক্ত বিচার হতে হবে। কিন্তু এ বক্তব্য দিয়েই সর্কার তার দায় শোধ করতে পারে না। কারন পরিবহনযান গুলোর ফিটনেস প্রদান ও তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রন করা এককভাবে সরকারের দায়িত্ব। ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত যাত্রীবহনের কারনে লঞ্চডুবি প্রায় ঐতিহ্যের পর্যায়ে চলে গিয়েছে।আর প্রতি ঈদেই ধারনক্ষমতার ২/৩ গুন যাত্রী বহন করার অভিযোগ সকল লঞ্চের বিপরীতেই রয়েছে। এবারও তার ব্যাতিক্রম নয়। প্রশ্ন উঠতেই পারে সদরঘাট লঞ্চঘাট ও বিভিন্ন ঘাট থেকে মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যখন লঞ্চগুলো ছাড়ছিলো তখন আমাদের ডিজিটাইজড সর্কার কি করছিলো?
প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের জন্যে মাননীয় সর্কার মহোদয় ৩০০০/= টাকার অনুদান ঘোষনা করেছেন। নিঃসন্দেহে এটা বিরাট এক মহানুভবতার কাজ। এটা পূর্ববর্তী জোট সর্কারের ছাগল চিকিৎসার কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
একই সাথে এ সর্কারের আরও কিছ খরচের কথা না বললেই নয়।
** সরকারের উদ্যোগে গাড়ি কিনে দেওয়া হচ্ছে সাংসদদের। এ জন্য সরকারের পরিবহন অধিদপ্তর ৩৪৫টি গাড়ি কিনবে। তিন হাজার সিসির ৩৪৫টি গাড়ি কিনতে সরকারের খরচ হবে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। আগে কখনো সাংসদদের এভাবে গাড়ি কিনে দেওয়া হয়নি। স্পিকারের পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গাড়ি কিনে দেওয়ার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। সাংসদেরা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, চালকের বেতন ও জ্বালানি খরচ বাবদ প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা করে পাবেন।
** কানাডায় বঙ্গবন্ধুর দুই খুনীর খোজ-খবর কর্তে মিলিয়ন ডলারেরও বেশী খরচ করে ফেলেছে আমাদের ডিজিটাল সর্কার। আইন মন্ত্রীর ১০ দিনের সফর সহ সেখানকার দুইটি গোয়েন্দা সংস্থাকে তদন্তকাজে (অবস্থানগত খোঁজ নেয়া) ভাড়া করাতেই বড় অংশটি ব্যয় হয়।
জাতীয় পরিবার নিরাপত্তা আইন করে জনগনের হাজার কোটি টাকার দফারফা করলেও ভোটারদের ন্যুনতম নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরন দিতে ব্যর্থ সর্কারের দায় তো সেই ভোটার আমজনতারই কর্তে হবে, নয় কি? যে হাজার হাজার মানুষ আজ ৪দিন ধরে তেঁতুলিয়ার তীরে স্বজনদের খুঁজে ফিরছে তাদের মধ্য থেকে একজনও কি এ সর্কারকে ভোট দেয় নি?
নাকি ডিজিটাল এ সর্কার বলতে চায়- তোরা ভোট দিয়েছিস, এবার তার দায় শোধ কর.......
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



