ব্লগে ধর্ম নিয়ে যারা অতি উচ্চকিত (গ্রুপ-১ অথবা গ্রুপ-২), তাদের জন্য এই লেখা।
গ্রুপ-১ : আপনি কি ধর্ম নিয়ে অতি আহ্লাদিত? প্রতিটি মুহূর্তে ধর্ম ছাড়া আর কিছু আর কিছু ভালো লাগে না? এমনকী আপনার আহ্লাদের কারণে যদি ধর্মের বরং আরো অধর্ম হয়, তবু?আপনি কি মনে করেন, যারা ধর্মের বিপক্ষে, তাদের মরে যাওয়াটাই পৃথিবীর উন্নতির জন্য সবথেকে ভালো? আপনি কি মনে করেন ধর্ম (যেমন, ইসলাম) শাসনক্ষমতা পেলে আসলেই শান্তি এসে যাবে?...
অথবা,
গ্রুপ-২ : আপনি ধর্ম নিয়ে অতি বিরক্ত??? মনে করেন যে, ধর্মের পক্ষ নিয়ে য়ে বা যারাই কথা বলেন তারাই, অন্ততঃ মানসিকভাবে, চতুঃপদ একটি একটি বিশেষ জন্তু-সম? আপনি কি মনে করেন ধর্মই পৃথিবীতে যত অধর্মের মূল? আপনি কি এই মতের লোক যে ধর্ম বা ধর্মপক্ষীয়রা যদি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত কেবলমাত্র তখনই শান্তি কায়েম হতে পারে?আপনি কি মনে করেন আপনিই মোটামুটি সবথেকে গিয়ানী কারণ আপনি ধর্ম ঘৃণা করেন?
এই লেখা নিশ্চিত ভাবেই আপনার জন্য।
আপনাদের সবার জন্য আমার এই আহ্বান:
আসুন নাতিনাস্তিকাস্তিক হই
নাতিনাস্তিকাস্তিক= না অতি নাস্তিক না অতি আস্তিক
চরম পন্থা কারো জন্য ভালো না। ধর্ম কাউকে ছোট করতে বলে না, ধর্ম ডিফেন্ড করতে গিয়ে প্রায়ই ধর্মের প্রবক্তারা করে যাচ্ছেন। সহনশীলতা ইসলামের বড় াড় শিক্ষাগুলোর একটা; তার অনুসারীদেরকে দেখে মনে হয় ছোটবেলা থেকে ভুল শিখেছিলাম।
আর এদিকে আমাদের অতি জ্ঞানী অতি নাস্তিক ভাইদের কথা শুনলে ভিরমি খেয়ে যেতে হয়। সাধারণত ধর্ম অস্বীকার করার প্রধান যুক্তি দেখানো হয় মানব-ধর্মের কথা বলে। সহ-ব্লগাররা ধর্মের পক্ষে কথা বলার সাথে সাথে যে ভাষায় আক্রমন শুরু হয় তাতে মানব-ধর্ম অতি অপরিচিত বস্তু মনে হয়। তাছাড়া, যুক্তির অস্তিত্ব যতটা তার চেয়ে গলা ফাটিয়ে নাস্তিকতা জাহির করার প্রবণতা তাদের বক্তব্যে চোখে পড়েছে বেশি।
আস্তিক নাস্তিক আপনাদের সবাইকে একটা কথা বলি।
আস্তিকতা-নাস্তিকতা কি জাহির করার বিষয়? অন্যকে গালি দিয়ে বা ছোট করে কি আপনি আপনার পক্ষকে বড় করতে পারবেন? এটা কি বস্তিতে বস্তিতে ঝগড়ার মতো কথায় জিতে যাওয়া, হেরে যাওয়া???
আজকে আপনি বড় গলায় একজন নাস্তিককে গালি দিলেন, এর মানে কি এই যে আপনি আল্লাহর কাছে বড় ধার্মিক হয়ে গেলেন? আমার কাছে কিন্তু উল্টো মনে হয়। আল্লাহ তো আমার আপনার মতো বোকা নন, তিনি হয়তো এভাবে নিতে পারেন, এই ব্যাটার জন্যে আমার অমুক বান্দা আরো দূরে সরে গেল।
আজকে আপনি বড় গলায় একজন আস্তিককে গালি দিলেন, এর মানে কি এই যে আপনি বড় মহান নাস্তিক হয়ে গেলেন? এই গালি দেয়ার মাধমে আপনি পৃথিবীর এবং মানবতার কোন মহান উপকার করলেন?বরং যেটা করলেন, সেটা হলো, অর্থহীন একটা ব্যক্তিগত শত্রু তৈরী। এরপর ঐ আস্তিক আপনার লেখা দেখার সাথে সাথে কিছু না পড়েই মাইনাস দিচ্ছে, আর জবাবে প্রতিহিংসায় আপনিও। এর সাথে প্রকৃত অর্থে আপনারা যে আদর্শের তর্ক শুরু করেছিলেন তার কোনো সম্পর্ক নেই, কিন্তু আপনারা দুজনেই অদ্ভুত নির্লজ্জভাবে আপনাদের এই বিরোধকে নাম দিয়ে দেবেন আদর্শের বিরোধ।
আসুন, ধর্ম নিয়ে আমরা কথা বলি, কিন্তু একটা লিমিট পর্যন্ত বলে তারপর অফ হই। কথা বলি যুক্তি দিয়ে যতক্ষন পারা যায়। তারপর দরকার হয় সময় নিই। তারপর আবার কথা বলি।
অতি নাস্তিকতা আর অতি আস্তিকতা সবসময়ই নিজেদের ক্ষতি করে সবথেকে বেশি।
আসুন আমরা নাতিনাস্তিকাস্তিক হই।
(লেখাটা শুরু করেছিলাম ফান করার চিন্তা মাথায় নিয়ে; শব্দটা মাথায় ঘুরছিলো অনেকদিন ধরে।লেখা শুরু করার পর ফান দূর হয়ে হঠাৎ সিরিয়াস কিছু লিখতে মন চাইলো। তারপর লেখা শেষ করে মনে হলো আরো প্রিপারেশন নিয়ে লিখলে ভালো হতো।)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



