ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি উত্তরবঙ্গ অভিযানে এসেছিলেন ১১১৫ সালে। তখন তিনি করতোয়া রুপ দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হন। শের-উল মতুখারিনে উল্লেখ আছে, সে সময় করতোয়া গঙ্গার চেয়ে তিন গুন প্রশস্ত ছিল। ১৮২০ সালে করতোয়ায় ভীষণ বন্যা হয়। এ বন্যায় ফলে তিস্তার সঙ্গে করতোয়ার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। এর পর করতোয়া তার মূল স্রোতধরা হারিয়ে খর্বকায় হতে থাকে। ক্রমশ করতোয়া পাচটি অংশে বিভক্ত হয়।শিবগঙ্জসহ বিভিন্ন অংশে বছরের বেশিরভাগ সময় সামান্য পানিও থাকেনা। করতোয়া মরে যাওয়ার ফলে সুর, যমুনেশ্বর এবং হুরা সাগরসহ অন্য নদীগুলোও নাব্যতা হারিয়ে নঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রধান তিনটি নদী প্রবাহ হচ্ছে পদ্মা, (গঙ্গা), ব্রম্মপুত্র, যমুনা এবং মেঘনা। হিমালয় চূড়া থেকে পানি প্রবাহিত হয়ে এই ৩টি নদীর মধমে বাংলাদশের প্রায় ২৩০টি নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। এই তিনটি প্রধান প্রবাহের মধ্যে ব্রম্মপুত্রের অবস্হা বেশ খারাপ। শোকনা মৌসুমে এর অধিকাংশ স্হানেই পানি থাকে না, মানুষ হেটে পার হয়ে যায়। এমনকি কোথাও কোথও গাড়ি পার হতে পারে।এক সময় এই নদীর পানি প্রায় ৪৫ হাজার একর জমি সেচের উৎস ছিল। এই নদীটি মরে যওয়ায় ময়মনসিংহের বিভিন্ন অংশের কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নৌযোগাযোগ একরকম বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। এই নদীটি মরে যাওয়ায় এর শাকা নদী ঝিনাই, বানর, শিরখালী, সুতিয়া, খয়রা প্রভৃতি শাখা নদীগুলোও মরে গেছে। প্রায় ২৭৭ কিঃমিঃ দীর্ঘ ব্রম্মপুত্র নদীর গতিপথ ১৭৮৭ সালের বন্যায় পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান যমুনা নদীর গতিপথে রুপান্তরিত হয়েছিল। পরিত্যক্ত অংশটি এখন পুরাতন ব্রম্মপুত্র নামে পরিচিত। ঃ চলবে...........................................।!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

