নোয়াখালী চরান্চলের একটি নদীর নাম ছিল জাছিড়া নদী। নদীটি এতোই খরস্রোতা ছিল যে জেলেরা মাছ ধরার জন্য জাল পাতলে জাল ছিড়ে যেতো। তাই এর নাম হয়েছিল জালছিড়া নদী। এলাকার কিছু রাজনৈতিক নেতার দৃষ্টি পড়ায়, তারা স্হানে স্হানে বাধা দিয়ে নদীটি দকল করে নিয়েছে। ধামরাই এলাকার শিল্প বর্জ্রে বপন্ন বংশী নদী। তবে শীতলক্ষা খুব একটা ভাল অবস্হায় নেই। আজ রাজধানী ঢাকার প্রণ তুরাগ এবং বড়িগঙ্গা যে ভাবে দুষণ এনবং বেপরোয়া দখললের শিকার হচ্ছে তাতে নদী দুটিও দ্রুত প্রাণশক্তি হারাচ্ছে। এর ফলে অদূরে ভবিষ্যতে ঢাকায় ভয়াবহ পরিবেশ বপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাহাপরিচালক আলী আকবর হায়দার বলেন, বড়িগঙ্গা এবং তুরাগ যেভাবে ধবংস করা হচ্ছে তাতে এক সময় আর রাজধানীর সুয়ারেজ এবং বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের জায়গা থাকবেনা। তখন সুয়ারেজের পানির নিচে তলিয়ে যাবে ঢাকার রাস্তাঘাট। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী এবং নদী গবেষক ইন্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, আমাদের দেশের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে ৩টি কারনে। সীমান্তের ওপারে পানি প্রত্যাহার, দেশের মধ্যেও কোথাও কোথাও বাধা দিয়ে সেচের জন্য পানি আটকে দেয়া এবং অবৈধভাবে নদী দখলের কারণে। নদীকে তার ঐতিহাসিক গতিতে চলতে দিতে হবে, না হয় নদীতে পানি থাকবে না।
বিআইডব্লিডটি এ তথ্য পরিসংখানে আছে দেশে এক সময় মোট নদনদীর আয়তন ছিল ২৪ হাজার বর্গ কিঃমিঃ। কিন্তু বেসরকারি সংস্হা সিইজিআই ১৯৯৭ সালের পরিসংখ্যান মতে দেশে নদনদীর আয়তন মোট ১২হাজার ৭৮২ বর্গ কিঃমিঃ। বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের উপযোগী নদীপথ ৬ হাজার কিঃমিঃ মতো। শুকনো মৌসুমে যা কমে যায় ৩ হাজার কিঃমিঃ।
আমাদের নদীগুলো ভারট হওয়ার প্রধান কারণ সীমান্তের ওপারে প্রত্যাহার। আমাদের নদীগুলোর উৎস হিন্দুকুশ-হিমালয় পর্বমালা। পর্বতের বরফ গলা পানি গঙ্গা, ব্রন্মপুত্র হয়ে আমাদের দেশে প্রবেশ করে এবং আমাদের ছোট বড় নদনদীগুলো থেকে প্রবাহিত হয়ে বন্গোপসাগররে গিয়ে পড়ে। এই প্রবাহ পথে পাহাড় থেকে প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন পলি এবং বালি বহন করে নিয়ে আসে। এর মাধ্যে ১৭ শ' মেট্রিক টন পলেই বাংলাদেশের ভেতর থেকে প্রবাহিত হয়ে সাগরে পড়ার কথা। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে হঠাৎ করে ফারাক্কা বাধ বন্দ করে দেয়ার নদীগুলোর প্রবাহও বন্দ্ব হয়ে যায়। ফলে পানির সন্গে সেসব পলি নদীগুলোতে এসে পড়েছে তা আর স্রোতের সন্ঘে সাগরে গিয়ে পড়তে পারেনা। বরং প্রবাহ থেমে যাওয়া পলিগুলো স্ব স্ব নদীর মোহনায় জমতে থাকে। এভাবেই নদী ভরাত হচ্ছে বশি।
প্রবাহ প্রকৌশলী এবং গবেষক আঃ ওয়াজেদ বলেন, আমাদের দেশের অনন্ত জলরাশি আমাদের জাতীয় সম্পদ। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় হাজার বছরের নদীতে বয়ে যাওয়া পলি দ্বারা এ ব-দ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে। বনান্চল সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ পরিবর্তন ঘটিয়ে ভুমিকে মানুষের আবাসস্হলরুপে পরিণত করেছে। দেহের শিরা উপ-শিরার মতো ছরিয়ে থাকা নদী-নালা দেশকে করেছে শস্য শ্যামল, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভারপুর। এই নদীর তীরে স্বৃষ্টি হয়েছে জনপদ, তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে জীবিকা, চলাচল,পরিবহন, কৃষ্টি, শিল্প, সভ্যতা, আচার ব্যবহার জীবন সবারই ভিত্তি হল এই নদী। তাই নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আমাদের সামাজিক অর্থনৈতিক জীবন। সোনার বাংলারুপে প্রাচিন বাংলার যে গৌরবোজ্জ্বল পরিচিতি, এ সবই তার বুকে বয়ে যাওয়া অজস্র নদী - নালার অনন্ত জালধারার অকৃত্তিম অবদান। দেহের রক্তকণিকার মতই আমাদের অস্তিত্বে মিশে আছে নদী। তাই তার পরিচয় মিলে কিংবদন্তিতে, ধর্মীয় পরাণে, লোকাগাথায়, ব্যবহারিক জীবনের কর্মকান্ডে।
পৃথিবীতে যত রকম সভ্যতা গড়ে উঠেছিল এবং ভবিষ্যতে যত সভ্যতা গড়ে উঠবে সব সভ্যতার জন্যই নদী অপরিহার্য, সে কৃষিভিত্তিক সভ্যতা হোক আর শিল্প ভিত্তিক সভ্যতা হোক। তাই আমাদের সভ্যতার জন্য, আমাদের উন্নয়নের জন্য এবং বেচে থাকার জন্য নদীগুলোকে বাচিয়ে রাকতে হবে।
আলোচিত ব্লগ
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।