আমার প্রিয় পোস্ট

স্বপ্ন ও বাস্তবতার দোলাচলে চলছে বাস্তবিক যাপিত জীবন

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।

২০ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:৪৮

শেয়ারঃ
0 1 0

-
-
-
-
-
-
-
যদিও বিচার প্রক্রিয়াটা শুরু হওয়ার কথা ছিল যুদ্ধাপরাধী ইসুতে। কিন্তু যে কোন কারণেই হোক সরকার তা করেনি :-&

তারপরও নানা নাটকের পর অবশেষে মানবতাবিরোধী তকমা এঁটে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভালো কথা। যত দ্রুত সম্ভব বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা উচিত এবং অবশ্যই আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। শাহরিয়ার কবিরের থিউরি ফলো করলে এই বিচার নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শেষ হওয়ার পর আশা করি সরকার যুদ্ধাপরাধী ইসু নিয়েও কাজ শুরু করবে। যদি তা' না হয় তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে ভবিষ্যতে বহু বিতর্ক তৈরি হবে এটা পরিষ্কার। যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার ইত্যাদি বিষয় যেন রাজনৈতিক খেলায় পরিণত না হয়।

আমার মতে দেশে তিন ধরনের যুদ্ধাপরাধী রয়েছে।

১। খাঁটি যুদ্ধাপরাধী।

এরা ছিল সুবিধাবাদী। পাকসেনাদের সহায়তা দিয়ে নিজেদের পিঠ ও পেট দু'টোই বাঁচিয়েছে। পাশাপাশি জিঘাংশা চরিতার্থের জন্য পাক বাহিনীর হাতে বহু বাঙালিকে ধরিয়ে দিয়েছে। বহু নারীর উপর নির্যাতন করেছে। এদের আমরা রাজাকার বলে বেশি চিনি। যুদ্ধের পর এরা বেশির ভাগই ভারত ও পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। যারা পালাতে পারেনি তাদের অধিকাংশই মুক্তিবাহিনীর হাতে মারা যায়। এদের অনেকেই পরবর্তীতে মুজিব সরকার ও জিয়ার শাসনামলে দেশে ফিরে আসে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে নিজেদের অনুপ্রবেশ ঘটায়। এদেরই একটি গ্রুপ বর্তমান একটি ইসলামী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ে অধিষ্ঠিত।

২। লুটেরা+যুদ্ধাপরাধী।

এরা তৎকালীন বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী-সমর্থক। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এরা বেশির ভাগই ভারত পালিয়ে যায় এবং যুদ্ধের শেষদিকে পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা হলে দেশে ফিরে এসে ধুমা লুটতরাজ চালায়। এ সময় তারা দেশত্যাগী হিন্দু এবং নিরীহ প্রতিবেশীদের সম্পদ জোর পূর্বক কিংবা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দখল করে নেয়। রক্ষিবাহিনী নামক দলের সদস্য হয়ে তারা সব লুটতরাজকে জায়েজ করে নেয়। পাশাপাশি এরা ভিন্ন মতাঅবলম্বীদের হত্যাযজ্ঞে অংশ নিয়ে নিজেদের ভিত মজবুত করে। পরবর্তীতে এরা একেক সময় একেক রাজনৈতিক দলে নাম লেখায় নিজেদের রক্ষার জন্য। এদেরই অনেকেই এখন বর্তমান সময়ে বেশ ভালো তবিয়তে আছেন। তাদের ছেলেপেলেরাই এখন পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য বজায় রাখতে নানারকম সন্ত্রাস ও দখলনীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

৩। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা+পাতি-মুক্তিযোদ্ধা+মানবতাবিরোধী+যুদ্ধাপরাধী।

আমার মতে সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধগুলো এরাই করেছেন। যুদ্ধের পর যুদ্ধবিদ্ধস্ত সময়ে দেশে লুটতরাজ, ধর্ষণ, গণহত্যার কাজগুলো এরাই করেছেন। এদের অনেকে মুক্তিবাহিনীর মাধ্যমে বহু নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করিয়েছেন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে। দাড়ি-টুপিওয়ালা বহু মানুষের স্ত্রী-সন্তানের উপর চালিয়েছেন নির্যাতন। রাজাকারদের অনুকরণে কোন অংশে কম যাননি তারা। আবার বহু পাতি মুক্তিযোদ্ধা তখন স্বার্থের জন্য নিজ প্রতিবেশীকে হত্যা করেছেন। শুধুমাত্র সম্পদের লোভে এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে মানুষকে মেরে খালে ফেলে দেয়ার ঘটনা তখন নিত্য-নৈমত্তিক ব্যাপার ছিল। এদের সাথে রাজাকারদের পার্থক্য ছিল একটিই- রাজাকাররা পাক সেনাদের সহায়তায় বাঙালী নিধন করেছে এরা মুক্তিবাহিনীর সহায়তায় বাঙালি নিধন করতো। এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধা এখনও বেচে আছেন যারা রাজাকার সন্দেহে মানুষকে হত্যার পর তার মাথা কেটে সেই খুলি নিয়ে ফুটবল খেলেছেন। এদের মধ্যে অনেকেই যুদ্ধে অংশ না নিয়েও কেবলমাত্র মুক্তিবাহিনীর সাথে যোগাযোগ থাকার সুবাদে রাতারাতি মুক্তিযোদ্ধা বনে যান।

[আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারা তখন কী করেছেন? সব চাইতে ভালো হবে এর জবাব একজন মুক্তিযোদ্ধার মুখ থেকে শোনা। তাহলেই তাদের সে সময়কার হতাশা ও দেশের জন্য হাহাকার হৃদয়ঙ্গম করা সম্ভব হবে। অনেক মুক্তিযোদ্ধাও তখন উপরোল্লিখিত যুদ্ধাপরাধীদের অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। আজো হচ্ছেন। আমার মতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বিভিন্ন সরকার সমর্থিত ইতিহাসবিদ বা সেক্টর কমাণ্ডার নয় বরং প্রকৃতপক্ষে যারা মাঠ পর্যায়ে যুদ্ধ করেছেন তাদের কাছ থেকে তথ্য, উপাত্ত নিয়ে লেখা উচিত। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছে মুক্তিযোদ্ধারা। আর যুদ্ধের পর যুদ্ধাপরাধীরাই রাজনৈতিক বর্মের আড়ালে মুক্তিযোদ্ধা বনে গিয়ে সরকার ও সমাজের নানা প্রান্তে প্রতিষ্ঠিত। সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারা পিজি হাসপাতালে চিকিতসার জন্য যেয়ে বারান্দায় পড়ে থাকেন দিনের পর দিন। ]


আমি আশা করবো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি হিসেবে দাবিদার আওয়ামী লীগ নতুন প্রযন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্যে হলেও এসব বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাববে। শুধু মানবতাবিরোধী বিচার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলই যেন উদ্দেশ্য না হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশের মানুষের কাছে দেয়া সেই ওয়াদা পালন করতে হবে। অপরাধী তা' সে যে দলেরই হোক। তবেই আমরা জানবো- বর্তমান সরকার ইতিহাস লুকোতে চায় না।

এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্য দিয়েই আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে পারবো।

 

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১০ বিকাল ৩:০৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২০ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:৫৫

লেখক বলেছেন: কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

২০ শে জুলাই, ২০১০ বিকাল ৩:৪১

লেখক বলেছেন: সবার সাথে শেয়ার করুন। রাজনৈতিক ফায়দার ফাকেঁ যুদ্ধাপরাধীরা সব সময় আড়ালে চলে যায়।

৩. ২১ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১:১৪
ত্রিভুজ বলেছেন:


মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-ই একটা ভন্ডামী। তবে এই ভন্ডামী খুব সম্ভবত আওয়ামীলীগ ইচ্ছে করে করছে না, বাধ্য হয়েই করছে। এই বিষয়ে আমার একটা পোস্ট রয়েছে- Click This Link


আরেকটা পোস্ট দেখলাম বিচার প্রকৃয়া নিয়ে- Click This Link
২১ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:৪৭

লেখক বলেছেন: পড়লাম। দরকারি একটা পোস্ট। রেফারেন্সগুলো পরে কাজে লাগবে।

৫. ২১ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:০১
রাজসোহান বলেছেন: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আগে
২১ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:৫১

লেখক বলেছেন: ছাড় দেয়া হবে না।

৬. ২১ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:০২
ডিস্কো ঘোড়া বলেছেন: চীফের এতো জ্বলে ক্যান? চিফে পাকি বংশধর নি!
২১ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:৫৩

লেখক বলেছেন: মাদী ঘোড়া কিন্তু জানে না তার শাবকের পিতা কে? আপনিতো আবার ডিজিটাল ঘোড়া। আপনার ক্ষেত্রে .....

সন্তুষ্ট?

৭. ২১ শে জুলাই, ২০১০ বিকাল ৫:১০
তীর্থক বলেছেন: সাবাস........ স্যালুট .......
৮. ২৮ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১০:৪০
ঝিঝি পোকা বলেছেন: লেখক বলেছেন: মাদী ঘোড়া কিন্তু জানে না তার শাবকের পিতা কে? আপনিতো আবার ডিজিটাল ঘোড়া। আপনার ক্ষেত্রে .....


হাহহাহাহাহাহাহ

 

মোট সময় লেগেছে ১.২৬৮২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
এ ব্লগের সব পোস্ট লেখকের মৌলিক লেখা এবং সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত। লেখকের অনুমতি ব্যতীত এই ব্লগের কোন লেখা বা ছবি সম্পূর্ণ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই