somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্যাডেট লাইফ স্মৃতিচারণ - ১

১১ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে মনটা ভাল না । পুরনো স্মৃতি গুলো বারবার মনে পড়ে যায় । ১ মাস ১৭ দিন হল ক্যাডেট কলেজ থেকে একবারে ছুটি নিয়ে এসেছি । ২৪শে জুন , এই দিনটার জন্য ৬ বছরের অপেক্ষা । অথচ যেদিন ২৪ জুন এসে গেল , মনে হচ্ছিল দিনটা কি আসার খুব দরকার ছিল?

২০০১ সালের ১২ই মে । বাবা মায়ের হাত ধরে ক্যাডেট কলেজের আঙিনায় প্রবেশ । আমি তখন ক্লাস সেভেনে কেবল উঠলাম । ভেবেছিলাম ক্যাডেট কলেজ না জানি কত ভাল হবে !
কিন্তু কিছুক্ষণ পরই কল্পনার সাথে বাস্তবকে মেলাতে পারছিলাম না । কি অদ্ভুত সব নিয়ম কানুন ! রুমে বড় ভাইদের কেউ আসলে দাড়িয়ে সালাম দিতে হবে, তাদের অনুমতি ছাড়া আর কোন কাজ করা যাবে না।'ভাইয়া কাজ করব?"জিগাসা করে নিতে হবে । তারপর যখনই কোন বড় ভাইয়ের সাথে দেখা হবে সালাম দিতে হবে , সব যায়গায় দৌড়িয়ে যেতে হবে, টেবিলে খবার সময় উপরে তাকান যাবেনা,কারো গায়ের সাথে টাচ লাগলে সরি বলতে হবে,টেবিলে হাত রাখা যাবে না । এরকম আরো অনেক নিয়ম কানুন ।
সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকতাম , না জানি কি ফল্ট হয়ে গেল , ভাইয়া বোধহয় এখনই ধরবে । কিছু করলেই মার খেতে হত । সেই মাইরের কথা না হয় নাই বললাম ।দিন গুনতাম কবে জুনিয়ররা আসবে।আমাদের সব কষ্টের অবসান ঘটবে।অবশেষে সেইদিন আসলো আমরা সিনিয়র হলাম । তখনকার কথা আর কি বলব। নিজেকে খুব সিনিয়র মনে হত।নতুন নতুন পাওয়া ফ্রিনেস গুলো ভালমতন ইুজ করতাম । ক্লাস সেভেনের যেসব সীমাবদ্ধতা ছিল সেগুলোর বেশির ভাগই ক্লস এইট এ শিথিল হয়ে গেল । যদিও ভেবেছিলাম জিবনে জুনিয়রকে পানিশমেন্ট দেব না , কিন্তু মাথা ঠিক থাকতনা। জুনিয়রের কোন ফল্টের জন্য যখন কোন সিনিয়র মাইর দিত তখন কার না মেজাজ খারাপ হবে !
এরপর ক্লাস নাইনে উঠলাম । ক্যাডেট কলেজে ক্লাস নাইন মানে অনেক সিনিয়র । দুই ব্যাচ সিনিয়রদেরকে ক্লাস সেভেন যমের মত ভ্য় করত । তাই নিয়ম । দুই ব্যাচ সিনিয়র খুশী মানে সবাই খুশী । তাই অনেক ভাব মারা হত । যখন মনে হত নাহ ঠিকমত সম্মান করছে না জুনিয়ররা , মিটিং ডাকা হত, আর মিটিংএর সিদ্ধান্ত একটাই মাইর । পাঠকরা এটাকে নিষ্ঠুরতা মনে করতে পারেন কিন্তু এটা অনেক ফলদায়ক । মাইরের উপরে আসলেই কোন ওষুধ নাই ।
কত ছোট ছোট স্মৃতি মনে আসে , কোনটা ছেড়ে কোনটা বলব?
ভাইয়েদের চোখ ফাকি দিয়ে জানালায় কম্বল টাঙিয়ে গভীর রাতে রুমে ক্রিকেট খেলা । খাটের ডাশা ভেঙে ব্যাট আর মোজার ভেতর কাগজ ঢুকিয়ে বিশেষ নিয়মে বানানো বল । আমাদের নিচের রুমের ভাইয়ারা টের পেয়ে পরেরদিন ডাকল । চাপা মারলাম আমরা রাতে নামাজ পড়ার জন্য খাট টানাটানি করে জায়গা বের করছিলাম । ভাইয়ারা বিশ্বাস করল বলে মনে হল না, কিন্তু সেদিনের মত আর কিছু না বলে ওয়ার্নিং দিয়ে ছেরে দিল । কয়েকদিন বন্ধ । তারপর আবার আরেকদিন অধিক সতর্কতার সাথে আবার খেলা । কয়েকবার এমন হবার পর কঠিন মাইর খাইলাম । তারপর ভাইয়ারা বলল এখন থেকে খেলবা কিন্তু বেশী শব্দ করবা না । পাছায় ব্যথা নিয়েও আমাদের মনে কি যে আনন্দ ! মুখে খুব অপরাধী আর দুঃখী ভাব নিয়ে দাড়িয়ে আছি (যদি বেশী আনন্দ দেখলে আবার মাইর দেয়!)তখন ক্লাস এইটে আমরা । তারপর থেকে শুরু হল টেস্ট ম্যাচ । আহ কি দিনই না গেছে!!
ক্লাস টেনে শুরু হল পড়াশোনার চাপ । মনে আছে ক্লাস নাইনের টার্ম এন্ড পরীক্ষায় ৪৬ জনের মধ্যে হয়েছিলাম ৪৫ তম । খুব মন খারাপ হয়েছিল । তারপর পড়াশোনা শুরু করে দিলাম । খুব কষ্ট হত । একটা বছর কিছুই পড়ি নাই। সব কিছু নতুন করে পড়া শুরু করলাম । তখন জীবনে নতুন একজনের আবির্ভাব । তার প্রেরণাতেই পড়াশোনা করলাম । অনেকদূর এগোলাম । মাত্র এক বছরে পজিশন আসল ৩ ।
এরপর এস এস সি পরীক্ষা চলে এল ।সে জন্য আমরা হাউজে (আমাদের রুম গুলোকে আমরা হাউজ বলি) পাকাপাকি ভাবে চলে আসলাম । ওই সময়টা আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময় । কী করি নি তখন ! আমরা সারাদিন হাউজে থাকতাম । তখন কেবল নতুন নতুন সিগারেটে টান দেওয়া শিখেছি । আমাদের রুম গুলোতে কোন সকেট নেই । তাতে কী ? ফ্যানের রেগুলেটর খুলে ফেললাম । টয়লেটের সামনের অব্যাবহৃত লাইটের তার খুলে এনে দুটো ব্লেডের মাঝখানে রবার লাগিয়ে তারের সাঠে সংযুক্ত করে দিলাম আর লাগিয়ে ডিলাব রেগুলেটরের সাথে । ব্লেডের প্রান্ত পানিতে ডুবিয়ে দিলেই চমৎকার ওয়াটার হীটার । রেগুলেটরের তার ঘষা দিয়ে স্পার্ক করে তুলো ধরে জ্বলত আগুন । তাই দিয়ে জ্বলত সিগারেট ।
২০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×