গত দুই সপ্তাহ আমরা প্রতি শুক্র আর শনিবার বসুন্ধরা সিটি মলের গেটে দাড়িয়ে আগত দর্শনার্থীদের কাছে অসুস্থ শ্বাশ্বত সত্য'র জন্য সাহায়্য প্রার্থনা করেছিলাম। সামহোয়্যার ইন ব্লগের অসংখ্য ব্লগার উপস্থিত হয়ে অথবা পোষ্ট কিংবা কমেন্টের মাধ্যমে এই উদ্যোগের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন। আমি / আমরা আপনাদের সকলের কাছে এজন্য কৃতজ্ঞ।
বসুন্ধরা সিটি মলে উপস্থিত প্রতিটা ব্লগার অসম্ভব কষ্ট করেছেন এ কয়েকদিন। ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে আগত দর্শনার্থীদের কাছে কথা বলে সাহায্য প্রার্থনা করা - ভাবতে হয়তো খুবই সহজ, যারা ছিলেন বাসায় ফিরে প্রত্যেকেই হয়তো টের পেয়েছেন কেমন লাগে। মজার ব্যাপার হলো পরদিন আবার ঠিকই তারা হাসি মূখে নব উদ্দমে উপস্থিত হয়েছেন বসুন্ধরা সিটি মলে।
শেরিফ আল সায়ারের কথাটাই ধরুন। ছোট-খাট এই ব্লগারটি বলছিলেন আগের দিন বাসায় ফিরে তার নাকি ঘুম হয়নি পায়ের ব্যথায়। অথচ যখন একথাটি বলছিলেন তখনও কিন্তু তিনি ঠায় দাড়িয়ে আছেন ৩/৪ ঘন্টা ধরে। রাতমজুর গত শনিবারে ছিলেন আমাদের সাথে। অথচ আগের দিন রাত্রে তিনি নাইট ডিউটি করে পরদিন রাত ৮ পর্যন্ত দাড়িয়েই ছিলেন। আরেকজন ছোট-খাট ব্লগার হলেন নামহীন মানব। নামহীন মানব নামের এই ব্লগারটির নাম হলো মিশু। স্বল্পভাষী এই আইটি প্রফেশনাল'কে কখনই বলতে হয় নাই তার দায়িত্ব নিয়ে। নিজ দায়িত্বে তিনি কাজ করছেন নিরলষ। মিশু আগামী ২৮ তারিখে ইউ.কে. চলে যাচ্ছে। যাওয়ার আগে মানবতার জন্য সময় দিয়ে গেলেন অকাতরে।
ক্লাস আর পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত নাইম যখনই এসেছেন, কাজ করেছেন নিরন্তর। একরামূল হক শামিম গত শনিবারে আমাদের একটা দারুণ সার্ভিস দিয়েছিলেন। বিকেল বেলা সে আর মিশু মিলে সব ব্লগারদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে বিকেলের নাস্তার ব্যবস্থা করেছিলেন। এছাড়া যখনই কেউ একটু রিলিফ চাচ্ছিলেন সেখানেই উপস্থিত হচ্ছিলেন শামিম। কায়েস ভাই ওরফে লুলুপাগলা ছিলেন, ছিলেন অদ্ভূত আধার এক নামের রাশেদ আর ছিলেন পুরান এক ব্লগার আবু সালেহ। আরও একজন ছিলেন প্রথমদিন, তিনি হলেন মহারাজা। মহারাজা আর আসম ভাই এবং আরো একজন টিশার্ট ক্যাম্পেইন এ দারূণ একটা অবদান রেখেছেন। ছেলে রিককে সাথে নিয়ে এসেছিলেন ডটু রাসেল। বগুড়ায় ট্রেনিং শেষ করে জ্বর নিয়েই বসুন্ধরায় উপস্হিত হয়েছিলেন পথিক। বৃত্তবন্দী আর নিশাচর একই ভাবে কাজ করেছেন দ্বিধাহীনভাবে। প্রথম শুক্রবারে বাসায় ফিরে নিশাচর দেখেছেন রান্না হয় নাই। না খেয়েই ঘুমিয়েছেন, আবার পরের দিন ঠিকই হাজির হয়েছেন। এই শুক্রবারে নিশাচর সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন তার বান্ধবী লিপিকে। লিপি এসেই দাড়িয়ে গেছেন গেটে - আমরা কেউ তাকে বলিও নাই কিছু করতে।
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব গত শনিবারে আসতে অনেক দেরী করেছিলেন। পরের দিন ব্লগ পড়ে জানলাম তার আম্মার ভীষণ জ্বর ছিল। কৌশিকের বাচ্চা খূব অসুস্থ ছিল, তাই সে আসতে পারে নাই। তাতে কি ! ফোনে যোঘাযোগ করে গত শুক্রবারে আপডেট দিয়েছেন দিনভর। একাউন্ট হ্যাক হওয়া নিয়ে হাসাহাসি আর ঠাট্টার তোড়েই মনে হয় মিলটন এই শনিবার আর আসেন নাই। আর আমরা বঞ্চিত হলাম ২৮ দাঁতের হাসি দেখা থেকে।
দীপু আর মেজবাহ ভাই এর কথা আর নতুন করে কি বলবো। বলা যায় এই ক্যাম্পেইন এর প্রাণ ছিলেন তারা। মেজবাহ ভাই তো একটু ঢিলামি দেখলেই আমাদের তাড়া দিচ্ছিলেন। আর প্রথম দিন ৩নং গেট থেকে যা সংগৃহিত হয়েছিল তার পূরোটা কৃতিত্ব ছিল দীপুর। কালপুরুষ'দা ছিলেন দারুণ একটিভ। সুনীল সমূদ্রদ'া ছিলেন একদিন। কিন্তু যতক্ষণ ছিলেন দাড়িয়ে থেকে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন নিরন্তর।
উজ্জল ছিল প্রতিদিনই আমাদের সাথে। তার সাথে ছিল রাজশাহীর বাপ্পি, বনশ্রী, শ্রাবণী, দীপা আর দিলশাদ। এই শুক্রবারে বনশ্রী'কে ফাঁকি দিয়ে কেউই মনে হয় ভিতরে ঢুকতে পারে নাই। কিছু না কিছু দিয়ে যেতে হয়েছে।
রাহা তার স্ত্রী সহ এসেছিলেন শুক্রবারে এবং আমাদের সাথে ছিলেন অনেকক্ষণ। থিসিস নিয়ে ব্যস্ত অন্যমনস্ক শরৎ গতকাল সময় বের করে নিয়ে ঠিকই হাজির হয়েছিলেন বসুন্ধরায়। ণিরোনামহীন (শিরোনামহীন) গতকাল তার ক্লাস শেষ করে উপস্থিত হয়েছিলেন বসুন্ধরায়। নাইম এর সাথে বেশ কিছু সময় গেটেও দাড়িয়ে ছিলেন। আরো কয়েকজন মহিলা ব্লগার এসেছিলেন। চুপিসারে সাহায্য করে চলেও গেছেন। এদের মধ্যে ছিলেন উশৃংখল ঝড়কন্যা, মুনমুন, পুস্প প্রমূখ। সারিয়া তাসনিম এসেছিলেন শুক্রবারে। সামনে পরীক্ষা থাকায় তাকে চলে যেতে হয়েছিল দ্রুতই। গতকাল একজন মহিলা ব্লগার এসেছিলেন। শত অনূরোধেও তিনি তার নাম বা নিক কোনটাই বলেন নাই।
গত দু'দিন নেমেসিসের সাথে দুই ভাগ্নে ছিল। জাবির আর মিশু। জাবিরের ভয়েস আমাদের দারুণ সার্ভিস দিয়েছিল। আরেকজন এর কথা আলাদা করে বলতেই হয় - বাবুয়া। ক্যনসারের সাথে নিরন্তর সংগ্রাম করা এই ভদ্রলোকটি শুক্রবার দিন ছিলেন বেশ অনেকক্ষণ।
অনেক ব্লগারই স্বল্প সময়ের জন্য এসেছিলেন। তাদের স্বল্প সময়ের উপস্থিতিও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। যীশু, মুহিব, পারভেজ, পিয়াল, ফরহাদ, সৃজন, মাসুম, ফারুকী, লুকার, ধোপা, তারার হাসি, মিসকল, পাগলাবাবা প্রমূখ।
আরেকজনের কথা বিশেষভাবে বলতে চাই - তিনি হলেন জানা। শুরু থেকেই যিনি ছিলেন আমাদের সবার সাথে। মিটিং থেকে শুরু করে বসুন্ধরা পর্যন্ত সবখানেই তিনি ছিলেন সবার সাতৈ্ য়খন স্বশরীরে আসতে পারেন নাই, খোজ নিয়েছেন ফোনে।
আপনাদের সকলের প্রতি রইলো আমার পক্ষ থেকে সালাম আর শ্রদ্ধাঞ্জলী।
{যদি কারো নাম বাদ পড়ে গিয়ে থাকে তা নিতান্তই অনিচ্ছাকৃত}

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

