একজন খুব পরিচিত ব্লগার। আড্ডায় আসতে চান, কিন্তু বউ এর পারমিশন নাই। কারণ বউ এর সাফ কথা ছুটির এই একটা দিন-ই তিনি তার স্বামীকে কাছে পান। তাই তিনি এই ছুটির দিনে স্বামীকে হাতছাড়া করতে নারাজ। এদিকে ব্লগার স্বামী আড্ডায় আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন। শেষ পর্যন্ত বুদ্ধি একটা বের হলো। তিনি বউ-বাচ্চাকে নিয়ে গেলেন তার বোনের বাসায় বেড়াতে। সেখানে গিয়ে দেখা গেল বউ সবার সাথে, মানে শ্বাশুরী-ননদের সাথে মেয়েলী আলাপ (গার্লস টক) এ ব্যস্ত হয়ে পড়লেন, পাশে তার গুনধর স্বামীটি আছে কি নাই - সে খবরও নাই। ব্লগার স্বামীটি এবার একটু মুচকি হেসে বললেন - একটু ঘুরে আসি। বলেই সোজা পাবলিক লাইব্রেরী।
গতকাল বিকালে পাবলিক লাইব্রেরী চত্বরে হয়ে গেল আরেকটা ব্লগ আড্ডা। এসেছিলেন প্রায় ৭৫ জন ব্লগার - ২৫ জন স্বশরীরে আর তারা পকেটে বহন করছিলেন আরো প্রায় ৫০টা নিক। সবচেয়ে প্রথম এসেছিলেন আনিসুজ্জামান উজ্জল আর সবচেয়ে শেষে এসেছিলেন প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব আর সাখাওয়াৎ। মেয়েদের মধ্যে ছিলেন ৩ জন্য সারিয়া, নিশা আর জানা। আরো একজন ছিলেন অশরীরে, তিনি হলেন আইরিন সুলতানা। আইরিন আসতে না পেরে একটা স্বরচিত কবিতা পাঠিয়ে ছিলেন রাতমজুরের হাত দিয়ে আর সেটা সুললিত কন্ঠে আবৃত্তি করেছিলেন সুনীল সমূদ্র'দা।
প্রথম পর্বের খাওয়া-দাওয়ার পর ব্লগাররা তাদের পরিচয়, সা.ই. ব্লগ নিয়ে তাদের ভাবনা-ভাললাগা ইত্যাদি তুলে ধরছিলেন। সবশেষে জানা বললেন ব্লগ নিয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা। এরমধ্যেই একফাকে হয়ে গেল দ্বিতীয় পর্বের খাওয়া-দাওয়া। জানা যখন কথা বলছিলেন তখন সবাইকে অবাক করে দিয়ে হাজির হয়েছিলেন আরিল ছোট্ট কিন্নরী'কে নিয়ে। প্রায় রাত ৮:২৫এর দিকে আমরা বিদায় নিলাম সবার কাছ থেকে।
কিন্নরীর সাথে আমার কথোপকথন -
- কিন্নরী তুমি স্কুলে গিয়েছিলে ?
- আজকে আমার ছুটি ।
- ছুটিতে কি করলে ?
- সবদিন ছুটি হলে আমি নরওয়ে যাব। (ও বলতে চেয়েছে গ্রীষ্মের ছুটিতে)
- আমাকে নেবে ?
- না।
- কেন ?
- তুমি তো নরওয়েজিয়ান পার না।
- তুমি শিখিয়ে দেবে। তুমি তোমার দাদুকে হ্যালো বলো কিভাবে ?
- হালু।
ইচ্ছা থাকা সত্বেও সময়মতো খবরটা ব্লগে না দেওয়ার জন্য দূঃখিত। সেই সাথে অনেক পরিচিত ব্লগারকে শুধূমাত্র ফোন নাম্বার জানা না থাকায় বলতে পারি নাই। তাদের কাছেও ক্ষমাপ্রার্থী। যারা ভবিষ্যতে এরকম আড্ডায় যোগ দিতে আগ্রহী তারা আমার ই-মেইলে মোবাইল নাম্বার দিয়ে রাখবেন, প্লিজ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


