নাশতা শেষ করে, শার্টটা গায়ে চাপিয়ে বাসা থেকে বের হলাম। উদ্দেশ্য - নির্বাচন পর্যবেক্ষন। পর্যবেক্ষনে প্রথম যেটা ধরা পড়লো - রিক্সার স্বল্পতা। লোকজন পায়ে হেটেই ছুটছে। কোথায় কে জানে। আমিও গুটি গুটি পায়ে রওনা হলাম তাদের পিছন পিছন। সবাই দেখি একই দিকে যাচ্ছে। হাটছি আর ভাবছি। ভাবছি আর হাটছি। চমক ভাঙ্গলো এক তরুনের কথায় - আঙ্কেল কি ১৪ নাম্বার সেকশনের ? মাথা নাড়তেই বললো - সোজা তিনতলায় চলে যান। সামনে দেখি বিশাল লাইন। তাদের পাশ দিয়ে সিড়ির দিকে গেলাম। দোতালায় দেখি কিচির-মিচির আওয়াজ। উকি দিতেই দেখি মহিলাদের জটলা। তিনতলার সিড়িতে পা রাখতেই আরেক জনের প্রশ্ন - আঙ্কেল সিরিয়াল কতো ? বলতেই বললো প্রথম রুমে ডান দিকে। রুমে ডুকে ডান দিকে মোড় নিতেই দেখি তিন জোড়া চোখ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মাঝখানের জন প্রথম বললেন আপনার সিরিয়াল ? বললাম। ডান পাশের জন বললেন নাম ? বললাম। এবার তৃতীয় জন বললেন আপনার বৃড়ো আঙ্গুলটা একটু দেখি। কি মুশকিল !!! বুড়ো হয়েছি বলে বুড়ো আঙ্গুল দেখতে চাইবে এ কেমন কথা। আরো তো আঙ্গুল ছিল। কি আর করা। আঙ্গুল বাড়িয়ে ধরতেই এক পোঁচ কালি লেপে দিল। কটমট করে তাকানোর আগেই দেখি মাঝখানের জন একটা বই ধরে তার মুড়িতে সই করতে বলছে। করলাম। এবার কাগজটা কেটে একটা সিল সহ হাতে ধরিয়ে দিয়ে একটা পর্দা ঘেরা অংশের দিকে হাসি মূখে ইঙ্গিত করছে। আমি কাগজ আর সিল হাতে নিয়ে সেই লোকের দিকে একটা ভ্রুকুটি ছুড়ে দিয়ে সেই পর্দা ঘেরা অংশে ঢুকলাম। কাগজটা মেলে ধরতেই চোখ গেলো একবারে নিচের দিকে। আঃ !!! কি শান্তি ! দিলাম বসিয়ে সিল।
কাগজটা ভাজ করে বের হতেই একজন বললো আপনার পিছনে। পিছনে তাকিয়ে দেখি একটা ফুড বাস্কেট রাখা, যার উপর দিকটা একটু ফাড়া। সেই অংশটা দিয়ে কাগজটা চালান করে দিলাম ভিতরে।
কি মুশকিল বলেন তো দেখি। বের হলাম ভোট পর্যবেক্ষনে আর ফিরলাম কিনা ভোট দিয়ে। তারমধ্যে কোন হৈ-হুল্লা নাই, উত্তেজনা নাই। গেলাম আর আসলাম। অথচ জীবনের প্রথম ভোটটা দিতে গিয়ে কি ফ্যাসাদেই না পড়েছিলাম। নাম বিড়ম্বনায় সেবার ভোট দেয়াটাই বানচাল হয়ে যাচ্ছিলো প্রায়। কোথায় গেল সেসব দিন।
য়াক এবার একটু বিরতি। রাত জাগতে হবে না
{আমার প্রথম ভোটের গল্প পাবেন এখানে }
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



