১৯৭১ সালের ৬ই এপ্রিল তারিখে জেনারেল টিক্কা খানের সাথে সাক্ষাতের পর এক বিবুতিতে হামিদুল হক চৌধূরী বলেন "পূর্ব পাকিস্থানীরা আর যা কিছু থাক না কেন কিছুতেই দেশের ঐক্য বিনষ্ট করতে চায় না। পূর্ব পাকিস্থানীরা কি চায় একশ বিশ দিন পূর্বে একটি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচন করে পূর্ব পাকিস্থানের সকল বয়স্ক জনসাধারণ তা ঘোষণা করেছেন। ভারতীয় প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পশ্চিম পাকিস্থান থেকে পূর্ব পাকিস্থানকে বিচ্ছিন্ন করা এবং তার দ্বারা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে এদেশের অস্তিত্ব বিলোপ করে নিজস্ব সম্প্রসারণবাদী মনোভাব চরিতার্থ করা। এই উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এবং বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা তাদের সকল প্রচার মাধ্যমের দ্বারা বিশ্ব বাসীর নিকট হাজার হাজার নরহত্যা এবং বোমাবর্ষনের ফলে শহর ধ্বংসের ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রচার করছে। প্রকৃত প্রস্তাবে ভারতীয় বেতার তার (সময়) সূচীর শতকরা ৫০ ভাগ সময় এই উদ্দেশ্যে নিয়োজিত করেছে। কিন্তু কতদিন যাবত এই মিথ্যার বেসাতী চলবে ? "
"ভারতীয় প্রচারবিদরা কি করে দাবী করছেন যে পূর্ব পাকিস্থান পশ্চিম পাকিস্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় এবং এই ভিত্তিহীন ত্তত্ত্বের ভিত্তিতে কি করে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আর্থিক ও কার্যকরী সমর্থন দিতে শুরু করেছেন ? প্রকৃত পক্ষেএই ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী পাকিস্থানের চাইতে ভারতেই বেশী লক্ষ্য করা যাবে। "
তিনি বিবৃতিতে আরও বলেন "স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার জন্য এই মূহুর্তে চতুর্গুন অধ্যাবসায় নিয়ে কাজে আত্মনিয়োগ করা সকল শ্রেণীর মানুষের কতর্ব্য। মার্চের তিন সপ্তাহব্যাপী হরতালে সাধারণ জীবনযাত্রায় যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে তা সরিয়ে ফেলতে হবে।প্রত্যেক নাগরিক প্রত্যেক সরকারের কাছে জীবন, জীবিকা ও অধিকারের নিরাপত্তা আশা করে। যত শিগগীর সম্ভব বেসামরিক জনপ্রিয় সরকার কায়েমের জন্য উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যে বিবৃতি দিয়েছেন তা অভিনন্দনযোগ্য। "
শান্তি কমিটি গঠন থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবি হত্যা পর্যন্ত অনেক পরিকল্পনাই হয়েছে অবজারভার ভবনে তার নিজস্ব কক্ষটিতে। বুদ্ধিজীবি হত্যার অন্যতম নায়ক মাইনুদ্দিন তারই একজন কর্মচারী। ২৫ শে মার্চ অনেক পত্রিকা অফিস ধ্বংস হলেও তার এই অবজারভার ভবনটি ছিল অক্ষত।
স্বাধীনতা যুদ্ধের নয় মাস তার বাসভবনটিও ছিল পাকিস্থানের সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মিলনস্থল। এদের মধ্যে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি, ব্রিগেডিয়ার কাসেম, ব্রিগেডিয়ার সিদ্দীকি, মেজর মালেক উল্লেখ্যযোগ্য।
১৯৭১ সালের ১১ই জুন পূর্ব পাকিস্থানের যে প্রতিনিধি দল রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে সাক্ষাত করে তার নেতৃত্ব দেন হামিদুল হক চৌধূরী।স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রায় পূরোটা সময় এই কুলাঙ্গার দেশে এবং বিদেশে পাকবাহিনীর পক্ষে সমর্থন আদায় এবং শান্তি কমিটি সংগঠনের কাজ কাজ করে বেড়িয়েছেন। এর জন্য তিনি পাক সরকারের কাছ থেকে ভাতাও পেতেন।
বিজয়ের ঠিক অব্যবহিত আগে হামিদুল হক চৌধূরী বিপদ আঁচ করতে পেরে দেশ ছেড়ে চলে যান। বাংলাদেশ স্বাধীন হওযার পর ১৯৭১ সালে জুলফিকার আলি ভূট্টো পাকিস্থান সেনাবাহিনীর পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে যে তদন্ত কমিশন গঠন করেন হামিদুল হক চৌধূরী অন্যতম প্রধান সাক্ষী হিসেবে তাতে সাক্ষ্য দেন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে তার নাগরিকত্ব বাতিল সহ সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিলো। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর হামিদুল হক চৌধূরী ১৯৭৮ সালে দেশে আসেন এবং তার সম্পত্তি ফেরত পান। ১৯৯২ সালের ২১শে (বাংলাপিডিয়ায় ১৮ই) জানুয়ারী তিনি ঢাকায় মারা যান।
নাম : হামিদুল হক চৌধূরী
পিতা : আক্কাস আলি চৌধূরী
গ্রাম : রামনগর
জেলা : ফেনী
তথ্য সূত্র
১. একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায় ২য় সংস্করণ, জুন ১৯৮৭ (পৃষ্ঠা ৫৭-৫৯)
২. উইকিপিডিয়া
৩. বাংলাপিডিয়া
৪. প্রিয়

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

