১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রচিত হয় ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্যতম অধ্যায়টি। পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাক হানাদার বাহিনী আর তাদের দোসর রাজাকার আলবদর বাহিনী এদেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করে নির্মমভাবে। পিছনে থেকে এদেরকে সহায়তা প্রদান করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক নামধারী দালাল। স্বাধীনতার পর এদেরকে বাধ্যতামূলক ছুটি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের পট পরিবর্তনের পর এদের অনেকেই আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূনর্বাসিত হন।
১. বেগম আখতার ইমাম, প্রভোষ্ট, রোকেয়া হল
২. ড. কাজী দীন মুহম্মদ, বাংলা বিভাগ*
৩. ড. মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, আরবি বিভাগ
৪. ড. ফাতিমা সাদিক, আরবি বিভাগ **
৫. ড. গোলাম ওয়াহেদ চৌধূরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
৬. ড. রশিদুজ্জামান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ*
৭. ড. এ.কে.এম শহীদুল্লাহ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
৮. ড. এ.কে.এম. জামালউদ্দিন মোস্তফা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ**
৯. মোঃ আফসার উদ্দিন, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ
১০. ড. মীর ফখরুজ্জামান, মনোবিজ্ঞান বিভাগ
১১. ড. মোঃ শামসুল ইসলাম, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ
১২. ড. আবদুল জব্বার, ফার্মেসী বিভাগ
১৩. ড. মাহবুব উদ্দিন আহমদ, পরিসংখ্যান বিভাগ
১৪. মোঃ ওবায়দুল্লাহ, পরিসংখ্যান বিভাগ**
১৫. মোঃ হাবিবুল্লাহ, শিক্ষা গবেষণা ইনষ্টিটিউট
১৬. আবদুল কাদের মিয়া, শিক্ষা গবেষণা ইনষ্টিটিউট**
১৭. ড. শাফিয়া খাতুন, শিক্ষা গবেষণা ইনষ্টিটিউট
১৮. লে. কর্ণেল (অব) মতিউর রহমান, স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট
১৯. আতিকুজ্জামান খান, সাংবাদিকতা বিভাগ
২০. ড. আফতাব আহমেদ সিদ্দীকি, উর্দূ ও পার্সী বিভাগ
২১. ফজলুল কাদের, উর্দূ ও পার্সী বিভাগ**
২২. নুরুল মোমেন, আইন বিভাগ
২৩. ড. এস.এম. ইমামুদ্দিন, ইসলামের ইতিহাস
২৪.মোঃ মাহবুবুল আলম, উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগ
২৫.ফাইজুল জালাল, উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগ**
জেনারেল টিক্কা খানের শিক্ষা সংস্কার কমিটি - দালাল শিক্ষক
১. ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, তৎকালিন ভিসি, ঢাবি*
২. ড. হাসান জামান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
৩. ড. মোহর আলি, ইতিহাস বিভাগ
৪.ড. এ.এফ.এম. আবদুর রহমান, গণিত বিভাগ
৫. আবদুল বারী, তৎকালিন ভিসি, রাবি
৬. ড. সাইফৃদ্দিন জোয়াদ্দার
৭. ড. মকবুল হোসেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এইসকল দালাল শিক্ষকেরা ১৪ই ডিসেম্বরের নারকীয় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছিল। আলবদর বাহিনীর অন্যতম জল্লাদ আশরাফুজ্জামান খানের ডায়েরীতে এদের অনেকের কথা লিপিবদ্ধ ছিল।
আরো যারা জড়িত ছিল
ক. নাসির আহমেদ, ইচ্চমান সহকারী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনষ্টিটিউট**
খ.জহীর খান, পেইন্টার, চিফ ইঞ্জিনিয়ার এর অফিস**
গ.শাহজাহান, পিয়ন, চিফ ইঞ্জিনিয়ার এর অফিস**
ঘ. মোহাম্মদ মুস্তফা, পিয়ন, ষলিমুল্লাহ হল**
ঙ. এস.ডি. দলিলুদ্দিন, কেয়ারটেকার
* / ** ১লা অক্টোবর, ১৯৭৩ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এরা চাকুরী থেকে বরখাস্ত এবং বিম্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত হন। (সূত্র - দৈনিক বাংলা ৩রা অক্টোবর ১৯৭৩)
আমার কিছু কথা : উপরের দালালরা বেশীরভাগই ৭৫ পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূনর্বাসিত হয়েছেন। এদের একজন মনোবিজ্ঞান বিভাগের ড. মীর ফখরুজ্জামান। তিনি শুধূ পূনর্বাসিতই হন নাই, মৃত্যুর পর তার নামে বিভাগের একটি ল্যাবের নামকরণ করা হয়েছিল। এরকম আরো ঘটনা হয়তো আছে। অথচ নিহত বুদ্ধিজীবিদের জন্য স্ব স্ব বিভাগে কি এরকম কিছু করা হয়েছে ?
পরিসংখ্যান বিভাগের মোঃ ওবায়দুল্লাহ কে কিন্তু আমরা অনেকেই চিনি। তিনি বিটিভি আর বাংলাদেশ বেতারের একজন নাট্যকার - আসকার ইবনে শাইখ।
আমার এই পোষ্টের সূত্র
একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়
২য় সংস্করণ, জুন ১৯৮৭ পৃষ্ঠা ১৮৮-১৯০
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



