somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... নির্বাচন নাকি জাতীয় সরকার !?!
উড়ো খবরের ভিত্তিতে এটা আমার কল্পনা। আপনি কি বলেন ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28871763 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28871763 2008-11-20 17:47:11
শুভেচ্ছা সবাইকে ..... কেমন আছেন সবাই !?! প্রথম লাগলো ইন্টারনেট লাইন নিয়ে। এরপর গেলো মনিটর। ভাগ্নের মনিটর দিয়ে ঠেকা কাজ সারছিলাম, সেটাও গেলো একদিন। এরমধ্যে মোবাইলে কি জানি একটা হলো, অন হয় না। দোকানে নিতেই বললো তেমন কিছু না, সফটওয়্যার ইনষ্টল করলেই ঠিক হয়ে যাবে। হলোও তাই, তবে মাঝখান থেকে ১৫০ এর্‌ ঊপর ফোন নাম্বার হারিয়ে গেল। বুদ্ধি করে সিমে সেভ না করে সেটে সেভ করেছিলাম সব। ব্যবসা তো নাই বলতে গেলে। কি আর করা। একজন শুনে বললো - কোরবানী দেন। কারে দেই, কি দেই করতে করতে ঈদ টাও পার হয়ে গেল।

তবে এই সময়ের মধ্যে অনেক ব্লগার নিয়মিত খোজখবর নিয়ে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন।

আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা। ভাল থাকুন সবাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28853491 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28853491 2008-10-11 19:27:27
ট্রানজিট : বাংলাদেশের বিকল্প প্রস্তাব <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />
চিন্তা করিয়া দেখেন ভ্রাত্যবৃন্দ, গত ৩৭টি বৎসর ব্যপিয়া আমরা আমাদের মুসলিম ভাইদের সহিত সরাসরি সাক্ষাৎ করিতে পারিতেছি না। সাক্ষাৎ প্রার্থনা করিলে হয় আকাশ পথে না হয় জলপথে বহু ঘুরিয়া সেই স্বপ্নের দেশে যাইতে হয়্। আহা! হামারা পাকিস্থান। দুই মুসলিম ভাই এর মাঝখানে বেড়িবাধের ন্যায় দাড়াইয়া আছে হিন্দুস্থান - ভারত। বলেন সহ্য হয় ?

অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকার যেন দুই দেশের ভাতৃপ্রতিম মুসলিম জনগনের মাঝে সেতুবন্ধ রচনার জন্য ভারতের নিকট ট্রানজিট দাবী করেন। বাংলাদেশের জনগন যাহাতে ভারতের বুক চিরিয়া হিন্দুস্থানীদের বক্ষ বিদীর্ণ করিয়া সরাসরি তাহাদের পাকিস্থানী মুসলিম ভাইদের বুকে দুনিয়া কাঁপাইয়া ঝাঁপাইয়া পড়িতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হোক।

সবাই বলেন - আমিন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28825887 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28825887 2008-07-31 11:08:34
বিজ্ঞাপন রঙ্গ
কাজে মন দেয়ার চেষ্টা করলাম। তারপরও দেখি সময় কাটে না। শেষ পযর্ন্ত বেছে নিলাম দৈনিক পত্রিকা। বাসায় নিয়মিত রাখা হয় প্রথম আলো। সন্ধ্যায় দূলাভাই অফিস থেকে নিয়ে আসেন ডেইলি ষ্টার আর আমার দেশ। ডেইলি ষ্টারের সাপ্তাহিক আর মাসিক ম্যাগাজিন গুলো নিয়মিত পড়লেও, পত্রিকার হেড লাইন ছাড়া এদুটোর আর তেমন কিছু পড়া হতো না। সময় সূযোগ পেয়ে গোগ্রাসে পড়া শুরু করলাম পত্রিকা দুটো। একেবারে পৃষ্ঠা নাম্বার থেকে শুরু করে শেষ পৃষ্ঠার প্রিন্টার্স লাইন পযর্ন্ত - সবকিছুই। আমার দেশ পত্রিকা পড়ে - বিশেষ করে এর ক্ল্যাসিফায়েড এড সেকশন পড়ে দারুণ আনন্দ পেলাম। প্রতিদিন ই সেখানে মজাদার আর আগ্রহোদ্দিপক সব এড পাওয়া যায়। এরমধ্যে থেকে কয়েকটা আমার মন্তব্য সহ আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আপনারাও পড়ুন এবং মন্তব্য করুন।
--------------------------------------------
জরুরী আবশ্যক : কানাডা থেকে ফেরত ম্যাডামের ২ কন্যা, একমাত্র আদরের ছোট বোন ঝরণাকে নিয়ে ঢাকায়। উনার নিজস্ব ফ্ল্যাট বাসার জন্য ৮ জন গার্ড, ১ সুপারভাইজার আবশ্যক, থাকা-পোষাক ফ্রি, বেতন ৮২৫০ - ৯৩৫০/, মাসে ৪ দিন ছুটি, আসামাত্র জয়েন। সরাসরি - ০১৯২০৫৫৮১২০
দৈনিক আমার দেশ - ২৯শে জুলাই, ২০০৮ (পৃষ্ঠা ৪)
মন্তব্য : "ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া" বোধহয একেই বলে। স্যার নাকি ম্যাডাম, ম্যাডাম আদরের ছোট বোন ঝরনাকে নিয়ে থাকেন নাকি কুত্তার বাচ্চা পালেন - চাকরি হওয়ার আগেই দারোয়ানকে এগুলো জানানোর মাজেজা ঠিক বুঝলাম না। বেতনের অংকটাও তো রীতিমতো সন্দেহজনক।
--------------------------------------------
পাত্র চাই : পাত্রীর নিজ নামে আশুলিয়ায় ফ্ল্যাট, সাভারে সোয়েটার ফ্যক্টরি (৩৬+, ৫'-৩") সুন্দরী, বিধবা, বন্ধ্যা, বাব-ভাই নেই, মা অসুস্থ্, পাত্রীর বাম হাতে শক্তি কম। অসহায় পাত্রীর ও ব্যবসায়ের দায়িত্ব নিলে মোটা অঙ্কের আর্থিক হেল্প। ২য় বিবাহ চলবে। গোপনীয়তা রক্ষা। ০১৭২৭৪২৬৭৫৭
দৈনিক আমার দেশ - ২৯শে জুলাই, ২০০৮ (পৃমষ্ঠা ৪)
মন্তব্য : জটিল। সেধে সতীনের ঘর করতে চায় ....
-------------------------------------------
পাত্র চাই : কোন মিডিয়া নয়, লন্ডনে মেয়ের দোকার পরিচালনার জন্য বিয়ে করে নিয়ে যাবে। সরকারী ভ্যাট ছাড়া সমস্ত খরচ মেয়ের। ছেলের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় থানা এবং আদালতে মামলা আছে কিনা যাচাই-বাছাই শেষে বিয়ে হবে কোর্টে। যাওয়ার আগে ছেলের আর্থিক অবস্থা গোপন থাকবে। ছবি ও বায়োডাটা পাঠান। ০১৭৩৫৮৯৭৫৯২
দৈনিক আমার দেশ - ২৮শে জুলাই, ২০০৮ (পৃষ্ঠা ৪)
মন্তব্য : ডাল মে কুছ কালা হ্যায় .....
---------------------------------------------
আবশ্যক : জব ভিসার পরেই টাকা। আমেরিকা, কানাডা, ইতালি, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সে জব ভিসা, থ্রিষ্টার হোটেলে কুক হেলপার, ওয়েটার ১২,০০,০০০/, লেবার ক্লিনার ৮,০০,০০০/, ভিজিট ভিসা ৪,০০,০০০/ (দূবাই ১,৯০,০০০/)। মদিনা ৮৫/১, নয়া পল্টন ০১৯১৬৫৮৭১৫৫, ৯৩৩৭৭৬৮, ০১৭২৭৫২৫২৯০
দৈনিক আমার দেশ - ২৯শে জুলাই, ২০০৮ (পৃষ্ঠা ৪)
মন্তব্য : ১২ লাখ টাকা থাকলেতো দেশেই অনেক কিছু করা যায়। বিদেশ যাওয়ার দরকার কি ?
-------------------------------------------------------------------------------
তবে গাঁটের পয়সা খরচ করে পত্রিকা কিনে পড়লে মজা নাও পেতে পারেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28825565 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28825565 2008-07-30 11:47:19
কি ভাবে দেখবেন সচলায়তন
আমি ব্যবহার করেছি - http://www.anonasurf.com/
সচলায়তন - http://www.sachalayatan.com/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28821245 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28821245 2008-07-17 12:21:49
টুটুলের উপর আমার যত ক্ষোভ
শ্বাশ্বত সত্য ক্যাম্পেইন এ অংশ নিতে এসে টুটুলের উপর ক্ষোভ জমা হচ্ছিলো বার বার। ফোনে বহুবার টুটুল আর নেমেসিস কে বলেছি সেসব কথা। নেমেসিস তো মোবাইল তেকে ফোন করে একদিন টানা দেড় ঘন্টা কথা বলেছিল আমার সাথে। যাই হোক। ক্ষোভের একমাত্র কারণ বলা যায় টুটুলের নরম মন-মানসিকতা।

আপনার ভালই জানেন টুটুল এই ব্লগে একজন নিরপেক্ষ ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত। তার এই নিরপেক্ষ চরিত্রটাই আসলে বড় সমস্যা। টুটুল এই ব্লগে দু'টি গুরুত্বপূর্ন কাজের আহ্বায়ক - শ্বাশ্বত সত্য ক্যাম্পেইন আর মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ই-সংকলন। দূঃখজনক হলেও সত্যি টুটুল এর কোনটারই মূল উদ্যোক্তা না। মানে কোনটারই আইডিয়া বা চিন্তা টুটুলের নিজস্ব না। যাদের মাথা থেকে এদু'টি চমৎকার উদ্যোগ এসেছে তাদের যে কোন কারণেই হোক একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল। তাদের সেই পারপাসটা সার্ভ করেছে টুটুল। কোন মহৎ উদ্যোগে কারও পারপাস সার্ভ করলে এক-আধটা ব্যতিক্রম ছাড়া আমার ক্ষোভ জন্মানোর কথা না। ক্ষোভের কারণ টুটুল শ্বাশ্বত সত্য ক্যাম্পেইন এ তার নিজের ভূমিকা ঠিকভাবে পালন করতে পারে নাই। কেমন জানি একটা গাছাড়া ভাব ছিল। তাকে ডিঙ্গিয়ে লোকজন দেদারসে কথা বলেছে এবং টুটুল সেটা ঠেকানোর কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয় নাই। একটা পর্যায়ে গিয়ে আমার মনে হচ্ছিলো এই ব্যাপারটা আসলে কে সমন্বয় করছে। একটা উদাহরণ দেই - আবদুল্লাহ আল মামুনের পোষ্টে মাসুম ভাই প্রশ্ন করেছিলেন কত টাকা উঠছে। মামুন সাহেব মেজবাহ য়াজাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিলেন সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা উঠিয়েছে ঢাকার বন্ধুরা। প্রথমত তথ্যটা ভূল আর দ্বিতীয়ত আমার ব্যক্তিগত মত য়াজাদ এই ব্যাপারে কথা বলতে পারে না। টাকা ছিল টুটুলের একাউন্টে, সেই একমাত্র ব্যক্তি যে এই ব্যাপারে কথা বলার অধিকার রাখে। গত সোমবারের মিটিং এ দুজনকেই এব্যাপারে বলেছিলাম। এখন যদি কেউ প্রশ্ন ....... ।

টুটুলকে ডিঙ্গিয়ে মেজবাহ য়াজাদ এর ভূমিকাটা আমার পছন্দ হয় নাই। আরও বেশ কিছু কারণ ছিল যেখানে টুটুলের ভূমিকা রাখার কথা ছিল, কিন্তু সে সেটা রাখে নাই। বিতর্ক এড়ানোর জন্য সেগুলো আর উল্লেখ করলাম না। আর এই সব নানা রকম কারণে ক্ষোভটা জমা হয়েছিল মূলত টুটুলের উপর। আর গতকাল সেটা প্রকাশ করেছিলাম খুব নগ্নভাবে। বিশেষ করে দু'জনের নামের আগে বিশেষন দিয়ে। আমি সেজন্য আন্তরিকভাবে দূঃখিত।

ভূল বা দোষ যা করার করেছি। এটার একটা সমাধান হওয়া দরকার। আর সেটা হওয়া দরকার ব্লগের বাইরে। টুটুল আর মেজবাহ য়াজাদ এর সাথে আমার কথা হয়েছে। বিশেষণ যোগ করার জন্য তাদের কাছে দূঃখও প্রকাশ বরেছি। যদি সম্ভব হয় সবাইকে নিয়ে বসতে আগ্রহী - যারা শ্বাশ্বত ক্যাম্পেইন এ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

শেষ করবো আমার সেই পোষ্টে জামাল ভাস্করের কমেন্টের অংশ বিশেষ আর তার প্রতিউত্তর দিয়ে। সবাই ভাল থাকবেন।

"সবশেষে প্রত্যুৎপন্নমতিত্বরে আমার স্যালুট জানাই এইরম একটা আয়োজনের পুরোধা হওনের জন্য...আমাদের আসলে প্রয়োজন ভালো মানুষের, যারা ডাকলে সচেতন মানুষের সাথে অনেক জোকাররাও নামবো পথে..."

.... আর সেইসব জোকারদের মথ্যে কিছু পাবেন যারা তাত্বিক গুরু টাইপের। এরা মূলত ঘরে বসে ব্লগ পড়ে আর সহমত জানায়। স্যালুট এর তুফান ছোটায় ক্ষণে ক্ষণে। কিন্তু সূযোগ থাকলেও বাস্তবে আপনার পাশে এসে দাড়াবে না। আমি ক্যামেরাম্যান / রঞ্জু জোকার হলেও বাস্তবে আপনাদের পাশে এসে দাড়াব যে কোন প্রয়োজনে, শুধূমাত্র ভার্চুয়ালি সহমত বা স্যালুট জানাব না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28819870 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28819870 2008-07-13 17:23:21
য়াজাদ আর টুটুলের কারণে হারিয়ে গেল ব্লগারদের মহৎ একটি অর্জন
সেই সাথে আমি জানাতে চাই ২ জন ব্লগারের প্রচন্ড একগুয়েমির কারণে এই দুই ব্লগের সমস্ত অর্জন আজ ভূলন্ঠিত। আপনারা জানেন রাজশাহী ইউনির এক শিক্ষকের উন্নাসিক আচরণের কারণে এই দুই ব্লগের সন্মানিক ব্লগারবৃন্দ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ছিলেন। শুধূমাত্র শ্বাশ্বতের কথা চিন্তা করে এই মহতি প্রচেণ্টাকে আমরা সামনে এগিয়ে নেয়ার মানসে ব্লগাররা রাজশাহী যেতে রাজী হয়েছিলেন।

ব্লগাররা ২টা বিষয়ে একমত হয়েছিলেন - ১. টাকাটা শ্বাশ্বত বা তার তার বাবার একাউন্টে দেয়া হবে, ইউনির ফান্ডে না। ২. ব্লগাররা কেউ প্রেস কনফারেন্সে যাবেন না। গত সোমবারে শাহবাগের মিটিং এ য়াজাদ সুপরিকল্পিত ভাবে প্রেস কনফারেন্সে যাওয়ার ব্যাপারে ব্লগারদের মত আদায়ের চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে সে শ্বাশ্বতের প্রতি ব্লগারদের ভালবাসাকে ব্যবহার করে অস্ত্র হিসেবে এবং বলা যায় সফল হয়। আমি এবং দিপু এর তীব্র বিরোধীতা করি প্রেস কনফারেন্সে যাওয়ার ব্যাপারে।

পরদিন সেই শিক্ষক প্রেস কনফারেন্সে যাওয়ার কথা বলে একটি পোষ্ট দেয়। প্রাথমিক ভাবে আমি রাজশাহী যাব না বলে সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু কয়েকজন ব্লগারের পৌনপুনিক অনূরোধে রাজশাহী যেতে সম্মত হই। বৃহস্পতিবার একজন ব্লগার আমাকে আমার দেশ পত্রিকাটি পড়ার অনূরোধ করেন। অনলাইন এডিশন পড়ার পর আমি হতবাক হয়ে যাই ... সেই একই কাহিনী ... রাজশাহী ইউনির ছাত্ররাই ... সামহোয়্যার ইন ব্লগ বা আমার ব্লগ এর কোন উল্লেখ নাই। আমি সহ-ব্লগারদের বিষয়টি জানাই।

রাত্রে ট্রেনে বিষয়টি আবার উত্থাপিত হলে য়াজাদ রিপোর্টের পক্ষে সাফাই দেয়ার চেষ্টা করে। ট্রেনেই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত হয় যে আমরা প্রেস কনফারেন্স এ কোনভাবেই যাব না। পরদিন ষ্টেশনে সূজন এবং আরো একজন ছাত্র এসে আমাদের সেই শিক্ষকের বাসায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। তাকে বলা হয় ব্লগাররা নাস্তা করে শ্বাশ্বতকে দেখতে যাবে। সেই মোতাবেক আমরা শ্বাশ্বতের বসায় যাই এবং চেক হস্তান্তর করি। ফেরার পথে য়াজাদ আবার সেই শিক্ষকের সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং আমাদের মতামত চায়। নেমেসিস তীব্র আপত্তি জানায়। তখন য়াজাদ জানায় সে যাবেই। তখন আমি প্রশ্ন করি আপনি যদি যাবেনই তবে আমাদের মতামত চাইছেন কেন ঘটা করে। এর কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেন নাই। নিরব দেখা যায় টুটুল ওরফে প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব কে। পথে কোন একটা আমবাগানের ছবি তোলার সময় এই দুইজন একান্তে কিছু আলাপ করেন। গাড়ীতে ফিরে য়াজাদ জানায় সে একটা প্লাস পেয়েছে। আমরা বুঝতে পারি কি ঘটেছে বা ঘটতে যাচ্ছে। বিকালের দিকে উজ্জল একটা মেসেজ পাঠা নেমেসিস কে। মেসেজটা ছিল এরকম - "আমরা নোংরা এটা জানতাম। কিন্তু আপনারা যে আমাদের চেয়ে বেশী এটা জানা ছিল না। আমি আর কোন ব্যাপারে আপনাদের সাথে নাই।" এখানে বলে রাখা ভাল উজ্জল আমাদের সাথেই রাজশাহী গিয়েছিল এবং স্টেশন থেকেই ক্যাম্পাসে চলে যায়।

সন্ধ্যার দিকে য়াজাদ এবং টুটুল কাউকে কিছু না বলেই কোথায় জানি চলে যায়। রাত ১০টার দিকে দিপু ফোনে যোগাযোগ করলে তাকে তাদের ব্যাগ নিয়ে রেষ্টুরেন্টে আসতে বলে। সেখানে উপস্থিত হলে আমি অত্যন্ত খোলাখুলিভাবেই তাদেরকে ইগনোর করি এবং অন্যদের করতে বলি। এতে নাকি য়াজাদ মনে দূঃখ পেয়েছে। নেমেসিস কে সে একথা জানিয়ে স্বীকার করেছে যে তারা সেই শিক্ষকের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল।

নিজেকে আজ খুব ছোট মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে এই দুইজন আমার দুই গালে জুতা দিয়ে বাড়ি দিয়েছে সজোরে। ভাবছি আমার ইগো আমি কেন তাহলে বিসর্জন দিব। কোন দূঃখৈ .....

আমি এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
১. য়াজাদ আর টুটুলের সাথে আর কোন যোগাযোগ না।
২. শ্বাশ্বত ক্যাম্পেইন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার।
৩. প্রস্তাবিত "প্রাপ্তি ফাউন্ডেশন" এর কোন কার্যক্রমে নিজেকে সম্পৃক্ত না করা।

ভাল থাকবেন।
{এটি সম্পূর্ণই আমার নিজের ভাবনা এবং সিদ্ধান্ত}]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28819396 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28819396 2008-07-12 12:26:11
বর্ষপূর্তি - ২
ব্লগের নেশাটা মনে হয় একটু একটু ধরতে শুরু করলো এরপর থেকে। কমেন্ট করি আর অনেকদিন পরপর এক-আধটা পোষ্ট দেই। দূঃখের ব্যাপার হলো প্রথম পোষ্টে যেরকম সাড়া পেয়েছিলাম পরের পোষ্টগুলোতে তার সিকিভাগও পেলাম না। পরের পোষ্টগুলোতে দেখলাম পড়েছেন গড়ে ১০০ জন আর কমেন্ট হয়েছিল ৩/৪ টা করে। পোষ্ট দিয়ে বসে থাকি তীর্থের কাকের মতো ঘন্টার পর ঘন্টা। কোন কমেন্ট আসে না। বলেন সহ্য হয়। অথচ অন্যদের পোষ্ট দেখি দেয়ার সাথে সাথেই এক-দেড়শ বার পড়া হয়ে যায়, কমেন্ট পড়ে কাতারে কাতার।

অন্যদের পোষ্ট পড়ি আর দীর্ঘশ্বাস ফেলি - ইস! এরকম যদি লিখতে পারতাম। মাথার ভিতর ঘুরপাক খায় নানা রকমের হাজারটা লেখা, কিন্তু কি এক অদৃশ্য সমন্বয়হীনতায় লেখাগুলি মস্তিস্কের কোণ থেকে হাতের দিকে ধাবিত হয় না। দুর্দান্ত সব কমেন্ট করতে চাই কিন্তু কি এক পিছু টানে কিবোর্ডের উপর আঙ্গুলগুলো সচল হয় না। পড়ি আর ভাবি, ভাবি আর দেখি। কিছুতেই কিছু হয় না।

এইসব দেখতে দেখতে, পড়তে পড়তে আর ভাবতে ভাবতে খেয়াল করলাম কয়েকটা ব্যাপার। কোন পোষ্টে প্রথম কমেন্টটা যত তাড়াতাড়ি পড়ে সেই পোষ্ট পড়া হয় অপেক্ষাকৃত বেশী বার আর তাতে কমেন্টও পড়ে বেশী। দি আইডিয়া। একটা মোসাহেব দরকার যে পোষ্ট দেয়ার সাথে সাথেই প্রথম কমেন্টটা করবে। কিন্তু কারে বলি - একমাত্র মামলুকার ছাড়া পরিচিত আর কেউ তো নাই। আর এই লোক এমনই যে পোষ্ট পড়ার পর ফোনে কমেন্ট করে। কি মুশকিল। এরমধ্যে জানলাম একাধিক নিকের কাহিনী। অনেকেরই নাকি একাধিক নিক আছে। দ্বিতীয় নিকের চিন্তা শুরু করলাম জোরেশোরে। দ্বিতীয় নিকের প্রাথমিক কাজ হবে মোসাহবের, মানে ক্যামেরাম্যান পোষ্ট দিলে মোসাহেব গিয়ে ক্যামেরাম্যানের পিঠ চাপড়িয়ে প্রথম কমেন্ট টা করবে। এই নিকের দ্বিতীয় কাজ হবে দুর্দান্ত (?) সব কমেন্ট করা। অন এ সেকেন্ড থট, দ্বিতীয় নিকটা এমন হতে হবে যাতে কেউ গালাগালি করতে চাইলেও এর (নিকের) চেয়ে খারাপ কিছু বলতে পারবে না, আবার নিকটা অশ্রাব্যও কিছু হবে না। মানে কিছুটা বোকাসোকা, ভোলাভালা টাইপের আর কি।

জন্ম নিল ক্যামেরাম্যান এর মোসাহেব - গন্ডমূর্খ।
(ক্রমশ ....)

প্রথম কিস্তি ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28818407 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28818407 2008-07-09 11:11:48
বর্ষপূর্তি
শুরুটা হয়েছিল আরো আগে। বিটিসিএল (ভূতপূর্ব বিটিটিবি) এ আমার এক বন্ধু আছে নাম মামলুকার। এই মামলুকার-ই প্রথম খোজ দেয় সামহোয়্যার ইন ব্লগের। প্রথম প্রথম কেবল পড়তাম। রেজিষ্ট্রেশনও করি নাই। অনলাইনে থাকলে মামলুকার মাঝে-মধ্যে কোন লেখার লিঙ্ক পাঠায় মেসেঞ্জারে - ইন্টারেষ্টিং লেখা, পড়ো। আমিও পড়ি। জীবনে গরু রচনা ছাড়া আর কিছু লিখি নাই, সুতরাং নিজে লেখার চিন্তাটা তখনও মাথায় আসে নাই। লেখার চিন্তাটা আসলো আলী আর ঢালীর পোষ্ট দেখে। সেই সময়কার ইন্টারফেসে "সর্বোচ্চ পোষ্টদাতা" নামে একটা প্যানেল ছিল বাম দিকে। তাদের দুইজনের পোষ্ট এর মোট সংখ্যা তখন ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। আজ আলী সর্বোচ্চ পোষ্টদাতা তো কাল ঢালী। যেন রীতিমতো এক প্রতিযোগীতা। আর পোষ্টের সেকি বাহার - রাত্রে ঘুমাতে যাবার আগে হয়তো একলাইনের একটা পোষ্ট দিয়ে গেল "ঘুমাইতে গেলাম" কিংবা "ঘুম আসছে না" এই রকমের সব পোষ্ট। অন্য ব্লগাররাও দেখতাম চুটিয়ে কমেন্ট করে যাচ্ছে এ সব পোষ্টে। এসব দেখে শুনে মনে হলো - নাহ! চেষ্টা করলে পারবো মনে হয়। কিন্তু রাগ ইমনের লেখা পড়লে আবার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে। কপালের ফেরে যদি এই মহিলার অসাধারণ কোন লেখার আগে বা পরে যদি আমার গরু মার্কা লেখা আসে, পাবলিক নির্ঘাত ধূয়ে ফেলবে। এক পা আগাই তো দশ পা পিছাই। আরো একটা ব্যাপার ছিল। সেই সময় কেন জানি মনে হয়েছিল এখানকার সবাই ছদ্মনাম ব্যবহার করে। সো আমারও একটা ছদ্মনাম দরকার, বাট যুতসই কোন ছদ্মনাম খুজে পাচ্ছিলাম না আর ব্লগে আমার প্রথম গরু রচনা লেখাও হচ্ছিলো না।

এর মধ্যে হাতে কিছু টাকা এলো আর আগে-পিছে না ভেবেই আমি কিনে ফেললাম আমার প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরা। ছবি তুলছি, কম্পিউটার সেভ করছি আর ভাবছি ছবি দিয়ে নেটে কি করা যায়। এর মধ্যে একদিন ব্লগে কার জানি একটা ছবি ব্লগ দেখলাম। সাথে সাথেই বিদ্যুৎ চমকের মতোই মনে হলো আরে তাইতো। দি আইডিয়া। যার হাতে ক্যামেরা থাকে সেই তো ক্যামেরাম্যান। যেই ভাবা সেই কাজ। রেজিষ্ট্রেশন করে ফেললাম।

জন্ম হলো "ক্যামেরাম্যান" এর।
(ক্রমশ....)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28818112 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28818112 2008-07-08 15:38:09
নিশা আজ রেডিও আমার এফএম ১০১.৬ এ আর. জে. সাতিয়া মুনতাহা নিশা আজ অতিথি আর.জে. হিসেবে থাকবে রেডিও আমার এফএম ১০১.৬ এ। আজ রাত ১১:০০ টায় প্রচারিত হবে মনের জানালা নামের এই অনুষ্ঠানটি। এখানে বলে রাখা ভাল যে প্রতি বুধবার এই সময় এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন একজন আমন্ত্রিত শ্রোতা।

শুনুন এবং এসএমএস করুন নিশাকে শো চলাকালীন সময়ে ৬১৬১ নাম্বারে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28816052 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28816052 2008-07-02 13:10:32
ব্লগ আড্ডা @ পাবলিক লাইব্রেরী

একজন খুব পরিচিত ব্লগার। আড্ডায় আসতে চান, কিন্তু বউ এর পারমিশন নাই। কারণ বউ এর সাফ কথা ছুটির এই একটা দিন-ই তিনি তার স্বামীকে কাছে পান। তাই তিনি এই ছুটির দিনে স্বামীকে হাতছাড়া করতে নারাজ। এদিকে ব্লগার স্বামী আড্ডায় আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন। শেষ পর্যন্ত বুদ্ধি একটা বের হলো। তিনি বউ-বাচ্চাকে নিয়ে গেলেন তার বোনের বাসায় বেড়াতে। সেখানে গিয়ে দেখা গেল বউ সবার সাথে, মানে শ্বাশুরী-ননদের সাথে মেয়েলী আলাপ (গার্লস টক) এ ব্যস্ত হয়ে পড়লেন, পাশে তার গুনধর স্বামীটি আছে কি নাই - সে খবরও নাই। ব্লগার স্বামীটি এবার একটু মুচকি হেসে বললেন - একটু ঘুরে আসি। বলেই সোজা পাবলিক লাইব্রেরী।


গতকাল বিকালে পাবলিক লাইব্রেরী চত্বরে হয়ে গেল আরেকটা ব্লগ আড্ডা। এসেছিলেন প্রায় ৭৫ জন ব্লগার - ২৫ জন স্বশরীরে আর তারা পকেটে বহন করছিলেন আরো প্রায় ৫০টা নিক। সবচেয়ে প্রথম এসেছিলেন আনিসুজ্জামান উজ্জল আর সবচেয়ে শেষে এসেছিলেন প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব আর সাখাওয়াৎ। মেয়েদের মধ্যে ছিলেন ৩ জন্য সারিয়া, নিশা আর জানা। আরো একজন ছিলেন অশরীরে, তিনি হলেন আইরিন সুলতানা। আইরিন আসতে না পেরে একটা স্বরচিত কবিতা পাঠিয়ে ছিলেন রাতমজুরের হাত দিয়ে আর সেটা সুললিত কন্ঠে আবৃত্তি করেছিলেন সুনীল সমূদ্র'দা।


প্রথম পর্বের খাওয়া-দাওয়ার পর ব্লগাররা তাদের পরিচয়, সা.ই. ব্লগ নিয়ে তাদের ভাবনা-ভাললাগা ইত্যাদি তুলে ধরছিলেন। সবশেষে জানা বললেন ব্লগ নিয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা। এরমধ্যেই একফাকে হয়ে গেল দ্বিতীয় পর্বের খাওয়া-দাওয়া। জানা যখন কথা বলছিলেন তখন সবাইকে অবাক করে দিয়ে হাজির হয়েছিলেন আরিল ছোট্ট কিন্নরী'কে নিয়ে। প্রায় রাত ৮:২৫এর দিকে আমরা বিদায় নিলাম সবার কাছ থেকে।


কিন্নরীর সাথে আমার কথোপকথন -
- কিন্নরী তুমি স্কুলে গিয়েছিলে ?
- আজকে আমার ছুটি ।
- ছুটিতে কি করলে ?
- সবদিন ছুটি হলে আমি নরওয়ে যাব। (ও বলতে চেয়েছে গ্রীষ্মের ছুটিতে)
- আমাকে নেবে ?
- না।
- কেন ?
- তুমি তো নরওয়েজিয়ান পার না।
- তুমি শিখিয়ে দেবে। তুমি তোমার দাদুকে হ্যালো বলো কিভাবে ?
- হালু।


ইচ্ছা থাকা সত্বেও সময়মতো খবরটা ব্লগে না দেওয়ার জন্য দূঃখিত। সেই সাথে অনেক পরিচিত ব্লগারকে শুধূমাত্র ফোন নাম্বার জানা না থাকায় বলতে পারি নাই। তাদের কাছেও ক্ষমাপ্রার্থী। যারা ভবিষ্যতে এরকম আড্ডায় যোগ দিতে আগ্রহী তারা আমার ই-মেইলে মোবাইল নাম্বার দিয়ে রাখবেন, প্লিজ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28814573 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28814573 2008-06-28 13:53:50
শ্বাশ্বত সত্য ক্যান্পেইন : সহ-ব্লগারদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী
গত দুই সপ্তাহ আমরা প্রতি শুক্র আর শনিবার বসুন্ধরা সিটি মলের গেটে দাড়িয়ে আগত দর্শনার্থীদের কাছে অসুস্থ শ্বাশ্বত সত্য'র জন্য সাহায়্য প্রার্থনা করেছিলাম। সামহোয়্যার ইন ব্লগের অসংখ্য ব্লগার উপস্থিত হয়ে অথবা পোষ্ট কিংবা কমেন্টের মাধ্যমে এই উদ্যোগের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন। আমি / আমরা আপনাদের সকলের কাছে এজন্য কৃতজ্ঞ।

বসুন্ধরা সিটি মলে উপস্থিত প্রতিটা ব্লগার অসম্ভব কষ্ট করেছেন এ কয়েকদিন। ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে আগত দর্শনার্থীদের কাছে কথা বলে সাহায্য প্রার্থনা করা - ভাবতে হয়তো খুবই সহজ, যারা ছিলেন বাসায় ফিরে প্রত্যেকেই হয়তো টের পেয়েছেন কেমন লাগে। মজার ব্যাপার হলো পরদিন আবার ঠিকই তারা হাসি মূখে নব উদ্দমে উপস্থিত হয়েছেন বসুন্ধরা সিটি মলে।


শেরিফ আল সায়ারের কথাটাই ধরুন। ছোট-খাট এই ব্লগারটি বলছিলেন আগের দিন বাসায় ফিরে তার নাকি ঘুম হয়নি পায়ের ব্যথায়। অথচ যখন একথাটি বলছিলেন তখনও কিন্তু তিনি ঠায় দাড়িয়ে আছেন ৩/৪ ঘন্টা ধরে। রাতমজুর গত শনিবারে ছিলেন আমাদের সাথে। অথচ আগের দিন রাত্রে তিনি নাইট ডিউটি করে পরদিন রাত ৮ পর্যন্ত দাড়িয়েই ছিলেন। আরেকজন ছোট-খাট ব্লগার হলেন নামহীন মানব। নামহীন মানব নামের এই ব্লগারটির নাম হলো মিশু। স্বল্পভাষী এই আইটি প্রফেশনাল'কে কখনই বলতে হয় নাই তার দায়িত্ব নিয়ে। নিজ দায়িত্বে তিনি কাজ করছেন নিরলষ। মিশু আগামী ২৮ তারিখে ইউ.কে. চলে যাচ্ছে। যাওয়ার আগে মানবতার জন্য সময় দিয়ে গেলেন অকাতরে।


ক্লাস আর পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত নাইম যখনই এসেছেন, কাজ করেছেন নিরন্তর। একরামূল হক শামিম গত শনিবারে আমাদের একটা দারুণ সার্ভিস দিয়েছিলেন। বিকেল বেলা সে আর মিশু মিলে সব ব্লগারদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে বিকেলের নাস্তার ব্যবস্থা করেছিলেন। এছাড়া যখনই কেউ একটু রিলিফ চাচ্ছিলেন সেখানেই উপস্থিত হচ্ছিলেন শামিম। কায়েস ভাই ওরফে লুলুপাগলা ছিলেন, ছিলেন অদ্ভূত আধার এক নামের রাশেদ আর ছিলেন পুরান এক ব্লগার আবু সালেহ। আরও একজন ছিলেন প্রথমদিন, তিনি হলেন মহারাজা। মহারাজা আর আসম ভাই এবং আরো একজন টিশার্ট ক্যাম্পেইন এ দারূণ একটা অবদান রেখেছেন। ছেলে রিককে সাথে নিয়ে এসেছিলেন ডটু রাসেল। বগুড়ায় ট্রেনিং শেষ করে জ্বর নিয়েই বসুন্ধরায় উপস্হিত হয়েছিলেন পথিক। বৃত্তবন্দী আর নিশাচর একই ভাবে কাজ করেছেন দ্বিধাহীনভাবে। প্রথম শুক্রবারে বাসায় ফিরে নিশাচর দেখেছেন রান্না হয় নাই। না খেয়েই ঘুমিয়েছেন, আবার পরের দিন ঠিকই হাজির হয়েছেন। এই শুক্রবারে নিশাচর সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন তার বান্ধবী লিপিকে। লিপি এসেই দাড়িয়ে গেছেন গেটে - আমরা কেউ তাকে বলিও নাই কিছু করতে।


প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব গত শনিবারে আসতে অনেক দেরী করেছিলেন। পরের দিন ব্লগ পড়ে জানলাম তার আম্মার ভীষণ জ্বর ছিল। কৌশিকের বাচ্চা খূব অসুস্থ ছিল, তাই সে আসতে পারে নাই। তাতে কি ! ফোনে যোঘাযোগ করে গত শুক্রবারে আপডেট দিয়েছেন দিনভর। একাউন্ট হ্যাক হওয়া নিয়ে হাসাহাসি আর ঠাট্টার তোড়েই মনে হয় মিলটন এই শনিবার আর আসেন নাই। আর আমরা বঞ্চিত হলাম ২৮ দাঁতের হাসি দেখা থেকে।


দীপু আর মেজবাহ ভাই এর কথা আর নতুন করে কি বলবো। বলা যায় এই ক্যাম্পেইন এর প্রাণ ছিলেন তারা। মেজবাহ ভাই তো একটু ঢিলামি দেখলেই আমাদের তাড়া দিচ্ছিলেন। আর প্রথম দিন ৩নং গেট থেকে যা সংগৃহিত হয়েছিল তার পূরোটা কৃতিত্ব ছিল দীপুর। কালপুরুষ'দা ছিলেন দারুণ একটিভ। সুনীল সমূদ্রদ'া ছিলেন একদিন। কিন্তু যতক্ষণ ছিলেন দাড়িয়ে থেকে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন নিরন্তর।


উজ্জল ছিল প্রতিদিনই আমাদের সাথে। তার সাথে ছিল রাজশাহীর বাপ্পি, বনশ্রী, শ্রাবণী, দীপা আর দিলশাদ। এই শুক্রবারে বনশ্রী'কে ফাঁকি দিয়ে কেউই মনে হয় ভিতরে ঢুকতে পারে নাই। কিছু না কিছু দিয়ে যেতে হয়েছে।

রাহা তার স্ত্রী সহ এসেছিলেন শুক্রবারে এবং আমাদের সাথে ছিলেন অনেকক্ষণ। থিসিস নিয়ে ব্যস্ত অন্যমনস্ক শরৎ গতকাল সময় বের করে নিয়ে ঠিকই হাজির হয়েছিলেন বসুন্ধরায়। ণিরোনামহীন (শিরোনামহীন) গতকাল তার ক্লাস শেষ করে উপস্থিত হয়েছিলেন বসুন্ধরায়। নাইম এর সাথে বেশ কিছু সময় গেটেও দাড়িয়ে ছিলেন। আরো কয়েকজন মহিলা ব্লগার এসেছিলেন। চুপিসারে সাহায্য করে চলেও গেছেন। এদের মধ্যে ছিলেন উশৃংখল ঝড়কন্যা, মুনমুন, পুস্প প্রমূখ। সারিয়া তাসনিম এসেছিলেন শুক্রবারে। সামনে পরীক্ষা থাকায় তাকে চলে যেতে হয়েছিল দ্রুতই। গতকাল একজন মহিলা ব্লগার এসেছিলেন। শত অনূরোধেও তিনি তার নাম বা নিক কোনটাই বলেন নাই।


গত দু'দিন নেমেসিসের সাথে দুই ভাগ্নে ছিল। জাবির আর মিশু। জাবিরের ভয়েস আমাদের দারুণ সার্ভিস দিয়েছিল। আরেকজন এর কথা আলাদা করে বলতেই হয় - বাবুয়া। ক্যনসারের সাথে নিরন্তর সংগ্রাম করা এই ভদ্রলোকটি শুক্রবার দিন ছিলেন বেশ অনেকক্ষণ।

অনেক ব্লগারই স্বল্প সময়ের জন্য এসেছিলেন। তাদের স্বল্প সময়ের উপস্থিতিও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। যীশু, মুহিব, পারভেজ, পিয়াল, ফরহাদ, সৃজন, মাসুম, ফারুকী, লুকার, ধোপা, তারার হাসি, মিসকল, পাগলাবাবা প্রমূখ।

আরেকজনের কথা বিশেষভাবে বলতে চাই - তিনি হলেন জানা। শুরু থেকেই যিনি ছিলেন আমাদের সবার সাথে। মিটিং থেকে শুরু করে বসুন্ধরা পর্যন্ত সবখানেই তিনি ছিলেন সবার সাতৈ্ য়খন স্বশরীরে আসতে পারেন নাই, খোজ নিয়েছেন ফোনে।

আপনাদের সকলের প্রতি রইলো আমার পক্ষ থেকে সালাম আর শ্রদ্ধাঞ্জলী।

{যদি কারো নাম বাদ পড়ে গিয়ে থাকে তা নিতান্তই অনিচ্ছাকৃত}
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28812531 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28812531 2008-06-22 18:11:50
শ্বাশ্বত সত্য'র জন্য আমরা যাচ্ছি বসুন্ধরা - আপনি আসছেন তো
আজ আমরা আবার বসুন্ধরা শপিং মলের গেটে দাঁড়াব - শ্বাশ্বত সত্য'র জন্য। আগামীকাল শনিবার দিনও। আজ সারাদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং শনিবার দুপুর ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আমরা সেখানে থাকবো।

আপনি যদি অল্প কিছুক্ষণ সময়ও বের করতে পারেন আজ অথবা আগামীকাল, চলে আসুন বসুন্ধরায়। আমরা সবাই খূবই খূশী হবো। একটা ভাল কাজও হবে সেই সাথে সামহোয়্যার ইন ব্লগারদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগটাও বাড়বে।

আসুন শ্বাশ্বত'র জন্য আমরা সবাই হাতে হাত ধরে দাড়াই আর একসাথে গাই মানবতার জয়গান।

যে কোন প্রয়োজনে -
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব - ০১৭১৩০৪৫৪৯১
ক্যামেরাম্যান - ০১৯১২০৪৩৫৩০


===============================================
এখনো পর্যন্ত যারা উপস্থিত থাকতে সম্মতি প্রদান করেছেন:

শুক্রবার : (সকাল-সন্ধ্যা)
এফ আই দীপু, উজ্জল, শেরিফ আল সায়ার, নামহীন মানব, রাতমজুর, বাবুয়া, মিলটন, ক্যামেরাম্যান, মেসবাহ য়াযাদ, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব, বৃত্তবন্দি (৩টা), কালপুরুষ (৩টা), সারিয়া (৩টা) নাইম (৩টা) নিশাচর (৩টা) সাথে GF, নেমেসিস (১২টা), রাসেল...... (৩টা)

শনিবার বিকাল (৩:০০ - ৮:০০)
এফ আই দীপু, নামহীন মানব, শেরিফ আল সায়ার, নাইম, কালপুরুষ, সারিয়া, রাতমজুর, ক্যামেরাম্যান, নেমেসিস, বাবুয়া (৫টা), মেসবাহ য়াযাদ (৫টা), প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব(৫টা)


যেকোন সময়: যীশূ, মহারাজা, শামীম, ধ্রুব, আবু সালেহ... এরা যে কোন সময় জয়েন করতে পারে।

শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রাবণী, বনশ্রী এবং দীপা থাকতে পারেন।

ছবি : মিলটন এর তোলা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28811599 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28811599 2008-06-20 07:45:48
দাদা'র ডাক্তারী উশৃংখল ঝড়কন্যা'র অমূল্য একটা পুতুল !!! পোষ্ট টা পড়ে খুব ভাল লেগেছিল। পোষ্টে তিনি বলেছেন কি এক মিরাকলে তার আম্মা মৃত্যু'র মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন, সেই সাথে জন্ম নিয়েছিল তার ছোট বোনটি।

আর আমার মনে পড়েছিল আমার দাদা'র একটা কাহিনী। আমার দাদা'কে আমরা কেউ চোখে দেখি নাই। ভদ্রলোক মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে মারা যান। তখন আমার বড় চাচা ১০ বৎসরের বালক আর ছোট চাচা ৪০ দিনের শিশু মাত্র। তার সম্পর্কে আমরা যা জেনেছি সবই মুরুব্বিদের কাছ থেকে শোনা।

আমার দাদা ছিলেন ব্রিটিশ আমলের একজন ডাক্তার - এম.বি.বি.এস. না এল.এম.এফ. ডাক্তার, কলকাতা থেকে পাশ করা। তিনি ডাক্তারী করতেন টাঙ্গাইলের এক অজপাঁড়া গাঁয়ে (আমাদের দেশের বাড়ীতে)। পাঠক আশা করি বুঝতে পারছেন তিনি সার্জারী মানে অপারেশন করতেন না এবং সেই সময় গ্রামে সেরকম কোন সুবিধাও ছিল না।

সময়টা ব্রিটিশদের। সেই সময় একদিন পাশের কোন এক গ্রাম থেকে এক কৃষক তার সন্তান-সম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে এলেন দাদা'র কাছে। মহিলাটি তখন প্রসব বেদনায় কাতর। দাদা মাত্র একবার দেখেই বুঝলেন অবস্থা খূব একটা সূবিধার না। বাকি রোগীদের সেদিনের মতো বিদায় করে দিলেন। কৃষকের কাছে শুনলেন গ্রামের এক দাই ডেলিভারী করানোর চেষ্টা করেছিল, পারে নাই। এইবার করলেন পূরো পরীক্ষা। দেখলেন শিশুটা অল্প কিছুটা বের হয়েছে, কিন্তু কোন এক জটিলতায় আটকে আছে। দাদা নিজেও নাকি চেষ্টা করেছিলেন ডেলিভারী করানোর, কাজ হয় নাই। এদিকে যতই সময় যাছ্ছে ততই মহিলা নিস্তেজ হয়ে যাছ্ছেন। করা দরকার সিজারিয়ান, কিন্তু দাদার সিজারিয়ান করার অভ্যাস নাই আর সবচেয়ে বড় কথা এটা করার মতো সুবিধাদিও নাই। সবচেয়ে কাছের হাসপাতাল তখন ময়মনসিংহে। পাঠানোর আগেই হয়তো মারা যাবে রোঘী।

দাদা চিন্তা করে চরম সিদ্ধান্তটাই নিলেন। কৃষক'কে ডেকে বুঝিয়ে বললেন পরিস্থিতি। যে কোন একজন কে বাঁচানোর চেণ্টা করতে হবে। দু'জনকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে হয়তো কাউকেই বাঁচাতে পারবেন না। দাদা শেষ প্রশ্ন করেছিলেন কৃষক'কে - কাকে চান আপনি বৌ না বাচ্চা। কৃষক নাকি বেশ কিছুক্ষণ ভেবে জবাব দিয়েছিল - গাছ ই বাঁচান ডাক্তার সাব। গাছ বাঁচলে ফল পাওয়া যাবো।

দাদা শুরু করলেন একটা জীবন বাঁচানোর সেই অমানুষিক লড়াই। প্রথমেই কোন একভাবে সেই অনাগত শিশুটিকে মেরে ফেললেন - পাঠক আমাকে ক্ষমা করবেন, আমি এখানে হত্যা শব্দটি ব্যবহার করতে পারলাম না।

এরপর সেই শিশুটির ছোট্ট ছোট্ট হাত-পা, শরীরের অন্যান্য অংশ একটু একটু করে কেটে বের করে নিয়ে আসলেন। কতক্ষণ লেঘেছিল জানিনা। কেউ বলে ২ / ৩ ঘন্টা, কেউ বলে আরো বেশী। একসময় থামলো সেই অমানুষিক যুদ্ধ। আরো কিছুক্ষণ পরে দাদা জানালেন আর ভয় নেই। গাছটি হয়তো এযাত্রা বেঁচেই গেছে।

এদিকে ভিতর বাড়িতেও সবাই জেনে গেছে কি হয়েছে। শোক আর অমঙ্গল আশংকায় স্তব্ধ সবাই। দাদা আসলেন ভিতরে, সোজা তার মায়ের কাছে। মাকে জড়িয়ে ধরে শুরু হলো তার কান্না। যে শিশুটি তার তাত ধরে দুনিয়ার আলো দেখার কথা, সে শিশুটিকেই তিনি আজ নির্মমভাবে খুন করেছেন। তার কান্না সেদিন কেউ থামাতে পারে নাই, বরং কেঁদেছিল বাড়ীসুদ্ধ লোক।

দাদা এরপর কয়েকদিন কেমন জানি হয়েছিলেন। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ, কথা বলেন নাই কারো সাথে। আর ডাক্তারী তো নয়ই। কৃষকের বৌ ছিল আরো দু'দিন। একমাত্র তাকেই যা একটু দেখেছেন।

একসময সবই স্বাভাবিক হয়ে এলে। আর এই স্বাভাবিক অবস্থা ফিলিয়ে আনতে সবচেয়ে বেশী অবদান রেখেছিলেন তারই মা - আমার বড় মা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28810987 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28810987 2008-06-18 18:12:12
টিটবিটস : বসুন্ধরা ক্যাম্পেইন ফান্ড রেইজিং ক্যাম্পেইন এর জন্য বসুন্ধরা সিটি মল কে বেছে নেয়ার দু্টি অকথিত কারণ ছিল। প্রথমত শপিং কিংবা বেড়ানোর জন্য এখানে প্রচুর জনসমাগম হয় আর দ্বিতীয়ত ঢাকার উচ্চবিত্তদের একটা বিরাট অংশও এখানে নিয়মিত আসেন।

ফান্ড রেইজিং এর জন্য প্রথম কারণটি ফলদায়ক হলেও দ্বিতীয় কারণটি একেবারে মাঠে মারা গেছে। চুল ডাই করা, পাম করা বা অন্যান্য বেশ-ভুষার কারখে যাদেরকে উচ্চবিত্ত বলে মনে হচ্ছিলো তারা আমাদের কথায় কর্ণপাত তো দূরের কথা, ভ্রুক্ষেপ ও করেন নাই। গট গট করে ঢুকে গেছেন ভিতরে।

খ.
আমাদের সংগৃহিত ফান্ডের বেশীর ভাগটাই এসেছে সাধারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কাছ থেকে। মলের দোকানের কর্মচারী এমন অনেকেই আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। হয়তো দুপুরের খাবার খেয়ে একটা বিড়ি টেনে ফিরছিলেন দোকানে, আমাদের কথা শুনে সলজ্জ হেসে পকেট থেকে দুটি টাকা বের করে দিয়ে গেছেন।

গ.
টুপি-দাড়ি ওয়ালা কিংবা বোরখা ওয়ালি - এদের কাছে একজন মানুষের জীবন বাচানোর আকুতি তেমন ভাবে কাজ করে নাই। এই শ্রেণীটির কাছ থেকেও আমরা তেমন একটা সহযোগীতা পাই নাই। উচ্চবিত্তদের মতো এরাও গট গট করে ঢুকে গেছেন ভিতরে।

ঘ.
যেসব মহিলা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের বেশির ভাগ ৫০-১০০ টাকা করে দিয়েছেন। নারী মমতাময়ী নিঃসন্দেহে। এক মহিলাকে সবকিছু বলার পর রেফারেন্স হিসেবে সেদিনের ষ্টার ম্যাগাজিনের কথা বলেছিলাম। মহিলা ৫০০ টাকা দিয়ে হেসে বলে ছিলেন তিনি ডেইলি ষ্টারে-ই চাকরি করেন।

ঙ.
ছাত্র লেবাসধারী অনেক তরুণই এসেছিলেন তাদের বান্ধবীদের নিয়ে। খুব একটা সাড়া পাইনি এদের কাছ থেকেও। আমার হাসি পাচ্ছিলো একজনের সক্রোধ মন্তব্য শুনে - "শালারা উপরে গিয়া বান্ধবীগো কাছে সিল খাবো ২০০/৩০০ টাকার তবুও ১০ টাকা দিবো না"

চ.
মাঝে-মধ্যে অনেক ব্লগারই এসেছিলেন। অল্প সময়ের জন্য হলেও তাদের উপস্থিতি মনটা ছুঁয়ে গেছে। আমার সাথে যাদের দেখা হয়েছে - মুহিব, পারভেজ, পিয়াল, ফরহাদ, সৃজন, মাসুম, ফারুকী, লুকার ......

ছ.
প্রথম দিন বিকালে ছোট্ট কিন্নরী এসেছিল তার আংকেলদের জন্য রিফ্রেশনেন্ট নিয়ে। পুচকিটা খুবই কিউট।

আপনারা যাই বলেন আমার কিন্তু ব্যাপক অভিজ্ঞতা হলো এখানে। সামনে শুক্র-শনিবার আসুন না আবার দাড়াই হাতে হাত ধরে - শ্বাশ্বত'র জীবন বাচানোর জন্য।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28809800 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28809800 2008-06-15 14:32:04
বিকেলে দেখা এক নাটক <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />
শ্বাশ্বত সত্য'কে নিয়ে আলোচনা হলো। সেসব আপনারা পরে জানতে পারবেন প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এর পোষ্টে। সবশেষে লিমি বললেন তিনি সবাইকে চা খাওয়াবেন গতকালের ঘটনার কাফফারা হিসেবে। সবাই রাজি। পাবলিক লাইব্রেরীর ক্যাফেটারিয়ায় গিয়ে বসলাম সবাই - ১৬/১৭ জন হবে। মেজবাহ ভাই পাটি সাপটা আর দই এর অর্ডার দিলেন। লিমি সহ আরো ৩ জনের জন্য চটপটি। খাওয়া-দাওয়া হলো। বিল দেয়ার সময় মেজবাহ ভাই ফোকটে ...... । নাঃ, এটা বলা যাবে না। কাজ থাকায় লিমি চলে গেলেন আগে। আমরা গেটের কাছে গিয়ে আবার জটলা। হঠাৎ কালপুরুষ'দা বললেন যে লিমি সবাইকে একটা গোপন কথা বলার জন্য বলেছেন। আমি একটু চোখ কুচকালাম - এতো লোক থাকতে গোপন কথাটা ওনাকেই বলতে হবে। হাসিবের কল্পিত মূখটা ভেসে উঠলো - কইছিলাম না এইটা লুল, আপনি তো আমার লগে আবার মশকরা করেন। বুঝেন এখন।

কালপুরুষ ফাঁস করলেন সেই গোপন কথাটি। বলে কি এসব ???

কি আশ্চর্য! আপনারা চোখ গোল গোল করতেছেন কেন ? অবাক হওয়ার কিছু নাই। অবশ্য আমার বলতে একটু শরম লাগতেছে - গোপন কথাটি শুনে আমি পূরাই ব্যাক্কল।

আসলে মিটিং এর ভিতর এটা ছিল একটা নাটক। পাবলিক লাইব্রেরী চত্বরে মঞ্চস্থ হওয়া এ নাটকটির স্ক্রিপ্ট লিখেছেন স্বনামধন্য ব্লগার কৌশিক (যিনি এর আগে কালপুরুষের বাসায় এ-টিমের জন্মদিন নাটকটি লিখেছিলেন), ডিরেকশন দিয়েছেন আরেক জন স্বনামধন্য ব্লগার কালপুরুষ। নাটকটির একমাত্র কেন্দ্রীয় চরিত্রে মানে লিমির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সামহোয়্যার ইনের সহ-কর্ণধার আরিল-পত্নী জানা। সাথে আরো কয়েকজন গুড়াগাড়া পার্শ্ব অভিনেতা ছিলেন, যেমন - ফূর্তি শামিম, সাইফুল প্রমূখ।

জানার কাছে জানা'র পরিচয় তুলে ধরা - হাসতেই আছি, হাসতেই আছি। হাসি আর থামতেছে না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28806923 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28806923 2008-06-06 21:34:37
আমার নাকি নীতি নাই
আমি নামাজ পড়িনা, রোজা রাখি না। শেষবার কবে নামাজ পড়িয়াছিলাম তাহা মনে হয় চেষ্টা করীলেও বলিতে পারিব না। আর রোজার সময় যা করি উহাকে রোজা না বলিয়া উপাস বলাই শ্রেয়। অথচ এদিকে মুসলিম নাম নিয়া দিব্বি চলাফেরা করিতেছি, কোন শরম নাই।
- আসলেই তো! আমার কোন নীতি নাই।

অথচ আমার বন্ধুটিকে দেখেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানে সবকয়টা রোজা রাখে, এমন কি তারাবীর নামাজও বাদ যায় না। বছর শেষে ক্যালকুলেটরে হিসাব করিয়া জাকাত দেয় নিয়মিত।

এতোকিছু করিবার পরও তাহার মন শান্ত হয় না। বেহেশত নিশ্চিত করিবার জন্য প্রয়াত পিতার পদাংক অনূসরণ করিয়া এক পীরের মূরীদ হইয়াছে। বর্তমান পীরের প্রয়াত পিতা বড় পীরের সহিত সাক্ষাতের এক বিরল সৌভাগ্য হইয়াছিল এই অধমের। বন্ধুটির বিবাহ পড়ান হইয়াছিল সেই পীরের খানকায়। শনির আখড়ার নিকটে সেই খানকায় গিয়া কিছু জ্ঞানার্জন করিয়াছিলাম। এককোনায় একখানা মসজিদ রংহীন, পলেস্তারায় শ্যাওলা জমিয়া আছে - দেখিলেই বুঝা যায় তেমন যত্নআত্তি নাই। ভিতরের অবস্থা আরো করুণ। সাধারন কংক্রিটের মেঝের উপর চট বিছানো, ধূলায় মাখামাখি। মসজিদের ঠিক পাশেই আরেকখানা স্থাপনা। চারকোনা বেদীর উপর চারটি স্তম্ভ ধারণ করিয়া আছে একটি সুউচ্চ মিনার। মিনারটি দামি টাইলস দ্বারা কারুকার্য খচিত। বেদী আর স্তম্ভ সবগুলিই দামী গ্রানাইট পাথরে আচ্ছাদিত। বেদীর মাঝামাঝি জায়গায় সাড়ে তিন হাত এর কিছু বেশী লম্বা একটুকরা জায়গা খালি, মাটি দেখা যাইতেছে। আমি অধম একটু ফাপড়ে পড়িলাম - ইহা আসলে কি ? ইহা কি আজান দিবার জায়গা ? কিন্তু মসজিদ হইতে ইহার জৌলুস এত বেশী কেন ? তিষ্টিতে না পারিয়া এক খাদেম কে জিজ্ঞাসা করিলাম। এলান হইলো ইহা পীর ছাহেবের মাজার। মাজার ??? কিন্তু উনি তো বহার তবিয়তেই বর্তমান - আমার দিকে চাহিয়া খাদেম উত্তর দিয়াছিল - ইন্তেকাল ফরমাইলে সেখানে গোর দেয়া হইবে। মাজারে সম্মূখে মিনার সদৃশ চ্যাপ্টা একখানা প্রস্তরখন্ড দন্ডায়মান দেখিয়া উহার দিকে নজর দিলাম। কিছুই নাই - খালি। এক বন্ধু বলিল - আরে গাধা ইহা হইলো এপিটাফ। গোর দিবার পর লিখিবে। ফিরিবার পথে পিছনে তাকাইয়া বার বার দেখিতেছিলাম দীনহীন আল্লাহর ঘরের পাশে তাহার এক বূজূর্গ বান্দার ভবিষ্যতের রাজপ্রাসাদ।
- আসলেই তো! আমার কোন নীতি নাই। নিজে ধর্ম-কর্ম করি না। অন্যে করিলে আবার চোখ টাটায়।

আমার এই বন্ধুটি বৈবাহিক জীবনেও শরিয়ত মোতাবেক চলিবার চেষ্টা করে। যেমন স্ত্রীর সহিত একান্ত মূহুর্ত গুলি সে রাতের অন্ধকারে মশারীর ভিতর এবং চাদরের নিচে উপভোগ করে। ইহাই নাকি শরিয়ত সম্মত নিয়ম। নিজের স্ত্রী'র বস্ত্রহীন অবয়ব সে নাকি শুধূমাত্র স্পর্শে চিনিয়াছে, চাক্ষুষ নয়। তবে সুমনের সিডি কাহারো নিকট আছে শুনিলে সে উহা দর্শন করিবার জন্য ব্যাকুল হইয়া উঠে।
- আসলেই তো! আমার কোন নীতি নাই। লোকের কি সাধ আহ্লাদ বলিয়া কিছু থাকিবে না।

বন্ধুটি ঘুষ খায় না, দূর্নীতি করেনা। যদিও দূর্নীতি করিবার স্কোপ তাহার যথেষ্টই আছে। এমন কি ঘুষ প্রদানের ক্ষেত্রেও সে কঠিন এবং শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে ঘুষ প্রদান না করিয়া কার্য উদ্ধারে সে সক্ষম। অথচ তাহার বস প্রজেক্টের টাকা আত্মসাত করিতে সিদ্ধহস্ত এবং আমার এহেন বন্ধুটিকে তাহার সেই সব মহৎ কর্মে সাক্ষী গোপাল হইতে হয়।
- আসলেই তো! আমার কোন নীতি নাই। বেচারি এই দূর্মূল্যের বাজারে চাকরি রক্ষা করিয়া চলিবে না তো কি পরিবার সহ উপবাস করিবে।

এইবার আসুন আসল কথাটি বলি। কথা হইতেছিল বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়া। খালেদা-হাসিনার গুষ্টি উদ্ধারের পর বন্ধুটি জানাইলো সেনাবাহিনী যে প্ল্যান করিয়াছে তাহাতে এরশাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়া নাকি ঠেকান যাইতেছে না। বন্ধুর প্রিয় রাজনৈতিক নেতা হইলো এই এরশাদ। আপনি এরশাদের দূর্নীতি, নারীপ্রীতি নিয়া যতোই সমালোচনা করেন না কেন সব কথার শেষ কথা এরশাদের উপর নেতা নাই। কারণ ??? ছাত্রাবস্থায় বন্ধুটির পিতা দূর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারান। এই এরশাদের আমলেই নাকি সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা হইয়াছিল, ফলে বন্ধুর পরিবার অধিক হারে পেনশন পাইয়াছিল এবং তাহা তাহাদের বিশাল উপকারে আসিয়াছিল। সুতরাং তখন হইতে দূর্নীতিগ্রস্থ নারী লোলুপ এরশাদ তাহাদের প্রিয় নেতা।

আমি বলার চেষ্টা করিলাম সেনাবাহিনী কে দেশের শাসন ক্ষমতায় অংশীদার করিলে সেনাবাহিনীকে আসলে ধ্বংস করিয়া ফেলা হইবে। সে বলিয়া উঠিলো তাহা হইলে কি তুমি চাও রাজনৈতিক নেতারাই সব লুটিয়া খাক ? আমি বলিলাম হ্যাঁ। সে উত্তর করিল "তোমার আসলে কোন নীতি নাই। রাখলাম।"
- আসলেই তো! আমার কোন নীতি নাই। কেউ খাবে আর কেউ খাবে না, তা হবে না তা হবে না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28805451 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28805451 2008-06-02 13:27:17
ঢাকা - ৪০০ বছরের পূরানো এক শহর - পর্ব ৪
১৮১৬ সালে ভগ্নপ্রায় লালবাগ দূর্গ

মীর জুমলার আসল নাম ছিল মুহাম্মদ সাঈদ এবং তিনি ছিলেন জন্মসূত্রে ইরানী। ইস্পাহানের আর্দিস্থানে ১৫৯১ সালে তার জন্ম। তিনি ছিলেন এক দরিদ্র তেল ব্যবসায়ীর ছেলে। সামান্য লেখাপড়া জানার সুবাদে গোলকুণ্ডার এক হীরা ব্যবসায়ীর অধীনে চাকরি পান। পরবর্তীতে আরেক ব্যবসায়ীর অধীনে চাকরির সুবাদে ভারতে আসেন এবং এবসময় নিজেই হীরার ব্যবসা শুরু করেন। পরে একসময় তিনি গোলকুণ্ডার সুলতানের অধীনে চাকরি নেন এবং উজির পদে উন্নীত হন। তিনি সেসময় দক্ষিণাত্যের সুবেদার শাহজাদা আওরঙ্গজেবের নজরে আসেন এবং তার সহযোগিতায় আরো উন্নতি করেন।

সম্রাট শাহজাহানের ছেলেদের মধ্যে উত্তরাধিকার নিয়ে যুদ্ধ শুরু হলে, আওরঙ্গজেব দিল্লির মসনদ দখল করেন। সম্রাট হ্ওয়ার পর তিনি মীর জুমলাকে বাংলা ও উড়িষ্যার সুবেদার শাহ সূজাকে মোকাবিলা করার জন্য পাঠান। খাজোয়ার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে শাহ সূজা পালিয়ে যান। মীর জুমলা খাজোয়া থেকে তান্ডা, তান্ডা থেকে ঢাকা পর্যন্ত শাহ সূজার পশ্চাদ্ধাবন করেন। সূজা উপায় না পেয়ে ঢাকা থেকে পূর্ব সীমান্ত পার হয়ে আরাকান (বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চল) রাজার কাছে গিয়ে আশ্রয় পান। ঢাকায় পৌছার (১৬৬০) অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মীর জুমলা বাংলার সুবেদার নিযুক্ত হন। দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি প্রথমে রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনেন। উত্তরাধিকার যুদ্ধের কারণে বাংলার প্রশাসন এবং বিচার ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিলো। মীর জুমলা শুরুতেই প্রশাসন এবং বিচার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।

বাংলার শাসন ব্যবস্থা ঠিক করে মীর জুমলা কামরুপ, কুচবিহার এবং আসাম জয়ের জন্য অগ্রসর হন। আসাম জয় করতে যেয়ে মূঘল বাহিনী বর্ষার কারণে প্রচন্ড বিপদে পড়ে। বর্ষায় পথঘাট ডুবে যাওয়ায় সৈন্যবাহিনীর রসদ আসা বন্ধ হয়ে যায়। খাদ্যাভাব আর মহামারীতে কাবু সৈন্যদের উপর অসমীয়ারা রাতের বেলা চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকে। খাদ্যের অভাব এতটাই তীব্র ছিল যে সৈন্যরা যুদ্ধের ঘোড়াগুলি হত্যা করা শুরু করে। এভাবে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সেনা মৃত্যুবরণ করে। মীর জুমলা নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্ষা শেষ হলে আসামের রাজা আর মীর জুমলা এক শান্তিচুক্তি করেন। ফিরে আসার পথে খিজিরপুরে ৩০শে মার্চ ১৬৬৩ সালে মীর জুমলা মারা যান এবং আসাম মূঘলদের হাতছাড়া হয়ে যায়।

মীর জুমলা'র নাম ঢাকায় দু'ট রাস্তা এবং দু'টি সেতু নির্মানের সাথে জড়িয়ে আছে। সৈন্য, গোলাবারুদ দ্রুত চলাচলের জন্য এবং জনকল্যানে তিনি এগুলো নির্মান করেন। সড়ক দৃ'টির একটি ঢাকার সাথে এর উত্তরের জেলাগুলিকে সংযুক্ত করে, যা বর্তমানে ময়মনসিংহ রোড নামে পরিচিত। রাস্তাটি জামালপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। জামালপুরে একটি দূর্গ এবং টঙ্গীতে তুরাগ নদীর উপর টঙ্গী ব্রিজ তিনি তৈরী করেন। অন্য আরেকটি রাস্তা পূর্বদিকে প্রসারিত হয়ে ফতুল্লা (প্রাচীন নাম ধাপা) 'র সাথে ঢাকা'কে সংযুক্ত করে। ফতুল্লায় তিনি আরো দু'টি দূর্গ নির্মান করেন। রাস্তাটি পরে খিজিরপূর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। ফতুল্লার কাছে পাগলা ব্রিজ তিনিই তৈরী করেন। ঢাকা শহরে তার আরেকটি স্থাপনা হলো 'মীর জুমলা'র গেট' যা রমনা গেট নামেও পরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টি.এস.সি. থেকে আরেকটু সামনে তিন নেতার মাজারের কাছে এর অবস্থান। ঢাকার নিরাপত্তার জন্যই এটি তৈরী করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। ঢাকা শহরবাসী মীর জুমলার আরেকটি নিদর্শনের সাথে কমবেশী পরিচিত - কামান। এই কামানটি আগে ছিল বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের পূর্ব দিকে, বর্তমানে এর অবস্থান ওসমানী উদ্যানে।

(ক্রমশ....)

ঢাকা - ৪০০ বছরের পুরানো এক শহর - পর্ব ১
ঢাকা - ৪০০ বছরের পুরানো এক শহর - পর্ব ২
ঢাকা - ৪০০ বছরের পুরানো এক শহর - পর্ব ৩

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28804101 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28804101 2008-05-29 11:54:08
ঢাকা - ৪০০ বছরের পূরানো এক শহর - পর্ব ৩
ভগ্নপ্রায় বড় কাটরা (বাংলাপিডিয়া থেকে)

প্রাচীন ঢাকা শহরটি পাকুড়তলি'র (বর্তমান বাবুবাজার এলাকা) সীমিত এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছিল, মূঘল সুবে বাংলার রাজধানী হওয়ার পর শহরটি প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক প্রয়োজনেই প্রসারিত হতে থাকে। বুড়িগঙ্গার তীর ঘেষে গড়ে উঠা এই শহরটি সেসময় পশ্চিমে দূর্গ থেকে পূর্বে বর্তমানের সদরঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ঢাকা'র বিভিন্ন স্থানের নাম (যা এখনও আছে) থেকে এর বিকাশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। দেওয়ান বাজার, বকশী বাজার, মূগলটুলি, হাজারিবাগ, পিলখানা, অতীশখানা, মাহুৎটুলি ইত্যাদি নাম থেকে বুঝা যায় যে মূঘল সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তা এবং তাদের অধীনস্থ কর্মচারীরা এসব এলাকায় বসতি গড়ে তুলে। মূঘল প্রশাসনের হিন্দু কায়েৎ বা কায়স্থ (writer) দের আবাসস্থল ছিল বর্তমানের কায়েৎটুলি এলাকা। 'গঞ্জ' যুক্ত নামের স্হানগুলি গড়ে উঠে বানিজ্যিক প্রয়োজনে যেমন নবাবগঞ্জ, আলমগঞ্জ। বেঁচারাম দেউড়ি, মীর জামাল দেউড়ি ইত্যাদি দেউড়ি যুক্ত এলাকাগুলি গড়ে উঠে জমিদারী কর্মকান্ডের প্রয়োজনে। প্রাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন হিন্দু পেশাজীবিরা বাস করতো তাঁতীবাজার, শাঁখারিবাজার, বানিয়ানগর, গোয়ালনগর প্রভৃতি এলাকায়।

সুবেদার ইসলাম খান ঢাকা শহরে যে সব স্থাপনা তৈরী করেন, তার কোন কিছুই আর তেমনভাবে নেই। তিনি আফগানদের তৈরী করা 'ঢাকা দূর্গ' কে সংস্কার করে সুবেদারের বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করেন। এর আগে পর্যন্ত সুবেদাররা তাদের কাজের ধরন (সাময়িক ও বদলিযোগ্য) অনুযায়ী তাবুতে বাস করতেন। এই 'ঢাকা দূর্গ' এর অবস্থান ছিল বর্তমান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে, যদিও কালের বিবর্তনে এর আর কোন অস্তিত্ব নেই। এটি ইট নির্মিত ছিল নাকি মাটির সেটাও এখন আর স্পষ্ট নয়। সুবেদার ইসলাম খানের সময়ের আরেকটি স্থাপনা হলো বুড়িগঙ্গার তীরে চাঁদনী ঘাট। এখানে রাজকীয় নৌবহরের আনাগোনা ছিল এবং নৌসেনাদের অবতরনের ব্যবস্থা ছিল। সৈয়দ আওলাদ হোসেন লেনের মসজিদটি ইসলাম খান নির্মাণ করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়। রমনার একাংশ একসময় তার বংশের নামানুসারে মহল্লা চিশতিয়ান বলে পরিচিত ছিল। পূরান ঢাকার ইসলামপুর তার নামানুসারেই হয়েছে।

মূঘল আমলের ঢাকা (বাংলাপিডিয়া থেকে)

পরবর্তী সুবেদার শাহজাদা শাহ সূজা তার ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক কারণে সুবে বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে উড়িষ্যার রাজমহলে নিয়ে যান। এখানে বলে রাখা ভাল যে, শাহ সূজা একই সাথে বাংলা ও উড়িষ্যার সুবেদার ছিলেন। তিনি রাজধানী সরিয়ে নিলেও তার পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় ব্যাপক নির্মান কাজ হয়েছিল। তার সময়ের উল্লেখযোগ্য স্খাপনাগুলো হলো - বড় কাটরা, ধানমন্ডি ঈদগাহ, চুড়িহাট্টা মসজিদ, মুকিম কাটরা এবং হোসেনি দালান।

চকবাজার থেকে একটু দক্ষিন দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে শাহ সূজার বসবাসের জন্য ১৬৪৫ সালে তৈরী করা হয়েছিল বড় কাটরা। এটি তৈরী করেন তাঁর দেওয়ান মীর আবুল কাশেম। কিন্তু শাহ সূজা রাজমহলে চলে গেলে এটি ঢাকায় আগত বণিকদের থাকা-খাওয়ার জন্য দান করা হয়। কাটরা শব্দের মানে হলো সরাইখানা। এটি এখন ভগ্নপ্রায় অবস্থায় আছে। মীর আবুল কাশেম ঈদের সামাজ আদায়ের জন্য ধানমস্ডিতে একটি বড় ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৬৪৯ সালে মোহাম্মদ বেগ নামের এক মূঘল কর্মকর্তা চকবাজারের কাছে চুড়িহাট্টায় একটি মসজিদ স্থাপন করেন। নাওয়ারা'র (নৌবাহিনী) দারোগা মুহাম্মদ মুকিম ১৬৬১ সালে আরো একটি কাটরা বা সরাইখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এটির অবস্থান ছিল বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগারের পূর্বপাশে, কারাগারের প্রধান ফটকের ঠিক পিছনেই। কালের বিবর্তনে এটি ধ্বংস হয়ে গেছে। যদিও চকবাজারের এই অংশটি এখনও মুকিম কাটরা হিসেবে পরিচিত।

শাহ সূজার মা আর দুই স্ত্রী ছিলেন শিয়া মতালম্বী। ফলে তিনি ছিলেন শিয়াদের ব্যাপারে কিছুটা সংবেদনশীল। কথিত আছে শাহ সূজা সুবেদার নিযুক্ত হয়ে ঢাকা আসার সময় প্রায় ৩০০ জন শিয়া মুসলমান কে সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন। এদেরকে তিনি স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাসের ব্যবস্থা করে দেন। ১৬৪২-৪৩ সালে শিয়া সম্প্রদায়ের জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য সৈয়দ মুরাদ তৈরী করেন হোসেনী দালান।
(ক্রমশ....)

ঢাকা - ৪০০ বছরের পূরানো এক শহর - পর্ব ১
ঢাকা - ৪০০ বছরের পূরানো এক শহর - পর্ব ২
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28801183 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28801183 2008-05-22 10:33:49
কালপুরুষের বাসায় এ-টিমের জন্মদিনের পার্টি <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />
জন্মদিনের কেক - আইরিন সুলতানার সৌজন্যে এমন মজাদার একটা কেক খাওয়া হলো


কেক কাটা হচ্ছে - বাচ্চালোগ তালিয়া বাজাও


কেক কাটা ও খাওয়ার পর করমর্দন আরিফ ভাই আর কালপুরুষ'দা


চলছে বিকালের নাশতা - সমুচা, কাবাব আর কেক। পরে ছিল চা পান।


ব্লগাররা বৈকালিক নাশতায় ব্যস্ত



খাওনের আগে আর মাইরের পরে বিশ্বাসী - শামিম। পিছনে কেউ দেখে নাই


পার্টির বিশেষ আকর্ষণ ইউ.কে. থেকে আগত 'মানুষ' , সাথে তার বন্ধু


পরিচয় পর্ব - রাতমজুর


ওরা ৩ জন


উপস্থিত ব্লগারদের একাংশ


তাহারা দুইজনা


সুনীল'দা - যার আবৃত্তি আনন্দ দিয়েছে সবাইকে


পরিকল্পক ফটোগ্রাফার - কৌশিক


স্বর্ণালী সন্ধ্যা





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28800411 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28800411 2008-05-20 14:07:04
কালপুরুষের বাসায় এ-টিমের জন্মদিনের পার্টি <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />
যথাসময়ে বনানী পৌছালাম। এবিসি টাওয়ারের পাশ দিয়ে যখন যাচ্ছি, হেরে গলায় মিলিটারী ডাক শুনে তাকিয়ে দেখি ত্রি-রত্ন দাড়িয়ে - রাতমজুর, শামিম আর নাইম। জানালো আইরিনের জন্য ওয়েট করতেছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আইরিনের আগমন, হাতে ঢাউস সাইজের একটা বাক্স। বাক্সটা প্রথমে শামিম পরে রাতমজুরের হাত ঘুরে কালপুরুষের বাসায় নিত হলো। এরমধ্যে শামিমের হাতে ভোজবাজীর মতো আরো একটা ছোট বাক্স কোথা থেকে যেন উদয় হয়েছে। শুনলাম ওটাতে মালয়েশিয়ান চকলেট আছে।

বাসায় ঢুকে ব্লগার কৌশিক, শরৎ, পথিক, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বসে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে এলো সামী আর তার বন্ধু। সারিয়াও দেখলাম চলে এসেছে আগেই। শামিম একটা একটা করে চকলেট বরাদ্দ করলো সবার জন্য। এরপর আমরা সবাই মিলে ছাদে গেলাম। ফোন পেয়ে রাতমজুর গেলো 'মানুষ' কে আনতে। কালপুরুষ'দা এরমধ্যে দেখি বিকালের নাস্তার আয়োজন করে ফেলেছেন ছাদেই। সমুচা, কাবাব আর এ-টিমের জন্মদিনের কেক। পরে চা। এরমধ্যে আরো এক ভদ্রলোকের আগমন। জানালেন তিনি আসলে ব্লাঠক, সামী বললো ব্লগাঠক, মানে হলো ব্লগের পাঠক। নাম তার আসম। এরমধ্যে মানুষ ও চলে এসেছে। সবাই একে একে পরিচিত হলাম নতুনদের সাথে। আমরা যার যার নিক এবং আসল নাম বলছিলাম। ব্যতিক্রম একমাত্র প্রত্যৎপন্নমতিত্ব। বেচারা হাতে হারিকেন নিয়ে পাত্রী খুঁজতে খুজঁতে এমনই নাকাল যে শরমিন্দা হয়ে নিক না বলে পিতৃ প্রদত্ত নামটাই বললো। কিন্তু আসম ঠিকই ধরে ফেললেন এটা আসলে প্রত্যু আর তার জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছে রীতিমতো কমিটি গঠন করে। একচোট হাসাহাসি হলো এনিয়ে।

{পাঠক এইমাত্র বিদ্যুৎ গেল। আর মাত্র মিনিট দশেক আয়ূ। বাকিটা ছবি সহ আগামী কাল।}]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28800051 http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28800051 2008-05-19 23:13:54
ঢাকা - ৪০০ বছরের পূরানো এক শহর - পর্ব ২ ঢাকা নামের উৎপত্তি নিয়ে নানা মুনির নানা মত। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য মতামত গুলি হলো -
১. রাজা বল্লাল সেন একবার বেড়ানোর সময় এক জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে দেবী দূর্গার একটি বিগ্রহ (মূর্তি) খূঁজে পান। তিনি সে স্থানে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু বিগ্রহটি জঙ্গলে 'ঢাকা' বা লুকানো (গুপ্ত) অবস্থায় পেয়েছিলেন, তিনি মন্দিরটির নামকরণ করেন 'ঢাকেশ্বরী মন্দির' আর সেখান থেকেই জনপদটির নাম হয় ঢাকা।
২. এই অঞ্চলকে মূঘল সুবা বাংলার রাজধানী ঘোষনার পর সুবেদার ইসলাম খান আনন্দে 'ঢাক' (Drum) বাজানোর নির্দেশ দেন। কথিত আছে যে ঢাকের শব্দ যতদূর যায়, ততদূর পর্যন্ত তিনি তার রাজধানীর সীমানা নির্ধারণ করেন। এই ঢাক থেকেই ঢাকা।
৩. এই অঞ্চলে 'ঢাক' (Butea Frondosa) গাছ অত্যন্ত সহজলভ্য হওয়ায়, এই অঞ্চলোর নামকরণ করা হয় ঢাকা। এটি হচ্ছে আমাদের অতি পরিচিত পলাশ গাছ।
৪. প্রাকৃত উপভাষা (dialect) 'ঢাকা ভাষা' থেকে এই অঞ্চলের নাম ঢাকা।
৫. ডাক্কা মানে ফাঁড়ি (watch station), সেখান থেকে ঢাক্কা এরপর ঢাকা। শব্দটি প্রাকৃত উপভাষা থেকে নেয়া আর এর উল্লেখ পাওয়া যায় 'রাজতরঙ্গীনি' নামের এক বই এ। এলহাবাদের প্রাচীন শিলালিপিতে সমূদ্র গুপ্তের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য 'ডবাক' ই হলো ঢাকা।

১৬০৮ সালে ইসলাম খান ঢাকা অধিকার করা