আগে টেনিস (আমি বলি -পড়ে গেলে টেনে তুলিস ) র্যাকেট দিয়ে আমরা কিরকেট আর কিরকেটের ছোটভাই ব্যাড-মিন্টু-নকে একসাথে করে একটেল মানে ককটেল বানাইয়া টেনিস খেলতাম। সামুতে সেটা নিয়ে একটা পোষ্টও মনে হয় দিছিলাম। কিন্তু গতবছর থেকে গলফ ( যেইডা মূলত- গল্প করতে করতে ঘাসের কলপ করা ) খেলার বদ-অভ্যাস হইছে।
হঠাৎ করে কয়েক বল্টু মিলে ডিসিশান নিছে গলফ খেলবে।বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের সীমানা যেমন দেশের উন্নয়ন না করে কাঁদা ছোড়াছুড়িতে সীমাবন্ধ তেমনি আমার গলফ জ্ঞানও টিভিতে দেখা পর্যন্ত। কিন্তু আশার (এইডারেও কেউ আবার চান্তেকের নাম মনে কইরেন না ) কথা হল নয়া নয়া এক্সপেরিমেন্ট চালাইতে আমি আবার কু-খ্যাত। কেউ যদি আমারে তার ব্র্যান্ডনিউ মার্সিডিস এসএলআর দিয়ে একটা টেষ্ট ড্রাইভ দিতে বলেন, তাহলে আপনি একশ ভাগের তিনশকুটিবার নিশ্চিত থাকেন যে আপনার সুন্দর গাড়ি নিয়ে আমি সাধারন রোডেতো ড্রাইভ করবই, সাথে বোনাস হিসাবে আপনার গাড়ী নিয়ে সোজা কর্মদাক্ত মাঠে গিয়ে পরীক্ষা করব যে আপনার গাড়ি হাল-চাষের জন্য কতটুকু উপযুক্ত। শত হলেও বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ।
খেলতে গিয়ে দেখি আবার গলফ কার্ট নাই। ঠিক হ্যায়। এই রোদের মধ্যে হাঁটতে হবে। তবে এইরাম সুন্দর ঘাসের উর্পে মানুষের দপাদপি দেখে ঘাসের দুঃখে আমার বুকডা ফাডি যাইতে লাগছিল। বুকডারে কুন মত লাছা দিয়ে মেরামত করে প্রথম স্ট্রোক খেলেই দেখি বল বাবাজি লাল দোপাট্টার মত আফসুস খাইতে খাইতে হ্যাজার্ডে গিয়ে শহীদ হয়ে গেছে। সেই বল জঙ্গল থেকে খুঁজে পেতে ১০ মিনিট লাগছে। পরের স্ট্রোক খেলার আগে চিন্তা করলাম গলফ খেলতে এসে যদি অন্তত একটা ক্লাব না ভাঙ্গি তাইলেতো গলফ খেলাটাকেই অপমান করা হয়। মানুষ হয়ে আমি একটা খেলাকে কিভাবে অপমান করি!!! সুন্দরমত পরের স্ট্রোকে বলকে হিট না করে মাটিকে গায়ের পুরা শক্তি দিয়ে হিট করলাম কিন্ত বেদ্দপ গলফ ক্লাবটা হিটের জ্বালায় ফিট না খেয়ে আমারে আফসুস খাওয়াই দিল। আমার কোচ আছিল আমাগো জার্মান বন্ধু লরেন । তার মুখ দেখে বুঝলাম আমার বেমৎকার খেলা দেখে সে মুখের ভাষার সাথে সাথে কানের, চোখেরসহ মাথার ভাষাও হারাই ফেলছে । আরও বুঝলাম আমি এইরাম খেলা কন্টিনিউ করলে সে খুব শীঘ্রই দুনিয়াতে থেকে হারাই যাইপে। তপে খালি চোখ কট-কট করে বলল-
- তুই কি গলফ খেলতে আইছস নাকি হকি খেলতে আইছস। তোর ব্যাকসুইং এত জঘন্য কেন ?
এরপরে লরেনের মেলা লেকচার শুনে খেলা প্রায় শেষ হওয়ার আগে কইলাম-
-দোস্ত, জীবনে একখান শখ আছিল যে গলফ কোর্সের ওয়াটার হ্যাজার্ডে সাঁতার কাটব। কিন্তু আফসুসের কথা হইল এই ওয়াটার হ্যাজার্ডে সাঁতার কাটা এলাউড না আর এই ছোট ডোবায় সাঁতার না কাটার চেয়ে এডির পানি দিয়ে ভাল আতঁর বানানো যাপে । আর তুমার এতডি উপদেশের জন্য তুমারে আমি এই ডোবায় চুবাইতাম চাই
তবে সবচেয়ে ভয়ানক কথা হইল ৬৯ পারের কোর্সে (৯ হোলস) আমি পারের চেয়ে একশট কম (Birdie ) খেলে খেলা শেষ করছি
"একবার না ভাঙ্গিলে দেখ কুটিকুটি হাজার বার
কুটিবার চেষ্টা করিলে অন্তত ভাঙ্গিপে শতবার"
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



