আমার প্রিয় পোস্ট

আমি তোমাদের চোখ হব

২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৩৬

শেয়ারঃ
0 4 0



পনেরই অক্টোবর ছিল দৃষ্টি দিবস। নাহ... কোন দিবস পালনের প্রতি আমার কোন প্রীতি নেই। তারপরো কোইন্সিডেন্ট ছিল , মিরপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশন ইন্টিগ্রেটেড স্কুলে গিয়েছিলাম একজন কে নিয়ে । প্রায় আশি জন বিভিন্ন বয়সের মেয়েদের আবাসিক স্কুল। ভিন্নতা , সবাই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।

ভেতরে ঢোকার পারমিশন নেই বহিরাগতদের। কিন্তু আমি ঘুরে দেখে আসার পারমিশন পেয়েছিলাম... সাথের জনের সব কিছু বুঝিয়ে দিয়ে ওকে রেখে আসাটা প্রধান উদ্দেশ্য। এবার ভর্তী পরীক্ষা দিতে অনেক অনেক বাঁধা অতিক্রম করে বেলতৈল গ্রাম থেকে ও এসেছে ঢাকায়... এখন ওর দায়ীত্ব বলা যায় আমার/আমাদের।

সব সময়ই এই জায়গাটায় অনেক আবেগ নিয়ে কাজ করতে হয়। আমার মানসিক শক্তি শূন্যের কোঠায়। অনেক অযোগ্যতা , অক্ষমতা স্বত্বেও এটা এখন অবভিয়াস যে আমাকে ওদের সাথে থাকতেই হবে ।

অন্যরকম কিছু ......

আমি যখন যাই ভেতরে , দুপুরের খাবার জন্য সবাই নিচে আসছে...
আমার চার পাশে অনেক অনেক মেয়ে...... ছোট ছোট মেয়েরাও ... ... সামনের খোলা জায়গাটায় দৌড়ে যাচ্ছে , খেলছে ...... আবার হাত ধরে একসাথে তিন চারজন , গল্প করতে করতে আসছে....
আমি জানি ওরা দেখছেনা আমাকে। না জানলে আমি বিশ্বাস হয়তো করতামনা ওদের সামনের সব কিছুর রঙ ই কালো! আমি সত্যি বিশ্বাস করতাম না... কি সাবলীল , পরিচিত আঙ্গিনা... ওদের স্কুল এটা। ওরা এখানে পড়াশুনা করছে আর দশটা সাধারণ ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা গুলোই ! কিন্তু আমি জানি , একি রকম শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পর ও ওরা কাজ করার সুযোগ সেভাবে পাবেনা।

আয়না

এই রুমটা বড় মেয়েদের ... সবার বিছানা পরিপাটি করেই গুছানো।
গোসল সেরে খেতে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে... চুল শুকাচ্ছে ... তারপর হাতে চিরুনী নিয়ে উঠে গেল দেয়ালের কাছে। নাহ, ওখানে কোন আয়না নেই! কিন্তু ঠিক একটা অদৃশ্য আয়না কল্পনা করে চিরুণি চালাচ্ছে চুলে। আমার অনেক অদ্ভুত লাগে। আরো একজন ঠিক একি কাজ করলো , তবে ও দাড়ালো জানালার সামনে... উজ্জ্বল আলো হয়তো ওর চোখের অনুভূতিটা বাড়িয়ে দেয়! আমার অনেক অনেক অদ্ভুত লাগে!

এই কিছুদিন আগে...

বদ্রুন্নেসা কলেজে পড়ছে এমন ছয় জন দৃষ্টিহীন মেয়ে প্রতিদিন ভোরে মিরপুর থেকে রওয়ানা দেয় কলেজের উদ্দেশ্যে। আবাসিক এই কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়া স্বত্বেও ওরা কেউই হোস্টেলে সীট পায়নি। একজন জানালো , ও কত কেঁদেছে একটা রুমের জন্য!
আমি চুপ হয়ে শুনি... আরেকজন জানালো ভোরে কিছু না খেয়েই বের হয়ে আসতে হয় ওদের। বাস ধরে আসবে, তাই নাস্তার সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করাই যাবেনা। ক্লাস শেষে বিকেলে ফিরবে। ততক্ষন না খাওয়া । দুই -একজন ক্যান্টিনে হালকা নাস্তা খেলেও বাকিরা জানালো বড় হিসেব করে চলতে হয় তাদের। তাই খাবার কেনার বিলাসিতা ওরা করতে পারেনা ! একসাথেই ওদের থাকতে হয়, নিরাপত্তার প্রশ্ন! ছয়জন অন্ধ কিশোরী ... উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী , যাদের ঢাকায় তেমন কেউ নেই। কলেজের মাঠে বসে ওদের সব জানা হয়.....স্ট্রাগল আর ডেডিকেশন ওদের অনেক দূর নিয়ে যাক, আমি এই দোয়াটাই করতে থাকি।


আমাদের সাহায্য ছাড়া ওদের জীবন থেমে যাবে , তা নয় । খুব একটা কঠিন ও হবেনা কিন্তু মানুষের মত বাঁচার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে!

শিখতে ওদের কোন দ্বিধা নেই ... জানতে ওদের কোন অনাগ্রহ নেই ... কাজ করতে ওদের কোন অনীহা নেই ,শুধু যদি ওদের কাছে গিয়ে বলা যায়ঃ শোন ,আমি তোমার চোখ হব !!


 

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০১০ বিকাল ৪:৩৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৪১
ফারহান দাউদ বলেছেন: কারো চোখের সামনে সব কালো, ব্যাপারটা কতটা ভয়াবহ এটা কল্পনা করাও অসম্ভব। এদের মনের জোর দেখে অবাক হই, কতটা ইচ্ছাশক্তি থাকলে এটা সম্ভব? তারচেয়েও ক্ষুব্ধ হই আমাদের তথাকথিত সুস্থ মানুষের ওদের প্রতি আচরণ দেখে।
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:১৮

লেখক বলেছেন: হু ... একবার ওদের কাউকে নিয়ে রিকশা থেকে নামছিলাম... কিছুটা ধীরে..। দাড়িয়ে থাকা থাকা গাড়িটার ভদ্রলোক ভীষন বাজে ভাবে বকা ঝকা করে ঊঠেছিলেন......
হয়তো ব্যাপার ... কিংবা ব্যাপার না !

২. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৪৪
সত্যান্বেষী বলেছেন: লেখক বলেছেন: 'আমি আর সিমি এই দোয়াটাই করতে থাকি।'

দোয়া কার কাছে করেন? যে মেয়েগুলোকে অন্ধ করে রেখেছে, তার কাছে কি?
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:৩০

লেখক বলেছেন: ...... বা যে আমাকে অন্ধ করে রাখেনি , তার কাছে !

৩. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৫৯
ভেবে ভেবে বলি বলেছেন: একেকটা মানুষের জীবন যে আসলে কত কষ্টের, তা এই মানুষগুলোকে না দেখলে বোঝা যায় না। কত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ব্যাপার নিয়ে আমরা নিয়ে কত মাতামাতি করি, এটা নেই ওটা নেই বলে আমাদের লম্ফঝম্প... একবার কি কেউ ভেবে দেখেছি যে জীবনের স্বরূপ আসলে ঠিক কেমন?

অনেক কষ্ট হলো লেখাটা পড়ে।
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:৩৭

লেখক বলেছেন: করনীয়টা খুজে বের করে নিতে পারলে... কষ্ট টা পরিনত হবে সন্তষ্টি আর আনন্দে

২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৯

লেখক বলেছেন: উহু ...... এমন ইমো না দেন !!! :-)

৫. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:০০
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: "করনীয়টা খুজে বের করে নিতে পারলে... কষ্ট টা পরিনত হবে সন্তষ্টি আর আনন্দে "

আমি আমার লিভার, চোখ, কিডনী, ফুসফুস মরোনত্তর দান করে যেতে চাই। ধর্ম ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নামে দেহটা কবরে পচানোর চেয়ে, মানুষের জীবন ও মানবতার জন্য দান করে যাওয়া মহত্তর এবং বিনা কষ্টে সন্তুষ্টি ও সুখ পাওয়া যাবে।
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৮

লেখক বলেছেন: শুভ চিন্তা!
তবে আমি যাদের কথা বললাম, ওদের দৃষ্টিশক্তি কখনো ফিরবেনা। চোখ হতে হবে ভিন্ন ভাবে...... হয়তো জানেন , ওদের পরাশুনায় স্বাভাবিকদের সাহায্য করতেই হয়, বিশেষ করে আন্ডারগ্র্যাড লেভেল এ, সেই পর্যায়ে কোন বিষয়ে ব্রেইল বই নেই। ওদের পড়া রেকর্ড করে দিতে হয়, তবেই ওদের শেখা হয়। এসাইন্মেন্ট তৈরী করে দেয়া , পরীক্ষা দিয়ে দেয়া...... এমন আরো অনেক কিছু ।

ধন্যবাদ ভাইয়া।

৬. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:২১
রুদমী বলেছেন: ওদের মনের জোড় দেখলে অবাক হতে হয়। জীবনের একটা কঠিন সত্যকে মেনে নিয়ে জীবনটাকে অর্থবহ করে তোলার কি আপ্রাণ চেষ্টা!!

সত্যিই যদি ওদের কারো চোখ হতে পারতাম।আল্লাহ ওদের সহায় হোন আর আমাদের দিক এই মানুষ গুলোর সাদা লাঠি হবার সৌভাগ্য!
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৫১

লেখক বলেছেন: একটা অদ্ভুত ব্যাপার কি জানো রুদমী ? ওদের মনে আমি আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাই দেখেছি! ঢাকা ইউনির ফোর্থ ইয়ারের একজন ছাত্রী যে কিনা আল্লাহকে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানায় তাকে এই পরীক্ষাটা দেবার জন্য।

তোমার শেষ লাইনগুলো অনেক সুন্দর।

৭. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:৪৫
জনৈক আরাফাত বলেছেন: মাঝে মাঝেই ভাবি, যেন আমি দেখতে পাচ্ছিনা।
যেন মৃত্যু এসেছে!
-------------------------------------------------
ভাবতেই গা শিউরে ওঠে! বদরুন্নেসা'র ছয় মেয়ের মানসিক সক্ষমতা স্যালুট করার মত!

তাদের জন্যই একটা কথা প্রচলিত- “Ignorance in ability brings disability!”
-------------------------------------------------
পোস্টের জন্য ধন্যবাদ। :)
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৯

লেখক বলেছেন: “Ignorance in ability brings disability!”


চমতকার কমেন্টের জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা!

৮. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৬
তাজা কলম বলেছেন:
সুন্দর পোষ্ট।
অন্ধরাও তাদের মানস চোখে দেখতে পায় আমাদের চেয়েও ভাল।
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৯

লেখক বলেছেন: ..... আরো অনেক পরিচ্ছন্ন ভাবে !

৯. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:২৩
ভেবে ভেবে বলি বলেছেন: ২ নম্বর কমেন্টের রিপ্লাইটা চমৎকার হয়েছে! গ্রেট! :)
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:৪১

লেখক বলেছেন: ভেবে ভেবে বলা ......

১০. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৩
নাজনীন১ বলেছেন: এদের লেখাপড়াটা হয়তো কোনভাবে চলে, কিন্তু চাকরী বা ব্যবসা করাটা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে যায়, অনেকেই চাকরী দিতে চায় না। আমি একবার আমার হলের এক আপুর পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দেখেছি, হতাশ হয়েছেন আপু ঢাবি থেকে পাশ করেও চাকরী পাচ্ছেন না শুধু এই অন্ধত্বের কারণে। তাদের আন্দাজ ক্ষমতা আমাদের চেয়ে অনেক ভাল, আমি প্রায়ই তাদের চলাফেরা লক্ষ্য করতাম। আল্লাহ, সবাইকে জীবন পরীক্ষায় সফলতা দান করুক।
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:৪৫

লেখক বলেছেন: খুব খুব সত্যি কথা !!!!

১১. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:২১
মন মানে না বলেছেন: তোমার ব্লগে আর আসিব না !
দুঃখ আর ভাল্লাগে না !
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:৪৮

লেখক বলেছেন: না আসিলে দুঃখ পাইবো !

১২. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:৪৮
সাইফুর বলেছেন: এভাবে চিন্তা করিই নাই

কিছুটা ফিল করতে পারছি
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ !! এটাও কম প্রাপ্তি না ......

১৩. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:৫১
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: ব্লগে আসা হয় মূলত পড়তে।
লেখক নই।
পারিনা আসলে লিখতে !


কথাটা মুছে ফেলার টাইম হয়ে গেছে!

যাই হোক, এমন একটা জায়গায় আছি যেখানে কোনো সমস্যা নাই, তাই লোকজনের খুব একটা মাথা ব্যাথা নাই। সরকারের তেমন কোনো কাজও নাই। শুনেছি একসময় এরা নাকি নারীদের উপর চরম জুলুম করেছিলো, সেটা হয়তো ১৭, ১৮ শতকের দিকে। তাই এখন এরা কিছু ব্যাপার নিয়ে মেতে আছে একটা হলো প্রতিবন্ধী, দ্বিতীয়টি শিশু আর তৃতীয় হলো নারী!

একবার আমাকে একজন বুঝিয়েছিলো সমস্যা যতো আছে কাজ করার সুযোগ তত বেশী, ব্যাবসা করার সুযোগ তত বেশী, কথ বলার সুযোগ তত বেশী, ফায়দা লোটার সুযোগ তত বেশী, সমালোচিত হবার সুযোগও তত বেশী আবার সোয়াব কামাবার অনন্ত সুযোগও বর্তমান। পুজিবাদ আমার খুব ভালো লাগে, কারন আবেগ এখানে কাজ করে না, কাজ করে লজিক আর পুজি দিয়ে সমস্যার সমাধান।

অনেক কিছুই করার আছে আমার দেশের জন্য, অনেক সুযোগও আছে, কিন্তু দেখো আমি এতগুলো কথা বললাম, কিন্তু কিছুই করলাম না। এজন্যই আমি হয়তো সুশীল বাঙ্গালী!
৩০ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:২৫

লেখক বলেছেন: ' বোতাম আটা জামার ভিতর শান্তিতে শয়ান' ....... না ! আমরা এমন না হই ! বুঝতে পারলে কেন আমরা সুশীল বাংগালী হব ?

কোন দিন এমন কিছু যদি লিখতে পারি , যেটা একটা পরিবর্তন এনে দিয়েছে সবার মধ্যে । যেটা পড়ে সবাই তব্ধা খেয়ে যাবে !
অদ্ভুত একটা ভালো লাগা আমার হবে...... সেদিন প্রোফাইলের ওই লেখাটা মুছে দেব !সত্যি ই ...

আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা !

১৪. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৪৮
সত্যান্বেষী বলেছেন: ' ...... বা যে আমাকে অন্ধ করে রাখেনি , তার কাছে !' দুটোই সত্য। বাকচাতুরতা দিয়ে ঈশ্বরের নির্মমতা ঢাকা কখনোই সম্ভব নয়। আপনার চোখের জন্য তিনি যেমন প্রশংসার দাবীদার আবার এদের চোখহীনতার জন্যও তিনি ঘৃণা পাত্র। তাই আমি তাকে কখনো প্রশংসা করি, আবার কখনো তার উদ্দেশ্যে থুথু ছিটাই।
৩০ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:০৬

লেখক বলেছেন: যাকে তিনি দৃষ্টিশক্তি দেননি , সেও কৃতজ্ঞ থাকবে এই জন্য যে সে শ্রবনশক্তি সম্পন্য! সৃষ্টি কর্তাতো তাকে বধির ও করে তৈরী করতে পারতেন !একজন বধির ও অন্ধ ... সেও কৃতজ্ঞ হবে বাকশক্তির জন্য !!
কিছু না দিলেও কৃতজ্ঞ আমাকে থাকতে হবে এই আমিত্ব অনুভবের জন্য!
সব কিছুই অনেক আপেক্ষিক সত্যান্বেষী ভাই! তাই ঘৃনার কোন প্রশ্ন নেই !! অসম্ভব ......

১৫. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৬
সিমিন বলেছেন: ধন্যবাদ। তারপর ?
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৬

লেখক বলেছেন: তার কোন পর নেই !

১৬. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৪
খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানী বলেছেন: ' ...... বা যে আমাকে অন্ধ করে রাখেনি , তার কাছে !' - চিন্তাটির সাথে ঠিক একমত পোষণ করতে পারছি না। কারণ এর লজিকটি একজন অন্ধের জন্য স্বাভাবিকভাবেই উল্টো হয়ে যাচ্ছে, সে তাহলে ঈশ্বর বা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারছে না। সোহায়লা পরে বলেছ করেছ যে সে তার শ্রবণশক্তি বা অন্য ক্ষমতার জন্য কৃতজ্ঞতার কথা বলতে পারে, হযরত ওমর (রা:) ও এরকমের যুক্তি দিয়েছিলেন বলে পড়েছি। আবার কেউ কেউ প্রতিবন্ধীদেরকে দেখে নাস্তিকতার দিকেও চিন্তাকে নিয়ে যান। কিন্তু আমি আমার সামগ্রিক দর্শনে এ দুটিকেও মেনে নিতে পারছি না। তাহলে পৃথিবীতে মানুষের নানা ধরণের দু:খ, জরা, শারীরিক অক্ষমতার উপস্থিতিকে স্রষ্টার করুণাময়ী অস্তিত্বের সাথে কি ভাবে মেলাব?

আমাদের বড় বোন ছিলেন মানসিক প্রতিবন্ধী, আজীবন তাকে দু বছরের শিশুর বুদ্ধিতে দেখেছি, গত ২০০৪ সালে ৬৬ বছর বয়সে আল্লাহ তাকে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। শুনেছি ছোটবেলায় তার টাইফয়েড হয়েছিল। এখনকার বৈজ্ঞানিক তত্বে মনে হয় উচ্চ তাপমাত্রায় তার মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়ে গিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা হত, আল্লাহ তাকে এমন করে কেন রাখলেন, তিনি কি দোষ করেছিলেন?

এ সব বিষয়ে আমার মৌলিক কিছু চিন্তা এখানে তুলে ধরছি, আগে কখনও তা প্রকাশ করি নি।

আমরা আশে পাশে অন্য মানুষের কষ্ট, বিশেষ করে প্রিয়জনের কষ্ট যখন দেখি, তখন স্বাভাবিকভাবে একটি সমব্যথা বা সহমর্মিতার ভাব আমাদের মধ্যে তৈরী হয়, যাকে আমি একটি 'সহমর্মিতার রস' হিসেবে আপাতত: আখ্যায়িত করছি (এ ব্লগেও যারা মতামত দিয়েছেন, তাদের সবার মধ্যেও সেই 'সহমর্মিতার রস' এর চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি)। এ মানসিক রস আমদের মধ্যে যখন তৈরী হয়, সেটি কেবল যাকে দেখে তৈরী হয়েছে তার জন্য সীমাবদ্ধ থাকে না, এর ফলাফল আশে পাশের সমাজের সবার উপরেও কিছু না কিছু পড়ে। তার ফলে সুন্দর এক সহমর্মিতার সমাজ তৈরী হয়।

স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব বারডেমের অধ্যাপক ইব্রাহিম তার রোগীদেরকে বলতেন, "আপনি আমাকে সেবা করার যে সুযোগ দিয়েছেন এজন্য ধন্যবাদ।" আমার মনে হয় প্রতিবন্ধীরা আমাদের ভিতর যে সহমর্মিতার রস জাগিয়ে তুলছেন, যার ফলে একটি সুন্দর সমাজ তৈরী হবার সুযোগ হয়েছে, তার জন্য তারা ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। তবে প্রশ্ন থেকে যায় তারা যে কষ্ট পাচ্ছেন তার লাঘব হবে কি ভাবে? আমার বড় বোনের কথায় ফিরে আসি। চিরকাল তিনি শিশুর মতই রয়ে গেছেন, তিনি তার কষ্ট কতটুকু নিজে অনুভব করেছেন জানি না।

আমার মনে হয় যিনি প্রতিবন্ধকতার মধ্যে আছেন, বা কষ্টের ভেতরে আছেন, আল্লাহ তার ভিতরে এক শক্তি তৈরী করে দেন সে প্রতিবন্ধকতা বা কষ্টকে আপন করে নেয়ার, কষ্টকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিয়ে যে ক্ষমতাগুলো অটুট আছে তা নিয়ে নিজের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। ব্লগে অনেকের অভিজ্ঞতাতেও কিন্তু সে কথা ফুটে উঠেছে। হেলেন কেলারের অবিস্মরণীয় জীবনের কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এঁরা আশে পাশের মানুষের মধ্যে 'সহমর্মিতার রস' তৈরী করতে বিশাল ভুমিকা রাখছেন, যা একটি সুন্দর সমাজের জন্য বিরাট পাওয়া। যদি তাঁরা না থাকতেন, তাহলে আমরা হয়ত ধীরে ধীরে অমানুষ হয়ে যেতাম। যে শিশু বিশাল বিত্তের পরিবেশে বড় হয়, চাইলেই সবকিছু যার হাতে সহজেই চলে আসে, দেখা যায় বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সে বড় হয়ে স্বার্থপর হয়ে ওঠে, কারও সঙ্গে কোন জিনিস স্বাভাবিকভাবে 'শেয়ার' করতে পারে না। অন্যদের দু:খ কষ্টের প্রতি সে তেমন সহানুভুতিশীল হয় না।

এক অর্থে আমাদের সবার মধ্যেই কিন্তু কিছু না কিছু দৈন্য আছে, অক্ষমতা আছে, তাকে মেনে নিয়েই আমার অন্য ক্ষমতাগুলোকে অবলম্বন করেই আমরা এগিয়ে যাই। তাই সে অর্থে আমরা সবাই কিন্তু প্রতিবন্ধী, আর এর ফলেই তৈরী হয় সামাজিক বৈচিত্র, যার দরকার সমাজে সবসময়ে। এর জন্যই আমাদের কেউ গণিতে পারদর্শী, কেউ বা বিজ্ঞানে, কেউ বা সাহিত্যে, কেউ খেলাধুলায় বা অন্য কিছুতে। বৈচিত্র ভরা মানুষের কারণেই পৃথিবীতে মানুষের গর্ব করার মতা যা কিছু অর্জন। তাই যাকে আমরা প্রতিবন্ধী হিসেবে দেখছি, তাকে সে প্রতিবন্ধকতার কথা মনে করিয়ে না দিয়ে তার যে ক্ষমতা অটুট আছে তাকে ভর করে এগিয়ে যাওয়ার উদ্দীপনা দিতে হবে, তার নিজের শক্তির উপর ভর করে চলার সাহস দিতে হবে। কিন্তু তার প্রতি সহানুভুতি দেখানোর জন্য আলোচনা করব, কার্যক্রম নেব - তার অনুপস্থিতিতে, তার পেছনে। সামনাসামনি তাকে করুণা দেখানো কখনোই উচিত নয়। তাই হয়ত হযরত ওমর (রা:) প্রতিবন্ধীর সামনে একজন করুণা দেখালে বলেছিলেন যে তার অন্য যে ক্ষমতা ঠিক আছে তার জন্য কি সে কৃতজ্ঞ থাকতে পারে না? অর্থাৎ কি কথা বলব, বা কথাটি কি ভাবে বলব তা নির্ভর করবে আমি কখন কোথায় কার সামনে বলছি।
০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩২

লেখক বলেছেন: প্রতিবন্ধীদের সামনে করুণা দেখানোর বা আহারে করার আমিও পুরোপুরি বিরোধী, এই জিনিশটার তো আসোলেই কোন দরকার নেই ! কৃতজ্ঞতা বোধের যে ব্যাপারটা বলতে চেয়েছি , প্রথম মন্তব্য-জবাব টা আসোলে কথা পিঠে কথা হয়েছে , যেটা আমি পরে হয়তো সমাপ্ত করার চেষ্টা করেছি। প্রতিটা মানুষ ই তার প্রাপ্ত সিস্টেমে অভ্যস্ত , সেটা যাই হোকনা কেন...... আমই বা আমরা শুধু তাদের আরো বেশী মানবিক ভাবে যোগ্যতা বিকাশে সাহায্য করতে পারি। ঊমার (রা) এর ওই কথাটা মনে আছে স্যার ...... আমার পরের মন্তব্যটার সময় সেটা মাথায় ছিল ...... যদিও সে সময় উমার এর নাম মনে ছিলনা! আমি ভাবছিলাম এভাবে বুঝি মুহাম্মদ (সা) ই বলেছেন ! তাদের মাঝে মাঝে করূণা ও যেন পেতে হয় , আমার গত তিন দিনের অভিজ্ঞতা সেরকম ই বলে... ইনশাল্লাহ কালকে স্যার দেখা করার চেষ্টা করবো ...... তখন বিস্তারিত বলবো !
স্যার , আপনার সুচিন্তিত আর অনেক ভাবনার খোরাক জাগানো মন্তব্যের জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা !! আমি এখান থেকে অনেক কিছুই শিখেছি......

১৭. ১০ ই নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৭
মুনিয়া বলেছেন: ভাল লাগল লেখাটা। সেন্সিটিভিটি কমে গেছে মনে হয় যদিও।
আপু কেমন আছেন?
১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৯

লেখক বলেছেন: ভালো আছি মুনিয়া , তুমি ?

১৮. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০৬
রহমানরক্তিম বলেছেন: আসুন সবাই পাশে দারাই...
২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৮

লেখক বলেছেন: ঈদের শুভেচ্ছা তোমাকেও বিবেক।

২০. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৫
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

আমাদের সাহায্য ছাড়া ওদের জীবন থেমে যাবে , তা নয় । খুব একটা কঠিন ও হবেনা কিন্তু মানুষের মত বাঁচার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে! শিখতে ওদের কোন দ্বিধা নেই ... জানতে ওদের কোন অনাগ্রহ নেই ... কাজ করতে ওদের কোন অনীহা নেই ,শুধু যদি ওদের কাছে গিয়ে বলা যায়ঃ শোন ,আমি তোমার চোখ হব !!

দারুণ ।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫৫

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শিপন ভাই ! পুরোনো লেখা কেউ পড়ে গেলে অসম্ভব ভালো লাগতে থাকে ! :-)

শুভকামনা আপনার জন্য !

২১. ১৫ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:১১
ওমর নাসিফ বলেছেন: তোমার অনুভূতি আর বিশ্বাস ঠিকরে পড়ছে লেখাটার প্রতিটা লাইন থেকে।
আর সে জন্যই মনে হয় খুব শিহরিত হলাম
এবং
প্রিয়তে নিলাম।
১৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:১৮

লেখক বলেছেন: নাসিফ , যেইন ভিখার ওই গানটা শুনে তুমি কি কেঁদেছিলে ? কাঁদো ? আমি পারিনা চোখের পানি ধরে রাখতে ......
কয়েকটা লাইন এখানে দেই ......

I stopped to buy some candy; met a boy who had such charm. We talked, he seemed so happy, if I were late, it do no harm. And as I left, he said to me, 'Thank you, you've been so kind. It's nice to talk with folks like you. You see,' he said, 'I'm blind.' Oh Allah, Oh Allah, forgive me when I whine. I have 2 eyes to see the world and the world is mine.

আমি ওদের সাথে এতো সময় কাটিয়েছি , কাটাই ......... শুধু কৃতজ্ঞতা জানাতে !
অন্ধ জনে দেহ আলো , এটাই আমার ভাষায় ...... চল, ওদের চোখ হই!

কেউ হয়তো গভীর আবেগে বলবে ,

আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছিল চাঁদ

দেখতে না পাওয়া মানুষগুলো মোটেই অন্ধ না! অন্ধ আমরা , যাদের দৃষ্টি তাদের মনকে ছূঁয়ে যায়না , কিংবা তাদের মন তাদের বিবেক কে স্পর্শ করেনা! অন্ধ সে যে কৃতজ্ঞতা জানানোর আসল ভাষা টা জানেনা!

ধন্যবাদ বন্ধু

২২. ১৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:১১
ওমর নাসিফ বলেছেন: Oh Allah, Oh Allah, forgive me when I whine. I have 2 eyes to see the world and the world is mine.

With all my infatuation and passion, whatever you say, I felt how lucky I am to see the world, and simultaneously, how unthankful to Allah who gave me the bestest of all the privileges, the ability to see...

সোহা, মজিদ মাজিদীর Colour of Paradise মুভিটা দেখছ? না দেখলে আজকেই দেখ, এক্ষুণি! আমার কাছে DVD টা আছে। চাইলে ধার দিতে পারি B-))
১৬ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৯

লেখক বলেছেন: কালার অফ প্যারাডাইস আমি তখন দেখেছি যখন আরবের লোকেরা গুহায় বাস করিত ! :-)
থ্যাঙ্কস!

৩০ শে মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নাবিলা :-)

২৪. ৩০ শে মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৭
রংধনুর সাত রঙ বলেছেন: Thanks for nice writing...........Good wish for them
৩১ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ৭:১৭

লেখক বলেছেন: Thanks to you too.

০১ লা জুন, ২০১০ রাত ১০:৩৫

লেখক বলেছেন: ভাল থেকেন অরুদ্ধ সকাল।

২৬. ০২ রা জুন, ২০১০ রাত ৯:৫৯
বিবেক সত্যি বলেছেন: আমি তোমাদের চোখের আলো হব (কথার কথা :-( আমাকে দিয়ে আসলে কিছুই হবেনা... তবুও একটা আবছায়া ইচ্ছা....)
০৪ ঠা জুন, ২০১০ রাত ১২:৩৫

লেখক বলেছেন: ইচ্ছেটাই কম কি বিবেক? আবছায়া ইচ্ছেটা একদিন স্পষ্ট একটা ছায়া হবে ভিষণ সূর্যের আলোতে, তারপর একদিন ছায়াটা নরে চড়ে উঠবে ... ... তারপর ছায়াটা সত্যি হয়ে যাবে একদিন! আমি জানি :-)

১৩ ই জুন, ২০১০ রাত ২:৫২

লেখক বলেছেন: আপনিও চোখ হয়ে যান কারো ! তার ও হৃদয় ছুঁয়ে দিন !!! অনেক অনেক প্রশান্তি :-)

২৮. ২০ শে মে, ২০১১ রাত ৩:৪৭
শিশিরের বিন্দু বলেছেন: খুব ভালো লাগলো আপি। ইচ্ছে হচ্ছে আমিও কারো চোখ হয়ে যাই। আসলে এই পৃথিবীটা কিংবা এই প্রকৃতি শুধু আমার কিংবা তোমার নয় আমাদের সবার। তুমি তো জানো আপি মেয়ে হিসেবেই জব পাওয়া কতো কঠিন তাঁর উপর যদি হয় একজন প্রতিবন্ধী তাহলে তো কথাই নেই। শুভ কামনা রইলো সেই সব সংগ্রামী মেয়েদের জন্য। ভালো থেকো আপি। আর তুমি করে বলার জন্যি দুঃখিত। কিছু মানুষের লিখা দেখে বড় আপন মনে হয় তাদের চেষ্টা করেও আপনি বলতে পারি না।

এরকম আরও অজস্র লিখার মাধ্যমে সেই সব মেয়েদের সংরাম গুলো ফুটিয়ে তোলো।

শুভ কামনা অনেক অনেক।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩২৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ব্লগে আসা হয় মূলত পড়তে।
লেখক নই,
পারিনা আসলে লিখতে।

canopuspoint.blogspot.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই