আমার প্রিয় পোস্ট

মুক্তিযুদ্ধের গল্প।

১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:০২

শেয়ার করুন:                   Facebook

আমাদের দেশের মুক্তিযুদ্ধ - আমার কাছে সবসময়ই খুব আগ্রহের বিষয়। যখনি যাকে মুক্তিযুদ্ধরে অভিজ্ঞতার কথা বলতে দেখেছি, মন ভরে তা শুনতে চেয়েছি, উপলোব্ধ করতে চেয়েছি সেই ভয়াল ৯টি মাসের কথা। এর মধ্যে কিছু মজার অভিজ্ঞতা আপনারদের সাথে শেয়ার করতে চাই। গল্প গুলো আমার বাবা-মার কাছ থেকে শুনা।

মিলির বিয়ে:
রাত বাজে ১০টা। আমার বাবা-মা এবং চাচা-চাচীরা তখন ধানমন্ডি ৪ এর একটা বাসায় থাকতেন। বাবা তখন নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন আর মা ঘুমে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন সময় গুরুম-গারুম আওয়াজ। ধিরে ধিরে তীব্র আলোকছটার সাথে সাথে আওয়াজ বাড়তেই থাকলো। মা প্রচন্ড ভয় পেলেন। বাবাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললেন। বাবা ঘুম জরানো কন্ঠে বললেন - এখন ঝামেলা করোনাতো! ভয় পাবার কিছু নাই,। কাল সুলতান সাহেবের মেয়ে মিলির বিয়ে, ওরা বাজি পুরাচ্ছে। (সেই রাতটা ছিলো আসলে ২৫ মার্চের সেই ভয়াল রাত, আর আওয়াজ গুলো কিসের ছিলো তা পাঠক বুঝতেই পারছেন।)

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:

আমার ছোট চাচা সবসময়ই ভীতুর ডিম। সব কিছুতেই তার ভয়। পাকিস্তান আর্মি দেখলে তার পেট গুর গুর করা শুরু করতো, প্রচন্ড বাথরুম পেতো। সেই সময়ে অনেকেই তাদের বাসার ছাদে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়াতেন। একদিন সকালের কথা। ধানমন্ডির সেই বাসার উল্টা সাইডের বাসাতে এক ফরেনার ফ্যামিলি থাকতো। ওদের ছেলে মেয়েরাও ছাদে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছে। হঠাৎ একদল পাকসেনা এসে "ঝান্ডা উতারো "বলে চিৎকার করতে করতে গুলি করে পতাকা ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলে। ঘটনার আকর্ষিকতায় চাচা প্রচন্ড ভয় পান। ১০২ ডিগ্রী জ্বর নিয়ে রাতে ঘুমাতে জান। স্বপ্নে দেখেন পাসেনারা বাসায় ঢুকেছে, আর আমার মা বেশ জোরে স্বাধীন বাংলা বেতার শুনছেন। তিনি খুব চেস্টা করতে লাগলেন ভলিউম কমাতে, কিন্তু কিছুতেই ভলিউম না কমাতে পেরে তিনি আর্মি আর্মি বলে চেচাতে লাগলেন। তার চিৎকার শুনে বাসার সবাই জেগে উঠলো। ঠিক এমন সময় কাকতালিয় ভাবে এক বেড়াল, খাবার টেবিলে রাখা স্টিলের মগ ফেলে দেয়। বাসার সবাই মিলে তখন প্রচন্ড চিৎকার শুরু করে। বাসার ভয় আস্তে আস্তে সারা পারায় সংক্রামিত হয়............পরের দিন সবাই মিলে চাচাকে ধোলাই........।

ধানমন্ডি লেক:
আমার মা অসহোযোগ আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাঝামাঝি পর্যন্ত দৈনিক পত্রিকাগুলো জমাতেন। স্বাভাবিক ভাবেই সেগুলোতে শেখ মুজিব সাহেবের ছবি থাকতো। আবারও সেই ছোটো চাচা---------তার ধারনা পত্রিকাগুলো দেখলে পাকসেনারা সবার ক্ষতি করতে পারে। তাই তিনি সবগুলো পত্রিকা ধানমন্ডি লেকে ফেলে দিলেন। খেলা শুরু হলো তখনি। তিনি অবাক হয়ে দেখলেন পত্রিকাগুলো ভেসে আছে। বড় একটা বাশ জোগার করে তিনি পত্রিকাগুলোকে ঢুবানোর প্রানপন চেস্টা করতে লাগলেন। ফলে পত্রিকা গুলো ঢুবার বদলে সারা লেইকে ছড়িয়ে পরতে লাগলো। তাদেখে উৎসুখ জনতার ভির বাড়তে লাগলো। উৎসুখ জনতার ভির দেখে পাকসেনারা জিপ গারি নিয়ে উপস্হিত । তারা চাচাকে ধরে নিয়ে গেলো.........।

আমার দাদী:

আমার দাদার বাড়ী কুমিল্লা শহরে। বাড়ীর উঠানে দাদা প্রকান্ড একটা গর্ত করেছিলেন। আর্মি এটাক হলেই তিনি তার নাতি-নাতনীদের নিয়ে গর্তে ঢুকে পরতেন। কিন্তু একজন কে তিনি কখোনই গর্তে ঢুকাতে পরেন নাই। তিনি আমার দাদী। দাদা যখন গর্ত থেকে চিল্লাতেন - "আরে আইয়ো না...মাইরা লাইবো তো......আরে মরবাতো..।" তখন দাদী মনের সুখে উঠান ঝার দিতেন।

আমার দাদীর কাছে এখনো সেই সময়ের বাংলাদেশের মানচিত্র আকা একটা পতাকা আছে। ৯৮ বয়সের এই বৃদ্ধা এখনো পতাকাটিকে রেখেছেন খুব যত্ন করে। কিভাবে জানেন? পতাকাটা তার কোরআন শরীফের গিলাফ।

 

 

  • ১৫ টি মন্তব্য
  • ১৪৬ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:০৭
comment by: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: এটাকে প্রিয় পোস্টে না রাখার কোনো কারণ দেখছিনা।
১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। গিয়েছিলেন নাকি আজকে আড্ডায়?

২. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:১৬
comment by: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: নাহ যাইনি।
১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:২০

লেখক বলেছেন: আমিও যাইনাই। তবে একদিন যাবো ইনশাল্হাহ। আপনাকেও সেদিন যেতে হবে কিন্তু।

৩. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:২০
comment by: শান্তির দেবদূত বলেছেন: জোস জোস !!!!!!!!

" পতাকাটা তার কোরআন শরীফের গিলাফ। " --- হাজার সালাম আপনার দাদিকে .... পোছিয়ে দিবেন কিন্তু, আর জবাব ও চাই
১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:২৮

লেখক বলেছেন: পৌছেদিলাম। আসলে আমদের মুক্তযুদ্ধটাকে একটু অন্য এংগেল থেকে দেখতেচেছি। এবং দেখতেও চাই। কারন মুক্তি যুদ্ধকে আরো ভালো ভাবে বুঝতে হবে নাহলে দেশকে ভালোভাবে ভালোবাসা যাবেনা।
ইনফ্যক্ট আপনার ঐ কথাটা আমার খুব ভালো লেগেছে - পোছিয়ে দিবেন কিন্তু, আর জবাব ও চাই - আজ থেকে আপনার বন্ধুই হয়ে গেলাম।

৪. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:১৮
comment by: শান্তির দেবদূত বলেছেন: :) ভালো লাগলো শুনে :) ......
১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:০৪

লেখক বলেছেন: আবারও ধন্যবাদ/

৫. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:২৭
comment by: আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: দারুন তো!
১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:০৩

লেখক বলেছেন: হম....সত্যিই দারুন!

৬. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:১৮
comment by: রুখসানা তাজীন বলেছেন: ভাল্লাগছে
১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৭. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:৩৯
comment by: রাশেদ বলেছেন: ভালো লাগছে।
২১ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৫৭

লেখক বলেছেন: হ্যেচানি কোনো?

৮. ৩০ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২০
comment by: চাচামিঞা বলেছেন: আমার এই লেখটা কেও পড়লোনা :(

 



 


আমার পরিচয়, আমি মনে প্রানে একজন বাংলাদেশি। আমি আপনাদের মতো সুন্দর সুন্দর লেখা লিখতে পারমু না জানি। কারন এই ব্লগে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ২৬৫৫৬