somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সাইদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়ে রাজাকার হয়ে গেল মুক্তিযোদ্ধা
অথচ এই রাজাকার এখন মুক্তিযোদ্ধা নামধারী। সে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা খাচ্ছে। সেতার ছেলেকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় হেল্থ ইন্সপেক্টেরের চাকরীতে ঢুকিয়েছে। অথচ মেধাবী ছাত্ররা আজ বেকার ।

এর আগেও সাইদীর আরো দুই সাক্ষী মানিক সাহা ও বাবুল নিজেই স্বীকার করেছিল তারা মুক্তিযুদ্ধে যায়নি। অথচ তারাও এমপি আওয়ালের সুপারীশে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ভাতা নিচ্ছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29530603 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29530603 2012-01-28 04:08:35
মারা গেলেন সাঈদীর মামলার সাক্ষী বাসুদেব, আরো সাক্ষী অসুস্থ
মারা গেলেন সাক্ষী বাসুদেব মিস্ত্রি। গত ৮ জানুয়ারি তিনি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য দেয়ার ১৬ দিনের মাথায় মঙ্গলবার তিনি পিরোজপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস'ায় মারা যান। আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার সময়ও তাকে কিছুটা অসুস' দেখা যায়।
গত ৮ জানুয়ারি দশম সাক্ষী হিসেবে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে জবানবন্দী ও জেরায় বাসুদেব মিস্ত্রি জানিয়েছিলেন, বর্তমানে তার বয়স আনুমানিক ৫৩ অথবা ৫৪ বছর। ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল ১৩-১৪ বছর।
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে জবানবন্দীতে বাসুদেব বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে বাবার সাথে মিস্ত্রিকাজে জোগালি দিতাম। বয়স আনুমানিক ১৩-১৪ বছর হবে। বাবা মানিক পসারীর বাড়িতে কাজ করতেন। আমিও তার সাথে কাজ করতাম। পশ্চিমারা যুদ্ধ শুরুর দুই-তিন মাস পর পারেরহাট স্কুলে ক্যাম্প করল। শান্তিবাহিনীর লোকেরা রাজাকার বাহিনী গঠন করে। দেলু শিকদার, সেকেন্দার শিকদার, মোসলেম মাওলানা, হাকিম কারী, রুহুল আমিন, মন্নান আরো অনেকে মিলে রাজাকার বাহিনী গঠন করে।
মে মাসের ৮ তারিখে পাঞ্জাবি আর্মি, রাজাকার, শান্তিবাহিনীর লোকজন মানিক পসারীর বাড়িতে আসে। তাদের আসতে দেখে বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। তারা বাড়িতে ঢুকল। ইব্রাহিম কুট্টি ও মফিজ উদ্দিন মানিক পসারীর বাড়িতে কাজ করত। ওদের ধরে বেঁধে ফেলল। দিলু শিকদার, সেকেন্দার আলী শিকদার, মোসলেম মাওলানা, দানেশ আলী মোল্লা, রুহুল আমিন, হাকিম কারী, মোমিন এদের দেখেছি তখন। এদের চিনি। ওরা ধান-চাল সব লুটপাট করে নিয়ে গেল ভাগ করে। আর দামি মালামাল নিলো দিলু শিকদার। এরপর দিলু আর অন্য রাজাকার মিলে ঘরে আগুন দিলো। ইব্রাহিম আর মফিজকে নিয়ে রওনা দিলো। বাজারের ব্রিজের ওপর উঠল। তারপর দেলোয়ার সাঈদী হেগো লগে (পাক আর্মি) কী যেন বলল। আমরা আড়ালে বসে দেখছি। ইব্রাহিমকে বাঁধন খুলে ব্রিজ পার হয়ে ঘাটের দিকে নিয়ে গেল। মফিজকে নিয়ে গেল ক্যাম্পের দিকে। আর ইব্রাহিমকে গুলি দিয়ে ফেলে দেয়। তারপর আমরা দৌড়ে বাড়ি যাই।
ক্যাম্পে নিয়ে মফিজকে খুব নির্যাতন করে। পরে মফিজ পালিয়ে এসে এ কথা আমাদের বলেছে। সাক্ষী পরে বলেন, আমাদেরসহ আরো অনেক হিন্দুদের বাড়িঘর দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও অন্যান্য রাজাকার পুড়িয়ে ফেলে।
আরো সাক্ষী অসুস' : গত ১৭ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় আবদুল হালিম বাবুল নামে একজন সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরা শেষে নতুন সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার কথা ছিল মধুসূদন ঘরামীর। কিন' রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান তিনি অসুস'। পরের দিন ১৮ জানুয়ারিও তাকে হাজির করা যায়নি অসুস'তার কারণে। এরপর আদালত ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করেন। কিন' ২৪ জানুয়ারিও মধুসূদন ঘরামীকে হাজির করতে পারেননি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা। ২৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকালে চারজন সাক্ষীর নামের তালিকা দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা আদালতকে জানান, দুপুর ২টায় তারা নতুন সাক্ষী হাজির করতে পারবেন। আদালত বলেন, চারজনের মধ্য থেকে প্রথম দুইজনের যেকোনো একজনকে দুপুর ২টায় হাজির করতে হবে। কিন' দুপুর ২টায় তারা চারজনের তালিকা থেকে শেষের দুইজনের একজনকে হাজির করেন। আদালত এর কারণ জানতে চাইলে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, তারা অসুস'।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29529449 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29529449 2012-01-26 04:23:47
ডেভিড বার্গম্যানের ব্লগে দেখুন: সাইদীর প্রথম সাক্ষীর সামারী http://bangladeshwarcrimes.blogspot.com/
তারা সামারীতে ক্রস এক্সামিনেশনে ডিটেইলস সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। সাক্ষীর কথাবার্তায় যে অনেক কন্ট্রাডিকশন আছে, তা তার ব্লগ পড়লেই বুঝা যায়। শুধু তাই নয়, তিনি প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাইবুনালের ভুমিকা নিয়ে। প্রচলিত সাক্ষ্য আইনের অনেকে নীতিই ট্রাইবুনাল ফলো করছেনা, যা ন্যায় বিচারের বিরুদ্ধে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29509643 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29509643 2011-12-25 05:23:20
৩ চুরির আসামি সাক্ষ্য দিলেন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে
তিনটি চুরির মামলার আসামি সুলতান আহমদ হাওলাদার সাক্ষ্য দিলেন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে। কলা চুরির মামলায় পিরোজপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জেল দেন সুলতান আহমদকে। পিরোজপুর জজ কোর্ট সে সাজা বহাল রাখেন। বর্তমান হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে তার আপিল। সুলতান আহমদের বিরুদ্ধে ট্রলার চুরির দায়ে অপর দু’টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বরিশালে।
মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের জেরায় সাক্ষী সুলতান আহমদ সম্পর্কে এসব তথ্য বের হয়ে আসে গতকাল। সুলতান আহমদ গত বুধবার মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন। গতকাল মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত চারজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলেন, এর মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধেই চুরির মামলা রয়েছে বিভিন্ন ঘটনায়। এ ছাড়া অন্য মামলাও রয়েছে এ তিন সাক্ষীর বিরুদ্ধে। মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদি ও প্রথম সাক্ষী মাহবুবুল আলম হাওলাদার চুরির মামলায় জেল খেটেছেন। পরে তিনি এ সাজা থেকে খালাস পেয়েছেন বলে আদালতে বলেছেন। এ ছাড়া স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় তার দণ্ডাদেশ হয়েছে এবং বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষী রুহুল আমিন নবীনের বিরুদ্ধেও বিদ্যুৎ চুরির মামলা হয়েছে বলে আদালতে তথ্য প্রকাশ করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা। গতকাল মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষী সুলতান আহমদের বিরুদ্ধে তিনটি চুরির মামলার তথ্য প্রকাশ পেল।
জেরার সময় সুলতান আহমদকে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী প্রশ্ন করেন, ‘আপনি তালিকাভুক্ত কোনো মুক্তিযোদ্ধা কি না।’ জবাবে সুলতান আহমদ বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধাই নই’। মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী তখন প্রশ্ন করেন, ‘আপনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য পিরোজপুর সদর এমপি এ কে এম এ আউয়ালের কাছে দরখাস্ত করেছেন এবং এমপি আপনাকে ডিও লেটার দিয়েছেন। তখন সুলতান আহমদ বলেন, ‘সহায়ক মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য দরখাস্ত করেছি। মুক্তিযোদ্ধার সমর্থনকারী হওয়ার জন্য।’ এরপর মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী স্পষ্ট করে জানতে চান মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য দরখাস্ত দিয়েছেন কি না। তখন তিনি বলেন, ‘না’।
মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী তাকে প্রশ্ন করেন ধানকাটা বিষয়ে আপনার বিরুদ্ধে একটি মামলা আছে। সুলতান আহমদ বলেন, জানা নেই।
সাক্ষী সুলতান আহমদ আদালতে বলেছিলেন দেলোয়ার হোসেন শিকদার বর্তমান সাঈদী আরবি ও উর্দু ভাষা ভালো জানায় এবং বাকপটু হওয়ায় পাকবাহিনীর সাথে যোগাযোগসহ সব কর্মকাণ্ড তার নির্দেশেই পরিচালিত হতো। কিন' গতকাল জেরার সময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয় পিরোজপুরে আজ পর্যন্ত তিনি আরবি ভাষায় কাউকে কথা বলতে শুনেছেন কি না। তখন সুলতান আহমদ বলেন, ‘আমি আরবি উর্দু জানি না। কোনটা আরবি আর কোনটা উর্দু হয়ে যায় তা বলতে পারি না।’
গ্রাম্য মহিলাদের ধরে ধরে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তুলে দেয়াসহ মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন সাক্ষী সুলতান আহমদ। কিন' গতকাল জেরার সময় তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি কোনো মেয়েকে এভাবে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিতে দেখেছেন কি না। এর জবাবে তিনি বলেন, দেখেননি, তবে শুনেছেন।
গতকাল সাক্ষী সুলতান আহমদ হাওলাদারকে জেরা করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, মনজুর আহমদ আনছারী ও কফিলউদ্দিন চৌধুরী। তাকে সহায়তা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানভির আল আমিন, মুন্সি আহসান কবির প্রমুখ।
আইনজীবী : আপনি তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা কি না।
সাক্ষী : আমি মুক্তিযোদ্ধাই নই।
আইনজীবী : আপনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এবং পিরোজপুর সদরের এমপি এ কে এম এ আউয়াল ডিও লেটার দিয়েছেন।
সাক্ষী : সহায়ক মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য দরখাস্ত করেছি। মুক্তিযোদ্ধার সমর্থনকারী হওয়ার জন্য।
আইনজীবী : আমি বলছি আপনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : পারেরহাটের কাদের গাজিকে চেনেন?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : তিনি আপনার বিরুদ্ধে কলা চুরির মামলা করেছেন। মামলায় আপনার জেল হয় এবং সে সাজা বহাল আছে।
সাক্ষী : জমিজমা নিয়ে মামলা হয়েছে। মামলা বিচারাধীন আছে এবং আমি জামিনে আছি।
আইনজীবী : আমি জানতে চাচ্ছি আপনার জেল হয়েছিল কি না।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : বর্তমানে মামলাটি কোন কোর্টে বিচারাধীন আছে?
সাক্ষী : হাইকোর্টে। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার ১০ বছর পর আমার অনুপসি'তিতে রায় হয়েছে। এডিএম (অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট) কোর্ট আমাকে খালাস দেয়ায় বাদি আবার মামলা করে। তা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আমি আবার আবেদন করেছি। আপিল বিচারাধীন আছে।
আইনজীবী : জজ কোর্টের রায় কী ছিল?
সাক্ষী : জজ কোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছেন।
আইনজীবী : বরিশাল আদালতে আপনার বিরুদ্ধে ট্রলার চুরির দু’টি মামলা আছে?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : ইব্রাহীম কুট্টির পিতার নাম বলতে পারবেন? (মাওলানা সাঈদীর যোগসাজশে পাক আর্মিরা তাকে হত্যা করে বলে আদালতে সাক্ষ্য দেন এই সাক্ষী।)
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : তার বাড়ি কোথায় বলতে পারবেন?
সাক্ষী : সম্ভবত টেংরাখালী বা বারইখালী। বারইখালী তার শ্বশুরবাড়ি।
আইনজীবী : ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রীর নাম জানা আছে?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : তার কোন ছেলেমেয়ে তখন ছিল কি না এবং থাকলে তাদের সম্পর্কে কিছু বলতে পারবেন?
সাক্ষী : জানা নেই।
আইনজীবী : পারেরহাটের দানেস আলী মোল্লা চেয়ারম্যানকে চেনেন?
সাক্ষী : চিনি। তিনি আমার শিক্ষক ছিলেন।
আইনজীবী : আতাহার আলী হাওলাদার, পিতা আইনুদ্দিন হাওলাদার, বারইখালী- তাকে চেনেন?
সাক্ষী : চিনি না।
আইনজীবী : আস্রাব আলী, পিতা আসমত আলী, টেংরাটিলা- চেনেন?
সাক্ষী : স্মরণে নেই।
আইনজীবী : আব্দুল মান্নান, বারইখালী- চেনেন?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : আইউব আলী, বারইখালী।
সাক্ষী : চিনি না।
আইনজীবী : কালাম চৌকিদার, বারইখালী।
সাক্ষী: চিনি না।
আইনজীবী : রুহুল আমিন, পিতা আনওয়ার হোসেন, পারেরহাট।
সাক্ষী : রুহুল আমিন নামে একজনকে চিনি। সে রাজাকার ছিল।
আইনজীবী : আব্দুল হাকিম মুন্সি, বারইখালী।
সাক্ষী : চিনি না।
আইনজীবী : মবিনউদ্দিন, পিতা আব্দুল গনি, গাজিপুর, পিরোজপুর।
সাক্ষী : মবিন নামে একজনকে চিনি। রাজাকার ছিল।
আইনজীবী : সেকেন্দার আলী শিকদার, পিতা মনসুর আলী, হোগলাবুনিয়া।
সাক্ষী : চিনি। সে আমার ফুফাতো বোনের জামাই। পিস কমিটির সেক্রেটারি ছিল। দানেস আলী মোল্লা ছিল সভাপতি।
আইনজীবী : মোসলেম মাওলানা, পিতা মোদাচ্ছের হাজি, বাদুরা।
সাক্ষী : চিনি। পিস কমিটির সদস্য ছিল।
আইনজীবী : মোসলেম মাওলানা এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।
সাক্ষী: সত্য নয়।
আইনজীবী : মোসলেম মাওলানা এখন পিরোজপুর ওলামা লীগের সভাপতি তা জেনেশুনে গোপন করছেন আপনি।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : ওপরে যে নাম বলা হলো এবং তাদের মধ্যে যাদের আপনি চেনেন তাদের বাদে অন্যরাও রাজাকার ছিল?
সাক্ষী : জানা নেই।
আইনজীবী : পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম কবে কোথায় শান্তি কমিটি গঠিত হয় জানেন?
সাক্ষী : জানা নেই।
আইনজীবী : শান্তি কমিটির সভাপতি সেক্রেটারির নামও জানা নেই?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : রাজাকার বাহিনী কবে কোথায় গঠিত হয় তাও জানেন না?
সাক্ষী : বলতে পারব না।
আইনজীবী : রাজাকার বাহিনীর প্রধান কে ছিল তাও বলতে পারবেন না?
সাক্ষী : শুনেছি গোলাম আযম ছিল।
আইনজীবী : পিরোজপুর পিস কমিটি কবে গঠিত হয় জানা আছে?
সাক্ষী : স্মরণে নেই।
আইনজীবী : পিস কমিটির সভাপতির নাম বলতে পারবেন?
সাক্ষী : সৈয়দ আফজাল সাহেবের নাম শুনেছি।
আইনজীবী : পিরোজপুর মহকুমায় কবে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয় জানেন?
সাক্ষী : স্মরণে নেই।
আইনজীবী : পিরোজপুর রাজাকার কমান্ডার মানিক খন্দকার। তার বাড়ি চরখালী।
সাক্ষী : মানিক খন্দকারের নাম শুনেছি।
আইনজীবী : মানিক খন্দকারের চাচাতো ভাই ছিল শানু খন্দকার। শানু খন্দকার ছিল মুক্তিযোদ্ধা এবং তার হাতে মানিক খন্দকার নিহত হয় তা জানা আছে?
সাক্ষী : জানা নেই।
আইনজীবী : পিরোজপুর মহকুমায় যেসব থানা ছিল তার পিস কমিটির সভাপতি এবং রাজাকার কমান্ডারদের নাম বলতে পারবেন?
সাক্ষী : না।
এরপর মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী সাক্ষী সুলতান আহমদকে তার নিজ গ্রাম শঙ্করপাশা সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞেস করেন। ১৯৭১ সালে শঙ্করপাশা কত নম্বর ওয়ার্ড ছিল, মেম্বার নির্বাচন কিভাবে হতো- এসব প্রশ্ন করা হলে তিনি সঠিক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, এসব প্রশ্নের সাথে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সম্পর্ক কী এবং এসব মনে রাখা সম্ভব কি না। জবাবে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, সাক্ষী একজন শিক্ষিত লোক। তিনি তার নিজ গ্রামের তথ্য বলতে পারেন না; কিন' ৪০ বছর আগের কথা সব মুখস' বলে দিলেন।
আইনজীবী : মাহবুবুল আলম হাওলাদার মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে পিরোজপুর আদালতে যে মামলা করেছেন তাতে আপনি সাক্ষী ছিলেন?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : মানিক পসারীর মামলায়ও আপনি সাক্ষী?
সাক্ষী : মনে নেই। মানিক পসারী পরে ডেকে আনে সাক্ষ্য দিতে।
আইনজীবী : আপনার পেশা?
সাক্ষী : ছোটখাটো ব্যবসা ও কৃষি।
আইনজীবী : পারেরহাটসহ পিরোজপুরের কোনো লোককে আরবিতে কথা বলতে শুনেছেন কখনো?
সাক্ষী : (অনেকক্ষণ ভেবে) মসজিদের ইমাম সাহেব তো মাঝে মধ্যে খুতবা দেয়ার সময় আরবি কথা বলেন। সেটি শুনেছি।
আইনজীবী : সেটি না, আমি জানতে চাচ্ছি মুখোমুখি দু’জনকে কথাবার্তা বলতে শুনেছেন কি না।
সাক্ষী : আমি আরবি-উর্দু জানি না। কোনটি আরবি আর কোনটি উর্দু হয়ে যায় তা বলতে পারব না।
আইনজীবী : ২২ সের সোনা রুপা মাটি থেকে খুঁড়ে বের করতে কত সময় লেগেছিল বলতে পারবেন?
সাক্ষী : ওই দেড়-দুই ঘণ্টার মধ্যে হয়েছে। আমি সেখানে ছিলাম না।
আইনজীবী : গত ঈদুল ফিতরের ঈদ কবে হয়েছে বলতে পারবেন?
সাক্ষী : স্মরণ নেই।
আইনজীবী : কোরবানি ঈদ?
সাক্ষী : স্মরণ নেই।
আইনজীবী : পারেরহাট বাজারে আপনার বা আপনার পরিবারের কোনো ব্যবসা ছিল?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : দেলোয়ার হোসেন মল্লিক নামের কোনো রাজাকারের নাম শুনেছেন?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : আপনি যে দেলোয়ার শিকদারের নাম বলেছেন তার পিতার নাম রসুল শিকদার?
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : দেলোয়ার হোসেন মল্লিক নামে যে রাজাকার ছিল তার দায়ভার আপনি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওপর চাপাচ্ছেন শেখানো মতে।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : ৪০ বছর আগের ঘটনা আপনি যেভাবে বললেন তা কি মুখস' বলেছেন না নোট করে রেখেছিলেন?
সাক্ষী : স্মরণ থেকে বলেছি। নোট ছিল না।
আইনজীবী : আপনি বলেছেন, শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীর লোকেরা পাক হানাদার বাহিনীকে পাকিস্তান রক্ষার জন্য সর্বপ্রকার অঙ্গীকার করে। তারা এ সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় আপনি কি আশপাশে ছিলেন?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : আপনি বলেছেন, রাজাকারেরা নারীদের ধরে ধর্ষণের উদ্দেশে জোরপূর্বক পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিত। আপনি কাউকে তুলে দিতে দেখেছেন?
সাক্ষী : খেয়াল নেই। আমি শুনেছি।
আইনজীবী : আপনার পরিবারের কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি এবং আপনাদের বাড়িঘরের কোনো ক্ষতি হয়নি।
সাক্ষী : না। আমাদের তো তখন কিছুই ছিল না। ক্ষতি করবে কী।
আইনজীবী : আপনি আপনার এলাকার নিরীহ লোকজনের সম্পত্তি জোর করে দখল করেন।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : এ কারণে আপনার বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন আছে।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : আপনি চিথলিয়াচরে প্রায় ১০ বিঘা জমি দখলে রেখেছেন।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : ১ মে নিজ বাড়িতে যাওয়ার যে কথা আদালতে বলেছেন তা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দীতে বলেননি।
সাক্ষী : স্মরণে নেই।
আইনজীবী : পারেরহাট এসে জানলাম দেলোয়ার হোসেন শিকদার বর্তমানে সাঈদীর নেতৃত্বে পিস কমিটি গঠিত হয় বলে যে কথা বলেছেন তা-ও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে বলেননি।
সাক্ষী : বলেছি।
আইনজীবী : মে মাসের সাত তারিখ পারেরহাট গেছেন এ কথাও বলেননি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : পারেরহাট রিকশা স্ট্যান্ডের কাছে দানেশ আলী মোল্লা, সেকেন্দার শিকদার, মোসলেম মাওলানা, দেলোয়ার হোসেন শিকদার বর্তমান সাঈদী পাক বাহিনীকে অভ্যর্থনার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে মর্মে যে কথা বলেছেন, তা-ও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে বলেননি।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : দেলোয়ার হোসেন শিকদার বর্তমান সাঈদীসহ অন্যান্য পিস কমিটির লোকজন পাক হানাদার বাহিনীকে বাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া, দেলোয়ার হোসেন শিকদার বর্তমান সাঈদী হাত উঁচু করে হিন্দু ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তির লোকদের ঘরবাড়ি দেখিয়ে দেয়ার ঘটনা, ৩০-৩৫টি ঘর লুটপাট, খেয়াঘাটে রাস্তার ওপর লুটের মাল স্তূপ করে রাখার যে ঘটনা আপনি আদালতে বলেছেন, তা-ও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আগে বলেননি।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : দেলোয়ার হোসেন শিকদার বর্তমানে সাঈদীর নেতৃত্বে লুটের মাল ভাগবাটোয়ারা করা, লুটের মাল নিয়ে ব্যবসায়প্রতিষ্ঠান খোলা এবং দেলোয়ার হোসেন শিকদার বর্তমানে সাঈদী সে ব্যবসার পরিচালক হওয়ার বিষয়ে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে বলেননি।
সাক্ষী : সম্ভবত বলেছি।
আইনজীবী : ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যার কথাও বলেননি।
সাক্ষী : বলেছি।
আইনজীবী : দেলোয়ার হোসেন শিকদার বর্তমান সাঈদী আর্মির সাথে কী যেন বলাবলি করছে এবং এরপরও গুলির শব্দ শুনতে পাওয়া, পরের দিন ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যার ঘটনা শুনতে পাওয়ার কথাও বলেননি।
সাক্ষী : বলেছি।
আইনজীবী : মদন সাহার ঘর ভেঙে মালামাল মাওলানা সাঈদীর শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেননি।
সাক্ষী : বলেছি।
আইনজীবী : রিকশা স্ট্যান্ডের দক্ষিণে গনি হাজী আপনার কোনো আত্মীয় নন।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : ভানু সাহাকে মাওলানা সাঈদী ও মোসলেম মাওলানা নিয়মিত ধর্ষণ করত বলে যে অভিযোগ করেছেন, তা জঘন্য মিথ্যাচার।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : ভানু সাহার বাড়িতে গেছেন?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : রাতে না দিনে?
এ পর্যায়ে আদালত ভাষা প্রয়োগ বিষয়ে সাবধান হতে বলেন।
তখন সাক্ষী বলেন, তাদের দোকানের পেছনেই বাসা ছিল। আমি তাদের দোকানে গিয়েছি।
আইনজীবী : আপনি চুরির মামলা থেকে খালাস পাওয়ার জন্য, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তি এবং ভাতা গ্রহণ, সরকারি বিভিন্ন সুবিধা আদায়, চুরির মামলা থেকে খালাস পাওয়ার জন্য এবং চরের জমি দখলে রাখার জন্য স'ানীয় এমপি, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলায় মিথ্যা অভিযোগ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলেন।
সাক্ষী : সত্য নয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29508336 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29508336 2011-12-23 04:47:25
মাওলানা সাঈদীর বিচার : প্রথম ও তৃতীয় সাক্ষীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির খ্যাতিমান আলেম মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী মাহবুবুল আলম হাওলাদার জেরার সময় বলেছিলেন তিনি ঢাকায় এসে মিজানুর রহমানের কাছে ঠিকানা জেনে প্রধান তদন্ত কর্মকর্তার অফিসে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে দরখাস্ত জমা দেন। অথচ গতকাল তৃতীয় সাক্ষী মিজানুর রহমান জেরার সময় বলেছেন, মাহবুবুল আলমের সাথে তার দেখাই হয়নি।
গত সোমবার মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষী মিজানুর রহমান তালুকদার আদালতে জবানবন্দী দেন। গতকাল তার জবানবন্দী শেষ হলে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা তার জেরা শুরু করেন। আজো তার জেরা অব্যাহত থাকবে।
তৃতীয় সাক্ষী মিজানুর রহমান তালুকদার আদালতে জবানবন্দীর সময় জানান, তার বয়স আনুমানিক ৫৭ বছর। আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে তিনি বলেন, ২৫ মার্চের রাতে আক্রমণের খবর পেয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশমতো যুদ্ধের প্রস'তি নেন।
আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে তিনি বলেন, দেলোয়ার হোসেন কথিত সাঈদী স্বাধীনতার আগে পারেরহাট বাজারে খেয়াঘাটের সামনে মধ্য গলিতে চট বিছিয়ে লবণ, হলুদ, মরিচ বিক্রি করত। হাটের দিন ছাড়া লঞ্চে এবং অন্যান্য বাজারে ১২ চান্দের কবজ, আবে হায়াত নামে দাঁতের ওষুধ বিক্রি করত।
দেলাওয়ার হোসাইন কথিত সাঈদী নিজে ও অন্য লোকদের নিয়ে পারেরহাট বাজারে বড় বড় দোকান লুটপাট করে। নগরবাসী সাহার দোকান দখল করে লুটের মাল ওই ঘরে তোলে। এটি পাসতহবিল নামে পরিচিত। কথিত সাঈদী ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের ধরে এনে জোরপূর্ব ধর্মান্তকরণ করেন।
মিজানুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার জন্য জুন মাসে আত্মীয় বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে তিনি দেখেন চরখালি গ্রাম জ্বলছে। পলায়নপর লোকদের কাছে জানতে পারেন পারেরহাট বাজারে রাজাকার ও পাকহানাদার বাহিনী লুট করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশে জুন মাসে সুন্দরবন ক্যাম্পে যান এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তায় (সম্ভবত) এলাকায় ফিরে আসেন।
তিনি বলেন, দেলোয়ার হোসেন শিকদার ‘কথিত সাঈদী’ পারেরহাট বাজারে সেনাবাহিনী এবং রাজাকার ক্যাম্প স'াপনের পর যেসব কুকর্ম সঙ্ঘটিত হয়েছে যেমন অগ্নিসংযোগ, হত্যা, লুটপাট, নারী নির্যাতন, হিন্দুদের ধর্মান্তরকরণ, রেপের উদ্দেশে গ্রামের সাধারণ মহিলাদের ধরে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর- এসব কাজের সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত ।
মিজানুর রহমান আরো বলেন, তার বড় ভাই আবদুল মান্নান তালুকদার এক দিন অফিস থেকে ফেরার পথে দেলাওয়ার হোসাইন কথিত সাঈদীসহ অন্য রাজাকাররা তাকে ধরে ফকির দাসের দালানে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। আমাকে ক্যাম্পে হাজির করার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে। পরে আমার শিক্ষক দানেশ আলী মোল্লার অনুরোধে দেলাওয়ার হোসাইন কথিত সাঈদী আমার বড় ভাইকে ছেড়ে দেয় এই শর্তে যে, আমার বড় ভাই কয়েক দিনের মধ্যে রাজাকার ক্যাম্পে হাজির হবে।
মিজানুর রহমান আদালতে জানান, মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশ্যে জুন মাসে তিনি সুন্দরবন ক্যাম্পে যান এবং দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে ফিরে আসেন এলাকায় ।
মিজানুর রহমানকে জেরা করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম, মনজুর আহমেদ আনছারী, কফিলউদ্দিন চৌধুরী। তাদের সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানভির আল আমিন, মুন্সি আহসান কবির প্রমুখ।
আইনজীবী : পাক হানাদার বাহিনী পারেরহাট বাজারে আসার পরই পিস কমিটি গঠিত হয়?
সাক্ষী : প্রকাশ হয়েছে পাক বাহিনী আসার পরে।
আইনজীবী : কত তারিখ বলতে পারবেন?
সাক্ষী : পাক বাহিনী আসার পর আমি বাসা থেকে বের হইনি। সঠিক বলতে পারব না।
আইনজীবী : রাজাকার বাহিনী কত তারিখে গঠন করা হয় তাও বলতে পারবেন না?
সাক্ষী : রাজাকার পিস কমিটি ওই সব কোনো বাহিনী গঠনের কথা বলতে পারব না। প্রকাশ হওয়ার পর শুনেছি।
আইনজীবী : আপনি যখন রাজারহাটে ছিলেন তখন পাক হানাদার বাহিনী বা রাজাকার বাহিনীর কেউ আপনাকে ধরতে যায়নি?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : মুক্তিযুদ্ধের সময় পর্যন্ত আপনার বাড়িতেও এদের কেউ যায়নি?
সাক্ষী : গ্রামের বাড়িতে বহুবার গেছে। গুলি করে আমগাছ ফুটো করেছে। তখন আমি ছিলাম না সেখানে।
আইনজীবী : পিরোজপুর পারেরহাটে যেসব রাজাকার ছিল তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল দেলোয়ার হোসেন মল্লিক।
সাক্ষী : একেবারেই সত্য নয়। আমার জানামতে ওই নামে কোনো রাজাকার ছিল না। ছিল দেলোয়ার হোসেন শিকদার নামে।
আইনজীবী : আমি বলছি দেলোয়ার হোসেন মল্লিক নামে রাজাকার ছিল এবং তাকে স্বাধীনতার পর গ্রেফতার করে হাজতে পাঠানো হয়।
সাক্ষী : আপনার বক্তব্য সঠিক নয়।
আইনজীবী : চরখালি গ্রাম আগে থেকে চিনতেন?
সাক্ষী : খুব একটা আসা-যাওয়া ছিল না।
আইনজীবী : চরখালি গ্রামে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক লুটপাট এবং আগুন দেয়ার খবর বাশবুনিয়া বসে শুনতে পান?
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : আপনি বলেছেন পলায়নপর লোকদের কাছে শুনেছেন পারেরহাট বাজার এবং চরখালিতে আগুন লাগানো হয়েছে লুটপাটের পর। পলায়নপর দু-একজনের নাম বলতে পারবেন?
সাক্ষী : না না। আমি কেমন করে বলব?
আইনজীবী : আপনার ভাইকে যেসব রাজাকার ধরে নিয়ে আপনাকে হাজির করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে তারা কি পারেরহাটের রাজাকার ছিল?
সাক্ষী : জানা নেই। (এ সময় সাক্ষী উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বারবার চেয়ার থেকে ওঠেন এবং আবার বসেন। তিনি বলেন আমি সেখানে না গেলে এবং না দেখলে কিভাবে বলব)।
আইনজীবী : আপনার ভাইকে যেসব রাজাকার আটকে রাখে তাদের দু-একজনের নাম বলতে পারবেন?
সাক্ষী : বড়ভাইর কাছে শোনামতে তারা ছিল আব্দুর রশিদ, মহসিন, এসহাক, মোমিন।
আইনজীবী : আপনি যখন বাঁশবুনিয়া ছিলেন তখন সেখানে স্বাধীনতার পক্ষে এবং বিপক্ষে কারা ছিল তাদের খোঁজখবর নিতেন?
সাক্ষী : নো (উচৈস্বরে)।
আইনজীবী : একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ১৯৭১ সালে পিরোজপুর মহকুমায় যেসব ঘটনা ঘটেছে তা কমবেশি জানা আছে?
সাক্ষী : মে মাসের ১৭-১৮ তারিখ আমি পিরোজপুর সদর থেকে চলে আসি। তার আগ পর্যন্ত সব না জানলেও কিছু কিছু জানি।
আইনজীবী : পিরোজপুর সদরে ১৭-১৮ মে’র পর যেসব ঘটনা ঘটেছে তা জানেন না এবং দেখেননি।
সাক্ষী : লোকমুখে শুনেছি।
আইনজীবী : চরখালি গ্রামে কার কার বাড়ি পুড়েছে তা স্বাধীনতার পর দেখতে গিয়েছিলেন?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
চরখালি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা বাদশা খন্দকার, আশরাফ আল হাওলাদার, আল আহমদ, রাজাকার হানিফ, মুজিবুর মল্লিক, আব্দুল মান্নান, আব্দুল হামিদ হাওলাদার, আব্দুল জলিল জমাদ্দার, ফজলুল হক হাওলাদার রাজাকারসহ অনেক বিখ্যাত এবং কুখ্যাত রাজাকারের নাম জিজ্ঞেস করলে সাক্ষী মিজানুর রহমান তাদের চেনেন না বলে জানান। এ সময় তিনি বারবার আদালতকে বলেন, ওটি তার গ্রাম নয় এবং তাদের তার চেনার কথা নয়। তাই এসব প্রশ্নে তিনি বারবার উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের প্রতি উচৈঃস্বরে কথা বলায় তারা আদালতকে অভিযোগ করেন এবং সাক্ষীর কাছ থেকে নিরাপত্তা দাবি করেন। মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, তিনি একটি গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার কথা বলেছেন। কিন' সেই গ্রামের কোনো রাজাকারকে তিনি চেনেন না।
আইনজীবী : পিরোজপুর মহকুমার কুখ্যাত রাজাকার আমির হোসেনকে চেনেন?
সাক্ষী : খেয়াল নেই।
আইনজীবী : চরখালিতে ঘর পুড়েছে এমন ১০ জনের নাম বলতে পারবেন?
সাক্ষী : যাদের নাম মনে আছে বলতে পারব। নরেন, হরিপদ।
আইনজীবী : নরেন ও হরিপদ নামে কেউ ছিল না।
সাক্ষী : মিথ্যা কথা।
আইনজীবী : আপনার বর্ণনা মতে, চরখালিতে কোনো লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয়নি।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : এখানে জবানবন্দী দেয়ার আগে আর কোথাও অভিযোগ করেননি?
সাক্ষী : খেয়াল নেই।
আইনজীবী : তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কবে জবানবন্দী দিয়েছেন?
সাক্ষী : ২০/১/২০১১ সম্ভবত।
আইনজীবী : এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল সাহেবের সাথে দেখা হয়েছে?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : আপনি বর্তমানে ঢাকায় থাকেন?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : জবানবন্দী ঢাকায় বসে দিয়েছেন?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : কোথায় বসে দিয়েছেন বাসায় না অফিসে?
সাক্ষী : বেইলি রোডের তদন্ত কর্মকর্তার অফিসে।
আইনজীবী : ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সব সময়ই এই নামে পরিচিত ছিলেন কখনো দেলোয়ার হোসেন শিকদার নামে পিরিচিত ছিলেন না।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : আপনার নিজ বাড়িতে আগুন দেয়া হয়নি।
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : মামলা দায়েরের আগে মামলার বাদি এবং এক নম্বর সাক্ষী মাহবুবল আলম হাওলাদার আপনার কাছে কোনো পরামর্শ বা সাহায্য নেয়?
সাক্ষী : দেখাই হয়নি।
আইনজীবী : মাহবুবুল আলম ২০০৯ সালে পিরোজপুরে যে মামলা করেছিলেন মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে সে বিষয়ে জানেন?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : যুদ্ধ শুরুর সময় মাহবুবুল আলম হাওলাদার কি করতেন?
সাক্ষী : মনে হয় ছাত্র ছিলেন।
আইনজীবী : মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় আপনি ভারতে চলে যান এবং দেশ স্বাধীনের অনেক পরে দেশে আসেন?
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : মাওলানা সাঈদী স্বাধীনতার সপক্ষের এবং হিন্দুদের মালামাল গণিমতের মাল বলে ফতোয়া দিয়েছেন বলে যে অভিযোগ আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার সময় করেছেন সে অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া জবানবন্দীতে করেননি?
সাক্ষী : স্মরণে নেই।
আইনজীবী : মাওলানা সাঈদী লুটের মাল নিয়ে পাসতহবিলের দোকান খোলার অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়টিও তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দীতে বলেননি।
সাক্ষী : সম্ভবত বলেছি।
আইনজীবী : মাওলানা সাঈদী কর্তৃক জোর করে ধর্মান্তরকরণ, খেয়াঘাটে চট বিছিয়ে লবণ-মরিচ বিক্রির বিষয়ে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাও বলেননি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে।
সাক্ষী : খেয়াল নেই।
আইনজীবী : আবে হায়াত নামে দাঁতের মাজন বিক্রির কথাও একইভাবে বলেননি।
সাক্ষী : বলেছি।
আইনজীবী : দেলোয়ার হোসেন শিকদার কথিত সাঈদী পারেরহাট বাজারে সেনাবাহিনী এবং রাজাকার ক্যাম্প স'াপনের পর যেসব কুকর্ম সঙ্ঘটিত হয়েছে যেমন অগ্নিসংযোগ, হত্যা, লুটপাট, নারী নির্যাতন, হিন্দুদের ধর্মান্তকরণ, রেপের উদ্দেশ্যে গ্রামের সাধারণ মহিলাদের ধরে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর এসব কাজের সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত বলে যে সাক্ষী দিয়েছেন আদালতে, তাও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে বলেননি আগে।
সাক্ষী : বলেছি কি না স্মরণে নেই।
আইনজীবী : চরখালি গ্রামে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের যে অভিযোগ করেছেন তাও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে বলেননি আগে।
সাক্ষী : স্মরণ নেই।
এভাবে সাক্ষী মিজানুর রহমান তালুকদার আদালতে যেসব অভিযোগ করেন সে বিষয় তুলে ধরে তার কাছে জানতে চাওয়া হয় তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া জবানবন্দীতে এসব অভিযোগ করেছিলেন কি না। অধিকাংশ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন স্মরণ নেই, খেয়াল নেই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29506944 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29506944 2011-12-21 05:05:18
সাঈদীর মামলার বাদীকে যুদ্ধের সময় তথ্য সরবরাহকারীর জন্ম ’৭২ সালে : জেরার প্রশ্ন নিয়ে উভয়পক্ষের আইনজীবীর বাকবিতণ্ডা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারী ও সরকারপক্ষের প্রধান সাক্ষী মাহবুবুল আলম হাওলাদারকে যুদ্ধের সময় পিরোজপুরে পাকিস্তানি আর্মি ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ অন্যান্য অপকর্মের তথ্য সরবরাহকারী খলিলুর রহমানের জন্ম ১৯৭২ সালের ১৩ এপ্রিল। বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদার তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, ১৯৭১ সালের ২ জুন খলিলুর রহমান আমাকে সংবাদ দেন, মাওলানা সাঈদীর নেতৃত্বে একদল রাজাকার আমার বাড়িতে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার এ সংবাদ পাওয়ার পর আমি আমার বাড়িতে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ পালিয়ে যাই। খলিলুর রহমানের জন্ম নিবন্ধন সনদ ও ভোটার আইডি কার্ড প্রদর্শন করে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, যুদ্ধের পরের বছর জন্ম নেয়া খলিলুর রহমান বাদীকে যুদ্ধ সম্পর্কে সংবাদ দেয়ার ঘটনা কাল্পনিক। এ মিথ্যা তথ্যের মতো সাঈদীর বিরুদ্ধে এই আদালতে বাদীর দেয়া সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ইতিহাসের নিকৃষ্টতম মিথ্যাচার। মাওলানা সাঈদী ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের আগ থেকে একই বছরের মধ্য জুলাই পর্যন্ত পিরোজপুরের কোনো এলাকাতেই ছিলেন না। এ তথ্য সত্য কি না—আসামি পক্ষের আইনজীবীদের এ প্রশ্নের জবাবে বাদী মাহবুবুল আলম বলেন, সত্য। এ জবাবের পরপরই সরকার পক্ষের আইনজীবীরা একযোগে চিত্কার দিয়ে বাদীকে উদ্দেশ করে বলেন, সত্য নয়, সত্য নয়। আপনি উত্তর সংশোধন করে দেন। সরকারপক্ষের আইনজীবীদের এ বক্তব্যের পরপরই বাদী তার দেয়া জবাব পরিবর্তন করে বলেন, আমি আগে যে ‘সত্য’ বলেছিলাম তা সঠিক না। আসল জবাব হচ্ছে ‘সত্য নয়’। সাঈদী এলাকাতেই ছিলেন। বাদীকে জেরাকালে সরকারপক্ষের আইনজীবীদের জবাব শিখিয়ে দেয়ার ঘটনায় তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ করেন সাঈদীর আইনজীবীরা। তারা বলেন, বাদী প্রথম যে জবাব দিয়েছেন সেটাই হচ্ছে প্রকৃত জবাব। পরে সরকারপক্ষের আইনজীবীরা তাদের সুবিধামত তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন। এটা স্বচ্ছ বিচারের নমুনা হতে পারে না। সাঈদীর আইনজীবীরা বাদীর দেয়া প্রথম জবাব নথিভুক্ত করার জন্য বারবার প্রার্থনা জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আদালত বাদীর দেয়া প্রথম জবাবের পরিবর্তে দ্বিতীয় জবাবই লিপিবদ্ধ করেন।
পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে স্থাপিত বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে গতকাল মামলার বাদী ও সরকারপক্ষের প্রধান সাক্ষী মাহবুবুল আলম হাওলাদারকে পঞ্চম ও শেষ দিনের মতো জেরা করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মঞ্জুর আহমেদ আনসারী, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম প্রমুখ। ২০০৯ সালে পিরোজপুরে সাঈদীর বিরুদ্ধে করা এজাহারের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে দেয়া বাদীর জবানবন্দির কোনো মিল নেই—উল্লেখ করে জেরা করতে চাইলে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম সাঈদীর আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ওই এজাহারটি এই ট্রাইব্যুনালের বিষয়ভুক্ত নয়। ওই এজাহারের সঙ্গে এই ট্রাইব্যুনালে দেয়া তার জবানবন্দির মধ্যে কোনো কন্ট্রাডিকশন (বৈপরিত্য) করা যাবে না। এটা করলে এই ট্রাইব্যুনালের বিধি লঙ্ঘন হবে। বিচারপতি নিজামুল হকের এ বক্তব্যের জবাবে সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, মাহবুবুল আলম নিজে বাদী হয়ে পিরোজপুর আদালতে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে এজাহারটি দায়ের করেছেন। ওই এজাহার বিষয়ে সরকার তদন্ত করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনসহ এজাহারটি এই ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কাজেই ওই এজাহার বিষয়ে বাদীকে প্রশ্ন করার আইনগত এখতিয়ার আমাদের রয়েছে। এটা ন্যায়বিচারের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটা করা না হলে আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হব। তিনি বলেন, বাদী আমার বিরুদ্ধে প্রথম যে অভিযোগ দায়ের করেছেন তাতে আমার বিরুদ্ধে এক ধরনের অভিযোগ এনেছেন, এখন জবানবন্দিতে বলছেন অন্য কথা। এ বিষয়ে পার্থক্য নির্ণয় করা না হলে আমরা সুবিচার পাব না। সাঈদীর আইনজীবীদের অনুনয়-বিনয়ের পর বিচারপতি নিজামুল হক সরকারপক্ষের আইনজীবীদের তাদের মতামত দেয়ার জন্য বলেন। বিচারপতি নিজামুল হকের সঙ্গে একমত পোষণ করে সরকারপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হায়দার আলী ট্রাইব্যুনাল বিধির বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে বলেন, এই ট্রাইব্যুনালে দেয়া জবানবন্দির সঙ্গে আগের কোনো এজাহার বা নথিপত্রের কনট্রাডিকশন তৈরি করা যাবে না। এটা করলে বিধি লঙ্ঘন হবে। সরকার পক্ষের আইনজীবীর এ বক্তব্যের জবাবে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে দিচ্ছেন। আর আমরা বাদীকে যৌক্তিক প্রশ্নও করতে পারব না—এটা হতে পারে না। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের কোনো ধারাতেই নেই, বাদীকে তার আগের দায়ের করা এজাহার সম্পর্কে প্রশ্ন করা যাবে না। এটা সাধারণ জ্ঞানেও বলে, একজন লোক আগে আমাকে একভাবে চিহ্নিত করেছেন। দুই বছর পরে এসে আমার ব্যাপারে ভিন্ন কথা বলছেন। কাজেই আগের কথার গুরুত্ব অনেক বেশি। উভয় পক্ষের আইনজীবীর বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আদালত এই পয়েন্টটি বাদ দিয়ে প্রশ্ন করতে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের পরামর্শ দেন।
অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম বাদী মাহবুবুল আলমের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনি তো ২০০৩ সালে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার আহ্বায়ক ছিলেন। আপনি নিজেকে একেক সময় একেক পরিচয় দিয়ে সুবিধা নিয়েছেন। আপনি ২০০৪ ও ২০০৫ সালে নিজেকে অসহায়, বেকার ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে আল্লামা সাঈদীর সুপারিশ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা নিয়েছেন। বর্তমান সরকারের সময় এসে আপনি সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিনিময়ে টাকা নিয়ে পাকা দালানঘর তৈরি করেছেন। একই সঙ্গে নিজের স্ত্রীকে দুস্থ শিশুর মাতা হিসেবে দেখিয়ে ভিজিএফ কার্ড করে নিয়েছেন। এছাড়া আপনি আপনার প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুকের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং সংখ্যালঘুর বাড়িতে চুরির দায়ে আপনি জেলও খেটেছেন। আপনি সাঈদীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন তা একশ ভাগই মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বর্তমান সরকার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে তাদের ভাতা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে। আপনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজের নাম ও পদবি ধরে রাখতেই সরকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্ররোচনায় সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন। অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামের এসব প্রশ্নের জবাবে বাদী মাহবুবুল আলম বলেন, আমাকে কেউ মামলায় প্ররোচনা করেনি। আমি নিজ থেকেই এ মামলা করেছি। আমি যা সত্য মনে করেছি, তা-ই করেছি; মিথ্যা কিছু করিনি।
অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামের আগে মাহবুবুল আলমকে আগের দিনের জেরার সূত্র ধরে গতকাল সকালে জেরা শুরু করেন মাওলানা সাঈদীর অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মঞ্জুর আহমেদ আনসারী। তিনি বিসাবলী সাহার হত্যার স্থান, পাড়েরহাটের মদনসাহার স্বর্ণের দোকানে লুট, ক্যাপ্টেন মাজেদসহ পাকিস্তান আর্মির ৫২ জন সদস্য ২৬টি রিকশায় করে পাড়েরহাটে আগমন, মাওলানা সাঈদীকে অভ্যর্থনা জানানো, বাদীর গোয়েন্দাগিরির বিবরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে জেরা করেন। বাদী অধিকাংশ প্রশ্নেরই ‘জানি না’ বলে জবাব দেন।
গতকাল বাদী মাহবুবুল আলমের জেরা শেষে আদালত আগামী রোববার পর্যন্ত কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করে। ওইদিন মামলায় সরকার পক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষীকে জেরা শুরু করবেন আইনজীবীরা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29503792 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29503792 2011-12-16 04:13:38
সাঈদীর মামলার বাদীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ ভুয়া একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের কথিত অভিযোগ এনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদার একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করেননি। তিনি একটি ভুয়া সনদ তৈরি করে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করেছেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মাহবুবুল আলম মাত্র ১২ বছরের কিশোর ছিলেন। বর্তমানে এলাকায় তিনি মিথ্যাবাদী, প্রতারক ও টাউট-বাটপাড় হিসেবে পরিচিত। একাত্তরে তাকে মুক্তিযুদ্ধের কোনো কাজেই দায়িত্ব দেয়া হয়নি। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রমাণিত হওয়ায় বর্তমান আওয়ামী লীগের এমপি এমএ আউয়াল তার ভাতা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদারকে জেরাকালে আদালতে তথ্য-প্রমাণসহ এসব বক্তব্য তুলে ধরেন সাঈদীর আইনজীবীরা। আইনজীবীদের জেরার জবাবে মাহবুবুল আলম পিরোজপুরের কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে চেনেন না বলে জানান। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যত বই প্রকাশ হয়েছে ও লেখালেখি হয়েছে, তা সঠিক নয়—সবই মিথ্যা বলে দাবি করে মুক্তিযুদ্ধকালীন গোয়েন্দা কমান্ডার মাহবুবুল আলম হাওলাদার বলেন, এগুলো সব মিথ্যা। এজন্যই আমি এগুলো পড়ি না।
বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের নেতৃত্বে পুরনো হাইকোর্ট ভবনে স্থাপিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গতকাল সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী ও সরকারপক্ষের প্রধান সাক্ষী মাহবুবুল আলম হাওলাদারকে চতুর্থ দিনের মতো জেরা করেন অ্যাডভোকেট কফিলউদ্দিন চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মঞ্জুর আহমেদ আনসারী। জেরার একপর্যায়ে আদালত সাক্ষীকে মামলার পয়েন্ট অনুযায়ী জেরা করার মরামর্শ দিলে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা একটি প্রশ্নও অতিরিক্ত করছি না। প্রতিটি প্রশ্নই মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এসব প্রশ্ন করতে হবে। আমরা এই আদালতে ন্যায়বিচারের জন্য এসেছি। এই ব্যক্তিই হচ্ছে মামলার প্রধান সাক্ষী। তিনি সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদীও। কাজেই আমরা তাকে সর্বমোট ১৮টি পয়েন্টে প্রশ্ন করব। এখনও আমাদের অনেক পয়েন্ট বাকি রয়েছে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আপনারা চার দিন ধরে একজন সাক্ষীকেই জেরা করছেন, বৃহস্পতিবারও তা চলবে। এখনও আপনারা বলছেন, আমরা আমাদের পয়েন্টে আসছি। এতে সাক্ষীর ওপরও চাপ পড়ে, এটাও মাথায় রাখা প্রয়োজন। আদালতের এ মন্তব্যের জবাবে অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দীন বলেন, আমরা একটি প্রশ্নও খামোখা করছি না। সব প্রশ্নেরই পয়েন্ট আছে। ট্রাইব্যুনালে সময়মত তা দেখতে পাবেন। এদিকে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাঈদী বলেন, মাননীয় আদালত! আমার একজন আত্মীয় এখানে এসেছিলেন। সাক্ষীর নিরাপত্তার কথা বলে তাকে বের করে দেয়া হয়েছে। অথচ সাক্ষীকে জেরা করার সময় সরকারপক্ষ থেকে আকার-ইঙ্গিতে তাকে জবাব বলে দেয়া হচ্ছে। আজকেও আমার একজন আইনজীবীকে আদালতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এ পর্যায়ে আদালত সরকারপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের কারও কথা থাকলে আমাদের লক্ষ্য করে হাত ওঠাবেন। আমরা সময় দিলে আপনারা কথা বলবেন। জেরার একপর্যায়ে সরকারপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াদ আল মালুম বলেন, যেভাবে জেরা হচ্ছে তাতে এই সাক্ষীর জেরা ২০১২ সালেও শেষ হবে না। তার এ বক্তব্যের জবাবে আদালত বলেন, ’১২ সালে শেষ না হলে ’১৩ সালে শেষ হবে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে জেরা করা জরুরি। গতকালের জেরার উল্লেখযোগ্য অংশ নিম্নরূপ :
গত মঙ্গলবারের জেরার সূত্র ধরে অ্যাডভোকেট কফিলউদ্দিন চৌধুরী বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদারের কাছে জানতে চান, সুন্দরবনে মেজর জিয়াউদ্দিনের ক্যাম্পে গেলে তাকে কী বলে সম্বোধন করতেন?
উত্তর : ওস্তাদ বলে ডাকতাম।
প্রশ্ন : সুন্দরবনে মেজর জিয়াউদ্দিনের একটি ক্যাম্প ছিল। ওই এলাকার নাম কী ছিল?
উত্তর : মনে নেই। সঠিক বলতে পারব না।
প্রশ্ন : ওই ক্যাম্পে যাওয়া-আসার সময় আপনি কখনও আক্রান্ত হয়েছিলেন কিনা?
উত্তর : আমি কখনোই আক্রান্ত হইনি বা আহত হইনি।
প্রশ্ন : ক্যাম্পের নিরাপত্তাবলয় ছিল কিনা বা কমান্ডো পাহারা দেয়া হতো কিনা?
উত্তর : নিরাপত্তা পাহারা ছিল না।
প্রশ্ন : তার ক্যাম্পে বা অফিসে গেলে আশপাশে দেখতেন এমন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার নাম বলেন।
উত্তর : মহিউদ্দিন খান, গণী ফসারী, চুন্নু খান, গৌতম হালদার, সুধীর মাস্টার, শংকর সেন মাঝেমধ্যে সেখানে যেতেন।
প্রশ্ন : মেজর জিয়াউদ্দিন তার যুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য তার কমান্ডকে বিভাগ ও উপ-বিভাগে বণ্টন করেছেন। তাদের নাম বলতে পারবেন?
উত্তর : মনে নেই। বলতে পারব না।
প্রশ্ন : মেজর জিয়াউদ্দিনের গোয়েন্দা শাখার একজনকে আলাদা করে প্রধান করা হয়েছিল। তার নাম কী?
উত্তর : মহিউদ্দিন কালাম।
প্রশ্ন : এই গোয়েন্দা কমান্ডার কোন এলাকার জন্য নির্ধারিত ছিলেন এবং তার অফিস ছিল কিনা?
উত্তর : আমার জানামতে ছিল না।
প্রশ্ন : পরিতোষ কুমার পাল নামে এমন কোনো মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে আপনার পরিচয় হয়েছিল কিনা?
উত্তর : এ নামে কাউকে আমি চিনি না।
প্রশ্ন : ওই ক্যাম্পের বাবুল গাজী নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে চিনতেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : তাম্বুলবুনিয়া ও পাঙ্গাসিয়ার নাম শুনেছেন কিনা?
উত্তর : পাঙ্গাসিয়ার নাম শুনেছি।
প্রশ্ন : পাঙ্গাসিয়া কি একটি বাড়ি, নদী, পাহাড়, গ্রাম—নাকি এলাকার নাম?
উত্তর : চিনি না। তবে গ্রাম হতে পারে।
প্রশ্ন : তাম্বুলবুনিয়া কি চেনেন?
উত্তর : চিনি না।
প্রশ্ন : মেজর জিয়াউদ্দিন আপনার এলাকায় কাকে কমান্ডার নিয়োগ করেছিলেন?
উত্তর : মেজর শামসুল হককে। বর্তমানে তিনি অ্যাডভোকেট।
প্রশ্ন : স্বরূপকাঠি, কাউখালী ও ভাণ্ডারিয়া থানায় কাকে কমান্ডার নিয়োগ করা হয়েছিল?
উত্তর : ভাণ্ডারিয়া থানার কথা মনে আছে।
প্রশ্ন : তার নাম বলেন।
উত্তর : কমান্ডার আজিজ।
প্রশ্ন : আপনি তো গোটা পিরোজপুরের গোয়েন্দা প্রধান ছিলেন। এর জন্য আপনি কোনো ট্রেনিং নিয়েছিলেন কিনা?
উত্তর : আমি স্বাভাবিক ট্রেনিং নিয়েছিলাম।
প্রশ্ন : একাত্তরের কখন আপনি সেই ট্রেনিংটা নিয়েছিলেন?
উত্তর : জুনের শেষদিকে সুন্দরবনে।
প্রশ্ন : ওই ক্যাম্পটা সুন্দরবনের কোথায় ছিল?
উত্তর : এটা আমি বলতে পারব না।
প্রশ্ন : মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান, হাবিবুর রহমান, মজিদ খান, জাহাঙ্গীর বাহাদুর, আলতাফ হোসেনকে চেনেন কিনা?
উত্তর : এই নামে কাউকে আমি চিনি না।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধকালে এই নামে কারও সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল কিনা?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনি এই ট্রাইব্যুনালে গত বছর ২০ জুলাই অভিযোগ দাখিল করেছেন। ওই সময় আপনি গোয়েন্দাগিরির কথা উল্লেখ করেননি।
উত্তর : ওই সময় এত কিছু চিন্তা করিনি।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর পাক হানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত হয়। কয়টায় মুক্ত হয়েছিল?
উত্তর : মনে নেই।
প্রশ্ন : সকালে, বিকালে নাকি রাতে?
উত্তর : মনে নেই।
প্রশ্ন : ৮ ডিসেম্বর পাড়েরহাটে মেজর জিয়াউদ্দিন এসেছিলেন কি?
উত্তর : তিনি শত্রুমুক্ত হওয়ার পর এসেছিলেন। ওই সময় আমি তার সঙ্গে ছিলাম। এ মুহূর্তে সময়টা মনে নেই।
প্রশ্ন : তারিখ মনে আছে কিনা?
উত্তর : মনে নেই।
প্রশ্ন : ৮ ডিসেম্বরের কতদিন পরে তিনি এসেছিলেন?
উত্তর : মনে নেই।
প্রশ্ন : আপনার ওস্তাদ মেজর জিয়াউদ্দিন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে একটি বই লিখেছেন? এটা পড়েছেন কিনা?
উত্তর : আমি পড়িনি। তবে শুনেছি।
প্রশ্ন : ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আপনার পিরোজপুর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ইতিহাস গ্রন্থ নামে একটি বই প্রকাশ হয়েছে। আপনি জানেন কিনা?
উত্তর : আমি জানি না।
প্রশ্ন : আপনি সত্য গোপন করছেন।
উত্তর : সত্য নয়। ওই বইগুলোতে লেখার কোনো সত্যতা নেই। এজন্য আমি এগুলো পড়িনি।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে কবি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র নামে গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়। ওই গ্রন্থে পিরোজপুরের স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর : আমি ওই গ্রন্থ পড়িনি। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যুদ্ধ নিয়ে যত বই প্রকাশ হয়েছে ও লেখালেখি হয়েছে, তা সঠিক না। সবই মিথ্যা।
প্রশ্ন : ওই বইয়ে প্রকৃত ঘটনা আছে বলে আপনি তা অস্বীকার করছেন?
উত্তর : এটা ঠিক না।
প্রশ্ন : একাত্তরের ৮, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর মেজর জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে পিরোজপুরে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির লোকদের খুঁজে বের করেন এবং স্টিমারে করে সুন্দরবনে নিয়ে তাদের হত্যা করেন?
উত্তর : একদম মিথ্যা।
প্রশ্ন : এ সময়ে সিকান্দার সিকদার, মোসলেম মোল্লা, দানেস মোল্লা, দেলোয়ার হোসেন মল্লিক, সৈয়দ মুহাম্মদ আফজালসহ কুখ্যাত রাজাকারদের গ্রেফতার করা হয়?
উত্তর : সিকান্দারকে গ্রেফতারের কথা জানি। অন্যরা পলাতক ছিলেন।
প্রশ্ন : যুদ্ধের পর স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে পিরোজপুরে একটি মামলা হয়েছিল। আপনি জানেন?
উত্তর : আমি জানি না।
প্রশ্ন : বড় রাজাকার যারা ছিল তাদের চেনেন?
উত্তর : গোলাম আযমসহ অনেকেই পলাতক ছিলেন।
প্রশ্ন : মেজর জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে আপনার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না বলেই আপনি ভুল তথ্য দিচ্ছেন।
উত্তর : ঠিক না।
প্রশ্ন : মেজর জিয়াউদ্দিন আপনাকে কোনো দায়িত্বই দেননি।
উত্তর : ঠিক না।
প্রশ্ন : আপনার এলাকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা আপনার বিরুদ্ধে একটি দরখাস্ত দিয়ে বলেছিলেন যে, আপনি প্রতারক ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।
উত্তর : এটা সঠিক না।
প্রশ্ন : মুক্তিবার্তার কোন সংখ্যায় আপনি তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন?
উত্তর : বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সময়।
প্রশ্ন : ২০০৪ ও ২০০৫ সালে আপনি নিজেকে অসহায় ও বেকার মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দুটি আবেদন করে সাহায্য চেয়েছিলেন। তাকে সুপারিশ করেছেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।
উত্তর : পিরোজপুর কমান্ড কাউন্সিল আমার দরখাস্তে সুপারিশ সংগ্রহ করে দিয়েছিল।
প্রশ্ন : বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় অংশ সাঈদীর পক্ষে প্রত্যেক নির্বাচনেই কাজ করেছেন। আপনি অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকায় কেউ সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধী বা অন্য কোনো অভিযোগ করেনি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : জনগণের আবেদনের প্রেক্ষিতে বর্তমান এমপি এমএ আউয়াল সরকারের প্রথম দিকে আপনার ভাতা বন্ধ করে দিয়েছিল।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি বেকার, অসহায় ও সমস্যার কথা উল্লেখ করে বর্তমান এমপি এমএ আউয়ালের কাছে গিয়ে আবার ভাতা চালু করার জন্য অনুরোধ জানান।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : এমপি এমএ আউয়াল সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে আপনাকে দিয়ে এ ভুয়া মামলা দায়ের করিয়েছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : দেশে ৬২ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে, ঠিক কিনা?
উত্তর : এরা বিএনপির আমলে হয়েছে।
প্রশ্ন : আপনিও তো বিএনপির আমলে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি আদালতে যেভাবে সাঈদীর নাম বিকৃত করেছেন, অন্য কোথাও এভাবে করেননি।
উত্তর : এটা ঠিক।
প্রশ্ন : পিরোজপুরের এসডিপি ফয়েজ মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ হয়েছেন। শুনেছেন?
উত্তর : শুনেছি।
প্রশ্ন : তার স্ত্রী আয়েশা ফয়েজ এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো মামলা করেছিলেন কিনা?
উত্তর : শুনেছি।
প্রশ্ন : ২০০৮ সাল ‘জীবন যেরকম’ নামে একটি বই লিখেছেন।
উত্তর : জানি না।
প্রশ্ন : ওই বইয়ে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে ও তার মামলায় সাঈদীর নাম নেই।
উত্তর : আমি জানি না।
প্রশ্ন : স্বাধীনতার আগে ও পরে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাঈন সাঈদী নিজ নামে ও পরিচয়ে নিজের এলাকা অথবা অন্য কোথাও ওয়াজ মাহফিল করেছেন। তিনি কখনোই পলাতক ছিলেন না।
উত্তর : তিনি নিজ নামে ’৭৫ ও ’৭৬-এর আগে ওয়াজ করতেন।
প্রশ্ন : আপনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার কবে হয়েছেন?
উত্তর : জিয়ানগর এলাকার কমান্ডার হয়েছি সম্ভবত গত জুনে।
প্রশ্ন : আপনার পূর্বে কারা কমান্ডার ছিলেন?
উত্তর : আবুল লতিফ কমান্ডার যুদ্ধের পর থেকেই কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রশ্ন : তার পরে ও আপনার আগে কারা দায়িত্ব পালন করেন?
উত্তর : বেলায়েত ছিলেন কিছুদিন।
প্রশ্ন : নির্বাচন কতদিন পরপর হয়?
উত্তর : দুই বছর পরপর হয়।
প্রশ্ন : এখন কতদিন পর হয়?
উত্তর : সংসদ পরিবর্তন হয়েছে শুনেছি। কাগজপত্র পাইনি।
প্রশ্ন : জিয়ানগর থানা কোন বছর হয়েছে?
উত্তর : ১৯৭৪ সালে।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনার পেশা কী ছিল?
উত্তর : ছাত্র ছিলাম।
প্রশ্ন : হাবিলদার শহীদ আলাউদ্দিনের সঙ্গে পরিচয় ছিল কিনা?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনার এলাকার মুক্তিযোদ্ধা হাবিলদার শামসুল হক, আলতাফ হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, আফজাল হোসেন, হেমায়েত হোসেন বাদশা, নুরুল ইসলাম, মজিবুল হক মজনু, শহীদ আসাদ, হেলাল, টিপু সুলতান, কামালউদ্দিন, হাবিবুর রহমান সিকদার, হাবিলদার আবদুল হাই, সুবেদার লতিফ, সুবেদার গাফফার, হাবিবুর রহমান, সুবেদার ফুলু, শহীদ খন্দার, সহিদুল আলম, বাদল, হাবিলদার ফজলুল হককে আপনি চেনেন কিনা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় এদের সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছিল কিনা?
উত্তর : এদেরকে আমি চিনি না। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পাড়েরহাট বাজারে হাজারখানেক দোকান ছিল?
উত্তর : পাঁচ-সাতশ’।
প্রশ্ন : পাড়েরহাট বাজার থেকে আপনার বাড়ি পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা ছিল?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : পাড়েরহাট রিকশা স্ট্যান্ড থেকে আপনার বাড়ি কতদূর?
উত্তর : দেড় কিলোমিটার।
প্রশ্ন : আমি বলছি তিন কিলোমিটার।
উত্তর : না, দেড় কিলোমিটার হবে।
প্রশ্ন : আপনারা কি তিন ভাই?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : আপনার ভাই বাতেন হাওলাদার কি আপনার পৈতৃক বাড়িতেই থাকেন?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : আপনার ভাই মজিদ হাওলাদার কি মারা গেছেন?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : তার চার ছেলে?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : তারা একাত্তরে আপনার সঙ্গেই থাকতেন?
উত্তর : একই বাড়িতে আলাদা থাকতাম।
প্রশ্ন : আপনার বাড়িতে মৃত মোবারকের ছেলে আবদুল হাই থাকেন?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : মোবারকের আরও দুই ছেলে জব্বার ও আউয়াল একই বাড়িতে থাকেন?
উত্তর : আলাদা থাকেন।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আবদুল হাইয়ের বয়স কত ছিল?
উত্তর : আমি এবং সে একই বয়সের।
প্রশ্ন : বর্তমানে জব্বারের বয়স ৫৭ এবং আউয়ালের বয়স ৫২।
উত্তর : জব্বারের বয়স ৩৮ থেকে ৪০ এবং আউয়ালের বয়স ৫০ হবে।
প্রশ্ন : আপনাদের একই বাড়ির মোতাহারের ছেলে ফারুকের বয়স কত?
উত্তর : ৫০ হবে।
প্রশ্ন : আপনাদের এই বাড়ির জাহাঙ্গীরের পিতা মৃত লালা হাওলাদারের বয়স কত?
উত্তর : ৪৭ থেকে ৪৮ বছর হবে।
প্রশ্ন : ইমরুল হাওলাদারের ছেলে মহসিনের বয়স কত?
উত্তর : ৬৩ বছর হবে।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে যাদের নাম বললাম, তাদের সঙ্গে একই বাড়িতে ছিলেন?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : আপনাদের উত্তর পাশে ফকিরবাড়ি?
উত্তর : ইঙ্গুর আলী সরদারের বাড়ি।
প্রশ্ন : ওই সরদার বাড়িতে ১৯৭১ সালে কয়টি ঘর ছিল?
উত্তর : ওই বাড়িতে একটি ঘর ছিল। বড় ছেলে আবদুল লতিফ হাওলাদারের বর্তমান বয়স ৪৭-৪৮ হবে।
প্রশ্ন : ফকির বাড়ির মোবারক ফকির, রুহুল আমিন ফকির ও বনি ফকিরকে চেনেন?
উত্তর : চিনি।
প্রশ্ন : জিন্নাত আলী ফকিরকে চেনেন?
উত্তর : চিনি।
প্রশ্ন : তার বড় ছেলে কে?
উত্তর : আবুল হোসেন ফকির।
গতকালের এ জেরার পর আদালতের কার্যক্রম আজ সকাল পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29503169 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29503169 2011-12-15 04:41:47
সাঈদীর মামলার বাদী চুরি ও যৌতুকের মামলায় নিম্ন আদালতে সাজা পেয়েছিলেন
একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদারের বয়স যুদ্ধের সময় ছিল ১১ বছর। পরে হিন্দুবাড়িতে চুরির দায়ে নিম্ন আদালতে তার কারাদণ্ড হয়েছিল। এছাড়াও যৌতুকের দাবিতে প্রথম স্ত্রীকে নির্যাতন করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নিম্ন আদালতে তার সাজা হয়। উভয় মামলায় তিনি প্রাথমিকভাবে কারাভোগ করেন। পরে আপিল করেন। স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। চুরির মামলায় খালাস পান। এছাড়া গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাদী মাহবুবুল আলম আইনজীবীদের জেরার জবাবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা, পিরোজপুরের হত্যাকাণ্ড এবং রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির নেতা এবং কমান্ডারদের ভূমিকা সম্পর্কে বলেন, এগুলো ৪০ বছর আগের ঘটনা। এখন এতকিছু মনে নেই।
বাদী মাহবুবুল আলমকে গতকাল জেরা করেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট কফিলউদ্দিন চৌধুরী। জেরা চলাকালে সরকারপক্ষ ও আসামিপক্ষের অন্যান্য আইনজীবী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। বাদী মাহবুবুল আলমের অসংলগ্ন উত্তর ও বক্তব্য আদালতে কৌতুকরসের সৃষ্টি করে। জেরাকালে সরকারপক্ষের আইনজীবীরা মাঝে মাঝে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আপত্তি পেশ করেন। সরকারপক্ষের নথি ও বাদীর জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রশ্ন করতে চাইলেও সরকারপক্ষের আইনজীবীরা বাধা সৃষ্টি করেন এবং আদালতে জোরাল আপত্তি পেশ করেন। সরকারপক্ষের আইনজীবীদের প্রবল আপত্তির একপর্যায়ে আদালত বিষয়বস্তুর (কনটেম্লট) ব্যাপারে বাদীকে কোনো প্রশ্ন না করার জন্য আসামিপক্ষের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ট্রাইব্যুনালের রুলস মেনে প্রশ্ন করুন এবং রুলসে বলা আছে যে, বাদীকে বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রশ্ন করা যাবে না। এ বিষয়ে আদালতে প্রায় উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে এক ঘণ্টা যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি বিনিময় হয়। শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বারবার সরকারপক্ষের আইনজীবীদের বাধা সৃষ্টির বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতে আনেন। আইনজীবীদের ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালতের মর্যাদা রক্ষা করে শান্ত থাকার জন্য আদালত বারবার তাগিদ দেন।
উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বাকবিতণ্ডা : গত মঙ্গলবারের পর গতকালও বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদারকে জেরা করেন সাঈদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। জেরার একপর্যায়ে তিনি বাদীর কাছে জানতে চেয়ে বলেন, আপনি জবানবন্দিতে বলেছেন যে, পারেরহাটের বিসাবলী নামের জনৈক সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যকে নারিকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে পাকিস্তান আর্মিরা সাঈদীর নির্দেশে গুলি করে হত্যা করেছে। হত্যার সময় সাঈদীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ বক্তব্য ঠিক কিনা? উত্তরে মাহবুবুল আলম হাওলাদার বলেন, ঠিক। অ্যাডভোকেট মিজান পরের প্রশ্নে বলেন, নিহতদের নিয়ে আপনার তৈরি করা একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, ২৬ ব্যক্তিকে নৌকায় বলেশ্বর নদীতে নিয়ে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। ওই তালিকার ১নং ব্যক্তির নাম হচ্ছে বিসাবলী। এই তালিকা সঠিক, নাকি আপনার জবানবন্দি সঠিক। সাঈদীর আইনজীবীর এ প্রশ্নের পরপরই সরকারপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হায়দার আলী দাঁড়িয়ে বলেন, কোনো বিষয়বস্তুর ওপর প্রশ্ন করা যাবে না। এতে আমাদের জোরাল আপত্তি রয়েছে। তার এ বক্তব্যের জবাবে অ্যাডভোকেট মিজান বলেন, আমরা যে প্রশ্নগুলো করছি তা আপনাদের দেয়া কাগজপত্র থেকেই। এতে তো আপনাদের আপত্তির কিছু দেখছি না। বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রশ্ন না করলে আমরা সত্য উদঘাটন করব কীভাবে? সাঈদীর অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল বলেন, এভাবে চললে আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হব। এ বিষয় নিয়ে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আদালত বলেন, বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রশ্ন করা যাবে না। আদালতের এ আদেশের পর অ্যাডভোকেট মিজান বলেন, এটিই হচ্ছে আমাদের প্রধান পয়েন্ট। এ বিষয়ে প্রশ্ন করে আমাদের প্রকৃত সত্য বের করতে হবে। আদালত যদি আমাদের এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে অনুমতি না দেন, তাহলে এ বিষয়টি আজকে থাক। আমরা সিনিয়রদের সঙ্গে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। আমরা অপর পয়েন্টে প্রশ্ন করছি।
সওয়াল ও জবাব : আদালতের অনুমতি নিয়ে অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম বাদী মাহবুবুল আলমকে প্রশ্ন করেন। উল্লেখযোগ্য কিছু প্রশ্ন ও উত্তর নিম্নরূপ।
প্রশ্ন : ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিলের জন্য আপনার কাছে একটি আবেদন চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছিল। ওই চিঠিটা কবে দেয়া হয়েছিল?
উত্তর : নির্দিষ্ট তারিখ মনে নেই। তবে অভিযোগ দায়েরের প্রায় এক মাস আগে হবে।
প্রশ্ন : আপনি কতটুকু পড়ালেখা করেছেন?
উত্তর : আমি মাদরাসায় পড়তে চাইনি। আমাকে জোর করে আমার বাবা মাদরাসায় ভর্তি করে দিয়েছেন। পরে আমি মাদরাসা থেকে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হই। প্রাইমারি স্কুলে পড়ালেখা শেষ করে আবার মাদরাসায় পড়ি। পরে আবার ষষ্ঠ শ্রেণীতে স্কুলে ভর্তি হই।
প্রশ্ন : আপনি ষষ্ঠ শ্রেণী কোন স্কুলে পড়েছেন?
উত্তর : পাড়েরহাট রাজলক্ষ্মী উচ্চ বিদ্যালয়ে।
প্রশ্ন : আপনি কোন শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন?
উত্তর : এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। পাস করিনি।
প্রশ্ন : আপনার এসএসসির রেজিস্ট্রেশন কার্ড অনুযায়ী আপনার জন্মতারিখ হচ্ছে ২০ মার্চ, ১৯৫৯। যুদ্ধের সময় আপনার বয়স ছিল ১১ বছর।
উত্তর : ওইটা লেখাপড়ার বয়স। তাতে আমি সঠিক বয়স লিখিনি।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বাকশাল সরকার ক্ষমতায় ছিল।
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : ওই সময় আপনি সাঈদীর বিরুদ্ধে পিরোজপুরে কোনো মামলা, সাধারণ ডায়েরি কিংবা অন্য কোনো সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কিনা?
উত্তর : করিনি। উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না।
প্রশ্ন : ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এরশাদ সরকার ক্ষমতায় ছিল এবং ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় ছিল। ওই সময়ও আপনি কোনো অভিযোগ বা মামলা কিংবা কোনো জিডি করেননি।
উত্তর : করিনি।
প্রশ্ন : আপনি হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও করেননি।
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ২০০৯ সালে পিরোজপুর আদালতে সাঈদীর বিরুদ্ধে কার নির্দেশে আপনি মামলা দায়ের করেছেন?
উত্তর : নিজেই করেছি।
প্রশ্ন : আপনার এ মামলা দায়েরের আগে সাঈদীকে সরকার বিদেশে যেতে বাধা দেয়ার পর তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট তার পক্ষে আদেশ দিলে সরকার আপিল করে। আপিল শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে পিরোজপুরে শিগগির মামলা হবে। কাজেই তাকে বিদেশে যেতে দেয়া যাবে না। অ্যাটর্নি জেনারেলের ওই বক্তব্যের পরই আপনি সরকারের নির্দেশে এ মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
উত্তর : এ বক্তব্য সঠিক নয়।
প্রশ্ন : আপনার দায়ের করা মামলা তদন্তের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা আপনার বাসায় গিয়েছিলেন?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : আপনি তাকে কোনো আলামত দিতে পারেননি।
উত্তর : সম্ভবত না।
প্রশ্ন : ১৯৯২ সালে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির গণআদালতে আপনি কোনো সাক্ষ্য বা বক্তব্য দিয়েছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ১৯৯৪ সালে যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত করতে গঠিত গণতদন্ত কমিশনের সামনে আপনি কোনো বক্তব্য দিয়েছিলেন?
উত্তর : না। তবে আমাকে ডাকা হয়েছিল।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ শেখ মুজিবের ভাষণের দিন আপনি বিবাহিত ছিলেন?
উত্তর : না। আমি বিয়ে করেছি ১৯৭৩ সালে।
প্রশ্ন : আপনার স্ত্রীর নাম ফিরোজা বেগম?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : আপনি আপনার স্ত্রীর কাছে যৌতুক চেয়েছিলেন। না দেয়ায় আপনি তাকে নির্যাতন করেন। পরে তিনি আপনার বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করেন। ওই মামলায় আপনার শাস্তি হয়। আপনি কারাভোগ করেছেন। ওই মামলায় আপনি এখনও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ঠিক কিনা?
উত্তর : ওই মামলায় আমি উচ্চ আদালত থেকে এখন জামিনে আছি। তাছাড়া ফিরোজা বেগম ছিল আমার প্রথম স্ত্রী। তাকে আমি তালাক দিয়েছি। পরে সে আমার নামে মামলা করেছে।
প্রশ্ন : আপনি আপনার এলাকার সংখ্যালঘু সুভাস চন্দ্রের বাড়িতে চুরি করেছেন। ওই চুরির অভিযোগে আপনার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আপনার সাজা হয়েছে। আপনি দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে জেল খেটেছেন। ঠিক কিনা?
উত্তর : এখানে একটু কথা আছে। আমার বিরুদ্ধে সাজা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু পরে আমি আপিল করেছি। আপিলে আমি খালাস পেয়েছি।
প্রশ্ন : আপনার এলাকায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগেই সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল। ওই পরিষদে কারা ছিলেন?
উত্তর : মনে নেই।
প্রশ্ন : আপনার এলাকার শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলশামস ও আলবদরের কমান্ডার বা সভাপতি-সেক্রেটারি কারা ছিলেন?
প্রশ্ন : জানা নেই।
উত্তর : যুদ্ধের সময় আপনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন কি?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনি কি খুব ভালো উর্দু জানেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনি জবানবন্দিতে বলেছেন যে, সাঈদী ভালো উর্দু জানতেন। আপনি নিজেই উর্দু জানেন না। তাহলে কীভাবে আপনি জানলেন যে, সাঈদী ভালো উর্দু জানতেন?
উত্তর : উর্দু না জানলেও বুঝতে পারতাম।
প্রশ্ন : যুদ্ধের সময় আপনি পত্রিকা পড়তেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : তাহলে আপনি কীভাবে জানলেন যে, জামায়াতে ইসলামী খুলনায় ও কুষ্টিয়ায় মিটিং সমাবেশ করেছে?
উত্তর : শুনেছি।
প্রশ্ন : রাজাকার বাহিনী একটি সরকারি বাহিনী ছিল। এটা কি আপনি জানেন?
উত্তর : সরকারি বাহিনী ছিল কিনা জানি না। তবে পাকিস্তান আর্মির সহযোগী ছিল। আমরা কিন্তু পাকিস্তান আর্মিদের ভয় পাইনি। আমরা এই রাজাকারদেরই বেশি ভয় পেতাম।
অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামের জেরার পর সাঈদীর অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট কফিলউদ্দিন চৌধুরী বাদী ও সরকারপক্ষের প্রধান এই সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন।
প্রশ্ন : আপনার এলাকায় পাক হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ৭ মে হামলা চালায় বলে আপনি উল্লেখ করেছেন। এর কতদিন আগে আপনি পিরোজপুরের গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন?
উত্তর : ২৫ মার্চের পরপরই পাড়েরহাট স্কুলের মাঠে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে আমাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়।
প্রশ্ন : আপনি উল্লেখ করেছেন যে, পিরোজপুরের বাইরেও সুন্দরবনে মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্পে আপনি যুদ্ধের সংবাদ আদান-প্রদান করেছেন। এ দায়িত্ব আপনাকে কবে দেয়া হয়?
উত্তর : এ দায়িত্বও আমাকে আগেই দেয়া হয়েছিল।
প্রশ্ন : আপনি কতবার সুন্দরবনের ক্যাম্পে গিয়েছিলেন?
উত্তর : কমপক্ষে ৫০ বার হবে।
প্রশ্ন : ওই ক্যাম্পের দায়িত্বে কে ছিলেন?
উত্তর : মেজর জিয়াউদ্দিন।
প্রশ্ন : তার সঙ্গে আপনার কতবার দেখা হয়েছিল?
উত্তর : কয়েকবার দেখা হয়েছিল। বেশিরভাগ অন্য লোকদের সঙ্গে দেখা হতো।
প্রশ্ন : আপনার এলাকা থেকে সুন্দরবন ক্যাম্পে যেতে-আসতে কত সময় লাগত।
উত্তর : রাজাকারদের ভয়ে আমরা সরাসরি যেতে পারিনি। কখনও বেশি সময় কখনও কম সময় লাগত।
প্রশ্ন : কত দিন লাগত?
উত্তর : আমি কখনোই সহজে যাওয়া-আসা করতে পারিনি।
প্রশ্ন : সবচেয়ে কম কত দিনে যাওয়া-আসা করেছিলেন?
উত্তর : চল্লিশ বছর আগের কথা কি এখন মনে থাকে? এত আগের কথা এখন মনে নেই। এ কথা বলেই মাহবুবুল আলম হাওলাদার বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজাকারদের নিয়ে এত প্রশ্ন কেন? আমরা পাকিস্তান আর্মিকে একটুও ভয় পাইনি। তারা আমাদের কোনো ক্ষতি করেনি। আমাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে রাজাকাররা। তাদের বিচারের জন্য এত প্রশ্ন কেন? পরে আদালত মামলার কার্যক্রম থেকে তার এ বক্তব্যগুলো বাদ দেন। আদালত আজ পর্যন্ত সওয়াল-জবাব মুলতবি ঘোষণা করেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29502486 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29502486 2011-12-14 05:40:10
সাঈদীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের অধিকাংশই শোনা কথা কিছু তিনি জানেন না। ছবিগুলো ফটোকপি করার জন্য ঘটনাস্থলে তদন্তকারী দলের সদস্যরা ব্রিফকেসে ফটোকপি মেশিন নিয়ে গিয়েছিলেন। আল্লামা সাঈদীর আইনজীবীদের জেরার জবাবে বাদী আদালতে গতকাল এসব বক্তব্য তুলে ধরেন। ৮ বছর আগে তিনি নিজ এলাকায় থাকার জন্য একটি পাকা দালান করলেও নিজেকে বেকার ও অসহায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাহায্য চেয়ে একটি আবেদন করেছিলেন বলে আদালতে স্বীকার করেন।
এছাড়া গতকাল সরকারপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে
পেশ করেছে। আদালত আগামী ১৮ ডিসেম্বর এ অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হবে কিনা তার ওপর শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন। একই দিন দলের অপর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করবে বলে সরকারপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান। এদিকে গতকাল আদালতে জামায়াত নেতাদের পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক আদালতে বলেন, সরকার একদিকে ঘোষণা করছে যে, এই ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিচার করছেন। অপরদিকে সরকারের মন্ত্রীরাই ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত আগেই জনসমক্ষে ঘোষণা করে দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আটক জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের বিচারের বিষয়ে আইনমন্ত্রী এবং আইন প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীদের দেয়া বক্তব্য ও বিবৃতির পত্রপত্রিকায় ছাপানো কপি আদালতে পেশ করে তিনি বলেন, সরকারের এসব মন্ত্রী আগেই মিডিয়া ট্রায়াল চালিয়ে যাচ্ছেন। কখন কার বিচার হবে, কতজনের বিচার হবে এবং বিচারে কী সাজা হবে—সবকিছুই মন্ত্রীরা আগাম ঘোষণা দিয়ে দিচ্ছেন। এগুলো করে মূলত সরকার বিচারের ওপর অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ করছে। ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের এ বক্তব্য গ্রহণ করে আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, বিচারের ওপর প্রভাব পড়ে—মন্ত্রী বা অন্য কোনো নেতাদের এমন মন্তব্য ও বক্তব্য দেয়া উচিত নয়। ট্রাইব্যুনাল ও বিচার কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রীরাসহ অন্য কেউ যাতে আগাম বক্তব্য না দেন, সে ব্যাপারে আমরা আগেও একাধিকবার নিষেধ করেছি।
প্রধান সাক্ষীর সওয়াল-জবাব : মানবতাবিরোধী অপরাধের কথিত অভিযোগ এনে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে পিরোজপুরে দায়ের করা মামলার বাদী ও সরকারের প্রধান সাক্ষী মাহবুবুল আলম হাওলাদার আদালতে স্বেচ্ছায় যেসব জবানবন্দি দিয়েছেন, তার আলোকে গতকাল তাকে জেরা করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। বেলা সোয়া ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জেরার একপর্যায়ে আদালত আজ সকাল পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়। অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদারকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি জবানবন্দিতে বলেছেন যে, মামলার আলামতগুলো নিজ জিম্মায় রেখেছিলেন। এটা ঠিক কিনা? উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ, এগুলো আমার জিম্মায় ছিল।
প্রশ্ন : আপনি ও মানিক ফসারী (একাত্তরের ক্ষত্রিগ্রস্ত ব্যক্তি) পিরোজপুর আদালতে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে পৃথকভাবে দুটি মামলা করেছিলেন। এটা ঠিক কিনা?
উত্তর : হ্যাঁ, এটা ঠিক।
প্রশ্ন : মানিক ফসারীও আদালতে একটি আলামতের কথা উল্লেখ করেছেন এবং এগুলো তার জিম্মায় রয়েছে বলে হলফ করে ঘোষণা করেছেন। আপনি তাকে আলামতগুলো দিয়েছেন, এটা ঠিক কিনা?
উত্তর : আলামতগুলো মানিক ফসারীর কাছেই ছিল। তিনি এগুলো যে স্থানে রেখেছিলেন, তা আমি দেখেছি।
প্রশ্ন : মামলা দুটি দায়েরের পর আপনারা দু’জনেই পৃথকভাবে একুশে টিভি ও এটিএন বাংলাকে সাক্ষাত্কার দিয়েছিলেন, এটা ঠিক কিনা?
উত্তর : সাক্ষাত্কার দিয়েছিলাম কিনা তা মনে নেই।
প্রশ্ন : উদ্ধারকৃত আলামতগুলোর একটি জব্দনামা তৈরি করতে হবে—এটা আপনাকে কে প্রথম বলেছিলেন?
উত্তর : তদন্তকারী দলের সদস্যরা আমাকে জব্দনামার কথা বলেছেন।
প্রশ্ন : জব্দনামা কখন তৈরি করা হয়েছিল?
উত্তর : গত বছর ৮ মে, বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে।
প্রশ্ন : আপনি ইতিপূর্বে আদালতে জবানবন্দিতে বলেছেন, মানিক ফসারী ও আলম ফসারীর বাড়ির পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্র ও অন্য মালামালের জব্দতালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই দুই বাড়ির মধ্যে কোন বাড়ির মালামালের জব্দতালিকা আগে করা হয়েছিল?
উত্তর : সম্ভবত মানিক ফসারীর বাড়ির মালামালের।
প্রশ্ন : মানিক ফসারীর বাড়ির মালামালের জব্দতালিকা করতে কত সময় লেগেছিল?
উত্তর : ১৫-২০ মিনিট হবে।
প্রশ্ন : আলম ফসারীর বাড়ির মালামালের জব্দতালিকা করতে কত সময় লেগেছিল?
উত্তর : ১০-১৫ মিনিট লেগেছিল।
প্রশ্ন : ইতিপূর্বে আপনি সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিতে বলেছিলেন যে, উভয় বাড়ির মালামালের জব্দতালিকা বেলা ১১টায় করা হয়েছিল। ওই বক্তব্য ঠিক কিনা?
উত্তর : হ্যাঁ, ওইদিন ১১টায় বলেছিলাম।
প্রশ্ন : জব্দ করা মালামালের কোনো লেভেল নাম্বার দেয়া হয়নি, এটা ঠিক কিনা?
উত্তর : এটা তদন্তকারী কর্মকর্তা করেছেন।
প্রশ্ন : মানিক ফসারী ও আলম ফসারীর মধ্যে বড় কে?
উত্তর : সম্ভবত মানিক ফসারী বড়।
প্রশ্ন : জব্দতালিকায় তাদের কাউকেই সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়নি, ঠিক কিনা?
উত্তর : হ্যাঁ, ঠিক।
প্রশ্ন : জব্দতালিকার মালামালের মধ্যে কোনো পোড়া দাগ ছিল না। এটা ঠিক কিনা?
উত্তর : এটা ঠিক না।
প্রশ্ন : মূলত মামলা করার জন্যই মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে এ মিথ্যা জব্দতালিকা তৈরি করা হয়েছে।
উত্তর : এটা ঠিক না।
প্রশ্ন : মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কখনও সেলিম খানের বাড়িতে গিয়েছেন?
উত্তর : ওইদিনই বেলা ১২টায়।
প্রশ্ন : আদালতে সেলিম খানের বাড়ির যে ছবি দিয়েছেন, তা মূল ছবি নয়, ফটোকপি। ঠিক কিনা?
উত্তর : হ্যাঁ, এগুলো ফটোকপি।
প্রশ্ন : ফটোকপি করার জন্য ওই বাড়িতে কোনো ফটোকপি মেশিন ছিল না, এটা ঠিক কিনা?
উত্তর : ফটোকপি মেশিন তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঢাকা থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন।
প্রশ্ন : তদন্তকারী কর্মকর্তারা ফটোকপি মেশিন কিসে করে নিয়েছিলেন?
উত্তর : ফটোকপি মেশিন তাদের ব্রিফকেসেই ছিল।
প্রশ্ন : জব্দ করা মালামালের সূত্র, স্থান—কার কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে, এসব কিছুই লেখা নেই।
উত্তর : হ্যাঁ, এসব নেই।
প্রশ্ন : আদালতে আরও যে তিনটি ছবি জমা দিয়েছেন, সেগুলোর অবস্থাও একই। ঠিক কিনা?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : আলম ফসারীর পোড়া বাড়ির যে ছবি দিয়েছেন, সেটাও একই প্রকৃতির।
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : আল্লামা সাঈদী কোন ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলেন?
উত্তর : জানি না।
প্রশ্ন : তিনি কোন ক্লাস পর্যন্ত পড়েছেন?
উত্তর : আলেম ক্লাস পর্যন্ত।
প্রশ্ন : আপনার বাড়ি থেকে শর্ষীনা আলিয়া মাদরাসা কত দূরে?
উত্তর : ২০-২৫ কিলোমিটার হবে।
প্রশ্ন : আপনি মাদরাসায় কখনও গিয়েছিলেন?
উত্তর : না, আমি কখনোই যাইনি।
প্রশ্ন : আপনি ওই মাদরাসার প্রিন্সিপাল, মুহাদ্দিস কিংবা আল্লামা সাঈদীর কোনো সিনিয়র বা জুনিয়র ছাত্রকে চিনতেন কিনা?
আসামিপক্ষের আইনজীবীর এ প্রশ্নের পরপরই সরকারপক্ষের আইনজীবীরা ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, এ ধরনের প্রশ্ন করে সময় ক্ষেপণ করা হচ্ছে। মামলার সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। সরকারপক্ষের আইনজীবীদের এ বক্তব্যের জবাবে অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম বলেন, মাননীয় আদালত, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বাংলাদেশে একজনই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার সুখ্যাতি রয়েছে। অথচ এই সাক্ষীই আদালতে হলফ করে বলেছেন যে, অসদাচরণের দায়ে তদন্তপূর্বক আল্লামা সাঈদীকে ওই মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আল্লামা সাঈদীকে দেইল্লা ও দেলু বলে সরকারপক্ষের বন্ধুরা কটাক্ষ করছেন এই সাক্ষীর জবানবন্দির আলোকেই। কাজেই আদালতে আমাদের এগুলো সম্পর্কে জানতেই হবে। এ পর্যায়ে আদালতের হস্তক্ষেপে সরকারপক্ষের আইনজীবীরা ক্ষান্ত হলে অ্যাডভোকেট মিজান আবার জেরা শুরু করেন।
প্রশ্ন : আপনি জীবনে কখনও শর্ষীনা আলিয়া মাদরাসার কোনো ছাত্রের সঙ্গে কথা বলেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আল্লামা সাঈদীকে শর্ষীনা আলিয়া মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, এটা কিসের ভিত্তিতে আপনি বলেছেন?
উত্তর : আমি আমার এলাকার কয়েকজনের কাছে এটা শুনেছি।
প্রশ্ন : আপনি এ কথা পিরোজপুরে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেননি।
উত্তর : পরে সম্পূরক আবেদন দিয়ে এটা উল্লেখ করেছি।
প্রশ্ন : আপনি এ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত একটিই আবেদন করেছেন। ওই আবেদনে এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি।
উত্তর : মনে নেই।
প্রশ্ন : আল্লামা সাঈদীকে হেয় করার জন্য আপনি এ মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।
উত্তর : এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি যে বাড়িতে বসবাস করেন, তা কিসের তৈরি?
উত্তর : সেমিপাকা।
প্রশ্ন : আপনি এ বাড়িটি কবে করেছেন?
উত্তর : বাড়ির জমি আমার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া। ৭-৮ বছর আগে আমি দালানটি করেছি।
প্রশ্ন : আপনি ২০০৪ সালের ৭ এপ্রিল পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন করে সাহায্য চেয়েছেন। সেখানে আপনি নিজেকে ভূমিহীন, অসহায় ও বেকার মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটা ঠিক কিনা?
উত্তর : হ্যাঁ, ঠিক। আমি ওই আবেদন করেছিলাম।
সাক্ষীর এ বক্তব্যের পরপরই সরকারপক্ষের আইনজীবীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা আদালতকে বলেন, ওই আবেদনের কপি আমাদের দেয়া হয়নি। এটার ওপর জেরা চলতে পারে না। এ পর্যায়ে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা শুনানি মুলতবির প্রার্থনা জানিয়ে বলেন, আদালত আমাদের সময় দিলে আমরা সব কাগজপত্র সরকারপক্ষকে দেব। উভয়পক্ষের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আদালত গতকালের মতো শুনানি মুলতবি করেন। একইসঙ্গে মামলার ১নং ও ২য় সাক্ষীর বিষয়ে কোনো কাগজপত্র থাকলে তা সরকারপক্ষকে দেয়ার নির্দেশ দেন।

সুত্র: আমার দেশ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29501128 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29501128 2011-12-12 05:02:18
ষড়যন্ত্রের নির্বাচন বর্জন বিএনপির ভাল সিদ্ধান্ত
তো সেজন্য নারায়নগন্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী ছাড়াই নির্বাচন দিয়ে ডুগডুগি বাজিয়ে বলতো, সেনা ছাড়াই নির্বাচন সম্ভব। আর এই নির্বাচনে বিএনপি গেলে বলতো, তোমরা তো নাসিক নির্বাচন সেনা ছাড়াই করছো, তাহলে সংসদ নির্বাচনে অসুবিধা কি?

তাই এই ষড়যন্ত্রের নির্বাচন বাতিল করে বিএনপি ভাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন উচিত তত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু নিয়ে একদফার আন্দোলনে নেমে পড়া। বাল সরকারের সমর্থন এখন শুন্য। তারা পালাবার পথে খুজে পাবে না ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29474760 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29474760 2011-10-30 04:44:56
সাদ্দাম, গাদ্দাফী, মুজিব জনপ্রিয় নেতা থেকে স্বৈরশাসক http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29470542 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29470542 2011-10-22 13:42:27 আওয়ামীলীগ নেতারা কি মুক্তিযুদ্ধ করেছে ? একারনেই তারা কোন পদবী পান নি। পদবী পেয়েছেন, বিএনপি প্রতিস্ঠাতা শহীদ জিয়া, মীর শওকত, অলি, হাফিজ উদ্দিন রা।
বরং আওয়ামীলীগ নেতারা ভারতীয় গোয়েন্দাদের সহায়তা মুজিব বাহিনী করে মুক্তিযুদ্ধ কে বিভ্রান্ত ও সাফল্য কে হাইজ্যাক করে। তারা ভাসানীকে পুরো ৭১ বন্দী করে রাখে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29468949 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29468949 2011-10-19 00:07:06
যুদ্ধাপরাধীর আশ্রয়দাতা শেখ মুজিব
তখন মুজিব সাকা ও তার ভাইদের মাসে মাসে খরচের টাকা দিতেন। সাকার অবাধ যাতায়ত ছিল ৩২ নম্বরে , এমন কি রান্নাঘর পর্যন্ত।বেগম মুজিব ও সাকাকে খুব স্নেহ করতেন। শুধু তাই নয় সাকাকে মুজিব একটা তেল আমদানীর লাইসেন্স দিয়ে ছিলেন। যার উপর ভিত্তি করে সাকা ব্যবসায়ীতে পরিনত হয়।

তার একটা প্রমান কয়েক বছর আগে সাকা মেয়ের বিয়ের দাওয়াত দিতে স্বপরিবারে হাসিনার বাড়ীতে যান। হাসিনা চা নাস্তা দিয়ে সাকাকে আপ্যায়ন করেন। আজকের সাকাই হচ্ছেন একসময়ে হাসিনার প্রিয় খোকন ভাই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29460296 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29460296 2011-10-05 03:23:48
ওয়ার ক্রাইম ট্রাইবুনাল , সাইদীর কেইসে অনেক অসংগতি http://bangladeshwarcrimes.blogspot.com/

উপরের ব্লগ সাইট টি নিউ এজ পেপারের সাংবাদিক ডেভিড বার্গমেন ধারাবাহিক ভাবে ওয়ার ক্রাইম ট্রাইবুনালের একটিভিটি নিয়ে ব্লগ দিয়ে যাচ্ছেন। যারা আইন নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন তাদের জন্য জানার অনেক কিছু আছে। ডেভিড বার্গমেন একজন ব্রিটিশ নাগরিক , ২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশে বসবাস করেন।( তিনি ড: কামাল হোসেনের মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেনের হাসবেন্ড ) । তিনি বাংলাদেশের ওয়ারক্রাইম নিয়ে ডকুমেন্টারী বানিয়ে তা ব্রিটিশ চ্যানেল ফোরে প্রচার করেন। বোঝা যায় তিনি এ ব্যাপারে সচেতন এবং ওয়ার ক্রিমিনাল দের বিচার চান।

তিনিও ওয়ার ক্রাইম ট্রাইবুনালের কার্যক্রমে অনেক অসংগতি পাচ্ছেন । তা তার ব্লগ পড়লেই বুঝা যায়।

সাইদীর কেইসের ব্যাপারে তিনি তার কমেন্টে কিছু লিখেছেন, যা ইন্টারেস্টিং। তা হচ্ছে
১) সাইদীর বিরুদ্ধে ৩১ টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয় । তার মধ্যে ৫ টি অপরাধের সাক্ষী মাত্র একজন করে। ৪০ বছর আগের অপরাধে একজনের সাক্ষী উপর ভিত্তি করে কিভাবে অভিযুক্ত করা যায় ?
২) সাক্ষীদের বক্তব্য খুবই সংক্ষিপ্ত। এক বা দেড় পাতা। এমন কি যখন একজন সাক্ষী সাইদীর বিরুদ্ধে যখন একাধিক অপরাধের সাক্ষী দেন।
৩) বেশ কয়েকজন সাক্ষী সাইদীর বিরুদ্ধে একাধীক অপরাধের সাক্ষ্য দিয়েছেন। ৬ জন সাক্ষী সাইদীর বিরুদ্ধে ৫ এর অধিক অপরাধের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর একজন তো সাইদীর বিরুদ্ধে ৯ অপরাধের সাক্ষী দিয়েছেন ! ( আমার (চাষী) মতামত এটা আশ্চর্য্য ব্যাপার, এই লোক গুলি কি ৭১ সালে সাইদীর পিছে অনুসরন করছিল)
৪) সাক্ষীদের স্টেটমেন্ট এর স্ট্রেংথ কেমন তা যানা যায় নি কারন সবার স্টেটমেন্ট কোর্টে পড়া হয়নি। কিন্তু যেগুলি পড়া হয়েছে,সেগুলি চাক্ষুষ সাক্ষী না। যেমন , ভাগিরথী হত্যার একমাত্র সাক্ষী তার ছেলে যে বলেছে, সে লোক মুখে শুনেছে তার মা হত্যায় সাইদী জড়িত ছিল। আর ৭১ সালে তার বয়স মাত্র ছিল ৫!

-------

এছাড়া অন্যান্য ব্লগে তিনি , বিচারকরা আসামী দের সময় দিচ্ছেন না সেটা উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, বিচারকরা আসামীদের যুক্তি খন্ডন করছেন না। যেমন,সাইদীর জামিনের আসামী পক্ষের যুক্তি খন্ডন না করেই জামিন বাতিল করেছেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29459293 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29459293 2011-10-03 12:30:41
কমিউনিস্ট পার্টি আজ বেশ্যায় পরিনত http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29454303 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29454303 2011-09-24 18:31:04 সাহারা খাতুন কে থাবড়ানো দরকার http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29454237 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29454237 2011-09-24 16:09:11 যে ভুল মুজিবকে মাটিতে নামিয়ে আনে
কিন্তু ৭২ এ ক্ষমতায় এসে তিনি আর জনগনের নেতা থাকেন নি। তিনি পরিনত হন আওয়ামীলীগের নেতায়। প্রচন্ড জনপ্রিয় নেতা থেকে পরিনত হন ব্যর্থ স্বৈরাচারী শাসকে। তার শাসনামলে বিরোধীদলের কর্মীদের হত্যা করা হয় নির্বিচারে। দুর্ভিক্ষে মারা যায় লক্ষ লক্ষ লোক। সবশেষে কফিনের শেষ পেরেকটি ঠুকেন বাকশাল কায়েম করে। সবদল ও নিউজপেপার নিষিদ্ধ করে গনতন্ত্রকে হত্যাকরেন তিনি।

৭২ এ তিনি যদি ক্ষমতায় না বসতেন। তিনি বাংগালীর হৃদয়ে দেবতা হয়ে থাকতেন চিরকাল। কিন্তু শাসক হিসাবে ব্যর্থতা ও স্বৈরাচার ই তার জনপ্রিয়তাকে ধুলিস্যাত করে দেয়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29442932 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29442932 2011-09-04 19:01:01
৩০ লাখ বাংগালীর রক্তের দাগ শুকানোর আগেই খুনী ভু্ট্টোর হাতে মুজিবের হাত http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29442548 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29442548 2011-09-03 20:15:12 সাবেক ডেপুটি এটর্নি জেনারেলের মৃত্যুর জন্য বিচারপতি শামসু ও এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দায়ী বারের আইনজীবিরা বার বার তাদের জামিনের চেস্টা করেন। কিন্তু এটর্নি জেনারেল মাহবুবের জেদের জন্য বিচারপতিরা জামিন দেন নি। বাংলাদেশের বিচারপতিরা এখন কাপুরুষ ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ জয়নাল হাজারী, তাহেরের মত খুনীরা আজ জামিনে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
পরবর্তিকালে পুলিশি নির্যাতনে তিনি শহীদ হন। একদিন না একদিন শামসু ও মাহবুবে আলমকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড়াতেই হবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29440578 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29440578 2011-08-29 19:06:44
ইবনেসীনার ট্রাস্টি বোর্ডের সকল সদস্যকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ - বিচারপতিদের স্টুপিডিটি আমি একজন বিচারপতি বা আইনজীবি নই। কিন্তু কমনসেন্স থেকে বলতে পারি, এক্ষেত্রে তদন্ত করে দেখতে হবে কে দায়ী। এরপর যদি সংশ্লিস্ট ডাক্তার বা নার্স দায়ী হয়ে থাকে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচার করতে হবে।
কিন্তু এক আওয়ামীলীগ নেতা কাম বিচারপতি মানিক ও গোবিন্দ ইহা কি নির্দেশ দিল। তারা বলল , ট্রাস্টি বোর্ডের সব সদস্যদের এরেস্ট কর। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রা কোন ডাক্তার ও নয়, নার্স ও নয়। তারা হাসপাতালেও যান না। শুধুমাত্র বছরে কয়েকবার মিটিং করেন। তার প্রত্যেক রোগীর কি চিকিতসা হচ্ছে তা কি করে যানবেন ? এটা বুঝতে বিচারপতি হতে হয় না। বস্তির ছেলেও বলতে পারবে।
তাছাড়া কোন রকম তদন্তের আগেই গ্রেপ্তার করা হবে কেন ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29438702 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29438702 2011-08-26 02:22:36
রবীন্দ্রনাথ পুর্ব বাংলার উন্নতি হোক তা চান নি
তো যাই হোক, মুসলীম নেতাদের লবিং এর কারন ব্রিটিশ শাসকরা প্রথমে ঢাকায় একটি ইউনিভার্সিটি অর্থাত ঢাকা ইউনিভার্সিটি প্রতিস্ঠার উদ্যোগ নেয়। তখন পশ্চিম বংগের মাথা খারাপ হয়ে যায়। তারা সর্বোত চেস্টা করে এই ইউনিভার্সিটি ঠেকানোর। তখন রবীন্দ্রনাথ ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি ঠেকানোর চেস্টা করেন। তিনি এই বলে তুচ্ছ তাচ্চিল্য করেন , চাষা ভুষারা কি পড়ালেখা করবে।

এরপরে ১৯০৫ বা ৬ সালের দিকে ব্রিটিশ শাসকরা পুর্ববংগের পিছিয়ে পড়া দেখে এটাকে আলাদা প্রদেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। যাতে পুর্ববংগে অফিস আদালত শিল্প কারখানা ইত্যাদী করে উন্নত করা যায়। কিন্তু এতে বাধসাধে আবার রবীন্দ্রনাথ সহ পশ্চিম বংগীয়রা ।তারা বংগ ভংগ আন্দোলন করে পুর্ব বাংলাকে আলাদা প্রদেশ হতে দেয়নি। ফলে পু্র্ববংগ অনুন্নত থেকেই যায়। বংগ ভংগ ঠেকাতে ই রবি ঠাকুর রচনা করেন আমার সোনার বাংলা , আমি তোমায় ভালবাসি। সত্যিই সেলুকাস , আমাদের উন্নতির বিরোধীতার জন্য যে সংগিত তাই আমাদের জাতীয় সংগিত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29377268 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29377268 2011-05-08 04:28:08
এক ছাত্রলীগ কর্মীর হাত কেটে নিল আরেক দল ছাত্রলীগ কর্মী http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29372424 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29372424 2011-04-30 14:43:15 বাংলার মাহাথীর মাহমুদুর রহমান কে বিএনপির মহাসচিব হিসাবে দেখতে চাই
- তিনি প্রচন্ড মেধাবী। বুয়েট থেকে ইন্জিনিয়ার তারপর আই বি এ থেকে এমবিএ। দেশের দুই সেরা ডিগ্রীধারী।

- তার সততার তুলনা নাই। তিনি জালানী উপদেস্টা ছিলেন চারদলীয় জোট সরকার আমলে । অথচ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোন অভিযোগ নাই।

- তিনি প্রচন্ড সাহসী ও আপোষহীন। ১/১১ এর পর তিনি রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে গনতন্ত্রের পক্ষে ভুমিকা রেখেছেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা জন্য তিনি জেল খেটেছেন।

-তিনি দেশ প্রেমিক। দেশের মংগলের জন্য জন্য সর্বদা লেখা লেখি করেন।

-তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। তিনি নিজে সিরামিক কারখানা দিয়ে রপ্তানী করেছেন। দৈনিক আমারদেশকে তিনি বন্ধ হয়ে যাবার থেকে বাচিয়েছেন।

আসুন সবাই এক সাথে খালেদার কাছে দাবী জানাই তাকে মহাসচিব করার জন্য। বি চৌধুরী যখন মহাসচিব হন, তিনি তখন রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন ডাক্তার বা পেশাজীবি । সুতরাং মাহমুদুর ও পেশাজীবি থেকে মহাসচিব হতে পারেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29347042 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29347042 2011-03-19 03:03:39
ছাত্রলীগ নেতার কাণ্ড, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কলেজ ছাত্রী ধর্ষণ সুত্র : মানবজমিন]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29345754 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29345754 2011-03-17 03:08:26 আজ আমার মন ভাল নেই। প্রিয় কলামিস্ট আবুল মকসুদ কে অপমান করলো এক দাম্ভিক বিচারপতি ?
তার অপরাধ ? কিছুদিন আগে মহাস্থান গড় সংরক্ষনের ব্যাপারে বিচারপতিরা এক আদেশ দেয়। সেই আদেশে এটাও উল্লেখ ছিল যে, সেখানে কয়েকশ বছরের পুরনো এক মাজার আছে , সেটাকে অন্য কোথাও সরানো যায় কিনা তা সংরক্ষন কমিটিকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়। পেপারে এই নিউজ দেখে আবুল মকসুদ সাহেব বিচারপতিকে এই আবেদন জানান যে, যাতে মাজারের ব্যাপারে কিছু করা না হয়। এটা করা হলে সংঘাতের সৃস্টি হতে পারে।

মাকসুদ সাহেব খারাপ কি বলেছেন ? এজন্য বিচার পতি তাকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করেছে।

আজকের দৈনিক কালের কন্ঠ পেপারে এসেছে -
====================
বিচারপতি বলেন, 'আমরা আদেশ দেওয়ার এক মাস পরে এসে ওই কলামিস্ট একটি লিখিত আবেদন করলেন। তিনি আদেশটি পড়েননি। চিলে কান নিয়েছে শুনে কানে হাত না দিয়ে তিনি চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছেন। একটা অশিক্ষিত, বর্বর লোকের দ্বারাই এমন কাজ সম্ভব।'

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান দাঁড়িয়ে আদালতকে বলেন, 'আমাদের জানা মতে আবুল মকসুদ একজন বুদ্ধিজীবী।'

আদালত সঙ্গে সঙ্গে বলেন, 'এই লেখক নির্বোধ। তিনি আদালতকে শেখাতে এসেছেন, কী আদেশ দিতে হবে আর কী দিতে হবে না।'

আদালত বলেন, 'আমি এখনই আবুল সকসুদকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করতে পারি। তাঁর লেখা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই লেখা নিয়ে তিনি কোর্টে এসেছেন। তাঁকে কেউ কোর্টে ডাকেনি।'

এ পর্যায়ে সিনিয়র আইনজীবী ড. এম জহির আদালতে প্রবেশ করেন। আদালত ড. জহিরকে আবুল মকসুদের লেখা আবার পড়ে শোনান। ড. জহির বলেন, 'উনি একজন ইনটিলেকচুয়াল পারসন। উনাকে ক্ষমা করে দেন। যা লিখেছেন তা অন্যায়। হয়তো বুঝতে পারেননি।'

আদালত প্রশ্ন করেন, 'বুঝতে না পারলে নিজেকে বুদ্ধিজীবী মনে করেন কেন? কিসের বুদ্ধিজীবী? এমন একজন অশিক্ষিত, নির্বোধ লোক বুদ্ধিজীবী হলে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী কী?'

আদালত বলেন, 'লেখাপড়া করে আইনজীবী হতে হয়। কয়েক বছর চর্চা করে হাইকোর্টের সনদ নিতে হয়। তারপর বিচারপতি হতে হয়। অথচ উনি কিছু না জেনেই হরিদাস পাল হয়ে গেছেন। কোর্টকে শেখাতে আসেন।'

আদালত আরো বলেন, 'গান্ধী সাজতে চান! গান্ধীজির নখের সমান বুদ্ধিও তাঁর (মকসুদ) নেই। আগুন জ্বালাবেন, মৌলবাদীদের উসকে দেবেন। তাঁর লেখায় দেশের মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে বিচারকদের প্রতি চড়াও হতে পারে। আমরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি। তাঁকে ক্ষমা করা যায় না।' আদালত পরে তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে নির্দেশ দেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে আসেন। তিনি আবুল মকসুদকে ছেড়ে দিতে আদালতের কাছে অনুরোধ করেন।
===================

এবার আসুন এই বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ব্যাকগ্রাউন্ড টা একটু দেখি। ইনি কট্টর আওয়ামীল। ৯৬ সালে আওয়ামিলীগ তাকে অস্থায়ী বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দেয়। বিএনপি তাকে স্থায়ী করেনি। তখন তিনি লন্ডনে গিয়ে সক্রিয় আওয়ামিলীগ নেতাতে পরিনত হন। তাকে যুক্তরাস্ট্র আওয়ামীলীগের উপদেস্টা মন্ডলীর সদস্য করা হয়। ছবিতে দেখুন , তিনি ২০০৬ সালে লন্ডনে আওয়ামীলীগের মিটিং এ। এবার আওয়ামীলীগ এসে তাকে আবার বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দেয়। বিচারপতিদের রাজনীতি করন করতে গিয়ে যতসব অযোগ্য লোকদেরকে বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29337860 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29337860 2011-03-04 04:03:24
জাফর ইকবালের নানা নাকি রাজাকার ছিলো ? http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29336011 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29336011 2011-03-01 04:30:45 'আমি কসাইদের মতো জবাই করতে পারি' - কুত্তালীগ নেতার আস্ফালন জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাত ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হলের অতিথি কক্ষে শিক্ষার্থী নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা জানান, হলের অতিথি কক্ষে প্রতিরাতে ছাত্রলীগের সভা হয়। তারা জানান, সূর্য সেন হলের ২২৬ (ক) নম্বর কক্ষে একত্রে ২২ জন শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে থাকেন। এ কক্ষ 'গণরুম' বলে পরিচিত। এ কক্ষের কেউ সেদিন অতিথি কক্ষে না যাওয়ায় হল ছাত্রলীগ সভাপতি তাঁদের ডেকে পাঠান। ওই কক্ষের ১৩-১৪ জন শিক্ষার্থী অতিথি কক্ষে এলে, দরজা বন্ধ করে তাঁদের সভায় না আসার কারণ জানতে চান সভাপতি সাইদ। শিক্ষার্থীরা তখন পরীক্ষার কথা জানালে সভাপতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে সভাপতিসহ ছাত্রলীগের অন্য নেতা-কর্মীরা তাঁদের মারধর করেন। নির্যাতিতরা সবাই তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী কালের কণ্ঠকে জানান, 'আমাদের কয়েকজনের পরীক্ষা থাকায় সেদিন গেস্ট রুমে যেতে পারিনি। আমরা একটা ভালো রুমের জন্য সভাপতির কাছে দাবি করেছিলাম। এ জন্য তারা আমাদের গালিগালাজ করেছে। পরে চেয়ারের পায়া দিয়ে, সোফায় মাথা ঠেকিয়ে, দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে মেরেছে।' তিনি আরো অভিযোগ করেন, 'এসব ঘটনা যাতে বাইরে প্রকাশ না হয়, সে জন্য নানাভাবে হুমকিও দিচ্ছে।' এদিকে ঢাবি শাখার ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শওকত ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি এ ধরনের কথা বলিনি। একজন ছাত্র হিসেবে এ ধরনের কথা মানায় না। এখানে নিশ্চয় অন্য কোনো যোগসাজশ রয়েছে।' সূর্য সেন হল ছাত্রলীগ সভাপতি সাইদ মজুমদার গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কোনো প্রোগ্রামে তাদের পাওয়া যায় না। তাই গেস্ট রুমে ডেকে সামান্য চার্জ করেছি মাত্র।' কিন্তু এর আগে সকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'বড় ভাইদের সালাম দেয় না, সম্মান করে না, প্রোগ্রামে আসে না, তাদের মারব না তো কী করব?'
এ ব্যাপারে সূর্য সেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খোন্দকার আশরাফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। হল থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা আমি সাংবাদিকদের কাছ থেকেই শুনতেছি। আর কিছু জানি না।' প্রসক্সগত, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর শহীদুল্লাহ হলে প্রায় একই কারণে ৪৪ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেয় ছাত্রলীগ।

সুত্র : দৈনিক কালের কন্ঠ

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29309541 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29309541 2011-01-18 04:50:58
আজকের প্রথম আলো দেখুন, আওয়ামীলীগ এমপির বাপ ও চাচা কেরানীগন্জের রাজাকার প্রধান http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29308541 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29308541 2011-01-16 15:47:20 রাজীবপুরে ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করেছে দুই ছাত্রলীগ নেতা
সুত্র :সমকাল]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29299263 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29299263 2010-12-31 04:05:40
শেখ সেলিম তথা শেখ হাসিনার বেয়াই কুখ্যাত রাজাকার মুসা বিন শমসের ওরফে নুলা মুসা কি পার পেয়ে যাবে
আসুন বিশেষ ট্রাইবুনালে এই কুখ্যাত রাজাকারে বিচার দাবী করি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29297839 http://www.somewhereinblog.net/blog/chashi/29297839 2010-12-28 22:15:30