গতরাতে মা হঠাৎ ফোন করে বলল একটু ফোন কর তো। আমি বললাম তুমি রাখ আমি করছি। টানা ৩০ মিনিট কি তারও বেশি সময় ধরে গুতোগুতি করেও যখন লাইন পেলাম না, তখন রাগে দুঃখে ক্ষোভে বাদ দিলাম। এর কয়েক মিনিট পরে আবার ও ফোন। আমি মাকে বললাম মা লাইনে অনেক সমস্যা, তুমিই যা বলার সংক্ষেপে বল। কথা তাড়াতাড়ি শেষ করার পরে আবারও চেষ্টা করতে করতে একসময় লাইন পেলাম ঠিকই কিন্তু আমার কোন কথা মা শোনে না। মিনিট তিনেক পরে বিরক্ত হয়ে আবারও রেখে দিলাম। মনে হচ্ছিল ফোনটা আছার মারি।
বেশ কয়েক মাস যাবতই দেশে ফোন করতে সমস্যায় পরতে হচ্ছে কম বেশি সবারই যারা প্রবাসি। যখন অবৈধ ভিওআইপি আটক করে আমাদের হাটুতে মগজ ওয়ালা সরকার তখন শুনেছিলাম তারা এদের লাইসেন্স দিয়ে বৈধ করে দিবে। সেই লাইসেন্স বর্তমানে বন্যার পানিতে ডুবিয়ে রেখেছে ননসেন্স সরকার। এত দরদ যখন তাদের দেশকে নিয়ে, দেশের রাজস্ব নিয়ে তখন সরকার নিজেও তো ভিওআইপি'র ব্যবস্থা করতে পারে- এই প্রবাসিদের জন্য। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশের অন্যতম আয়ের ভাগিদার এই প্রবাসিরা। কিন্তু তাদেরকে আর ওনারা মানুষ বলে মনে করছে না।
আগে ফোন করতাম ৩.৯ সেন্টস/মিঃ আর এখন ১৫ সেন্টস/মিঃ দিয়েও কথা বলতে পারি না। আগে একটা কলিং কার্ডে (৫$) এ ১০০ মিনিটেরও বেশি কথা বলা যেত আর এখন ৩৫ মিনিট । তাও আবার কথা একজন বললে আর একজনকে চুপ করে থাকতে হয়। মানে একমুখী নীতি। সেই হিসাবে বলা যায় ১৭ মিনিট কথা বলা যায়। এমন কোন কলিং কার্ড নাই যে আমি চেষ্টা করি নাই। ডায়ালকম থেকে একসেস এশিয়া- সবই নিপাতনে সিদ্ধ। এমনকি সিসি (গোল্ড লাইন) তেও এখন লাইন পাওয়া যায় না।
আর আমাদের একদল সংবাদিকরা যারা অবৈধ ভিওআইপি আটকের খবর বড় বড় করে ছাঁপলেও ভুলেও কখনও ভুল করে না আমাদের সীমাহীন দুর্ভোগের কাহিনী ছেঁপে। কালকে একজন বলছিল, অবৈধ ভিওআইপি আটকের খবর ছাঁপলে নাকি ঐ খবরের জন্য তারা কোথা থেকে গরম টাকা পায়। তাহলে তাদেরই বা দোষ দিয়ে লাভ কি? তাদের কাছে তো আর আমরা গরম ডলার পাঠাই না যে তারা আমাদের এই নরম খবর তাদের গরম কাগজে ছাপাবে?
হতভাগ্য এই আমাদের আহাজারি ঐ জানোয়ারগুলোর বুটে শব্দে তাদের কান পর্যন্ত যাবে না একথা জানি।
এই প্রবাসি আমরা " সাগীর আলী-ই" হয়ে রইলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

