রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তিনজন শিক্ষক -- দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, সেলিম রেজা নিঊটন ও আবদূল্লা আল মামুন --আজ জরুরী আইন ভঙ্গের দায়ে দায়ের করা মামলায় আদালতে সারেনডারড করলে আদালত তাঁদের জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন। তাঁরা মৌন মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন শতশত শিক্ষকের সাথে এটাই তাঁদের অপরাধ। কিন্তু মাএ কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে । তাহলে মিছিেল আরো যারা ছিলেন তাঁরা কি জরুরী আইন ভঙ্গ করেননি?
তাঁরা তিনজনই আমার শিক্ষক । তাঁদেরকে আমি খুব কাছ থেকে জানি । এরমধ্যে দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস আমার এমফিল সুপারভাইজার । মার্ষটাসে আমার থিসিষেরও সুপারভাইজার ছিলেন। এসব বলার কারণ হলো আমি কত কাছ থেকে তাঁদের জানি । এবং কেন এঁদের ছেড়ে দেয়া উচিত। এজন্য আমার শিক্ষক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের জীবন-দর্শনের কিছু অংশ তুলে ধরতে চাই।
১. তাঁর সকল আলোচনা কেন্দ্রে থাকে মানুষ ও মানুষের কল্যাণ সাধন । কীভাবে মানুষের কল্যান সাধন করা যায় এটাই তাঁর সকল গবেষণা ও চিন্তার বিষয়।
২. সকলেই তাঁর নিজ দেশকে ভালবাসেন । স্যাররের দেশপ্রেম এতটাই প্রবল যেকোন আলোচনার বেশীর ভাগ সময়ই দেশের কল্যাণ কীভাবে করা য়ায়, কীভাবে দুনীর্তি, ঘৃণ্য রাজনীতি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এসব বিষয়। তিনি কল্যাণকামী শাসনযন্ত্রের কথা সবসময় বলেন। ১১ জানুয়ারির পট পরিবর্তনের পর অনেক আশার কথা শুনিয়েছেন আমাকে। তিনি ভেবেছিলেন এবার তাঁর চিন্তা ও কর্মের ফল দেখতে পাবেন। কিন্তু যখন মামলায় জড়ানো হলো আমাকে তিনি বললেন, "যে দেশটার জন্য এত ভাবি, যেখানে কোনদিন কোন অপরাধ করিনি, সেদেশে আমাকে জেলে যেতে হবে !"
৩. তিনি মানুষ হিসেবে অত্যান্ত ঊদার ও সাহায্য-প্রবণ । কেঊ কোন বিষয়ে সাহায্য চাইলে না বলতে জানেন না । এমন কি, যে তাঁর কয়দিন আগেও ক্ষতি করেছে এমন কেউ তাঁর কাছে কোন সাহায্য চাইলে তার জন্য প্রানপণ সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন -এমন ঘটনাও দেখেছি খুব কাছ থেকে। এজন্য আমরা ছাএরা বলি 'দুলাল স্যারের অভিধানে 'না' শব্দটি নেই। এসব গুণাবলীর কারণেই তাঁর জেল হাজতে যাওয়ার খবর শুনে স্যারের পুরাতন ছাত্রদেরকেও কাঁদতে দেখেছি। শিক্ষক মারা গেলে ছাত্ররা কাঁদে, কিন্তু জেলে গেলে কোন পুরোনো ছাত্র কাঁদে তা আমার জানা নেই।
এসব শিক্ষক জাতির মুল্যবান সম্পদ । এসব সম্পদ রক্ষা করা রাষ্টের দায়িত্ব । এদের জেলে রাখলে জাতির জন্য অনেক ক্ষতি হবে। দেশ তাঁদের চিন্তা ও গবেষণা থেকে বঞ্চিত হবে। তাই জাতির প্রয়োজনে আমার ও জাতির এসব শিক্ষকদের মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচিছ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

