আমার প্রিয় পোস্ট

কার্টুনিষ্ট এর চেয়ে কার্টুন-বিরোধিরা নবীজির অবমাননা করছে বেশী

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:২০

শেয়ার করুন:                   Facebook


র্ধমীয় বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূিত উভয়ই মনস্তািত্বক কাঠামোয় সৃষ্ট ও পুষ্ট । কারো ধর্মীয় বিষয়ে আঘাত করা কারো জন্যই সঠিক বা ঠিক নয় । প্রথম আলোর ফ্রিল্যান্স কার্টুনিষ্ট আরিফুর রহমান কারো ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দিয়েছে বা দেয়নি আমি সে বিতর্ক তুলতে যাচ্ছি না । তবে বর্তমানে বাংলাদেশের অনেকে এ ঘটনাকে ধর্মীয় অনুভুতিতে আাঘাত হিসেবে যে মনে করছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। যারা তার কার্টুন প্রকাশকে হযরত মুহাম্মদ (স:) কে অবমাননা হিসেবে মনে করছেন এবং এ নিয়ে বিভিন্ন বক্তৃতা-বিবৃতি করে নবীজিকে সম্মান দিতে চাচেছন সেসব কার্টুন-বিরোধিরা প্রকৃত হিসেবে উক্ত কার্টুনিষ্ট এর চেয়ে নবীজির অবমাননা করার জায়গা করে দিচেছন বা এক অর্থে বেশী অবমাননা করছেন বলে আমার পরিসংখ্যান সে দিকে কথা বলে। কীভাবে ? আমি বিষয়টির স্পষট করার জন্য প্রথমে একটি বাস্তব গল্পের (মজার)অবতারণা করতে চাই।

'আমার র্পাশ্ববর্তী গ্রামে একজন পানিতে বেশিরভাগ সময় কাটাতো আর আওয়াজ করত এজন্য তার প্রতিবেশীরা তাকে কোলা (কোলা স্হানীয় শব্দ, এর অর্থ কুনো ব্যাঙ) বলে ডাকতো । বিষয়টিকে সে তার জন্য অবমাননাকর মনে করল। এনিয়ে তার পরিবারের সাথে আলোচনা করল যে "কোলা" নাম ঘুচানোর জন্য কী করা যায়। সিদ্ধান্ত নিল যে "কোলা" নামটি বাদ দেয়ার জন্য নিজ গ্রাম ও পাশ্ববর্তী গ্রামের মুরূববীদের তার বাসায় দাওয়াত দিবেন এবং অনুরোধ করবেন যেন আর তাকে "ফজলু কোলা" বলে কেউ না ডাকে। নিমম্ন্ত্রণ পেয়ে দুই গ্রামের মুরুব্বীরা যখন তার বাড়িতে আসতেছিলেন তখন গ্রামের লোকজন জিজ্ঞেস করে কোথায় যাওয়া হচেছ এবং কেন যাওয়া হচ্ছে ? মুরুব্বীরা জানায় "ফজলু কোলা"র বাড়ি যাচ্ছি তার নামের সাথে কোলা শব্দটি বাদ দেয়ার জন্য। কী ঘটল ? ঘটনা তার হিতে বিপরীত হল । কেমন করে? গ্রামবাসীর কাছে আলোচনার বিষয়ব্স্তু হলো 'কোলা' নামটি। যে জানত না সেও জেনে গেল, ছড়িয়ে পড়লো গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে মানুষের মুখে মুখে । আজও তাদের গোষ্ঠীর সকলের নামের পরে "কোলা" টাইটেলটি লাগানো হয়।

বর্তমানে প্রযুক্তি ও বিভিন্ন হাইব্রিড মিডিয়ার বদৌলতে যেকোন ঘটনা ঘটার সাথে সাথে সকলের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। প্রতিক্রিয়াও হচেছ দ্রুত। তবে কার্টুনটি প্রকাশের পর সেই দৈনিকের মোট পাঠকের সামান্য অংশ পড়েছে। কিন্তু যখন প্রতিবাদ ও সরকারের প্রেস নোট জারী হতে থাকে তখন তা দেশী-বিদেশী সকল মিডিয়ার মাধেমে সকলে জেনে যায় এবং জানতে চায় আসলে ঐ কাটুনে কী লেখা আছে । অর্থ দাড়ায় কার্টুন বিরোধীরা বেশীজনকে পড়ার সুযোগ করে নবীজিকে বেশী অবমাননা করার সুযোগ করে দিয়েছে আর কিছু লোক এ নিয়ে মাতামাতি শুরু করে বিভিন্ন ফায়দা নিচ্ছে। বিশেষ ফায়দা নেয়ার জন্য মুল জায়গা থেকে সরে গিয়ে বিভিন্ন ব্ক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছে । নবীজির সম্মান রক্ষা তাদের মুল উদ্দেশ্য নয়, ভিন্ন উদ্দেশ্য বাসতবায়নের জন্যই এসব ব্ক্তব্য-বিবৃতি ও সমাবেশ করা হচেছ কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মুলত: কার্টুনিষ্ট এর চেয়ে কার্টুন-বিরোধিরা নবীজির অবমাননা করছে বেশী বলে আমার মণন হচ্ছে।

 

 

  • ১০ টি মন্তব্য
  • ২০১ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ৪ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৩৮
comment by: নীলাঞ্জনা বলেছেন: এক্কেবারে খাঁটি কথা বলেছেন ভাই!
২. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৫০
comment by: সোনার বাংলা বলেছেন: আচ্ছা আপনার যুক্তি ঠিক আছে বুঝলাম।
কিন্তু তাই বলে কেউ জেনে যাবে সে হিসেব করে
প্রতিবাদ করা যাবে না!
আপনার আমার মনের সাথে কি আরিফের মনের
মিল আছে?
৩. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৫১
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন: একমত নই ছটিক ভাই। আপনি যে ভিউ থেকে দেখেছেন তার বাইরেও ভিউ আছে। সবগুলো দিয়ে দেখলে হয়তো বুঝবেন আপনার ব্যাখ্যাটা ঠিক আছে কিনা।


প্রথম আলো'র ইতিহাসও কিন্তু মুসলমানদে পক্ষে যায় না। পত্রিকাটি বরাবরই মুসলিমদের আঘাত দিয়ে টুক টাক এটাসেটা করে যাচ্ছে। সব ক্ষোভ এবার একসাথে পড়েছে। আমার মতে প্রথম আলোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়ার দরকার আছে। পুরো দুনিয়ার মানুষ কি বুঝবে বা জানতে তার চাইতে ইসলাম বিদ্বেষীদের ইসলামের বিরোধী কাজকর্মের বিচার করা জরুরী।





৪. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৫৬
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন: পি.এস:
আপনি জানেন এই কার্টুন সম্পর্কে আমার প্রাথমিক মনোভাব কি ছিলো। আমি ঠিক বিশ্বাস করিনি প্রথম আলো এমন কিছু করেছে যা মুসলমানদের এভাবে আঘাত করতে পারে। কিন্তু কার্টুনটি নিজ চোখে দেখে বুঝতে পেরেছি সেটা কতটা খারাপ একটা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে করা হয়েছে। ওখানে যে নির্দোষ কৌতুকটা ছিলো, কার্টুনের অঙ্গ ভঙ্গি ও উপস্থাপন সেটাকে চরম ভাবেই মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।


@ ছটিক মাহমুদ
৫. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৫৮
comment by: নাম্বারহীন বলেছেন: ত্রিভুজ ভাই সবাই ইসলাম বিদ্বেষী আপনি শুধু প্রেমি আজকে এক পোষ্টে দেখলাম মুসলমানদের ভেরা বলেচেন। সকল আশরাফুল মাকুলখাত আর মুসলমানে কে ভেড়া বলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্চি
৬. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:১০
comment by: কায়েস মাহমুদ বলেছেন: @ধর্মহীন বামপন্থীরা।
তোমরা তো সব সময় ধর্মের বিরুধী।রাসূলের বিরুধী।নবীর বিরুধী।কোরানের বিরুধী।আল্লাহর বিরুধী। সব সময় তাদের বিরুদ্বে কথা বল।
তাই তো তোমরা বলতে পারছ এই কার্টুন আর এমন কি যে অসম্মান করা হয়েছে।উম্মতি মোহাম্মদির মনের আঘাত তোমরা কখনোই বুঝতে পারবেনা।
৭. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:১২
comment by: নাজিম উদদীন বলেছেন: প্রচারেই প্রসার
প্রচারের জন্য ওয়ান্ডার সাইন।
কারও কাছে থাকলে দেখতে চাই। কিরকম কার্টুন একেঁছে মোহাম্মদ আরিফ (বিলাইর বাপ, মোহাম্মদ কদু)।
৮. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:১৫
comment by: নাম্বারহীন বলেছেন: কায়েস বুঝে কথা বলেন। মোহাম্মদ নামে কি চোর, ডাকাত, খুনি আর ধর্ষক নাই। সেটা কি রাসুলের অপমান হয় নাকি, এটা একটা নামবাচক শব্দ। বিড়ালের নাম মোহাম্মদ হলে কি পাপ হয় নাকি , অপমান হয় নাকি। আর কত রাজনীতি করবেন
৯. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:৩১
comment by: শামীম আহেমদ বলেছেন: কে কি ভাবলো তাই বলে আমার আবেগরুদ্ধ করে বসে থাকতে হবে ? এর চেয়ে সমালোচনা হওয়া ভাল। তাতে আমার বিরুদ্ধ মতগুলোও যাচাই করতে পারবো।
১০. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৮
comment by: ছটিক মাহমুদ বলেছেন: ভিন্নমত থাকাটা স্বাভাবিক। সকল মত কে শ্রদ্ধা জানাতে হবে, আপনি অন্য-মত গ্রহণ করুন বা না করুন । তবে ব্লগে যে গালাগালি হয় তা কোন মত ও নয় মতামতও নয় ।

 



 

comment by:
সাংবাদিক ও গবেষক

আমি জাত সাংবাদিক। বাংলাদেশের সংবাদ সংস্থা United News of Bangladesh(UNB)এর ইংরেজী সার্ভিসে সহ-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছি। পাশাপাশি ইউকের...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১৪৯০২