somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যারা কবিতা পড়ে তাদের জন্য সামসুল আলম খন্দকারের কয়েকটি কবিতা

২৭ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুণ্য
সামসুল আলম খন্দকার

কিছু পুণ্য খুঁজতে
আমি ফিরি · · · সেই মাঠখানিতে
যেখানে আমার অস্তিত্বের কেঁচোগুলো
খুঁড়ছে দিনরাত · · ·।

কী গাঢ় সবুজ শাড়ি!
কাল কুচকুচে পাড় (সেটাও আসলে একটি গ্রাম
আমাদের গ্রামের মতই)। ওর গা ঘেঁষে, ঠিক তেমনই
আরও একখানা নিটোল সবুজ শাড়ি;

বুঝি আঙিনায় শুকোতে দিয়েছে কেউ
মাতাল বাতাসে দুলছে; তার প্রান্তে
ঝুলে আছে, মিহিন কিছু সুতো যাদের গন্তব্যে
বাঁক খেয়ে মিশে গেছে দূর দিগন্তে · · ·
ধূসর শূন্যতায়।

আমার অস্তিত্বের কেঁচোগুলো
যেখানে খুঁড়ছে, দিন · · · রাত
কিছু পুণ্য খুঁজতে;
কিছু পুণ্য · · ·


এতটুকু প্রেম
সামসুল আলম খন্দকার

আমি নিয়ত অমন তাপে, পুড়ে যেতে রাজি
যদি বলো, ভালোবাসি। কলঙ্ক
বিরহ বিষাদ আকণ্ঠ করতে পারি পান
অমন তেষ্টায় · · ·

প্রেমহীন নিঃস্বে কী আছে, হারাবার?
তীক্ষ্ম সে-শরে, যদি রক্ত ঝরে হাসি মুখে
মরে যেতে পারি, খুন হতে পারি বার বার
হৃদয়ের বরতনে ধরতে পারি নরকের সবটুকু তাপ

কাছে আসো যদি · · ·
বাঞ্ছা আমার শুধু সেই সুখ-মেঘ!
দেব তবে সিক্ত করে, নিবিড় বরষায়
হৃদয়ে হৃদয়ে যতো উষর জমিন

মধুর সে-আর্জি মেনে-যে কোনো বাজী;
আমি হারতে রাজি,
বিলিয়ে দিতে পারি, পৃথিবীর যাবতীয় হেম
কোনো শর্ত নয়, বিনিময়ে এতটুকু প্রেম




আমার ভালবাসার কসম
সামসুল আলম খন্দকার

নদীর শিয়রে জাগে গ্রামখানি; আজন্ম যাকে
আমি চিনি; সেখানে সবার সাথে সবার জানাজানি · · ·

আঁকাআঁকা পথগুলো · · · সেধে সেধে মিলনের সুর
ক্ষয়িষ্ণু শরীর;
অনিঃশেষ তবুও, সে-প্রেম মিশছে পরস্পর

নদীগুলো · · · রুপোর বিছেহার!
প্রাণে তারও একই সুর, ভেসে গেছে, কত দূর · · · দিগন্ত রেখায়।

যেন মধুপের গুঞ্জন · · · সে-সব আনন্দধাম
আমার ভালবাসার কসম!
আলোর ঝলক, চোখে ফসলের স্বপ্ন · · · দোরে দোরে সোনামুখ
ছোট ছোট মাঠগুলো টিয়ার পালক

জোনাকির যাদুর নোলক প'ড়ে, নিশিজায়া নৃত্যরত
রিনিঝিনি শিঞ্জন অন্তঃপুরে হয়তো
নূপুর-কাঁকনগুলো হয়েছে কথক;
দাওয়ায় মুখর বেঙ্গমা-বেঙ্গমী · · · সজাগ শোলক

সেখানে জনম লভে নিত্য নব নব ধ্বনি · · ·
ভূমি-জল-জঙ্গম লয়ে, গীত, সহজিয়া সুর, সংহিতা
যেখানে বিহঙ্গ বৃরে মিতা ।



মুসাফির
সামসুল আলম খন্দকার

পথিক! লতা-গুল্মের মতো নরম
আর নত হও; লম্ফ দিও না
সামনে তোমার সুউচ্চ পাহাড় · · ·
তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে কী ?

দম্ভ করো না
খুব শিগগিরই ফুরোবে তোমার পথ
মৌনতার চূড়ান্ত গহ্বরে · · · যেখানে অগ্রপশ্চাত নেই
নেই ঝলমল চিবুক, কিংবা কারও অশ্রুশিক্ত গণ্ডদেশ।

তুমি জমিন আঁকড়ে ধরো
যা তোমার উতস, এবং সর্বশেষ অবল্বন।
অচিরেই তোমাকে চিবিয়ে খাবে, জাবর কাটবে
সময়ের ষাঁড় · · · তাকে ফিরিয়ে দিতে পারবে কী ?

পথিক! চেতন কেন্দ্রীভূত করো ’হাওয়ার খাঁচায়’ · · ·
যে পাখিটি এইমাত্র উড়ে গেল; সে তোমায় জানিয়ে গেল

এই নির্মম সংবাদ;
আরও নিকটবর্তী হল, সেই মুহূর্তটি
যখন সে ফিরবে না আর · · ·
আমরা কয়েকটা কবুতর


মাঠের নৈঃশব্দ্য ধূসর, বৈরী জল-হাওয়ায়
মলিন তোমার মুখ। এক পশলা বৃষ্টি, খানিক শীতল বাতাস
আর বীজধানে যেন না পড়ে হাত তোমার প্রার্থনা

বোশেখের আগেই গোয়ালের ছাউনি
কাজলীর জন্যে একটা চটের ফতুয়া এবং পোয়াল ভেজাতে
খানিক লবণ প্রভৃতি তোমার উদ্বেগ

বলদগুলো জাবর কাটছে পাশেই
সামনে তোমার ধানপাহাড় · · · কুলোহাতে
তুমি, তাড়িয়ে দিচ্ছ দুর্ভিরে তাবত চিত্রকল্প

মেহেরুন্নেছার বিয়ে! ভালো ঘর, বর
সুখের ঔজ্জ্বল্যে আরও পবিত্র হয়ে উঠেছে
তোমার মুখ, আদ্র চিবুক · · ·

তোমার প্রার্থনা, দুঃখ-সুখ মুখরিত আমার অস্তিত্ব
একাকীত্ব, নির্জনতায়, ছায়া-রোদ্দুরে তোমার সঘন বিস্তার
তোমার মমতার কার্নিশে বসে ছিলাম, আমরা
কয়েকটা কবুতর।



কয়েকটা হাইকু
সামসুল আলম খন্দকার


কেশ-দপ্তরে
বাঁকাচোরা নাপিত
ক্ষুরের ভারে


ইয়েস স্যার!
না-হয় মরলুম
আরেক বার


শিক নীল
শিক্ষার্থী ততোধিক
নীল ইস্কুল


শারদ রাতে
ঘাস বিছিয়ে শুই
চাঁদের সাথে


বছর শেষ
দেনা জড়ো করি
নতুন খাতায়



কয়েকটা লিমেরিক
সামসুল আলম খন্দকার


একবার স্বর্গ নিয়ে দুই পুরুতের সে-কী ভীষণ গণ্ডগোল!
কেউ বলে সেটা চৌকো, কেউ বলে গোল
সবাই বল্লে, ভাই, তক্কো করে হাঙ্গামা আর বাড়াসনে
যেমন আছে তেমনই থাক ওটাকে আর নড়াসনে
শেষেমেষ হলো রফা, দুই দফা- চৌকো এবং গোল।


একবার এক আমলা গেল প্রশিণে বিলেতে
গিয়েই শোনে রাজা-রাণীর কান নে'গেছে চিলেতে
সব ক'টা মডিউলে, দেখলো খুলে কোথাও কোনো চিল নাই
ব্রিকলেন কি ন্যুডশায়ারে- চুক্ষু-কর্ণে একবর্ণ মিল নাই
দেশে এসে বুঝল শেষে কানটাই তার খোয়া গেছে বিলেতে।


একবার মোগোর দ্যাশে গড়া হলো রম্ভা এক কমিটি
‘টিওআর’ হলো তার গোনো কাঁদি ক’টা কার, কলা-ই বা কয়টি
ছিল না গোত্র-জাত-ছিল খুবই দরকার থাকাটা
তাই, কেউ খেলে কাঁচাগুলো, গেলে কেউ পাকাটা
রিপোর্ট বানালে শেষে-শুধু কলাগাছ’ লিখে, সেই কমিটি।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×