জরুরি অবস্খার মধ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনে সরকার ও অন্যতম প্রধান দল আওয়ামী লীগ এখন এক সমান্তরাল অবস্খানে এসে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপি’র সাথে কার্যকর কোনো ঐক্য গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগের অনীহা এবং দলটির ভেতরের একটি অংশের সাথে সরকারের নেপথ্য সমঝোতার কারণে নতুন এই মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগ ও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সমঝোতার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের পটপরিবর্তনে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এখন একই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে। নির্বাচনের আগে প্রশাসনসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে পরিবর্তনের লক্ষ্যে এই ত্রিশক্তি একযোগে কাজ করছে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ এখনো মনে করছে ওয়ান-ইলেভেনের পরিস্খিতি তৈরির জন্য মূলত দায়ী বিএনপি ও চারদলীয় জোট সরকার। এ কারণে তাদের সাথে কোনো ঐক্য গড়ে তোলা অসম্ভব। তা ছাড়া সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বিএনপিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অবস্খা এমন এসে দাঁড়িয়েছে যে বিএনপিকে তার আগের অবস্খায় ফিরে যেতে বেশ সময় অপেক্ষা করতে হবে।
আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশের ধারণা, বিএনপিকে কোণঠাসা অবস্খায় রেখে নির্বাচনে গেলে তাদের লাভ হবে সবচেয়ে বেশি। দলটির যেসব নেতা ওয়ান-ইলেভেনের পর প্রভাবশালী মহলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলেন বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারা চুপ হয়ে গেলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ সরকারে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে জানিয়েছেন। দলের সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির বিষয়টি এই সমঝোতার ভিত্তিতেই ফায়সালা হয়।
এ বিষয়ে তাদের আরো বক্তব্য ছিল বিএনপিকে কোনো রকম ছাড় না দেয়ার ব্যাপারে তারা চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবেন। স্খানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারেও একটি অলিখিত সমঝোতায় উপনীত হয় উভয় পক্ষ। একই সাথে প্রশাসনে আওয়ামী লীগের প্রভাবপুষ্ট অংশটি বিভিন্ন বদলি প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সক্রিয় হওয়ার বিষয়েও নির্দেশনা দেয়া হয়। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তৈরির নেপথ্য কারিগর সুশীল সমাজও রাজনৈতিক ময়দানে আওয়ামী লীগকেই নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছে। কিন্তু এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের মূলধারার নেতৃত্বদানকারী অংশটি এখনো একমত হতে পারেনি বলে জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন, বর্তমান ক্ষমতাসীনদের একবাক্যে বিশ্বাস করার মতো কোনো কারণ এখনো ঘটেনি। ফলে স্খানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান জরুরি অবস্খা প্রত্যাহারের শর্তের কথা জানিয়েছেন।
বুধবার দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক আলোচনা সভায় দলের সিনিয়র নেতারা সরকারের সাথে কোনো রকম সমঝোতার বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, জরুরি অবস্খায় নির্বাচনে যাবেন না তারা। তারা স্খানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাহারের দাবি জানান।
প্রায় অভিন্ন সুরে অন্য প্রধান দল বিএনপি’র চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গতকাল আদালতে আইনজীবীদের কাছে বলেছেন, সরকার সর্বাগ্রে সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নিলে তার দল সব ধরনের সাহায্যের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আবারো সরকারের কাছে নিরপেক্ষ আচরণ আশা করে বলেন, তার অসুস্খ দুই ছেলেসহ যেসব রাজনীতিবিদ আটকাবস্খায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠানোর সুযোগ দেয়া উচিত। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার এই আবেদনে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া দেয়া হয়নি।
এ দিকে আওয়ামী লীগের দাবির ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত দ্রুত হলেও বিএনপি’র একই ধরনের দাবির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিলম্বিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্খ দুই ছেলেকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার আবেদন নিয়ে সরকারের দীর্ঘসূত্রতা নতুন এই প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে স্খানীয় সরকার নির্বাচন ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো এজেন্ডা নেই। এটি নিয়েই তারা সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত। এই নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে তারা পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাববেন। রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচন নিয়ে যে কথাই বলুক না কেন তারা সে ব্যাপারে খুব বেশি চিন্তিত নয়। কারণ স্খানীয় নির্বাচনে আইনানুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যক্ষ কোনো ভূমিকা নেই। এই সুযোগকেই তারা কাজে লাগাতে চাইছে।
এই নির্বাচন গ্রহণ কিংবা বর্জনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যে সরকারের কিছু আসে যায় না। অতীতেও বাংলাদেশে অনির্বাচিত সরকারের আমলে স্খানীয় নির্বাচনই আগে হয়েছে। তা ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমানে প্রতিবাদ কিংবা কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো অবস্খানে নেই। এই সুযোগকেই সরকার কাজে লাগাতে চাইছে।
দ্র. এটি আমার নিজস্ব লেখা নয়। সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন। ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০০৮ রাত ১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


