আমার প্রিয় পোস্ট
- আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারের পতন ও ফাইনান্সিয়ালাইজেশানের সংকট - দিনমজুর
- বাংলা ব্লগ ও ব্লগ পলিটিক্স - রেজওয়ান
- প্রাইভেট কার বান্ধব পরিবহন পরিকল্পনা কী এবং কার স্বার্থে - সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন
- বাংলা ব্লগের বিবর্তন ও সম্ভাবনা - রেজওয়ান
- বাংলাদেশী ওয়েবসাইট হ্যাকিং : কী ঘটতে পারে সামনে? আপডেটেড - ফিউশন ফাইভ
- নোয়াখালী ওয়েবের মতো র্যাবের ওয়েবসাইট হ্যাকিং - ইকবাল হোসেন মজনু
- তথ্য জানার অধিকার সবারই আছে - ফিউশন ফাইভ
- একাত্তরে মীর কাশেম আলী : উতসর্গ আমি সাগর - অমি রহমান পিয়াল
- বাংলা বানান পরীক্ষক ১.৩.১ - jewelosman
- অমর্যাদাকর বিজ্ঞাপনগুলো বন্ধ করা উচিত, ভাল বিজ্ঞাপনগুলোকে পুরস্কার দেয়া উচিত - বাঙাল যুবক
- সাংবাদিক নামের আজিব জীবগুলোর জন্য মমতা ( আরিফ জেবতিক) - আরিফ জেবতিক
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- সামহয়ারের পোস্ট - কত ধরনের ও কি কি....সবিস্তারে বর্ণনা....অবশ্যই দেখুন..... - নাফিস ইফতেখার
- বন্দুকযুদ্ধ নয়, র্যাব ওদের হত্যা করেছে প্রত্যক্ষদর্শীর উদ্ধৃতি দিয়ে অধিকারের রির্পোট - ছটিক মাহমুদ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - একটি অহেতুক বিতর্কের জবাব - সু-শান্ত
- রবীন্দ্রনাথও মানুষ ছিলেন। - নাজিম উদদীন
- Freelance বা work outsourcing সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো কারন ওয়াইম্যাক্স আসছে - েবনাম
- বিশ্বের কোথাও কি ইসলামী রাষ্ট্র আছে ? - ছটিক মাহমুদ
- কার্টুনিষ্ট এর চেয়ে কার্টুন-বিরোধিরা নবীজির অবমাননা করছে বেশী - ছটিক মাহমুদ
- জেল হাজতে আমার তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক: দেশের স্বার্থে মুক্তি দিন - ছটিক মাহমুদ
- প্রচার-বিমূখ কবির 'বর্ধিষ্নু এপিটাফ': দ্রোহ, ব্যঙ্গ মিশ্রিত ইঙ্গিতময় শিষ্ট উচ্চরণের কবিতাভূমি - ছটিক মাহমুদ
- যায়যায়দিন থেকে শফিক রেহমানের পদত্যাগ ও তার ব্যর্থ যাযাদি ইতিহাস - ছটিক মাহমুদ
- An incredible love story - ছটিক মাহমুদ
- সংবাদপত্রের মর্গ বা নিউজ লাইব্রেরীঃ পর্যালোচনা -১ - ছটিক মাহমুদ
- 'সংবাদপত্রের মর্গ বা নিউজ লাইব্রেরীঃ পর্যালোচনা (২য় কিস্তি) - ছটিক মাহমুদ
- Nor any drop to drink - ছটিক মাহমুদ
- সংবাদপত্রের মর্গ বা নিউজ লাইব্রেরীঃ পর্যালোচনা (সমাপ্ত) - ছটিক মাহমুদ
- আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতাঃ বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে একটি পর্যালোচনা - ছটিক মাহমুদ
পড়ুন 'ক্রসফায়ার' থেকে বেঁচে যাওয়া একজনের বিভৎস কাহিনী
২৯ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:১১
'ক্রসফায়ার' থেকে বেঁচে যাওয়া একজনের বিভৎস কাহিনীটি বিডিনিউজের হুবহু পড়ুন
ঢাকা, জুন ২৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- "চোখে কালোকাপড় বেঁধে আমাকে একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়। কিছুক্ষণ চলার পর মাইক্রোবাস থামলে চোখ খুলে দেওয়া হয়। দেখে বুঝি, এটা লালবাগের শায়েস্তাগঞ্জ। এরপর সেখান থেকে পোস্তার একটি খালি জায়গায় নিয়ে আমাকে বেঁধে ফেলার চেষ্টা চলে। আমি ধস্তাধস্তি করছিলাম। এদিকে র্যাবের লোকজন ফাঁকা গুলি ছুড়ে নিজেরাই চিৎকার করে বলতে থাকে- ধর, ধর; সন্ত্রাসী পলাইয়া গেল; গুলি কর, গুলি কর।"
- হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছিলেন মোহাম্মদ বাবুল।
বলতে থাকেন তিনি- "এক সময় তাদের কয়েকজন আমার বুকের ওপর উঠে মারতে শুরু করে। বলতে থাকে- অস্ত্র বাইর কর। একজন বলে- ওর পায়ের বাটি উড়াইয়া দে। একজন আমার ডান পায়ের হাঁটুতে গুলি করে। ব্যথায় চিৎকার দিয়ে উঠি। আরেকজন বলে- আরেকটা গুলি কর। তখন পায়ে আরেকটি গুলি। আরেকজন বলে ওঠে- ব্যাটার হাতে ১০ নম্বর ইট দিয়া ছ্যাঁচা দিয়া দে। ইট দিয়ে একজন আমার হাতে একজন ছ্যাঁচা দেয়। শুধু তাই নয় দলে থাকা র্যাবের এক কর্মকর্তা রিভলবারের বাঁট দিয়ে ডান চোখের নিচে আঘাত করেন। আমি শুধু 'আল্লাহ-আল্লাহ' করছিলাম। এরপর র্যাবের একজন লালবাগ থানার ওসিকে ফোন করে বলে- আপনার এলাকায় এক জন সন্ত্রাসী ধরছি, আপনি আসেন। পরে পুলিশের গাড়ি এলে আমাকে তাতে তুলে দেয়।"
এভাবেই র্যাবের 'ক্রসফায়ার' থেকে বেঁচে গেলেন কাপড় ব্যাবসায়ী বাবুল। র্যাব তাকে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী দাবি করেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুয়ে শনিবার দুপুরে কথা বলছিলেন ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের আগানগরের ইস্পাহানি এলাকার মোহাম্মদ বাবুল (৩০)। স্ত্রী সুমনা আক্তার সাথী স্বামীর সারা দেহে র্যাবের নির্যাতনে সৃষ্ট কালচে মোটা দাগগুলো দেখিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। র্যাবের একজন কর্মকর্তার রিভলবারের বাঁটের আঘাতে বাবুলের চোখের ডান পাশের নিচে কয়েকটি ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা- অধিকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৭ সালে দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ১৮৪টি বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর মধ্যে র্যাবের হাতে মারা গেছে ৯৪ জন। ২০০৫ সালে ৩৯৬টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১১১টিই ঘটে র্যাবের হাতে। অন্যদিকে ২০০৪ সালে ২৪০টির মধ্যে র্যাবের হাতে ৭৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
র্যাব সদর দপ্তরের মুখপাত্র আবুল কালাম আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, র্যাব যাত্রা শুরুর পর শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে এ বাহিনীর সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' ৫২৬ জন 'সন্ত্রাসী' নিহত হয়েছে। 'গোলাগুলির' ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজন র্যাব সদস্যও প্রাণ হারাননি।
র্যাবের মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার শনিবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমি ঘটনাটি শুনতে পেরেছি। তবে বিস্তারিত তথ্য এই মূহূর্তে আমার কাছে নেই। কিছুক্ষণ পরে যোগাযোগ করলে র্যাব- ১০ এর অধিনায়কের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে আমি আপনাকে দিতে পারব। আপনি নিজেও র্যাব- ১০ অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তিনি বিস্তারিত জানাতে পারবেন।"
বাবুলের অভিযোগ সম্পর্কে র্যাব মহাপরিচালককে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে বাবুলের অভিযোগ ঠিক হলে তদন্তে সেটাও বেরিয়ে আসবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।"
পুলিশ হেফাজতে ঢাকা মেডিকেলের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর বিছানায় চিকিৎসাধীন বাবুলের সঙ্গে শুক্রবার রাতে কথা বলতে চাইলে প্রথমে বাধা দেয় সেখানকার পুলিশ সদস্যরা। এরপর পুলিশের লালবাগ অঞ্চলের উপ-কমিশনারের মাধ্যমে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মাত্র দুই মিনিটের জন্য বাবুলের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি মেলে।
এ দুই মিনিটেই বাবুল শোনান বিতর্কিত ক্রসফায়ার থেকে তার বেঁচে যাওয়ার কাহিনী। পরে শনিবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরেক প্রতিবেদক হাসপাতালে গিয়ে পুলিশের চোখ এড়িয়ে বাবুলের সঙ্গে ১০ মিনিটের মতো কথা বলেন। ওয়ার্ডের বাইরে বাবুলের স্ত্রীর সঙ্গেও ওই প্রতিবেদকের দীর্ঘ সময় কথা হয়।
বাবুল যখন কথা বলছিলেন, তখন দুই ছেলেকে বুকে জড়িয়ে চোখ মুছছিলেন তার স্ত্রী। কোলের তিন বছরের ছেলে শাওন এবং দেড় বছর বয়সী শিশু ফাহিমও যেন বাবার বিপদ বুঝতে পেরে একেবারে নিশ্চুপ হয়ে আছে। পায়ে গুলিবিদ্ধ বাবুলের এখন একটাই সান্ত্বনা- 'ক্রসফায়ারে' পড়েও তিনি মরেননি; এখনো বেঁচে আছেন।
বাবুল দাবি করেন, তিনি কোনো সন্ত্রাসী কাজে জড়িত নন। এ দাবির সমর্থন মিলেছে পুলিশের কথায়ও। কিন্তু র্যাব শুনিয়েছে 'ক্রসফায়ারের' গতানুগতিক কাহিনী। তাদের দাবি, বাবুল শীর্ষ সন্ত্রাসী। গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে গেলে বাবুলের সহযোগীরা র্যাবের ওপর হামলা চালায়। উভয় পক্ষের গোলাগুলির সময় পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় বাবুল।
বাবুল দাবি করেছেন, তাকে গত বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু র্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বৃহস্পতিবার বিকেলে।
বাবুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, তিনি কাপড় ব্যবসা করেন। বুধবার পাওনা আদায়ের জন্য তিনি দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের কালীগঞ্জে যান। কালীগঞ্জ সেতুর পাশ থেকে সাদা পোশাকে র্যাব- ১০ এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
বাবুল বলেন, "পাওনা টাকার জন্য তাগাদা দিতে বুধবার গিয়েছিলাম কালীগঞ্জ। রাত ৮টার দিকে সাদা পোশাকের এক দল র্যাব হুট করে গাড়ি নিয়ে এসে বলে- 'উঠ'। তারা আমাকে গাড়িতে তুলে নেয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা আমাকে ধলপুরে র্যাব- ১০ এর সদর দপ্তরে নিয়ে যায়। এরপর শুরু হয় পাইকারি মাইর। কয়েকজন মিলে আমাকে যখন ব্যাপক মারধর করছিল, আমি তখন বলি- স্যার, আমার অপরাধ কী? আমি কী করছি? র্যাবের অফিসাররা বলে- তুই ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই করছিস। এখন অস্ত্র কোথায় রাখছিস বাইর কর। আমি বলি- স্যার, আমার কাছে কোনো অস্ত্র নাই। কিন্তু তাতে কান দেয়নি তারা। আমাকে সেখানেই আটকে রাখা হয়।"
এরপর শুক্রবার ভোররাতে চোখ বেঁধে 'ক্রসফায়ারের জন্য' লালবাগের শায়েস্তাগঞ্জ নিয়ে যাওয়া হয় বলে বাবুল জানান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর কাছে স্বীকার করেন, তার বিরুদ্ধে কাপড়ে নকল সিল মারা সংক্রান্ত প্রতারণার মামলা রয়েছে। তবে তিনি কখনোই কোনো সন্ত্রাসী কাজে জড়িত ছিলেন না।
তার অভিযোগ, ইসলামপুর এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী জনৈক জসিম, সাগর, রিপন, জাহাঙ্গীর ও ইলিয়াস র্যাবকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ইলিয়াস। সে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এলাকায় পুলিশ ও ডিবির সোর্স হিসেবে কাজ করে এবং বখরার টাকা তুলে থাকে।
র্যাব- ১০ এর কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মোস্তফা হুমায়ন কবীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর কাছে দাবি করেন, বাবুল কোতোয়ালি-ইসলামপুর এলাকার চিহ্নিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার কমপক্ষে সাতটি মামলা রয়েছে। অধিকাংশ মামলাই কোতোয়ালি থানায়। এছাড়া গত মাসে কোতয়ালি এলাকায় বোমা ফাটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায়ও বাবুল অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিল।
বাবুলের মামলার অভিযোগগুলো জানতে কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান শুক্রবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "তার বিরুদ্ধে আমার থানায় প্রতারণার অভিযোগে কয়েকটি মামলা রয়েছে, এটা ঠিক। তবে সে থানার তালিকাভুক্ত বা বড় কোনো সন্ত্রাসী নয়। চাঁদাবাজির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তবে সে যে ভালো মানুষ, এটাও বলা যায় না।"
শনিবার বিকেলে কেরাণীগঞ্জের আগানগর এলাকায় বাবুলের এলাকায় গিয়ে বেশ কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বললে তারাও বাবুলের অতীত অপরাধ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি। বাবুলের বাড়ির পাশের মুদি দোকানি আজগর আলী বলেন, "সে মাঝে মধ্যে দোকানে এসে কেনাকাটা করত। এ সূত্রে সে আমার মুখচেনা। সে কোনো অপরাধে জড়িত কিনা আমার জানা নেই।"
বাবুলের দোকান ইসলামপুর এলাকায় গিয়েও তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কাপড় ব্যাবসায়ী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, "বাবুলকে এমনিতে চিনতাম। কিন্তু সন্ত্রাসী কাজে তার জড়িত থাকার তথ্য আমার জানা নেই।"
র্যাব কর্মকর্তা মোস্তফা হুমায়ন কবীর বলেন, "২৬ তারিখ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে বাবুলকে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের আগানগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আমাদের একটি দল তাকে নিয়ে লালবাগ এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে যায়। বাবুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলবার উদ্ধারও করা হয়। সেখান থেকে ফেরার সময় বাবুলের সহযোগীরা র্যাবের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সে গুলিবিদ্ধ হয়। আমরা লালবাগ থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা পরে বাবুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।"
র্যাব- ১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক এস এম কামাল হোসেন শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "বাবুল এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সে আসলে কাপড় ব্যবসার আড়ালে সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং একটি ছিনতাইকারী দল চালাত। তার কাছ থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তার কাছে আরো অস্ত্র রয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। সে ইসলামপুর কেন্দ্রিক কাপড় জালিয়াতি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। গত মাসে কোতয়ালি থানা এলাকায় বোমা ফাটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই করার মামলার এক নম্বর আসামিও সে।"
ওই ঘটনায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করে থানায় মামলা হয়েছিল- বিষয়টি র্যাব অধিনায়ককে মনে করিয়ে দেওয়া হলে তিনি বলেন, "তখনতো মামলার বাদি আসামিদের চিনতে পারেনি। এ কারণে এজাহারে কোনো আসামির নাম ছিলো না। পরে দীর্ঘ তদন্তে বাবুলের নাম বেরিয়ে আসে। এছাড়া ওই ঘটনায় ব্যবহৃত মটরসাইকেলটি বাবুলের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।"
বাবুলের শরীরে মারধরের চিহ্ন সম্পর্কে তিনি বলেন, "গ্রেপ্তারের সময় তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছিল। এতে সে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। বাবুল একপর্যায়ে লাফিয়ে টিনের ওপরে পড়ায় চোখের নিচেও তার আঘাত লাগে।"
পালাতে যাওয়া কোনো ব্যক্তির পায়ের একই যায়গায় কী করে দুটি গুলি লাগা সম্ভব- এর জবাবে তিনি বলেন, "ভাই গুলি কি আর বলে কয়ে লাগে? গুলি তো যে কোনো যায়গায় লাগতে পারে।"
দেশের অন্যতম শীর্ষ 'চরমপন্থী' নেতা তপন মালিথা, তার ভাই আকাশসহ কয়েকজন অতি স¤প্রতি র্যাবের কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হয়।
সন্ত্রাস দমনে বিশেষায়িত দল হিসাবে র্যাব গঠন করা হয় ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ; বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে। 'ওয়ার এগেইনেস্ট টেররিজম (সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ)' স্লোগানে র্যাবের কাজ শুরু হয় ওই বছরের ১৪ এপ্রিল। সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হয় র্যাব।
র্যাব গঠনের পরপরই 'ক্রসফায়ার'র বিষয়টি বাংলাদেশে পরিচিত হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের 'ক্রসফায়ারের' মাধ্যমে মেরে ফেলার বহু অভিযোগ রয়েছে র্যাবের বিরুদ্ধে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউমেন রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসহ দেশের মানবাধিকার কর্মীরাও র্যাবের 'বিচার বহির্ভূত হত্যা' নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে।
এ ব্যাপারে শনিবার মানবাধিকার নেত্রী এবং সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "যে যত বড় অপরাধই করুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত। বাংলাদেশ জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদে স্বাক্ষর করেছে। এ কারণে রাষ্ট্র এ ধরনের নির্যাতন ও হত্যা প্রতিরোধে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কিন্তু অভিযোগকারীর বর্ণনা শুনেই বোঝা যায় এ ঘটনায় রাষ্ট্রের একটি সংস্থা প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে গেছে। এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রাষ্ট্রের উচিত এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসা।"
এ ঘটনার যথাযথ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন সুলতানা কামাল। মানবাধিকার সংস্থা 'আইন ও সালিশ কেন্দ্র' বাবুলকে আইনি সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান এর প্রধান সুলতানা কামাল।
সুত্র: বিডিনিউজ
এস্কিমো বলেছেন:
ভয়াবহ আর দু:খজন এই কর্মকান্ড থেকে সরকারের দ্রুত সরে আসা উচিত। "যে যত বড় অপরাধই করুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত।
কাউকে বিনাবিচারে হথ্যা করাও একটা অপরাধ। সেই অপরাধও বিচারযোগ্য।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
সন্ত্রাসী আর রাজাকারদের কোন মানবাধীকার নাই। কারন এরা মানব না।
রাহা বলেছেন:
যে যত বড় অপরাধীই হোক না কেন বিচার ছাড়া তাকে হত্যার এখতিয়ার রাষ্ট্রের নেই , র্যাবের থাকে কি করে ?? (রাজাকারদের জন্য আইন কার্যকর নয় )
ছটিক মাহমুদ বলেছেন:
ক্রসফায়ারের নামে মিথ্যা গল্প যে বানােনা হচ্ছে। একই গল্প প্রতিদিন। গল্প বানাতেও জানেনা রাব -পুলিশ।ক্রসফায়ারের গল্প বানানোর জন্যতো সাহিত্যিকদের নিয়ে যেতে পারে। নতুন গলপ তৈরী করে দিবে ক্রসফায়ারের। জনগণ বুঝতেই পারবে না যে পুলিশ বা রাব সরাসরি গুলি করেছে। সাথে সাথে সাহিত্যকদেরও একটা ভাল কর্মসংস্থান হবে। সন্ত্রাসীদের শায়েস্তা করুক কিন্তু তা একজন নিরীহ মানুষকে কেন মারবে গুলি করে?
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
রাষ্ট্র তার নিপীড়ক চেহারাটা এভাবেই লুকাইয়া রাখে, এইটারে খুইলা দেওন দরকার। প্রিয় পোস্ট।
মামু বলেছেন:
হে যে সত্য কতা কইচে তার প্রমান কি?মনে লয় হে বিরাট একটা মৌলানা ....জীবনে কুনু দিন মিছা কতা কয় নাই...
যীশূ বলেছেন:
পুলিশকে জনগনের বন্ধু বানানোর জন্য নাকি নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। হাস্যকর বিষয়!


















সন্ত্রাসী আর রাজাকারদের কোন মানবাধীকার নাই। কারন এরা মানব না।