রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, এর অঙ্গসংগঠন নিষিদ্ধ এবং নির্বাচনে 'না' ভোটের বিধান রেখে উপদেষ্টা পরিষদ গণপ্রতিধিত্ব অধ্যাদেশ ২০০৮ এ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটিতে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।
এ অধ্যাদেশে রাজনৈতিক দলগুলির অঙ্গসংগঠন রাখা এবং অনিবন্ধিত দলের সাথে রাজনৈতিক মোর্চা গঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে যে দলের প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচন করবে পরবর্তীতে তাদের সে দলের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সৈয়দ ফাহিম মুনয়েম সাংবাদিকদের বলেন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) শেষে অধ্যাদেশটি শিগগিরই পুনরায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। এ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
তিনি জানান অধ্যাদেশে খসড়ায় রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থিতা, মনোনয়ন পদ্ধতি, তহবিল সংগ্রহ ও খরচের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা রাখার বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সাথে ওই নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের এক শতাংশের স্বাক্ষরযুক্ত দলিল সংযুক্ত করতে হবে।
বিলখেলাপি, ঋণ খেলাপি বা আদালতে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না এবং কোনো প্রার্থী তিনটির বেশি আসনে নির্বাচন করতে পারবে না।
একজন প্রার্থী তিনটির বেশি আসনে নির্বাচন করতে পারবে না। কেউ বেশি মনোনয়নপত্র জমা দিলে তার সবগুলি মনোনয়নপত্র বাতিল হবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, প্রার্থী পছন্দ না হলে একজন ভোটার 'না' ভোট দিতে পারবে। এজন্য ব্যালট পেপারে 'ওপরের কাহাকেও নহে' লেখা একটা ঘর থাকবে। সেখানে তিনি সিল দিবেন।
কোনো আসনে 'না' ভোটের সংখ্যা ওই আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের অর্ধেক বা তার বেশি হলে রিটার্নিং অফিসার নির্বাচন বাতিল করে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে পুনঃনির্বাচন ঘোষণা করতে পারবেন।
এতে বলা হয়েছে কেউ ফৌজদারি অপরাধে 'কমপক্ষে' দু' বছরের জন্য দণ্ডিত হলে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। সাজা খেটে মুক্ত হওয়ার পর ৫ বছর অতিক্রান্ত না হলে ওই ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না।
দুর্নীতির কারণে কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারিত বা বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হলে পাঁচ বছর পার না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মচারী চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিলে বা পদত্যাগ করলে বা বাধ্যতামূলক অবসরে গেলে তিন বছর অতিক্রম না করা পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
এছাড়া কেউ নিজে ভোটার না হলে; বিদেশি অনুদানে পরিচালিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে বা ওই পদ থেকে অব্যাহতির পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে; মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পূর্ববর্তী ছয় মাসের মধ্যে কোনো সেবা প্রদানকারী সংস্থার বিলখেলাপি অথবা গৃহনির্মাণ বা কৃষি ঋণের কিস্তি খেলাপি হলে; জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আদালতে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে না।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর যে কোনো একটি নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের অন্তত পাঁচ শতাংশ ভোট পেলে কোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হবে। নতুন দলের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য দেশের এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় জেলা কমিটি এবং অন্তত একশ উপজেলায় ন্যূনতম ২০০ জন তালিকাভুক্ত সদস্য থাকতে হবে যারা ভোটার।
প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার দলীয় সদস্যরা সংসদ বা অন্য কোনো নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীর প্যানেল তৈরি করে দেবে এবং দলের কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড ওই প্যানেল বিবেচনায় এনে প্রার্থী মনোয়ন চূড়ান্ত করবে।
কোনো রাজনৈতিক দলের আর্থিক, বাণিজ্যিক, ছাত্র, শ্রমিক বা পেশাভিত্তিক অঙ্গসংগঠন থাকতে পারবে না। তবে কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে স্বাধীনভাবে এসব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কোনো বাধা থাকবে না। বিদেশে রাজনৈতিক দলের কোনো শাখা থাকতে পারবে না।
অনিবন্ধিত কোনো দলের সঙ্গে রাজনৈতিক মোর্চা গঠন অধ্যাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে যে দলের প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন পরবর্তীতে তাদের সেই দলের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে সনদপত্র দেবে এবং তা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে। কমিশন কোনো দলকে নিবন্ধিত করতে না চাইলে, আবেদন করার সাত দিনের মধ্যে ওই দলতে তা জানাতে হবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, নির্বাচনী এলাকার ভোটারসংখ্যার অনুপাতে সেখানকার প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে। তবে কোনোভাবেই তা ১৫ লাখ টাকার বেশি হবে না।
এর আগে সব সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী ব্যায়সীমা ছিল পাঁচ লাখ টাকা।
অধ্যাদেশে তফসিল ঘোষণার পরপরই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ভোটার তালিকা পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী তার আসনে প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ ভোট পেলে জামানতের টাকা ফেরত পাবেন। কেউ এর চেয়ে কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

