পড়ুন পুলিশের 'বন্দুকযুদ্ধে' র কাহিনী বিডিনিউজ থেকে হুবহু নেয়া
নওগাঁ, জুলাই ২৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পুলিশের সঙ্গে কথিত 'বন্দুকযুদ্ধে' শেষ পর্যন্ত সত্যিই নিহত হলেন নিষিদ্ধ সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-লাল পতাকা) শীর্ষ নেতা ডা. মিজানুর রহমান টুটুল। টুটুলের মা নভেরা খাতুন আগের দিনই তার ছেলের র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার কথা জানিয়ে তাকে 'ক্রসফায়ারে না মারার জন্য' সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে খোলাখুলি আবেদন জানান।
রোববার ভোররাতে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে চরমপন্থীদের গোলাগুলির সময় টুটুল মারা যান বলে দাবি করেছে পুলিশ। অন্যদিকে র্যাব তাকে আদৌ গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেই দাবি করেছে।
রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জেল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, রোববার ভোররাতে উপজেলার কালিগ্রাম ঈদগাহ মাঠে চরমপন্থীদের বৈঠকের খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল এলাকায় পৌঁছলে চরমপন্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তখন পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।
দুই পক্ষের গোলাগুলিতে টুটুল গুলিবিদ্ধ হয় জানিয়ে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, "গুরুতর আহত অবস্থায় রাণীনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।"
ঘটনাস্থল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৫ রাউন্ড গুলি ও কয়েকটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের দাবিও করেছে পুলিশ।
ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, "ডা. টুটুল পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-লাল পতাকা) প্রধান নেতা। তার বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজশাহী ও পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় হত্যাসহ দুই শতাধিক মামলা রয়েছে।"
তোফাজ্জল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ডা. টুটুলের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী গ্রামে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় তিনি 'চরমপন্থী' সংগঠনে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশ কর্মকর্তাটি উল্লেখ করেন।
ডা. টুটুলের মা নভেরা খাতুন শনিবার রাতে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, তিনি জানতে পেরেছেন শুক্রবার রাতে র্যাব তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে। সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে ছেলের প্রাণভিক্ষা চেয়ে তিনি বলেছিলেন, "অন্যায় করলে আমার ছেলের রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার হোক, তাকে যেন ক্রসফায়ারে হত্যা করা না হয়।"
অশীতিপর নভেরা খাতুনের দাবি, গোপন রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও টুটুল কোনও ধরনের চাঁদাবাজি বা খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
টুটুলকে গ্রেপ্তারে তার মায়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল মজিদ শনিবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "টুটুল নামে কাউকে গ্রেপ্তারের কোনও তথ্য র্যাবের কাছে নেই।"
নভেরা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, "টুটুল গরিব মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিজেকে নিয়োগ করেছিল। গোপন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও চাঁদাবাজি বা খুনের সঙ্গে সে জড়িত ছিল না। বরং পৈত্রিক জমিজমা বিক্রি করে তা গরিব মানুষের জন্য ব্যয় করেছে।"
'চরমপন্থী' দলে যোগ দেওয়ার পর টুটুলের সঙ্গে পরিবারের তেমন যোগাযোগ ছিল না জানিয়ে নভেরা খাতুন বলেন, "তবে মাঝে মাঝে লোক পাঠিয়ে সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা নিয়ে যেতো।"
প্রেসক্লাবে যাওয়ার আগে সন্ধ্যায় নভেরা ছেলের 'প্রাণভিক্ষা চেয়ে' ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিতে যান। তবে অফিস ছুটি হয়ে যাওয়ায় তাকে পরদিন আসতে বলা হয় বলে তিনি জানান।
টুটুলের জীবন ও রাজনীতি
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, টুটুল 'চরমপন্থী' মহলে দাদাভাই নামে পরিচিত ছিলেন। কোটচাঁদপুরে জন্ম নেওয়া টুটুল ১৯৮৫ সালে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি নেন। পাস করার পর প্রায় এক মাস সরকারি চাকরিও করেন তিনি। এরপর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। একসময় পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-লাল পতাকা) প্রধান হন টুটুল।
স্থানীয়রা জানায়, মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সময় পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন টুটুল। সরকারি চাকরি ছাড়ার পর পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মী হিসাবে যোগ দেন। পরে বিয়ে করেন দলীয় সূত্রে পরিচিত খুলনার ফুলতলার দামোদরপুর গ্রামের মেয়ে রুচিকে। একটি সন্তান জন্মের কিছুদিন পর তাদের বিয়ে ভেঙে যায়।
পর্যবেক্ষকরা জানান, নীতি ও রণকৌশল নিয়ে ২০০০ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক মোফাখখার চৌধুরীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে টুটুল আলাদা হয়ে যান। মোফাখখার চৌধুরী কয়েক বছর আগে র্যাবের 'ক্রসফায়ারে' মারা যান। টুটুলের দলের নাম হয় পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-লাল পতাকা)। আর দলের অন্য অংশটি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-জনযুদ্ধ) নামে সংগঠিত হয় তপন মালিথার মাধ্যমে। তপন মালিথা বা দাদা তপনও স¤প্রতি র্যাবের 'ক্রসফায়ারে' মারা যান।
ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, টুটুলের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ জেলায় কোনও মামলা নেই। তবে তিনি তালিকাভুক্ত শীর্ষ চরমপন্থী নেতা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

