somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্বরতার নিউজ: সাতক্ষীরায় ১৪ স্কুল ছাত্রের মাথার চুল কেটে নিয়েছে এক শিক্ষক

৩০ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সাতক্ষীরায় ১৪ স্কুল ছাত্রের মাথার চুল কেটে নিয়েছে এক শিক্ষক

সাতক্ষীরা, ২৯ জুলাই (মিডিয়া ফর মিডিয়া)- সাতক্ষীরা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ১৪ জন ছাত্রকে চুল লম্বা রাখার 'অপরাধে' তাদের মাথার চুল 'খ্যাপচা' 'খ্যাপচা' করে কেটে দেয়া হয়েছে।

রোববার ওই স্কুলের বাংলা শিক্ষক ফারুক হোসেন স্কুল চলাকালীন সময়ে ক্লাস রুমে প্রবেশ করে জোর পূর্বক কাচি দিয়ে ছাত্রদের মাথার চুল কেটে দেয়। এ ঘটনার পর লজ্জায়, অপমানে ওই ছাত্ররা স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। এদিকে, চুল কেটে নেয়ার ঘটনায় ওই শিক্ষককে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সোমবার শিক্ষক কাউন্সিলের মিটিংয়ে- এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক গতকাল মঙ্গলবার অমানবিক এই ঘটনা তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ম্যজিস্টেট সরোজ কুমার নাথকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

জানাজায়, ১৯৯৯ সালে ফারুক হোসেন উক্ত বিদ্যালয়ে যোগদান করে। কয়েক মাস পরে তার বিরুদ্ধে তার প্রথম স্ত্রী বাদী হয়ে নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলা দায়ের করে।মামলা দায়ের হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষক ফারুক হোসেনকে চাকুরী থেকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করে। আজও তার বহিস্কারাদেশ বহাল রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বহিস্কৃত ওই শিক্ষককে কোন ক্লাস দেয়া যায় না। কিন্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান তাকে বাংলা ক্লাস নেয়ার সুযোগ দিয়েছেন নিয়মবর্হিভূতভাবে।

ছাত্ররা জানায়, রোববার শিক্ষক ফারুক হোসেন দশম শ্রেনীর বাংলা ক্লাস নিতে গিয়ে চুল লম্বা রাখার অপরাধে ১৪ জন ছাত্রকে দাঁড়াতে বলেন। এ সময় তার কাছে থাকা কাচি দিয়ে জোর পূর্বক তাদের মাথার চুল কেটে দেয়। এমনভাবে চুল কেটে দেয়া হয় যে, ন্যাড়া হওয়া ছাড়া তাদের বিকল্প কোন পথ নেই।এ সময় ছাত্ররা কান্না-কাটি শুরু করে। বিষয়টি তারা তাৎক্ষনিকভাবে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে পরের দিন ছাত্রদেরকে চুল ভালো করে কেটে আসার জন্য বলেন। বিষয়টি তাদের অভিভাবকদেরকে বাড়িতে যেয়ে না বলার জন্য বলেন।

বিষয়টি জানাজানি হওযার পর প্রধান শিক্ষকের টনক নড়ে।তিনি সোমবার শিক্ষক কাউন্সিলের মিটিং ডাকেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুক হোসেনকে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করতে দেয়ার সিদ্ধন্ত নেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহকে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হলে তাৎক্ষনিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন তিনি। এবং ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। ম্যাজিস্টেট সরোজ কুমার নাথকে ওই তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

এদিকে চূল কাটার ওই ঘটনার পর ওইসব ছাত্রদের অনেকেই গত ২ দিন স্কুলে আসছে না। অভিভাবকেরা জানায়, লজ্জায় তাদের ছেলেরা স্কুলে যেতে চাচ্ছে না। সামনে তাদের এসএসসি পরীক্ষা বিধায় এ নিয়ে অভিভাবকেরা পড়েছে মহা টেনশনে। একজন শিক্ষকের এ ধরনের অমানবিক আচরণ অন্য অভিভাবকদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে শিক্ষকরা তাদের সন্তানদের নম্বর কম দেবেন এই ভয়ে অনেকে প্রতিবাদ করতে পারছেনা বলে অভিভাবকরা জানান।এদিকে, ছাত্ররা জানায় তাদের কোন শিক্ষক চুল কাটার জন্য আগে কখনো তাদেরকে বলেননি।

এ ব্যাপারে বহিস্কৃত শিক্ষক ফারুক হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাদের চুল লম্বা ছিলো। চুল না কাটার কারণে তাদের চুল জোর করে ধরে কেটে দেয়া হয়েছে। তিনি আস্ফালন করে বলেন, চুল কেটেছি তাই কী হয়েছে? যান যা পারেন তাই পত্রিকায় লেখেন। তিনি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন।

এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমার ১৫ বছর চাকুরীর জীবনে এমন অমানবিক আচরন কোন শিক্ষককে করতে দেখিনি। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

জেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি এ্যাডভোকেট এ এক এম শহীদ উল্লাহ বলেন, এ ধরনের অমানবিক ঘটনার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

জেলা প্রশাসক কেফায়েত উল্লাহ বলেন, রিপোর্ট পাওয়ার পর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।


৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×