আমার প্রিয় পোস্ট

আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতাঃ বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে একটি পর্যালোচনা

০২ রা আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৪০

শেয়ার করুন:                   Facebook

সাম্প্রতিক বিশ্বে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তথ্য অপরিহার্য সম্পদ হিসেবে পরিগণিত। তথ্য পুনরুৎপাদন-প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য সংগ্রহ-পুনরুদ্ধার, তথ্য সংরক্ষণ-বিতরণ-বিনিময়-আদান-প্রদান ও তথ্য ব্যবহারে প্রযুক্তির সংযোজনে তথ্য বিস্ফোরণ (Information Explosion) ঘটে গেছে। বাস্তবায়িত হতে চলেছে মিডিয়া গুরু মার্শাল ম্যাকলুহানের ‘বিশ্ব গ্রাম’ (Global Village) এর ধারণা। তথ্য বিস্ফোরণের পাশাপাশি তথ্য বিস্ফোরণের বৈচিত্র্য ও প্রকৃতি বাড়িয়ে দিচ্ছে তথ্য ব্যবহারকারীর তথ্য চাহিদা ও তথ্য আকাঙ্খা। মানুষ তথ্য জানতে চায়, তথ্য আহরণ করতে চায়, তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করতে চায় তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টাকে। অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে সকল তথ্য আহরণ করা সম্ভবও নয়। তথ্য অন্বেষণকারীগণ বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-গবেষকগণ কম খরচে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করতে চায়। তথ্য চাহিদা মেটাতে গ্রন্থগার তথ্য সেবা কেন্দ্র এবং বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির বদৌলতে বিভিন্ন তথ্য অন্বেষণকারী ইঞ্জিন (যেমন ইহাহু, গুগল) ও ভারচুয়াল লাইব্রেরীর১ আগমন ঘটেছে। তবে জ্ঞান বিস্ফোরণ ও তথ্য বিস্ফোরণ এতই উর্ধ্বগামী যে কোন গ্রন্থাগার বা তথ্যসেবা কেন্দ্রের বিশ্বের প্রক্রিয়াজাত সকল জ্ঞান ও তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। L.B. Macclvir Ges J. Revie লিখেছেন "There is no library not even the Library of Congress or VINITY in which a reader could find every things he requires (Sharma:1990:35)|"

অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা সকল তথ্য অন্বেষণকারীর নাগালের মধ্যে পৌঁছায়নি। এক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান তথ্য চাহিদা মেটাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতা২ (Information Sharing) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ লক্ষ্যে বর্তমান নিবন্ধে তথ্য সহভাগিতা ধারণার উদভব ও গুরুত্ব, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারসমূহের রিসোর্স ও তথ্য প্রযুক্তির অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে । আলোচ্য নিবন্ধে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচী গ্রহণে বিবেচ্য বিষয়সমূহ নির্ধারণ করার চেষ্টাও করা হয়েছে ।

তথ্য সহভাগিতা ধারণার উদ্ভব ও বিকাশঃ

যোগাযোগ বা তথ্য আদান প্রদানের বাসনা মানুষের জন্মগত। যোগাযোগ হচ্ছে তথ্য সহভাগিতা বা তথ্য আদান প্রদানের (sharing of information) প্রক্রিয়া। বলা হয়ে থাকে তথ্যের প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহার মানব সভ্যতার চেয়েও পুরনো। প্রথমে মানুষের মুখের ভাষা ছিল না। তখন গুহাচিত্রে ছবি এঁকে তথ্যের আদান প্রদান করত। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মানুষ তাঁর সূচনালগ্নে ইশারা-ঈঙ্গিতে তথ্যের আদান প্রদান চালাতে থাকে।

মানুষের মুখে ভাষা উঠে আসার পর নিজের চাহিদা, অনুভব ও প্রয়োজনকে শব্দ প্রতীকের মধ্য দিয়ে অপরকে জানাতে পেরেছিল। উইল ডুরান্ট বলেছেন “মানব ধর্মের শুরু হল সেদিন অধর্নর ও অধপশুযম মানুষের মুখে উচ্চারিত হয়েছিল কয়েকটি সাধারণ বিশেষ্যপদ। এই বিশেষ্য পদই হল প্রথম শব্দ সংকেত যা দিয়ে বাড়ি বলতে সমস্ত বাড়ি; আলো বলতে সমস্ত আলো এবং মানুষ বলতে সমস্ত মানুষ বোঝানো গেল। এই সেই মুহূর্ত যখন থেকে শুরু হয়েছিল মানবজাতির মানসিক বিকাশের অন্তহীন পথচলা (ভট্টাচার্য, ১৯৯৮:৫)।

এরপর মানুষ বর্ণ-মুদ্রণযন্ত্র-বইপত্র-সংবাদপত্র-টেলিগ্রাফ-টেলিফোন-রেডিও-টেলিভিশন-কম্পিউটার-ইন্টারনেট এবং এসবের সাথে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হওয়ায় দ্রুত ও সহজে তথ্য আদান প্রদান করতে থাকে। ১৮৫০ সালে প্রথম Jewett 'Smith Sonion Institute' এর কাটালগের সংগৃহীত ছাঁচ ব্লক অন্যান্য গ্রন্থাগারে ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করেন, কিন্তু সে প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি (Sharma, 1990:44)। ১৯৬৬ সালে কলোরেডো কাউন্সিল অব লাইব্রেরীজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব রাজ্যে গ্রন্থগার সেবা দেয়ার জন্য একটি বই প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে (Sharma, 1990:44)। যুক্তরাজ্যে নিউ ইংল্যান্ড বোর্ড অব হাইয়ার এডুকেশন ৬টি একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ক্যাটালগিং প্রসেসিং সেকশন এর উন্নয়ন ঘটায় (Sharma, 1990:44)। ভারতে ড. রঙ্গনাথান আন্তঃগ্রন্থাগার ধারকরণ কর্মসূচীর সুপারিশ করেন যা ১৯৬৪ সালে শুরু হয় (Sharma, 1990:44)। বিংশ শতাব্দীতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হওয়ায় ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে আন্তঃগ্রন্থাগার রিসোর্স আদান প্রদান ও আন্তঃগ্রন্থাগার ধারকরণ কর্মসূচী চালু হয়।

ভারতে উল্লেখযোগ্য রিসোর্স আদান-প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলি হচ্ছেঃ ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সাইন্টিফিক ডকুমেন্ট সেন্টার (INSDOC), ডেভলপিং লাইব্রেরী নেটওয়ার্ক (DELNET), ইনফরমেশন এ্যান্ড লাইব্রেরী নেটওয়ার্ক (INFLIBNET), মাদ্রাজ লাইব্রেরী নেটওয়ার্ক (MALIBNET), ন্যাশন্যাল ইনফরমেশন সিষ্টেম ফর সাইন্স এ্যান্ড টেকনোলজি (NISSAT) এবং মেসরী লাইব্রেরী নেটওয়ার্ক (Mylibnet) । মালয়েশিয়ায় কৃষিভিত্তিক গ্রন্থাগারসমূহের মধ্যে রিসোর্স আদান প্রদান ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এখানে রিসোর্স আদান প্রদান আন্তঃগ্রন্থাগার ধারকরণ এবং ডকুমেন্ট ডেলীভেরী কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল (Majid and others, 1999:38-39)।

বাংলাদেশে গ্রন্থাগার সহযোগিতার ইতিহাস খুব বেশী দিনের নয়। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দেশের গ্রন্থাগারসমূহের মধ্যে সহযোগিতা বরং ছিল অনানুষ্ঠানিক ও সীমিত আকারে (Mannan and Begum, online)। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার যেমন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন গ্রন্থাগার এবং কিছু কৃষি গ্রন্থাগারের মধ্যে সীমিত পর্যায়ের আন্তঃগ্রন্থাগার সহযোগিতা বিদ্যমান ছিল। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোন অফিসিয়াল চুক্তি ছিল না (Mannan and Begum, online)।
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ব্যবহারকারীগণ বুয়েট এবং পরমাণু শক্তি কমিশন এর গ্রন্থাগার ব্যবহার করতে পারত। পান্তরে, বুয়েট ও পরমাণু শক্তি কমিশনের ব্যবহারকারীগণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ব্যবহার করত। মেডিক্যাল ও কৃষি গ্রন্থাগারের মধ্যে একই ধরনের সহযোগিতা বিদ্যামান ছিল। ঐসব প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারিকদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব সহযোগিতা কর্মসূচী গড়ে ওঠে।

১৯৭৬ সালে আইসিডিডিআরবি এবং ন্যাশন্যাল হেলথ লাইব্রেরী ও ডকুমেন্টটেশন সেন্টার (NHLDC) আন্তঃগ্রন্থাগার ধারকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রন্থাগার সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটি চুক্তি স্বার করে (Mannan and Begum, online)। এরপর BIDS (১৯৭৭) বারডেম (১৯৭৮) এবং ইএসএইড, ঢাকা (১৯৯২) আন্তঃধারকরণ চুক্তিতে স্বারের মাধ্যমে এ কর্মসূচীর সাথে যুক্ত হয়।

করিম (১৯৮৭:৮৭) এর মতে, বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগারের সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রিসোর্স বিনিময় কর্মসূচী রয়েছে। জাতীয় গ্রন্থাগার বর্তমানে আইএলও বিশ্বব্যাংক, ইউনেস্কো আঞ্চলিক অফিস, লাইব্রেরী অব কংগ্রেস, বিটিশ লাইব্রেরী এবং বিশ্বের আরও কিছু লাইব্রেরীর প্রকাশনা গ্রহণ করে। এসব ছাড়া বাংলাদেশে অন্য কোন আন্তঃগ্রন্থাগার সহযোগিতা কর্মসূচী বিদ্যমান নেই(Mannan and Begum, online)।

তবে রহমান (১৯৩:১৮০) উল্লেখ করেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিজ্ঞানীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে দেশে ৫০টি বিশেষ গ্রন্থাগার এবং ডকুমেন্টেশন কেন্দ্র রয়েছে। এগুলি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, শিল্প কর্পোরেশন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কৃষি ও মেডিক্যাল কলেজের সাথে যুক্ত (Mannan and Begum, online)।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে রিসোর্স শেয়ারিং এর জন্য কোন পূর্ণ অন-লাইন নেটওয়ার্ক পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়নি। দেশের গ্রন্থাগার তথ্য কেন্দ্রগুলির সনাতন ব্যবস্থা ও তথ্য প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাই এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। তাসত্ত্বেও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অন-লাইন ডেটাবেজ ব্যবহারের জন্য দেশের কিছু বিশেষ গ্রন্থাগার তথ্যকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক গঠনে সচেষ্ট রয়েছে। এগুলির মধ্যে কৃষিত্রে AGRIS, স্বাস্থ্যত্রে HELLIS, সাজামিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক গবেষণা ক্ষেত্রে DEVSIS, APINESS, DEVINSA, পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে INRD এবং জনসংখ্যা ক্ষেত্রে POPIN বিশেষ উল্লেখযোগ্য (মান্নান, ২০০৪:১৭৪)।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ১৯৮৪ সালে উচ্চ শিক্ষা সম্প্রসারণকল্পে গ্রন্থাগার উন্নয়নের জন্য তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আন্তঃগ্রন্থাগার কর্মসূচী কার্যকর করার জন্য ইউনিয়ন ক্যাটালগের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। কিন্তু অর্থাভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি (ইউজিসি বার্ষিক প্রতিবেদন, ২০০৩:১২৭)। অত:পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের গ্রন্থাগারগুলির জার্নাল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারগুলিতে অধিক শিরোনামের আধুনিক জার্নাল সংগ্রহ করা এবং তা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় রিসোর্স শেয়ারিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যবহার বৃদ্ধি করা। যাতে করে উচ্চশিক্ষার গুণগতমান তথা গবেষণা সম্প্রসারিত হয়। সে প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়নি (ইউজিসি বার্ষিক প্রতিবেদন, ২০০৩:১২৭)।
বাংলাদেশে আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য আদান প্রদান কয়েক দশক পূর্বে শুরু হলেও বিষয়টি এখন পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিক এবং চর্চার চেয়ে তত্ত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীর উদ্যোগ বিভিন্ন সময় নেয়া হলেও অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের মজুদ সংখ্যা ও তথ্য প্রযুক্তিগত আবস্থাঃ
উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিগত এক যুগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০০৩ সালে ২১টিতে উন্নীত হয়েছে (ইউজিসি বার্ষিক প্রতিবেদন ২০০৩:৬৩)। এ হিসেবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গ্রন্থাগারের সংখ্যা ২১টি। নিচে গ্রন্থাগারগুলির বই-পুস্তক ও সাময়িকীর বর্তমান মজুদ সংখ্যা এবং এসব ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমাণ দেখানো হলো।

সারণী-১:
ক্রমিক নং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রতিষ্ঠাকাল বই-পুস্তক ও সাময়িকীর
সংখ্যা বই-পুস্তক ও সাময়িকী ও শিক্ষা উপকরণ খাতে ব্যয়

০১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯২১) সংখ্যা ৬,০২,৬১০ ব্যয় ৮৯,০০,০০০ টাকা
০২ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৫৩) সংখ্যা ৩,১৫,০৯১,
ব্যয় ৮৪,৯১,০০০ টাকা
০৩ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৬১) সংখ্যা ১,৭৯,৬৬৬, ব্যয় ৩৩,৯৬,০০০ টাকা
০৪ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৬২) সংখ্যা ১,৩৪,৭৪৬, ব্যয় ১১,০৭,০০০ টাকা
০৫ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৬৬) সংখ্যা ১,৯৭,৮৬৭ ব্যয় ২,০৯,৬০,০০০ টাকা
০৬ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৭০)সংখ্যা ৯০,৫৭৮ ব্যয় ৪৪,৫৭,০০০ টা.
০৭ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার(১৯৮০) সংখ্যা ৮৪,৬০০ ব্যয় ৪৪,০০০ টা.
০৮ শাবিপ্রবি গ্রন্থাগার (১৯৮৭) সংখ্যা ৪১,২৭০ ব্যয় ৮,১৭,০০০ টা.
০৯ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৯০) সংখ্যা ৩১,৮৪৮ ব্যয় ৫৬,৩৩,০০০ টা.
১০ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৯২) সংখ্যা ২২,৩৪২ ব্যয়৭১,১৬,০০০ টা.

১১ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৯২) সংখ্যা ২৩,৯৪৩ ব্যয় ১৮,২৮,০০০ টা.
১২ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৯৮) সংখ্যা ৬০,০০০ ব্যয় ২৫,২৯,০০০ টা.
১৩ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৯৮) সংখ্যা ১৪,৩৩৪ ব্যয় ৫,০০,৮০০ টা.
১৪ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (২০০১) ১২,৬৮০ ব্যয় ১৫,০০,০০০ টা.
১৫ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (২০০১) ?- -
১৬ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (২০০১) সংখ্যা ১৫,৮০০ ব্যয় ৪,২৩,০০০ টা.
১৭ শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ব· গ্রন্থাগার (২০০১) সংখ্যা ৪৫,০০০. ?--
১৮ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ব গ্রন্থাগার (২০০৩) সংখ্যা ৪১,০৭৮ ব্যয়৫৯,৯২,০০০ টা.
১৯ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ব গ্রন্থাগার (২০০৩) সংখ্যা ২৪,৬৭০ ব্যয় ১৯,১৫,০০০ টা.
২০ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ব গ্রন্থাগার (২০০৩) সংখ্যা ৩৩,৩৮৬ ব্যয় ৫,০০,৫০০ টা.
২১ ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (২০০৩) সংখ্যা ২৮,১২৯ ব্যয় ৭,৪৭,০০০ টা.

সূত্রঃ ইউজিসি বার্ষিক প্রতিবেদন, ২০০৩:৭১-৮৪

সারণী-১ এ দেখা যায়, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের বই-পুস্তক সাময়িকীর মোট মজুদ সংখ্যা সবচেয়ে বেশী অর্থাৎ ৬,০২,৬১০ খানা। এরপর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের মজুদ সংখ্যা অর্থাৎ ৩,১৫,০৯১ খানা। সারণীতে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট যে, পূর্বে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির গ্রন্থাগারে বই-পুস্তক-সাময়িকীর মজুদ সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বেশী। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এগুলি পূর্বে বিআইটি থাকায় এসব গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠাকাল বিআইটির প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের প্রতিবেদন (২০০৩) অনুযায়ী মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের মজুদ সংখ্যা বাদ দিয়ে ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের বই-পুস্তক ও সাময়িকীর মোট মজুদ সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯,৯৯,৬৩৮ খানা।

গ্রন্থাগার বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন, আধুনিক গ্রন্থাগার ও তথ্য ব্যবস্থা এবং তথ্য প্রযুক্তি একে অপরের সম্পূরক ও পরিপূরক। অর্থাৎ সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবহারকারীকে সঠিক তথ্য প্রদান বা সরবরাহ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্ভর করে গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত তথ্য প্রযুক্তির ওপর।

বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারসমূহে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো সন্তোষজনক নয়। তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও তথ্য সেবা প্রদানে কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহৃত হলেও তা তথ্য ব্যবহারকারীর অনুপাতে পর্যাপ্ত নয়। বাংলাদেশে ১৯৮০’র দশক থেকে গ্রন্থাগার ও তথ্য ব্যবস্থায় কম্পিউটারসহ অন্যান্য তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হলেও অদ্যবধি দেশের গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রগুলি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য কোন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি(মান্নান, ২০০৪:১৭৯)।

গ্রন্থাগার কম্যুনিটি দেশের অপরিহার্য অঙ্গ। দেশের উন্নয়ন গ্রন্থাগারের উন্নয়নের সাথে আন্তঃসম্পর্কিত। একটি দেশের আর্থ-সামাজিক ও প্রযুক্তিগত অবস্থা উন্নত হলে সে দেশের গ্রন্থাগারগুলির অবস্থাও উন্নত হয়। বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তির অনেক সম্ভবনার কথা বলা হলেও বাস্তবে তথ্য প্রযুক্তির অবকাঠামোগত দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। যার প্রতিফলন আমাদের গ্রন্থাগারগুলিতেও দৃশ্যমান।

বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির অনেক সম্ভাবনার কথা বলা হলেও শহর বনাম গ্রাম, বেসরকারি গ্রন্থাগার বনাম সরকারি গ্রন্থাগার ও বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের মধ্যে ব্যাপক “ডিজিটাল ডিভাইড”৩ বিদ্যমান।
বর্তমানে দ্রুত তথ্য আহরণের জন্য ইন্টারনেটের ভূমিকাই অগ্রগণ্য। সারা বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা ৫৫ কোটি। বাংলাদেশের মাত্র ৭ লাখ লোকের ই-মেইল একাউন্ট রয়েছে অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ০·৫৫ শতাংশ লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে যাদের মধ্যে আবার ৯০ শতাংশ লোক ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের বাসিন্দা (রুবেল, ২০০৫:২৪)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক-গবেষকদের মধ্যে ইন্টারনেট সুবিধাপ্রাপ্তির মধ্যেও বৈষম্য বিদ্যমান। যেমনঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু থিসিস, এসফিল ও পিএইচডি’র গবেষক ও শিক্ষকগণ এর কম্পিউটার সেন্টারে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পায়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা ডিজিটাল ডিভাইড এর শিকার হচ্ছে।

উপরিউক্ত আলোচনার বিষয়বস্তুকে নিম্নোক্ত কয়েকটি মোটা দাগে চিহিত করলে যা পাওয়া যায় তা হলো-

১. তথ্য বিস্ফারণের বৈচিত্র্য ও প্রকৃতি তথ্য ব্যবহারকারীর তথ্য চাহিদা ও তথ্য আকাঙ্খা ক্রমাগত বৃদ্ধি করছে;

২. অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা অদক্ষ জনবল এবং তথ্য বিস্ফরণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার এককভাবে ব্যবহারকারীর তথ্য চাহিদা ও তথ্য আকাঙ্খা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে না;

৩. তথ্য চাহিদা ও তথ্য আকাঙ্খা মেটাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতার গুরুত্ব অপরিসীম। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারগুলির বই-পুস্তক-সাময়িকীর মোট মজুদ সংখ্যা ১৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬ শত ৩৮ খানা। এসব রির্সোস বিনিময় করলে ব্যবহারকারীর তথ্য চাহিদা ও তথ্য আকাঙ্খা অনেক বেশী মেটানো সম্ভব;

৪. তথ্য সহভাগিতার জন্য এ পর্যন্ত গৃহীত আন্তঃগ্রন্থাগার সহযোগিতা, আন্তঃগ্রন্থাগার ধারকরণ ব্যবস্থা ও আন্তঃগ্রন্থাগার রির্সোস বিনিময় কার্যসূচী মূলতঃ বাংলাদেশে তত্ত্বের মধ্যেই রয়ে গেছে, চর্চা বা প্রয়োগ তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও প্রযুক্তিগত অবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হওয়ায় এমনটি ঘটেছে বলে মনে করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ বিবেচনা করা যেতে পারে:

আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতা, তথ্য সহযোগিতা, রির্সোস ধারকরণ ব্যবস্থা ও আন্তঃগ্রন্থাগার বিনিময় কর্মসূচীকে কার্যকর করতে হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে বিদ্যমান নিজস্ব সম্পদ ও তথ্য বই-পত্র সাময়িকীর মজুদ সংখ্যা এবং তথ্য প্রযুক্তিগত অবস্থা বিবেচনা করেই অগ্রসর হওয়া উচিত। দক্ষ, অদক্ষ জনবল দু’চারটি কম্পিউটার ও গ্রন্থাগার সফটওয়্যার, সীমিত ইন্টারনেট ব্যবস্থা, ফটোকপি মেশিন, টেলিফোন, ডাক ও কুরিয়ার সার্ভিস এবং বর্তমান মোবাইল প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে “আন্তঃগ্রন্থাগার দূরবর্তী তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচী” (ওহঃবত-খরনতধতু উরংঃধহপব গড়ড়ফ ওহভড়তসধঃরড়হ ঝযধতরহম চতড়মতধসসব) নামে একটি কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা যায়। প্রস্তাবনাটি প্রণয়ন ও কার্যকর করার সুবিধার্থে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি বিবেচনা করা যেতে পারে।

১. আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীর জন্য কয়েকটি স্তরে কমিটি গঠন অপরিহার্য। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় মজুরী কমিশনের সদস্য বা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি/প্রোভিসি বা প্রধান গ্রন্থাগারিককে প্রধান করে পাঁচ বা ছয় সদস্য বিশিষ্ট ‘পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা যেতে পারে। পরিকল্পনা প্রনয়ন ও নীতিনির্ধারণে সুবিধার জন্য গ্রন্থাগার, তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকদের নিয়ে আরেকটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করতে হবে।

২. পরিকল্পিত নেটওয়ার্ক ও তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচী শুরুর পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারগুলির ওপর ব্যাপক গবেষণা পরিচালনা করতে হবে। গ্রন্থাগারগুলির তথ্য প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত অবস্থা পরিমাপ, মজুদ সংখ্যা নির্ণয়, দক্ষ-অদক্ষ জনবলের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণসহ গ্রন্থাগারগুলির বিভিন্ন সমস্যা চিহৃিতকরণ ও সম্ভাব্যতা অনুসন্ধানই হবে এ গবেষণার প্রধান লক্ষ্য।

৩. আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিত কর্মসূচীকে গতিশীল ও কার্যকরী করার লক্ষ্যে গ্রন্থাগারগুলির মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অপরিহার্য।

৪. এ কর্মসূচী পরিচালনার জন্য অর্থের উৎস সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। অর্থ সংগ্রহের কার্যকরী কৌশল প্রণয়ন করতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন দ্রুততার সাথে নিশ্চিত করা আবশ্যক।

৫. কর্মসূচীটি পরিচালিত হবে সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি ও নীতিমালার আলোকে।

৬. গ্রন্থাগাগুলির মধ্যে ইউনিয়ন ক্যাটালগ তৈরী করতে হবে। বই-সাময়িকী, রেফারেন্স, অভিসন্দগর্ভ, থিসিস এর ধনংঃতধপঃ ও পড়হঃবহঃ এর তালিকাও তৈরি করা প্রয়োজন। এছাড়া প্রকাশিত ও সংগৃহীত তথ্য-সম্পদকে ক্রমান্বয়ে ইলেকট্রনিক ও ডিজিটালাইজড তথ্যে রূপান্তর করতে হবে।

৭. তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সম্মিলিত আকুজিশন, রিসোর্স সংরক্ষণ, ক্যাটালগিং, কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং, গ্রন্থপঞ্জি ও ডকুমেন্টেশন এবং বই-সাময়িকী প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রভৃতি বিষয় বিবেচনা করে একটি সমন্বিত গ্রন্থাগার কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে।

৮. তথ্য প্রাপ্তি, সংগ্রহ কৌশল ও বিতরণ পদ্ধতিসহ তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচী সম্পর্কে অবহিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক ও গ্রন্থাগার স্টাফদের অংশগ্রহণে ওরিয়েন্টেশন ও অবহিতকরণ কর্মসূচী বা বিভিন্ন এ্যাডভোকেসি কর্মসূচী গ্রহণ করা যেতে পারে। এ্যাডভোকেসি কর্মসূচী’র জন্য যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেয়া আবশ্যক।

৯. গ্রন্থাগার স্টাফদের জন্য গ্রন্থাগার সেবা, তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচী, তথ্য প্রযুক্তি প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিণ দিয়ে দক্ষ জনবলে পরিণত করতে হবে। তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীটি পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা ও কর্মচারী অবশ্যই প্রয়োজন।

১০. দ্রুত তথ্য সেবা নিশ্চিত করতে গ্রন্থাগারগুলির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বিশেষ করে কার্যকর যোগাযোগ মাধ্যম যেমন-ইন্টারনেট, ই-মেইল ও টেলিকমিউনিকেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

১১. তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীর পদ্ধতি হবে সহজ, সস্তা ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য। যেমন-বিশ্বিবিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র (ওফবহঃরভু ঈধতফ) তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীর পরিচিতিমূলক কার্ড হিসেবে গণ্য করতে হবে। এধরনের অন্যান্য সহজ পদ্ধতির অনুসন্ধান কর্মসূচীটির বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীর প্রধান উদ্দেশ্য হবে তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা। তথ্য জানা, সংগ্রহ-সংরণ, তথ্য ব্যবহার ও পুনরুৎপাদন করার অধিকার সকলেরই রয়েছে। কিন্তু তথ্য সংশ্লিষ্ট এসব অধিকার আইনগত, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে, তথ্য ব্যবহারকারী ও অন্বেষণকারী প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বেশী। এসব সীমাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণের জন্য তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীর গুরুত্ব অপরিসীম। এ পর্যালোচনা ঈঙ্গিত দেয় যে, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ফটোকপি ডাক-কুরিয়ার সার্ভিস এবং টেলি ও মোবাইল ফোন-এসব যোগাযোগ মাধ্যম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের প্রায় সকল জায়গায় ব্যাপক ও বিস্তৃত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র ১/২ টাকা খরচ করে মোবাইল ফোনে খুব সহজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট গ্রন্থাসারিককে জানিয়ে দিতে পারে তাঁর প্রত্যাশিত তথ্য চাহিদা। আর উক্ত গ্রন্থাগারিক তথ্য ব্যবহারকারীর চাহিদা ও সুবিধানুযায়ী প্রত্যাশিত ডকুমেন্টস ফটোকপি করে কুরিয়ার বা ডাক সেবার মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতে পারেন অনায়াসেই। তাই বিদ্যমান সহজ, সস্তা ও প্রচলিত প্রযুক্তি, সেবা ও উপাদান ব্যবহারের ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে। তবে তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীকে আরো গতিশীল করতে ক্রমান্বয়ে ডিজিটাল তথ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচী হবে অত্যন্ত পরিকল্পিত, সুনির্দিষ্ট, সময়োপযোগী এবং বিদ্যামান প্রযুক্তিগত অবস্থা ও সেবার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এজন্য ব্যাপক গবেষণা ও আর্থিক উৎস নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সকল গ্রন্থাগারকে পর্যায়ক্রমে নেটওয়ার্কভূক্ত করে মানুষের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা যায়।

সমাপ্ত

NB: কারো কোন সুপারিশ বা পরামর্শ থাকলে তা লিখুন। কিছু ফন্ট, সারণি ভেঙ্গে গেছে বা ইংরেজী শব্দ আসেনি ইউনিকোড করার সময়। পরে চেষ্টা করা হবে। ধন্যবাদ।

 

 

  • ৬ টি মন্তব্য
  • ১২০ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০২ রা আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৪৭
comment by: শরিফ রনি বলেছেন: ভালো পোষ্ট। আপনার ইমেইল বা ফোন নম্বারটা দেন যোগাযোগ করবো।
২. ০২ রা আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৫৪
comment by: মানুষ বলেছেন: এইটা আগের পোষ্টের চেয়ে ভাল হয়েছে।
৩. ০২ রা আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:২২
comment by: নিঃশব্দ শিশির! বলেছেন: thanks
well post
০২ রা আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:২৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪. ০২ রা আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৩
comment by: আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: আপনি আমার কমেণ্ট মুছে দিলেন কেন?
০২ রা আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৪৪

লেখক বলেছেন: আমি মনে করি মন্তব্য হবে যে বিষয়ে পোষ্ট করা হয়েছে সে বিষয়ে। অন্য কোন ব্যক্তিগত কথা বা কাউকে আঘাত করা কথা না দেয়াই ভাল তাই না শিমুল সাহেব। ধন্যবাদ।

 



 

comment by:
সাংবাদিক ও গবেষক

আমি জাত সাংবাদিক। বাংলাদেশের সংবাদ সংস্থা United News of Bangladesh(UNB)এর ইংরেজী সার্ভিসে সহ-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছি। পাশাপাশি ইউকের...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১৪৯০৫