somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আজ সেই ভয়াল ১৫ই নভেম্বর: সিডর দুর্গতরা এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন যান্ত্রণা
আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে ২০০৭ সালের ৯ নভেম্বর একটি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়। ১১ নভেম্বর আবহাওয়ায় সামান্য দুর্যোগ এর আভাষ পাওয়া যায় এবং এর পরদিনই এটি ঘূর্ণিঝড় সিডর-এ পরিণত হয়। বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে এটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে এবং বাংলাদেশে একটি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।

আইএমডি ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গে ১৪ নভেম্বর বিপদ সংকেত ঘোষণা করে। ওই দিন রাত ৮টার পর মংলা বন্দরের সকল কার্যক্রম এবং রাত ১০টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্ধরে বিমান উঠানামা বন্ধ করে দেয়া হয়। ঝড়ের আশংকায় ঢাকা জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিশেষ সতর্ক ব্যবস্থাও নেয়া হয় এবং নভেম্বর ১৫ তারিখে ঢাকা থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চলে নৌ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

ঘূর্ণিঝড় সিডরের অংশবিশেষ ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রীয় অংশ ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার পর পাথরঘাটায় বালেশ্বর নদীর কাছে উপকূল অতিক্রম করে। অতপর ঝড়ের তান্ডবে উপকূলীয় জেলা সমূহে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে এবং সাথে বিপুল পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়।

ঘূর্ণিঝড়ে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দেয়। কৃষি মন্ত্রনালয়ের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের প্রায় ৬০০,০০০টন ধান নষ্ট হয়েছে যার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারনা করা হয়েছে।

সুন্দরবনের পশুর নদীতে বেশ কিছু হরিণের মৃত্য দেহ ভাসতে দেখা যায় এবং এতে বিপুলসংখ্যক প্রাণীর মারা যায়। সিড়র প্রায় ৯৬৮,০০০ ঘরবাড়ী ধ্বংস এবং ২১০,০০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট করে দেয়। এ ঝড়ে প্রায় ২৪২,০০০ গৃহপালিত পশু এবং হাঁসমুরগী মারা যায়। সরকারি হিসেবে তিন হাজারের কিছু বেশী লোকের প্রাণহানির কথা স্বীকার করা হয়। কিন্তু এতে ১০ হাজারেরও বেশী মানুষ মারা গেছে বলে আশংকা করা হয়।

সিডরের পর সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলি সাহায্যের হাত বাড়ায় কিন্তু দুর্গত মানুষগুলি এখনও লড়াই করছে জীবনের সাথে৷ সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গতদের পুণর্বাসনের কথা বলা হলেও তা এখনও সেভাবে বাস্তবায়িত হয়নি৷

সাহায্য সংস্থা অক্সফামের তথ্য মতে, সিডর আক্রান্ত এলাকাগুলিতে দু' লাখ ৭৬ হাজার পরিবার তেমন কোন সাহায্য পায়নি৷

বরগুনা জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাফায়েত হোসেন বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন সিডর দুর্গতদের জন্য গত বছর ৬০টি নতুন আশ্রয় কেন্দ্র তৈরী করা হয়েছিল৷ কিন্তু তা এতই স্বল্প সংখ্যক যে দু' তৃতীয়াংশ লোক এখনও আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছে৷

তিনি বলেন, আমাদের যদি টাকা দেয়া হতো তাহলে আমরা এক মাসের মধ্যেই সব বাড়ী তৈরি করে দিতে পারতাম৷

সিডরের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ২২০ কোটি ডলার সাহায্য চাওয়া হয়েছিল৷ সাহায্যের অনেক প্রতিশ্রুতিও পাওয়া গিয়েছিল কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় জানায় সে প্রতিশ্রুত সাহায্যের মাত্র এক চতুর্থাংশ এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28869382 http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28869382 2008-11-15 13:41:14
অবশেষে জরুরী বিধিমালা শিথিল করা হয়েছে জরুরী ক্ষমতা অধ্যাদেশ ২০০৭ এর ধারা ৩ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার জরুরী ক্ষমতা বিধিমালার বিধি ৫ এবং ৬ এতদ্বারা বিলুপ্ত করেছে। ইহা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

সোমবার রাতে এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, জরুরী ক্ষমতা বিধিমালা ২০০৭, অতপর উক্ত বিধিমালা বলে উল্লেখিত এর বিধি ৩ এর উপবিধি (১) এর শর্তাংশে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার উক্ত বিধিমালা দ্বারা মিছিল, সভা বা বিক্ষোভ অনুষ্ঠান বা উহাতে অংশগ্রহণ বিষয়ে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন এবং উপজেলা নির্বাচন সংশ্লেষে নির্বাচনী প্রচারণার সুবিধার্থে নিম্নরূপ শর্ত সাপেক্ষে শিথিল করা হল।

Representation of people order, 1972 ও স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) অধ্যাদেশ ২০০৮ এবং তফশীল প্রণীত বিধি সমুহের বিধানাবলী অনুসরণ সাপেক্ষে সংসদ নির্বাচন, বা ক্ষেত্রমতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এবং নির্বাচনী এলাকার যে কোন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণা সংক্রান্ত মিছিল ও সভা সমাবেশ অনুষ্ঠানে ও এতে অংশগ্রহণ করা যাবে।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28864202 http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28864202 2008-11-03 22:03:46
নৃশংসতা আর নির্মমতার এই তান্ডবের অবসান চাই-ই-চাই
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের পন্চান্ন বছরের হতভাগ্য রিক্সাচালক আব্দুর রশিদকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা বেদনাদায়কই নয় তা নগ্ন ও নৃশংসতার মৌলিক উদাহারণ। আমরা এর অবসান চাই-ই-চাই। কিন্তু কীভাবে? বিচারের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দিতেই হবে। কিন্তু যে পরিবারের দু'-বেলা দু'মুঠো ভাত জুটেনা, নুন আনতে গিয়ে পানতা থাকেনা সে পরিবারের পক্ষে মামলা করা বা মামলা পরিচালনার জন্য অর্থ খরচ করা অসম্ভব একটা ব্যাপার। আর নির্যাতনকারী/হত্যাকারীগণ এজন্য পার পেয়ে যায়! তাই আমরা ব্লগাররা কি এগিয়ে আসতে পারিনা এ পরিবারটির সাহায্যে ? বা আইনগত সহায়তা দিয়ে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারি না? আমরা একযোগে কাজ করলে সবই পারি। কেননা, ব্লগাররা এর আগে এমন নজির রেখেছেন। তাই আসুন আমরা এগিয়ে আসি এ পরিবারটির সাহায্যে, জানিয়ে দেই বন্ঞিত, নির্যাতিত ও হতভাগ্যদের হাতও অনেক শক্ত। অপরাধ করে পার পাওয়া যায় না। এজন্য আমি এখানে সংক্ষিপ্ত কিছু প্রস্তাব রাখছি।

১. ব্লগারদের নিয়ে একটা কমিটি গঠন করা;

২. প্রথমে পরিবারটিকে কিছু আর্থিক সাহায্য করা;

৩. মামলা করা ও তা পরিচালনা করার জন্য ফান্ড সংগ্রহ করা ও

৪. ঘটনাটি গণমাধ্যমে বিভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

আমরা কীভাবে এমন নৃশংসতার অবসান ঘটাতে পারি এ বিষয়ে আপনার মতামত দিন। ধন্যবাদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28853653 http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28853653 2008-10-12 02:33:53
ডাক্তারী পড়লেই ডাক্তার বা engineering পড়লেই engineer নয় (repost)
"doctor" শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ "docere" থেকে যার অর্থ 'to teach'. মুলত: "A doctor was a teacher, especially a learned or authoritative one".

ডাক্তারের definition দিতে গিয়ে বলা হয়েছে: "A person, especially a physician, dentist, or veterinarian, trained in the healing arts and licensed to practice."

মেডিক্যাল সাইন্সে ডাক্তার হচ্ছে: "any medical professional with an MD, a PhD, or any other doctoral degree. A doctor may, for example, be a physician, psychologist, biomedical scientist, dentist, or veterinarian".

কিন্তু মেডিক্যাল সাইন্সের বাইরের ডাক্তারদের সর্ম্পকে বলা হয়েছে: "In a nonmedical context, a professor of history might be addressed as doctor, an eminent theologian might be named a doctor of a church, and a person awarded an honorary doctorate by a college or university might also be called a doctor."

এ সংজ্ঞাগুলি থেকে স্পষ্ট যে যারা কোন মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ছাত্র হয়ে পড়াশুনা করছে তাদেরকে ডাক্তার বলা যাবে না ( তবে চিকিৎসক যারা পেশায় ঢুকে আবার উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের জন্য ছাত্র তারা বাদে)।

আর যদি তারা ছাত্র অবস্থায় নিজেকে ডাক্তার বলে তাহলে সাংবাদিকতার ছাত্র সাংবাদিক, engineering পড়ে এমন ছাত্র engineer আর আইনের ছাত্র এ্যাডভোকেট হয়ে যায়! এনজিওতে গবেষক বা পোগ্রাম অফিসার হিসেবে চাকরি করেন যাদের গ্রাজুয়েশন মেডিক্যাল সাইন্সে তারাও নিজেকে ডাক্তার বলে পরিচয় দেন। অথচ তিনি কোন চিকিৎসার সাথে জড়িত না। তারাও মেডিক্যাল সাইন্সের ভাষায় ডাক্তার নন। ডাক্তারী পাশ করে এনজিও কর্মী, সরকারি অন্য আফিসারও এখন হচ্ছে। তাই তাদেরকে কীভাবে ডাক্তার বলা যায়? বাংলাদেশে এমবিবিএস পাস করে বিএমডিসি (Bangladesh Medical & Dental Council, The Regulatory Authority in Bangladesh) রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার পর ডাক্তার পরিচয় দিতে পারবেন বা সরকার বিসিএস এর মাধ্যমে হাসপাতালের জন্য কাউকে নিয়োগ দিলে তিনি হবেন ডাক্তার।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28840117 http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28840117 2008-09-08 00:04:02
ডাক্তারী পড়লেই ডাক্তার বা engineering পড়লেই কি engineer বলা যায়?
"doctor" শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ "docere" থেকে যার অর্থ 'to teach'. মুলত: "A doctor was a teacher, especially a learned or authoritative one".

ডাক্তারের definition দিতে গিয়ে বলা হয়েছে: "A person, especially a physician, dentist, or veterinarian, trained in the healing arts and licensed to practice."

মেডিক্যাল সাইন্সে ডাক্তার হচ্ছে: "any medical professional with an MD, a PhD, or any other doctoral degree. A doctor may, for example, be a physician, psychologist, biomedical scientist, dentist, or veterinarian".

কিন্তু মেডিক্যাল সাইন্সের বাইরের ডাক্তারদের সর্ম্পকে বলা হয়েছে: "In a nonmedical context, a professor of history might be addressed as doctor, an eminent theologian might be named a doctor of a church, and a person awarded an honorary doctorate by a college or university might also be called a doctor."

এ সংজ্ঞাগুলি থেকে স্পষ্ট যে যারা কোন মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ছাত্র হয়ে পড়াশুনা করছে তাদেরকে ডাক্তার বলা যাবে না ( তবে চিকিৎসক যারা পেশায় ঢুকে আবার উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের জন্য ছাত্র তারা বাদে)।

আর যদি তারা ছাত্র অবস্থায় নিজেকে ডাক্তার বলে তাহলে সাংবাদিকতার ছাত্র সাংবাদিক, engineering পড়ে এমন ছাত্র engineer আর আইনের ছাত্র এ্যাডভোকেট হয়ে যায়! এনজিওতে গবেষক বা পোগ্রাম অফিসার হিসেবে চাকরি করেন যাদের গ্রাজুয়েশন মেডিক্যাল সাইন্সে তারাও নিজেকে ডাক্তার বলে পরিচয় দেন। অথচ তিনি কোন চিকিৎসার সাথে জড়িত না। তারাও মেডিক্যাল সাইন্সের ভাষায় ডাক্তার নন। ডাক্তারী পাশ করে এনজিও কর্মী, সরকারি অন্য আফিসারও এখন হচ্ছে। তাই তাদেরকে কীভাবে ডাক্তার বলা যায়? বাংলাদেশে এমবিবিএস পাস করে বিএমডিসি (Bangladesh Medical & Dental Council, The Regulatory Authority in Bangladesh) রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার পর ডাক্তার পরিচয় দিতে পারবেন বা সরকার বিসিএস এর মাধ্যমে হাসপাতালের জন্য কাউকে নিয়োগ দিলে তিনি হবেন ডাক্তার।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28839699 http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28839699 2008-09-06 23:40:03
ব্যারিষ্টার তানিয়া আমীরের পরিণতি হবে দাউদ হায়দার ও তসলিমার চেয়ে জঘন্য (আবার ধমীয় উত্তেজনা) Click This Link

আবার ধমীয় উত্তেজনা শুরু হইল নাকি? আসলে কী বলেছে তা. আমীর?

কেননা বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হযরত মওলানা যাইনুল আবেদীন বলেছেন
বারিষ্টার তানিয়া আমীর মহিলা মানুষ ,তিনি তো মসজিদে যান না। মসজিদ সম্পর্কে তার ধারনাই নাই। অথচ তিনি বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও মুসুল্লিদের সম্পর্কে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন।

মওলানা যাইনুল আবেদীন বলেন তিনি যদি আগামী জুম্মাবারের(শুক্রবার) মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চান তাহলে তার পরিণতি হবে দাউদ হায়দার ও তসলিমা নাসরিনের চেয়েও জঘন্য। তিনি তা. আমীরকে এদেশ থেকে বহিস্কার করারও দাবি জানান।

আজ রবিবার বাংলাদেশ মসজিদ মিশন আয়োজিত সমাজ উন্নয়নে ইমামদের ভূমিকা শীর্ষক ফরিদপুরের আঞ্চলিক সমাবেশে মওলানা যাইনুল আবেদীন এসব কথা বলেছেন।

দ্রষ্টব্য: ফরিদপুর থেকে পাওয়া
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28831997 http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28831997 2008-08-17 23:35:26
বন্দুকযুদ্ধ নয়, র‌্যাব ওদের হত্যা করেছে প্রত্যক্ষদর্শীর উদ্ধৃতি দিয়ে অধিকারের রির্পোট

ঢাকা, আগস্ট ০৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বরাত দিয়ে মানবাধিকার সংস্থা 'অধিকার' এর অনুসন্ধান বলছে, ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে চরমপন্থী নেতা আব্দুর রশিদ মালিথা (দাদা তপন), তার সঙ্গী নাছিমা আক্তার রিক্তা এবং ছাত্রদল নেতা মো. মশিউল আলম সেন্টু মারা যাননি; র‌্যাব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তাদের।

বৃহস্পতিবার অধিকার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বরিশালে সেন্টুকে 'ক্রসফায়ার' থেকে বাঁচাতে র‌্যাবের এক কর্মকর্তাকে তিন লাখ টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তার মা। মেজর মামুন নামের ওই কর্মকর্তাকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম থেকে তার ০১৭১৪০৯৩৬০৯ নম্বরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

অভিযোগ সম্পর্কে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহা পরিচালক কর্নেল গুলজার আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ওই তিন মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে আমরা আগেই বক্তব্য দিয়েছি। তারা বন্দুকযুদ্ধের সময়েই নিহত হয়। এ সম্পর্কে তাই নতুন করে কিছু বলার নেই।"

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাড়াদি গ্রামে গত ১৮ জুন ভোররাতে গুলিতে নিহত হন চরমপন্থী সংগঠন জনযুদ্ধের শীর্ষ নেতা দাদা তপন (৪৮) ও তার সঙ্গী রিক্তা।

র‌্যাব বিষয়টিকে 'বন্দুকযুদ্ধে' মৃত্যু দাবি করলেও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তপনের ভাই গোলাম হোসেন আকাশ 'অধিকার'কে বলেন, "র‌্যাব সদস্যরা ১৮ জুন ভোররাতে বাড়ির ভিতরে ঢুকে তপনকে কাছ থেকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করে। ওই বাড়িতে থাকা রিক্তাকেও একইভাবে মাথায় ও পায়ের পাতায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।"

কুষ্টিয়ার মুখ্য বিচারবিভাগীয় হাকিম আদালতের হেফাজতে থাকা অবস্থায় আদালতের পুলিশ পরিদর্শক জাফরের মাধ্যমে অধিকারের সঙ্গে কথা বলার কয়েকদিনের মাথায় ২৬ জুন আকাশও র‌্যাবের 'ক্রসফায়ারে' নিহত হন।

আকাশ 'অধিকার'কে জানান, ১৮ জুন রাত ২টার দিকে তিনি নিজের বাসার গেটে কড়া নাড়ার শব্দ পান। গেট খোলার পর র‌্যাব সদস্যরা তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে কোমরে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর বন্দুকের নল দিয়ে পাঁজরে আঘাত করে এবং উপুড় করে ফেলে বুট দিয়ে মাড়িয়ে তার বাম পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি-এমএল জনযুদ্ধের প্রতিষ্ঠার পর তপন অস্ত্র, গুলি ও রাজনৈতিক বইপত্র ভাইয়ের বাড়িতে রাখতেন বলে জানান ভাই আকাশ।

ঘটনা সম্পর্কে আকাশের স্ত্রী আজমেরী ফেরদৌসী আঁখি 'অধিকার'কে জানান, গভীর রাতে দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর র‌্যাব সদস্যে বাড়ি ভরে যায়। তারা তার স্বামীকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে আকাশ ঘরে থাকা দেড় হাজার গুলি, একটি পিস্তল, জনযুদ্ধের প্রায় পাঁচ হাজার মাসিক বুলেটিন ও রাজনৈতিক বইপত্র, একটি কম্পিউটার, ফ্যাক্স মেশিন ও প্রিন্টার বের করে দেন। ভোর ৪টার দিকে একদল র‌্যাব সদস্য আকাশকে নিয়ে তপনকে খুঁজতে বাইরে চলে যায় এবং অন্য একদল বাড়ি ঘেরাও করে রাখে।

তিনি জানান, সকাল ৭টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা আবার তার স্বামীকে নিয়ে ফিরে আসে। র‌্যাবের পিটুনিতে আকাশের কপাল, বাহু মারাত্মকভাবে জখম ছিল এবং তার আঙ্গুল থেকে রক্ত ঝরছিল।

আঁখি অভিযোগ করেন, আকাশ প্রস্রাব করতে চাইলে হাতকড়া পরা অবস্থায় তাকে টয়লেটে নেওয়ার পর দেখা যায় তার মুত্রনালী থেকে রক্ত ঝরছে। যন্ত্রণায় তিনি চিৎকার করছিলেন। আকাশ স্ত্রীকে জানান, র‌্যাব তপন ও রিক্তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। ঘরের সব মালামাল জব্দ করে সকাল ১১টার দিকে আকাশকে নিয়ে চলে যায় র‌্যাব।

তপনের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত রিক্তার মা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আলেয়া বেগম (৪৫) জানান, তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট রিক্তা (১৮) দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করার পর সংসারের হাল ধরেন। তিনি কুষ্টিয়া থেকে শাড়ি ও থ্রি-পিচ কিনে এনে তাতে হাতের কাজ করে ঝিনাইদহে বিক্রি করতেন।

আলেয়া বেগম জানান, হাতের কাজ ভালভাবে শেখার জন্য মারা যাওয়ার প্রায় এক মাস আগে আরো দুটি মেয়ের সঙ্গে রিক্তা কুষ্টিয়ায় একটি বাড়িতে ওঠে। ১৮ জুন সকালে টেলিভিশনে মেয়ের মৃত্যর খবর পান তিনি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে র‌্যাব ও পুলিশের পাহারায় রিক্তার লাশ বাড়িতে আসে। তার মাথায় ও পায়ে একটি করে গুলির চিহ্ন ছিল।

আলেয় বেগম দাবি করেন, তার মেয়ে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না। থানায় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জিডিও নেই। এরপরও মেয়ের কোনো অপরাধ থাকলে তার বিচার না করে কেন হত্যা করা হলো?

গোলাগুলির পর ঘটনাস্থলে যাওয়া গ্রাম পুলিশ আনছার আলী জানান, তপনের বুকের বিভিন্ন জায়গায় এবং বাম বাহুতে মোট ছয়টি গুলি লেগেছিল। তার পাশেই পড়ে ছিল রিক্তার লাশ। রিক্তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, মৃত্যুর আগে কারো সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। গুলিতে রিক্তার মাথার খুলি এবং মুখের ডান পাশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

রিক্তার মৃত্যু সম্পর্কে কুষ্টিয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাবুল উদ্দিন সরদার 'অধিকার'কে বলেন, "একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে মারতে গিয়ে ১০ জন ভাল মানুষ নিহত হলেও কিছু করার নেই।"

এ স¤পর্কে র‌্যাব- ১২ এর ক্যাপ্টেন মাহমুদের ভাষ্যও একই রকম। 'অধিকার'কে তিনি বলেন, "তপনকে মারতে গিয়ে আরো ১০ জন ভাল মানুষ মরলেও র‌্যাবের কিছু করার ছিল না।"

তার দাবি, আকাশকে নিয়ে পাশের গ্রাম বাড়াদীতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব তপনের সন্ধান পায়। র‌্যাব সদস্যরা তপনের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলে তপন ভেতর থেকে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়ে ভিতরে ঢুকে দেখতে পায় তপন ও রিক্তা নিহত হয়েছে।

এদিকে, বরিশালে ছাত্রদলের নেতা মো. মশিউল আলম সেন্টুকেও (৩৪) 'ক্রসফায়ারের' নামে র‌্যাব হত্যা করেছে বলে 'অধিকারের' কাছে অভিযোগ করেছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

বরিশালের পশ্চিম কাউনিয়া বাগানবাড়ীর সেন্টুকে ১৫ জুলাই ঢাকার নীলক্ষেত এলাকা থেকে আটক করা হয়। সেন্টু বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি ছিলেন।

র‌্যাবের দাবি, আটকের পর সেন্টুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়ার পথে ১৬ জুলাই ভোররাতে তার সহযোগী ও র‌্যাবের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের সময় নিহত হন সেন্টু।

সেন্টুর মা 'অধিকারের' কাছে অভিযোগ করেন, জরুরি অবস্থা জারির পর বরিশালে র‌্যাব- ৮ এর মেজর মামুন রূপাতলীর সুলতানের মাধ্যমে তাকে জানান, সেন্টুকে 'ক্রসফায়ারে' হত্যা করা হবে। এটি ঠেকাতে রূপাতলীর সুলতান ও দোলনের মাধ্যমে জুনের ১৯ অথবা ২০ তারিখ মেজর মামুনকে তিনি তিন লাখ টাকা ঘুষ দেন। এরপরও র‌্যাব পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করেছে।

সেন্টুকে গ্রেপ্তারের প্রত্যক্ষদর্শী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ছাত্র সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মামুন 'অধিকার'কে জানান, খালেদা জিয়া ও ছাত্রদল নেতা হেলালের মুক্তির দাবিতে ১৫ জুলাই ঢাবি ক্যাম্পাসে অনশন কর্মসূচি পালন শেষে সন্ধ্যায় কয়েক নেতাকে নিয়ে তিনটি রিকশায় তারা হাজী মোহাম্মদ মহসীন হল হয়ে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন।

এ এফ রহমান হলের সামনে র‌্যাব- ৩ লেখা একটি সাদা মাইক্রোবাস পেছন থেকে এসে রিকশা থামানোর সংকেত দেয়। রিকশা পাশাপাশি থামলে র‌্যাব সদস্যরা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

মামুন দাবি করেন, সেন্টু রিকশা থেকে নামলে র‌্যাব সদস্যরা তার বাম পায়ে গুলি করে। তিনি পালানোর চেষ্টা করলে সাত থেকে আট র‌্যাব সদস্য তাকে ধরে রাস্তার ওপর ফেলে অস্ত্রের বাট দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে সেন্টু নিস্তেজ হয়ে পড়লে গামছা দিয়ে চোখ ও হাত বেঁধে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেন্টু নিহত হওয়ার কথিত স্থান বরিশালের কাশিপুরের বিল্ববাড়ী এলকার মর্জিনা বেগম 'অধিকার'কে জানান, ১৬ জুলাই ভোর ৪টার দিকে ঘুম ভেঙে দেখেন বৃষ্টি হচ্ছে। বাইরে কোনো কিছু ভিজছে কিনা দেখতে ঘরের বাইরে বেরিয়ে তিনি লক্ষ করেন, রাস্তায় তিনটি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে এবং র‌্যাবের পোশাক পরা ১০ থেকে ১৫ জন লোক হাঁটাহাটি করছে।

মর্জিনা বেগম মেয়ে রতœাকে ঘুম থেকে ডেকে ঘটনাটি দেখান। ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে তারা দেখেন, দুই/তিন জন করে র‌্যাব সদস্য রাস্তার একেক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।

মর্জিনা জানান, র‌্যাব সদস্যরা রাস্তাটি ব্লক করে দুই থেকে তিনটি ফাঁকা গুলি করে। ভোরের হালকা আলোয় দেখা যায়, গাড়ির ভিতর থেকে কী যেন ধরাধরি করে বের করে রাস্তার পাশের ধান ক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর চার থেকে পাঁচজন সেখানে জড়ো হয়ে বেশ কয়েকটি গুলি ছোড়ে।

মর্জিনা জানান, তিনি আর ঘুমাতে পারছিলেন না। র‌্যাব ধান ক্ষেতে কী ফেলে এভাবে ফাঁকা গুলি করল জানার কৌতূহল হয় তার। পানি আনার অজুহাতে কলসি নিয়ে র‌্যাব সদস্যদের মাঝ দিয়ে তিনি কয়েকবার পাশের আফজাল হোসেনের বাড়ি গিয়ে আবার ফিরে আসেন।

মর্জিনা দেখেন, র‌্যাব সদস্যরা 'কিছু একটা' যেখানে ফেলে এসেছিল ধানক্ষেতের সেখানে ছাত্রদল নেতা সেন্টুর লাশ পড়ে আছে। র‌্যাব লাশটি কার তা জানতে চাইলে ঝামেলা এড়ানোর জন্য তিনি চেনেন না বলে জানান।

এরপর র‌্যাবই তাকে জানায়, লাশটি ছাত্রদল নেতা সেন্টুর। গোলাগুলিতে সে নিহত হয়েছে।

মর্জিনা দাবি করেন, "তখন ঘটনাস্থলে কোনো অস্ত্র ছিল না, কিন্তু পরে র‌্যাব সদস্যরা গাড়ি থেকে অস্ত্রশস্ত্র নামিয়ে মাটিতে সাজিয়ে রাখে। এছাড়া সেন্টুর লাশ পড়ে থাকার স্থানে কোনো রক্ত ছিল না, পাশে দু'টি নতুন গামছা পড়ে ছিল।"

একই এলাকার খালেদা বেগম জানান, ওই সময়ে তিনি বাইরে বের হয়ে দেখেন, বেশ কিছু র‌্যাব সদস্য বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে ফাঁকা গুলি ছুড়ছে। তিনি কোনো কথা বা চিৎকার শোনেননি।

ওই এলাকার পাশের পশ্চিম কাউনিয়া বাগান বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মাহতাব (৫২) 'অধিকার'কে জানান, ১৬ জুলাই সকালে তিনি সেন্টুর লাশ দেখতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ধান ক্ষেতে সেন্টুর লাশ চিৎ হয়ে পড়ে ছিল।

তিনি বলেন, "ধান গাছ যেহেতু নষ্ট হয়নি, তাই লাশটি অন্য জায়গা থেকে এনে সেখানে শুইয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছিল।"

সেনাবাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, "সেন্টুর বুকে আঘাত করা গুলি দুটি সর্বোচ্চ গতি দূরত্ব থেকে এবং পায়ের গুলিটি এক থেকে দেড় ফুট দূরত্ব থেকে করা হয়েছিল বলে ক্ষতচিহ্নের ধরন দেখে মনে হয়েছে। তার ঘাড় থেঁতলানো ছিল এবং বাম হাতটি ভাঙা মনে হচ্ছিল।"

সেন্টুর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করা বরিশাল কোতয়ালি থানার উপ পরিদর্শক স্বপন 'অধিকার'কে জানান, সেন্টুর বুকে দুটি গুলি লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায় এবং বাম উরুতে একটি গুলি লেগে তা ভিতরে থেকে যায়। লাশ পড়ে থাকার স্থানে কোনো রক্ত ছিল না।

এদিকে, বরিশাল শহরের রূপাতলীর মো. সুলতান (৩৯) জানান, সেন্টুকে 'ক্রসফায়ারে' হত্যা করা হবে- এমন আলোচনা তিনি আগেই র‌্যাব সদস্যদের কাছ থেকে শুনেছিলেন। এজন্য তিনি সেন্টুর মাকে মেজর মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। তবে সেন্টুর মা ও মেজর মামুনের মধ্যে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

ওই এলাকার দোলনও (২৫) জানান, ছেলেকে যাতে হত্যা না করা হয় সেজন্য মাস খানেক আগে সেন্টুর মা মেজর মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ যোগাযোগে দোলনও সহায়তা করেন।

এ ব্যাপারে বরিশালে র‌্যাব- ৮ এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইরশাদ জানান, ঢাকার কাঁটাবন এলাকা থেকে সেন্টুকে আটকের পর সে স্বীকার করে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় তার অনেক অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। ১৬ জুলাই ভোররাতে বরিশাল শহরের কাশিপুর বিল্ববাড়ী এলাকায় পৌঁছালে সেন্টুর সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নেতে র‌্যাবের মাইক্রোবাসের উপর আক্রমণ করে এবং গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা চালায়। এ সময় সেন্টু র‌্যাবের মাইক্রোবাস থেকে পালিয়ে যায়। দু'পক্ষের মধ্যে ১০ থেকে ১২ মিনিট গুলি চলার পর র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে সেন্টুর মৃতদেহ দেখতে পায়।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28828528 http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28828528 2008-08-07 23:13:45
আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতাঃ বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে একটি পর্যালোচনা
অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা সকল তথ্য অন্বেষণকারীর নাগালের মধ্যে পৌঁছায়নি। এক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান তথ্য চাহিদা মেটাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতা২ (Information Sharing) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ লক্ষ্যে বর্তমান নিবন্ধে তথ্য সহভাগিতা ধারণার উদভব ও গুরুত্ব, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারসমূহের রিসোর্স ও তথ্য প্রযুক্তির অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে । আলোচ্য নিবন্ধে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচী গ্রহণে বিবেচ্য বিষয়সমূহ নির্ধারণ করার চেষ্টাও করা হয়েছে ।

তথ্য সহভাগিতা ধারণার উদ্ভব ও বিকাশঃ

যোগাযোগ বা তথ্য আদান প্রদানের বাসনা মানুষের জন্মগত। যোগাযোগ হচ্ছে তথ্য সহভাগিতা বা তথ্য আদান প্রদানের (sharing of information) প্রক্রিয়া। বলা হয়ে থাকে তথ্যের প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহার মানব সভ্যতার চেয়েও পুরনো। প্রথমে মানুষের মুখের ভাষা ছিল না। তখন গুহাচিত্রে ছবি এঁকে তথ্যের আদান প্রদান করত। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মানুষ তাঁর সূচনালগ্নে ইশারা-ঈঙ্গিতে তথ্যের আদান প্রদান চালাতে থাকে।

মানুষের মুখে ভাষা উঠে আসার পর নিজের চাহিদা, অনুভব ও প্রয়োজনকে শব্দ প্রতীকের মধ্য দিয়ে অপরকে জানাতে পেরেছিল। উইল ডুরান্ট বলেছেন “মানব ধর্মের শুরু হল সেদিন অধর্নর ও অধপশুযম মানুষের মুখে উচ্চারিত হয়েছিল কয়েকটি সাধারণ বিশেষ্যপদ। এই বিশেষ্য পদই হল প্রথম শব্দ সংকেত যা দিয়ে বাড়ি বলতে সমস্ত বাড়ি; আলো বলতে সমস্ত আলো এবং মানুষ বলতে সমস্ত মানুষ বোঝানো গেল। এই সেই মুহূর্ত যখন থেকে শুরু হয়েছিল মানবজাতির মানসিক বিকাশের অন্তহীন পথচলা (ভট্টাচার্য, ১৯৯৮:৫)।

এরপর মানুষ বর্ণ-মুদ্রণযন্ত্র-বইপত্র-সংবাদপত্র-টেলিগ্রাফ-টেলিফোন-রেডিও-টেলিভিশন-কম্পিউটার-ইন্টারনেট এবং এসবের সাথে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হওয়ায় দ্রুত ও সহজে তথ্য আদান প্রদান করতে থাকে। ১৮৫০ সালে প্রথম Jewett 'Smith Sonion Institute' এর কাটালগের সংগৃহীত ছাঁচ ব্লক অন্যান্য গ্রন্থাগারে ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করেন, কিন্তু সে প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি (Sharma, 1990:44)। ১৯৬৬ সালে কলোরেডো কাউন্সিল অব লাইব্রেরীজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব রাজ্যে গ্রন্থগার সেবা দেয়ার জন্য একটি বই প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে (Sharma, 1990:44)। যুক্তরাজ্যে নিউ ইংল্যান্ড বোর্ড অব হাইয়ার এডুকেশন ৬টি একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ক্যাটালগিং প্রসেসিং সেকশন এর উন্নয়ন ঘটায় (Sharma, 1990:44)। ভারতে ড. রঙ্গনাথান আন্তঃগ্রন্থাগার ধারকরণ কর্মসূচীর সুপারিশ করেন যা ১৯৬৪ সালে শুরু হয় (Sharma, 1990:44)। বিংশ শতাব্দীতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হওয়ায় ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে আন্তঃগ্রন্থাগার রিসোর্স আদান প্রদান ও আন্তঃগ্রন্থাগার ধারকরণ কর্মসূচী চালু হয়।

ভারতে উল্লেখযোগ্য রিসোর্স আদান-প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলি হচ্ছেঃ ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সাইন্টিফিক ডকুমেন্ট সেন্টার (INSDOC), ডেভলপিং লাইব্রেরী নেটওয়ার্ক (DELNET), ইনফরমেশন এ্যান্ড লাইব্রেরী নেটওয়ার্ক (INFLIBNET), মাদ্রাজ লাইব্রেরী নেটওয়ার্ক (MALIBNET), ন্যাশন্যাল ইনফরমেশন সিষ্টেম ফর সাইন্স এ্যান্ড টেকনোলজি (NISSAT) এবং মেসরী লাইব্রেরী নেটওয়ার্ক (Mylibnet) । মালয়েশিয়ায় কৃষিভিত্তিক গ্রন্থাগারসমূহের মধ্যে রিসোর্স আদান প্রদান ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এখানে রিসোর্স আদান প্রদান আন্তঃগ্রন্থাগার ধারকরণ এবং ডকুমেন্ট ডেলীভেরী কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল (Majid and others, 1999:38-39)।

বাংলাদেশে গ্রন্থাগার সহযোগিতার ইতিহাস খুব বেশী দিনের নয়। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দেশের গ্রন্থাগারসমূহের মধ্যে সহযোগিতা বরং ছিল অনানুষ্ঠানিক ও সীমিত আকারে (Mannan and Begum, online)। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার যেমন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন গ্রন্থাগার এবং কিছু কৃষি গ্রন্থাগারের মধ্যে সীমিত পর্যায়ের আন্তঃগ্রন্থাগার সহযোগিতা বিদ্যমান ছিল। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোন অফিসিয়াল চুক্তি ছিল না (Mannan and Begum, online)।
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ব্যবহারকারীগণ বুয়েট এবং পরমাণু শক্তি কমিশন এর গ্রন্থাগার ব্যবহার করতে পারত। পান্তরে, বুয়েট ও পরমাণু শক্তি কমিশনের ব্যবহারকারীগণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ব্যবহার করত। মেডিক্যাল ও কৃষি গ্রন্থাগারের মধ্যে একই ধরনের সহযোগিতা বিদ্যামান ছিল। ঐসব প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারিকদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব সহযোগিতা কর্মসূচী গড়ে ওঠে।

১৯৭৬ সালে আইসিডিডিআরবি এবং ন্যাশন্যাল হেলথ লাইব্রেরী ও ডকুমেন্টটেশন সেন্টার (NHLDC) আন্তঃগ্রন্থাগার ধারকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রন্থাগার সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটি চুক্তি স্বার করে (Mannan and Begum, online)। এরপর BIDS (১৯৭৭) বারডেম (১৯৭৮) এবং ইএসএইড, ঢাকা (১৯৯২) আন্তঃধারকরণ চুক্তিতে স্বারের মাধ্যমে এ কর্মসূচীর সাথে যুক্ত হয়।

করিম (১৯৮৭:৮৭) এর মতে, বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগারের সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রিসোর্স বিনিময় কর্মসূচী রয়েছে। জাতীয় গ্রন্থাগার বর্তমানে আইএলও বিশ্বব্যাংক, ইউনেস্কো আঞ্চলিক অফিস, লাইব্রেরী অব কংগ্রেস, বিটিশ লাইব্রেরী এবং বিশ্বের আরও কিছু লাইব্রেরীর প্রকাশনা গ্রহণ করে। এসব ছাড়া বাংলাদেশে অন্য কোন আন্তঃগ্রন্থাগার সহযোগিতা কর্মসূচী বিদ্যমান নেই(Mannan and Begum, online)।

তবে রহমান (১৯৩:১৮০) উল্লেখ করেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিজ্ঞানীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে দেশে ৫০টি বিশেষ গ্রন্থাগার এবং ডকুমেন্টেশন কেন্দ্র রয়েছে। এগুলি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, শিল্প কর্পোরেশন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কৃষি ও মেডিক্যাল কলেজের সাথে যুক্ত (Mannan and Begum, online)।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে রিসোর্স শেয়ারিং এর জন্য কোন পূর্ণ অন-লাইন নেটওয়ার্ক পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়নি। দেশের গ্রন্থাগার তথ্য কেন্দ্রগুলির সনাতন ব্যবস্থা ও তথ্য প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাই এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। তাসত্ত্বেও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অন-লাইন ডেটাবেজ ব্যবহারের জন্য দেশের কিছু বিশেষ গ্রন্থাগার তথ্যকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক গঠনে সচেষ্ট রয়েছে। এগুলির মধ্যে কৃষিত্রে AGRIS, স্বাস্থ্যত্রে HELLIS, সাজামিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক গবেষণা ক্ষেত্রে DEVSIS, APINESS, DEVINSA, পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে INRD এবং জনসংখ্যা ক্ষেত্রে POPIN বিশেষ উল্লেখযোগ্য (মান্নান, ২০০৪:১৭৪)।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ১৯৮৪ সালে উচ্চ শিক্ষা সম্প্রসারণকল্পে গ্রন্থাগার উন্নয়নের জন্য তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আন্তঃগ্রন্থাগার কর্মসূচী কার্যকর করার জন্য ইউনিয়ন ক্যাটালগের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। কিন্তু অর্থাভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি (ইউজিসি বার্ষিক প্রতিবেদন, ২০০৩:১২৭)। অত:পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের গ্রন্থাগারগুলির জার্নাল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারগুলিতে অধিক শিরোনামের আধুনিক জার্নাল সংগ্রহ করা এবং তা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় রিসোর্স শেয়ারিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যবহার বৃদ্ধি করা। যাতে করে উচ্চশিক্ষার গুণগতমান তথা গবেষণা সম্প্রসারিত হয়। সে প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়নি (ইউজিসি বার্ষিক প্রতিবেদন, ২০০৩:১২৭)।
বাংলাদেশে আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য আদান প্রদান কয়েক দশক পূর্বে শুরু হলেও বিষয়টি এখন পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিক এবং চর্চার চেয়ে তত্ত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীর উদ্যোগ বিভিন্ন সময় নেয়া হলেও অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের মজুদ সংখ্যা ও তথ্য প্রযুক্তিগত আবস্থাঃ
উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিগত এক যুগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০০৩ সালে ২১টিতে উন্নীত হয়েছে (ইউজিসি বার্ষিক প্রতিবেদন ২০০৩:৬৩)। এ হিসেবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গ্রন্থাগারের সংখ্যা ২১টি। নিচে গ্রন্থাগারগুলির বই-পুস্তক ও সাময়িকীর বর্তমান মজুদ সংখ্যা এবং এসব ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমাণ দেখানো হলো।

সারণী-১:
ক্রমিক নং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রতিষ্ঠাকাল বই-পুস্তক ও সাময়িকীর
সংখ্যা বই-পুস্তক ও সাময়িকী ও শিক্ষা উপকরণ খাতে ব্যয়

০১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯২১) সংখ্যা ৬,০২,৬১০ ব্যয় ৮৯,০০,০০০ টাকা
০২ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৫৩) সংখ্যা ৩,১৫,০৯১,
ব্যয় ৮৪,৯১,০০০ টাকা
০৩ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৬১) সংখ্যা ১,৭৯,৬৬৬, ব্যয় ৩৩,৯৬,০০০ টাকা
০৪ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৬২) সংখ্যা ১,৩৪,৭৪৬, ব্যয় ১১,০৭,০০০ টাকা
০৫ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৬৬) সংখ্যা ১,৯৭,৮৬৭ ব্যয় ২,০৯,৬০,০০০ টাকা
০৬ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৭০)সংখ্যা ৯০,৫৭৮ ব্যয় ৪৪,৫৭,০০০ টা.
০৭ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার(১৯৮০) সংখ্যা ৮৪,৬০০ ব্যয় ৪৪,০০০ টা.
০৮ শাবিপ্রবি গ্রন্থাগার (১৯৮৭) সংখ্যা ৪১,২৭০ ব্যয় ৮,১৭,০০০ টা.
০৯ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৯০) সংখ্যা ৩১,৮৪৮ ব্যয় ৫৬,৩৩,০০০ টা.
১০ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৯২) সংখ্যা ২২,৩৪২ ব্যয়৭১,১৬,০০০ টা.

১১ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৯২) সংখ্যা ২৩,৯৪৩ ব্যয় ১৮,২৮,০০০ টা.
১২ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৯৮) সংখ্যা ৬০,০০০ ব্যয় ২৫,২৯,০০০ টা.
১৩ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (১৯৯৮) সংখ্যা ১৪,৩৩৪ ব্যয় ৫,০০,৮০০ টা.
১৪ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (২০০১) ১২,৬৮০ ব্যয় ১৫,০০,০০০ টা.
১৫ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (২০০১) ?- -
১৬ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (২০০১) সংখ্যা ১৫,৮০০ ব্যয় ৪,২৩,০০০ টা.
১৭ শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ব· গ্রন্থাগার (২০০১) সংখ্যা ৪৫,০০০. ?--
১৮ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ব গ্রন্থাগার (২০০৩) সংখ্যা ৪১,০৭৮ ব্যয়৫৯,৯২,০০০ টা.
১৯ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ব গ্রন্থাগার (২০০৩) সংখ্যা ২৪,৬৭০ ব্যয় ১৯,১৫,০০০ টা.
২০ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ব গ্রন্থাগার (২০০৩) সংখ্যা ৩৩,৩৮৬ ব্যয় ৫,০০,৫০০ টা.
২১ ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার (২০০৩) সংখ্যা ২৮,১২৯ ব্যয় ৭,৪৭,০০০ টা.

সূত্রঃ ইউজিসি বার্ষিক প্রতিবেদন, ২০০৩:৭১-৮৪

সারণী-১ এ দেখা যায়, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের বই-পুস্তক সাময়িকীর মোট মজুদ সংখ্যা সবচেয়ে বেশী অর্থাৎ ৬,০২,৬১০ খানা। এরপর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের মজুদ সংখ্যা অর্থাৎ ৩,১৫,০৯১ খানা। সারণীতে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট যে, পূর্বে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির গ্রন্থাগারে বই-পুস্তক-সাময়িকীর মজুদ সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বেশী। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এগুলি পূর্বে বিআইটি থাকায় এসব গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠাকাল বিআইটির প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের প্রতিবেদন (২০০৩) অনুযায়ী মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের মজুদ সংখ্যা বাদ দিয়ে ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের বই-পুস্তক ও সাময়িকীর মোট মজুদ সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯,৯৯,৬৩৮ খানা।

গ্রন্থাগার বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন, আধুনিক গ্রন্থাগার ও তথ্য ব্যবস্থা এবং তথ্য প্রযুক্তি একে অপরের সম্পূরক ও পরিপূরক। অর্থাৎ সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবহারকারীকে সঠিক তথ্য প্রদান বা সরবরাহ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্ভর করে গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত তথ্য প্রযুক্তির ওপর।

বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারসমূহে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো সন্তোষজনক নয়। তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও তথ্য সেবা প্রদানে কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহৃত হলেও তা তথ্য ব্যবহারকারীর অনুপাতে পর্যাপ্ত নয়। বাংলাদেশে ১৯৮০’র দশক থেকে গ্রন্থাগার ও তথ্য ব্যবস্থায় কম্পিউটারসহ অন্যান্য তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হলেও অদ্যবধি দেশের গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রগুলি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য কোন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি(মান্নান, ২০০৪:১৭৯)।

গ্রন্থাগার কম্যুনিটি দেশের অপরিহার্য অঙ্গ। দেশের উন্নয়ন গ্রন্থাগারের উন্নয়নের সাথে আন্তঃসম্পর্কিত। একটি দেশের আর্থ-সামাজিক ও প্রযুক্তিগত অবস্থা উন্নত হলে সে দেশের গ্রন্থাগারগুলির অবস্থাও উন্নত হয়। বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তির অনেক সম্ভবনার কথা বলা হলেও বাস্তবে তথ্য প্রযুক্তির অবকাঠামোগত দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। যার প্রতিফলন আমাদের গ্রন্থাগারগুলিতেও দৃশ্যমান।

বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির অনেক সম্ভাবনার কথা বলা হলেও শহর বনাম গ্রাম, বেসরকারি গ্রন্থাগার বনাম সরকারি গ্রন্থাগার ও বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের মধ্যে ব্যাপক “ডিজিটাল ডিভাইড”৩ বিদ্যমান।
বর্তমানে দ্রুত তথ্য আহরণের জন্য ইন্টারনেটের ভূমিকাই অগ্রগণ্য। সারা বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা ৫৫ কোটি। বাংলাদেশের মাত্র ৭ লাখ লোকের ই-মেইল একাউন্ট রয়েছে অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ০·৫৫ শতাংশ লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে যাদের মধ্যে আবার ৯০ শতাংশ লোক ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের বাসিন্দা (রুবেল, ২০০৫:২৪)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক-গবেষকদের মধ্যে ইন্টারনেট সুবিধাপ্রাপ্তির মধ্যেও বৈষম্য বিদ্যমান। যেমনঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু থিসিস, এসফিল ও পিএইচডি’র গবেষক ও শিক্ষকগণ এর কম্পিউটার সেন্টারে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পায়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা ডিজিটাল ডিভাইড এর শিকার হচ্ছে।

উপরিউক্ত আলোচনার বিষয়বস্তুকে নিম্নোক্ত কয়েকটি মোটা দাগে চিহিত করলে যা পাওয়া যায় তা হলো-

১. তথ্য বিস্ফারণের বৈচিত্র্য ও প্রকৃতি তথ্য ব্যবহারকারীর তথ্য চাহিদা ও তথ্য আকাঙ্খা ক্রমাগত বৃদ্ধি করছে;

২. অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা অদক্ষ জনবল এবং তথ্য বিস্ফরণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার এককভাবে ব্যবহারকারীর তথ্য চাহিদা ও তথ্য আকাঙ্খা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে না;

৩. তথ্য চাহিদা ও তথ্য আকাঙ্খা মেটাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতার গুরুত্ব অপরিসীম। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারগুলির বই-পুস্তক-সাময়িকীর মোট মজুদ সংখ্যা ১৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬ শত ৩৮ খানা। এসব রির্সোস বিনিময় করলে ব্যবহারকারীর তথ্য চাহিদা ও তথ্য আকাঙ্খা অনেক বেশী মেটানো সম্ভব;

৪. তথ্য সহভাগিতার জন্য এ পর্যন্ত গৃহীত আন্তঃগ্রন্থাগার সহযোগিতা, আন্তঃগ্রন্থাগার ধারকরণ ব্যবস্থা ও আন্তঃগ্রন্থাগার রির্সোস বিনিময় কার্যসূচী মূলতঃ বাংলাদেশে তত্ত্বের মধ্যেই রয়ে গেছে, চর্চা বা প্রয়োগ তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও প্রযুক্তিগত অবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হওয়ায় এমনটি ঘটেছে বলে মনে করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ বিবেচনা করা যেতে পারে:

আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতা, তথ্য সহযোগিতা, রির্সোস ধারকরণ ব্যবস্থা ও আন্তঃগ্রন্থাগার বিনিময় কর্মসূচীকে কার্যকর করতে হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে বিদ্যমান নিজস্ব সম্পদ ও তথ্য বই-পত্র সাময়িকীর মজুদ সংখ্যা এবং তথ্য প্রযুক্তিগত অবস্থা বিবেচনা করেই অগ্রসর হওয়া উচিত। দক্ষ, অদক্ষ জনবল দু’চারটি কম্পিউটার ও গ্রন্থাগার সফটওয়্যার, সীমিত ইন্টারনেট ব্যবস্থা, ফটোকপি মেশিন, টেলিফোন, ডাক ও কুরিয়ার সার্ভিস এবং বর্তমান মোবাইল প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে “আন্তঃগ্রন্থাগার দূরবর্তী তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচী” (ওহঃবত-খরনতধতু উরংঃধহপব গড়ড়ফ ওহভড়তসধঃরড়হ ঝযধতরহম চতড়মতধসসব) নামে একটি কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা যায়। প্রস্তাবনাটি প্রণয়ন ও কার্যকর করার সুবিধার্থে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি বিবেচনা করা যেতে পারে।

১. আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীর জন্য কয়েকটি স্তরে কমিটি গঠন অপরিহার্য। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় মজুরী কমিশনের সদস্য বা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি/প্রোভিসি বা প্রধান গ্রন্থাগারিককে প্রধান করে পাঁচ বা ছয় সদস্য বিশিষ্ট ‘পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা যেতে পারে। পরিকল্পনা প্রনয়ন ও নীতিনির্ধারণে সুবিধার জন্য গ্রন্থাগার, তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকদের নিয়ে আরেকটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করতে হবে।

২. পরিকল্পিত নেটওয়ার্ক ও তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচী শুরুর পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারগুলির ওপর ব্যাপক গবেষণা পরিচালনা করতে হবে। গ্রন্থাগারগুলির তথ্য প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত অবস্থা পরিমাপ, মজুদ সংখ্যা নির্ণয়, দক্ষ-অদক্ষ জনবলের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণসহ গ্রন্থাগারগুলির বিভিন্ন সমস্যা চিহৃিতকরণ ও সম্ভাব্যতা অনুসন্ধানই হবে এ গবেষণার প্রধান লক্ষ্য।

৩. আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিত কর্মসূচীকে গতিশীল ও কার্যকরী করার লক্ষ্যে গ্রন্থাগারগুলির মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অপরিহার্য।

৪. এ কর্মসূচী পরিচালনার জন্য অর্থের উৎস সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। অর্থ সংগ্রহের কার্যকরী কৌশল প্রণয়ন করতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন দ্রুততার সাথে নিশ্চিত করা আবশ্যক।

৫. কর্মসূচীটি পরিচালিত হবে সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি ও নীতিমালার আলোকে।

৬. গ্রন্থাগাগুলির মধ্যে ইউনিয়ন ক্যাটালগ তৈরী করতে হবে। বই-সাময়িকী, রেফারেন্স, অভিসন্দগর্ভ, থিসিস এর ধনংঃতধপঃ ও পড়হঃবহঃ এর তালিকাও তৈরি করা প্রয়োজন। এছাড়া প্রকাশিত ও সংগৃহীত তথ্য-সম্পদকে ক্রমান্বয়ে ইলেকট্রনিক ও ডিজিটালাইজড তথ্যে রূপান্তর করতে হবে।

৭. তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সম্মিলিত আকুজিশন, রিসোর্স সংরক্ষণ, ক্যাটালগিং, কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং, গ্রন্থপঞ্জি ও ডকুমেন্টেশন এবং বই-সাময়িকী প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রভৃতি বিষয় বিবেচনা করে একটি সমন্বিত গ্রন্থাগার কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে।

৮. তথ্য প্রাপ্তি, সংগ্রহ কৌশল ও বিতরণ পদ্ধতিসহ তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচী সম্পর্কে অবহিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক ও গ্রন্থাগার স্টাফদের অংশগ্রহণে ওরিয়েন্টেশন ও অবহিতকরণ কর্মসূচী বা বিভিন্ন এ্যাডভোকেসি কর্মসূচী গ্রহণ করা যেতে পারে। এ্যাডভোকেসি কর্মসূচী’র জন্য যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেয়া আবশ্যক।

৯. গ্রন্থাগার স্টাফদের জন্য গ্রন্থাগার সেবা, তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচী, তথ্য প্রযুক্তি প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিণ দিয়ে দক্ষ জনবলে পরিণত করতে হবে। তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীটি পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা ও কর্মচারী অবশ্যই প্রয়োজন।

১০. দ্রুত তথ্য সেবা নিশ্চিত করতে গ্রন্থাগারগুলির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বিশেষ করে কার্যকর যোগাযোগ মাধ্যম যেমন-ইন্টারনেট, ই-মেইল ও টেলিকমিউনিকেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

১১. তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীর পদ্ধতি হবে সহজ, সস্তা ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য। যেমন-বিশ্বিবিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র (ওফবহঃরভু ঈধতফ) তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীর পরিচিতিমূলক কার্ড হিসেবে গণ্য করতে হবে। এধরনের অন্যান্য সহজ পদ্ধতির অনুসন্ধান কর্মসূচীটির বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীর প্রধান উদ্দেশ্য হবে তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা। তথ্য জানা, সংগ্রহ-সংরণ, তথ্য ব্যবহার ও পুনরুৎপাদন করার অধিকার সকলেরই রয়েছে। কিন্তু তথ্য সংশ্লিষ্ট এসব অধিকার আইনগত, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে, তথ্য ব্যবহারকারী ও অন্বেষণকারী প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বেশী। এসব সীমাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণের জন্য তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীর গুরুত্ব অপরিসীম। এ পর্যালোচনা ঈঙ্গিত দেয় যে, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ফটোকপি ডাক-কুরিয়ার সার্ভিস এবং টেলি ও মোবাইল ফোন-এসব যোগাযোগ মাধ্যম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের প্রায় সকল জায়গায় ব্যাপক ও বিস্তৃত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র ১/২ টাকা খরচ করে মোবাইল ফোনে খুব সহজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট গ্রন্থাসারিককে জানিয়ে দিতে পারে তাঁর প্রত্যাশিত তথ্য চাহিদা। আর উক্ত গ্রন্থাগারিক তথ্য ব্যবহারকারীর চাহিদা ও সুবিধানুযায়ী প্রত্যাশিত ডকুমেন্টস ফটোকপি করে কুরিয়ার বা ডাক সেবার মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতে পারেন অনায়াসেই। তাই বিদ্যমান সহজ, সস্তা ও প্রচলিত প্রযুক্তি, সেবা ও উপাদান ব্যবহারের ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে। তবে তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচীকে আরো গতিশীল করতে ক্রমান্বয়ে ডিজিটাল তথ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃগ্রন্থাগার তথ্য সহভাগিতা কর্মসূচী হবে অত্যন্ত পরিকল্পিত, সুনির্দিষ্ট, সময়োপযোগী এবং বিদ্যামান প্রযুক্তিগত অবস্থা ও সেবার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এজন্য ব্যাপক গবেষণা ও আর্থিক উৎস নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সকল গ্রন্থাগারকে পর্যায়ক্রমে নেটওয়ার্কভূক্ত করে মানুষের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা যায়।

সমাপ্ত

NB: কারো কোন সুপারিশ বা পরামর্শ থাকলে তা লিখুন। কিছু ফন্ট, সারণি ভেঙ্গে গেছে বা ইংরেজী শব্দ আসেনি ইউনিকোড করার সময়। পরে চেষ্টা করা হবে। ধন্যবাদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28826561 http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28826561 2008-08-02 14:40:10
Nor any drop to drink

Nor any drop to drink
by M. Mahamudul Haque


WATER, water, everywhere, nor any drop to drink," lamented eminent English poet Coleridge in his poem The Rime of the Ancient Mariner written over 100 years ago. Such a drastic situation might not exist in Bangladesh, but neither is it so far away, with many of the population having to search frantically for safe drinking water.

Though Bangladesh has been known from ancient times for its abundance of water from various sources, it has been suffering for decades from acute scarcity of safe drinking water.

Prior to Bangladesh's independence in 1971, surface water from ponds, lakes and rivers, and to a lesser degree, groundwater from dug wells, were the traditional sources of drinking water for the country's people.

Tube-wells have been used in Bangladesh since 1940s and in increasing numbers over the past 20 years. But tube-well water became suspect after it was found contaminated by arsenic in 1993.

Over the decades Bangladesh has been facing health hazards due to lack of safe drinking water. Many types of constraints are identified in ensuring safe water in the country, especially in the coastal belt, hilly region, and city slums.

Statistics says about 30 million people face health hazard due to arsenic contamination of the groundwater sources, while 55 million others are denied the use of water from tube-well due to fall in ground water level during the dry season. Another 14 million people in coastal areas are also badly affected due to excessive salinity.

National Sanitation Status (June 2007) states that 97.6 percent of the country's population drink piped water as well as from public taps, boreholes/tube-wells, protected wells, and spring or rainwater. But the discovery of the widespread arsenic contamination of groundwater has undermined this commendable success, and effectively lowered safe drinking water coverage to only 74 percent of the population.

About 28-35 million people are exposed to arsenic contamination above 50 ppb (parts per billion) while 46-57 million others are exposed to arsenic contamination above 10 ppb. WHO has identified the arsenic contamination in Bangladesh as the "largest mass poisoning of a population in history."

Safe drinking water both in rural and urban areas is under threat as hand tube-wells, the major source of water in the rural areas, are being contaminated by arsenic. Piped water in the country's large cities including Dhaka gets polluted due to old pipelines and leakage, and for lack of proper maintenance.

Most of the slum dwellers in the big cities not get piped water due to shortage of water. A situation report states the disparity between demand and supply of water and sanitation services is worst in the urban slums of capital Dhaka, where only 16 percent of the slum population has access to safe water.

Inefficient management and operation of urban water networks leads to a substantial waste of precious water, and more than 40 percent of water is unaccounted for in the major cities of Bangladesh, the report added. Acute shortage of "normal" water is found also in hilly areas, where water coverage is not more than 15-20 percent.

Furthermore, Bangladesh is now experiencing a developing water crisis. According to statistics of Bangladesh's Water Development Board, more than 170 of Bangladesh's 230 large and medium rivers suffer from pollution and poor water management. Besides, a large number of people, due to lack of awareness, unsafe sources of water for personal and domestic needs like cooking, bathing, and washing utensils.

Due to the lack of safe drinking water, Bangladesh faces a critical health hazard that forces the country to spend a huge amount of money every year for the treatment of water-borne diseases. National Sanitation Status, June 2007 said that every year Tk 50 billion is spent for the treatment of water-borne diseases in Bangladesh.

Eminent author K. Park in his book, The Text Book of Preventive and Social Medicine writes: "Water is considered safe when it is free from pathogenic agents, free from harmful chemical substances, and pleasant to taste -- i.e., ideally free from colour and odour, and usable for domestic purposes."

Can we meet this criteria for safe drinking water? Hardly.

Because the surface water sources often get mixed with highly polluting wastewater from domestic and industrial sources, and many areas of both groundwater and surface water are now contaminated with heavy metals, persistent organic pollutants, and other ingredients that have adverse affect on health.

Sources of safe water are being gradually decreased or destroyed as level of groundwater is being contaminated by arsenic and other heavy metals due to unplanned use of water by installation of hand pumps.

By using unsafe water, one may be affected with various water- borne diseases. Though no reliable data is available, every year in Bangladesh, hundreds of thousands of people, particularly children, die of cholera, diarrhea, dysentery, typhoid, and other water-borne diseases for lack of safe drinking water. Banglapedia indicates that these diseases account for nearly a quarter of all illnesses in Bangladesh.

Former United Nations Secretary General Kofi Annan once said: "We shall not finally defeat Aids, tuberculosis, malaria, or any of the other infectious diseases that plague the developing world until we have also won the battle for safe drinking water, sanitation, and basic healthcare."

Safe drinking water is a pre-requisite for reducing the spread of water-borne diseases. Many strategies and policies like Water Management Plan, National Policy for Safe Water and Sanitation, Sanitation Policy, National Arsenic Mitigation Policy, Pro-Poor Strategy, etc. have been formulated for ensuring safe water and sanitation. But these could not be properly implemented in the country yet due to many reasons.

Financial constraint is one them. But it is a great concern that there are some allegations against some ministries implementing these policy and strategies. Implementation of such policies and strategies are being hampered due the lack of co-ordination among concerned ministries.

To ensure safe drinking water and safe use of water, alternative technology and water sources like ponds and filtration and rainwater harvesting system should be introduced in crisis zones, specially in the coastal, hilly, and slum areas.

We should all become committed to stop misuse of water and water pollution alongside ensuring good governance in the country's water management. Government, NGOs, and donor agencies should come forward with more effective plans and policies on the country's water management immediately to meet the challenges.



Md. Mahamudul Haque is a Sub-Editor, UNB.



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28826225 http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28826225 2008-08-01 11:41:31
সা. ইন ব্লগে ছ্দ্ম নাম ব্যবহার ও আরো কিছু পর্যবেক্ষণ Click This Link এতে ব্লগারদের মধ্যে বেশ মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আজকের এ পোষ্টটি লেখার সময় র্পযন্ত গতকালের পোষ্টটি ৫০৩ পঠিত, ১০১টি মন্তব্য করা হয়েছে। এটি মাত্র ৫ জনের ভাল লেগেছে, আর ভাল লাগেনি ৩৭ জন ব্লগারের। ব্লগের মন্তব্য ও রেটিং থেকে আরেকটি গুরূত্বপুর্ণ বিষয় বেরিয়ে এসেছে। তা হলো সা.ইন ব্লগে বেশীর ভাগ ব্লগার ছদ্ম নাম ব্যবহার করে। একজন ব্লগার নাম মো. খায়রূল বাশার এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, " যারা ছদ্মনাম ব্যবহার করে, তারাই মাইনাস দিয়েছে । মনে হচ্ছে এ ব্লগে ছদ্মনাম ব্যবহারকারী বেশী।"

তিনি আরও বলেছেন, "ছদ্মনাম ব্যবহারের অন্যতম কারণ হচ্ছে নিজের নামের ব্যবহারের সৎ সাহস নাই।" যদিও আমি তার এ বক্তব্যের সাথে একমত নই। কারণ বিভিন্ন কারণে ব্লগার বা লেখক ছদ্ম নাম ব্যবহার করতে পারেন যা আমার পর্বের পোষ্টে দেয়া হয়েছে।

মাইনাস দেয়াটাতো খুবই কার্যকরী ফিডব্যাক। এতে লেখক তাঁর দর্বলতাগুলি জানতে পারে। কারণ মতের ভিন্নতাকে অবশ্যই গুরূত্ব দিতে হবে। এজন্য যারা মাইনাস দিয়েছে তাদেরকেও সম্মান জানিযে ধন্যবাদ দিয়েছি। আসলে কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমনের জন্য পোষ্টটি দেয়া হয়নি। ব্লগারদের ক্যাটাগরি বা বৈশিষ্ট্য বের করার চেষ্টাই ছিল মূখ্য। তবে 'অশ্লীল' শব্দ ব্যবহার করা এ ব্লগের কিছু ব্লগারের ধর্ম। যৌক্তিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের তারা প্রয়োজন মনে করেনা। এজন্য তাদের এ অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাই। এতে ব্লগের পরিবেশ ভাল থাকবে।

যারা মাইনাস দিয়েছেন এবং যারা প্লাস দিয়েছন সকলকে ধন্যবাদ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28826163 http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28826163 2008-08-01 01:56:13
সা. ইন ব্লগে ছ্দ্ম নাম ব্যবহারকারীদের নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ
১. যারা নিজের নামের পাবলিসিটি চায় না;

২. যারা অপরাধী লেখার মাধ্যমে তথ্য ক্রইম করে;

৩. যারা বাস্তবিক পুলিশ ও আইনের দৃষ্টিতে আপরাধী;

৪. কখনও কখনও নিয়মিত কলাম লেখকগণও;

৫. যারা অযথা ভয় পায় অর্থাৎ ভীতু মানুষ;

৬. লেখার মধ্যে যাদের শালীনতা নেই শুধু গালাগালি করে, বোকা-নির্বোধ
টাইপের লোক, যৌক্তিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ যারা করতে পারে না;

৭. সৎ সাহস যাদের নেই;

৮. মেয়েরা যারা ঝামেলা এড়ানোর জন্য ছদ্ম নাম ব্যবহার করে; কারণ অনেকে মেয়ের নাম দেখলে অযথা টাংকি মারার ধান্ধায় থাকে;

৯. নিকের ব্রান্ড তৈরীতে যারা ব্যস্ত অথাৎ যারা একটা ব্রান্ডে পরিচিত হতে চায়;

১০. ব্যস্ত মানুষ বা আতি জনপ্রিয় মানুষ বা যে কোন ক্ষেত্রের মডেল বা তারকা যারা ঝামেলা এড়াতে চায়;

এখন নিজে নিজে মিলিয়ে নিন আপনি কোন ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ছেন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28825807 http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28825807 2008-07-31 01:45:01
বর্বরতার নিউজ: সাতক্ষীরায় ১৪ স্কুল ছাত্রের মাথার চুল কেটে নিয়েছে এক শিক্ষক সাতক্ষীরায় ১৪ স্কুল ছাত্রের মাথার চুল কেটে নিয়েছে এক শিক্ষক

সাতক্ষীরা, ২৯ জুলাই (মিডিয়া ফর মিডিয়া)- সাতক্ষীরা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ১৪ জন ছাত্রকে চুল লম্বা রাখার 'অপরাধে' তাদের মাথার চুল 'খ্যাপচা' 'খ্যাপচা' করে কেটে দেয়া হয়েছে।

রোববার ওই স্কুলের বাংলা শিক্ষক ফারুক হোসেন স্কুল চলাকালীন সময়ে ক্লাস রুমে প্রবেশ করে জোর পূর্বক কাচি দিয়ে ছাত্রদের মাথার চুল কেটে দেয়। এ ঘটনার পর লজ্জায়, অপমানে ওই ছাত্ররা স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। এদিকে, চুল কেটে নেয়ার ঘটনায় ওই শিক্ষককে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সোমবার শিক্ষক কাউন্সিলের মিটিংয়ে- এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক গতকাল মঙ্গলবার অমানবিক এই ঘটনা তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ম্যজিস্টেট সরোজ কুমার নাথকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

জানাজায়, ১৯৯৯ সালে ফারুক হোসেন উক্ত বিদ্যালয়ে যোগদান করে। কয়েক মাস পরে তার বিরুদ্ধে তার প্রথম স্ত্রী বাদী হয়ে নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলা দায়ের করে।মামলা দায়ের হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষক ফারুক হোসেনকে চাকুরী থেকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করে। আজও তার বহিস্কারাদেশ বহাল রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বহিস্কৃত ওই শিক্ষককে কোন ক্লাস দেয়া যায় না। কিন্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান তাকে বাংলা ক্লাস নেয়ার সুযোগ দিয়েছেন নিয়মবর্হিভূতভাবে।

ছাত্ররা জানায়, রোববার শিক্ষক ফারুক হোসেন দশম শ্রেনীর বাংলা ক্লাস নিতে গিয়ে চুল লম্বা রাখার অপরাধে ১৪ জন ছাত্রকে দাঁড়াতে বলেন। এ সময় তার কাছে থাকা কাচি দিয়ে জোর পূর্বক তাদের মাথার চুল কেটে দেয়। এমনভাবে চুল কেটে দেয়া হয় যে, ন্যাড়া হওয়া ছাড়া তাদের বিকল্প কোন পথ নেই।এ সময় ছাত্ররা কান্না-কাটি শুরু করে। বিষয়টি তারা তাৎক্ষনিকভাবে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে পরের দিন ছাত্রদেরকে চুল ভালো করে কেটে আসার জন্য বলেন। বিষয়টি তাদের অভিভাবকদেরকে বাড়িতে যেয়ে না বলার জন্য বলেন।

বিষয়টি জানাজানি হওযার পর প্রধান শিক্ষকের টনক নড়ে।তিনি সোমবার শিক্ষক কাউন্সিলের মিটিং ডাকেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুক হোসেনকে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করতে দেয়ার সিদ্ধন্ত নেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহকে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হলে তাৎক্ষনিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন তিনি। এবং ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। ম্যাজিস্টেট সরোজ কুমার নাথকে ওই তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

এদিকে চূল কাটার ওই ঘটনার পর ওইসব ছাত্রদের অনেকেই গত ২ দিন স্কুলে আসছে না। অভিভাবকেরা জানায়, লজ্জায় তাদের ছেলেরা স্কুলে যেতে চাচ্ছে না। সামনে তাদের এসএসসি পরীক্ষা বিধায় এ নিয়ে অভিভাবকেরা পড়েছে মহা টেনশনে। একজন শিক্ষকের এ ধরনের অমানবিক আচরণ অন্য অভিভাবকদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে শিক্ষকরা তাদের সন্তানদের নম্বর কম দেবেন এই ভয়ে অনেকে প্রতিবাদ করতে পারছেনা বলে অভিভাবকরা জানান।এদিকে, ছাত্ররা জানায় তাদের কোন শিক্ষক চুল কাটার জন্য আগে কখনো তাদেরকে বলেননি।

এ ব্যাপারে বহিস্কৃত শিক্ষক ফারুক হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাদের চুল লম্বা ছিলো। চুল না কাটার কারণে তাদের চুল জোর করে ধরে কেটে দেয়া হয়েছে। তিনি আস্ফালন করে বলেন, চুল কেটেছি তাই কী হয়েছে? যান যা পারেন তাই পত্রিকায় লেখেন। তিনি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন।

এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমার ১৫ বছর চাকুরীর জীবনে এমন অমানবিক আচরন কোন শিক্ষককে করতে দেখিনি। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

জেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি এ্যাডভোকেট এ এক এম শহীদ উল্লাহ বলেন, এ ধরনের অমানবিক ঘটনার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

জেলা প্রশাসক কেফায়েত উল্লাহ বলেন, রিপোর্ট পাওয়ার পর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28825510 http://www.somewhereinblog.net/blog/chhotikblog/28825510 2008-07-30 08:16:51
আজিজ মার্কেটে ক্রসফায়ারের ওপর লিখিত কবিতা বিলি

কাঁদো মানুষ কাঁদো

অনীক রুদ্র

কাঁদো বাংলার শ্রমিক