অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নারী শিক্ষার্থীদের ছয় জনে এক জনই ধর্ষণের শিকার হন। এমনকি এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই তাদের জীবনে বহুবার যৌন নির্যাতন অথবা হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। শুক্রবার প্রকাশিত একটি জরিপের ফলাফলে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস (এনইউএস) সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫শ’য়েরও বেশি নারী শিক্ষার্থীদের ওপর জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে দেখা গেছে, উত্তর দানকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৭ শতাংশ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণ চেষ্টার অভিজ্ঞতা রয়েছে ১২ শতাংশের। অবশ্য যৌন নির্যাতন বা হয়রানির ঘটনা সবসময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরেই ঘটেছে এমন নয়।
ছাত্র ইউনিয়নটির নারী বিষয়ক কর্মকর্তা কোরটনি সেøায়ান বলেন, ওই ইন্টারনেট জরিপটিতে দেখা যাচ্ছে, মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত সমাজের মধ্যবিত্ত এবং উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণীর মেয়েরা পড়তে আসে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, এই মেয়েদের যৌন হয়রানি, নির্যাতন এবং অত্যন্ত পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সিডনি মরনিং হেরাল্ড পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
জরিপে আরো দেখা যায়, উত্তরদানকারীদের ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী অনাকাক্সিক্ষত যৌন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ শতাংশ বলেছেন এ অবস্থায় তারা সঙ্গম করেছেন অথবা শেষাবধি সম্মতি দিতে পারেননি। এদের মধ্যে ১৭ শতাংশ বাজে আচরণের শিকার হয়েছেন।
জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের মার্চ পর্যন্ত।
যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো বেশিরভাগই ঘটেছে বন্ধু অথবা পরিচিত জনদের দ্বারা। এর মধ্যে ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের ঘনিষ্ঠ জনদের কাছ থেকে এমন আচরণ পেয়েছেন যা তারা কখনো কল্পনাও করেননি।
এমন ঘটনার শিকার বেশিরভাগ মেয়ে এ ব্যাপারে কারো কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। প্রায় ২ বা ৩ শতাংশ মাত্র পুলিশকে জানিয়েছেন। এর কারণ তাদের বেশিরভাগই এ ঘটনাগুলো অভিযোগ করার মতো গুরুতর বলে মনে করেননি।
উপরের তথ্যগুলোর অনুরুপ তথ্য এর আগে ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের পরিচালিত জরিপেও পাওয়া গিয়েছিল। সে সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জরিপে দেখা গিয়েছিল, মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই বেশিরভাগ মেয়েরা যৌন সহিংসতার শিকার হয়।
২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ইউনিভার্সিটির ছেলেদের আবাসিক কলেজের ছাত্ররা ফেসবুকে একটি পাতা খুলেছিল । তারা এর নাম দিয়েছিল ‘সম্মতি ছাড়া ধর্ষণকামী‘ (প্রো-রেইপ, অ্যান্টি-কনসেন্ট)। এই ঘটনার পর এনএসইউ এই জরিপ করল। (সংকলিত পোস্ট)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



