আমাদের পৃথিবীতেই অনেক রহস্যময় জায়গা রয়েছে যা নিয়ে বিজ্ঞানীরা নিয়মিত গবেষনা করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে অবশ্য কিছু কিছু স্থানের রহস্যময়তার কারন সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা আপাতদৃষ্টিতে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এমনও অনেক স্থান রয়েছে যা নিয়ে গবেষনা করতে করতে বিজ্ঞানীদের মাথার তার ছিঁড়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা তারা দিতে সমর্থ হননি। এমনই একটি স্থান হল, প্রশান্ত মহাসাগরের 'বাল্ট্রা' দ্বীপ। এটি ইকুয়েডরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের একটি বিশেষ দ্বীপ। বাল্ট্রা বাদে এখানকার প্রতিটি দ্বীপেই আছে সিল মাছ, ইগুয়ানা দানবীয় কচ্ছপ, গিরগিটিসহ বিরল প্রজাতির কিছু পাখি। কিন্তু বাল্ট্রার ব্যাপারটা একেবারেই ভিন্ন। অদ্ভুত এ দ্বীপে কোনো উদ্ভিদ, প্রাণী বা কীটপতঙ্গ নেই। পুরোপুরি বিরান। অজ্ঞাত কোনো কারণে কখনো বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়নি এখানে। অথচ প্রায়ই আশপাশের দ্বীপগুলোতে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামে। বাল্ট্রা আর পাশের দ্বীপ সান্তা ক্রজের মাঝে তিন ফুট গভীর ও কয়েক ফুট চওড়া একটি খাল আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এ গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি পরে দ্বীপে এয়ারবেস স্থাপন করে ইউএস সরকার। ফ্রেন্সিস ওয়ানার ছিলেন এখানকারই একজন দায়িত্বরত অফিসার। এ দ্বীপপুঞ্জে থাকাকালীন অদ্ভুত সব ঘটনা আর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। যেগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলে রীতিমতো বিস্ময়ের ঝড় ওঠে। তিনি লিখেছেন, "জীবনের সবচেয়ে বড় বড় বিস্ময়কর ঘটনাগুলোর মুখোমুখি হয়েছি আমি বাল্ট্রা দ্বীপে গিয়ে। একটা নয় দুটো নয়, একের পর এক অসংখ্য অবিশ্বাস্য সব ব্যাপার ঘটেছে আমার চোখের সামনে। বিস্ময়ে হতবাক আমি অবাক দৃষ্টি মেলে শুধু দেখেই গেছি এসব, কোনো যুক্তিযুক্ত উত্তর বা ব্যাখ্যা খুঁজে পাইনি। যেমন বৃষ্টিপাতের কথাই ধরুন। একদিন আকাশ কালো করে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামল। গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের সবগুলো দ্বীপেই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়_ বৃষ্টির একটি ফোঁটাও পড়ল না বাল্ট্রা দ্বীপে। এ বিচিত্র অনুভূতিটা মনের ভেতর এমনভাবে জেঁকে বসে যে, ফিরে আসার পরও এর রেশ কাটে না সহজে। সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের একটি শক্তি কাজ করছে দ্বীপটির ভেতর। যার প্রভাবে ঘটেছে একের পর এক এসব রহস্যময় ও অবিশ্বাস্য ঘটনা। জ্ঞান-বিজ্ঞানে পৃথিবী আজ অনেক এগিয়েছে, তারপরও এসব রহস্যের সমাধান হচ্ছে না কেন, সেটিই বিস্ময়কর। তবে আমি আশাবাদী, একদিন না একদিন এসব রহস্যের সহজ সমাধান দেবে মানুষ।"
সূত্র
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


