৪ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান জামিনে মুক্তি পাওয়ায় দেশ অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অপর বৃহৎ দল আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বৃহম্পতিবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, তার ভাষায় যে দেশে আইনের শাসন নেই সে দেশে সভ্য সমাজ কি করে গড়ে উঠবে। তিনি বলেন ,আমরা সবাই উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছি। আওয়ামীলীগের এ ধরনের মন্তব্যে হতাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন,তারেক রহমান বর্তমানে অসুস্থ্য। তাকে মানবিক বিবেচনায় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কাজেই আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের এ ধরনের মন্তব্য দুঃখজনক। বিশ্লেষকরা বলছেন, ১/১১ই জানুয়ারির ঘটনা ভুলে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যদি আবারও কাঁদা ছোড়া ছুড়িতে লিপ্ত হয়,তবে তৃতীয় পক্ষ সবচাইতে বেশী লাভবান হবে। তারা আরো বলছেন, ধারনা করা হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো নতুন বাস্তবতার আলোকে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের আচরনে যথেষ্ট সংযত হবে। কিন্ত তারা বর্তমানে আবারো কাঁদা ছোড়া ছুড়িতে লিপ্ত হচ্ছে। তাদের এধরনের আচরন রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারন মানুষের আস্থা নষ্ট করবে বলে মনে করেন তারা। বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন,তার ভাষায় আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যখন আইনী প্রক্রিয়ায় নয়, সরকারি নির্বাহী আদেশে মুক্তি পান সেখানে তখন আইনের শাসন বিদ্যমান থাকে। অথচ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো একটিও প্রমাণীত হয়নি। তার বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার কম দুর্নীতির মামলা হয়েছে। তিনি আইনী প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। অথচ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শুধুমাত্র মিগ যুদ্ধ বিমান ক্রয় মামলায় ৭শো কোটি টাকার বেশি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মাদ নাসিমের দুর্নীতির দায়ে ১৬ বছরের করাদন্ড হয়েছে। তারা মুক্তি পেলে সরকার ঠিক আছে। এ ধরনের আচরন জনগন গভীর ভাবে লক্ষ্য করছে। নজরুল ইসলাম খান বলেন, জনগন এ ধরনের আচরনের জবাব যথাসময়ে দেবেন। বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিষ্ট ডক্টর রেজোয়ান সিদ্দিকী বলেন, তার ভাষায়, আওয়ামীলীগ চেয়েছিল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাতে চারদলীয় জোট অংশ না নেয়। কিন্ত এখন তারা দেখতে পাচ্ছে চারদলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচনে আওয়ামীলীগের জয়ী হবার কোন সম্ভাবনা নেই। এই অবস্থায় তারা সব ধরনের সভ্যতা ও মানবিকতা ভুলে তারেক রহমানের মুক্তির বিরোধীতা করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় দুটি দল যদি কাদা ছোড়া ছুড়ি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন এই সুযোগটি যদি তৃতীয় পক্ষ নেয়, এতে অবাক হবার কিছু থাকবে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

