যেমন গতকাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেছেন, দেশে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। বিচার বিভাগের ভেতরেও আইনের শাসন বলে কিছু নেই। সাধারণ মানুষের ধারণা পয়সা দিয়ে বিচার কিনে নিতে হয়। আইন শুধু গরীবের বেলায়ই প্রযোজ্য, ধনীর বেলায় নয়।
ভূমিকাঃ (ডোন্ট টেইক পারসনাল) আদালত নিয়ে আলোচনা করতে চান ? সেক্ষেত্রে শুরুটা যথার্থ হতে হবে। শোনেন, আদালত সম্পর্কে আমাদের গ্রামে গঞ্জে, হাটে বাজারে এবং কাচারি পাড়ায় অসংখ্য স্বতসিদ্ধ প্রবাদের মধ্যে একটা বহুল প্রচলিত প্রবাদ বাক্য হলো "৩৬০ টা শয়তান মরলে হয় একটা উকিল", কোথাও বলে "যখন একটা উকিলের জন্ম হলো, তখন শয়তান খুশী হয়ে গেলো, বললো, আহ আমিতো সন্তানের পিতা হয়ে গেছি ! " আবার এই ৩৬০ টা শয়তান মরে হয় যে উকিল/ব্যারিস্টার হয় সেই রকম একটা লোক ২০ বছর উকালতি/ব্যারিস্টারী/শয়তানী করার পর বিচারপতি পদে আবেদন করার যোগ্যতা অর্জন করে। এই হলো ভূমিকা।
আমাদের চল্লিশ বছরের ইতিহাস দেখলেই দেখা যায় অসংখ্য অবিচারের সাথে এদেশে এযাবৎ প্রতিটি রাষ্ট্রীয় "অসাংবিধানিক কু/কুকর্ম" এই বিচার ব্যবস্থাই বৈধতা দিয়েছে আবার পরবর্তীতে এই বিচার ব্যবস্থাই সেগুলি অবৈধ ঘোষনা করেছে ও করছে। তাহলে যুক্তি সংগত ও বাস্তব অভিজ্ঞতায়ই দেখা যায় সমাজের এ সকল শতশত বছরের পরীক্ষিত সত্য প্রবাদগুলো নিউটনের সূত্রের মতই সত্য। আপেল উপর থেকে ছেরে দিলে নিচেই পরবে।এই সত্যটা মেনে নিয়েই ভাবনা শুরু করতে হবে এই শয়তানের ব্যবস্থাটা কি ভাবে ঠিক করা যায়, যা খালি শয়তান জন্ম দেয়, আবার শয়তান মরে উকিল হয়। সেই উকিল বড় হয়ে বিচারপতি হয়। কে দায়ি, ব্যক্তি না বিচার ব্যবস্থা ? সিস্টেমের সমস্যটা রিফ্রেস করতে সম্প্রতী কয়টা ঘটনা দেখা যেতে পারে।
সম্প্রতী ঘটনাঃ ঘটনা একঃ ফেরী ঘাটের ইজারা সংক্রান্ত একটি রিট পিটিশনের আদেশ পালন না করায় আদালত বমাননার অভিযোগে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাড়ে ৩ ঘণ্টা হাইকোর্টের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকে অবশেষে লিখিত নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও ভবিষ্যতে আদালতের আদেশ অমান্য/আদালত অবমাননা করবেন না মর্মে বক্তব্য দাখিল করে অব্যহতি পেয়েছেন। সকাল সাড়ে ১১টায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা আদালত অবমাননার মামলার শুনানি শুরু হয়। আদালত ডিসিকে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। এ সময় ডিসি চশমা পরে ছিলেন। আদালত দেখতে পেয়ে তাকে চশমা খুলে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।
বিচারপতি এইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ রোববার আদালত শুনানির এক পর্যায়ে ডিসিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি কি হাইকোর্ট কি জিনিস তা চিনেছেন ? তিনি কি সন্তুষ্ট হতে পেরেছেন ? তিনি কি বুঝতে পেরেছেন, হাইকোর্টকে সুড়সুড়ি দিতে নেই ? যুগান্তরঃ Click This Link
আলোচনাঃ এখানে দুটো ইস্যু আছে। একটা আদালত অবমাননা আইন যেটা আদালতকে স্বাধীন ভাবে অবিচার করার লাইসেন্স দেয় এবং বৃটিশরা তাদের খুবই যুক্তি সংগত স্বার্থে করেছির। আর দ্বিতীয় ইস্যূটা রিট পটিশন নিয়ে। রিট বিষয়টা আজকাল ডালভাত হয়ে গেছে। এটা বুঝতে এই কয়টা প্রশ্নই যথেষ্ট। হাই কোর্টের রিট পিটিশনের মানে কি ? আচ্ছা গত বছর বা এর আগের বছর হাইকোর্টে কতগুলো রিট পিটিশন হয়েছে ? ২০০৫ সালে সংখ্যাটা ছিল ৯৫০০ (সাড়ে নয় হাজার), সংখ্যা এত বেশী কেন ? সম্প্রতি বছরে পনের ছাড়িয়ে থাকবে। একটা রিট আবেদনের এভারেজ খরচ কত ? তাহলে দেশে এত "প্রচলিত আইনে প্রতিকার নেই" এমন ঘটনা বছরে এতগুলো ঘটে, তাই এত রিট ? বড়ই বিপদজনক অবস্থা !
প্রকৃতপক্ষে ৯০% রিট পিটিশন রিটের সংজ্ঞায়ই পরেনা। অধিকাংশ রিট মামলা কোননা কোন ব্যবসায়ী বা ইজারাদার সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারী মাল হরিলুট করার জন্য করে থাকেন। যেমন উপরের ঘটনায় ফেরী ঘাটের ইজারা সংক্রান্ত মামলায়। মৌলিক অধিকার লংঘনের কোন বিষয় কি ঘটেছে এখানে ? এই রিটটির মত দেশের হাওর অঞ্চলের জলমহালের ইজারাদারেরা একবার একটা জলমহাল ইজারা নিয়ে, কেন তাকে দুই দিন পরে দখল দেয়া হলো অথবা মন্ত্রনালয় কেন তাকে দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা দিল না এই রকম আজাইরা ওজর তুলে হাইকোর্টে একটা রীট করে দিয়ে এই জলমহালের উপর স্থিতাবস্থার আদেশ নিয়ে আসে। আর সর্বশেষ দখলদার হিসাবে পরবর্তী আরও দশ বছর ফাউ খায়। আচ্ছা আজকাল রীটের রেট কত ?
ঘটনা দুইঃ কিছু দিন আগে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন সংক্ষেপে বিটিআরসি চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দিয়েছে।
চ্যানেলটি তার লাইসেন্সের এক বা একাধিক শর্ত অর্থাৎ বিটিআরসির আইন ভংঙ্গ করেছে।
চ্যানেলটি এর লাইসেন্সের বিপরীতে আমদানী করা টেলিকাস্ট যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করেছে। কিভাবে করলো ?
প্রাইম ব্যাংক তা প্রকাশ্য নিলামে সেগুলি বিক্রি করেছে।
ঋণ আদায়ের মামলায় হাইকোর্ট রায় দিয়েছে প্রকাশ্য নিলামে এইগুলি, অন্য কিছু না, বিক্রি করে পাওনা আদায় করতে।
আবার এই দিকে বিটিআরসির আইন অনুযায়ী কোন টেলিভিশন চ্যানেল তার সম্প্রচার যন্ত্রপাতি হস্তান্তর বা বিক্রি করতে পারবে না। অথচ হাইকোর্ট প্রাইম ব্যাংককের আবেদনে এই যন্ত্রপাতি প্রকাশ্য নিলামের আদেশ দিয়েছে। এইটা কি করলেন মহামান্য এ্যাফেকটেড ইঙ্গ-পাকি বিচার ব্যবস্থা ? হাইকোর্ট নিজে বেআইনই কাজ করলো ? দেশটা আসলেই মঘের মুল্লুক।
সারাদেশঃ আমাদের বিচার ব্যবস্থায় সারাদেশে রয়েছে নিম্ন আদালত আর হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্ট উচ্চ আদালত। ৬৪ জেলা ও কয়েকটি রিমোট উপজেলায় সংশ্লিষ্ট জেলার অধীনে নিম্নআদালতগুলো অবস্থিত। এখানে সাধারনত তিন প্রকার আদালত আছে। ১. বিভিন্ন বিশেষ আদালত। ২. দেওয়ানী আদালত। ৩. ফৌজদারী বা ক্রিমিনাল আদালত। এই ফৌজদারী আদালতের অংশ হিসাবে এদেশের প্রতিটি জেলায় গড়ে ৪টি বা ৫টি করে আমলি আদালত আছে। সেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার ফৌজদারী মামলা আমলে নেয়া হয়। এখানেই মুলত ক্রিমিনাল মামলাগুলোর শুরু। এই সময় যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন তা হলো জামীন।
এখানেই এই জামীন নিয়ে উকিল, পেশকার, আইও, এবং বিচারক লিপ্ত হয় পাবলিক বেচাকেনার খেলায়। গরীবের গরু বেচা, ক্ষেত বেচা টাকাগুলো নিয়ে সবাই কন্টাক করে, এত লাগবে অত লাগবে, জামীন কনফার্ম। আর আদালের এই খবরগুলো আদালত পাড়ার চার দেয়ালের বাইরে কখনও যায় না। কারন আদালত একটি নিষিদ্ধ এলাকা। সম্পূর্ন চার দেয়ালে ঘেরা বন্ধ ঘর। ওখানে মানুষের/জনগনের চোখ, কান অর্থাৎ মিডিয়ার প্রবেশ করা নিষেধ।এখানে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় স্বাধীন ডাকাতি চলে। আমরা আমাদের মূর্খ গরীব মানুষগুলিরে একা একা এই বাঘের খাঁচায় ফেলে রাখি। এখানে কারও কোন বন্ধু নেই সব রক্ত চোষার দল।
এই দিকে দেওয়ানী আদালত গুলিতে সামান্য জমিজমার মামলা নিয়ে, দশটা শুনানীর বেশি লাগবে না এমন মোকদ্দমায় কেবলমাত্র মামলাটি চলতে পারে এই রায় দিতেই আদালত দশ বছর সময় নেয়। এই দশ বছর ব্যারিষ্টার, উকিল, মুক্তার, পেশকার, আর বিচারপতি মামলার বাদি আর বিবাদি দুই পক্ষকেই চুষে চুষে ছোবা বানায়।
সুতরাং বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় উকিল, মুক্তার, পেশকার, আইও, জেলার ও বিচারক এই চক্রকে স্বাধীন ভাবে লোক চক্ষুর আড়ালে এদেশের কোটি কোটি সাধারন মানুষের রক্তো চোষার পাকা ফুল প্রুফ আয়োজন করে দিয়েছি আইন করেই । আজ প্রতিটি জামীন এবং রায় স্বাধীন ও গোপনে নীলামে উঠছে ও বিক্রি হচ্ছে।
সমাধানের সুপারিশঃ আমাদের লক্ষ্য সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা। আসলে আমরা দেশ্যের আর সকল আইন কানুন বিধি বিধানের মত আদালতে রিতি নিতি অভ্যাস সহ সকল আইন কানুন সেই ইঙ্গ-পাকিই রেখে দিয়েছি।
আমাদের প্রথমেই ঠিক করতে হবে কার স্বাধীনতা ? চোরের না সাধুর ? তারপর আদালতকে প্রকাশ্য ও জনসন্মুখে আনতে হবে। যেহেতু বিচার যতই প্রকাশ্য হবে ন্যায় বিচার ততই নিশ্চিত হবে। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি অপরিহার্য উপাদান। আর গনতান্ত্রীক রাষ্ট ব্যবস্থার মৌলিক লক্ষ্য গুলির অন্যতম একটি হচ্ছে রাষ্ট্রে ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। সুতরাং স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা আইডিয়াটা উপলব্ধির আগে আমাদের দেশ, দেশের সিস্টেম এবং সিস্টেমের লোকগুলোর খাছিলত বিবেচনায় এনে আমাদের ঠিক করতে হবে কার স্বাধীনতা ? আমরা যে ভাবে বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন করছি তাতে বর্তমান বিচার ব্যবস্থার উকিল, মুক্তার, পেশকার, আইও, জেলার ও বিচারক এই চক্র স্বাধীন ভাবে লোক চক্ষুর আড়ালে এদেশের কোটি কোটি সাধারন মানুষের রক্ত চোষার পাকা ও ফুল প্রুফ আয়োজন করে নিচ্ছে।
আমরা কেন প্রতিদিন কয়েক জন আইন জীবির মুখে শুনবো আজ অমুক মামলায় বাদিপক্ষ এই বলেছে ? কেন আইনজীবির মুখে শুনতে হবে ? এটা কি পাকিস্তান না বৃটিশ কম্পানির আদালত ? আমরা সরাসরি শুনতে চাই ইন অডিও ভিডিও ইমেইজ এন্ড টেক্সট। আদালত কেন কেমেরা রিপোর্টার ইত্যাদী এলাও করবে না ? কেমেরা হলো এদেশের মানুষের চোখ। তাহলে আদালত কি এদেশের সাধারন মানুষকে এলাও করবে না ? কেন তাদের এই গোপনীয়তা ? কোন দেশের আদালত এগুলো ? তাহলেকি আমরা এখনও পরাধীন ? আদালতে উৎসুক পাবলিক, বাদী, বিবাদী, উকিল, পেশকার, আইও, এবং বিচারক ছাড়াও রিপোর্টার সাংবাদিকরা তাদের ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে ছবি তুলতে, ভিডিও করতে পারবে তবে বিচারককে কোন প্রশ্ন করতে পারবে না। জেলার মানুষগুলি লোকাল পত্রিকায় তাদের আদালতের খবরগুলো জানতে পারবে। এটার নামই হবে আসল স্বাধীনতা। আমরা ভিডিও ক্যামেরা নিয়া আদালতে ঢুকব, আপনারা কি করেন লাইভ দেখবো এবং দেখাবো। বিচার হবে প্রকাশ্য এবং দিবালোকে। আদালত কখনও অন্ধকারে থাকতে পারে না। আমাদের হাইকোর্ট দেখাবেন না। একটা স্বাধীন সার্বভৌম গনতান্ত্রীক দেশে একজন সাধারন নাগরীক তার নিজের দেশেরই আদালতের ভেতরটা দেখতে চাইলেই আদালত অবমাননা হবে কেন ? জনগনকে হাইকোর্ট দেখালে চলবে না।
এদেশের আদালতগুলোতে প্রেস/মিডিয়ার এক্সেস অবাধ করা জাতির জন্য আজ অপরিহার্য একটি কাজ। তাই আদালতকে দেশের জনগনের চোখের সামনে আনতে হবে। যে কোন বিচার প্রক্রিয়া জনগনকে সরাসরি লাইভকাষ্ট দেখার অধিকার দিতে হবে। আদালত যতই প্রকাশ্য হবে ইহা ততই স্বাধীন হবে ন্যায়বিচার ততই নিশ্চিত হবে। ইহা সরল সত্য।
উল্লেখ্যঃ আদালত অবমাননা আইনটি করা হয়েছিল বৃটিশ এবং পাকিস্তানের বিচারকদের যেন এদেশে অবিচার করতে কোন প্রশ্নের সন্মুখীন না হতে হতো তার জন্য। আমরা মনে করি স্বাধীন বাংলাদেশের বিচারকেরা পাকিস্তান বা হিজ লর্ডের নিযুক্ত ব্যক্তি নয় যে তাদের কু-কর্মের ইনডেমনিটি লাগবে। সো ফরগেট কনটেম্পট অব কেংগারু কোর্ট।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


