কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বড় বোনের সেবা করতে এসে নয় বছর বয়সের এক শিশু শনিবার সন্ধায় হাসপাতাল ভবনেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পাষবিক নির্যাতনের শিকার ওই শিশুটিকেও আশংকাজনক অবস্থায় একই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। সে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চাঁদের হাসি গ্রামের স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী। এ ঘটনায় হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানাপাটুলি ইউনিয়নের চাঁদের হাসি গ্রামের এক অসুস্থ কৃষক কন্যা কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় একটি কেবিনে চিকিৎসাধীন থাকায় তার মা এবং নির্যাতনের শিকার ছোট বোনটি অসুস্থ রোগীর সঙ্গে একই কেবিনে অবস্থান করছিল। গত শনিবার সন্ধা ৮ টার দিকে হাসপাতালের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে এক যুবক ওষুধ কিনে দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে কেবিন থেকে বাইরে নিয়ে যায়। মহিলা ওয়ার্ড সংলগ্ন প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও আরএমওর কার্যালয় সংলগ্ন কমন বাথরুমে নিয়ে ওই যুবক শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। শিশুটির আর্তচিৎকার শুনে কেবিনে থাকা তার মা ও অন্যান্য লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তপন চন্দ্র সাহার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। একই সময় হাসপাতালে ছুটে আসেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবদুল হক। পুলিশ ধর্ষক যুবককে গ্রেপ্তার করতে ব্যাপক তল্লাশী চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালে দ্বায়িত্বরত কর্মচারী,বহিরাগত দালাল (ফরেনবডি)দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে নির্যাতনের শিকার মেয়েটির বড় ভাই বাবুল মিয়া বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তপন চন্দ্র সাহা পিপিএম জানান, আমরা নির্যাতিত শিশু ও তার আত্মীয়-স্বজনের সাথে কথা বলে ধর্ষককে চিহিৃত করতে পেরেছি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আব্দুল আমিদ জানান,পাষবিক নির্যাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।
ধন্যবাদান্তে : সাপ্তাহিক নরসুন্দা পাড়ের কথা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

