জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে
০৩ রা মে, ২০০৬ রাত ৩:৪৬
অনেক দিন পরে ব্লগে ফিরলাম । দৌহিত্রের কম্পিউটারটি কাজ করছিল না। আর ঢাকাবাসীরা লোড শেডিং পরিস্থিতি তো জানেনই । এর মধ্যে মাঝে মধে দু-এক ঝলক পড়েছি। তবে নিয়মিত নয় । তর্কের বদলে গালাগালিতে পরিবেশ কিছুটা ভারী হয়ে এসেছিল মাঝখানে ।তবে যে ব্যাপারটা একেবারেই ভালো লাগছে না তা হলো, ব্লগটি এমনভাবে পক্ষ-বিপক্ষে বিভক্ত হয়েছে যে একপক্ষ অপরপক্ষের লেখা পড়ছে না । এটা খুবই বিপজ্জনক প্রবণতা ।
যাই হোক জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে এই ব্লগে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র কয়েকটা বাদে বাকি গুলো , বিশেষত জামায়াতের সমর্থকদের লেখা গুলো মারাত্মক রকমের একপেশে । বিশেষ করে ইতিহাস প্রসঙ্গে খোলাখুলি আলোচনার সৎসাহস তাদের মধ্যে দেখিনি ।সবচাইতে অদ্ভুত কাজটি তারা করেন , আক্রান্ত হওয়া মাত্র আক্রমণকারীকে আওয়ামী লীগার হিসেবে চিহ্নিত করেন । এতে মূল প্রসঙ্গ ঢাকা পড়ে যায় । আওয়ামী লীগ যদি জামাতের প্রকৃত শত্রু হতো তাহলে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস অন্যরকম হতো ।
আমার স্পষ্ট মনে আছে জামাত হালাল হবার পরে এক সাংবাদিক সম্বেলনে সদ্য কারামুক্ত আব্বাস আলী খান বলেছিলেন ,'' আওয়ামী লীগ আমাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্্বন্দি, এবং কমিউনিস্টরা আমাদের শত্রু'' । কথাটার অর্থ অনেক অনেক গভীর । পলিটিক্যাল ইসলামের যে দোহাই জামাতের তাত্তি্বকরা দিয়ে থাকেন , কথাটির সাথে তার বিরোধীতা প্রকট । কারণ ইসলামী বিপ্লব বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব যদি থেকেও থাকে , তার লক্ষ্য হবার কথা পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ, কমিউনিস্টদের সঙ্গে সে দিক থেকে তাদের সুসম্পর্কই থাকার কথা । আল্লামা ইকবাল যেমন বলেছিলেন কমিউনিজম+আল্লাহ= ইসলাম ।যারা এম.এন.রায়ের ''ইসলামের ঐতিহাসিক ভুমিকা'' বইটি পড়েছেন তারা বিষয়টি আরও ভালো বুঝবেন ।কিন্তু আমার জানা ইতিহাসে জামাতের কোন ভুমিকা দেখতে পাই? বরাবরই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নির্লজ্জ দালালি এবং প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবিদের খতমের চেষ্টা । 14 ডিসেম্বরের শহীদদের রাজনৈতিক পরিচয় খতিয়ে দেখলে বিষয়টি আরও পরিস্কার হবে ।
আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা বুঝি, বুজের্ায়া বিপ্লব ধর্মবিরোধী অবস্থান সত্ত্বেও কিছুকাল পরে রাজনীতিতে অভিনব কায়দায় ধর্মকে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্য ছিল শ্রমিক আন্দোলনকে দিকভ্রান্ত করা। এই কৌশল ব্যর্থ হলে , বিশেষত: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আন্তজর্াতিক পুঁজিপতিরা কমিউনিস্ট ঠাঙানোর উদ্দেশ্যে ধমর্ীয় মৌলবাদীদের তৈরী করেন । উদ্দেশ্যের এবং কর্মপন্থার দিক থেকে এরা নাৎসীদের সমগোত্রীয় । জামাতকে তাই ইসলামী মৌলবাদী বলতে আমার আপত্তি আছে । আমার মতে তাদেরকে ধর্ম-ব্যবসায়ী ফ্যাসিস্ট বলাই শ্রেয় ।
আমার বিশ্লেষণে যে জায়গায় আমার মতে একটা ফাঁক থেকে যাচ্ছে, আমি অর্থদাতার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে হাইলাইট করে সংগঠণের চরিত্র নির্নয়ের চেষ্টা করতে গিয়ে অর্থদাতার টোপে বিভ্রান্ত ধমর্ান্ধ কমর্ীদের ''বিশ্বাস''কে এবং তার উৎস অনুসন্ধানের দিকটিকে অনুল্লেখিত রাখছি । এটা আসলে আমার রাজনৈতিক বিশ্বাসের উপর রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্রের প্রভাবের কুফল ।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে জামাতের রাজনৈতিক ভুমিকা কি? তাদের মনে কোন গূঢ় পরিকল্পনা আছে তা তো আর আমি জানি না । যা জানি তা হলো তথ্য-অভিজ্ঞতা থেকে যা বোঝা যায় । আমি দেখতে পাচ্ছি তারা আওয়ামী লীগ-বি.এন.পি.র সঙ্গে মিলিত ভাবে গণধর্ষণে সামিল । একেকবার ক্ষমতার একেকটি খুটির সাথে চামচামি সুলভ মাখামাখি ।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে ।
অপ বাক বলেছেন:
এ জন্যই আপনার লেখা ভালো লাগে, অল্প কথায় সব বলে ফেলার গুনটা রপ্ত করতে হবে, বেশী করে লেখলে হয়তো কোনো এক দিন সফল হয়েও যেতে পারি,
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
আমি অপ বাকের সঙ্গে দ্্বিমত পোষন করছি। হক ভাই অসাধারণভাবে তার লেখা শুরু করেন, কিন্তু শেষ করেন না- মনে হয় লিখতে লিখতে ঘুমিয়ে পড়লেন। অনেক কিছুই তাই আর জানা হয় না। অর্থাৎ হাইপোথিসিসটুকু বাদ দিলে বিশ্লেষণটুকু অপূর্ণ রেখে দেন উনি...
অতিথি বলেছেন:
পিয়ালের সাথে একমত। শুরুটা আকর্ষণীয় হয়। কারণ যে প্রশ্নটা তিনি উত্তর দেবেন বলে উত্থাপন করেন তা খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় পাঠকের কাছে। কিন্তু জবাব দিতে গিয়ে বিশ্লেষণটা অপূর্ণ থেকে যায়। একটি কারণ তিনি ঠিক যুক্তি পরম্পরায় সাজিয়ে গবেষণা-নিবন্ধের মত করে লিখতে চান না। দুই, প্রচুর লিখতে তার অনীহা। তিন, পাঠ-পর্যালোচনা- বিশ্লেষণ-উপস্থাপন ইত্যাদি পরিশ্রমের চক্রে পরে তিনি ভূত হতে চান না।
তবে তার বিশ্লেষণের ফাঁক টা তিনি ধরতে পারেন। তার পেনালটিমেট অনুচ্ছেদটা পড়ুন। কিন্তু কেন এই ফাঁক রয়ে যাচ্ছে তা হয়তো তিনি ধরতে পারেন না। আমার বিবেচনায় এ হচ্ছে তার 'এ্যানালাইটিক্যাল ফ্রেমওয়ার্কের' প্রাচীনতার অসুবিধা। যে মূল তত্ত্বের ভিত্তিতে তিনি বিশ্লেষণ দিতে যান সে তত্ত্বটি পৃথিবীর সাম্প্রতিক সামাজিক প্রবণতাগুলো ব্যাখা করতে পারে না। পৃথিবী ক্রমশ: জটিল হয়েছে, শ্রেণী-শত্রুরা লাল-বই পড়ে তাদের নখর থাবার নীচে লুকিয়ে ফেলেছে। সে কারণেই তার বিশ্লেষণে 'ঐ যে নখর দেখা যায়' বলে আর্তচিৎকার থাকলেও বাকীরা তা দেখতে পায় না।
(আব্দুল হক নিশ্চয়ই আমার নাক গলানো ক্ষমা করবেন।)। আমার ধারণা তিনি লাল বইয়ের পরের বইগুলো পড়েননি। লাল থেকে ফিকে লাল, গোলাপি, কমলা যেসব নতুন তত্ত্ব এসেছিল সেগুলোকে তিনি আমল দিচ্ছেন না হয়তো। কিন্তু এসব ব্যাখ্যায় সেগুলো জরুরি। তিনি অন্তত: যদি গ্রামসি'র নিও-মার্কসিস্ট তাত্তি্বক ফ্রেমওয়ার্কটি গ্রহণ করেন তবে তিনি ব্যাখ্যাগুলো সুচারুভাবেই দিতে পারবেন। তার সেই অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা আছে।
অতিথি বলেছেন:
পেন্নাম হই শ্রদ্ধেয় আপনাকে। আপনার লেখনীর ধাঁর চমৎকার। লোড শেডিং আর কম্পিউটার বিভ্রাট বাঁচিয়ে লিখবেন নিয়মিত। আপনার সুস্বাস্থ্য, নির্মল মন আর দীর্ঘ আয়ু কামনা করি। ভালো থাকবেন। এই লেখাটা চমৎকার লাগলো।
অতিথি বলেছেন:
অমি ভাই এর সঙ্গে আমিও একমত। আপনার বিশ্লেষণ এর অসম্পূর্ণতা পাঠককে জিজ্ঞাসু করে তোলে । রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্রের দিকটা আমার মতে সেখানে সমস্যা না..সমস্যা হচ্ছে গত 35-40 বছরে সেখানেও পদ্ধতিগত পরিবর্তন এসেছে বিশ্লেষনে । জটিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে শ্রেণী শত্রু চিহ্নিতকরনেও । মহাজনের জায়গা নিচ্ছে মাইক্রোক্রেডিট। তবে আপনি লিখতে থাকুন । আপনার ভিউ হাই লাইট করার প্রয়োজন আছে কারণ , আমি বলবো অন্তত এই লেখায় আপনি ধমর্ীয় ফ্যাসিবাদের প্রকৃত চেহারা সঠিক ভাবেই চিহ্নিত করেছেন ।
অতিথি বলেছেন:
ধন্যবাদ সবাইকে । শোহেইল ভালো বলেছেন । আমাদের সময়ে বামপন্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক পড়াশুনা বড় বেশী একপেশে ছিল । আর আমার নিজের পড়াশুনা আরও বেশী এলোমেলো । অধ্যাপকদের দৃষ্টিতে তত্ত্বের যে চেহারা , সেটা অ্যাক্টিভিস্টদের কাছে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে অন্যরকম, যার পরিণতি আসলে ভালো হয়নি । সমাজ পরিবর্তনের কাজে এর গঠনকে সঠিকভাবে বুঝতে পারার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।আমাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার খুব বড় একটা কারণও সেখানেই । মস্কোপন্থীদের শ্রেণী বিশ্লেষন ভূল ছিল, পিকিং পন্থীদেরটা ছিল অতিমাত্রায় যান্ত্রিক । মস্কো পন্থীরা চলে গেল লেজুড়বৃত্তিতে আর যারা আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিলেন বেশীর ভাগ নিহত হলেন, যারা বেচে থাকলেন প্রায় সবাই, হয় আজীবন পঙ্গুঅথবা লুম্পেন পেশা বেছে নিলেন, কারণ ততদিনে তারা আর বিপ্লবী নেই , নরঘাতকে পরিণত হয়েছেন ।আমি এখনও মনে করি , শত্রু চিহ্নিত করতে আমাদের মধ্যে বেসিক ত্রুটি তেমন ছিল না । জোতদার-মহাজন বলতে আমরা যাদেরকে চিহ্নিত করেছিলাম তারা আসলেই ভূমি-সংস্কারের তথা উৎপাদনের প্রধান প্রতিবন্ধক । কেন্দ্রিভূত হতে থাকা আন্তজর্াতিক পুঁজি , তাদের সম্প্রসারিত বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে এই প্রতিবন্ধক শ্রেণীর রাজনৈতিক র্কতৃত্বকে শক্তিশালী করার মাধ্যমেই ।
আমার আলোচ্য ছিল জামাতে ইসলামী এবং তার সমগোত্রীয় ফ্যাসিস্ট শক্তিসমূহ। জামাতের আঞ্চলিক নেতৃত্বে কোন শ্রেণীটিকে সাদা চোখে দেখা যায় তা সকলেই জানেন ।একই শ্রেণীর প্রাধান্য আছে আওয়ামী লীগ-বি.এন.পি তেও । এই ঐক্য থেকেই জামাতের সাথে বি.এন.পি এবং আওয়ামী লীগের আন্ডারস্ট্যান্ডিং সম্ভব হয় ।
পড়া শুনা খুব বেশী করতে পারছি না । ইচ্ছা অবশ্য থাকবে যতক্ষণ শ্বাস থাকবে ।
অতিথি বলেছেন:
আমার অবশ্য আপনার এই লেখাটা ভালো লাগছে । শোহেইল মতাহির চৌধুরীর কথা মাইনা নিলেও সেইটা আপনার বক্তব্য কন্ট্রাডিক্ট করে না । আপনে গেলেন কই ? শরির ভালো আছে আশা করি । আপনারা ফুরাইয়া গেলে আমাদের বিরাট লস । আরো লেখেন ।
অতিথি বলেছেন:
আমিও তো তাই কই ! আপনে ফিরা আসেন ।
অতিথি বলেছেন:
রণকৌশলে মার খেলেও টার্গেট সঠিক ছিল আপনাদের । আমরা পড়ে আছি চোরাবালিতে ।
আপন তারিক বলেছেন:
আসলেই


















