লেসবিয়ান শব্দটা আমার একটা বইতে প্রথম যখন ব্যবহার করলাম, তখন বেশ বিপত্তিতে পড়েছিলাম একবার। আমার বড় ভাই যিনি খুব একটা খোজখবর রাখেন না এসব বিষয়ের তিনি আমাকে শব্দটার অর্থ জিজ্ঞেস করে বসলেন। আমি তো বিরাট ঝামেলায় পড়ে গেলাম। শেষমেষ বললাম, এরা হচ্ছে এমন দম্পতি যেখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়ই মেয়ে!!!
দুটো কারণে প্রসংগটার অবতারণা। প্রথমত. লেসবিয়ান, গে ইত্যাদি শব্দ আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত হয়েছে বেশীদিন নয়। দ্বিতীয়ত. শব্দগুলো সম্বন্ধে যতই আমরা জানছি, আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কগুলো ততই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, কম জানা অনেক ভালো। অন্তত নেগেটিভ বিষয়গুলো। তাহলে জীবন চালানো সহজ।
আমার এক ব্ন্ধু সেদিন জানালো সে আমেরিকায় তার এক মেয়ে বান্ধবীর স্বামীকে দেখে যখন বলেছিলো ইওর হাজবেন্ড ইজ কিউট, তখন নাকি সেই মেয়ে অদ্ভুত সরু চোখে তাকিয়ে বলেছিলো- ইউ আর এ বয়, ইউ ক্যান্ট সে দ্যাট।
সেটা আমেরিকা। তাদের জন্য ঠিক আছে। কিন্তু এখন্ আমাদের দেশেও দুটো ছেলেকে খুব ঘনিষ্ঠভাবে হাটতে কিংবা বসে থাকতে দেখলে আগের মতো ঠিক সহজভাবে নিতে পারি না।
আজ একটা রিকশায় যাচ্ছিলাম। বৃষ্টি হচ্ছিল ঝিরিঝিরি।
সামনের রিকশায় দেখলাম একটা ছেলে কারো কাধে হাত দিয়ে আছে। ভাবলাম নিশ্চয়ই কোন মেয়ে। একটু পরে বুঝলাম সে একটা ছেলের কাধে হাত দিয়ে আছে। দেখে আমার মনে হলো, ওখানে একটা মেয়েকে দেখলেই বুঝি স্বস্তি পেতাম বেশী। অথচ মাত্র কয়েক বছর আগেও এমন ছিল না ভাবনাগুলো। তখন কতই তো স্কুলের বন্ধুদের কাধে হাত দিয়ে দিনরাত বেড়িয়েছি। কখনো কিছু মনেই হয় নি। আর এখন বিষয়টি করার আগে দুবার ভাববো বোধ হয়।
যতই পৃথিবী উন্মক্ত হচ্ছে, যতই জানছি পাশ্চাত্যের আচার, ততই কোথায় যেন এক একটা প্রতিবন্ধকতা তৈরী হচ্ছে। আগের সেই সহজ বন্ধুত্বের জায়গায় সংশয় দানা বাধছে।
জীবন থেকে সহজতা হারিয়ে যাবার পেছনে, জানার নেতিবাচক ভুমিকা প্রতিনিয়তই বোধ করছি।
ক্লিন
সন্ধ্যা ৮.১৯
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



