বাংলাদেশের আদালতের মতো এমন কাচের ঘর এই ধরাধামে আর নেই। কিছু বললেই সে ঘর ঝরঝর করে ভেঙে পড়ে। কারও ভুল-চুকে যদি কোন উন্মাদও বিচারক হয়ে যায়, তাহলেও কিছু করার নেই। মেনে নিতেই হবে তার বিচার। একবার বিচারক হয়ে গেলেই তিনি ঈশ্বর। তার কোন কাজেরই সমালোচনা করা যাবে না। আমি তো ভাবছি তিনি ঈশ্বরেরও উপরে। যেমন, ব্লগে নাস্তিক ব্লগাররা সমানে ঈশ্বরকে ধুয়ে যাচ্ছেন, কেউ কেউ তো বলেই ফেলছেন, তাদের হেন অপমানের পর ক্ষমতা থাকলে যেন ঈশ্বর তাদের বজ্র নিক্ষেপ করেন। যথারীতি তারা অক্ষত থাকেন। ঈশ্বরের বজ্র তাদের আঘাত করে না।
কিন্তু আমাদের বিচারকদের অবমাননা করার সাহস বোধ হয় আস্তিক নাস্তিক কারো সাধ্যেই নেই। খপাত করে ছয় মাসের জেলে ঢুকিয়ে দিতে পারে তৎক্ষনাত।
যুক্তরাষ্ট্রে দেখি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের আগে সম্ভাব্য প্রার্থীকে সরকারী ও বিরোধী দলীয় ল মেকারদের সামনে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিষয়ে জেরার সম্মুখীন হতে হয়। তারা সন্তুষ্ট হলে তবেই নিয়োগ পান বিচারক।
আর আমাদের এখানে যাকে তাকে রাস্তা থেকে ধরে এনেও বিচারক বানিয়ে দেয়া যায়। গত সরকারের আমলে কয়েকজন আইনজীবি টোকাইদের মতো ক্ষিপ্রতায় প্রধান বিচারপতির এজলাস ভাংচুর করেছেন। এ সরকার তাদের অন্তত দু'জনকে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ দিয়েছেন। আইনের প্রতি এমন নির্লজ্জ অবজ্ঞা আর কী হতে পারে?
এখন নিম্ন আদালতের প্রতিটা ইট পর্যন্ত দুর্নীগ্রস্ত। অথচ এ বিষয়ে কথা বললে নাকি আদালত অবমাননা হবে। কানা ছেলেকে তবে পদ্মলোচন বলাটা বাধ্যতামূলক হয়ে গেলো। যে আদালতের মূল লক্ষ্য সত্য প্রতিষ্ঠা, সেই আদালতই কী-না সত্য হলেও তার সমালোচনাকে অসহনীয় মনে করে!!
চোখ বন্ধ রাখলেই কী প্রলয় বন্ধ হয়?? আদালতের ত্রুটির কথা না বললেই কী সাধারণ মানুষ দু বেলা এসে আদালতে সেজদা করে যাবে??
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



