somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেমন হচ্ছে বলতে পারেন?? বুঝতে পারেন!!!

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৬. নিথর পড়ে আছে ডিনার দেহ। টিফান তার করণীয় ঠিক করে একটু আগেই চলে গেছে। রিবো আর মিরেনকে খুঁজে পাওয়া দরকার। ডিনার প্রাণহীন দেহটা, বেদনায় নীল হয়ে যাওয়া মুখ চোখ, বাতাসে উড়ন্ত চুলেরা- সব একা পড়ে আছে তারপর থেকে

ডিনা- সকলের অত্যন্ত প্রিয় এবং প্রতিরক্ষিত ডিনা। যাকে ঘিরে বেঁচে থাকে সবাই, যাকে ঘিরে জেগে ওঠে সবাই, যার সৌন্দর্যে বিমোহিত সবাই, যার রহস্যে আতিপাতি হাজারো বিদগ্ধ হৃদয়- সেই ডিনা পড়ে আছে। প্রায় প্রাণহীন।

আজ যা ঘটলো তা সাধারণের চেয়ে ভিন্নতর। ডিনার প্রতিরক্ষার জন্য যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা হয় এখানে। প্রথমত তার অবস্থানটাই অনেকটা সেই রূপকথার রাক্ষসের প্রাণের মতো- বনের মাঝে পুকুর, সেই পুকুরের মাঝে গভীর তলায় রাখা কৌটার মধ্যে কালো ভোমড়া যেন ডিনা। তাকে খুঁজে পাওয়া সহজ বিষয় নয়। তাকে আঘাত করতে হলে অন্তত দুটি প্রাচীর পেরোতে হবে যে কাউকে। এই সুদীর্ঘ পথে নানানজন আছে বহিরাগত যে কাউকে চিনে ফেলার জন্য, তাকে আক্রমণ করার জন্য। ডিনা- তাই প্রায়শই নিরাপদ। তাকে বাঁচাতে গিয়ে কতজনকে অকাতরে জীবন দিতে দেখেছে ডিনা- যেন ট্রয়ের হেলেন । কতজনের ভালোবাসায় ধ্বংসযজ্ঞের চিরন্তন প্রবাহ তাকে ঘিরে। সেই ডিনা আজ অসহায় পড়ে আছে, নিথর এবং সম্ভবত মৃত।

দূরে অনেকের কোলাহল শোনা যায়। কারা যেন আসছে এদিকে। ধীরে ধীরে দলটা স্পষ্ট হতে থাকে। ডিনার দিকেই আসছে তারা। আরো কাছে আসে। অনেকগুলো ছোট ছোট প্রিটান। সাড় বেধে এগিয়ে আসছে। একটা ছোট খাট সেনাবাহিনীর মতো। প্রত্যেকের গায়ে একই ইউনিফরম। ছোট অক্ষরে লেখা আছে তাতে- পোজান ফোর্স। তারমানে পোজান বাহিনী তারা। আগে কখনো এখানে দেখা গেছে বলে মনে হলো না। একেবারে শেষের পোজান বাহিনী একদল বন্দী নিয়ে আসলো- কিছুটা ভিন্ন ধরনের প্রিটান তারা। প্রত্যেকের চোখে মুখে দুঃখের ছাপ। বুঝাই যাচ্ছে তাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে পোজানদের হাতে বন্দী হয়ে অত্যন্ত বিষণœ। কিন্তু কিছু বোধহয় করা নেই তাদের আপাতত- পোজানদের কথা শোনা ছাড়া।
বন্দী প্রিটানদের ডিনার নিথর শরীরের কাছে এনে ঠেলে দিলো পোজান বাহিনী। ডিনার দিকে তাকিয়ে আতকে উঠলো তারা। কী করেছে এরা? কী ভয়ংকর পরিকল্পনা এদের। মনে মনে ভাবে তারা। পোজানদের কাছে কী এবার তবে পতন হবে সবার? ডিনার মৃত্যু অন্তত তাদেরকে তাই মনে করিয়ে দেয়।

কয়েকজন পোজান এগিয়ে আসে বন্দী প্রিটানদের জটলার কাছে। তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে বাছাই করে তারা। নেতা গোছের একজন আদেশ দেয়- যাদের নাম ধরে ডাকবো তারা সামনে এসে দাড়াও। জটলার প্রিটানগুলো ফিসফাস করে ওঠে। তারপর আবার চুপ হয়ে যায়।
হঠাৎ ডাক আসে- পলা!
পলা নামের একজন প্রিটান এগিয়ে আসে। অত্যন্ত অভিজাত কিন্তু কর্মঠ চেহারার একজন নারী।
পলার পিছনে পিছনে এসে একে একে দাড়ায় গৌড়, ট্রস, লজ এবং আরো অনেকে। বাকিরা রয়ে গেলো। সম্ভবত পরের কোন কাজের জন্য। বাছাই করা প্রিটানদের নিয়ে অন্য একটি জায়গায় রাখলো পোজান দলটি। তারপর তাদেরকে কিছু একটা নির্দেশ দিতে থাকলো। ট্রস আর পলার মুখের এক্সপ্রেশনই বলে দিচ্ছে মোটেই ভালো কোন কাজের নির্দেশ আসে নি তাদের জন্য। অসহায়ের মতো তাকালো তারা চারদিক। কাউকে চোখে পড়ছে যারা তাদেরকে এই সমূহ বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারে। পোজানদের সংখ্যা এত বেশী মনে হচ্ছে এদের বিরুদ্ধে কারো পক্ষে দাড়ানোই সম্ভব নয়।

উপায় অবশ্য একটা আছে। কিন্তু সে জন্য ডিনার সুস্থ থাকাটা খুব জরুরি। কতজনকেই তো এভাবে প্রতিহত করলো ডিনা। তার শক্তির গভীরতা বুঝা কঠিন। এমনসব শত্রুর বিরুদ্ধে ডিনা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে- ভীষণ শক্তিশালি এক একজন যোদ্ধা তৈরির তথ্য আছে ডিনার কাছে। কেবল সে-ই পারে তথ্যগুলোকে ব্যবহার করতে। ট্রস, লজ এরা সবাই এসময় ডিনার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সাহায্যে মিরেনের মাধ্যমে স্পেশাল বার্তা যায় রিবোর কাছে। তখন রিবো তৈরি করে দেয় শক্তিশালি এসব যোদ্ধাদের। এরা যখন আসে, নানা দলে, নানা অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তখন আক্রমণকারীদের দুরবস্থা দেখলে আসলেই মায়া লাগে।

এমন ঘটেছে অহরহ। কিন্তু সেজন্য ডিনার কর্মক্ষম থাকাটা খুব জরুরি। কিন্তু আজ আর হতে পারবে না। কারণ সবার আগে ডিনাকেই আঘাত করা হয়েছে। ডিনার অনুপস্থিতিতিতে কেউ আসবে না। অনেক কিছুই অব্যবহৃত রয়ে যাবে। অনেক শক্তিই অপ্রদর্শিত থেকে যাবে- শত্রুর সাথে লড়াইয়ের। বিনা বাধায় পোজানরা দখল করে নিচ্ছে ডিনার রাজ্য। দখল করে নিচ্ছে ট্রস, পলা আর লজদের। তারা বোধ হয় চিরন্তন দাস হয়েই থাকবে পোজানদের- যতদিন বেঁচে থাকে।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×