somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন আইন আসছে

২১ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুগান-র রিপোর্ট

আউটার ক্যাম্পাস বন্ধ, মেডিকেল অনুষদ নিষিদ্ধ, খণ্ডকালীন শিক্ষকের সংখ্যা হ্রাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ২৫ কোটি টাকা এফডিআরে রাখাসহ বিভিন্ন ধরনের কঠোর বিধান রেখে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ প্রণীত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য ও সনদ বিক্রির শিক্ষা বিতরণ বন্ধে সরকার এ নতুন আইন তৈরি করতে যাচ্ছে। প্রণীতব্য আইন ভাঙলে বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার ব্যবস্থা থাকছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
শিক্ষা উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বুধবার তার দফতরে সাংবাদিকদের জানান, আইনটি শিগগিরই ক্যাবিনেটে উঠছে। বর্তমানে চূড়ান- পর্যবেক্ষণ চলছে। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষ হয়েছে। এখন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা হবে। তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীরা যেন সুষ্ঠু শিক্ষা পায় সেটি আইনে নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষা ও বাণিজ্য যেন সমর্থক না হয় সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি ছাত্র-অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। শুধু পলিসি নির্ধারণই সব নয়।
বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা ১৯৯২ সালে। তখন ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯২’ নামে সংসদে একটি আইন তৈরি হয়েছিল। পরে ১৯৯৮ সালে তা সংশোধিত হয়। কিন' ইতিমধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে উচ্চশিক্ষার অব্যবস্থাপনা ও লাগামহীন বাণিজ্যের ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। এ অবস্থায় ২০০৩ সালে বিগত জোট সরকার উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। বর্তমান সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ছিলেন ওই কমিটির সদস্য। কমিটি দীর্ঘদিন তদন- ও সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ৮টি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়াসহ বেশকিছু কঠোর সুপারিশ করেছিল। কিন' বিগত সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি ও আমলাদের চাপে ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছাড়া আর কোন সুপারিশ বাস-বায়িত হয়নি।
নতুন আইনে কি আছে
সূত্র জানায়, প্রস-াবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে আউটার ক্যাম্পাস সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মূল শহরের ক্যাম্পাস (যে শহরে মূল ক্যাম্পাস অবস্থিত) বাদে অন্য শহরে কোন আউটার ক্যাম্পাস খুলতে পারবে না। আর মূল শহরে একাধিক ক্যাম্পাস থাকলে একাধিক ভবনে একই বিভাগ থাকতে পারবে না। এক্ষেত্রে স্টাডি সেন্টার, এডমিশন সেন্টার ইত্যাদি কোন নামেই অন্য শহরে কেন্দ্র খোলা চলবে না। নামমাত্র শিক্ষা কার্যক্রম রোধে থাকছে কঠোর বিধি। এজন্য পর্যাপ্ত স্পেসে ক্লাস রুম, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি ও গবেষণাগার থাকতে হবে। আইনে এজন্য সর্বনিম্ন ২৫ হাজার বর্গফুটের ভবন থাকাকে অত্যাবশ্যক করার বিধান রাখা হয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল শিক্ষা প্রদানের নামে সার্টিফিকেট বাণিজ্য করার। আইনে এ দিকটি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এখন থেকে কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অনুষদ থাকতে পারবে না।
উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষকের মান নিয়ন্ত্রণেও সুস্পষ্ট বিধি আসছে। কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী শিক্ষকের এক-চতুর্থাংশের বেশি খণ্ডকালীন শিক্ষক রাখা যাবে না। অপরদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক একটির বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন বা কনসালটেন্সি করতে পারবেন না। প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দু’হাজার শিক্ষক বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন চাকরি করছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এভাবে গণহারে বাইরে চাকরির কারণে মূলত উভয় প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস- হয়। নিজের মূল প্রতিষ্ঠানের প্রতি যেমন তারা আন-রিক থাকেন না, তেমনি এক-একজন শিক্ষক একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সময় দেয়ার কারণে গবেষণা তো দূরের কথা, ব্যক্তিগত স্টাডি পর্যন- করতে পারেন না।
এর আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ৫ কোটি টাকা জামানত হিসেবে এফডিআরে রাখতে হতো। নতুন আইনে তা বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গার ব্যাপারে শর্ত সামান্য শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ মেট্রোপলিটন এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২ একর এবং অন্যান্য এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি ৩ একর জমির ওপর স্থাপিত হতে হবে। তবে জমি হতে হবে নিষ্কণ্টক। এর আগে ৫ একরের বিধান ছিল। প্রথমে অনুমোদন নেয়া ক্যাম্পাসের আয়তন বাড়াতে হলে নতুন করে অনুমতি নিতে হবে। এর জন্য সরকারি কোষাগারে ২ কোটি টাকা জমা দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হবেন রাষ্ট্রপতি। আর বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, তাই কেবল শিক্ষাবিদরাই হবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এজন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ কমপক্ষে ২০ বছরের শিক্ষকতার ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিই কেবল উপাচার্য হতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, পাঠ্যক্রম কমিটি, অর্থ কমিটি, শিক্ষক নিয়োগ কমিটি থাকবে। এসব বডির গঠন কাঠামো হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে।



সূত্র: Click This Link
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×