৫৮-এর পর ৭৮-এর দেখতে না হলে আমাদের বিশ্বকাপ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট থাকতে পারতাম। কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছতে না পারার কষ্টটা চাপা দিতাম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের গৌরব দিয়ে। সেটা পারছি না এখন। কারণ একটু গর্বের সঙ্গে যে অনেক লজ্জা উপহার দিয়েছে এ বিশ্বকাপ।
এর মধ্যে আমরা যেটা করতে পেরেছি তা হলো প্রাথমিক প্রত্যাশা পূরণের কাজটা। দুটো ছোট দলকে হারাব, সঙ্গে আরেকটি বড় দলের বিপক্ষে জয়। সেটা আমাদের হয়েছে। পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দুটো ভীষণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে গেল আমাদের ব্যাটিংকে। ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্সকেও। দুটো জয়ের পর ৫৮ রানে অল আউটকে আমি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভাবতে শুরু করেছিলাম কিন্তু পরশু আমাদের ব্যাটসম্যানদের একই রকম আত্মসমর্পণ দেখার পর নিশ্চিত হয়ে গেলাম অসুখটা আসলে আমাদের ব্যাটিংয়ে। তাই আমাদের অস্ট্রেলিয়ান কোচের কাছে আমার প্রশ্ন, এই চার বছর আপনি কি করলেন আমাদের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে?
যার প্রতিভা আছে তার স্ফুরণ দেখলাম না এ বিশ্বকাপে। ধরুন তামিম ইকবালের কথা, তার ব্যাটিং প্রতিভাকে আরো শানিত করে সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবেন তো কোচই। তারপর কোনো মিডিওকার ব্যাটসম্যানের মধ্যেও দেখলাম না কোচের পরিচর্যায় বাড়তি সম্ভাবনা তৈরি হতে। তারা আগের মতোই রয়ে গেছে, কোনোরকমে ২০-৩০ রান করে উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসে। অন্তত জায়গাটা তো পাকা হলো। অন্যদিকে আইসিসির সহযোগী সদস্য আয়ারল্যান্ডকে দেখুন, প্রায় প্রত্যেক ম্যাচেই দু-একজন দাঁড়িয়ে গেছে ব্যাট হাতে, খেলেছে বড় ইনিংসও। পেশাদার ক্রিকেট দল আসলে এ রকমই হয়, টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পরও যা আমাদের মধ্যে তৈরি হয়নি। কারণ আমাদের বিদেশি কোচরা কখনো চায়নি সেটা তৈরি হোক, দল শক্তিশালী হয়ে উঠুক। সেই ট্রেভর চ্যাপেল থেকে শুরু করে হোয়াটমোর, মহসীন কামাল এবং হালের এ অস্ট্রেলিয়ানকেও দেখলাম একই পথে হাঁটতে। এসেই প্রথম কাজটা করেন সিনিয়র ছাঁটাই করো, যেন তারা ক্রিকেটের কিছুই জানে না। তারপর নতুন কিছু ছেলেপুলে নিয়ে বিদেশি কোচের ক্রিকেট শিক্ষাদান শুরু হয়। অথচ যাদের নেওয়া হয় তাদের বেশির ভাগ খেলোয়াড় ঘরোয়া ক্রিকেটের চাপই নিতে শেখে না তখন। এই করেই আমাদের ক্রিকেটটা গোল্লায় যাচ্ছে এবং এসবের প্রশ্রয় দিয়ে যায় আমাদের ক্রিকেট বোর্ড।
দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের আগে এই কোচের কথাটা খুব হাস্যকর মনে হয়েছিল। আমরা নাকি ভালো ব্যাটিং করেছি এবং ব্যাটিং করেই তিনটা ম্যাচ জিতেছি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৫ রান করতে আর ইংল্যান্ডের ২২৫ রান তাড়া করতে গিয়ে আমাদের ব্যাটসম্যানদের চোখের পানি নাকের পানি এক হয়ে গিয়েছিল। কোচ এটাকে ভালো ব্যাটিং মনে করলে আর কী বলার থাকে!
এবার আরেকটা ব্যাপার ঘটেছে। সাকিব-তামিমে গলা ফাটাতে ফাটাতে আমাদের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের অবদান গলা ফাটিয়ে বলার মতো কিছু নয়। এ দুজনকে নিয়ে এত মাতামাতি হয়েছে যেন অন্যদের আর কিছুই করতে হবে না। অথচ সেই অন্যরাই আমাদের জয়ের কারিগর হলো। শফিউল ইসলামের ক্রিকেট তারুণ্য আর ইমরুলের ব্যাটে অমন দায়িত্বশীলতা যোগ হয়েছে বলেই বিশ্বকাপে কিছু গর্বের উপলক্ষ পেয়েছি। সবাই মিলে আবার সেই গর্বটা কেড়ে নিল শেষ ম্যাচে!
সূত্র

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



