somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবীর কয়েকটি দেশের অদ্ভুত মিউজিয়াম

২৭ শে মে, ২০১১ রাত ১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বের শিক্ষিত সমাজে এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যিনি মিউজিয়াম বা যাদুঘরকে চিনেন না। যাদুঘর কি এবং এর সংজ্ঞা আমরা অনেক ভাবেই দিতে পারি। একটি জাতির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, আচার-কৃষ্টি এবং হারিয়ে যাওয়া বা বিলুপ্ত হয়ে যাবার উপক্রম এমন বিরল কীর্তি ও মনোমুগ্ধকর বিষয়বস্তু সংগ্রহ করে সবার দর্শনের জন্য যে স্থাপনাতে রাখা হয়,মোটামুটিভাবে তাকেই আমরা যাদুঘর বলে জানি। কিন্তু এরপরও কিছু মানুষ যাদুঘরের এই সংজ্ঞাটি পাশকাটিয়ে নিজস্ব ধ্যান ধারণা, চিন্তা চেতনা থেকে কিছু কৌতুহলোদ্দীপক বিষয়বস্তু সংগ্রহ ও সমাবেশ করে যাদুঘরের নামে এমন স্থাপনা তৈরী করে গেছেন যার কোনোটি চিত্তাকর্ষক আবার কোনোটি কান্ডজ্ঞানহীন এবং উদ্ভট। আজ তাহলে চলুন, পৃথিবীর এমনি কিছু অদ্ভুত জাদুঘর নিয়ে আপনাদের সাথে শেয়ার করি।

১.দি মিউজিয়াম অফ মনস্ত্রুশ ক্রিয়েচার, জাপান (Gensou Hyouhon Hakubutsukan)

এটি সরীসৃপ গোত্রের প্রানীদের যাদুঘর । এই যাদুঘরে উপরে দেয়া ছবির ন্যায় একাধিক অদ্ভুত ও বিরল সরীসৃপ প্রজাতির দেহাবশেষ ও ফসিল সংগৃহীত আছে।

২. মিউজিয়াম অব পেনিস, আয়ারল্যান্ড।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের হুসাভিক নামক একটি ছোট শহরে এই যাদুঘরটি অবস্থিত। এই আজব যাদুঘরটিতে সে দেশের স্তন্যপায়ী জীবের শিশ্ন সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে । এই যাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা সেই দেশের একজন প্রাক্তন ইতিহাসের অধ্যাপক। ১৯৭৪ সালে তিনি এই আজব যাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে মানুষের জননেন্দ্রিয় ব্যতীত বিভিন্ন স্তন্যপায়ী জীবের ২৪৫টি শিশ্ন দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে রাখা হয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে মিউজিয়ামের এক সহৃদয় পৃষ্ঠপোষক মৃত্যুর পর তার শিশ্ন যাদুঘরে দান করার অঙ্গীকার করেছেন।

৩.মধ্যযুগে নির্যাতন করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সাজসরঞ্জাম এর যাদুঘর, প্রাগ।

প্রতি বছর রিপাবলিক চেকোস্লাভাকিয়ার রাজধানী প্রাগের এই যাদুঘরটিতে ঘীরে প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। যে যন্ত্রপাতির সাহায্যে মধ্যযুগে বন্দিদের অমানবিক ও নির্মমভাবে নির্যাতন করা হত এ রকম এক ডজনের অধিক সাজসরঞ্জাম সংরক্ষিত আছে এই যাদুঘরে। এখানে সংগ্রহকৃত সাজসরঞ্জাম এর মধ্যে এমন কতগুলো যন্ত্রণাদায়ক উপকরণ রয়েছে যা দ্বারা নির্যাতন করে ধীরগতিতে ভিকটিমের প্রাণসংহার করা হত।

৪. সেক্সচুয়াল মিউজিয়াম।

হল্যান্ডে অবস্থিত ভেনাস টেম্পল বা রতিদেবীর মন্দির নামের এই যাদুঘরটি ইউরোপের সর্বপ্রথম এবং প্রাচীন সেক্স যাদুঘর। এই যাদুঘরের শোকেসে সাজানো রয়েছে অষ্টদশ শতাব্দীর কামজ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্করণ, তৈলচিত্র, পূর্ণায়ত ভাস্কর্য। এ ছাড়া উনবিশ শতাব্দীর কামজ বিষয়ক বই, ছবি , পোস্টকার্ড, ভারতীয়দের অনুকরণে তৈরী ভাস্কর্য ইত্যাদি এরোটিক সামগ্রীর সমাহারে ইউরোপিয়দের পূর্বপুরুষদের যৌনজীবন এবং যৌন-সংস্কৃতি বাস্তবরূপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই যাদুঘরে। প্রতিবছরে ৫ লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগমে আমস্টারডামের অন্যান্য যাদুঘরের ন্যায় এই সেক্স যাদুঘরটিও দিনে দিনে খ্যাতিলাভ করছে।

৫.প্যারাসাইট মিউজিয়াম।

পৃথিবীর একমাত্র পরজীবী মিউজিয়ামটি জাপানের রাজধানী টোকিও তে অবস্থিত । এই মিউজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা একজন জাপানি নাগরিক, নাম সাতোরু কেমেগী। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক। তিনি দীর্ঘদিন মানব ও অন্যান্য প্রাণী দেহে বসবাসকারী পরাশ্রয়ী সংগ্রহ এবং সেগুলো নিয়ে গবেষণা করার পর তার গবেষণালব্ধ তথ্য ও সংগৃহীত পরজীবী প্রদর্শন করার উদ্দেশ্যে ১৯৫৩ সালে মিউজিয়ামটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই মিউজিয়ামের শোকেসে কমপক্ষে ৩০০ প্রজাতির প্রাণীর দেহে বসবাসকারী প্রায় ৪৫ হাজার অদ্ভুত পরাশ্রয়ী দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আছে । তাছাড়া এখানে হাজারের উপর পরজীবী নিয়ে গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রামাণ্য দলিলপত্র বই আকারে সংরক্ষণ করা আছে।

৬.মিউজিয়াম অফ এ্যাট( এলিয়েন)

এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আমাদের সাথে ভাগাভাগি করে অন্যান্য গ্রহের যে সমস্ত প্রাণী বা এলিয়েন বাস করছে তাদের প্রতি আনুগত্য স্বীকার এবং শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এই মিউজিয়ামটি নির্মান করা হয়েছে। এই মিউজিয়ামে অন্য গ্রহের প্রানীদের জীবনদর্শন ও জীবনচরিত নিয়ে পুঙ্ক্ষানুপুঙ্ক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা ছাড়াও অত্যন্ত কারুকর্মের সাহায্যে মিউজিয়ামকে এমন ভাবে মিথষ্ক্রিয় করে তোলা হয়েছে যাতে আমাদের সৌরমণ্ডল ঘিরে এলিয়েনদের অস্তিত্ব আছে সেই বিষয়ে দর্শনার্থীগণ বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে।

৭.সকস মিউজিয়াম

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মোজার মিউজিয়ামটি জাপানের টোকিও শহরে অবস্থিত। এখানে ছোট বড় ২০ হাজারের বেশী নানা রকমের মোজা অতিথিদের দর্শনের জন্য সাজানো আছে । এই মিউজিয়ামের সবচেয়ে বড় মোজাটির আকার (গোড়ালি থেকে পায়ের অগ্রভাগ পর্যন্ত ) ৩২ সেন্টিমিটার যা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মোজা বলে বিবেচিত। বস্ত্রশিল্প অনুরাগীদের জন্য এই মিউজিয়ামটি বেশ আকর্ষনীয়।

৮.আন্তর্জাতিক প্রসাধন ও শৌচাগার মিউজিয়াম।

এই অদ্ভুত মিউজিয়ামটির প্রতিষ্ঠাতা ভারতের নাগরিক বিন্দেশ্বর পাথক এবং এটি দিল্লি শহরে অবস্থিত। এই মিউজিয়ামে শুধুমাত্র প্রসাধন ও শৌচাগারে ব্যবহৃত সামগ্রী দর্শনাথীদের প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব ২০০৫ সাল থেকে প্রসাধন ও শৌচাগার এর জন্য ব্যাবহৃত সামগ্রীর ছবি এবং মডেল এই মিউজিয়ামে সংগৃহিত আছে। হাইজেনিক ও স্যানিটেশন সমস্যায় জর্জরিত জনগনের সমস্যা দূরীকরণ এবং এসকল বিষয়ে জনসাধারণের সচেতনা বৃদ্ধি করাই এই মিউজিয়ামের মূল উদ্দেশ্য।


৯.গার্বেজ মিউজিয়াম, বোস্টন।

এই অদ্ভুত যাদুঘরে বোস্টনের সুখ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিদের আবর্জনা ময়লা সংগ্রহ করে তা প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। কৌতুক করার জন্য হোক বা অত্যধিক শ্রদ্ধা বা আদর দেখানোর জন্যই হোক সেলিব্রেটিদের ময়লা,আবর্জনা রাস্তার ডাস্টবিন থেকে তুলে দর্শকদের দেখাবার উদ্দেশ্যে এই মিউজিয়ামটি নির্মান করা হয়েছে।

১০. ডিভেল মিউজিয়াম।

এই ডিভেল মিউজিয়াম অর্থাৎ শয়তানের যাদুঘরটি লিতুয়ানিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কাউনাশ এ অবস্থিত। এই যাদুঘরে এমন সমস্ত ভৌতিক ভাস্কর্য ও ছবি রয়েছে যা দর্শকদের অতীতে দেখা কোনো ভায়াল দুঃস্বপ্ন ও আতঙ্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে পারে।
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×