বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে প্রযুক্তির এক নতুন দিক উন্মোচিত হয় কমপিউটারের বহুবিধ ব্যবহারের মাধ্যমে। শুধু বহুবিধ ব্যবহারের মাধ্যমে কমপিউটার সীমাবদ্ধ না থেকে পরিণত হয় এক অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তিযন্ত্রে। অবশ্য এ অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তিযন্ত্র হিসেবে কমপিউটার এমনি এমনি পরিণত হয়নি। নির্ভুল হিসেব গণনা করতে পারার পাশাপাশি একসাথে অনেক কাজ করার ক্ষমতা এবং দক্ষতা থাকায় মানুষ তার দৈনন্দিন কাজে কমপিউটার ব্যবহার শুরু করে। এর ফলে কমপিউটারকে কেন্দ্র করে আইসিটি শিল্প গড়ে ওঠে। রাতারাতি সবার কাছে এর গুরুত্ব বেড়ে যায়। এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকদের কদর বেড়ে যায়। ব্যাপকভাবে মানুষ এ খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করতে থাকে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কমপিউটার জানা লোকদের চাহিদা বাড়ছে। প্রচুর কাজ আছে এখানেও। শুধু তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির কর্মক্ষেত্রে বাড়ছে ঠিক তা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এ সংশ্লিষ্ট বিষয় তরুণ প্রজন্মের কাছে চাহিদা বাড়ছে। ঠিক কতটুকু বাড়ছে এবং কতটুকু বাড়া উচিত এবং সেই সাথে বৈশ্বিক অবস্থানটা কেমন, তা আমাদের জানা উচিত।
আইসিটিতে চাহিদা বাড়ছে
২০০৪ সালের পর থেকে আইসিটিবিষয়ক চাকরির অবস্থার রাতারাতি পরিবর্তন হতে থাকে। বাড়তে থাকে চাকরির বাজার। ফলে খুব দ্রুত শূন্য হতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিট, আর তার চেয়ে দ্রুত চাহিদা বাড়তে থাকে এসব বিষয়ের পেশাজীবীদের। এ চাহিদা বেড়েই চলেছে, কিন্তু চাহিদার তুলনায় একই হারে যোগ্য আইসিটি পেশাজীবী বাড়ছে না। তাই ২০০৫ সালের পর থেকে বিশ্বব্যাপী আইসিটিতে সব দিক থেকে জ্যামিতিক হারে চাহিদা বেড়েই চলেছে। ইদানীং আমাদের দেশেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মূলত ২০০৫ সালের পর থেকেই ধীরে ধীরে আইসিটি ঘরানার লোকদের চাহিদা বাড়তে শুরু করে। এ সময়ে সব ক্ষেত্রে ব্যাপক হারে প্রযুক্তি ডিজিটাইজ করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হওয়ায় আইসিটিসংশ্লিষ্ট লোকদের চাহিদা বাড়ে। সে চাহিদা পূরণ তো হয়ইনি, বরং আরো বেড়ে যায়। এ সুযোগটা নিতে হবে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে।
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিটি
যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমীক্ষা থেকে আইসিটিবিষয়ক তথ্য পর্যালোচনার জন্য এ খাতের চাকরিকে আট ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হচ্ছে- কমপিউটার আইএস ম্যানেজার, কমপিউটার সায়েন্টিস্ট সিস্টেম অ্যানালিস্ট, কমপিউটার প্রোগ্রামার, কমপিউটার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কমপিউটার সাপোর্ট স্পেশালিস্ট, ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, নেটওয়ার্ক কমপিউটার সিস্টেমস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এবং নেটওয়ার্ক সিস্টেমস ডাটা কমিউনিকেশন অ্যানালিস্ট। এদের মধ্যে ২০০০ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে কমপিউটার আইএস ম্যানেজারের চাকরি ৬০% বেড়েছে। ২০০০ সালের প্রথমার্ধে যেখানে কমপিউটার আইএস ম্যানেজারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার, সেখানে চার বছর পর এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজার।
স্পষ্টতই বলা যায়, কমপিউটার আইএস ম্যানেজারের চাকরি বেড়েছে। একই অবস্থা কমপিউটার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের ক্ষেত্রেও। কমপিউটার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে আইসিটিবিষয়ক চাকরির সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র। ২০০০ সালে যেখানে কমপিউটার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের জন্য পদ ছিল ৭ লাখ ৫৭ হাজার, সেখানে ২০০৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ লাখ ১৬ হাজার। এখানে ৪ বছরে বেড়েছে ৮%। একইভাবে এ সময়ের মধ্যে ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। নেটওয়ার্ক কমপিউটার সিস্টেমস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদ বেড়েছে ৩৬%। সবচেয়ে কমসংখ্যক চাকরি বেড়েছে নেটওয়ার্ক সিস্টেমস ডাটা কমিউনিকেশন অ্যানালিস্টদের। তাদের চাকরি বেড়েছে ৬%।
থাইল্যান্ডের পরিস্থিতি
আমাদের পাশের দেশ থাইল্যান্ডের আইসিটিবিষয়ক এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০০৭ সাল থেকে সেখানে ক্রমেই এখাতে চাকরি বাড়ছে। সেই সাথে তাদের এ সমীক্ষার সাথে মিল রেখে ধারণা করা হয়, ২০০৯ সালেও এই বেড়ে চলা অব্যাহত থাকবে। শুধুই যে চাকরি বাড়ছে, তা নয়। আইসিটিবিষয়ক বিভিন্ন সার্ভিস এবং সার্ভিসসংক্রান্ত সুবিধাও অনেক বেড়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, থাইল্যান্ডে অন্যান্য দেশের মতো আইসিটির হার্ডওয়্যারের চাহিদার কোনো উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি না ঘটলেও চাকরি ও সার্ভিস বেড়েছে। তবে এটি যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব, সে ব্যাপারে কারো সন্দেহ নেই। সেই সাথে এটি সাময়িক ব্যাপার তাও বলে দেয়া যায়। হার্ডওয়্যারের চাহিদা অচিরেই বেড়ে যাবে, তা সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
এক হিসেবে দেখা যায়, আইসিটির সামগ্রিক বাজার থেকে তথ্যপ্রযুক্তির বাজারের সম্প্রসারণ ঘটেছে বেশি পরিমাণে এবং তা প্রতিটি খাতে সম্প্রসারিত হয়েছে। শুধু হার্ডওয়্যারের বাজারের সম্প্রসারণ ২০০৮-২০০৯ সালে দেয়া হয়নি। পুরো পরিসংখ্যান হিসেব করা হয়েছে এখানে প্রতি মিলিয়ন থাই বাথে।
ওপেনসোর্সের চাকরি বাড়ছে
এখন লিনআক্স ও ওপেনসোর্সের চাকরি বেড়ে চলেছে। এর অন্যতম কারণ কর্পোরেট পর্যায়ে গুরুত্বের সাথে লিনআক্সের চাহিদা বেড়ে যাওয়া। বিশ্বব্যাপী লিনআক্স সার্ভারের সংখ্যা গত কয়েক বছরে অনেক বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, সোর্সকোডসহ সফটওয়্যার পাওয়া যায়। সার্ভারের পাশাপাশি এখন ডেস্কটপ এবং ওয়ার্কস্টেশনেও লিনআক্স ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে সব ধরনের মেশিনে লিনআক্স নিজেকে অত্যন্ত স্থিতিশীল করে তুলেছে। এর ফলে লিনআক্স পেশাজীবীদের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে ওপেনসোর্সের মাধ্যমে এখন প্রচুর কাজ পাওয়া যাচ্ছে। এসবের মূলে আছে লিনআক্স এবং বিভিন্ন ওপেনসোর্সের সফটওয়্যার।
ওপেনসোর্সের চাকরির বাজার
লিনআক্সের চাকরি এখন বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। এখানেও একথা সত্য, লিনআক্স জানা লোকদের চাহিদা অনুপাতে যোগ্য ও দক্ষ জনশক্তি নেই। শুধু সার্ভারের চাহিদার কারণেই নয়, এখন বিশ্বব্যাপী ডেস্কটপ বা ওয়ার্কস্টেশনের জন্যও লিনআক্স ব্যবহারকারী বাড়তে থাকায় লিনআক্স পেশাজীবীদের কাজ বাড়ছে। সেই সাথে লিনআক্সের বড় ডিস্ট্রিবিউটর এখন লিনআক্সের জন্য বিকল্প সফটওয়্যার তৈরিতে ডেভেলপারদের নিয়মিত তাগিদ দিচ্ছে। শুধু অপারেটর বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নয়, পাইথন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জানা লোকদের চাহিদা বেড়েছে সব থেকে বেশি। এর কারণ লিনআক্সের বেশিরভাগ প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়ে থাকে সি ল্যাঙ্গুয়েজভিত্তিক পাইথন ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে।
....চলব
পোস্টটি একই সাথে কমপিউটার জগৎ ব্লগেও দেওয়া হয়েছে-
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

