somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... প্রবাসে থাকার সুবিধা====দেশে এসে যে সমস্যাগুলোর সঙ্গে লড়াই করতে হয়--
প্রবাসে থাকার সুবিধা.....................

রাজনীতি নিষিদ্ধ তাই...
মিটিং-মিছিল-হরতাল নাই ।
উচ্চস্বরে মাইকের আওয়াজ নাই।
গ্যাস-পানি-ইলেকট্রিসিটির প্রবলেম নাই।
পকেটমারের উৎপাত নাই।
চুরি-ডাকাতির ভয় নাই।
অফিস আদালতে ঘুস-দুর্ণিতি নাই।
পঁচা ও বাসি খাবার নাই।
জানমাল ক্ষতির কোন ভয় নাই।
ভুমি-ঘর-দোকান দখলের কোন আশাংখা নাই।
ইভটিজিং নাই।
ফাও খাওয়ার কোন সুযোগ নাই।
ভিক্ষুক নাই। গৃহহীন মানুষ নাই। বিবস্ত্র মানুষ নাই।

অসুবিধা শুধু একটায়...............বিবাহিত হইয়াও ব্যাচেলর জীবন-যাপন করতে হয়...

দেশে এসে যে সমস্যাগুলোর সঙ্গে লড়াই করতে হবে.......

এয়ারপোর্টে ঘুস দিয়ে মালামাল বের করতে হয়।
ল্যাগেজ নিয়ে টানাটানি শুরু হয়।
বাসায় না ফেরা পর্যন্ত জানমালের ক্ষতি হওয়া সম্ভাবনা থাকে।
পকেটমার কতৃক মানি ব্যাগ-মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে।
চাঁদাবাজ ও দলীয় ক্যাডারদের হাতে লাঞ্চিত হতে হয়।
গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের সমস্যায় পড়তে হয়।
রাস্তা-ঘাটের নোংরা পরিবেশ হজম করতে হয়।
গাড়ীও মাইকের উচ্চ হর্ণ শুনতে হয়।
ট্রাফিক আইন অমান্য করে পথচারীদের রাস্তা পারাপারের দৃশ্য দেখতে হয়।
পার্কে কিংবা হোটেল রেস্তোরায় প্রেমিক-প্রেমিকাদের অবাধ মেলামেলা দেখতে হয়।।
স্কুলে যাওয়ার পথে ছাত্রীদেরকে ইভটিজারদের হাতে লাঞ্চিত হওয়ার দৃশ্য দেখতে হয়।
দুই প্রতিবেশী কিংবা দুই দলের মারামারির দৃশ্য দেখতে হয়।
রাজনীতিবিদদের গলাবাজি শুনতে হয়।
অফিস-আদালতে ঘুস দিয়ে গুরত্বপূর্ন কাজগুলি সম্পূর্ন করতে হবে।



প্রবাসে আসার আগে যে সমস্ত বিষয়গুলি খেয়াল রাখবেনঃ

১. আপনার সার্টিফিকেট অনুযায়ী এমআরপি পাসপোট তৈরী করুন।
২. যে দেশে প্রবাসী হবেন সে দেশ সম্পর্কে জানুন।
৩. সৎ ব্যক্তির কাছ থেকে ভিসা সংগ্রহ করুন।
৪. দালাল থেকে ভিসা নিয়ে প্রতারিত হবেন না।
৫. আপনার কর্মস্থল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করুন।
৬. থাকা-খাওয়া কে বহন করতে জেনে নিন।
৭. দেশে আসা-যাওয়ার জন্য টিকেট ও লিভ সেলারী পাবেন কিনা জেনে নিন।
৮. ভিসা রেনুয়েল এর অর্থ কে দিবে জেনে নিন।
৯. কাজের আসায় প্রি ভিসায় আসবেন না।
১০. বিদেশ মানে টাকা আর টাকা এই কথাটি বিশ্বাস করবেন না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29540246 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29540246 2012-02-13 11:53:32
কত লাখ টাকায় আমার স্বামীর ভালোবাসা ফিরে পাবো: মুক্তা ( আরব আমিরাতে তিন বাংলাদেশীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশীর শিরশ্ছেদ... ২০১০ সালের ২৯ অক্টোবর বিয়ে হবার পর একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর আমার স্বামী বিদেশে চলে যান। আর ১১ সালের ২মে আমার স্বামী খুন হন। মাঝখানে ১৮ দিন মাত্র আমার স্বামীর সাথে আমার সংসার। আপনারা বলেন, 'আপনাদের কত লাখ টাকা দিলে আমি ফিরে পাবো আমার সংসার, আমার স্বামীর ভালোবাসা? আজকে দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হবার কথা বলে আমার স্বামীর খুনিদের মাফ করতে বলেন,

কিন্ত খুনিরা যে পৈশাচিক কাজ করেছে তখন দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় নাই? আপনারা কার পক্ষে কথা বলছেন?' এই ছিল আমিরাতে নিহত আইয়ুবের নববিবাহিতা স্ত্রী নুসরাত জাহান মুক্তার খেদোক্তি।


অপরদিকে, নিহত দুই সহোদরের মা রোকেয়া বেগম তার দুই ছেলেকে হারিয়ে এখন শোকে স্তব্ধ। পিতৃহীন এই দুই ছেলে ছাড়া তাঁর আর কোন পুত্র সন্তান নেই। তাঁর বক্তব্য কিসের ব্লাডমানি, কিসের টাকা? এ টাকা দিয়ে আমি কী করবো? আমার ছেলের লাশ বিক্রি করে আমি কোটি টাকাও চাইনা। গত শনিবার এ প্রতিবেদক নিহতদের বাড়িতে গেলে নিহতের নিকট স্বজনরা এরকমই খেদোক্তি করেন।

অপরদিকে মাইজভাণ্ডার গ্রামের নিহত জামাল উদ্দিনের ছোটভাই মো. সোহেল জানান, ৩ ভাই, ২ বোনের মধ্যে জামাল উদ্দিন সবার বড়। তাকে খুনি সাহাব উদ্দিন দুবাইতে অফিস বয়ের চাকরি দেবার নাম করে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিদেশ নেয় ২০০৯ সালের ২২ নভেম্বর। কিন্তু সেখানে নিয়ে তাকে রাজ মিস্ত্রীর হেলপারের কাজ ধরিয়ে দেওয়া হয়। এনিয়ে জামাল উদ্দিন প্রতিবাদ জানালে ১৫ দিনের মাথায় তাকে হত্যা করে আল-আইনে নিয়ে লাশ ফেলে দেওয়া হয়। এঘটনায় পুরো পরিবারটির মধ্যে অন্ধকার নেমে এসেছে। তারা কোন কিছুর বিনিময়েই খুনিদের ক্ষমা করতে রাজী নয় বলে জানান।


প্রবাসে বাংলাদেশী ভাইদের যত সব অপকর্মঃ

১. ভিসা বিক্রয়ঃ এক শ্রেনীর ভিসার দালাল ভাল বেতনের চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা খেয়ে ভিসা বিক্রী করে। আর দালালের কাছ থেকে ভিসা সংগ্রহ করে সহজ-সরল দেশী ভাইয়েরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কোন এক সময় ক্ষতিগ্রস্থরা দালালদের সাথে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়ে খুন-খারাবীর মত্ জগন্য ঘটনা ঘটে থাকে।

২. বেতন নিয়ে ঝগড়া-বিবাদঃ বেশীর ভাগ প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী কর্মচারীদেরকে কম বেতন দিতে চেষ্টা করে। ভাল বেতন দিবে বলে প্রমিস করে কর্মচারীর কাছ থেকে ভিসা বাবদ মোটা অংকের টাকা আদায় করে থাকে। কম বেতন পেয়ে কোন একসময় কর্মচারী আর মালিকের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

৩. অসামাজিক কাজঃ ভাল কাজ দেয়ার প্রতিশ্রতি দিয়ে কপিতয় দালাল বাংলাদেশ থেকে গরীব পরিবারের যুবতীদেরকে বিদেশে এনে হোটেলের নর্তকী ও অসামাজিক কাজে ব্যবহার করছে। প্রবাসে দালালদের দৌরাত্বে রাস্তা দিয়ে হাটতে ও লজ্জা লাগে।

৪. কর্মস্থলে প্রতারণাঃ আমাদের দেশের প্রবাসী ভাইয়েরা কর্মস্থল থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যাবার ঘটনা ও কম নয়। যার ফলে প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে রেফারেন্স ছাড়া কেউ কাজ দেয় না।

৫. সন্ত্রাসীদের নিরাপদ স্থানঃ সন্ত্রাসীরা দেশে কুকর্ম করে প্রবাসে পাড়ি দিচ্ছে। আর প্রবাসে বসেই তাদের কর্মকান্ড চালাতে থাকে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29531968 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29531968 2012-01-30 13:16:13
সাবধান হে ব্লগাবাসীঃ---------সাইবার ক্রাইম ঠেকাতে নেমেছে বিটিআরসি সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (সিএসআইআরটি) নামে এই দল বুধবার থেকে সাইবার ক্রাইম সনাক্তে কাজ শুরু করেছে বলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়া আহমেদ বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।

আগে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিত বিটিআরসি, তবে এখন সিএসআইআরটি কাজ শুরু করায় সাইবার ক্রাইমের বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলবে।

রাষ্ট্রীয়, সমাজ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায়- ওয়েবসাইটগুলোতে এমন বিষয় সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াই হরে এই দলের মূল কাজ।

কমিশনের বিশেষ সভায় সিএসআইআরটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন আহমেদকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের এই দল গঠন করা হয়েছে। কমিশনের সদস্য, মোবাইল ফোন অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, পিএসটিএন, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে ও সাইবার ক্যাফের প্রতিনিধিদের এই দলে রাখা হয়েছে।

মোবাইল অপারেটর ও অন্যান্যরা এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

স¤প্রতি কতিপয় সেনাসদস্যের অভ্যুত্থান চেষ্টা নস্যাতের পরপরই সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে বিশেষ দল গঠনের কথা জানালো বিটিআরসি।

গত ১৯ জানুয়ারি সেনাবাহিনী জানায়, অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী ওই সৈন্যরা ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা এবং প্ররোচিত করার কাজটি করেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করে মন্তব্য করার ঘটনা ঘটে, যা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।


কার্যপরিধিঃ

রাষ্ট্রীয়, সমাজ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায়- এমন ওয়েবসাইট সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াই হরে এই দলের মূল কাজ। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে দলটি।


বিটিআরসি মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্স) এ কে এম শহিদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের সাজা এবং ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬৯ ধারা অনুযায়ী এই শাস্তি দেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।

কোনো ওয়েবসাইটে ক্ষতিকর কিছু থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ নাও করা হতে পারে জানিয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসাই এই টিমের মূল লক্ষ্য।

তবে গুরুতর কোনো অপরাধ বা যা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ, সে ক্ষেত্রে এ টিম কমিশনকে জানিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে জানান তিনি।

তিন বিশেষজ্ঞের নজরদারিঃ

সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে বিটিআরসি’র তিন জন সাইবার ক্রাইম (বিটিআরসি সহকারী পরিচালক পদমর্যাদা) বিশেষজ্ঞ পুরোদমে কাজ শুরু করেছেন।

বিটিআরসি ভবনে একটি কক্ষে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সর্বক্ষণ এ নজরদারি করা হবে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

সহকারী পরিচালক পদের এই তিন জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান।

তিনি বলেন, সন্দেহজনক কিছু পেলেই সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন তারা।


শামীম আহমেদ
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদক
ঢাকা, জানুয়ারি ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29529156 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29529156 2012-01-25 18:51:30
ডায়েরীর পাতা থেকে--------আমি এক বহুরূপী নারী
আমি এক বহুরূপী নারী

ডাকসাইটে সুন্দরী ছিলাম আমি। খুলনা শহরের যে এলাকায় আমরা থাকতাম, তার আশপাশ এলাকায়ও আমারা রূপের খ্যাতি ছিল। আমি তখন ক্লাস টেনের ছাত্রী। মুক্তিযুদ্ধ চলছে তখন। পাকবাহিনী আর রাজাকারদের ভয়ে আমাকে বাড়িতে রাখা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল। তাই বাবা তড়িঘড়ি করে তার এক বন্ধুর ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেন। আমার স্বামী আমাকে পেয়ে আত্মহারা।

যুদ্ধ শেষ হলে আমি পড়াশোনা শুরু করতে চাইলে আর পড়তে দেননি অফিসে ছুটির মাঝে মধ্যে আমাকে নিয়ে দেশের বাইরে ঘুরে বেড়াতেন। সে সময় তার পছন্দের পোশাক শার্ট-প্যান্ট, স্কার্ট, স্লিভলেস ব্লাউজ পরতে হতো আমাকে। আবার তার পরিবারের কারও বাড়িতে বেড়াতে গেলে বোরকা পরে যেতে হতো। এভাবে বহুরূপী হয়ে উঠি আমি। এক সময় আমার স্বামী চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন। শুরু হয় আমার নতুন জীবন। ব্যবসায়িক পার্টিতে আমার স্বামী আমাকে শোপিস হিসেবে উপস্থাপন করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করতে শুরু করেন। এরই মধ্যে আমার দু\'দুটি সন্তান হয়ে গেছে। আটকা পড়ে গেলাম আমি। কারণ আমার নিজের কোনো যোগ্যতা নেই। নির্ভরশীলও হয়ে গেছি ততদিনে। চলতে থাকে আমার বহুরূপী এবং বিচিত্র জীবন। আমার দুটি সন্তানই জড়িয়ে পড়ে অন্ধ জগতে। টাকার জোরে ওদের পাঠিয়ে দেই দেশের বাইরে। একা আমি সব সময় ভাবি, কেন এমন হলো আমার জীবন! দায়ী করি আমার স্বামীকে। কোনোদিন মাফ করব না তাকে আমি।

শারমিন খান

সুত্রঃ দৈনিক পূর্বকোণ (চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত) ২৫.০১.২০১২
===========================

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শারমিন খান বুঝতে পারছেন দাম্পত্য জীবনে কত বড় ভূল করেছেন। স্বামীর কথামত চলতে গিয়ে নিজেই অন্য জগতে হারিয়ে গিয়েছিলেন। অনাদরে বেড়ে উঠা শারমিন খানের সন্তানরা ও ভাল মানুষ হতে পারেনি।

শারমিন খানকে বহুরূপী করার পেছনে তার স্বামীই দায়ী। স্বামী তাকে শোপিস হিসেবে উপস্থাপন করে অর্থ উপার্জন করেছে।

অনেক স্বামী তার স্ত্রীকে ব্যবসায়িক কাজে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করছে । আজকাল বিভিন্ন পার্টিতে কি হচ্ছে সবারই জানা। উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোতে বাবা-মার উগ্র চালচলনের প্রভাব তাদের সন্তানদের উপর পড়ছে। একসময় সন্তানরাও অন্ধকার পথে পা বাড়ায়।

ধর্মীয় ও নৈতিকতা ভুলে গিয়ে দুনিয়ার চাকচিক্য যারা মগ্ন থাকে তাদের অবস্থা শারমিন খানের মতই হয়। সবকিছু হারিয়ে একসময় নিঃস্ব হয়ে পড়ে। তখন কেউ পাশে থাকে না---------শধুই শূন্যতা--- নীরবতা---হাহাকার----



ঘরে বেহায়াপনা মেনে নেয়ার পরিণাম কি?

”তিন শ্রেণীর লোকের জন্য আল্লাহ তায়ালা জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। অব্যাহতভাবে মদ পানকারী, পিতা-মাতার অবাধ্যজন এবং এমন বেহায়া যে তার পরিবারের অশ্নীলতাকে মেনে নেয়।”

(ইবনে উমার (রাঃ) থেকে মার্ফু সুত্রে বর্ণিত) আহমদ, সহীহুল জামে ৩০৪৭

আর বর্তমানে নির্লজ্জতার ও অশ্নীলতার স্বরূপ হল, পিতার দেখেও না দেখার ভান করা যখন কন্যা বা স্ত্রী টেলিফোনে পরপুরুষের সাথে কথোপকথনে রত থাকে । তার পরিবারের কোন মহিলার কোন অন্য পুরুষের সাথে একান্তে থাকাতে সে মেনে নেয়। অনুরূপ তার বাড়ীর কোন মহিলাকে গায়র মাহরাম ড্রাইভারের সাথে একা যেতে ছেড়ে দেয়। আর (তার বাড়ির) মহিলাদের বেপর্দা ঘুরা-ফেরা করতে অনুমতি দেয়। ফলে সকাল ও সন্ধ্যায় আগমন ও প্রত্যাগমনকারীরা তাদের খুব পরিদর্শন করে। অনুরূপ নোংরা সিনেমা, অথবা (অশ্নীলতায় ভরা) পত্র পত্রিকা ঘরে আনে, যা থেকে ফিৎনা ও ফ্যাসাদ এবং এমন নির্লজ্জকর জিনিষ সংঘটিত হয়, যা উল্লেখ যোগ্য নয়।

সুত্রঃ কতিপয় হারাম বস্তু যা অনেকে নগন্য ভাবে, পৃষ্টা -৬৫ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29528917 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29528917 2012-01-25 11:28:12
দুই ভাইসহ তিন খুনের দায়ে আগামী ৩০ জানুয়ারী দুবাইতে দুই বাংলাদেশীর শিরচ্ছেদ করা হবে
আগামী ৩০ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুইভাইসহ তিন খুনের দায়ে দুই প্রবাসী বাংলাদেশীর শিরচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদ কার্যকর করা হবে। জানা গেছে,

গত বছরের ২মে ইউএইএর রাস আল খাইমায় ফটিকছড়ির সুন্দরপুর ইউপির ছোট ছিলোনীয়া গ্রামের মৃত মো. শফির পুত্র দুই সহোদর মোহাম্মদ আইয়ুব (২৮) ও মোহাম্মদ তৈয়ব(২৫) কে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ দায়রা পাড়ার জনৈক মো. হারুনুর রশিদ ঘুমন্ত অবস্থায় জবাই করে হত্যা করে।

অপরদিকে, উপজেলার মাইজভান্ডার গ্রামের জনৈক কামাল উদ্দিনের পুত্র জামাল উদ্দিন (২৬) কে একই গ্রামের জনৈক হাজী আমির হামজার ছেলে শাহাব উদ্দিন ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর ঘুমন্ত অবস্থায় দুবাইতে তিন টুকরা করে হত্যা করে।

সেদেশের পুলিশ উক্ত তিন খুনের দুই আসামি মো. হারুনুর রশিদ ও সাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। সেদেশের বিচারে তাদের শিরচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদা দেশ দেয়া হয়।

আগামী ৩০জানুয়ারি এদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার দিন ধার্য্য করা হয়েছে।

বিষয়টি জেনে ইউএই তে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষার লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে খুনীদের ক্ষমা করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

সেই অনুযায়ী গতকাল রবিবার (২২জানুয়ারি) ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, ইউএনও অঞ্জনা খান মজলিশ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করেন। কিন্ত নিহত আইয়ুবের স্ত্রী নুরসাত জাহান মুক্তাসহ দুই পরিবারের কোন সদস্যই খুনীদের ক্ষমা করতে রাজি না হয়ে মৃতু্যদ বহাল রাখার পক্ষে কাগজে স্বাক্ষর করেন। ফলে নির্ধারিত দিনেই তাদের মৃতু্যদ কার্যকর করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সুত্রঃ
দৈনিক পূর্বকোণ (চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত)
Click This Link ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29527638 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29527638 2012-01-23 11:34:02
সাবধানঃ------ইন্টারনেটে আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা--
ইন্টারনেট একটি মুক্ত জায়গা। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট, ব্লগ, অনলাইন ফোরামগুলো পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করার পথটি আরো সহজ করে দিয়েছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই সেবাগুলো বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। তাই ব্যবহারকারীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।

এসব সাইটে অনেকেই খুঁজে পান পুরনো দিনের বন্ধুদের, সেই সাথে নতুন নতুন বন্ধু পাওয়ার সুযোগ তো আছেই। তবে সহজ যোগাযোগের কারণে বর্তমানে বিপদও ঘটছে অনেক।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তাঃ

ইন্টারনেটে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা।

ক. সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে প্রাসঙ্গিকভাবে ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে থাকেন। তবে আপনার বন্ধুর তালিকায় নতুন কারা যুক্ত হচ্ছেন লক্ষ্য রাখতে হবে।

খ. সেই সাথে আপনার প্রোফাইলের কোন অংশটি কাদের জন্য উন্মুক্ত করবেন সেটিও সঠিকভাবে নির্ধারণ করে দিলে আপনি কিছুটা হলেও নিরাপদ থাকতে পারবেন।

গ. আপনার পারিবারিক ছবিগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করা থেকে বিরত থাকুন।

ঘ. বর্তমানে ছবি আদান-প্রদানের জন্য ফ্লিকার এবং পিকাসা বেশ জনপ্রিয় ছবি শেয়ারিং সাইট। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে আপনার ছবিটি ডাউনলোড করতে পারবে কি না, সেটিও নির্ধারণ করে দিতে পারেন।

ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারীঃ

১. ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তুলে পরে ব্ল্যাকমেইল করা বা সেই ছবি ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনা বর্তমানে অহরহ ঘটছে। তবে এ ক্ষেত্রে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মেয়েরাই।

২. মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কারোরই ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে পড়তে পারে। ছড়িয়ে পড়ছেও। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েরা ভিকটিম হওয়ায় যত দ্রুত সম্ভব সামাজিক কারণে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়।

৩. ইন্টারনেটের ওয়েবসাইট থেকে ছবি হয়তো অপসারণ করা যায় দ্রুতই, কিন্তু মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে অসংখ্য কম্পিউটার, মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়ে ওয়াইফাই ব্লুটুথের মতো প্রযুক্তির কল্যাণে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29522739 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29522739 2012-01-15 13:37:06
ফ্রি টিপসঃ========শিশুর মানসিক বিকাশে======== শিশুর মানসিক বিকাশে

প্রাকৃতিক ভাবেই একটি শিশু বেড়ে ওঠে, বেড়ে ওঠে তার মেধা ও মনন। শিশুর এই মানসিক বিকাশ অনেকখানিই নির্ভর করে তার পরিচর্যার উপর। শিশুর সুষ্ঠু মানসিক বিকাশে অভিভাবকদেরও তাই কিছু দায়িত্ব ও করণীয় আছে।

১. দুষ্টমি করাই শিশুর স্বাভাবিক ধর্ম। তাকে সারাক্ষণ কড়া শাসনের মধ্যে রাখবেন না।

২. সুস্থ ও স্বাভাবিক শিশু স্বভাবতই চঞ্চল। তাকে প্রতিনিয়ত উত্সাহ দিন এবং শক্তি ও সাহস যোগান। অহেতুক ভয় দেখিয়ে তাকে ভীত করে তুলবেন না।

৩. শিশুকে বইয়ের বিভিন্ন ছবি দেখিয়ে গল্প বলুন। তাকে ছবির বই এর বিভিন্ন প্রাণী, ফুল, ফল এবং প্রাকৃতিক জিনিসের নাম, রং চিনিয়ে দিন।

৪. শিশুর মনে সারাক্ষণই নানা প্রশ্ন উঁকি দেয়। তার সকল কৌতুহলী প্রশ্ন এড়িয়ে যাবেন না, উত্তর দিন বুদ্ধি খাটিয়ে। ধমক দিবেন না।

৫. শিশুকে নিয়ে প্রতিদিন কিছুক্ষণের জন্য বেড়াতে বের হোন এবং চারপাশের সবকিছু সম্পর্কে তার সাথে কথা বলুন।

৬. শিশু সঠিক কাজ করলে তাকে প্রশংসা করুন এবং তাকে উত্সাহিত করুন আর ভুল কিছু করলে বকাবকি না করে বা শাস্তি না দিয়ে তাকে ভালভাবে বুঝিয়ে ভুলটি ধরিয়ে দিন।

৭. শিশুকে খুব বেশী পরনির্ভরশীল করবেন না।

৮. শিশুর সামনে ঝগড়া ঝাটি, কান্নাকাটি, জিনিস ছুঁড়ে শব্দ করা, বকা বা মারধোর করা ইত্যাদি করা থেকে দূরে থাকুন।

৯. লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুকে খেলাধুলা বা অন্যকিছুতে উত্সাহ দিন। তার হাতে পেন্সিল, কাগজ দিয়ে ছবি আঁঁকা শেখান। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29517952 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29517952 2012-01-07 13:36:56
কৌতুকঃ--------কে I love you আবিস্কার করেছে?
শিক্ষকঃ কে I love you আবিস্কার করেছে?

ছাত্রঃ চায়না কোম্পানী।

শিক্ষকঃ (অবাক হয়ে) কিভাবে বুঝলে বাবা?

ছাত্রঃ এইটার কোন Guarantee নাই, Quality ও নাই।

.
.
টিকলে সারা জীবন টিকে, না টিকলে দুইদিন ও টিকে না।

নেট থেকে--------------------------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29515535 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29515535 2012-01-03 18:57:56
দাম্পত্য জীবনঃ---সুখী দাম্পত্য জীবন গঠনে মা-বোনদের প্রতি কতিপয় মূল্যবান উপদেশ
সুখী দাম্পত্য জীবন গঠনে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ভূমিকা থাকে। আর এটা সব সময় এক রকম থাকে না। কখনো কমে কখনো বাড়ে। সেটা আল্লাহর রহমতের পর নির্ভর করে তাদের উভয়ের চেষ্টার উপর। কিন্তু স্ত্রী এ ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। আরবী সাহিত্য জগতের সাহিত্য ও বাগ্মিতায় একজন প্রসিদ্ধ নারী উমামা বিনতে হারেস (আউফ ইবনে মুহাল্লাম আশ শায়বানীর স্ত্রী) তার মেয়েকে বিয়ের পর অতি গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় উপদেশ দিয়ে ছিলেন যা আরবদের মাঝে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। পাঠকদের উদ্দেশ্যে সে উপদেশগুলোর অনুবাদ তুলে ধরা হল। সেই সাথে আধুনিক যুগের একজন প্রসিদ্ধ দাঈ এবং আলেম স্বামীর ভালবাসা অর্জনের জন্য স্ত্রীর প্রতি বেশ কিছু মূল্যবান উপদেশ দিয়েছেন সেগুলোও উপস্থাপন করা হল। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে যেন সব সময় কল্যাণের উপর অটুট রাখেন। আমীন। বিস্তারিত পড়ুন

এক আরব মা তার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর উপদেশ দিচ্ছেন:

উমামা বিনতে হারেছ নিজ কন্যার বিবাহের সময় তাকে এমন কিছু নসীহত করেন যা শুধু মেয়ের জন্যই নয়; বরং পরবর্তী সমস্ত নারীর জন্য মাইল ফলক হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে।

তিনি মেয়েকে লক্ষ্য করে বলেন, ওহে আমার কলিজার টুকরা মেয়ে! আজ তুমি নিজের পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বান্ধবী ও প্রতিবেশী থেকে বিচ্ছন্ন হয়ে এমন এক অপরিচিত পরিবেশে এমন এক অপরিচিত ব্যক্তির নিকট গমণ করছো যেখানেই রয়েছে তোমার আসল ঠিকানা সেই ব্যক্তিই তোমার প্রকৃত বন্ধু সাথী ও কল্যাণকামী। তুমি ওখানের আচার-আচরণ ও পরিবেশ সম্পর্কে মোটেও অবগত নও। তুমি যদি স্বামীর দাসী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পার, তবে দেখবে সেও তোমার দাসে পরিণত হয়েছে।

এই মূহুর্তে আমি তোমাকে কতিপয় নসীহত করছি। আল্লাহ চাহে তো এগুলো তোমার জীবনের সাফল্য ও সুখি দাম্পত্য জীবনের জন্য পাথেয় হবে।

১) স্বামীর প্রতি বিনীত থাকবে এবং অল্পতেই তার উপর সন্তুষ্ট হবে।

২) ভালভাবে তার কথা শুনবে ও মানবে।

৩) -৪) তার চোখ ও নাকের পসন্দের প্রতি লক্ষ্য রাখবে। তোমাকে যেন কখনো খারাপ দৃশ্যে সে না দেখে এবং তোমার নিকট থেকে কখনো যেন সর্বোত্তম সুগন্ধি ছাড়া অন্য কিছু না পায়।

৫)-৬) তার খাওয়া দাওয়া ও নিদ্রার বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখবে। কেননা ক্ষুধা ও অনিদ্রা মানুষকে বদমেজাজী ও ক্রোধাম্বিত করে তোলে।

৭) তার ধন-সম্পদের রক্ষণা-বেক্ষণ করবে। হিসাবের সাথে পরিমাণমত তার সম্পদ খরচ করবে।

৮) তার পরিবার-পরিজন ও দাস-দাসীর দেখাশোনা করবে। উত্তমভাবে মনযোগসহকারে তার সন্তান-সন্তুানতিকে লালন-পালন করবে।

৯) তার কোন গোপন বিষয় ফাঁস করবে না ও তার নাফরমানী করবে না। কেননা তার গোপন তথ্য ফাঁস করে দিলে একদিন সে তোমাকে ধোঁকা দিবে। অবাধ্য হলে তার বুকে আগুন জ্বালাবে তাকে ক্রোধাম্বিত করবে।

১০) তুমি কাঙ্খিত লক্ষ্যে কখনই পৌঁছতে পারবে না যে পর্যন- তার সন'ষ্টিকে নিজের সন্তুষ্টির উপর সন্তান না দিবে, তার পছন্দ-অপছন্দকে নিজের পছন্দ-অপছন্দের উপর সন্তান না দিবে।

স্বামীর প্রতি ভালবাসা বৃদ্ধির জন্য স্ত্রীকে কতিপয় উপদেশঃ

শায়খ ইবনু জুবাইলান স্বামীর ভালবাসা ও প্রীতি অর্জন করার জন্য নারীদেরকে উদ্দেশ্যে করে কিছু নসীহত করেছেন। তা নিম্নরূপঃ

১) বিভিন্ন উপলক্ষে স্বামীর হাতে কপালে চুম্বন করা।

২) স্বামী বাইরে থেকে এলে সাথে সাথে স্বাগতম জানানোর জন্য দরজায় এগিয়ে আসা। তার হাতে কোন বস' থাকলে তা নিজের হাতে নেয়ার চেষ্টা করা।

৩) সময় ও মেজাজ বুঝে স্বামীর সামনে প্রেম-ভালবাসা মিশ্রিত বাক্যালাপ করা। তার সামনে তার প্রশংসা করা। সম্মান ও শ্রদ্ধা মূলক আচরণ করা।

৪) স্বামীর পোশাক-আশাকের পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। (পরিচ্ছন্ন পুরুষ মানেই তার স্ত্রী পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন)। রান্নার ক্ষেত্রে স্বামী যা পছন্দ করেন তা নিজ হাতে প্রস্তুত করতে সচেষ্ট থাকা।

৫) সর্বদা স্বামীর সামনে হাসি মুখে থাকা।

৬) স্বামীর জন্য নিজেকে সুসজ্জিত রাখা। শরীরে দুর্গন্ধ থাকলে বা রান্না ঘরের পোষাকে তার সম্মুখে না যাওয়া। মাসিক ঋতুর সময়ও সুসজ্জিত অবস্থায় থাকা।

৭) স্বামীর সামনে কখনই নিজের কন্ঠকে উঁচু না করা। নারীর সৌন্দর্য তার নম্র কন্ঠে।

৮) সন্তানদের সামনে স্বামীর প্রশংসা ও গুণগান করা।

৯) নিজের এবং স্বামীর পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনের সামনে আল্লাহর কৃতজ্ঞতার সাথে সাথে স্বামীর প্রশংসা করা ও তার শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরা। কখনই তার বিরুদ্ধে তাদের নিকট অভিযোগ করবে না।

১০) সুযোগ বুঝে স্বামীকে নিজ হাতে লোকমা তুলে খাওয়ানো।

১১) কখনো স্বামীর আভ্যন-রীন গোপন বিষয় অনুসন্ধান না করা। কেননা কুরআনে আল্লাহ্‌ বলেন, ((ولا تجسسوا)) “তোমরা কারো গোপন বিষয় অনুসন্ধান কর না। (সূরা হুজুরাত -১৩) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা কারো প্রতি কুধারণা থেকে বেঁচে থাক। কেননা ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা।

১২) স্বামী কখনো রাগম্বিত হলে চুপ থাকার চেষ্টা করা। সম্ভব হলে তার রাগ থামানোর চেষ্টা করা। যদি সে নাহক রেগে থাকে তবে অন্য সময় তার মেজাজ বুঝে সমঝোতার ব্যবসন্তা করা।

১৩) স্বামীর মাতাকে নিজের পক্ষ থেকে (সাধ্যানুযায়ী) কিছু হাদিয়া-উপহার প্রদান করা।

১৪) সম্পদশালী হয়ে থাকলে স্বামীর অভাব অনটনের সময় তাকে সহযোগিতা করা। উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আমার স্বামী) আবু সালামার সন্তানদের জন্য যদি আমি অর্থ ব্যয় করি তবে কি তাতে আমি প্রতিদান পাব। ওদেরকে তো এভাবে ছেড়ে দিতে পারি না। ওরা তো আমারও সন্তান। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি যে পরিমাণ তাদের জন্য সম্পদ খরচ করবে, তোমাকে তার প্রতিদান দেয়া হবে। (বুখারী ও মুসলিম)

১৫) স্বামীর নির্দেশ পালন, তার এবং তার সংসারের খেদমত প্রভৃতির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশা করা।

পরিশেষে দুয়া করি, আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদেরকে পরিবারগুলোকে যে সুখ-সম্ভারে ভরে দেন এবং সেখান থেকে সকল অশান্তি দূর করে দেন। আমীন।

মূল লেখকঃ
আব্দুল্লাহিল হাদী
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29513582 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29513582 2011-12-31 20:50:40
উচ্চ রক্তচাপ এর খুঁটিনাটিঃ বাঁচতে হরে জানতে হবে-----------
রক্তচাপ কী?
রক্ত চলাচলের সময় রক্তনালিতে যে চাপ দেয়, তাকেই রক্তচাপ বলে।

 উচ্চ রক্তচাপ কী?

রক্তচাপ ধমনি, শিরা তথা রক্তনালির আকারের ওপর নির্ভর করে, আর রক্তনালি সংকীর্ণতর হলে শরীরের বিভিন্ন অংশে একই পরিমাণে রক্ত সরবরাহের জন্য হৃদপিণ্ডকে অপেক্ষাকৃত বেশি কাজ করতে হয়। এ রকম অবস্থায় হৃদপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ দিয়ে রক্ত সরবরাহ বজায় রাখতে হয়। আর এ বেশি চাপ দেওয়ার অবস্থাকেই উচ্চ রক্তচাপ বলে।

 উচ্চ রক্তচাপ কী কী কারণে হতে পারে?

৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয়। পুরুষের উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা ও প্রকটতা নারীদের চেয়ে বেশি।

গর্ভকালীন ও জন্মনিরোধক ওষুধ গ্রহণকালে নারীদের উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। যাঁদের ওজন উচ্চতার তুলনায় বেশি, তাঁদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কাও বেশি। পরিবারে কোনো আত্মীয়ের (যেমন: বাবা-মা) উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও উচ্চ রক্তচাপ রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

 উচ্চ রক্তচাপ আমাদের শরীরে কী ক্ষতি করে?

উচ্চ রক্তচাপ জীবনের হুমকিস্বরূপ। উচ্চ রক্তচাপ আমাদের শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে যেসব সমস্যা হয় তা হলো—

১. স্ট্রোক (মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ),
২. হার্ট অ্যাটাক,
৩. হার্ট ফেইলর,
৪. কিডনির ফেইলর হওয়ার আশঙ্কা থাকে,
৫. চোখের রক্তনালির ক্রমাগত চাপ বাড়ে ও তা স্ফীত হয়ে যায়,
৬. রক্তনালির বাইরে দেয়ালে ক্ষত সৃষ্টি ও শক্ত হওয়া,
৭. রক্তনালির ভেতরের দেয়ালে চর্বি ও অন্যান্য পদার্থ জমে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং
৮. যৌনকাজে অক্ষমতা।

 উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ কী কী?

৫০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা যায় না এবং অন্য কারণে চিকিত্সকের কাছে গিয়ে প্রেশার মাপার পর সহসা উচ্চ রক্তচাপের উপস্থিতি জানা যায়—

১. মাথাব্যথা: তীব্র মাথাব্যথা, সকালের দিকে হয়, অল্প কয়েক দিন ধরে হয়, বমি বমি ভাব, ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে আসে;
২. মাথা ঝিমঝিম ভাব;
৩. ঘুম কম হওয়া;
৪. শ্বাসকষ্ট এবং
৫. নাক দিয়ে রক্ত পড়া।

 উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জীবনব্যবস্থায় কী কী পরিবর্তন করতে হয়?

=আজীবন চিকিত্সা চালিয়ে যেতে হবে।

=সুস্থবোধ করলেই চিকিৎসা বাদ দেওয়া যাবে না।

=ওজন কমাতে হবে।

=খাদ্যতালিকায়—অতিরিক্ত সোডিয়াম লবণ, চর্বিযুক্ত মাংস, কোলেস্টেরলসমৃদ্ধ খাদ্য বর্জন করতে হবে।

=বিশ্রাম নিতে হবে—ঘুমের মাধ্যমে, যোগব্যায়ামের মাধ্যমে কিংবা সবকিছু সহজভাবে গ্রহণ করে বিশ্রাম নেওয়া যাবে।

=ব্যায়াম করতে হবে, তবে অতিরিক্ত ব্যায়াম করা যাবে না এবং ক্লান্ত হওয়ার আগেই ব্যায়াম বন্ধ করতে হবে।

=নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে, ডায়াবেটিস থাকলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

=নির্দিষ্ট সময় পর পর চিকিত্সকের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে হবে, ধূমপান বন্ধ করতে হবে।

 উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কি প্রতিদিন প্রেশার মাপতে হবে?

না, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে প্রতিদিন প্রেশার মাপার প্রয়োজন নেই। প্রেশার অনিয়ন্ত্রিত থাকলে প্রথম দিকে এক দিন পর পর, পরে সপ্তাহে এক দিন এবং পরবর্তী সময়ে দুই সপ্তাহে একবার বা মাসে একবার প্রেশার মাপা উচিত।

 উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কী কী পরীক্ষার প্রয়োজন আছে?

উচ্চ রক্তচাপ থাকলে উচ্চ রক্তচাপের কারণ নির্ণয় করার জন্য এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রভাব দেখার জন্য কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন আছে।

 উচ্চ রক্তচাপের কারণে হূদেরাগ হলে কী কী পরীক্ষার প্রয়োজন?

উচ্চ রক্তচাপের কারণে হূদেরাগ হলে হূদেরাগের মাত্রা নিরূপণের জন্য ইসিজি, ইকো (কালার ডপলার) ইটিটি, সিএক্সআর, পি/এ ভিউ পরীক্ষাগুলো করা প্রয়োজন।

 উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে হূদেরাগ থাকলে কী কী ওষুধ ব্যবহার করা যায়?

উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে অর্থাত্ হৃদপিণ্ডের রক্তনালিতে ব্লক থাকলে আমরা অ্যাসপিরিন-জাতীয় ওষুধ, বিটা ব্লকার ওষুধ, নাইট্রেট-জাতীয় ওষুধ স্ট্যাটিন গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করি।

 উচ্চ রক্তচাপ ও হূদেরাগ, যেমন—হাইপারটেনসিভ হার্ট ডিজিজ অর্থাত্ হৃদপিণ্ডের দেয়াল মোটা হলে কী কী ওষুধ ব্যবহার করা যায়।
উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে হৃদপিণ্ডের দেয়াল মোটা হলে আমরা এসিই ইনহিবিটর বা এ আর বি গ্রুপের ওষুধ দিই।

মো. তৌফিকুর রহমান
সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি),
মেডিসিন, হৃদরোগ ও বাতজ্বর বিশেষজ্ঞ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29512115 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29512115 2011-12-29 13:14:30
দাম্পত্য জীবনঃ----বিয়ের পরে------------(মুসলিম পরিবারের পুরুষদের জন্য)
১. প্রথমে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) কে তারপর মা-বাবাকে তারপর বউকে ভালবাসুন।

২. বউয়ের সাথে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হবেন না। হাসি-মুখে তার সকল আবদার পুরুন করার চেষ্টা করুন। বউকে সবসময় উপহার দিন।

৩. ছুটির দিনে বউয়ের সাথে আপনার মা-বাবা, ভাই-বোনদেরকেও সাথে নিয়ে ভ্রমন করুন।

৪. প্রথমে নিজের ভাই-বোনদের প্রতি যত্নবান হোন, তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করুন। তাদের পড়ালেখার দিকে খেয়াল রাখুন।

৫. বিয়ের পর জামাইরা নিজের ভাই-বোনদের অবহেলা করে থাকে। শালা-শালীদেরকে বেশী গুরত্ব দিয়ে থাকে।

৬. প্রথমে আপনার বেকার ভাইকে চাকরী দিয়ে বা ব্যবসায় আর্থিক সহযোগিতা করুন তারপর শালাকে ও প্রতিষ্টিত করুন।

৭. নিজের মা-বাবাকে শ্রদ্ধা করুন ও শাশুর-শাশুড়ীকেও যথাযথ সস্মান করুন।

৮. বউকে যৌতুকের জন্য মারধর করবেন না, শাশুর বাড়ী থেকে কোন কিছু পাওয়ার আশা না করে নিজের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে সংসার পরিচালনা করুন।

৯. কখনও বউকে আগের প্রেম-পিরিতের কথা বলবেন না। তাতে করে বউ অনেক কষ্ট পাবে, আপনার প্রতি বিশ্বাস হারাবে।

১০. কখনও বউয়ের সাথে মিথ্যা কথা বলবেন না, সব সময় সত্য কথা বলুন। তাতে করে সত্যর জয় হবে।

১১. বউয়ের সামনে সিগারেট খাবেন না। কারণ বেশীর ভাগ বউরা সিগারেট পছন্দ করে না।

১২. বউকে সবসময় নামায পড়তে, কোরআন শরীফ ও হাদীস শরীফ পড়তে বলবেন। অবসব সময়ে দুজনেই পড়াশুনা করুন।

১৩. আপনার উপার্জিত অর্থ বউকে না দিয়ে আপনার মা-বাবার হাতে তুলে দিন ।

১৪. সংসারে কোন গুরত্বপূর্ন কাজ বা সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হলে প্রথমে মা-বাবা তারপর বউকে শেয়ার করুন।

১৫. আপনার বৃদ্ধ মা-বাবাকে সেবা করতে বউকে সবসময় তাকিদ করুন।

১৬ . একটি সংসারকে গতিশীল রাখতে নারীর চাইতে পুরুষদের অবদান অনেক বেশী।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29511375 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29511375 2011-12-28 10:33:43
হেলথ টিপসঃ---------- কেন ঘুমের প্রয়োজন হয়? রাতে ভালো ঘুম হওয়ার সাথে ভালো স্বাস্থ্যের একটা বিষয় জড়িত। যাদের ঘুম হয় না তারা কখনোই দাবি করতে পারেন না তারা সুস্থ আছেন। বহু গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম না হলে বা অনিদ্রা হলে মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ে। অন্য কথায় ঘুম আপনাকে যে কোনো প্রকার অসুস্থতা থেকে শতকরা ৫০ ভাগ সুস্থ করে তোলে।

কেন ঘুমের প্রয়োজন হয়?

ঘুমের প্রয়োজনীয়তা প্রতি ২৪ ঘন্টায় অন্তত একবার উপলব্ধি করতে হয়। এটি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এটি স্বাস্থ্য এবং আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে। অনেক তত্ত্বই উপস্থাপিত হয় যে কেন ঘুম দরকার। তবে সঠিকভাবে বলতে গেলে ঘুম ছাড়া মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য টিকে থাকতে পারে না।

কতটুকু ঘুম প্রয়োজন?

একেকজনের শরীরের চাহিদার ওপর এটা নির্ভর করে। কেউ কেউ আছেন যাদের দিনে রাতে পাঁচ ঘন্টা ঘুমই যথেষ্ঠ বলে মনে করেন। আবার কারো কারো ১৫/১৬ ঘন্টা না ঘুমালে শরীরে এবং মনে অসুস্থতার সৃষ্টি হয়। তবে ভালো নিশ্ছিদ্র ঘুম হলে আট ঘন্টাই যথেষ্ঠ এবং এতোটুকুই যে কারও শরীরের জন্য ভালো।

রাতের ভালো ঘুম

রাতের ঘুম নিশ্ছিদ্র হওয়া বাঞ্ছনীয়। তা না হলে পরবর্তী দিনে আপনি শারীরিকভাবে নিজেকে অবসন্ন ভাবতে পারেন। বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন রকমের ঘুমের অভ্যাস থাকে। অনেকেই এবং অধিকাংশই ৮ ঘন্টার দৈনন্দিন ঘুমকে উপযুক্ত এবং যথেষ্ঠ মনে করেন। কিন্তু আপনার যতক্ষণ প্রয়োজন ততোক্ষণ ঘুমানোই কিন্তু আদর্শ।

রাতের ভালো ঘুম মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। তা না হলে দিনের বেলায় যে কোনো কাজ কর্মে আপনি মনোযোগী হতে ব্যর্থ হবেন। কেননা ঘুম না হলে মানসিক উদ্বিগ্নতা বেড়ে যায়। কাজেই রাতের ঘুমের প্রতি যত্নশীল এবং সতর্ক থাকা উচিত।

অনিদ্রা কি?

কোনো কোনো সময় সবারই ঘুমের একটা সমস্যা চলে। প্রায়শই এটা সাধারণ এবং ছোট ঘটনা বলে এটি তেমন গুরুত্ব পায় না। কিন্তু ক্রমাগত এই সমস্যা চলতে থাকলে এটি ক্রনিক হয়ে দাঁড়ায় এবং তখন এটি অসুখে পরিণত হয়। ক্রমাগত ঘুম না হওয়ার এই অসুখের নাম ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা।

মূলত তিন ধরনের অনিদ্রা রয়েছে- স্বল্পকালীন, ক্ষণস্থায়ী এবং ক্রনিক।

স্বল্পকালীন অনিদ্রার নানা কারণ দায়ী। যেমন- ডিভোর্স, চাকরিতে সমস্যা, গুরুত্বপূর্ণ অসুস্থতা, টাকার সমস্যা বা কোনো আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবের মৃত্যুজনিত কোনো শোকের জন্য ঘুম না হওয়া।

আবার ক্ষণক্ষায়ী অনিদ্রার জন্য ঘুমের সময় বা স্থানের কিছু পরিবর্তন, অধিক চিত্তচাঞ্চল্য বা অসুস্থতা দায়ী। আর ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রার জন্য নানান ডাক্তারি কারণ জড়িত থাকে।
অনিদ্রার কিছু কারণ

জীবনযাত্রার বিষয়ে
অনেকে প্রচুর পরিমাণে মদ্যপানে অভ্যস্ত থাকে যার ফলে অনিদ্রার সৃষ্টি হয়। অনেক সময় ক্যাফেইন গ্রহণ করলেও রাতে ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে।

পরিবেশগত বিষয়ে
কোলাহল এবং প্রতিবেশীর টেলিভিশন বা গানের আওয়াজ, উচ্চশব্দে গাড়ি চলাচল ইত্যাদি কারণে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

শারীরিক বিষয়ে
আর্থ্রাইটিস, বুকজ্বালা, নারীদের ঋতুকাল, মাথাব্যথা ইত্যাদি শারীরিক সমস্যাতেও ঘুমের ব্যাঘাত হতে পারে।

মনোদৈহিক বিষয়ে
মানসিক অবসাদ ঘুম না হবার প্রধান কারণ। এটি একটি মনোদৈহিক সমস্যা। মানসিক অবসাদ ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

রাতে ভালো ঘুমের জন্য কিছু বিশেষ টিপসঃ

যতটুকু ঘুমে আপনি সন্তুষ্ট ততটুকু ঘুমান ।

প্রতিদিন ঘুমের একটা নির্দিষ্ট সময় বের করুন ।

ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত কাজ করবেন না।

অযাচিত কোলাহল এবং আলো অপছন্দ করুন।

ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যাবেন না।

সন্ধ্যার সময়ে ক্যাফেইন পরিত্যাগ করুন।

এ্যালকোহল পানে বিরত থাকুন।

সন্ধ্যার সময়ে ধমপান করবেন না।

কর্মমুখর জীবনযাপন করুন।

ঘুম নিয়ে সমস্যা হলেই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ঘুম, এটা কোনো স্বপ্ন নয়

দীর্ঘদিনের অনিদ্রা অনেকের মনে ভয়াবহ রকমের দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করে। তারা একটু নিশ্ছিদ্র ঘুমের জন্য উতলা হয়ে পড়ে। মনে রাখবেন, অধিকাংশ ঘুমের সমস্যাই সাময়িক। আপনি নিজের প্রতি একটু যত্নবান হলেই এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবেন। ডাক্তারের কাছে পরামর্শ গ্রহণ করলে আপনি এ ব্যাপারে আরো বেশি জানতে পারবেন এবং আপনার কাছে ঘুমকে স্বপ্নের মতো মনে হবে না।

সুত্রঃ
http://www.khobor24.com/?p=13568 ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29510806 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29510806 2011-12-27 11:14:04
কক্সবাজারে ইয়াবার আসর থেকে নায়িকা সিলভিয়া প্রযোজকসহ ৪ জন গ্রেপ্তার (আমরা এদেরকে পুরস্কিত করি কেন?)
কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল বে-ভিউতে জমজমাট ইয়াবা আসরে অভিযান চালিয়ে ৩২পিস ইয়াবা টেবলেট উদ্ধার, সেবনের উপকরণসহ চিত্রনায়িকা সিলভিয়া আজমী ও প্রযোজক জিএম সরওয়ারসহ ৪জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব সদস্যরা। র‍্যাব কক্সবাজার ক্যাম্পের একটি দল মঙ্গলবার ভোর রাত তিনটায় হোটেল বে-ভিউতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটকের পর তাদেরকে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি বদরুল আলম তালুকদার জানান, ঘটনার ব্যাপারে আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলা রুজু করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলায় আটককৃত আসামিরা হচ্ছে, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল এ্যামিউজিমেন্ট ক্লাবের চেয়ারম্যান ও চলচ্চিত্র প্রযোজক দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের হাজী নঈমুদ্দিন নয়ন মিয়ার পুত্র জিএম সরওয়ার যাত্রাবাড়ীর মৃত কাজী আবদুর রহিমের পুত্র কাজী জামাল, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের মৃত ওয়াজেদ মিয়ার পুত্র দেলোয়ার হোসেন এবং শান্তিনগর এলাকার জহুরুল ইসলাম'র কন্যা চিত্র নায়িকা সিলভিয়া আজমী।

=================================

আমরা এদেরকে পুরস্কিত করি কেন?

প্রতিবছর বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বা প্রতিষ্টান সমাজে-রাষ্টে বিশেষ অবদান রাখার জন্য এওয়্যার্ড দিয়ে আসছে। ক্রেষ্টসহ অর্থ পুরস্কার দিয়ে তাদেরকে সম্মানিত করছে। ঝাঁকজমক অনুষ্টান করতে গিয়ে বিপুল অর্থের অপচয় করছে। আর এই অনুষ্টান দেখার জন্য কোটি কোটি দর্শক ষ্টেজ ও টিভির সামনে বসে থাকে। পুরস্কিতদেরকে হাত তালি দিয়ে বরণ করে নেয়। যেসব ক্যাটাগরীতে পুরস্কার দেয়া হয় তা হলঃ শ্রেষ্ট নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, অভিনেতা- অভিনেত্রী, শ্রেষ্ট পরিচালক, শ্রেষ্ট পুরুষ মডেল, শ্রেষ্ট নারী মডেল, শ্রেষ্ট নৃত্যশিল্পী, শ্রেষ্ট সংগীত পরিচালক, শ্রেষ্ট বিজ্ঞাপন, শ্রেষ্ট নির্মাতা প্রতিষ্টান ইত্যাদি ইত্যাদি।


বিনোদন জগতের শিল্পীরা হারাম টাকা উপার্জন করে পবিত্র হজ্ব পালন করে। হজ্ব পালন শেষে আবারও আগের পেশায় লিপ্ত হয়। যৌতুক-এইডস-মাদক বিরোধী মিছিলে তারা প্রথম সারিতেই থাকে। অচত তারাই মাদকসেবী, তারাই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, তারাই সংসার ভাঙছে আর গড়ছে। তারাই দেশ-বিদেশে লিভ-টুগেদার করে ঘুরে বেড়ায়।

এই বিনোদন জগতে পা বাড়িয়ে তারা সুখী জীবন যাপন করতে পারে না। সামাজিক জীবনে তাদেরকে কেউ ভাল চোখে দেখে না। তাদের সন্তানেরা ও স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে না। বিভিন্ন প্রতিষ্টান, টিভি চ্যানেল, কিছু দুষ্টচক্র তাদেরকে নিয়ে ব্যবসা করে থাকে। তাদেরকে নিয়েই সারান উম্মাদনায় মত্ত থাকে। তাদেরকে টাকা ইনকামের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তাদেরকে পন্যের বিজ্ঞাপন বানায়। তাদের শরীরকে বিকৃতভাবে উপস্থান করে যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। এইসব শিল্পীরা কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অসুস্থ হয়ে পড়লে কনসার্টের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করতে হয়। সরকারের কাছে ও বিভিন্ন প্রতিষ্টানের কাছে সাহায্য চাইতে হয়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29507084 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29507084 2011-12-21 12:55:47
দাম্পত্য জীবনঃ-------স্বামীর উত্তেজনা/বা রাগের মূহুর্তে স্ত্রীর কি করণীয়?
রাগ বা ক্রোধ ঈমানের বড় শত্রু। কারো থেকে প্রতিশোধ নেয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ের সময় যে তোলপাড় সৃষ্টি হয় তাকে ক্রোধ বলে। ক্রোধ যেমনিভাবে মানুষের ঈমান ও আত্মার শত্রু তেমনিভাবে অনিয়ন্ত্রিত ক্রোধ জীবনেরও বড় শত্রু। ক্রোধের কারণে মানুষের পশুসুলভ আত্মা সক্রিয় হয়। চেহারা বিবর্ণ হয়। শিরা-উপশিরা ফুলে যায়, মানুষ আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। যার কারণে অনায়াসে মুখে অশ্নীল কথা, অঙ্গে অশ্নীল কাজ প্রকাশ পায়। ক্রোধ একটি জ্বলন্ত অগ্নিশিখা, তাই মানুষ ক্রোধান্বিত হলে সে অগ্নি সহজে নেভে না ।

স্বামীর উত্তেজনা/বা রাগের মূহুর্তে স্ত্রীর কি করণীয়-----------------

@ আপনার স্বামী কখনও অসন্তুষ্ট হয়ে মুখ কালো করলে আপনিও তার সাথে মুখ ফুলিয়ে বসে থাকবেন না।

@ বরং তোষামোদ করে,অনুনয়-বিনয় প্রকাশ করে, হাত জোর করে যেভাবে সম্ভব তাকে খুশী করবেন।

@ ত্রুটি যদি আপনার না হয়ে স্বামীর হয়, তাহলেও তার উত্তেজনার জবাবে আপনি ও উত্তেজিত হয়ে যাবেন না।

@ বরং করজোড়ে নতি স্বীকার করে তার কাছে ক্ষমা চাওয়াকে নিজের জন্য গর্ব ও মর্যাদার বিষয় মনে করবেন।

@ আর ক্রটি যদি আপনার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তাহলে তো আপনার অসন্তুষ্ট হয়ে মুখ ফুলিয়ে রাখা চরম বোকামী ও নির্বু্দ্ধিতা ছাড়া কিছুই নয়।

@ আর এ জাতীয় আচরণের ফলেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনের দুরত্ব, মন কষাকষি ও বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়।

@ আপনার স্বামী কোন কারনে উত্তেজিত হয়ে গেলে তার মুখের উপর এমন কোন কথা বলা উচিত নয়, যার কারনে তার উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পায়।

@ উত্তেজনার বশে তিনি ভাল-মন্দ কিছূ বললে তা সহ্য করে নিবেন, এবং জবান দানে নিজেকে সম্পূর্ন নিবৃত্ত রাখবেন।

@ তিনি উত্তেজিত হয়ে অবিরাম বলতে থাকলেও নিরবে শুনে যাবেন।

@ উত্তেজনা অবদমিত হবার পর দেখবেন তিনি নিজেই আপনার কাছে লজ্জিত হবেন।

@ উপরন্তু আপনার প্রতি তার আকর্ষণ ও ভালবাসা পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে কখনও আপনার প্রতি উত্তেজিত হবেন না।

@ আর যদি স্বামীর উত্তেজনার জবাবে আপনিও উত্তেজিত হতে থাকেন, তাহলে পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটে এর ফলে শেষ পরিণতি কোথায় গিয়ে দাড়াঁবে তা বলা মুসকিল।

কোরআন ও হাদীসের আলোকে রাগ বা ক্রোধঃ

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে-রাগ সংবরণকারী এবং মানুষের ত্রুটি মার্জনাকারীদের জন্য আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা ও জান্নাত নির্ধারিত। আল্লাহ পাক সৎ কর্মশীলদের ভালবাসেন।

রাসূলে আকরাম (সাঃ) বলেন, "তোমাদের কেউ যখন রাগান্বিত হবে সে যেন ওজু করে। কেননা, রাগ শয়তানের প্ররোচনা, শয়তান আগুনের তৈরী আর আগুন নিভে যায় ঠান্ডা পানিতে (মেশকাত)।

হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, "রাগ ঈমানকে এমনভাবে ধ্বংস করে যেমন পিপুল গাছের তিক্ত রস মধুকে বিনষ্ট করে।"

রাসূল (সাঃ) আরোও বলেছেন, যে ক্রোধকে বাধা দেয় আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তার আজাবকে বাধা দেবেন।

অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে, "সে ব্যক্তি এমন শক্তিশালী নয় যে, মানুষকে ধরাশায়ী করে বরং সেই শক্তিশালী যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে।

জনৈক সাহাবী রাসূল (সাঃ) কে বললেন, আমাকে কিছু নসিহত করুন। তিনি বললেন, তুমি রাগ করোনা।

হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, আমি রসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আমাকে আলস্নাহর রাগ থেকে কিসে রক্ষা করবে? তিনি বললেন, তুমি নিজে রাগান্বিত হয়ো না। রসূল (সাঃ) বললেন, যে আপন ক্রোধ দমন করে আলস্নাহ তায়ালা তার দোষ গোপন করেন। তিনি আরো বলেন, যখন তোমাদের কেউ রাগান্বিত হয় সে যেন বসে পড়ে, এতেও যদি রাগ প্রশমিত না হয় তাহলে যেন সে শুয়ে পড়ে। (মেশকাত)

তাই---------সংসারে-রাগারাগি নয়-----------স্বামীকে ভালবাসুন---------

স্বামীর উপর আস্থা রাখুন-বিশ্বাস রাখুন-------

সুন্দর জীবন যাপন করুন----------------------


আপনাদের দাম্পত্য জীবন হোক ধন্য হাসি-খুশি আর আনন্দে পরিপূর্ন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29505915 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29505915 2011-12-19 17:04:15
আপনার স্বাস্থ্যঃ পাঁচমিশালী স্বাস্থ্য কথা
পাঁচমিশালী স্বাস্থ্য কথাঃ

আদার রসের উপকারিতাঃ

১. আদার রস খেলে আহারে রুচি আসে এবং ক্ষুধা বাড়ে।
২. আদার রসে মধু মিশিয়ে খেলে কাশি সারে।
৩. আদা মল পরিষ্কার করে।
৪. আদার রসে পেটব্যথা কমে।
৫. আদা পাকস'লী ও লিভারের শক্তি বাড়ায়।
৬. আদা স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
৭. আদার রস শরীর শীতল করে।
৮. আদা রক্তশূন্যতা দূর করে।

শীতকালে বেশি বেশি পানি পান করুনঃ

১. শীতকালে অনেকেই পানি পান কমিয়ে দেয়। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। তাই বেশি পানি পান করুন।
২. মেটাবলিজম বাড়াতে বেশি পানি পান করুন।
৩. পানির অভাবে ডিপ্রেশন বা ক্রনিক ফেটিগ সিনড্রম দেখা দিতে পারে। তাই বেশি পানি পান করুন।
৪. মাইগ্রেনের আক্রমণ কমাতে বেশি পানি পান করুন।
৫. হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে পানি পান করুন।
৬. শীতকালে অ্যাজমার প্রকোপ বাড়ে। তাই অ্যাজমার আক্রমণের সময় পানি পান করলে আরাম পাওয়া যায়।

মহিলাদের রজঃনিবৃত্তির পূর্ব লক্ষণঃ

১. মাসিক রক্তক্ষরণ অনিয়মিত হয়ে যায়। রক্তক্ষরণ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে অথবা মাঝে মাঝে একটু একটু হতে পারে। আবার রক্তক্ষরণ প্রথমে বন্ধ হয়ে কয়েক মাস পর আবার চালু হতে পারে। বেশির ভাগ মহিলার ক্ষেত্রে রজঃনিবৃত্তি ঘটে ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে।
২. হটফ্লাশ (Hotflash) বা গরমের ঝলক লাগা।
৩. ঘুমের অসুবিধা। অনেক সময় সারা রাত ঘুম আসে না।
৪. মুড পরিবর্তন, সব সময় মেজাজ খারাপ থাকা, কোনো কিছু ভালো না লাগা এবং সমান্য কোনো কারণেই ডিপ্রেসড হয়ে পড়া।
৫. যৌন অভ্যাস পরিবর্তন- বেশির ভাগ মাহিলার ক্ষেত্রে যৌন চাহিদার পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
৬. যোনিপথ কম ভেজা ও ছোট হয়ে যেতে পারে।
৭. হাড় ক্ষয়ে যাওয়া- ইস্ট্রোজেন হরমোন লেভেল কমে যাওয়ার ফলে হাড় সহজেই ক্ষয়ে যায়।
৮. কোলেস্টেরল লেভেলের পরিবর্তন- শরীরে ইস্ট্রোজেন লেভেল কমে যাওয়ার ফলে রক্তে LDL বা খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং HDL বা ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। ফলে মহিলাদের হার্টের অসুখের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৯. বুক ধড়ফড় করা।
- এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে হোমিওপ্যাথি ওষুধ গ্রহণ করুন।

ডায়াবেটিস চিনবেন কিভাবেঃ

১. গলা শুকিয়ে যাওয়া, বারবার পানি পিপাসা, পানি খেলেও পিপাসা না মেটা।
২. বারবার ক্ষুধা লাগা। কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া।
৩. চোখে দেখতে অসুবিধা।
৪. শরীরের কোথাও কেটে গেলে কিংবা আঘাত পেলে তা তাড়াতাড়ি সারে না।
৫. মেয়েদের মাসিকের সমস্যা দেখা যায়।
৬. বারবার টয়লেটে যাওয়ার প্রবণতা।
৭. ওজন অতিরিক্ত বেড়ে গেলেও ডায়াবেটিস হতে পারে।
৮. ৩৫ বছর বয়স থেকেই নিয়মিত ডায়াবেটিসের চেকআপ করা জরুরি।
৯. ডায়াবেটিস আছে কি না তা জানার জন্য ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট জরুরি। এ ছাড়া ব্লাড সুগার পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা দ্বারাও জানা যাবে আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে কি না।

শীতের সবজি মুলাঃ
১. শীতকালে কাঁচা মুলা খেলে কাজে উৎসাহ বাড়ে, খাবার সহজে হজম হয় এবং শরীরের পুষ্টি হয়।
২. মুলাশাক বেশি খেলে প্রস্র্রাব ও মল ঠিকমতো পরিষ্কার হয়।
৩. কচি মুলার সালাদ খেলে ক্ষুধা বেড়ে যায়।
৪. অর্শ রোগে মুলা খেলে উপকার পাওয়া যায়।
৫. কচি নরম মুলা শরীরের সব রকম দোষ দূর করে।

ডিপ্রেশন বুঝবেন বিভাবেঃ

১. শরীর-মন জুড়ে শুধুই ক্লান্তি। কোনো কাজে উৎসাহ না থাকা, ক্ষুধামন্দা ভাব অথবা অতি ক্ষুধা।
২. মন খারাপ। কোনো কিছু ভালো না লাগা।
৩. সব সময় ডিপ্রেসড মুড। প্রায়ই কান্না পায়। সব কিছু থেকেই আনন্দ হারিয়ে যাওয়া।
৪. অল্পতেই রেগে যাওয়া বা বিরক্ত হওয়া। খিটখিটে মেজাজ। আত্মবিশ্বাসের অভাব। অপরাধবোধে ভোগা।
৫. ঘন ঘন মৃত্যু বা আত্মহত্যার চিন্তা।
৬. মনোযোগের অভাব। মাথা ধরা। হাতপায়ে জ্বালা-যন্ত্রণা হতে পারে। সব সময় ঘুম ঘুম ভাব, কিন' কিছুতেই ঘুম আসে না।

টক দই কেন খাবেনঃ

১. দই পাকস'লীতে খাবারের পচন প্রতিরোধ করে।
২. দই পেটে গিয়ে ভিটামিন বি তৈরি করে।
৩. দই পেটের ঘা সারাতে সাহায্য করে।
৪. দই কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করে।
৫। দই অকাল বার্ধক্য ও চুলপাকা বন্ধ করে।

মনে রাখবেন, টক দই পেটকে শক্তিশালী করে। মিষ্টি দই গ্যাস তৈরি করে।

ক্যান্সারমুক্ত জীবনের জন্য ১০টি অভ্যাসঃ

১. অধিক হারে টাটকা শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন।
২. অধিক আঁশজাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।
৩. ভিটামিন এ জাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করুন।
৪. ভিটামিন সি জাতীয় খাবার অধিক গ্রহণ করুন।
৫. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন।
৬. উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।
৭. ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।
৮. পান, জর্দা, তামাক সেবন বন্ধ করুন।
৯. মদপানে বিরত থাকুন।
১০. আচার, কাসন্দ, শুঁটকি এবং লবণ দেয়া মাছ গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

গলব্লাডারে পাথরঃ

লিভারের ঠিক নিচে পেটের ওপরের দিকে গলব্লাডার থাকে। গলব্লাডার আকারে ছোট থলির মতো। লিভার থেকে নিঃসৃত পিত্তরস গলব্লাডারে এসে জমা হয়। পিত্তরস, চর্বি এবং কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাবার হজমে সাহায্য করে। পিত্তরসের উপাদানগত ভারসাম্যের তারতম্য হলেই গলব্লাডারে পাথর তৈরি হয়। পুরুষদের থেকে মেয়েদের মধ্যে গলব্লাডারের পাথরের প্রবণতা অনেক বেশি। বিভিন্ন ধরনের গলব্লাডারের মধ্যে রয়েছে কোলেস্টেরল গলস্টোন, ব্লাকপিগমেন্ট গলস্টোন এবং ব্রাউন পিগমেন্ট গলস্টোন। সাধারণভাবে গলব্লাডার পাথরের প্রধান লক্ষণ ডান দিকের ওপরের পেটে ব্যথা। ব্যথা অ্যাকিউট এবং ক্রনিক হতে পারে। অ্যাকিউট ব্যথা- আচমকা ভয়ানক যন্ত্রণা এবং ক্রনিক ব্যথা অর্থাৎ অল্প করে ব্যথা হতেই থাকে। ব্যথা শুরুর আগে বেশ কিছু লক্ষণ থাকে। যেমন- খাবারে রুচি না থাকা, গলা-বুক জ্বালা, গ্যাস, বদহজম, পেট খারাপ, বমি বমি ভাব বা বমি। এ ধরনের পূর্ব লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসার ব্যবস'া দেবেন। অন্যান্য চিকিৎসার মধ্যে হোমিওপ্যাথিতেও গলব্লাডার পাথরের জন্য ভালো চিকিৎসা রয়েছে। চিকিৎসা পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন : আইএইচএমআর, মোবা : ০১৭১২৮১৭১৪৪।

চুলপড়ার নানা কারণঃ
১. অতিরিক্ত ধূমপান,
২. অধিক সময় সূর্যের আলোতে থাকা,
৩. সুষম খাবারের অভাব,
৪. ভিটামিন ই-এর অভাব,
৫. জিংকের অভাব,
৬. হরমোনের অসামঞ্জস্যতা,
৭. বংশগত কারণ,
৮. খুশকি,
৯. মাথায় তেল না দেয়া,
১০. দুশ্চিন্তা,
১১. রাতজাগা এবং
১২. মেয়েদের সাদা স্রাব এবং মাসিকের গণ্ডগোল।

- চুলপড়া প্রতিরোধে প্রতিদিন খাবারের তালিকায় রাখুন বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফলমূল এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন।

-আইএইচএমআর ফিচার

সুত্রঃ দৈনিক নয়া দিগন্ত (১৮.১২.২০১১)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29505097 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29505097 2011-12-18 11:43:07
দাম্পত্য জীবনঃ---------দুনিয়াতে যত ধন পুরুষের আছে---সব থেকে মুল্যবান নারী তার কাছে--
কিছু শোন ওগো ভালবাসা বোন
পুরুষের কাছে নারী অমূল্য রতন।

দুনিয়াতে যত ধন পুরুষের আছে
সব থেকে মুল্যবান নারী তার কাছে।

কিন্তু সেই নারী বটে নেক হওয়া চায়
ইহ-পরকালে তবে হবে সুখময়।

দুনিয়াতে জাহান্নাম বদ নারী যার
ইহ পরকাল তার হবে ছারখার।

কষা জুতা পরে চলা যত কষ্টকর
তার থেকে বেশী কষ্ট বদ নারী যার।

====================================

জান্নাতি রমণীর কতিপয় আলামতঃ

১. জান্নাতি রমণী নেক ও পূন্যের কাজে অংশ নেয় এবং আপন পালন কর্তার ইবাদত করে তাঁর হক আদায় করে।

২. জান্নাতী রমণী এমন ক্ষেত্রে স্বামীর আনুগত্য করবে যাতে আল্লাহর নাফরমানী নেই।

৩. নিজের ইজ্জতের হেফাযত করবে -বিশেষ করে স্বামীর অনুপস্থিতিতে।

৪. স্বামীর সম্পদের হেফাযত করবে ও তার সন্তানদের সঠিক ভাবে লালন-পালন করবে।

৫. সর্বদা এমনভাবে স্বামীর সম্মুখবর্তী হবে যাতে তিনি খুশি হন এবং এ জন্য নিজের অতিরিক্ত
সৌন্দর্য ও হাসি মুখ তার সামনে প্রকাশ করতে সচেষ্ট হবে।

৬. স্বামী রাগাম্বিত হলে যে কোন প্রকারে তাকে খুশি করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করবে। কেননা সেই তার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।

৭. স্বামী তার সঙ্গ চাইলে কোনভাবেই তাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করবে না । তার ডাকে সাড়া দিবে এবং পরিপূর্ণরুপে নিজেকে তার কাছে সমর্পন করবে।

জান্নাতের অঙ্গীকারঃ

উল্লোখিত কাজগুলো করলেই প্রিয় নবিজীর ভাষায় তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করার অঙ্গীকার রয়েছে। যেমনটি তিনি এরশাদ করেনঃ
স্ত্রী যদিঃ

১. স্ত্রী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে।

২. রামাযানের সিয়াম পালন করে।

৩. নিজ লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। (ব্যভিচার প্রভৃতি থেকে বিরত থাকে।) এবং

৪. স্বামীর আনুগত্য করে।

তবে তাকে বলা হবে জান্নাতের আটটির দরজার যে কোনটি দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করে। (মুসনাদে আহমদ হা/১৫৭৩) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29504769 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29504769 2011-12-17 20:11:50
দাম্পত্য জীবনঃ---------বউমাদেরকে বলছি---------

১. একটি সংসারকে গতিশীল রাখতে পুরুষের পাশাপাশি নারীর অবদান কম নয় বরং অনেক বেশী।

২. পিতা সংসারের ব্যয়ভার বহন করেন, কিন্ত মাকে সংসারের যাবতীয় কাজের পাশাপাশি সন্তানকে স্কুলে, প্রাইভেট স্যারের বাসায় আনা-নেয়া থেকে শুরু করে সন্তানের অসুস্থতায় বিনিদ্র রজনীও হাসিমুখে পার করতে হয়।

৩. কোন ও কিছুতেই যেন মায়ের ক্লান্তি নেই। শত অভাবে ও সব সময় সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে ও তাদের চাহিদা পূরণ করতে ব্যস্ত থাকেন।

৪. সবচেয়ে ভালো জিনিষটি সন্তানের মুখে তুলে দিতে পারলে মায়ের মুখে তৃপ্তির হাসিরেখা ফুটে উঠে।

৫. স্বপ্ন দেখতে থাকেন তার সন্তান বড় হবে, ভালো রোজগার করবে, সংসারে আরো সুখ শান্তি আসবে।

৬. তারপর একদিন ঘর আলো করা বউ আসবে, বৃদ্ধ বয়সে ছেলে-ব্উয়ের সেবা-যত্নে বাকী জীবনটা পরম সুখে কাটিয়ে দেবেন।


[
কিন্তু..................................

৭. বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার চিত্র হয় উল্টো। বউ ঘরে আসার পর পাল্টাতে থাকে ছেলে, পাল্টায় ঘরের পরিবেশ। বাবা-মা, ছোট ভাই-বোন সব যেন পর হতে থাকে। অবশ্য এর ব্যতিক্রম ও আছে।
তবে বেশীর ভাগ চিত্রটা কিন্ত এমন।

৮. ছেলে বাবা-মাকে সঙ্গ দিক, তাদের প্রতি আগের মত টান থাকুক, তা সহ্য করতে পারে না বেশীর ভাগ বউ।

৯. তারা মনে করেন, স্বামীটি তার নিজস্ব সম্পতি, তার উপর বাবা-মা, ছোট ভাই-বোন কারও কোনও অধিকার নেই।

১০. বউয়ের সঙ্গে দ্বন্দ মিটাতে বাবা-মা, ভাইবোনদের কাছ থেকে দুরে চলে যান ছেলে।

১১. নিজের বাবা-মাকে বাদ দিয়ে ছেলে শ্বশুর-শাশুড়ী,শ্যালক-শালিকা নিয়ে মেতে থাকে। আর মায়ের অনেক কষ্টের সংসারে আস্তে আস্তে তার অধিকার কমতে থাকে।

১২. ভাইকে পড়াশোনা করানোর জন্য মা'র সঙ্গে যে বোনেরা সংসারে শ্রম দিয়েছে--ভাইয়ের ঘর ঘোছানো, কাপড় ধোয়া আর ও কতভাবে সেবা করেছে যে বোনেরা, স্বপ্ন দেখত ভাই লেখাপড়া শেষ করে ভালো চাকরী করে বোনদের আবদার মিটাবে, সেই আদরের ভাই হারিয়ে যায় চোখের সামনে থেকেও।

১৩. বাবা-মা, ভাই-বোনকে বাড়তি ঝামলো মনে করেন বউ-ছেলে।

১৪. একসময় বৃদ্ধ বয়সে একা হয়ে যান বাবা-মা। অনেকে বয়সের ভারে ,আর নানা রোগব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে যান। এই সময় তাদের প্রয়োজন একটু ভালবাসা, একটু মমতা, প্রিয়জনের একটু সঙ্গ।

১৫. এ সময় অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে হোমে পাঠানো হয়, কারন বউরা চান না এ ঝামেলা ঘরে রাখতে।

১৬. হোমে নিঃসঙ্গতা ও একাকিত্ব তাদের সঙ্গী হয়। প্রিয়জনকে একটু দেখার, তাদের ছোঁয়া পাওয়ার জন্য তারা ব্যাকুল হয়ে উঠেন

তাদের এ আকুলতা আমরা কি বুঝতে পারিনা?

তাই হে বাংলার বউমাদের বলছি, আজ সে যে সংসার, যে মানুষকে নিয়ে জীবন উপভোগ করছ,তার যারা কারিগর তাদের অবহেলা করোনা। তোমার বাবা-মাকে যতখানি ভালবাস তাদের প্রতিও ঠিক ততখানি ভালবাসা প্রাপ্য। তোমার সন্তানের জন্য তুমি যে কষ্ট করছ, তোমার শাশুড়ীও তোমার স্বামীর জন্য একই কষ্ট করেছেন। তাই বলছি শেষ বয়সে তাদের অবহেলা না করে একটু ভালবাস।

উপরোক্ত কথাগুলো লিখেছেন-----------একজন মা--------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29503257 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29503257 2011-12-15 11:05:04
দাম্পত্য জীবনঃ----স্বামীর উদ্দেশ্য সাজ-সজ্জা গ্রহণ...(অর্থ খরচ করবে স্বামী আর উপভোগ করবে অন্যরা?)
স্বামীর উদ্দেশ্য সাজ-সজ্জা গ্রহন করা একটি সওয়াবের কাজ। স্বামীর উদ্দেশ্য সাজ-সজ্জায় থাকার জন্য স্ত্রীর প্রতি শরীয়তে নির্দেশ রয়েছে।

বর্তমানে নারীদের অবস্থা হলো, স্বামীর সামনে তারা নোংরা অপরিছন্ন ও ময়লা কাপড় চোপড় পরে থাকে। আর বাইরে বেড়াতে যাবার সময় আপাদ-মস্তক সুসজ্জিত হয়ে যায়। কেউ স্বামীর উদ্দেশ্য সাজ-সজ্জা গ্রহন করলে সমালোচনা শুরু হয়ে যায় যে, মেয়েটির লাজ-লজ্জা বলতে কিছুই নেই- স্বামীর সামনে সে কেমন রূপ চর্চা করছে!

পরিতাপের বিষয়! যেখানে সাজ-সজ্জা গ্রহন করা উচিত সেখানে তা নিন্দনীয়। আর যেখানে
সাজ-সজ্জা গ্রহন করা উচিৎ নয় সেখানে তা প্রসংশনীয়। স্বামী যখন স্ত্রীর সাজ-সজ্জা কামনা করে তখন তা গ্রহন না করার কি যু্ক্তি থাকতে পারে?

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, মহিলারা স্বগৃহে তো বাঁদী-দাসী ও গৃহপরিচালিকার ন্যায় অপরিস্কার অপরিচ্ছন্ন্ থাকে। আর যখন কোন বিশেষ অতিথির আগমন ঘটে তখন বিভিন্ন সাজ-সজ্জায় সজ্জিত হয়ে সম্পূর্ন নববধু বনে যায়।

প্রতিটি জিনিষের একটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে। আমার প্রশ্ন, ভাল কাপড় -চোপড় পরিধানের উদ্দেশ্য কি শুধু অন্যদেরকে দেখানো? অদ্ভুত কান্ড! যাকে দেখানের জন্য এই কাপড়-চোপড় ও সাজ পোশাক তৈরী হয়েছে, যার টাকায় তৈরী বা কেনা হয়েছে, তার সামনে তা পরিধান না করে অন্যদের সামনে পরিধান করা হয়। বিষয়টা কিছুটা লজ্জাজনক হলে ও সংশোধনের প্রয়োজনের বলতে হচ্ছে।

আজকালকার স্ত্রীরা স্বামীর সাথে কখনও স্বতঃফূর্তভাবে কথা বলবে না । তার সামনে ভাল কাপড়-চোপড় পরিধান করবে না। অতচ অন্যের গৃহে গেলে সুমিষ্টভাষী বনে যাবে, সুন্দর থেকে সুন্দরতম এবং উন্নত থেকে উন্নততর সাজে সজ্জিত হবে-এ কেমন কথা? অর্থ খরচ করবে স্বামী আর উপভোগ করবে অন্যরা?

সূত্রঃ
কোরআন ও হাদীসের আলোকে পারিবারিক জীবন
মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রঃ) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29502914 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29502914 2011-12-14 20:24:21
দাম্পত্য জীবনঃ--------বিয়ে : পথ চলার অঙ্গীকার
প্রত্যেক মানুষের মাঝেই দু'টি দিক আছে। তার বুদ্ধি, বিবেক বা চিন্তাশক্তি এবং তার কিছু ইমোশন বা ফিলিংস। এই দু'টি দিক ব্যবহার করেই আমরা যে কোন জিনিস বিবেচনা করি। তবে সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তির চেয়ে বেশি ইমোশনই প্রাধান্য পায়। আর মনের এই অনুভূতিগুলো যখন কৈশোর,তারুণ্য এবং যৌবনে প্রবল হয়; ঠিক তখনি আমরা পাই লিভ টুগেদারের ধারণা, বিবাহ পূর্বক দায়বদ্ধতাযুক্ত সম্পর্কের পরিবর্তে দায়বদ্ধতাহীন প্রেম বা ভালবাসা টাইপ সম্পর্ক তৈরির অনুমোদন।

গান, ম্যাগাজিন, ইন্টারনেট, নাটক, সিনেমায় অতিরিক্ত গ্ল্যামার দিয়ে এটাই বারবার ফুটিয়ে তোলা হয়। তবে খেয়াল করি, এই প্রত্যেকটি সম্পর্কই শুধুমাত্র মানুষের জৈবিক আকাঙ্খা এবং এবং ফ্রিডম এর উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। একটা মানুষের কিছু দৈহিক এবং মানসিক চাহিদা থাকে। কিন্তু সমাজ এই চাহিদাকে পূরণের জন্য থিওরেটিকালি বিয়েকে একমাত্র মাধ্যম বললেও, সমাজের মানুষের চিন্তা ভাবনায় তার উন্মেষ ঘটানোর কোন চেষ্টা চালাচ্ছে না। বরং তার উল্টোটাকেই নীরবে সায় দিয়ে চলেছে। বেশির ভাগ ছেলেমেয়েরাই এই ধারণা নিয়ে বড় হচ্ছে, 'আমার ইচ্ছা হলে আমি সম্পর্ক করব, ইচ্ছা হলে ভেঙ্গে দিব'। মানুষকে বিশ্বাস দেয়া হয় লিমিট নির্ধারণ তার-ই হাতে। কোনটা ঠিক, কতখানি বেঠিক এটা নিজের চাইতে বেশি বুঝার আর কেউ নেই। তাই যা গতকাল ছিল নোংরা, নষ্টামি আর বেহুদাপনা; আজ তাই-ই প্রেমের মুখোশ পরে হাজির হয়।

কয়েক বছর আগেও মানুষ 'প্রেম করি' বলতে ভয় পেত। লুকিয়ে রাখত। কিন্তু আজকে অনেকগুলি প্রেম করা হল গৌরবের বিষয়। না করলেই তারা ব্যাকডেটেড, ফিলিংসলেস, অ্যাবনরমাল। তাই এখন মানুষ বরং এটা বলতেই লজ্জা পায় যে আমার বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড নাই। আর আমার বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড আছে বলতে পারা মানেই যেন আমি বিশাল কিছু 'অ্যাচিভ' করে ফেললাম। একজন ছেলে বা মেয়ের 'স্ট্যাটাস' এর মাপকাটি হয়ে দাঁড়িয়েছে তার সম্পর্ক তৈরি করতে পারার মতা।

মানুষের আত্মসম্মান বোধ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, ভাল লাগার জন্য আরেকজনের দেয়া মিথ্যা বানোয়াট কিছু মন্তব্যের উপর ভরসা করে থাকতে হয়। সমাজ শুধু বিবাহনামক বন্ধন কে বৈধতা দিলেও, প্রেম ভালবাসাকে কিন্তু অবৈধ করে দেয়নি। বরং তার দিকেই চৎড়াড়শব করছে। ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিচ্ছে সেটা ভুল নয়। তাই ছেলেমেয়েরাও সমাজের সম্মোহনী শক্তির কাছে হার মেনে প্রেম আর ভালবাসায় জড়িয়ে 'ফান' খুঁজে পাচ্ছে। ব্যক্তিস্বাধীনতা, লোভ আর স্বার্থপরতার কাছে আত্মসম্মানকে বিলিয়ে ভাবছে তারা উন্নত। তবে প্রেম ভালবাসা আর লিভ টুগেদারের সময় একজন নারীর সতীত্ব ও একজন পুরুষের ব্যক্তিত্ব কোথায় গিয়ে ঠেকে তার হিসাব সমাজ রাখে না। তখন জন্ম নেয়া একজন শিশুর বাবা-মার দায়িত্ব কে পালন করবে সে কথার উত্তরও সমাজ দেয় না। ওদের সামাজিক অবস্থান কি হবে, ভবিষ্যৎ কি তা নিয়েও সমাজ নির্বিকার। এক রকম ঝাপসা ধারণা নিয়েই নতুন প্রজন্ম এই ভয়ানক অন্ধকারের দিকে ঝাঁপ দেয়।

তারপর যখন এক সময় তাদের কামনা-বাসনার পেট কিছুটা ভরে ওঠে, তখন নিজেকে আবিষ্কার করে নর্দমার চাইতেও নোংরাতম স্থানে। আর সেখান থেকে ফিরে আসার কোন পথ খুঁজে পায় না। দায়বদ্ধতা থেকে বেঁচে থাকার এই ভ্রান্ত পথ বেছে নিতে গিয়ে কতজনের মানসিকতা নষ্ট হয়ে যায়। মানুষের উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। সবচেয়ে বড় কথা একজন মানুষ শুধু পশুর মত তার দৈহিক আর যৌন চাহিদা মেটানোকেই জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় দিক মনে করতে শুর\" করে। কিন্তু মানুষ আর পশুর মধ্যে তাহলে পার্থক্যটা কোথায় থাকল?

একজন নারীর মূল্য কি এতোই কম? শরীরের একটু আনন্দের জন্য যার-তার সাথে সম্পর্ক তৈরিতে কি করে নিশ্চয়তা পাওয়া যায় যে এটা স্থায়ী সমাধান? যেই বয়ফ্রেন্ড এর হাত ধরে ঘুরতে এত মজা লাগে তাকে স্বামী হিসেবে কেন গ্রহণ করা যায় না? এরকম সম্পর্ক কি আসলেই প্রেমের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে কিনা সেটাও একটা বিশাল প্রশ্ন। আজ যে মানুষটি সার্ভিস দিচ্ছে, কাল তার একখানা ভুলের জন্যই সম্পর্ক ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। তখন কি আমরা তার জন্য ভাবি নাকি নিজের জন্য? পুরো সম্পর্কটাই আসলে দাঁড়িয়ে আছে এক ধরনের স্বার্থপরতার উপর ভিত্তি করে, দায়িত্ববোধের ছিঁটেফোটাও সেখানে নেই। এখানে আমরা সবাই 'ড্যাম কেয়ার'। নিজের জন্য ভাবতেই বেশি আগ্রহী। আমি সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেললে কে কষ্ট পাবে সেটা নিয়ে আমার কিছু আসে-যায় না। শুধু 'আমার' ওকে ভাল লাগে, তাই 'আমি' ওর সাথে থাকতে চাই। সামনের মানুষটির চেয়ে তখন এই 'আমি' কেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। ঠিক একইভাবে সামনের মানুষটিও কিন্তু নিজেকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। 'গিভ এন্ড টেইক' এর খেলা। যার ফলাফল শূন্য। কোন ধর্ম তাই এরকম সম্পর্কের কোন অবস্থান নেই, যেখানে মানুষের সম্মানের চেয়ে বেশি স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হয়। যেখানে ভাল লাগাই সব, স্খায়িত্বের প্রসঙ্গ নেই। যেখানে চেতনা লোপ পায় আর শুধুমাত্র দেহের তৃষ্ণা, মনের আকাঙ্খা মেটাতে মানুষ পশুর মত ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এরকম সম্পর্কের অনুমোদন দিয়ে আসলে মানুষের পশুবৃত্তিকেই জাগিয়ে তোলা হয়। যখন মানুষ ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে অন্যের স্বাধীনতা খর্ব করে, অন্যের স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয়। আমরা কি চাইব কেউ আমার শরীর কে ব্যবহার করে আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দিক? এই কি ভালবাসা? যে সম্পর্কে দুই পরে দৈহিক এবং মানসিক প্রয়োজনের স্থায়ী সমাধান দেয়া হয় না সেই সম্পর্কের কোন মূল্য নেই। কোন সমাজ গড়তে এবং প্রগতির ক্ষেত্রে তা সহায়ক হতে পারে না।

বিয়ের মাধ্যমে একত্রে পথ চলার অঙ্গীকার করে। সেখানে প্রেম আছে। ভালবাসা আছে। আছে ফুটফুটে সন্তান। পরস্পরের প্রতি সম্মান, মায়া-মমতা আর দায়িত্ববোধ নিয়ে দু'জনে সুস্থ সুন্দর পারিবারিক জীবন ধারণ করার অঙ্গীকার। ধর্ম মানুষকে শুরুতেই জীবনের উদ্দেশ্য দান করে। মানুষের সুবিধার জন্য সম্পর্ক, সম্পর্কের জন্য মানুষ নয়। কিন্তু আমাদের সেকিউলার সমাজে ব্যক্তি স্বাধীনতা আমাদেরকে বলে আমি যা চাই তাই পেতে পারি। আমার ইচ্ছার কোন সীমা নাই। তারপর সেই ইচ্ছার পিছনে অন্ধভাবে ছুটতে যেয়ে নোংরা অনাকাঙ্খিত পরিণতি হোক, হোক সম্পর্ককালীন বা পরবর্তী জটিলতা- তার দায়িত্ব সমাজের নেই। সেকিউলার সমাজ আমাদেরকে লোভী হতে বাঁধা দেয় না। তাই চিন্তাধারা থাকে, 'আমি এটা বা ওটা চাই'। কিন্তু ধর্ম বলে সংযমের কথা। এখানে একজন ছেলে আর মেয়ে একে অপরের সুবিধার কথা ভাবে। তাই ধর্মীয় সমাজব্যবস্থাতে নারী-পুরুষের পক্ষে সম্মান বজায় রেখে পাশাপাশি কাজ করে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব, আর সেকিউলার ত্রুটিপূর্ণ সমাজে আশা করা যায় শুধুই গ্লানি, হতাশা আর স্বপ্নভঙ্গের কাহিনী।


সুত্রঃ
লিখেছেনঃ---ইলা মুৎসুর্দ্দী
দৈনিক পূর্বকোন (চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত) ১৪.১২.২০১১

ছবি নেট থেকে-
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29502570 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29502570 2011-12-14 11:08:53
দাম্পত্য জীবনঃ---বৌ-এর ব্যাপারে যদি আপনার বাবা মা, পাড়া-প্রতিবেশীরা কানে কথা লাগায়
প্রতিটি ছেলেই বিয়ের আগে বাবা মায়ের আশ্রয়ে বড় হয়ে ওঠে। ছোট বেলা থেকেই সন্তানেরা বাবা-মায়ের ওপর নির্ভরশীল থাকে। বাবা-মা যেহেতু ছেলেকে লালন-পালন করে বড়ো করে তোলেন, সেহেতু তারা স্বাভাবিকভাবেই আশা করেন যে, বড়ো হয়ে ছেলে তাদের দেখাশোনা করবে।

১ বিয়ে করার পর বাবা-মা যখন দেখেন যে, ছেলে তার নতুন সংসার তথা স্ত্রীর প্রতিই বেশী যত্নশীল হয়ে পড়ছে, তখন বাবা-মা কষ্ট পান।

২ ছেলেকে বিয়ে দিয়ে তারা আপাতত দৃষ্টিতে স্বাধীন করে দিলেও মনে মনে ঠিকই প্রত্যাশা করেন যে, ছেলে তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতি সম্মান দেখাবে।

৩ কিন্তু বাস্তবে তা না দেখতে পেয়ে ভাবেন পুত্রবধূটিই এই পরিস্থিতির কারণ। সেজন্যেই তারা পুত্রবধূর ওপর থেকে ছেলের মনোযোগ কমাতে নববধূটির পেছনে লেগে পড়েন।

৪ আর বাবা-মায়ের এই দুঃখজনক আচরণ ছেলের নতুন জীবনের জন্যে মোটেই কল্যাণকর নয়। তাই ছেলেকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে যার যার অধিকার বুঝিয়ে দেয়াই হবে যুক্তিযুক্ত।

৫ বাবা-মা ছেলের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে যে, ছেলে উপার্জনক্ষম হলে তাদের প্রতি ছেলে লক্ষ্য রাখবে। বাবা-মায়ের এই প্রত্যাশা তাদের অনিবার্য অধিকার। এই অধিকার বিয়ের পরও যথাযথভাবেই অটুট থাকে।

৬ স্ত্রীর প্রতি মনোযোগী হবার পাশাপাশি বাবা-মায়ের প্রতি আন্তরিক দায়িত্ব পালনেও সক্রিয় হতে হবে।

৭ বাবা-মায়ের আর্থিক সংকট মেটানো উপার্জনক্ষম সন্তানের অন্যতম কর্তব্য। তাই আগের মতোই বাবা-মায়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা ছেলের কর্তব্য।

৮ এই কর্তব্য যদি ছেলে পালন করে, তাহলে বাবা-মা ছেলের বৌ এবং সংসারের মঙ্গল কামনা করবে। সে ক্ষেত্রে ছেলের বৌ-এর পেছনে লাগার কোন কারণ আর ঘটবে না।

৯ কিন্তু তারপরও ব্যতিক্রমী কিছু ঘটনা ঘটে থাকে, সেসব ঘটনার ক্ষেত্রে ছেলেকে গভীরভাবে ভাবতে হবে-বাবা-মায়ের কথা কতোটা ন্যায্য।

১০ অন্যায় বা অধর্মীয় কোন আদেশ মানতে ছেলে বাধ্য নয়-একথা বাবা-মা এবং ছেলে সবারই জানা থাকা উচিত।

১১ বাবা-মায়ের প্রতি অবহেলা প্রদর্শনের কারণেই যদি তারা বৌকে অন্তরায় ভেবে থাকেন, সেক্ষেত্রে, ছেলের উচিত হবে-বাবা-মায়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলা। বাবা-মাকে তার ঘরে ডেকে আনা,বাচ্চাদের বলা তারা যেন দাদা-দাদীকে সম্মান করে চলে।

১২ স্ত্রীকেও বলতে হবে সে যদি শ্বশুর শ্বাশুড়ীকে সম্মান করে চলে, শ্বশুর-শ্বাশুড়ীও ছেলের বৌ-এর বিরুদ্ধে লেগে পড়ার পরিবর্তে বরং বৌকে নিয়ে গর্ববোধ করবে, পুত্র বধূকে তারা সকল ক্ষেত্রেই সহায়তা করবে।

১৩ বাবা-মাকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করে স্বামী স্ত্রীমুখী হয়ে পড়ুক-স্ত্রীদের এ ধরনের চিন্তা একেবারেই অন্যায্য। এ ধরনের দাবী না ন্যায়সঙ্গত না বাস্তবসম্মত।

১৪ বরং স্ত্রীরা কৌশলে বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর সাথে এমন আচরণ করতে পারে, যাতে তারা ভাবে যে বৌ তাদের সংসারের গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য। তাতে উভয়কূল রক্ষা পাবে। মনে রাখতে হবে, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সেবা যত্নের মধ্যে সন্তানের কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

১৫ একটা কথা বলে রাখা ভালো, তাহলো বাবা-মা সাধারণত ছেলের অমঙ্গল কামনা করে না। তারা যদি ছেলের সংসারে ঝামেলা ঘটানোর কোন কারণও হয়, তা কেবল তাদের নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য। ছেলে যদি তাদের অধিকার ঠিকমতো আদয় করে, তাহলে বাবা-মা ছেলের কল্যাণকামী হয়ে ওঠে।

পাড়া-প্রতিবেশীদের কথায় কান দিবেন না-----------

বাবা-মায়ের বাইরেও পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে অনেকে ঈর্ষুক থাকতে পারে। পাড়া-প্রতিবেশীরা হিংসা করে যদি কোন গীবত চর্চা করে, তাহলে তা খুবই ভয়ঙ্কর। তাদের কথায় হুট করে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া খুবই বোকামীপূর্ণ কাজ হবে। মনে রাখতে হবে বৌ আপনার জীবন সঙ্গী। সেও রক্ত-মাংশের মানুষ।

বউ যদি অন্যায় করে তখন কি করবেন?

১ পৃথিবীর কোন মানুষই ভুলের উর্ধ্বে নয়। বৌ-এর ব্যাপারে কেউ যদি আপনার কানে কথা লাগায়, তাহলে ধীরে-সুস্থে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে ঠান্ডা মাথায় তা প্রতিহত করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কোনভাবেই বাইরের লোকের কুৎসা রটনাকে পাত্তা দেয়া যাবে না।

২ বৌ-এর সাথে ভালোবাসাপূর্ণ আন্তরিকতা নিয়ে আলোচনা করার পর যদি মনে হয় যে, সত্যিই বৌ কোন অন্যায় করে ফেলেছে, তাহলে বৌ-এর ঐ অন্যায়কে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই হবে বড় মনের পরিচয়।

৩ যুক্তি দিয়ে বৌকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করুন-এর ফলে তাদের কী ক্ষতি হতে পারে,

৪ স্ত্রীকে হুট করেই কোন শাস্তি দেয়া একেবারেই ঠিক নয়। তাকে বুঝিয়ে বলার পর নিশ্চয় তার ভেতরে অনুশোচনাবোধ কাজ করবে। এর ফলে ভুলের পুনরাবৃত্তি আর নাও হতে পারে।

৫ অন্যদিকে আপনার স্ত্রী কৃতজ্ঞতায় আপনার প্রতি সব সময় সশ্রদ্ধ থাকবে। পরিণতিতে পারিবারিক শান্তি ও শৃঙ্খলা থাকবে অক্ষুন্ন।

৬ ক্রোধ খুবই মারাত্মক জিনিস। ক্রোধের আগুনে পুড়ে বহু সুন্দর সংসার ছারখার হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে যাবার পর ক্রুদ্ধরা কিন্তু অনুতপ্ত হয়। ফলে ক্রোধ নয়, ধৈর্য্যরে পরিচয় দিন। আল্লাহ ধৈর্য্য ধারনকারীদের সাথে রয়েছেন।#

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29501204 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29501204 2011-12-12 11:01:04
৪০ বছরের সম্পর্কের নির্মম পরিণতি (“হেমা কানাডায় গিয়েছিল হিজাব পরে। ফিরে এসেছে স্কিন টাইট গেঞ্জি ও জিন্সের প্যান্ট পরে) “হেমা কানাডায় গিয়েছিল হিজাব পরে। ফিরে এসেছে স্কিন টাইট গেঞ্জি ও জিন্সের প্যান্ট পরে। এয়ারপোর্টে নেমে ২০ মিনিট পরে সুমনকে জিজ্ঞেস করে, ‘কেমন আছো’। এয়ারপোর্টে নেমেই সে আগে ফোন করে তার বয়ফ্রেন্ড নাভিদকে।”- এসব অভিযোগ করেন প্রিজন সেলে রহস্যজনকভাবে মৃত হাসান সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, ওই পরিবারের সাথে সম্পর্ক ৪০ বছরের। শুধু হেমার অনৈতিক সম্পর্কের কারণেই আজ এই পরিণতি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রুমানা মঞ্জুরের পারিবারিক নাম ছিল হেমা। আর হাসান সাঈদকে সবাই সুমন নামেই ডাকতেন। সাঈদের মা হাসিনা কবির বলেন, কানাডা যাওয়ার আগ পর্যন্ত রুমানা খুবই ভালো ছিল। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ছিল ঈর্ষা করার মতো। সপ্তাহের অন্তত পাঁচ দিন ওরা বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাবার খেত। কানাডা যাওয়ার পরই হেমা পাল্টে যায়। যে হেমা হিজাব পরে কানাডা গিয়েছিল সে ফিরে আসে জিন্সের প্যান্ট এবং টাইট গেঞ্জি পরে। তিনি বলেন, সুমন তার খালাকে বলেছে কানাডা থেকে দেশে ফেরার দিন এয়ারপোর্টে প্রথমে হেমা তার বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে আদর করে। এরপর তার মেয়েকে আদর করে। ২০ মিনিট পর্যন্ত সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল সুমন। কিন' ততক্ষণে তার দিকে ফিরেও তাকায়নি হেমা। এরপর সে তাকে শুধু জিজ্ঞেস করে কেমন আছো। এ কথার পরই সে নাভিদকে ফোন করে। নাভিদ ফোন রিসিভ না করলে সে বলে ওঠে, ‘নাভিদটা ফোন ধরছে না কেন’। হাসান সাঈদ শুধু মুখবুজে কাঁদত। এমনকি, পরিবারের সবার সাথে এগুলো শেয়ার পর্যন্ত করত না। রুমানা এবং তার মা বাড়ির ছাদে যেত জগিং করতে। আর কাজের লোককে বলে যেত ‘কানাটার মুখে থুথু মার’। হাসান সাঈদের মা অভিযোগ করেন, এভাবেই ওই পরিবারের সদস্যরা তার ছেলের ওপর অমানবিক আচরণ করত। হাসান সাঈদ চোখে দেখত না বলে ওই পরিবারের লোকজন তাকে ‘কানা’ বলে ডাকাত। তাদের উদ্দেশ্য ছিল কানাডায় নাগরিকত্ব পাওয়া। হাসান সাঈদের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ বাবা অনেক কষ্ট করে গেছে। আর মৃত্যুর পর সে কারণেই তার চেহারাটা অত উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল ও বলছে, আমি তোমাদের ফাঁকি দিয়ে চলে গেলাম। তোমরা আমার জন্য কিছুই করতে পারলে না।’ হাসান সাঈদের মা বলেন, ‘আমরা কারো কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাইনি। যেখানে গিয়েছি আমাদের দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা সত্য কথা বলারও সাহস পাইনি।’ হাসান সাঈদের মা বলেন, ‘ওই পরিবারের সাথে আমাদের সম্পর্ক ৪০ বছরের। হাসান সাঈদের বাবা আহম্মেদ কবির এবং রুমানা মঞ্জুর ওরফে হেমার বাবা মঞ্জুর হোসেন বুয়েটের একই রুমে থাকতেন। তারা ৬৪ সাল থেকে ৬৮ সাল পর্যন্ত একই রুমে কাটিয়েছেন। সেই থেকেই দুই পরিবারের সম্পর্ক। দুই পরিবার সব সময় একত্রেই থাকত। সে থেকেই রুমানা এবং হাসান সাঈদের প্রেম। ৮ বছর প্রেম শেষে তারা বিয়ে করে। বিয়ের পর আরো ১০ বছর কেটে যায়।’ হাসিনা কবির বলেন, এই ১৮ বছরে রুমানার বিরুদ্ধে তার একটিও অভিযোগ নেই। সে ছিল ভালো মেয়ে। সবার সাথে তার মধুর সম্পর্ক ছিল, যে সম্পর্ক দেখলে সবাই ঈর্ষা করত। কিন' কানাডা যাওয়ার পর থেকেই সে পাল্টে যায়। দুই পরিবারের দূরত্ব বাড়তে থাকে। নাভিদ নামের ওই যুবকই দুই পরিবারকে দূরে সরিয়ে দেয়।’ তিনি বলেন, কানাডা যাওয়ার পর থেকেই রুমানা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। দেশে ফিরে সে সুমনের ওপর নানাভাবে নির্যাতন করত। ৯ মাস কানাডা থাকাকালে যে মেয়েকে কষ্ট করে হাসান দেখাশোনা করেছে সেই মেয়েকে মৃত্যুর আগে দেখতে পর্যন্ত পারেনি হাসান।

হাসানের বোন সামিরা নয়া দিগন্তকে বলেন, কানাডা যাওয়ার পরই রুমানা কেমন যেন হয়ে যায়। হাসান তখন ফোন করে প্রায়ই এসব কথা বলত। বলত, সে মারা গেলে তার মেয়েটাকে যেন আমি নিয়ে রাখি। তিনি বলেন, রুমানা কানাডার নাগরিকত্ব, সেখানকার টাকা এবং নাভিদের জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিল।

হাসান সাঈদের মেজ খালা সেলিনা রহমান বেবি বলেন, ‘সুমন মাঝে মধ্যে আমাকে তার কষ্টের কিছু কথা বলত। বলত সবাই কাপুরুষ। কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে না।’

হাসান সাঈদের ভাই ফারুক গতকালও অভিযোগ করেন, প্রিজন সেলে তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। কারা এর সাথে সম্পৃক্ত সে ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর পরই আগামী সপ্তাহে এ ব্যাপারে মামলা করা হবে। ইতোমধ্যে ভিনদেশী যুবকের সাথে রুমানার অবৈধ সম্পর্কের ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। নোংরা ভাষায় লেখা অনেক মেইল বার্তা তাদের হাতে এসেছে। ওগুলোই প্রমাণ করবে তার ভাইয়ের মৃত্যুর পেছনে কী কী কারণ থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে গ্রেফতার হন হাসান সাঈদ। তার বিরুদ্ধে স্ত্রী রুমানাকে নির্যাতন এবং তার দুই চোখ নষ্ট করে দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষিকা রুমানা উচ্চশিক্ষার জন্য ৯ মাস কানাডা অবস'ান করেন। দেশে ফেরার পর এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে সে থেকেই হাসান সাঈদ জেলে বন্দী ছিলেন। গত ৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে তিনি রহস্যজনকভাবে মারা যান। তার হাত এবং কোমরে রশির দাগ পাওয়া যায়। মুখে পলিথিন পেঁচানো ছিল বলে জানা যায়। এ ঘটনায় হাসান সাঈদের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়, পরিকল্পিতভাবে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তার মৃত্যুর পর জেল কর্তৃপক্ষও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করে। প্রথমে কারা কর্তৃপক্ষ একে আত্মহত্যা বললেও পরে সেখান থেকে বলা হয় হাসান সাঈদ মারা গেছেন হার্ট অ্যাটাকে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29500582 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29500582 2011-12-11 11:50:39
বিপদ সংকেতঃ অনলাইনে সাবধান থাকুন
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে প্রথম ইন্টারনেট আসে। প্রথম থেকেই অনলাইন চ্যাটিং বিষয়টা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ফেসবুকে নিজের কথা, আবেগ, ছবি, মতামত সব কিছুই অন্যকে জানানো যাচ্ছে। পাশাপাশি চ্যাটও করা যায়। ফেসবুক মাটির পৃথিবীর বাইরে সাইবার দুনিয়ার সর্ববৃহৎ নেটওয়ার্ক। সামাজিক যোগাযোগ সাইট অনলাইন দুনিয়ায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

মোবাইল ফোনের ইন্টারনেটসহ বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় কয়েক কোটি। এই বিশাল জনগোষ্ঠী ইন্টারনেটের ফলপ্রসূ ব্যবহারের পাশাপাশি ক্ষতিকারক ব্যবহারও বাড়ছে। অনেক সময় ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার তাদের শারীরিক, মানসিক, এমনকি পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অশানি- বয়ে আনছে। অন্য দিকে শহরের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এবং তাদের আত্মীয়-পরিজনের মধ্যেও দিন দিন একটি দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রধান কারণ যন্ত্রনির্ভর যোগাযোগ। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৮০ কোটির বেশি। প্রত্যেক ব্যবহারকারীর গড় বন্ধু ১৩০ জন। ফেসবুক সামাজিকতার নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। দেশের তরুণরাও ফেসবুক ব্যবহার করছে। ২১ লাখ ১০ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে ফেসবুক ব্যবহারের তালিকায় ৫৬তম স'ানে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশে এখনো ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অর্ধেকের বয়সই ১৮ থেকে ২৪ বছর। নিজেদের প্রকাশ করার জন্য তাদের কাছে সেরা মাধ্যম ফেসবুক। ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের উপসি'তি ৩০ শতাংশ। উন্নত বিশ্বে একাকিত্বেও কারণে ৩৫-এর বেশি বয়সীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে ফেসবুকে। মানুষের ভেতরের আসল মানুষটা ফেসবুকে বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। যা কিনা সব সময় রাগী ও গম্ভীর প্রকৃতির, যার ভাবনার গণ্ডি খুব ভাবগম্ভীর বিষয়ে, তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসেই দেখা যায় আধুনিক বাংলা গানের চরণগুলো। এভাবেই ফেসবুকে সবার ‘আমার আমি’ বেরিয়ে আসে। আবার কেউ হয়তো সামনাসামনি কখনওই তার মেয়ে বন্ধুর হাতটি ধরতে পারেনি, কিন' ফেসবুক চ্যাটে অবলীলায় লিখে দেয় মনের ইচ্ছার কথা। রীতিমতো না বলা কথা বলার জায়গা হয়ে উঠেছে ভার্চুয়াল জগৎ। কারো কাছে ভার্চুয়াল সম্পর্ক কখনও একাকিত্ব দূর করার সহায়ক মাধ্যম বা কখনও নির্মল এক বন্ধুত্বের জায়গা।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা : ইন্টারনেট একটি মুক্ত জায়গা। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট, ব্লগ, অনলাইন ফোরামগুলো পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করার পথটি আরো সহজ করে দিয়েছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই সেবাগুলো বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। তাই ব্যবহারকারীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এসব সাইটে অনেকেই খুঁজে পান পুরনো দিনের বন্ধুদের, সেই সাথে নতুন নতুন বন্ধু পাওয়ার সুযোগ তো আছেই। তবে সহজ যোগাযোগের কারণে বর্তমানে বিপদও ঘটছে অনেক। ইন্টারনেটে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে প্রাসঙ্গিকভাবে ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে থাকেন। তবে আপনার বন্ধুর তালিকায় নতুন কারা যুক্ত হচ্ছেন লক্ষ রাখতে হবে। সেই সাথে আপনার প্রোফাইলের কোন অংশটি কাদের জন্য উন্মুক্ত করবেন সেটিও সঠিকভাবে নির্ধারণ করে দিলে আপনি কিছুটা হলেও নিরাপদ থাকতে পারবেন। আপনার পারিবারিক ছবিগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করা থেকে বিরত থাকুন। বর্তমানে ছবি আদান-প্রদানের জন্য ফ্লিকার এবং পিকাসা বেশ জনপ্রিয় ছবি শেয়ারিং সাইট। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে আপনার ছবিটি ডাউনলোড করতে পারবে কি না, সেটিও নির্ধারণ করে দিতে পারেন।

সক্রিয় সাইবার অপরাধীরা : তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাইবার অপরাধ পৃথিবীর সব দেশেই আলোচিত ঘটনা। অনলাইনে ক্রেডিট কার্ড চুরি, ওয়েবসাইটে আক্রমণ, হ্যাকিং, ই-মেইলে হুমকি, অনলাইনে অন্য কারো ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, ভিডিও প্রভৃতি ছড়িয়ে দিচ্ছে অপরাধীরা। দেশেও সাইবার অপরাধের হার বাড়ছে। বর্তমানে মেয়েদের ছবি বা ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে, বিয়ে করতে না পেরে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সম্পর্ক থাকার সময় ধারণ করা ছবি বা ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইন ২০০৬ অনুযায়ী সেই ছবি ইন্টারনেটে বা অন্য কোনো মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ছবি ছড়ানোর ব্যাপারে যার ভূমিকা থাকবে সে অপরাধী। ৫৭ (২) ধারায় বলা হয়েছে ‘কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১)-এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক দশ বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন’। যেহেতু সাইবার অপরাধ প্রযুক্তিনির্ভর, তাই বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল হলে সাইবার অপরাধের বিচার আরো সহজ হয় বলে আইনবিদেরা মনে করেন। তাদের মতে, প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিচার বিভাগের সাধারণ আদালতের পক্ষে বোঝা একটু দুষ্কর।

ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী : ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তুলে পরে ব্ল্যাকমেইল করা বা সেই ছবি ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনা বর্তমানে অহরহ ঘটছে। তবে এ ক্ষেত্রে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মেয়েরাই। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কারোরই ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে পড়তে পারে। ছড়িয়ে পড়ছেও। কিন' বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েরা ভিকটিম হওয়ায় যত দ্রুত সম্ভব সামাজিক কারণে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়। ইন্টারনেটের ওয়েবসাইট থেকে ছবি হয়তো অপসারণ করা যায় দ্রুতই, কিন' মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে অসংখ্য কম্পিউটার, মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়ে ওয়াইফাই ব্লুটুথের মতো প্রযুক্তির কল্যাণে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে তোলা ছবি যখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়, তখন সেটি অপরাধ। আইন তা-ই বলে। অনেক সময় তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও এসব ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এমন সব ঘটনারই আইনি তদন- হওয়া উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এ ক্ষেত্রে সামাজিক, পেশাগত ও মানসিকভাবে বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। অপরাধটি যেখানে স্বচ্ছ, তাই পরবর্তী পদক্ষেপ তদন-সাপেক্ষে অপরাধীর গ্রেফতার এবং শাসি- নিশ্চিত করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যতে অসংখ্য মেয়ের কথা ভেবে এই অপরাধের দৃষ্টান-মূলক শাসি- হওয়া উচিত।

আইনের কঠোর প্রয়োগে প্রয়োজন : বাংলাদেশ পুলিশে সাইবার অপরাধ দেখার জন্য আলাদা শাখা রয়েছে। ই-মেইল প্রতারণা, ই-মেইল হুমকি, মানহানিকর লেখা বা ছবি ইন্টারনেটে প্রচার করা প্রভৃতি বিষয়ে তদন- করে পুলিশ। তবে সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশ বিভাগে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো বা বিশেষজ্ঞ নেই। সাইবার অপরাধ দমন বা তদনে- বাইরের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। অন্য দিকে এ ক্ষেত্রে শাসি-র নজির তুলনামূলক কম হওয়ায় পরবর্তী সময়ে আরেকজন একই কাজ করে কোনো মেয়ের সর্বনাশ করেই চলছে।


সুত্রঃ
অনলাইন দুনিয়ার খোঁজ খবর নিয়ে লিখেছেন আহমেদ ইফতেখার
http://www.dailynayadiganta.com/details/15507]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29499960 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29499960 2011-12-10 10:47:36
দাম্পত্য জীবনঃ-----শ্বাশুড়ীই কি মেয়ের সংসারে জটিলতা সৃষ্টির একমাত্র কারণ? মা-মেয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। এই সম্পর্ক স্বভাবগত, প্রকৃতিগত । বছরের পর বছর ধরে যে মেয়ে তার মায়ের একান্ত আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বড়ো হয়েছে, স্বামীর তুলনায় মা-ই মেয়ের কাছে বেশী আপন বলে মনে হওয়াটা স্বাভাবিক। সেজন্যে মায়ের আদেশ শিরোধার্য করে মেয়ে তার স্বামীর সাথে দুর্ব্যবহার করতেও দ্বিধা করে না। অন্যদিকে জামাই যখন শ্বাশুড়ীর মনোপুত: হয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়, তখন শ্বাশুড়ী মেয়ের জামাতার ব্যাপারে কঠোর মনোভাব পোষণ করতে শুরু করে। ফলে দাম্পত্য জীবনে নেমে আসে মহা-অসন্তোষ, দ্বন্দ্ব-কলহ। যার পরিণতি হয় বিবাহ বিচ্ছেদ, অথবা চির অশান্তি।

কোন স্ত্রীই সাধারণত প্রথম প্রথম স্বামীর সাথে রূঢ় আচরণ করে না। অবশ্য দু একটি ঘটনা ব্যতিক্রম থাকতেই পারে। ধীরে ধীরে স্ত্রীদের অনেকেই রূঢ় আচরণ করতে প্রলুদ্ধ হয়। এর কারণ অনেক সময় স্ত্রীদের মা অর্থাৎ ছেলের শ্বাশুড়ী।

মেয়ের বিয়ে দেবার পরপর মেয়ের মা স্বাভাবিকভাবেই কামনা করে যে, তার জামাই হবে তারই মন মতো একটা আদর্শ ছেলে।

শ্বাশুড়ী যখন দেখে যে জামাইর চালচলন একটু অন্য রকম, তখন শ্বাশুড়ী জামাইকে নিজের আদর্শে গড়ে তোলার চেষ্টা চালায়। চালায়। এ ধরণের চেষ্টা প্রথম দিকে মেয়ের কল্যাণেই মূলত হয়ে থাকে।

জামাই যখন তার ব্যক্তিত্ব ও স্বাতন্ত্র্যে অটল থাকে, তখন শ্বাশুড়ী মেয়েকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে জামাই সংশোধন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। এভাবে ছেলের শ্বাশুড়ী, মেয়ের সংসারে এবং জীবনে আস্তে আস্তে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে।

শ্বাশুড়ীর পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে জামাতার ওপর মনে মনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আর এই ক্ষিপ্ততার প্রয়োগ ঘটানো হয় মেয়েকে দিয়ে। মেয়ে তাই ধীরে ধীরে তার স্বামীর সাথে একটু অন্যরকম আচরণ শুরু করে দেয়।

স্বামী যে ধরনের আচরণ তার স্ত্রীর কাছ থেকে প্রত্যাশা করে, স্ত্রী সেরকম আচরণ না করে কেমন যেন বিগড়ে যেতে থাকে। এমনকি স্বামীর কোন কোন কর্মকান্ডের সমালোচনায় মুখরও হয়ে ওঠে।

মেয়েকে রীতিমতো শ্বাশুড়ী বিভিন্ন রকম নির্দেশ দিতে শুরু করে, আর মেয়েও আগ-পর চিন্তা না করে মায়ের আদেশ-নির্দেশকে অনুসরণ করতে শুরু করে। এমনকি স্বামীকে তার আচার-আচরণ পরিবর্তন করার জন্য বলতে শুরু করে।

মেয়ের মঙ্গল কামনা থেকেই মূলত: শ্বাশুড়ীরা মেয়ের সংসারে প্রভাব বা হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে। কিন্তু অজ্ঞতাবশত: অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়।


শ্বাশুড়ীর সাথে জামাতার সম্পর্ক মানেই যে বৈরী সম্পর্ক এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। বরং সম্পর্কটা সাধারণত এর বিপরীত অর্থাৎ শ্বাশুড়ীর সাথে জামাইর সম্পর্ক খুবই আন্তরিক ও শ্রদ্ধা-স্নেহের। সেজন্যে শ্বাশুড়ীদের ব্যাপারে পুরুষদের অতিরিক্ত সমালোচনার মনোভাব পরিহার করে চলাই শ্রেয়। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে শ্বাশুড়ীরা খুবই ভালো প্রকৃতিরও হয়ে থাকেন।

এক ভদ্রলোক বলেছেন, তাঁর ভাষায় "আমার শ্বাশুড়ী যেন সাক্ষাৎ দেবী। তিনি যেমন দয়াবতী, তেমনি সবকিছু ভালোমত বুঝতেও পারেন। তাই আমি তাকে মায়ের মতোই ভালোবাসি। আমাদের সমস্যায় তিনি সবসময় আমাদের পাশে থাকেন। তার অস্তিত্ব যেন আমার পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধির জন্য এক নিশ্চয়তা স্বরূপ।"

তাই বলা যায়, শ্বাশুড়ী মাত্রই খারাপ নয় এবং শ্বাশুড়ীই মেয়ের সংসারে জটিলতা সৃষ্টির একমাত্র কারণ নয়।


শশুর-শ্বাশুড়ী বা শাশুর বাড়ীর সাথে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?

১. শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর সামনে কখনোই তাদের মেয়ের সমালোচনা করা উচিত নয়। বরং তাদের কন্যার প্রতি জামাতার ভীষণ ভালোবাসার দিকটিই ফুটিয়ে তোলা উচিত।

২. স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই পরস্পরের বাবা-মা, ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলা। এতে উভয়েরই কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

৪. মেয়ের বাবা-মাও কিন্তু অভিভাবক। ফলে নিজের বাবা-মায়ের মতো স্ত্রীর বাবা-মায়ের কাছেও অভিভাবকসুলভ পরামর্শ গ্রহণ করে সংসার জীবনে তা কাজে লাগানো যেতে পারে।

৫. স্বামী এবং স্ত্রী উভয়েরই উচিত আপন-আপন শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর সাথেই কেবল নয় বরং শ্বশুর বাড়ীর সবার সাথেই সহৃদয় আচরণ করা। এর ফলে দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি ও সাফল্য নেমে আসবে।

৫. শ্বাশুড়ীর সাথে বা শ্বশুর বাড়ীর সাথে সমস্যা এড়িয়ে চলার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হলো শ্বশুর পক্ষীয় আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29499000 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29499000 2011-12-08 21:00:49
দাম্পত্য জীবনঃ--------আপনি কি আপনার স্বামীকে সন্দেহ করেন?
স্বামীর প্রতি লক্ষ্য রাখতে গিয়ে সন্দেহ পরায়ন হয়ে যাওয়াটা ঠিক নয় । মনে রাখবেন সন্দেহ অত্যন্ত ক্ষতিকর একটা রোগ, যা চিকিৎসার অযোগ্য। সন্দেহপরায়ণতা থেকে মারাত্মক পরিণতি দেখা দেয় । স্বামী বা স্ত্রী যেই এই রোগে ভোগে তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত ।

স্বামী-স্ত্রী এই রোগে আক্রান্ত হলে যা যা করতে হবে--------------

১. কোনরকম বাদানুবাদ না করে যুক্তিপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে বিশ্বাস স্থাপন তথা সন্দেহ দূর করার চেষ্টা করতে হবে । এক্ষেত্রে পুরুষ বা স্বামীর ব্যক্তিটিকে সহনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে ।

২. স্ত্রী যদি স্বামীকে সন্দেহ করে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে তাহলে তা ভালোবাসারই লক্ষণ । তাই তার ভালবাসাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখা উচিত ।

৩. যে কারণে কোন স্ত্রী তার স্বামীকে সন্দেহ করতে শুরু করে, বিচক্ষণতার সাহায্যে সেই কারণটি প্রথমে খুঁজে বের করা দরকার । তারপর ঐ সন্দেহ দূর করার জন্যে যে আচরণ করা সঙ্গত সততার সাথে তা করা উচিত ।

৪. এ ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে আপনার সারাদিনের কাজকর্ম নিয়ে স্ত্রীর সাথে গল্প করুন । এমন আন্তরিকতার সাথে স্ত্রীর সাথে আচরণ করতে হবে যাতে স্ত্রী স্বামীর যেকোন বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারে নির্দ্বিধায় ।

৫. স্ত্রীদের প্রতি এভাবে বিনয়ী ও সহনশীল আচরণ করলে তারাও তাদের কাজেকর্মে সততার পরিচয় দেবে ।


৬. স্বামীকে সন্দেহ করার আগে ধীরে সুস্থে একবার ভাবুন ! তারপরও যদি সন্দেহ থাকে তাহলে ব্যাপারটা নিয়ে স্বামীর সাথে এমনভাবে আলাপ করার চেষ্টা করুন , যেন সত্য-মিথ্যা টের পাওয়া যায় ।

৭. খোলামেলাভাবে আন্তরিকতার সাথে তাঁকে বলুন যেন সন্দেহের ব্যাপারটা তিনি পরিস্কার করে ব্যাখ্যা করে মন থেকে অশান্তি দূর করে দেন ।

৮. আপনারা যারা ইতিমধ্যে ঘর-সংসার শুরু করেছেন, তারা একটি বিষয় লক্ষ্য রাখবেন, তা হলো যেকোন ব্যাপারে অভিযোগ করার আগে সুনিশ্চিত প্রমাণ থাকা চাই ।

৯. যতোক্ষণ না নিশ্চিত প্রমাণ পাচ্ছেন ততোক্ষন পর্যন্ত কাউকে দন্ড দেয়ার অধিকার কারো নেই । প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করলে, সন্দেহ করলে,যাকে অভিযুক্ত করা হলো তার কেমন লাগবে, সে বিষয়টি নিজেকে দিয়ে একবার পরীক্ষা করুন ।

১০. বিনা কারণে আপনাকে কেউ দোষী বললে আপনি কি কষ্ট পাবেন না ! এই কষ্টটি অন্যে দিলে পরিনতি কেমন হবে, তা নিজেই একবার ভেবে দেখুন ।


আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ ! অধিকাংশ সন্দেহ পরিহার কর । কারণ নিশ্চিতরূপে কোন কোন ক্ষেত্রে সন্দেহ হলো পাপ ।'

ইমাম সাদিক (আঃ) বলেছেন, কোন নিরপরাধ ব্যক্তিকে মিথ্যা দোষারোপ করার পরিমাপ সুউচ্চ পর্বতের চাইতে ভারী ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29498646 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29498646 2011-12-08 10:23:04
দাম্পত্য জীবনঃ---------স্বামীকে হতে হবে প্রেমিক
স্বামীকে হতে হবে প্রেমিক ৷ প্রেমের মাধ্যমে, ভালোবাসার মাধ্যমে স্ত্রীর সাথে নীবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে ৷ প্রত্যেক স্ত্রীই চায় তার স্বামী তাকে একান্তভাবে ভালোবাসুক ৷ কিন্তু ভালোবাসার জন্যে স্ত্রীরা সাধারণত মুখ খোলে না ৷ সেজন্যে স্বামীর ওপর একটা গুরু দায়িত্ব অর্পিত হয় স্ত্রীকে আবিস্কার করার ৷

প্রতিটি মানুষেরই ব্যক্তিগত ভালো লাগা, মন্দ লাগার ব্যাপার থাকে ৷ স্ত্রীর প্রিয় বিষয়গুলোকে অর্থাৎ সে কী পছন্দ করে, কী অপছন্দ করে-সে বিষয়গুলো মনোযোগের সাথে লক্ষ্য করতে হবে ৷ তার চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারগুলোর প্রতিও একইভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে ৷ এগুলো আবিষ্কার করার পর ন্যায় সঙ্গত চাওয়া-পাওয়া ও অধিকারগুলো পূরণের ব্যাপারে আন্তরিক হতে হবে ৷

স্বামী তার আচার-আচরণ, ভাবভঙ্গী দিয়ে স্ত্রীকে যদি বোঝাতে পারে তাহলে স্বামীর প্রতি স্ত্রীও আকৃষ্ট হবে এবং সেও তার ভালোবাসা উজাড় করে দেবে ৷ আর স্বামীকে যদি তার স্ত্রী ভালোবাসে তাহলে তার সংসার গোছাতেও আন্তরিক হবে ৷

নারী জাতি স্বভাবতই স্নেহ, আদর, ভালোবাসা প্রত্যাশা করে৷ যতোই সে স্নেহ আর আদর পায়, ততোই সে সুন্দর হয়ে ওঠে ৷ নারী এমন এক আবেগপ্রবণ চরিত্র যে, স্নেহ আর আদর পাওয়ার জন্যে এবং সবার প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠার জন্য সে অনেক কিছু ত্যাগ করতেও দ্বিধা করে না ৷

ছোট বেলা থেকে যে মেয়েটি বাবা-মায়ের আদর-স্নেহ পেয়ে বড়ো হলো, সে মেয়েটি যখন বিয়ে করে স্বামীর কাছে আসে তখন স্বাভাবিকভাবেই সে চায় স্নেহ ভালোবাসার সকল আকাঙ্ক্ষা তার কাছ থেকেই পূরণ করতে ৷

বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে এতোদিন যতো ভালোবাসা পেয়েছিল সে, স্ত্রী হয়ে স্বামীর কাছে যাবার পর স্বামীর কাছ থেকেই তা পেতে চায় ৷ ফলে কতোবেশী পরিমাণ ভালোবাসা একজন স্ত্রী তার স্বামীর কাছে প্রত্যাশা করে তা একবার ভেবে দেখুন ৷ আর স্ত্রীর তা প্রাপ্য, কারণ স্ত্রী তার নিকটজনদের ছেড়ে একমাত্র স্বামীর কাছে চূড়ান্ত আস্থা নিয়ে এসেছে ৷ তার এই ত্যাগকে শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখা খুবই জরুরী ৷

নবী করিম (সাঃ)বলেছেন, 'যে ব্যক্তি স্ত্রীকে বলে আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি' এই কথাটা তার স্ত্রীর মন থেকে কখনোই মুছে যায় না ৷
এই হাদীস থেকে বোঝা যায় যে, স্ত্রীকে মনে মনে ভালোবাসলে চলবে না, ভালোবাসার কথা মুখেও প্রকাশ করতে হবে এবং ভালোবাসা হতে হবে আন্তরিক ও অকৃত্রিম ৷

স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে অবস্থান করলে নিয়মিত খোঁজ-খবর নেয়া উচিত ৷ কাজের ফাঁকে অফিস থেকে ফোন করে কথা বললে স্ত্রীর নিঃসঙ্গতা কাটে ৷

বিদেশ-বিভূঁয়ে বাস করলে চিঠিপত্র লেখা যেতে পারে ৷ ফোন করে অভাব-অনুভূতির কথা প্রকাশ করলে দূরত্ব সত্ত্বেও আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায় ৷

যেখানেই আপনি বেড়াতে যান না কেন, বৌ-এর জন্য ছোট-খাটো করে হলেও উপহার সামগ্রী কিনে এনে তার হাতে দিলে স্ত্রী বুঝবে যে, স্বামী তাকে ভুলেনি ৷ সামান্য উপহার সামগ্রী ভালোবাসার অকৃত্রিম নিদর্শন হয়ে উঠবে ৷ বিনিময়ে স্ত্রীর অমূল্য ভালোবাসায় ধন্য হবে স্বামীর জীবন, পুষ্পিত হয়ে উঠবে সংসার তথা দাম্পত্য জীবন ৷#

পৃথিবীর যা কিছু সুন্দর চিরকল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর ।


সুত্রঃ

মুসলিম সমাজে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29498304 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29498304 2011-12-07 19:16:16
ছবি ব্লগঃ ইভটিজিং-গনধোলাই-গ্রেফতার-কারাবরণ-অপমানে আত্মহত্যা-
অফিসে নারী সহকমীকে ইভটিজিং করার সময় নারীকর্মীদের হাতে হামলার শিকার------

ইভটিজিং কি?
সাধারণত ইভটিজিং বলতে রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ ও অন্যান্য যে কোন স্থানে মেয়েদের উত্যক্ত করা বা লাঞ্ছিত করাকেই বুঝানো হয় ।

স্কূলগামী ছাত্রীদেরকে বিরক্ত করলে এই রকম জুতাপেটা খাওয়ার সম্ভাবনা আছে---

রাজপথে হাটার সময় নারীদেরকে ইভটিজিং করলে------------------

ভটিজিং করার জন্য বখাটেরা দাড়িয়ে আছে-------------






ইভটিজিং করার অপরাধে গনধোলাই-----তারপর শাস্তি-------------

ইভটিজিং থেকে রক্ষার জন্য স্কুলে ছাত্রীরা মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষন নিচ্ছে----------

ইভটিজিং এর শিকার এক নারী-----------------------অপমানে আত্মহত্যা--তারপর---

ইভটিজিং এর প্রতিবাদে উত্তাল রাজপথ---------------------

ইভটিজিং এর প্রতিবাদে রাজপথে মানব বন্ধন------------





উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে স্বামী-স্ত্রী অথবা প্রেমিক-প্রেমিকা গাড়ীতে বসে আছে। সামনের সীটের ভদ্র লোকের ইভটিজিং থেকে স্ত্রী বা প্রেমিকাকে রক্ষা করার জন্য স্বামী বা প্রেমিক বেচারা ভদ্রলোকের সামনে পা দিয়ে ইভটিজিং থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। এই মহিলাকে উগ্র পোষাক পরার কারনে সামনের সিটের ভদ্র লোক ডিস্টাব করতেই পারে......যদি ভাল পোষাক পরত তাহলে পা দিয়ে ঠেকানোর কোন প্রয়োজন ছিলনা........

আমাদের দেশে বেশীর ভাগ নারীরা নিজেদের দোষের কারনেই ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে... আজকাল মেয়েরা গলায় উড়না পেচিয়ে চলাফেরা করছে। টাইট-পিট ড্রেস পরে রাস্তা দিয়ে হাটছে.. বধুর সাজে সজ্জিত হয়ে কলেজে-অফিসে যায়--মার্কেটে দল বেঁধে ঘোরা ফেরা করছে। পার্কে কিংবা ইন্টারনেট শপে অধাধে মেলামেশা করছে।

-----------------------------------এই সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমাদেরকে পরিবারগুলিকে সাবধান থাকতে হবে। পরিবারের উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের প্রতি আরো বেশী করে যত্নবান হওয়া উচিত। তারা কি করছে--কোথায় যায়--কার সাথে আড্ডা দিচ্ছে--গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইলে বা ইন্টারনেটে কি করছে মনিটরিং করা দরকার----------শাসন না করলে--ইভটিজিং এর শিকার বা শিকারী হয়ে যাবে------------!!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29497595 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29497595 2011-12-06 17:16:03
জানা-অজানাঃ ইন্টারভিউ বোর্ডে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কেমন হওয়া উচিত.... ইন্টারভিউয়ে সব প্রশ্নের উত্তর সঠিক এবং টু দ্য পয়েন্টে দেয়ার পাশাপাশি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়েও কিন্তু আপনাকে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। তা না হলে ছোটখাটো বদাভ্যাসের জন্য আসন্ন চাকরির লিস্ট থেকে আপনার নাম বাদ পড়ে যেতে পারে। তাই ইন্টারভিউ বোর্ডে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে খেয়াল রাখুন।

ইন্টারভিউয়ের আগের দিন রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়াই ভালো। তাহলে পরের দিন সকালে উঠলে আপনার মধ্যে রিফ্লেশিং গ্লো কাজ করবে, যা বোর্ডে আপনাকে ইমপ্রেশন তৈরি করতে সাহায্য করবে।

ইন্টারভিউয়ের দিন প্রয়োজনের থেকে অনেকটা বেশি সময় হাতে নিয়ে বেরনোই ভালো। বোর্ডে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগেই আপনার মুভমেন্ট দেখে আপনার প্রতি সবার একটা ধারণা জন্ম হয়। তাই ইন্টারভিউ রুমে দাঁড়ানো এবং বসার ভঙ্গিমা নিয়েও আপনাকে খুব সচেতন থাকতে হবে।

১. আপনাকে বসতে না বলা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।

২. বসার সময় শব্দ করে চেয়ার টেনে বসবেন না।

৩. সিটে বসার সময় স্ট্রেট হয়ে বসবেন এবং হাত দুটোকে চেয়ারের হাতলের ওপর রাখুন। টেবিলের ওপর না রাখাই ভালো। তাহলে কোন কিছু বোঝাতে হাত দুটোকে চট করে ব্যবহার করতে পারবেন।

৪. বোর্ডের কোন কথার সঙ্গে আপনি একমত হলে অবশ্যই মাথা নেড়ে সমর্থন করবেন এবং সেই সঙ্গে সোজা হয়ে বসে বিষয়টিতে আপনার উৎসাহ ও আগ্রহের প্রকাশ করতে পারেন।

৫. যিনি প্রশ্ন করছেন, সব সময় তার চোখের দিকে তাকিয়ে সোজা উত্তর দেবেন। এতে আপনার আগ্রহ ও তার প্রতি সম্মান প্রকাশ পাবে। কিন্তু অন্য সময় এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবেন না।

৬. কলম কিংবা জামার বোতাম নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না।

৭. কোন প্রশ্নের উত্তর না দিতে পারলে মাথা চুলকাবেন না বা মুখে হাত দেবেন না।

৮. অনেকের পা নাড়ানোর অভ্যাস আছে, নার্ভাস হলে এটা আরো বেড়ে যায়।

৯. বোর্ডে ঢুকে একেবারে নীরব থাকতে হবে তা কিন্তু নয়। কথা বলতে বলতে অল্প বিস্তর হাসলে গম্ভীর পরিবেশ অনেক সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার প্রতি একটা পজিটিভ ধারণা তৈরি হবে।


সুত্রঃ
মুহাম্মদ আবু নাসের
দৈনিক পূর্বকোণ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে (০৪.১২.২০১১) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29495961 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29495961 2011-12-04 10:50:16
অসচেতনতায় পর্নোগ্রাফীর শিকার নারী যুব সমাজের চরিত্র ধ্বংসের অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে মোবাইল পর্নোগ্রাফি। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে যুব সমাজের নৈতিক চরিত্র ধ্বংস বা মেধাশূন্য হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞানের কল্যাণে মোবাইল পর্নোগ্রাফিতে ছেয়ে গেছে গোটা বিশ্ব। বর্তমানে বাংলাদেশের যুবসমাজ তথা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর বখে যাওয়া অন্যতম কারণ হচ্ছে মোবাইল পর্নোগ্রাফিধর্মীয় অনুশাসন না থাকলে সমাজের অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়।

সমাজ ও পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসন থাকলে ছেলেমেয়েরা মোবাইল ব্যবহারে সংযত থাকবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। সন্তানদের সৎ-চরিত্রবান করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পিতামাতার অবদান অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। বর্তমানে ৬টি টেলিকম কোম্পানীর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এত অল্প সময়ে মোবাইল বিস্ময়করভাবে ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হলো এর সহজলভ্যতা।

মোবাইল ফোন এখন আর বিলাসদ্রব্য নয়, অতি প্রয়োজনীয় বস্তুও বটে। শুরুতে মোবাইল ফোনে শুধু কথা আদানপ্রদান হতো। কিন্তু এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশের মাধ্যমে এসএমএস, এমএমএস, ব্লু-টুথ আদানপ্রদান করছে। সর্বশেষ, মোবাইলে যে নতুন মাত্রাটি যোগ হয়েছে তা হলো ইন্টারনেট সেবা। এর মাধ্যমে বিশ্ব চলে এসেছে হাতের মুঠোয়।

ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, খেলাধুলা, বিনোদনসহ সর্বক্ষেত্রের খবর পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে। মোবাইল ফোন যেন ছুঁয়ে গেছে জীবনের প্রতিটি শাখা। আর হালের ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফ্যাশনসচেতন তরুণ-তরুণীরা প্রতিনিয়তই আধুনিক প্রযুক্তি মোবাইল ফোনের দিকে ঝুকছে।

মোবাইল ফোন যেমন অতি প্রয়োজনীয় তেমনি এর রয়েছে ভয়ংকর অপকারী দিক।
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মানুষকে বিরক্ত করা থেকে শুরু করে বড় বড় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও ঘটানো হচ্ছে।
রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় চালকরা ফোনে কথা বলার ফলে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা।
এছাড়া উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা মোবাইল ফোনে আসক্ত হচ্ছে।

পড়াশোনা করার চেয়ে তারা রাত জেগে ফোনালাপ করতে বেশি আগ্রহী, যা রীতিমতো ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে।

ডিজিটালের নামে মেয়েদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ক্যামেরায় গোপনে অশ্লীল দৃশ্য ধারণ করার বিষয়টি বর্তমানে ব্যাপকতা পেয়েছে। অনেক স্কুল-পড়ুয়া ছেলেমেয়েও শখের বসে নিজেদের নগ্ন দৃশ্য নিজেরা ধারণ করছে। বন্ধুদের হাত ধরে ঘুরে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

তিন থেকে চার হাজার টাকা দামের মোবাইল দিয়ে এখন ভিডিও করা যাচ্ছে। কম্পিউটার, ল্যাপটপের পর এখন পর্নো ছবি ছড়িয়ে পড়ছে মোবাইল ফোনে।

কিশোর-কিশোরীরাই প্রধানত এই পর্নো ছবির প্রধান ক্রেতা। এই পর্নো ছবির পেছনে রয়েছে একটি সিন্ডিকেট, যারা তরুণীদের নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের কজ্বায় নিয়ে আসছে।

তরুণীরা নিজেদের অজান্তেই হয়ে যাচ্ছে পর্নো ছবির নায়িকা। অনেকের ভাগ্যেই জুটছে পতিতার জীবন। দেশ ও দেশের বাইরে বসে বসে এই সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।



রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলা শহরের স্কুল-কলেজের এমন কোন শিক্ষার্থী নেই, যার কাছে মোবাইল ফোন নেই। তবে সেই মোবাইল কতটুকু প্রয়োজনীয়; সেটা প্রশ্ন সাপে। কারণ প্রয়োজনীয় কাজের চেয়ে তিকর দিকটিই বেছে নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

পিতামাতা তাদের সন্তানদের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য না রাখায় তারা কার সঙ্গে কথা বলছে, কি বলছে, ফোনের ভেতরেই বা কি আছে, কিছুই জানেন না অভিভাবকেরা। শিক্ষার্থীরা পকেটে পর্নো ছবি নিয়ে ঘুরার ফলে একদিকে পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে অপর দিকে তাদের নৈতিকতা দিন দিন অধঃপতনে যাচ্ছে। এর ফলে সমাজে অপকর্ম বেড়েই চলেছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, ঢাকা শহরের পর্নো ছবির দর্শকের মধ্যে শতকরা ৭৭ জন্যই শিশু! স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনে, সাইবার সেন্টারে এবং কম্পিউটারে পর্নো ছবি দেখে থাকে। খোদ রাজধানী ঢাকায় ১০০০-এর বেশি দোকানে প্রতি মাসে এক কোটি টাকার পর্নো ছবি মোবাইলে ডাউনলোড করা হয়। সারা দেশে এর পরিমাণ ২০ কোটি টাকার ওপর।

ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া তরুণ-তরুণী, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের নৈতিক অবয় রোধ করা সম্ভব নয়। এ ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি যদি অচিরেই দূর করা না যায় তবে আমরা নৈতিকতা বিবর্জিত জাতিতে তথা সর্বনাশা ধ্বংসাবর্তে নিপতিত হব।বর্তমানে ভিডিও এবং বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি প্রসার ব্যাপকভাবে বাড়ায় সমাজে অশ্লীলতা-পৈশাচিকতা-অস্থিরতা ও নৃশংসতা ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে যুব সমাজের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি সমাজের আবহমান সাংস্কৃতিক প্রবাহে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে যুবসমাজ ক্রমাগত ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে এতে সমাজের সামগ্রিক ভারসাম্যও আজ হুমকির মুখে।

আমরা প্রযুক্তির দিক দিয়ে যত উন্নতি লাভ করছি আমাদের সভ্যতাও তত উন্নত হচ্ছে। আসলেই কি আমাদের সভ্যতা দিন দিন উন্নত হচ্ছে সভ্যতা মানে যদি হয় রুচিসম্পন্ন, সংস্কৃতিসম্পন্ন তাহলে প্রযুক্তি আমাদের সভ্যতাকে অগ্রসর করছে, তা বলা যাবে না। বরং আমরা এতটুকু বলতে পারি, প্রযুক্তি আমাদের জীবনযাত্রাকে সহজ ও গতিময় করেছে কিন্তু আমাদের সভ্য করেনি। প্রযুক্তি যদি আমাদের সভ্য করত তাহলে সারা পৃথিবীতে ধর্ষণ বাড়ত না, মানুষ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করত না।

মোট কথা প্রযুক্তি আমাদের সভ্য করতে পারে নি, বরং প্রযুক্তি যত উন্নতি লাভ করেছে আমাদের স্বার্থ তত প্রকট হয়ে উঠছে। ইন্টারনেট প্রযুক্তি সমগ্র পৃথিবীকে আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে ঘরে বসেই আমরা সারা পৃথিবীকে অবলোকন করি। ইন্টারনেটের অনেক ভাল দিক রয়েছে যা ব্যবহারে আমাদের জানার পরিধিকে বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু এর খারাপ দিকগুলো মোটেই উপো করার মতো নয়। পর্নোগ্রাফি তেমনই একটি খারাপ দিক, যা যুবক-যুবতীদের ঠেলে দিচ্ছে ভয়াবহ বিকৃত যৌনাচারের দিকে। এসব ভিডিও দেখার ফলে একজন তরুণ হয়ে উঠছে সেক্স অপরাধী।

বর্তমানে বাংলাদেশের যুবসমাজ তথা স্কুল-কলেজগামী তরুণ-তরুণীদের বখে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মোবাইল এবং ইন্টারনেট। এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর পদপে নিতে হবে। যাতে প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যতীত মোবাইল বা ইন্টারনেট কেউ ব্যবহার করতে না পারে। দেশের পর্নোগ্রাফি সাইটগুলো বন্ধ করতে হবে। সর্বোপরি সন্তানদের মোবাইল ব্যবহারে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে।

সুত্রঃ
ইউছুফ আরমান
দৈনিক পূর্বকোণ---৩০.০১১.২০১১
==============================
আমার পোষ্টটি পড়ুনঃ

লুকানো ক্যামেরা থেকে সাবধান

নতুন নতুন প্রযুক্তির কারনে পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়। চারিদিকে মোবাইল,ক্যামেরার ছড়াছড়ি। প্রতিমুহুত্বে প্রিয় দৃশ্যগুলো ক্লিক করে তুলে রাখছে। কেউ বা সখের বশে। কেউবা বিকৃত মনমানসিকতা নিয়ে... কেউ বা অপরজনকে হেয় করতে...কেউবা ফায়দা লুটতে.....তাই আসুন নিন্মের কতগুলো বিষয় মনে রাখার চেষ্টা করুন।

১. আপনার সামনে কেউ মোবাইল নিয়ে খেলছে কিনা ভাল করে দেখুন, নইলে কখন যে আপনার ছবি/ভিডিও তুলবে আপনি টেরও পাবেন না।

২. বউ/পরিবার-পরিজন নিয়ে কোন আবাসিক হোটেলে থাকতে চাইলে রুমের কোথাও ক্যামেরা আছে কিনা ভাল করে চেক করে করুন বিশেষ করে টয়লেটে।

৩. আপনজন ছাড়া কাউকে নিজের ভিডিও চিত্র/ছবি তুলতে দিবেন না। কারন খুব সহজেই আপনার ছবি বা ভিডিও ট্রান্সফার হয়ে যাবার সম্ভাবনা বেশী।

৪. নেটে চ্যাট করলে নিজের আবেগকে কন্ট্রোল রাখবেন। বিশেষ যখন ওয়েব ক্যাম ওপেন রাখবেন।

৫. অন লাইন প্রেম থেকে সাবধান থাকবেন, বিশেষ করে মেয়েরা। কারন ফেইসবুকের কারনে অনেক তরুণী আজকাল ঘর থেকে পালাচ্ছে।

৬. পার্কে বসে আড্ডা দেবার সময় খেয়াল রাখবেন কেউ মোবাইল বা ক্যামেররা থেকে ছবি/ভিডিও করছে কি না, করলেও আপনি দেখতে পাবেন না কারন জুম ক্যামেরা দিয়ে অনেক দুর থেকে ভিডিও ধারন করা যায়। তাই সাবধান থাকুন।

৭. বিয়ের অনুষ্টানে যে কেউ আপনার ছবি বা ভিডিও তুলতে পারে। পরবর্তীতে ফেইসবুকে আসতে পারে তাই আনন্দের মধ্যে ও সাবধানতা অবলম্বন করুন।

৮. বিভিন্ন শপিং মলে বিশেষ করে লেডিস শপের ট্রায়াল রুমে হিডেন ক্যামেরা থাকতে পারে..তাই হে রমণীরা সাবধান থাকুন।

৯. সাবধানতা অবলম্বন না করলে আপনরা ছবি/বা ভিডিও অনলাইনে চলে আসতে পারে কারন অনেক দুষ্টচক্র প্রিয়জনকে হেয় করার জন্য কাজটি করে আসছে।

মনে রাখবেন, জীবন জীবনের জন্য, আমরাই একে সহজ করি, আবার আমরাই জটিল করি।

আমাদের প্রত্যেকের জীবন সুন্দর হোক এই কামনা করি।

Click This Link

Click This Link

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29493362 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29493362 2011-11-30 11:38:25
চট্টগ্রামের গরম খবরঃ এখন থেকে চট্টগ্রাম সিটি এলাকায় ‘বিবাহ কর’ দ্বিগুণ এখন থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রত্যেক বিয়ের পাত্রকে ‘বিবাহ কর’ দিতে হবে। যে যত বিয়ে করবে তাকে তত দ্বিগুণ কর দিতে হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ সভায় সরকারের ‘বিবাহ কর’-এর বিষয়টি উত্থাপন করা হলে পুরো হল জুড়ে মহিলা এবং পুরুষ কাউন্সিলরদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রথম বিয়ের জন্য পাত্রকে সর্বনিম্ন ২৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ টাকা দিতে হবে।

গতকাল সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ সভায় প্রস্তাব অনুযায়ী একজন পুরুষকে প্রথম বিয়ের জন্য বছরে বিয়ে কর দিতে হবে ৫০ টাকা,

প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর অথবা প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করলে তাকে বছরে দিতে হবে ২ হাজার টাকা,

১ম ও ২য় স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে তৃতীয় বিয়ে করলে তাকে বছরে কর দিতে হবে ১০ হাজার টাকা,

১ম, ২য় ও ৩য় স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে ৪র্থ বিয়ে করলে বছরে দিতে হবে ২০ হাজার টাকা।

গতকাল সিটি কর্পোরেশনের ১৭ তম সাধারণ সভায় সংস্থাপন স্ট্যান্ডিং কমিটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ‘বিবাহ কর’-এর প্রস্তাবটি উপস্থাপন করলে সভায় মেয়র মনজুর আলম উপস্থিত সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় নারী কাউন্সিলররা পুরুষ কাউন্সিলরদের অধিক বিয়ে না করার জন্য এবং করলে দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ বিয়ের কর দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেন। এ সময় নারী কাউন্সিলররা বলেন, পুরুষদের একাধিক বিয়ের প্রবণতা নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ‘বিবাহ কর’ নির্ধারণ করা উচিত। এখন থেকে প্রথম বিয়েতে কাবিননামার সাথে কর দিতে হবে। পরবর্তী বিয়েতে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে এই কর দিতে হবে বলে জানা গেছে।

বাকীটা পড়তে হলে ...........
Click This Link ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29489389 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29489389 2011-11-24 11:04:12
অগ্রীম সংবাদঃ সিটিজি৪বিডি আর....... (মরিতে চাহিনা আমি এই সুন্দর ভুবনে)
শিরোনাম দেখে কি চমকে উঠেছেন? *** সিটিজি৪বিডি*** নিকধারী ব্লগার মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন কি সত্যিই আর নেই। এই দুঃসংবাদ শুনে আমার প্রিয় ব্লগাররা আমাকে স্মৃতিচারণ করবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন। বিগত দিনে বিভিন্ন ব্লগ সাইটে আমি কি কি পোষ্ট করেছি আমার ব্লগ বাড়ীতে গিয়ে দেখে আসবেন। এক সময় হাজার হাজার পোষ্টের ভীড়ে আমার পোষ্টসমুহ হারিয়ে যাবে। আপনাদের মেমোরী থেকে আমার নামটি মুছে যাবে। এটাই স্বাভাবিক। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তবে আমি আমার পোষ্টসমুহ ও প্রিয় ব্লগসারদের প্রিয় পোষ্টসমুহ পিডিএফ করে সংরক্ষণ করছি। যাতে করে আমার পরবর্তী প্রজন্মরা পড়তে পারে। ইদানিং আমার হারিয়ে যাওয়ার সংবাদটা কিভাবে পাবেন এইটা নিয়ে চিন্তিত আছি। আপনাদেরকে জানিয়ে দেবার দায়িত্বটা আমার পরিবারের কাউকে না কাউকে দিয়ে যাব। তবে সৃষ্টিকর্তার কাছে সবসময় দীর্ঘ জীবন কামনা করি। কারন মরিতে চাহিনা আমি এই সুন্দর ভুবনে।

মৃত্যু আমার/আপনার জীবনের শেষ অধ্যায় নয়। আমাদেরকে যিনি সৃষ্টি করেছেন, তাঁর দরবারে আমাদেরকে প্রতিটি কর্মকান্ডের হিসাব দিতে হবে। ভাল কাজ করলে পুরস্কিত করবেন আর মন্দ কাজ করলে শাস্তি দিবেন। মৃত্যু পর আমাদেরকে কেয়ামত না হওযা পর্যন্ত কবরে থাকতে হবে। হাশরের ময়দানে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে হবে। আল্লাহর আদালতের কাটগড়ায় দাঁড়াতে হবে। বিচারকার্য শেষে পুলসিরাত পার হতে হবে। তারপর জান্নাত অথবা জাহান্নাম হবে শেষ ঠিকানা।

মৃত্যুঃ

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আবার আমাদেরকে মৃত্যু দান করবেন। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেন - প্রতিটি প্রাণ নিশ্চয় নেবে মৃত্যুর স্বাদ। হাশরের দিন তোমরা পাবে তোমাদের কৃতকর্মের ফল। পুরোপুরি। যাকে আগুন থেকে রাখা হবে দুরে আর ঢোকানো হবে বাগানে সেই পেলো সাফল্য। দুনিয়ার জীবন তো শুধু ছলনার। - সুরা আল ইমরান।

কবরঃ

আল্লাহপাক কোরআনে ইরশাদ করেন - “তাদের সামনে রয়েছে বরজখ, তথায় তারা পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত থাকবে।” (২৩:মুমিনুন ; ১০০ নং আয়াত)

কবরে ইন্টারভিউ দিতে হবে। কবরের মুনকীর নকীর প্রশ্ন করে-
মান রাব্বুকা ? (তোমার প্রতিপালক কে?) ওয়ামা দ্বীনুকা ? (তোমার ধর্ম কি?) ওয়ামান নাবিউয়ুকা? (তোমার নবী কে?)
ইন্টারভিউতে পাশ করলে আল্লাহ তায়ালা আমাদের কবরকে জান্নাতের সাথে কানেকশন করে দিবেন। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন - ঈমানদার ব্যক্তি কবরের একটি সবুজ বাগানে অবস্থান করবে। তার কবর সত্তর গজ প্রশস্থ করে দেয়া হয়। পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় তার কবর আলোকিত হয়। অত:পর তিনি উপস্থিত সাহাবাদিগকে উদ্দেশ্য করে বলেন-
“নিশ্চয় তার জন ্য সংকীর্ন জীবিকা হবে।” (সুরা তোয়াহা, আয়াত ১২৩)
এ আয়াত কার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে তোমরা কি তা জান? উপস্থিত সাহাবাগন বললেন যে- আল্লাহ ও তদীয় রাসুল তা ভাল জানেন। রাসুল (সাঃ) বললেন- এতে কাফিরদের কবরের আযাবের কথা বলা হয়েছে। কাফিরদের কবরে নিরানব্বইটি অজগর নিযুক্ত করা হবে। এবং এ সর্পের অবস্থা কি জান? এতে প্রত্যেকটির সাতটি করে ফণা থাকবে। এরা কিয়ামত পর্যন্ত তাকে দংশন করতে থাকবে।”

আখিরাতঃ

একদিন আখিরাত অনুষ্টিত হবে। আখিরাত বলতে মৃত্যুর পর থেকে অনন্ত কালের দীর্ঘ সময়কে বুঝায়। এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কবর, হাশর, হিসাব, পুলসিরাত এবং জান্নাত বা জাহান্নাম সব কিছুই অন্তর্ভূক্ত। পবিত্র কোরআন ও হাদীসে আখিরাতের জীবনকে দুটি পর্যায়ে বিন্যাস করা হয়েছে, ১. মৃত্যু হতে কিয়ামত পর্যন্ত ২. কিয়ামত হতে অন্তকাল পর্যন্ত যেখানে মৃত্যু ও ধবংস কিছুই নেই।

হাশর ময়দানঃ

তারপর হাশরের ময়দানে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে হবে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “এ সেদিন যেদিন সমস্ত মানুষকে একত্রিত করা হবে। এ সেদিন যেদিন সকলকে উপস্থিত করা হবে।” (সূরা হূদ ঃ ১০৩)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ঐদিন মানুষ খালি পা, উলঙ্গ এবং খতনা বিহীন অবস্থায় হাশরের ময়দানে উপস্থিত হবে। শরীর হতে ঘাম ঝরতে ঝরতে মুখ পর্যন্ত ডুবে যাবে এবং কানে লতি পযন্ত পৌছবে। হযরত আয়েশা (রাঃ) এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ)! বড় লজ্জার কথা। আমরা একে অপরকে কিভাবে উলঙ্গ অবস্থায় দেখব? রাসুল (সাঃ) বলেন- সেদিন মানুষের এ চিন্তাই থাকবে না। তারা অন্য চিন্তায় থাকবে। একে অপরের প্রতি তাকাবার সুযোগও পাবে না।

পবিত্র কুরআনে আছে-“সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ চিন্তায় মশগুল থাকবে। আর এতেই লেগে থাকবে।” (সূরা আবাসা/আয়াত:৩৬)

হাশর ময়দানে আরশের ছায়াঃ
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, আল্লাহ পাক সাত প্রকার মানুষকে (হাশরের দিন) স্বীয় আরশের ছায়াতে স্থান দিবেন, যে দিন তাঁর আরশের ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না। সে সাত শ্রেনীর মানুষ হলো-
১) আদেল ও ন্যায়পরায়ণ বাদশা।
২) ঐ যুবক যে আল্লাহর এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে।
৩) যার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে মসজিদ হতে বের হওয়ার পর পুনরায় মসজিদে ফিরে না আসা পর্যন্ত।
৪) যে দুই ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্য পরস্পরকে ভালবাসে এবং আল্লাহর জন্যই পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়।
৫) যে ব্যক্তি আল্লাহর স্মরণে নীরবে অশ্র“ ঝরায়।
৬) যে ব্যক্তিকে কোন রূপসী নারী অপকর্মের জন্য আহবান করে এবং সে এই বলে তার আহবান প্রত্যাখান করে যে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।
৭) যে ব্যক্তি এমন ভাবে কোন দান-সদকা করে যে, তার ডান হাত কি দান করল তা তার বাম হাতও টের পায় না।” (বূখারী ও মুসলিম)

মীযান বা দাড়িপাল্লাঃ

মানুষের নেক আ’মল ও বদ আ’মল ওজন করার জন্য হাশরের মাঠে মীযান স্থাপন করা হবে। এক পাল্লায় নেক আ’মল অন্য পাল্লায় বদ আ’মল রেখে তা ওজন করা হবে। যার নেক আ’মলের পাল্লা ভারী ও খারাপ আ’মলের পাল্লা হালকা হবে, সে বেহেশত লাভ করবে। আর যার নেক আ’মলের পাল্লা হালকা এবং বদ আ’মলের পাল্লা ভারী হবে সে দোযখে যাবে।

পুলসিরাতঃ

হাশরের ময়দানে বেহেশত ও দোযখ এনে উপস্থিত করা হবে। বেহেশত উঁচু স্থানে আর দোযখ রাখা হবে গভীর নিন্মে। দোযখের উপর একটি পুল স্থাপন করা হবে সেটিই পুলসিরাত নামে পরিচিত। ঐ পুলের শেষ প্রান্তে বেহেশত অবস্থিত। বেহেস্তে যেতে হলে সেই পুলটি পেরিয়ে যেতে হবে। মানুষের নেকি-বদি ওজন এবং হিসাব-নিকাশের পর সকল লোকজনকে বলা হবে, তোমরা এখন নিজ নিজ স্থানে চলে যাও। ফিরিস্তাগন আল্লাহর নির্দেশে বান্দাগনকে পুলসিরাত দেখিয়ে দিয়ে বলবে এই তোমাদের পথ। এই পুল পেরিয়েই তোমাদেরকে যেতে হবে। কিন্তু সবার জন্য ঐ পুল পার হওয়া সম্ভব হবে না। পাপীরা সেটাকে চুল থেকেও চিকন দেখতে পাবে। তাদের জন্য সেটি হবে অত্যন্ত ধারালো। তারা ঔ পুলে আরোহণ করা মাত্রই তাদের পদদ্বয় কেটে তারা নিন্মস্থ দোযখে পড়ে যাবে। আর নেককারদের জন্য হবে সুপ্রশস্থ সুগম পথ। তারা তাদের নেকীর তারতম্যানুযায়ী কেউবা বিজলীর মত মুহুর্ত্বে পুলসিরাত অতিক্রম করবে। কেউ বা বায়ূ বেগে, আবার কেউবা দ্রত দৌড়ে, কেউবা ধীর মন্তর গতিতে হেঁটে হেঁটে পুল পার হয়ে তাদের গন্তব্যস্থল বেহেস্তে পৌছে যাবে।

জান্নাত ও জাহান্নামঃ

পুলসিরাত পার হয়ে জান্নাত অথবা জাহান্নামই হবে আপনার আমার শেষ ঠিকানা।

সর্ব প্রথম রাসুলুল্লাহ (সাঃ) জান্নাতে প্রবেশ করবেঃ
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, কিয়ামতের দিনে আমিই প্রথম জান্নাতের দরজার কাছে আসব এবং ইহাকে খুলাইব। জান্নাতের প্রহরী জিজ্ঞেস করবে আপনি কে? আমি বলব যে আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ! সে বলবে, আপনার পূর্বে অন্য কারও উদ্দেশ্যে দরজা না খোলার জন্য আমাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

জাহান্নামে কেউ মরবেও না এবং বাঁচবেও নাঃ
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- “ যে তার প্রতিপালকের নিকট অপরাধী (পাপী) হয়ে উপস্থিত হবে তার জন্য তো আছে জাহান্নাম, সেখানে সে মরবেও না বাঁচবেও না।” (সূরা ত্বা-হা ঃ ৭৪)




পরিশেষে-
হে আল্লাহ! আমরা তোমার সন্তুষ্টি আর জান্নাত চাই।

তোমার গোস্বা আর গুনাহ থেকে পানাহ চাই।

হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে জান্নাত, জান্নাতি আমল এবং তার কথা ও কর্মের তওফিক চাই।

হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে জাহান্নাম, জাহান্নামী আমল এবং তার কথা ও কর্ম থেকে পানাহ চাই।

হে আল্লাহ! চিরস্থায়ী ও চক্ষু শীতলকারী নেয়ামত চাই।

হে আল্লাহ! তোমার চেহারায় দৃষ্টি দেয়ার স্বাদ আস্বাদন করতে চাই, তোমার সাক্ষাতের প্রেরণা চাই।

হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে কবুল কর। আমীন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29489011 http://www.somewhereinblog.net/blog/ctg4bd/29489011 2011-11-23 18:54:32