আমার প্রিয় পোস্ট
- মুক্তি পেয়েও আরিফের ফেরারী যাপন - অমি রহমান পিয়াল
- ব্লগ টূর্ণামেন্ট, মে, ২০০৮: আবাহনীবনাম মোহামেডান (উৎসর্গ: শফিউল আলম ইমন) - জ্বিনের বাদশা
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
- ঈশ্বর ও বিজ্ঞান- "আছে" ও "নাই" প্রমাণের কথিত দ্বন্দ্ব (শেষ পর্ব) - নাস্তিকের ধর্মকথা
- ঈশ্বর ও বিজ্ঞান- "আছে" ও "নাই" প্রমাণের কথিত দ্বন্দ্ব - নাস্তিকের ধর্মকথা
- ঢাকা - ৪০০ বছরের পূরানো এক শহর - পর্ব ২ - ক্যামেরাম্যান
- অভিশাপ নারে আশীর্বাদ দিমু (উৎসর্গ : প্রিয় ব্লগার সামী মিয়াদাদ কে) রি-পোস্ট - উত্তরাধিকার
- নবীনদের জন্য - নাদান
- শিল্পী এস এম সুলতান ও ভিনসেন্ট ভ্যান গঘঃ জীবন কারিগর - নাস্তিকের ধর্মকথা
- দ্বিতীয় আগমন ।। ডব্লিউ বি ইএট্স্ - মুকুল
- রবীন্দ্র বুড়ো আমাদের চেতনার হিটলার (সামীর জন্য) - অন্যমনস্ক শরৎ
- নস্টালজিয়া, একটি আগাম মৃত্যুর ইতিহাস (বাকী বিল্লাহ জন্য) - অন্যমনস্ক শরৎ
- রাজকন্যার কাছে বাবার কৈফিয়ত... - অমি রহমান পিয়াল
- একটা শরীর বিষয়ক কবিতা - জামাল ভাস্কর
- বাক বাকুম বাক স্বাধীনতা - দিনমজুর
- অন্তর্জালে আমি কাদের কাদের পুন মার্তে চাই? - পাগলা গারদের ওয়ার্ডেন
- বাংলা বই পড়ুন - শরীফ উদ্দীন
- কবিতা ।। বড়লোকদের সঙ্গে আমি মিশতে চাই (2002) - ব্রাত্য রাইসু
- প্রথম দশকের টানা-গদ্যের কবিতা ও জীবনবাবুর ‘মাত্রা চেতনা’ - মাজুল হাসান
- ব্লগার প্রতুর বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়ে গঠিত কমিটির প্রথম রিপোর্ট (১৮+) - শওকত হোসেন মাসুম
- সৈয়দ শামসুল হক বললেন ভারত বিভাগ একটা ঐতিহাসিক শোকের ঘটনা - কৌশিক
- লুই কান এবং বাংলাদেশ - তানভীর
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও নানাবিধ যুক্তি : শিশুর সাথে আরেকটি আলাপচারিতা - আরিফ জেবতিক
- ওহে সামী মিয়াদাদ - আমার সঙ্গে দ্বন্দ যুদ্ধ!! - তবে তাই হোক - রাজামশাই
- ভাত ফকির - অন্যমনস্ক শরৎ
- সঙ্গম ও গর্ভধারন সম্পর্কিত কয়েকটি প্রস্তাবনা - নীল জোনাকি
- মহাকবি মাইকেল মোঃ মেহদী ফেন কেলাবে দলে দলে যোগ দিন - অচেনা বাঙালি
- "আল্লাহ"র লিঙ্গ কি? (শুধুই ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের চেস্টা) - নাস্তিকের ধর্মকথা
- Enigma ব্যান্ড নিয়ে কিছু কথা - রাশেদ
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- সেই কালোরাতে ইথারে খুনীরা যা বলেছিলো...২ - অমি রহমান পিয়াল
- সেই কালোরাতে ইথারে খুনীরা যা বলেছিলো.... - অমি রহমান পিয়াল
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের তালিকা - ফারহান দাউদ
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস,গল্প ও কবিতা সংকলনের তালিকা - ফারহান দাউদ
- মোল্লারা সম্পত্তি সংকোচনের ভয়ে ধর্মের বিধান নিয়ে লম্ফঝম্ফ শুরু করেছে - কৌশিক
- আগুনের পরশমনিতে কৌশিক: প্রাপ্তি ফাউন্ডেশনের অন্যতম সংগঠক হিসেবে আমাদের মন জয় করেছেন যিনি - এস এম মাহবুব মুর্শেদ
- আস্তমেয়ের আলাপনে সম্পূর্ণতার প্রতিবিম্ব অন্বেষণ - কৌশিক
- কবিতা সমগ্র : উৎসর্গ নীলাঞ্জনা - অমি রহমান পিয়াল
- বই পড়তে চাই, নাম দিন প্লীজ! - সন্ধ্যাবাতি
- ব্লগার বন্ধুদের জন্মদিন........ - শফিউল আলম ইমন
- বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার জীবনী - রাগিব
- দি টর্চার অব তাসনিম খলিল - তারিক টুকু
- আপনার প্রিয় মুভির তালিকা দিন - সাঈফ শেরিফ
- জনস্বার্থের পোস্ট: ব্লগে আপনার নিজের সেরা লেখা কোনটি? (সবার অংশগ্রহন বাধ্যতামূলক)
- জ্বিনের বাদশা
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীকে নিয়ে কিছু কথা - অমি রহমান পিয়াল
- ডক্টর জাফর ইকবালের লেখা, মিরাজভাই, এ-টীম এবং নরাধমের কিছু কথা। - নরাধম
- আমি নাস্তিক। - পুতুল
- বাঙাল গরব ৩ : বাঙালিই থামিয়ে দিয়েছিল আলেকজান্ডারকে - অচেনা বাঙালি
- ছি ছি! ইসলাম এতো খারাপ? - ফারজানা মাহবুবা
- রাজাকারমুক্ত ব্লগ হোক ২০০৮ এর অর্জন - অমি রহমান পিয়াল
- টেড হিউজের সাক্ষাৎকার ( বাকি অংশ) - মৃদুল মাহবুব
- টেড হিউজের স্বাক্ষাৎকার - মৃদুল মাহবুব
- 'মকছুদোল মো'মেনীন ও নারী শিক্ষা বা বেহেশতের কুঞ্জী' বইটি কি নিষিদ্ধ হওয়া উচিত নয়? - মুজিব মেহদী
- নাস্তিকতার চরিতার্থ! - হমপগ্র
- সামহোয়্যারইন: আমার লেখার জমিন - কি চাই, কি চাইনা এবং কি জানতে চাই - মিরাজ
- সামহোয়্যারইনব্লগের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা - একরামুল হক শামীম
- সারা দেশে জামাতের শিক্ষা বাণিজ্য নেটওয়ার্ক এবং দেশদ্রোহীতার একটি সাম্প্রতিক দলীল - আদৃতা আবৃত্তি
- সামহয়ার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ # বিষয় : মত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি - মাহবুব মোর্শেদ
- উনিশ শ একাত্তরে দেশের একটি সাধারন ঘটনা, যা আমাদের পরিবারের অসাধারণ। - সাজেদ
- ছোট ছোট সুখগুলো যেভাবে দুঃখ হয়ে উঠছে - মাছরাঙ্গা
- কবিতার প্রাথমিক ছন্দ - শেখ জলিল
- আবুলের ফাঁসি ও আমজনতার আত্মতৃপ্তি - সালাহউদ্দীন মুহম্মদ সুমন
- কবিতার ভাংগা-গড়া (রিপোস্ট করা হলো,অনুরোধে)/বিহংগ - বিহংগ
- কবিতা এবং মন্তব্য- (পর্ব-১) [সবাই ইচ্ছে মতন বলুন এখানে] - কাল্বেলা
- কবিতা এবং মন্তব্য (পর্ব-২) [ কবিতা বোঝার জন্য একজন পাঠক কি করতে পারেন] - কাল্বেলা
- গদ্য কবিতার ছন্দ - শেখ জলিল
- ঢাকা, মৃতের শহর । । ঢাকা, সিটি অব দ্যা ডেড । । টাইম ম্যাগাজিন। সোমবার, মে ৩, ১৯৭১ - এহহামিদা
- এক অখ্যাত কবির পোস্টমর্টেম - ফরহাদ উিদ্দন স্বপন
- কবিতার চিত্রকল্প, কালিক চেতনার ধারা - ফকির ইলিয়াস
- কবি কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ার : প্রকৃতির উঠোনে কবিতার বরপুত্র - ফকির ইলিয়াস
- বিজয় দিবসে কিছু ভিডিও ফুটেজ - অমি রহমান পিয়াল
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইলের উঠোন - আইরিন সুলতানা
- বিহংগের সরল কথা - বিহংগ
- তুমি একটু কেবল বসতে দিও কাছে-(বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে একটি খোলা চিঠি) - স্বপ্নডানা
- আপনি কেমন আছেন কবি দাউদ হায়দার! - মাসকাওয়াথ আহসান
- ডেথ অব আ জিনিয়াস : জহির রায়হান - অমি রহমান পিয়াল
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- কবিতাভাবনা: এজরা পাউন্ড - তারিক টুকু
- সামাজিক মাষ্টারবেশন শেষে নৌয়ার নৌকায় - সিহাব চৌধুরী
- পাকিস্তানের জন্য গোলাম আযমের আক্ষেপ ফুরাবে না! - শওকত হোসেন মাসুম
- ভাষার আগুনে কয়েক ফোঁটা ঘি - ফাহমিদুল হক
- পূরব দেশের পুরনারী - আইরিন সুলতানা
- শুদ্ধিকরণ, ব্যাখ্যা : মিলান কুন্ডেরার একটি সাক্ষৎকার - মৃদুল মাহবুব
- জলের ভিতর দিয়ে - মাছরাঙ্গা
- মিথ্যাবাদী মা - সুখী মানুষ
- হে ভালবাসা, তোমার জন্য বড় অসমান এই পৃথিবী (চতুরভূজ) - চতুরভূজ
- মাসুদ খানের গোধূলিব্যঞ্জন - মুজিব মেহদী
- কথা দিলাম .... (উত্সর্গ রাহেলাদের) - মনের কথা
- অধীনের বিণীত নিবেদন - মাছরাঙ্গা
- চুমু বা চুম্বন গবেষণা (পড়ার সময় অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হোক!+১৮ - সারওয়ারচৌধুরী
- একজন ধর্ষীতার কথা - ১ - বিদ্রোহী রণক্লান্ত
- স্বৈরাচার নীপাত যাক... - অমি রহমান পিয়াল
- মেয়ে, তুমি পুরুষ হও - যীশূ
- গুপ্ত হৃদয় - মাছরাঙ্গা
- যে বই গুলো পড়া দরকার (সবগুলোর লিস্ট) - সপ্নীল
- একজন শিবির হিসেবে যা বিশ্বাস করি - ঘাস-ফড়িং
- ইমরান ব্লগ স্রষ্ট া - দেবরা
- জীবনের প্রয়োজনে জীবন যেখানে পরাজিত।(চতুরভূজ) - চতুরভূজ
- একজন ধর্মপতিতের বিদ্রোহ! - দেবদারু
- একটি মৃত্যু আর আমার যত আক্ষেপ - ডাক্তার আইজউদ্দিন
- হুমায়ুন আজাদ যেখানে জিতে গেছেন - মুহম্মদ জুবায়ের
- একটি ম্যাসেজ - বিহংগ
- বিজ্ঞাপনোষ্টালজিয়া ... - অলৌকিক হাসান
- দু টাকার গল্প - মাছরাঙ্গা
- শেয়ার মার্কেট - মাছরাঙ্গা
- আমি কেন এক বারো জননী জাহানারা ইমাম হতে চাইনি - সুমি
- একটি ফুল খুনের গল্প। প্লিজ পড়ুন, হয়তোবা আপনার দুমিনিট সময় আমার জন্য দিলেন। - বিহংগ
- পূর্ব পাকিস্তান সরকারের ৭১ এর গোপন দলিল: মন্ত্রী নিজামী, মুজাহিদ মুক্তিযুদ্ধ প্রতিহত করতে ততপর ছিলেন - শওকত হোসেন মাসুম
- এক সানকির ইয়ার - শিলা
- চোরের স্রষ্টার পক্ষ থেকে কৈফিয়ত - চোর
- কবির প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠা - মুজিব মেহদী
- জন্মদিন - সৃজন
- দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাব - সৃজন
- লেভ তলস্তয়কে কেন নোবেল দেয়া হলো না? # আন্দ্রেই চেরকাসভ - মাহবুব মোর্শেদ
- যদি চাই, তবে ভাবতে হবে... - এনামুল করিম নির্ঝর
- শহীদ কাদরীর কবিতা : হন্তারকদের প্রতি - মুহম্মদ জুবায়ের
আমি সর্বদা একদিকে কাত হয়ে হেলে থাকি
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:৫২
আমি সর্বদা একদিকে কাত হয়ে হেলে থাকি। জন্মের পর থেকে জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসেও আমি একদিকে কাত হয়ে হেলে আছি। নিজেকে এখন মনে হয় পিসার ঐ হেলানো টাওয়ারটার মতো। ভালবাসা-ঘৃণায়, হিংসা-দ্বেষে, রাগে-ক্ষোভে, সরলতা-জটিলাতায় ক্ষুধা-তৃষ্ঞায়-কাতরতায় আমি প্রতিনিয়ত একদিকে কাত হয়ে হেলে থাকি। যদিও কখনোই আমি এই হেলে পড়াটাকে ভালভাবে ব্যবহার করতে পারিনি। তাইতো আমার জীবন বারবার হেলে পড়ার নির্মমতার শিকার হয়েছে। মাঝে মাঝে আমার হাসফাস লাগে। কবি সুনীল ৩৩ বছর অপেক্ষা করে ধৈর্য্য হারিয়ে শেষে হাহাকার করে বলেছিলেন "নাদের আলি, আমি আর কতো বড় হবো?" কবির মতো আমারো চিতকার করে বলতে ইচ্ছে করে, আমি আর কতো হেলে পড়বো? কতবার কতটুকু হেলে পড়লে আমি এই হেলে পড়ার নির্মমতা থেকে মুক্তি পাবো?
নিজের কোন জন্মদিনের কথাই আমার নিজ থেকে কখনো মনে আসেনা। হেলে পড়তে পড়তে আমার জন্মদিনের কথাও আজ মাথা থেকে ছিটকে পড়েছে। এখন সন্তানেরা, বন্ধু-বান্ধবেরা শুভেচ্ছা জানালেই মনে হয় যে ঐদিন আমি জন্মেছিলাম। ঐদিন থেকেই আমি পৃথিবী নামক কারাগারে বন্দী হতে বাধ্য হয়েছিলাম। সুখে-অসুখে, চৈত্র-বৈশাখে, বৃষ্টি-বাদলে, গ্রীষ্ম-বর্ষায়, আনন্দ-বেদনায়, রাগ-অভিমানে, বালতির জলে-চোখের জলে, হাসি-কান্নায়, প্রেমে-অপ্রেমে, ক্ষুধা-তৃষ্ঞায়, ঝগড়া-বিবাদে, মিলন-বিচ্ছেদে যারা দীর্ঘ দিন একসাথে ছিলেন, আজ থেকে অনেক বছর আগে ১লা ফাল্গুনে যারা তিন কবুলের এক সামাজিক শেকলের মাধ্যমে আবদ্ধ হয়েছিলেন এক মহান দৃঢ় বন্ধনে, তাঁদের পারস্পরিক ভালবাসার ফলস্বরূপ আমি পৃথিবীতে আবির্ভূত হলাম এবং একদিকে হেলে পড়তে শিখলাম।
যদিও হেলে পড়াতে বরাবরই আমি বেশ হতবিহ্বল
বোধ করি। তারপরও আমাকে হেলে পড়তে হয়েছে, আজও হেলে পড়তে হয়।
জন্মের পর প্রায় সাতটি বছর বাবাকে পাশে পাইনি। জীবনের প্রয়োজনে, ইদুর দৌড় দৌড়াতে দৌড়াতে বাবাকে দেশের সীমারেখা পার হয়ে পাড়ি দিতে হয়েছিল বিদেশে। কাজেই শুরু হয়েছিল আমার হেলে পড়া। মাকে বেশী কাছে পেয়েছিলাম, স্বভাবতই আমি মায়ের দিকে হেলে পড়লাম। ছোটবেলার কোন স্মৃতিই আজ বেশী মনে পড়েনা, শুধু এটুকু মনে আছে কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করতো কাকে বেশী ভালবাসি, মাকে না বাবাকে? আমি নির্দ্বিধায় উত্তর দিতাম, "আমি মাকে বেশী ভালবাসি"। যদিও কালে অকালে, সুযোগে-দুর্যোগে আমি অনেকবারই আমার বাবার দিকেও নির্দ্বিধায় হেলে পড়েছি।(ক্লোজআপহাসি)
সবচেয়ে বিহ্বল বোধ করতাম যখন আমার মা-বাবা দাম্পত্য কলহ নামক রোমান্টিক ঘটনার রোমান্টিসিজমে নিজেদের জড়িয়ে ফেলতেন। কলহের একপর্যায়ে আমার মা চিরাচরিত নিয়মে আমাকে নিয়ে নানার বাড়ির দিকে রওয়ানা হওয়ার পায়তার করতেন। আমি হতাশ দৃষ্টিতে দিশেহারা একটা ভাব নিয়ে মা-বাবা দু’জনের দিকেই তাকিয়ে থাকতাম। কার দিকে হেলে পড়বো তা নিয়ে মনে চলতো তুমুল যুদ্ধ। মা না বাবা.....বাবা না মা....আবার বাবা না মা.... অথবা.... মা না বাবা....। মা...বাবা...মা...বাবা...মা...মা...মা...বাবা...বাবা...বাবা...মা...বাবা...মা...বাবা চলতো আমার দীর্ঘ, জটিল পারমুটেশন কম্বিনেশন।
কখনই কোন উত্তর খুজে পাইনি। যদিও চরম নির্মমতায় আমাকে সবসময়ই কারও না কারও দিকে হেলে পড়তে হতো। বড়োই বিহ্বল, অসহায় বোধ করতাম। কেউ যেন আমার দেহটাকে, আমার মনটাকে টেনে দুই টুকরো করে ফেলছে, এমন মনে হতো আমার।
বড়ো হতে থাকলাম, হেলে পড়তে শিখলাম প্রবলভাবে। মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, যখন যার দিকে হাওয়া আমি তার দিকেই হেলে পড়েছি দ্বিধাহীন চিত্তে। সুবিধাবাদী মানুষের মতো, তালগাছ হয়ে খাম্বার মতো দাড়িয়ে থাকা বরাবরই ছিল আমার স্বভাব বিরুদ্ধ। কখনও কখনও প্রবল আকর্ষনে হেলে পড়েছি কোন এক নারীর দিকেও। কিন্তু মা-বাবা হেলে পড়ার বেশী সুযোগ দিলেন না। তাঁদের কাছে এই হেলে পড়াটাকে সামাজিকভাবে ঠিক বিধিসম্মত মনে হয়নি। আমি মায়ের দিকে, বাবার দিকে, ঘরের দিকে, বাড়ীর দিকে, ইতিহাস-পাতিহাস-রাজহাসের দিকে, এমনকি বটগাছের দিকে অথবা উত্তর-দক্ষিন-পূর্ব-পশ্চিম আরও নানা দিকে অযুত-নিযুত-লক্ষবার হেলে পড়তে পারি, কিন্তু কোন মেয়ের দিকে, কোন নারীর দিকে আমি হেলে পড়তে পারিনা। এতে আমাদের সমাজপতিরা ক্ষুব্ধ হন, দেবতারা রূষ্ঠ হন। তাইতো মা-বাবা চব্বিশ বছর বয়সেই আমার প্রতি হেলে পড়া সেই নারীর সাথে আমাকে সামাজিক শেকলে আবদ্ধ হতে বাধ্য করলেন। আমি বড়ই উতফুল্ল বোধ করেছিলাম। মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতো হেলে পড়তে না চাইতেই একেবারে পতনের লাইসেন্স।
গিন্নির কোলে পতিত হলাম। তার দিকে যারপরনাই ভাবে হেলে পড়লাম। কিছুদিন যেতে না যেতেই হঠাত পেছন পানে টান অনুভূত হলো।
গিন্নির প্রতি হেলে পড়লেও প্রকৃতি আমার রশিটি রেখে দিয়েছিলেন আরেকজনের হাতে। তাই এই বিপরীতমুখী টান। হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হয়ে অসহায় বোধ করতে লাগলাম। বান্গালী মধ্যবিত্তের চিরাচরিত সেই বউ-শাশুড়ীর যুদ্ধ। মাঝে আমি চিড়েচ্যাপ্টা অবস্হায় ফাঁটা বাঁশে লেজ আটকে পড়া সেই বাদরের মতো ত্রাহি ত্রাহি করতে লাগলাম। আজ গিন্নি অনুযোগ করে তো কাল মা এসে তার অভিযোগ জানিয়ে যায়। হেন কোন বিষয় নেই যাতে তাদের দু’জনের দ্বিমত হয়না। মা উত্তর বললে তার বউ বলে দক্ষিন, বউ পূর্ব বললে শাশুড়ী বলে পশ্চিম। আমার চোখের জল ফেলা ছাড়া কোন গতি রইলনা।(আম্মাআআ) মা আর বউয়ের ঠেলাঠেলিতে আমার ভালবাসার ভালো বাসাটি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়লো। মা...বউ...মা...বউ...বউ...মা...বউ...মা...বউ...বউ...মা...মা...বউ...মা...বউ...মা.. এভাবে আবার সেই পারমুটেশন কম্বিনেশনের গোলকধাঁধায় আটকা পড়লাম।(বাঁচাওওও)
এরই মাঝে জীবনের সবচেয়ে স্মরনীয় ঘটনা ঘটলো। আমাদের ঘর আলো করে ফুটফুটে চাঁদের মতো এলো এক দেবশিশু। আমি পেলাম পিতৃত্বের অমোঘ আস্বাদ। গিন্নি পেল বহুল প্রতিক্ষিত মাতৃত্বের কোমল যন্ত্রনা। সৃষ্টিশীলতার বেদনায় সে রাঙা হয়ে উঠলো। তার কোল জুড়ে আসল আমাদের প্রথম সন্তান “হাসি”। আমার মা-বাবাও দাদা-দাদী হয়ে আনন্দে নাচতে থাকলেন। হাসি বড় হতে থাকলো, বছর খানেকের মাঝে আমার আর গিন্নির পরস্পরের হেলাহেলির ফলস্বরূপ আরেক দেবশিশুর আগমন ঘটলো। প্রথম সন্তান হাসির সাথে মিলিয়ে দ্বিতীয় জনের নাম রাখা হলো "খুশী"। হাসি-খুশী বড়ো হতে থাকলো, তাদের দু’জনকে নিয়েই আমাদের পরিবারে আনন্দের বান ডাকতে থাকলো। বানের তোড়ে ভেসে গেলাম এবং গিয়ে পড়লাম আবার সেই পারমুটেশন কম্বিনেশনের মায়াজালের বিভ্রমে।
হাসি-খুশী দু’টোর মাঝে সবসময়ই ঝগড়া লেগে থাকতো। এখন হাসির বিচার তো একটু পর খুশীর বিচার। এই খুশীর কান্না তো কিছুক্ষন পরই হাসির চিতকার। এমন কোন দিন নেই যে অফিস থেকে ফেরার পর আমার উপর হেলে পড়ার নির্মমতা বিরাজ করেনি। হাসিকে খুশী রাখার জন্য খুশীকে চোখ রাঙাতে হতো, আবার খুশীর মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলার জন্য পর মূহুর্তেই হাসিকে শাসাতে হতো। এ বড়ো অদ্ভুত মায়ার গোলকধাঁধা। হাসি...খুশী...হাসি...খুশী...হাসি...হাসি...খুশী...খুশী...হাসি...খুশী...হাসি...খুশী... আবার সেই চিরাচরিত পারমুটেশন কম্বিনেশন। আবার সেই চিরচেনা হেলে পড়া।(বাঁচাওওও)
চাকুরী জীবনেও বারবার হেলে পড়তে হলো। ঘুষ খেতে হবে ভেবে, সেকালের সোনার হরিণ “সরকারী চাকুরী” কে বুড়ো আঙুল দেখানোর মতো দুঃসাহসিক কর্ম সম্পাদনার পর আমি অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ঠাই নিয়েছিলাম একটা ব্যক্তিগত মালিকানাধিন প্রতিষ্ঠানে। ব্যবসার মালিক দুই সহোদর। রাজা আর বাদশা। বড়ো ভাই রাজা মিয়া প্রতিষ্ঠানের বড়কর্তা আর ছোট ভাই বাদশা মিয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্হাপনা পরিচালক। দু’জনে বেশ মিল, দু’জনে বেশ অমিল। আর এই অমিলের কারনেই আমাকে চাকুরী জীবনেও পেতে হলো আবার হেলে পড়ার স্বাদ। রাজা মিয়া আর বাদশা মিয়ার মাঝে চেহারার যেমন মিল স্বভাবের তেমনি অমিল। দু’জন সম্পূর্ন বিপরীত মেরুনিবাসী। বিপরীত মেরুর এই উভমুখী টানে আমাকে অফিসেও প্রতিনিয়ত একদিকে হেলে থাকতে হলো। রাজা...বাদশা...রাজা...বাদশা...রাজা...রাজা...বাদশা...বাদশা... যেন এ এক মরন ধাঁধা। পারমুটেশন কম্বিনেশেনর এই গোলকধাঁধায় পড়ে চাকুরী বাচানোই হয়ে গেল বিরাট যন্ত্রনা। তবে আশার কথা ছিল রাজা-বাদশার বিপরীতমুখী স্রোত। চাকুরী আমার অনেকবারই আটকে গেল এই উভমুখী স্রোতের গ্যাড়াকলে।
আজ জীবনের শেষ প্রান্তে দাড়িয়েও আমি হেলে আছি। হেলে আছি অনন্তের আস্বাদে, চির অন্ধকারের দিকে। মৃত্যুর ঘুম আমাকে আজ ডাকছে প্রবলভাবে হাতছানি দিয়ে। আমি হেলে আছি, হেলে থাকতে থাকতেই আমি একদিন কবরের গাঢ় অন্ধকারে পতিত হবো। রোগ-শোকে কাতর এই আমি হেলে আছি। প্রতিক্ষা করছি মৃত্যুর, যেমন করে প্রতিক্ষা করেছিল কবি রফিক আজাদের কবিতার নায়ক। প্রেমিকার প্রতি তার সেই প্রতিক্ষা কি ফুরিয়েছিল? আমিও হেলে থাকতে থাকতে অপেক্ষারত, আমারটা কবে ফুরোবে? মা-বাবা গত হয়েছেন কতদিন তা আজ মনে নেই, চোখ বুজলেই ভেসে ওঠে চেহারাদু’টো, গন্ডবেয়ে গড়িয়ে পড়ে টপটপ অশ্রু। মেয়ে দু’টো দেশের বাইরে জামাইয়ের সাথে। সুখে থাক আমার জানেরা, আমার হাসি খুশীরা। গিন্নির মুখ খানা মনে পড়লেই চোখ দু’টো ঝাপসা হয়ে যায়। আমি কাদতে পারিনা। শুধু বিমুড় হয়ে পড়ে থাকি, আজীবন তার দিকে হেলে থাকি। কতদিন, কতরাত একসাথে কেটেছে, একই ছাদের নীচে....কত স্মৃতি...কত....হাসি...কত....কান্না...রাগ...অভিমান...খুনসুটি...কত সুখ...কত...দুখের এক মিশেল অনুভূতি...বিছানার চাদর....ঘরের দেয়াল....ফুলদানী....দেয়ালে...দেয়ালে...ওয়েল...পেইন্টিং...রেকাবে রেকাবে বইয়ের জন্জাল...কথোপকোথনে মুগ্ধ...কন্ঙাবতী...বনলতা সেন...রাত্রি...অতন্দ্রিলা ঘুমাওনি জানি... যেতে হবে বহুদূর ঘুমোনর আগে...পূর্নিমার চাদ যেন ঝলসানো রুটি...প্রিয়...প্রিয়...প্রিয়...পঙক্তিগুলো, মুখগুলো...ভুলগুলো...ভালোবাসাগুলো....ফুলগুলো....ঝরে গেল। আমি শুধু পড়ে থাকলাম, জেগে থাকলাম, হেলে থাকলাম। একাকী...নিঃসন্গ....
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:
লাইফটারে এখন পারমুটেশন-কম্বিনেশন ছাড়া আর কিছু মনে হয় না...থোর বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়...
@ সৃজনধন্যবাদ, এই দীর্ঘ লেখা পড়ার জন্য@বিহংগ
অন্যআনন বলেছেন:
আপনি খুব ভালো একজন মানুষ সামী। ভীষণ সুন্দর সব আশাবাদের দিকে হেলে থাকা একজন মানুষ!
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:
ধন্যবাদ, দীর্ঘ লেখাটা ধৈর্য সহকারে পড়ার জন্য @ এলোমেলোকালপুরুষদা, আমি যদি আপনার মতো কবিতা লেখতে পারতাম?
আমি অনুপ্রানিত দাদা আপনার কাছ থেকে এমন মন্তব্য পেয়ে।
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:
আননদা, মন্তব্য পেয়ে বড়ো ভাল লাগতেছে। একজন উদার, ভাল মানুষই পারে আপনার মতো এমন মন্তব্য করতে।
অন্যরকম বলেছেন:
৫..... ফেভরিটেড!...... বাকরুদ্ধ!মাত্র ২৪ শেই কর্ম সাধনা...!!! অথচ আমার ২৪ পার হয়ে গেছে... এখনো হেলতেও পারি নাই
, কেউ হেলায়ও দেয়নাই
!
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:

হেলে পড়লে আর সোজা হইতে পারবেননা। তখন বুঝবেন ঠেলা....
এত লম্বা লেখাখান পড়ছেন কষ্ট কইরা....কৃতজ্ঞতা রইল....
তুষারমানব, ধন্যবাদ হেলেদুলে লেখাখান পড়ার জন্য। আপনারে দেখিন খুব একটা? তুষারের তলে চাপা পড়লেন নাকি?
তুষারমানব বলেছেন:
হেহ হেহ! চাপা পড়ি নাই। ব্লগে একটু অনিয়মিত।
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:
পিয়াল ভাই....আর হ্যালতে পারুমনা...তাইলে ভূমিকম্প হইতে পারে
....কৃতজ্ঞতা দাদা...তুষারমানব, হুমমমমম...নিয়মিত হন...নিয়মিত হন...
যীশূ বলেছেন:
আমি তো আপনার দিকে খানিকটা হেলে গেলাম। দারুন লেখা।
সাইফুর বলেছেন:
কি লেখছেন....? জটিল সুন্দর
সাইফুর বলেছেন:
পন্চ ভুষিত করলাম
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:
সাইফুর, ধন্যবাদ ভাই...সত্যিই অনুপ্রাণিত...মন্তব্য পাইয়া...পন্চভুষিত হইয়া....
মাহমুদউল্লাহ বলেছেন:
অসম্ভব সুন্দর লেখা সামী। লম্বা লেখা আমি সাধারনত পড়তে পারিনা, আর আপনার লেখাটা শুরু করে একটানে শেষ না করে পারলাম না। ৫।
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:
অচুদা
...ধইন্যবাদ এত বড় লেখা কষ্ট করে পড়ার জন্য...আমিও আপনার দিকে হেইলা গেলাম...না হেইলা মুক্তি নাই...
@মাহমুদউল্লাহ, এত বড় লেখা কষ্ট করে পড়েছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা ভাই...আপনিও লেখেন...আর কত পড়বেন?
মাহমুদউল্লাহ বলেছেন:
হা হা সামী ভাই, আমারে দিয়া লেখা হবেনা তেমন একটা, লিখতে বসলেই আলসেমি লাগে, তাই আমার ব্লগের নাম দিছি গরিবের ব্লগ। ওখানে কোন দিনই টাকাপয়সা (লেখাটেখা) হবেনা।
কেএসআমীন বলেছেন:
শুধু ৫ দিলাই না। প্রিয় পোস্টেও স্থান করে দিলাম। চমত্কার। টংগী কমলাপুরের নতুন ট্রেনের উপর একটি পোস্ট আছে আমার...
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:
@মাহমুদউল্লাহ, আপনাকে একটা বুদ্ধি দেই। লেখালেখির রাজনীতিতে নামেন। দেখবেন টাকাপয়সার অভাব হবেনা। দেখেন না আমাদের দেশের অবস্হা...
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:
@েকএসআমীন, কৃতজ্ঞতা ভাই, দারুনভাবে অনুপ্রাণিত...ধন্যবাদ
ফারহান দাউদ বলেছেন:
পিসা'র টাওয়ার দেখি আপনি,এত হেইলাও টিকে আসেন। হেলানো ৫ দিলাম।


















অসাধারন হইছে .......@সামী মিয়াদাদ
৫