somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মে দিবসের গান (আমার প্রথম ফটোব্লগ)
১. লৌহমানব


২. নির্মলতা


৩. দাস মডেল


৪. নির্মান শিল্পী


৫. ধাবমান গল্প...


৬. একাকী একজন...


৭. জীবনতালা...জন্ম থেকে বন্দী


৮. পিঠা শিল্পী


৯. অব্যক্ত অভিব্যক্তি


১০. অবসর বিনোদন


১১. একরাশ জীবনবোধ...


১২. শীত সন্ধ্যায় এক শীতার্ত বিক্রেতা


১৩. আলো এবং মুখচ্ছবি


১৪. ধোয়াশাচ্ছবি


১৫. একজন বেলুন বালক এবং....


১৬. অত:পর আবারো বেলুন বালক....


১৭. শিরোনামহীন


১৮. কমলা মানব এবং আলো আধারীর খেলা....


২০. শীতের সন্ধ্যা এবং কতশত অব্যক্ত গল্পের খসড়া....


২১. একাকী সংগ্রামে...বিগ্রহে


২২. হাসি


২৩. সূতোর মিস্ত্রী


২৪. বাবার আদর


২৫. আলো-ছায়া-আলো


২৬. নিদারুন অভিব্যক্তি


২৭. হাতুড়ির আর্তচিৎকার....



মে দিবসের গান। এ নামটা অনেকটা সুভাষ মূখার্জী'র "মে দিনের কবিতা" নামক কবিতাটির মতো শোনায়। আমরা মে দিবস পালন করি। তার গল্প জানিনা। আমিও জানিনা। গল্প জানতে ইচ্ছে হয়না। তবে কবিতা পড়তে খুব ভালো লাগে। "মে দিনের কবিতা" একবার পাঠ করা যাক....

মে-দিনের কবিতা

প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা,
চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য
কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।

চিমনির মুখে শোনা সাইরেন-শন্খ,
গান গায় হাতুড়ি ও কাস্তে-
তিল তিল মরনেও জীবন অসংখ্য
জীবনকে চায় ভালবাসতে।

প্রণয়ের যৌতুক দাও প্রতিবন্ধে
মারণের পণ নখদন্তে
বন্ধন ঘুচে যাবে জাগবার ছন্দে,
উজ্জ্বল দিন দিক-অন্তে।

শতাব্ধীলান্হিত আর্তের কান্না
প্রতি নিশ্বাসে আনে লজ্জা;
মৃত্যুর ভয়ে ভীরু ব'সে থাকা, আর না-
পরো পরো যুদ্ধের সজ্জা।

প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
এসে গেছে ধ্বংসের বার্তা,
দূর্যোগ পথ হয় হোক দুর্বোধ্য
চিনে নেবে যৌবন-আত্মা।।

"মে দিনের কবিতা" - সুভাষ মুখোপাধ্যায়


ফুটনোট: আমি নিজেকে কখনোই ছবির কারিগর ভাবিনা। এ সাহস ও আমার নেই। ছবির তাত্বিক এবং কারিগরী দিক সম্পর্কে আমার জ্ঞান খুব অল্প। ছবির পেছনের গল্পও আমাকে হাতছানি দেয়না। ছবির নামকরন নিয়ে আমি সবসময়েই দ্বিধা-দন্ধে থাকি। আমার দেয়া নামকরন কখনোই ছবির সাথে মিল খায়না। তারপরও কেন জানি ব্লগীয় জীবনের প্রথম ছবি ব্লগ দিতে পেরে আমার খুব আনন্দ লাগছে।

আমি নিজেকে শব্দ শিল্পীও ভাবিনা। এমন ভাবা চরম লজ্জাষ্কর। তবু কবিতা আমাকে খুব কাছে টানে। প্রবল আবেগে আমি প্রতিনিয়ত কবিতার দিকে ধাবিত হই, না বুঝে, উন্মাদের ন্যায়।






]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29373199 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29373199 2011-05-01 17:15:43
এস-এ পরিবহন সহ অন্যান্য কুরিয়ার সার্ভিসের মানি ট্রান্জেকশান সুবিধা প্রসন্গে...
কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ী এস-এ পরিবহন অফিসে একটা প্যাকেজ সংগ্রহের জন্য দীর্ঘক্ষন একটা ভুল কিউতে দাড়ানো আছিলাম। দাড়ানোর এক পর্যায়ে হঠাৎ বুঝতে পারলাম এইখান থাইকা সকলে টাকা কালেক্ট করে। আমার কাউন্টার এইটা না। দীর্ঘ সময় লাইনে দাড়াইয়া মুটামুটি ভাবে বিশ্মিত হইলাম উক্ত কাউন্টারের কার্যক্রম দেইখা। কুরিয়ার সার্ভিস তো নয়, যেন এক ব্যাংকিং সার্ভিস খুইলা বসছে। চারিদিকে টাকার ছড়াছড়ি। এই দিতাছে, এই নিতাছে। ফোন করো, ফোন ধরো, টাকা দেও, টাকা নেও....বিশাল হুলুস্হুল ব্যাপার।

প্রথমে একটু প্যা কেজ সার্ভিসের সিস্টেম নিয়া আলাপ করি। এস-এ পরিবহনে যে কোন প্যাকেজ পাঠাইলে সেইটাতে প্রাপকের সম্পূর্ন ঠিকানা না দিলেও চলে। শুধুমাত্র প্রাপকের নাম, এস-এ পরিবহন অফিসের এরিয়া আর মোবাইল নাম্বার দিলেই যথেষ্ট।

এতেই এস-এ পরিবহনে মাধ্যমে আমার কাছে কুরিয়ারটা পৌছে যাবে। সিলেটের এস-এ পরিবহন থাইকা আমারে ফোন দিয়া কইবো আমার একটা কুরিয়ার আছে কালেক্ট করার জন্য। আমি তাগো অফিসে গেলে তারা আমারে তাগো একটা মোবাইলে ফোন করতে কইবো আমার মোবাইল নাম্বার চেক করার জন্য। এতেই হইবো। আমার মোবাইল নাম্বার অন্য কারো কাছে থাকলেই হইবো। এইখানে আইডি হইলো মোবাইল নাম্বার। আমি সামী গেলাম না রহিম গেলাম না করিম গেলাম এইটার কোন আইডিন্টিফিকেশান চ্যাকিং নাই। কি বিচিত্র সিস্টেম!!!

যাই হউক, এইবার আসি মানি ট্রান্সফারের কথায়। টাকা আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেও একই অবস্হা। হাজার টাকা, লক্ষ টাকা যাই হউক প্রাকের নাম আর ফোন নাম্বার হইলেই চলে। অন্য কোন পরিচয়পত্র বা ডকুমেন্টেরও প্রয়োজন হয়না। শুধু নাম আর ফোন নাম্বার চেক কইরাই প্রাপককে টাকা দিয়া দেয়া হয়। মাঝে কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্টানটি হাজারে ৮ টাকা দরে একটা সার্ভিস চার্জ দাবী করে। হাজার হোক, লক্ষ হউক কোন বাচবিচার নাই। মাঝে প্রাপক কে ছিনতাই কইরা যদি তার মোবাইল নিয়া ছিনতাইকারী কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে গিয়া বলে সে টাকার দাবীদার তবে মোবাইল নাম্বার চ্যাক কইরা, প্রেরককে একটা ফোন কইরা শিউর হইয়া ছিনতাইকারীরেই টাকাটা দেয়া হবে বইলাই গণ্য হয়। প্রাপক কে, কার কাছ থাইকা কিভাবে কেন টাকা নিতেছে এইটার কোন ফার্দার তদন্তের কোন সিস্টেম এইখানে নাই। কোন সাক্ষী নাই, প্রমান নাই, প্রপার কোন ডকুমেন্ট নাই অথচ লক্ষ টাকা আদান-প্রদান হইয়া গেল, আমাগো বিচিত্র এই দেশেই এইটা সম্ভব। আর কোথাও না। আর এইটাই সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি। থু: .............

সরকার এইখানে বিরাট রেগুলেশান করতে পারে। অন্তত সরকার একটা নীতিমালা নির্ধারন কইরা দিতে পারে। সরকার কুরিয়া সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলা আদান-প্রদান মনিটরিং করতে পারে। তাগো ডেটা কালেক্ট করতে পারে। কিন্তু সরকার থাইকাও কোন রেগুলেশান নাই, নীতিমালা নাই, মনিটরিং নাই।

সরকার টাকা'র এমাউন্টে কোন ম্যাক্সিমাম ভ্যালু নির্ধারন কইরা দিতে পারে। ৫০০০, ১০০০০ বা ৫০০০০ যাই হউক এর বেশী টাকা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো বা গ্রহন করা যাইবোনা। টাকা পাঠানোর সময় কুরিয়ার সার্ভিস সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলা প্রেরকের আইডি কার্ড অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি রাখতে পারে, ছবি তুইলাও রাখতে পারে। প্রেরিত স্হান থাইকা টাকা তুলার সময় প্রাপকের আইডি অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি এবং সাথে ছবি তুইলাও রাখতে পারে। কেউ কি সিস্টেমটার মিসইউজ করতেছে কিনা, কেউ কি কাউরে ব্ল্যাকমেইল করতেছে কিনা, কেউ কাউরে কিডন্যাপ কইরা মুক্তিপন আদায় করতেছে কিনা, কেউ অবৈধ টাকা এক জায়গা থাইকা আরেক জায়গায় পাচার করতেছে কিনা এইসব পরবর্তীতে জানার জন্য এইসব আইডি ফটোকপি বা ছবি রাখা খুবই জরুরী। ফার্দার তদন্ত কামে এইটা বিরাট সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

কিন্তু আমাগো আবাল এই দ্যাশে এইসব কিছুই হয়না। কি এক বাল-ছাল মোবাইল নাম্বার আর নাম হইলেই টাকা তোলা যায়। ভুয়া মোবাইল নাম্বার, ভুয়া নাম হইলেও কোন সমস্যা নাই। প্রাপক টাকাটা কেন নিতেছে, কারো মুক্তিপন আদায়ের যের হিসাবে তার মায়ের অপারেশানের জন্য না সিনেমার কোন নায়িকার সাথে রতিক্রিয়া করার জন্য তা জানার কোন ফার্দার প্রসেস এই সিস্টেমে নাই। প্রাপক টাকাটা নেয়ার পর যদি মোবাইলের সিমটা বন্ধ কইরা দেয় বা সিমটা যদি ভুয়া নাম ঠিকানার হয় তবে তারে ট্রেস করার আর কোন পদ্ধতি এইখানে নাই। ন্যাশনাল আইডি অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি থাকলে অথবা টাকা নেওনের সময় ছবি তুইলা রাখলে পরে কোন তদন্তের স্বার্থে তা কামে লাগতে পারে। কিন্তু এইরম হইবার কোন সিস্টেম নাই। কারন সরকার থাইকা কোন নীতিমালা নাই, কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলার কোন গরজ নাই। সকল গরজ এই ভুক্তভোগী আবালস্য আবাল জনগনের।

ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে টাকা আদানপ্রদান করলে একাউন্টের জের ধরে তার পেছনের মানুষটার কাছে পৌছানো যায়। এটা খুবই স্বাভাবিক এবং সম্ভব। কিন্তু শুধু একটি নাম এবং মোবাইল নাম্বারের জের ধরে কাউকে ট্রেস করা মরার এই দেশে খড়ের গাদায় সুচ খোজা নয়, রীতিমতো অসম্ভব। টাকা ট্রান্সফার হউক, সহজ উপায়েই হউক, কিন্তু মিনিমাম কিছু পরিচয় সূত্র রেখেই তা হউক। যেন পদ্ধতির মিসইউজ না হয়। যেন মিসইউজ হলে পেছনের ব্যক্তিগুলোকে সহজেই খুজে বের করা যায়। কেউ কাউকে ভয় দেখিয়ে, বা ঠগবাজী করে, বা কাউকে জিন্মি করে কেউ যেন অল্প সময়ে খুব সহজেই এস-এ পরিবহন বা অন্য কোন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতে পারেনা। টাকা হাতিয়ে নিলেও যেন পরবর্তীতে তার কাছে পৌছানো যায় অন্তত তার মুখে একবার হলেও একদলা থুতু নিক্ষেপের জন্য। মোবাইল নাম্বার এবং নাম কোন মানুষের পরিচয় হতে পারেনা। এসব খুবই সহজলভ্য। ১০০ টাকা হলেই একটি সিম পাওয়া যায়। নামের জন্য তো ১ পয়সাও খরচ করতে হয় না। ন্যাশনাল আইডি, পাসপোর্টের ফটোকপি এবং ছবি তুলে রেখেই টাকা আদান-প্রদান সেবা দান করাই আমাদের কাম্য।

আমার এই লেখা সরকারের কেউ পড়বোনা বইলাই বোধ হয়। কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলার কেউও পড়বো কিনা সন্দেহ। পড়লেও তারা এইটা নিয়া কোন মাথা ঘামাইবোনা। আমার পিন্ডি চটকাইতে চাইবো। কারন মনিটরিং বসাইলেই তাগো ব্যাবসাতে ডাউনফ্লো শুরু হইবো। টাকায় ম্যাক্সিমাম এমাউন্ট নির্ধারন করলে তাগো ক্যাশ ইনফ্লো কইমা যাইবো। এই লেখাটা পড়বো আমার মতোই আবালস্য আবাল কিছু জনগন যারা ব্লগার নামে পরিচিত। আমি তাগোর কাছেই বিষয়টা তুইলা ধরলাম এই আশায় যে হয়তো এইখানকার কেউ ব্যাপারটা নিয়া ফার্দার আলোচনা করবেন এবং এক পর্যায়ে তা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29331744 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29331744 2011-02-22 00:53:58
দিন দিন অলস হয়ে যাচ্ছি
"এই সকালে ঘুম থেকে উঠি, তারপর মুখ-হাত ধুয়ে প্রাত:রাশ সেরে একটু বিছানায় গড়িয়ে নিই। গড়াতে গড়াতে এই বেলা মধ্যাহ্নে চাঁনটা সেরে আবারো কিছু সময় গড়িয়ে নিই। তারপর দুপুরের খাবারটা সেরে একটি ভাত-ঘুম দিই। সন্ধ্যার দিকে উঠে এক কাপ চায়ের সাথে একটু কিছু খেয়ে আবার একটু গড়িয়ে নিই। গড়াতে গড়াতে রাত একটু গভীর হলে রাতের খাবারটা খেয়ে বিছানায় যাই। তারপর ঘুমিয়ে পড়ি। আবার সকালে উঠি......"

কিংকর্তব্যবিমূঢ় (বানান নিশ্চিতভাবে ভুল) প্রশ্নকর্তা হতভম্ব হয়ে লেখকের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

পুরো লেখাটা এখন তেমন মনে পড়ছেনা। তবে ভাবটা এমনই ছিলো যে দিনের কোন অংশেই লেখক আর যাই করেন লেখালেখি করেন না। অথচ শিবরামের কাছ থেকে আমরা পেয়েছি অতি মনোহর কিছু কিশোর সাহিত্য। "বাড়ী থেকে পালিয়ে" বইটি মুগ্ধ হয়ে পড়েছিলাম। যদিও উপন্যাসটি অবলম্বনে ঋত্বিক ঘটকের ছবিটা দেখা হয়নি। পিচ্চি ছেলেটার নামটাও ভুলতে বসেছি।

যাই হোক, আমারো হয়েছে শিবরামের মতো অবস্হা। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠা অবদি রাতে বিছানায় যাওয়ার মূহুর্ত পর্যন্ত অদ্ভুত এক অলসতায় সময়গুলো কেটে যায়। সারাদিন কি করি হিসেব মেলে না, কি ভাবি হিসেব মেলেনা। যা করতে চাই তা করার সুযোগ মেলে না। যা করতে চাইনা তার সুযোগ মাঝেই মাঝেই চলে আসে এবং ভুল বশত; করে ফেরে অসহায়ের মতো সময়ের স্রোতে গা ভাসানো ছাড়া কোন উপায় থাকেনা। সাধ ও সাধ্যের সেই চিরাচরিত পাকচক্রে পড়ে মাঝে মাঝে বিহ্বল বোধ করি। দ্বন্দ আর মেটেনা।

সারাদিন কি করি? শিবরাম তো গড়াগড়ি খেতে খেতেই লিখে ফেলেছিলেন "বাড়ী থেকে পালিয়ে" এর মতো মনোরম উপন্যাস। আমি তো গড়াগড়ি খাইনা, রীতিমতো হাটাচলা করি, দৌড়োই, কথা বলি, ঝগড়া করি, স্বার্থপর হই, উপভোগ করি, বিরক্ত হই, ভালোবাসি, ঘৃনা কম করার চেষ্টা করি, প্রায়ই রেগে উঠি, ঝিমোতে ঝিমোতে গল্পের বই পড়ি, ছবি তুলি, ধুকতে ধুকতে জীবন পার করি, খেয়া নৌকোর মতো। মনে রাখার মতো কোন কিছুই করা হয়ে উঠেনা। যেন আমি শর্ট টার্ম মেমরি লুজের শিকার হয়েছি। আগের দিনের তেমন কিছুই মনে থাকেনা। ভুলে ভরা জীবন...ভুলে থাকার জীবন।

অনেক আগে এক বন্ধু বলেছিলো, দোস্ত, স্মৃতি মানেই কষ্ট। প্রথমে বুঝিনি স্মৃতি কিভাবে কষ্ট হয়ে উঠে। পরে বুঝলাম, স্মৃতি আসলেই কষ্টের জন্ম দেয়। মধুর স্মৃতি দেয় একরাশ দীর্ঘশ্বাস...এমন দিন কি আর আসবে? যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ। কষ্টের স্মৃতি তো কষ্টকেই ত্বরান্বিত করবে। কষ্টের স্মৃতিতে মুখে যে হাসি ফোটে তাতেও বিষাদ মাখানো থাকে। আমরা মানুষ, ভন্ডামীর সূতিকাগার, হাত নাড়িয়ে উপেক্ষার সুরে বলি, "ধুর...এইসব মনে করে কি হইবো...যা গ্যাছে গ্যাছে...।" পরে কিন্তু দরজা লাগাইয়া ঠিকই গলায় গামছা বাইন্ধা কান্দি।

গড়াগড়ি খাবার মতোই অর্থহীন লাগে সবকিছু। নিজের অলস সত্বাটাকে স্বিকার করে নিতে কষ্ট হয়। তবু আবার ঘুম থেকে জেগে উঠেই দৌড়োই অফিস পানে। না হলে চাকরী থাকবেনা, উতপাদিত হবেনা প্রয়োজনীয় অর্থ, সংসার চলবেনা, সমাজে মুখ দেখানো যাবেনা, ঢলে পড়তে হবে ব্যর্থতার মায়াবীতে।

ক্যামু'র বিশাল প্রবন্ধের কথা মনে পড়ে। The Myth of Sisyphus। আমি এমন বিশাল কোন পন্ডিত হয়ে উঠি নাই যে এই প্রবন্ধখানা আমি পড়ে ফেলবো এবং এর মূল ভাব বুঝে বিজ্ঞের মতো মাথা ঝাকিয়ে বলবো, "হুমমমম...ক্যামু সাহেব বেশ ভালো লিখেছেন"। আমি অলস মানুষ। পড়া হয়ে উঠেনা তাই অনেকটা অলসতায়, অনেকটা বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাব্ধতার কারনে।

তবুও মনে পড়ে যায়, সেই কাব্যিক বানী। জীবন দৈনন্দিনতা প্রসন্গে লেখকের হতাশা ফোটে উঠে কথাটির পরতে পরতে। ঘুম, অফিস, খাওয়া, বাড়ীফেরা, সোমবার মন্গল বুধ বৃহ:শ্পতি শুক্র শনি একই ছন্দে, একই গতিতে একই পথ ধরে চলে আসা যাওয়ার পালা।

"It happens that the stage sets collapse. Rising, streetcar, four hours in the office or the factory, meal, streetcar, four hours of work, meal, sleep and Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday and Saturday according to the same rhythm — this path is easily followed most of the time. But one day the "why" arises and everything begins in that weariness tinged with amazement."

তবে হুমায়ূন আজাদ নিশ্চিত পড়েছিলেন উপরে বর্নিত ক্যামুর কথাটি। তিনি নিরর্থক জীবনের যে ফিলোসফী সবসময় কপচাইতেন ইহা নির্ঘাত ক্যামু'র এই প্রবন্ধ থেকে নেয়া। "আমার অবিশ্বাস" গ্রন্থে'র পরতে পরতে তার ছাপ পাওয়া যায়। জীবনটা নিরর্থক, এর আগেও কিছু নেই পেছনেও কিছু নেই। জীবনটা হলো দুই আঁধারের একটুখানি আলোর ঝলক। শুনতে বেশ লাগে, কিন্তু মানতে গেলেই হাজার বছরের প্রথা'র নাগপাশে জড়িয়ে পড়ি বিপুল বিক্রমে। তাই আমি ভাবি, জীবনের এবসার্ডিটি জেনে কি হবে। জ্ঞানী'র অনেক দু:খ। জেনে ফেলার দু:খ। মুর্খরাই প্রকৃত অর্থে সুখী। জ্ঞানে কোন সুখ নেই।

গড়িয়ে চলে জীবন চরম অলসতায়। নিরর্থকতার নাগপাশে। ভাবি, আসলেই দিন দিন অলস হয়ে যাচ্ছি। সবকিছু স্মৃতি হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘশ্বাস হয়ে যাচ্ছে.....


নোট: লেখাটি ইতিপূর্বে আমরাবন্ধু ব্লগে পোষ্টিত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29317009 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29317009 2011-01-30 07:36:45
কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করা হইলো তালেবরীর লক্ষন.....
যে কোন সিদ্ধান্ত অথবা পরিবর্তনে এক গোষ্ঠীকে দেখা যায় কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করার জন্য ৪ হাত-পায়ে খাড়া থাকেন। উনারা যেনতেন উপায়ে এটাই প্রমান করতে চান যে, যা করা হইছে তা পূর্বের তুলনায় মোটেও ভালো হয় নাই, তা মোটেও গ্রহনযোগ্য না এবং এর নানাবিধ অসুবিধা তারা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। যদিও তারা নিজেরাও জানেন না কি কি অসুবিধার তারা সম্মুখিন হচ্ছেন। তবুও আগে যেমন চলছিলো তেমনই ভালো আছিলো নীতিতে তারা কঠোর ভাবে বিশ্বাসী।

তসলিমা নাসরিন তো এই কইরা কইরা লাইম লাইটেই চইলা আসলেন। লজ্জা নামক এক চটিগল্প লেইখাই দেখাইয়া দিলেন যে তিনি কত শক্তিশালী লেখিকা। লজ্জা'য় যদিও তেমন কোন শক্তিশালী গল্প নাই। তিনি সমাজ পরিবর্তনের ধ্বজাধারী সাজতে চাইলেন। ধর্ম যে মানবজীবনে যে কত বড় অভিশাপ, বিশেষ করে মাইয়গো লাইগা তা তিনি নানাভাবে ব্যক্ত করতে লাগলেন, তার গল্পে, কবিতায় কিংবা কলামে। তসলিমার পক্ষে-বিপক্ষে নানা তালেবর খাড়া হইয়া গেলেন। প্রগতিশীল ধ্বজাধারীরা তড়পাইতে তড়পাইতে আগাইয়া গেলেন, অনেকে আগাইয়া পিছাইয়া গেলেন, চুপচাপ পাশ কাটাইলেন। মৌলবাদীরা ধর্মগেলো ধর্মগেলো বইলা ফাল পাড়লেন। তসলিমার মাথার দাম হাকলেন। আখেরে কিছু রাজনীতি হইলো। আমরা বুঝতে পারলাম তসলিমার চুলকানিটা একটু বেশী। বাদবাকি দিনদুনিয়া যেই লাউ, সেই কদু।

আগে মানুষ আন্ধারে আছিলো, বিজলী বাতির আবিষ্কারে মানুষ এখন রাইতের বেলায় কিছুটা আলোর মুখ দেখতে পায়। পরিবর্তন তো আসবেই, এটাই স্বাভাবিক। আর যে কোন পরিবর্তনই ইতিবাচক হিসেবেই ধরে নেয়া যায়। যারা পরিবর্তন করেন তারা তো আর ঘাস খাইতে খাইতে বা শুরার বোতল হাতে নিয়া পরিবর্তন করেন না। অনেক আলোচনা কইরা, নানা দিক বিবেচনা কইরাই তো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কিন্তু আমরা বাঙালীরা সবসময় তালেবর সাজতে চাই। মাতব্বরী ফলাইতে চাই। সরকার যদি ইতিবাচক কিছুও করে, এক পর্যায়ের নাক উচু মানুষগো দেখা যায় এর প্রতিবাদেও বিশাল সমালোচনা করতেছেন। নানা ভাবে কাটাছেড়া, অযুত-নিযুত মাইপা তারা বুঝাইয়া দিতে চান যে সরকারের সিদ্ধান্ত ভুল। তাইলে আপনেরাই সরকারে গিয়া বইসা দেশ চালান না ক্যান? ভোট দিয়া ঐ আবালগো ক্যান গদ্দীতে বসাইছেন?

যে কোন অফিসেও দেখবেন এইরকম। বস লেভেলের যে কোন সিদ্ধান্তই কর্মচারীদের পছন্দ হয় না। যদি তা কর্মচারীদের জন্য ইতিবাচকও হয়, একপক্ষ সবসময়েই তার সমালোচনা করবেন। এইটা আমাগো মাতব্বর চরিত্রের প্রতিফলন। কোন কিছু আগ-পাছ না ভাইবাই তারা এমন করেন, এবং অত:পর কঠিন যুক্তির বিরুদ্ধে কিছু বলতে না পাইরা পরবর্তীতে পলায়নবাদী ভুমিকা নেন।

যে কোন কিছুর কমিটিতে দেখবেন এইরকম কিছু লুক থাকে। কিছুই তাগো পছন্দ হয়না। যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে গেলেই তারা ঘাড় বাকানো আচরন করেন। নিজে কিছু কাম করতে চান না, অথচ কামের ১২ টা বাজানোর সময় শত হস্তে স্বাগতম। আবার পুরস্কার বিতরনীর সময়ে দেখা যায় আগের কাতারে মনে হয় থাপ্পর দিয়া কমিটি থাইকা বাইর কইরা দেই তালেবরগুলানরে।

ব্লগও তালেবর-মাতব্বরে ভরা। কিছু একটা পরিবর্তন ঘটলেই তালেবরের আধিক্য টের পাওয়া যায়। উনারা নানাভাবে, মন্তব্য অথবা পোষ্টের মাধ্যমে এটাই বাতলাইতে চান যে, উক্ত পরিবর্তনটা মোটেও ইতিবাচক হয়নাই, এর হেন অসুবিধা, তেন যন্ত্রনা। আবালবৃদ্ধবনিতা কেউই এর বাইরে নন। তারা পান্ডিত্যের রূপ ধরে সুন্দর ভাবেই নিজেদের মূর্খতাকে হাজির করেন নিজেদের লেখনীর মাধ্যমে, বক্তব্যের সান্নিধ্যে।

যাহাই হউক, এই সব তালেবরগো লাগি এক মুঠো শুভেচ্ছা। ভালো থাকবেন তালেবরগন, এবং তালেবরী চালিয়ে যাবেন অশেষ মূর্খতায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29312326 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29312326 2011-01-22 19:29:41
স্টিকি-পরবর্তী সময়ে পোষ্টে গুরুত্বপূর্ন তথ্য সংযোগ কতটুকু নৈতিক?
মনে পড়ে, অনেক আগে দুইজন ব্লগারের একটি পোষ্ট স্টিকি করা হয়েছিলো। ব্লগীয় রাজনীতির বেড়াজালে জড়িয়ে স্টিকি হবার কিছুদিন পর তারা পোষ্টে কিছু এডিট করেছিলেন। তার পরের ঘটনা ইতিহাস। ব্যান-আনব্যান, ব্লগীয় আন্দোলন, ভার্চুয়াল হরতাল-ধর্মঘট আরো কত কি? যারা অনেকদিন ধরে ব্লগিং করছেন তাদের মনে থাকার কথা। স্টিকি পোষ্ট এডিটকারী দুই ব্লগারকে মাথা পেতে নিতে হয়েছিলো সাময়িক শাস্তি।

এতক্ষন ধরে অতীত ইতিহাস ধরে টানাটানি করার মূল উপলক্ষ্য্ হচ্ছে আবারো সেই স্টিকি পোষ্টের তথ্য বিকৃতি। একে আমি তথ্য বিকৃতিই বলবো। কাটাতারে একটি মরদেহের ছবি আমাদের আবেগকে উথলে দিয়েছে। ওটা যদি কাটাতারে না ঝুলে ডোবায় পড়ে থাকতো, বা ড্রেনের পাশে পড়ে থাকতো, শকুনের খাবার হতো কিংবা নদীর জলে ভেসে যেতো তবে আমরা হয়তো এতো আবেগ মথিত হতাম না। আবেগে-হুজুগে আমরা একবার ডানে যাচ্ছি, একবার বায়ে যাচ্ছি, একবার সরলপথে চলছি। মূলত কি করবো সেটাই বুঝে উঠতে না পেরে আমরা বাদানুবাদে লিপ্ত হচ্ছি।

এখন আসি স্টিকি পোষ্টে তথ্য সংযোগের কথায়। একটি পোষ্ট যখন স্টিকি হয় তখন তা কিসের উপর ভিত্তি করে স্টিকি হয় সেটা বেশ গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার। অনেক সময় দেখা যায় ব্লগারদের তোপের মুখে কর্তৃপক্ষ কোন কোন পোষ্টকে স্টিকি করে প্রথম পাতায় ঝুলিয়ে রাখেন। অবশ্যই সেটা আলোচনা সাপেক্ষে হয় বলে ধারনা করি। এমন করা কতটুকু যৌক্তিক সেটাতে অবশ্য সন্দেহ থেকে যায়। কোন কোন স্টিকি পোষ্টে তথ্য সংযোগ করাও হয়। যেমন আমরা দেখেছিলাম মন্জুর ভাইয়ের উপমা'কে নিয়ে পোষ্টগুলোতে। টাকার অংক এবং উপমা বিষয়ক অন্যান্য তথ্য তিনি পোষ্ট স্টিকি পরবর্তী নানা সময়ে আপডেট করেছিলেন। এমনটা আমরা আশা করতেই পারি এসব ক্ষেত্রে। তথ্য জানার অধিকার সবারই আছে।

তায়েফ আহমাদ আমার বেশ পছন্দের একজন ব্লগার। তাকে নিয়ে কি কানাঘুষা চলেছে তা আমার অজ্ঞাত, কারন দীর্ঘকালীন ব্লগ অনুপস্হিতি। তার জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান সিরিজটি আমি মুগ্ধ হয়ে পড়েছি এবং অনেক কিছু জেনেছি। ফেলানী'কে নিয়ে লেখা তার একটি পোষ্ট স্টিকি হয়েছে এবং এখন তা অনেকাংশে দন্ডিত।

তিনি পোষ্ট দিয়েছেন, ব্লগারদের দাবীতে সামু তা স্টিকি করে ঝুলিয়ে রেখেছে প্রথম পাতায়। কিছুদিন পর তিনি এই লেখায় কিছু তথ্যও যোগ করেছেন। যাই হোক, এমন তথ্য সংযোগ কতটুকু নৈতিকতার দাবী রাখে। যৌক্তিকভাবে বিচার করলে স্টিকি পোষ্টে ব্লগ কর্তৃপক্ষেরও একটি অধিকার স্হাপিত হয়। স্টিকি পোষ্ট অনেকাংশে একটি ব্লগের ইমেজকে প্রভাবিত করে। কাজেই ধরে নেয়া যায় স্টিকি পোষ্টে কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংযোজন যেমন ধরা যাক, কারো নাম, কারো ফোন নাম্বার অথবা কারো যোগাযোগের ঠিকানা কিংবা কমিটি গঠনের খসড়া এবং সদস্যদের তালিকা ইত্যাদি ব্লগ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েই করা হয়। ব্লগ কর্তৃপক্ষের এখানে যদি করা কিছু না থাকে, ব্লগাররা যদি নিজ-ইচ্ছেতেই পোষ্ট পরিবর্তন করেন তবে তা ঠিক গ্রহনযোগ্য হয় না।

স্টিকি পোষ্টে প্রথমে একধরনের তথ্য দিয়ে, তারপর ধীরে ধীরে তাতে বিস্তারিত তথ্য সংযোগ করলে অনেক ক্ষেত্রে তাতে বিভ্রান্তি বাড়ে এবং ব্লগ সম্পর্কে একটি সন্দেহের অবকাশ থেকে যায়। সমাবেশ-মানববন্ধন-মৌন মিছিল-আড্ডা-মিটিং ইত্যাদি সম্পর্কিত কোন স্টিকি পোষ্টে তা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সকল তথ্য পোষ্ট স্টিকি হবার পূর্বেই উল্লেখ করা কাম্য ছিলো। এসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে ব্লগকর্তৃপক্ষ ভেবে দেখতেন, আলোচনা সাপেক্ষে বিবেচনা করতেন পোষ্টটি স্টিকি করা যায় কি না। ব্লগাররাও আর হুজুগে মাতার সুযোগ পেতেন না বা আবগে ভেসে যেতেন না। ভবিষ্যতে আমরা এ ব্যাপারে আরো স্বচ্ছতার দাবী রাখি। এসব বিতন্ডা-বাদানুবাদ এবং সকল ব্যর্থতার দায়ভার এখন অবশ্যই লেখক এবং ব্লগ কর্তৃপক্ষকেই নিতে হয়। এবং এরূপ তথ্য বিভ্রাট যথারীতি নৈতিক মানদন্ডেও আমার মননের সাথে খাপ খায় না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29311411 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29311411 2011-01-21 11:47:25
ঢাকা এবং তার ইতিহাসের উপর গবেষনাধর্মী গন্থের খোঁজে
ঢাকা শহর এবং তার ইতিহাস নিয়ে ড: মুনতাসীর মামুন উল্লেখযোগ্য গবেষনা করেছেন। উনাকে বলা যায় চলমান ঢাকাপিডিয়া। ঢাকা নিয়ে তাঁর গবেষনাধর্মী বেশ কয়েকটি বিশাল কলেবরের গ্রন্থ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে

১. ঢাকার স্মৃতি - প্রায় ১০ খন্ড
২. ঢাকা, স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী - ২ খন্ড
৩. ঢাকা সমগ্র - ৪ খন্ড
৪. দেয়ালের শহর ঢাকা
৫. ঢাকার প্রথম
৬. ঢাকার হারিয়ে যাওয়া বইয়ের খোঁজে
৭. ঢাকার হারিয়ে যাওয়া ছবির খোঁজে
৮. ঢাকার কথা
৯. ১৯ শতকের ঢাকা
১০. ঢাকার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের উপাদান
১১. ঢাকার জন্মাষ্ঠমী উৎসবের ইতিহাস
১২. Dhaka - Tale of a city
১৩. সিভিলিয়ানদের চোখে ঢাকা

উপোরল্লেখিত অনেক গ্রন্থই এখন দুষ্প্রাপ‌্য। ড: মুনতাসীর মামুন ব্যতীত ঢাকা অথবা তার ইতিহাস নিয়ে আর কারও গ্রন্থ তেমন চোখে পড়েনি। নেট ঘাটাঘাটি করেও বলার মতো তেমন কিছু পাওয়া গেলোনা।

ইংরেজী উইকিপিডিয়াতে History of Dhaka লিখে সার্চ দেয়াতে অতি স্বল্পমাত্রার কিছু ইতিহাস তিনি আমার সামনে তুলে ধরলেন। লেখাটি সর্বসাকুল্যে

In Buddist Kingdom Mughal rule British rule East Pakistan's capital Post-independence

এই কয়েকটি ভাগে বিভক্ত, যার কলেবর ছাপার অক্ষরে ২/৩ পৃষ্টার বেশী হবে না বলে ধরে নেয়া যায়। আগ্রহীরা নীচের লিংকে গিয়ে তা পড়ে দেখতে পারেন।

History of Dhaka (Wikipedia)

আরও আছে কিছু ট্যুরিজম সংক্রান্ত ওয়েবসাইট, যাতে শুধু ঐতিহাসিক স্হাপনার সাধারন বর্ননা দেয়া হয়েছে।

বাংলা উইকিপিডিয়াতে "ঢাকা" লিখে সার্চ দেয়র পর নিবন্ধটিতে ইতিহাস সংক্রান্ত খুব অল্পই জ্ঞাত হলো, যা নিম্নে তুলে দিলাম

নামকরণের ইতিহাস ঢাকার নামকরণের সঠিক ইতিহাস নিয়ে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। কথিত আছে যে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিত জঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার একটি বিগ্রহ খুঁজে পান। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা বল্লাল সেন ঐ এলাকায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো, তাই রাজা, মন্দিরের নাম রাখেন ঢাকেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠে। আবার অনেক ঐতিহাসিকের মতে, মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর যখন ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন; তখন সুবাদার ইসলাম খান আনন্দের বহিঃপ্রকাশস্বরূপ শহরে 'ঢাক' বাজানোর নির্দেশ দেন। এই ঢাক বাজানোর কাহিনী লোকমুখে কিংবদন্তির রূপ নেয় এবং তা থেকেই শহরের নাম ঢাকা হয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে, মোঘল সাম্রাজ্যের বেশ কিছু সময় ঢাকা সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর নামে পরিচিত ছিলো। ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণা করা হয় কালের পরিক্রমায় ঢাকা প্রথমে সমতট, পরে বঙ্গ ও গৌড় প্রভৃতি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। খ্রিস্টীয় ১৩শ শতাব্দীর শেষের দিকে মুসলমানেরা ঢাকা অধিকার করে। মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান অনুযায়ী ১৬ জুলাই ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীরের জীবিতকাল পর্যন্ত এ নাম বজায় ছিলো। এর আগে সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার প্রাদেশিক রাজধানী ছিলো বিহারের রাজমহল। সুবা বাংলায় তখন চলছিলো মোঘলবিরোধী স্বাধীন বারো ভূইঁয়াদের রাজত্ব। বারো ভূইয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে বাংলাকে করতলগত করতে ১৫৭৬ থেকে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বারবার চেষ্টা চালানো হয়। এরপর সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতীকে রাজমহলের সুবেদার নিযুক্ত করেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। সুবেদার ইসলাম খান চিশতী দায়িত্ব নেবার মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে বারো ভূইয়ার পতন ঘটে ও বর্তমান চট্টগ্রামের কিছু অংশ বাদে পুরো সুবে বাংলা মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে আসে। ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা সুবা বাংলার রাজধানী হলেও সুবা বাংলার রাজধানী বারবার পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজা'র পতনের পর ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন। এরপর বেশ কিছুকাল ঢাকা নির্বিঘ্নে রাজধানীর মর্যাদা ভোগ করার পর ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। এরপর ঢাকায় মোঘল শাসনামলে চলতো নায়েবে নাজিমদের শাসন। ব্রিটিশ শাসনের আগে পর্যন্ত এভাবেই চলছিলো। ব্রিটিশরা রাজধানী হিসেবে কলকাতাকে নির্বাচিত করলে ঢাকার গুরুত্ব আবারো কমতে থাকে। এরপর দীর্ঘকাল পর ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা আবার তার গুরুত্ব ফিরে পায়। বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসামও বাংলার রাজধানী করা হয়। কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।


সাম্প্রতিক বই বাজারেও ঢাকা অথবা ঢাকা'র ইতিহাসের উপর উল্লেখযোগ্য গবেষনার্মী, ত্ত্ত্ব এবং তথ্যমুলক তেমন একটা চোখে পড়েনা।

আর যা কিছু আমরা জানতে পারি তা হচ্ছে স্মৃতিকথা এবং আত্মজীবনমূলক গ্রন্হের মাধ্যমে। বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের স্মৃতিচারনমুলক কিছু লেখা এবং কারও কারও আত্মজীবনীতে হয়তো অল্পবিস্তর কিছু ইতিহাস ঠাঁই পেয়েছে। যা আমাদে ইতিহাস ক্ষুধা মেটাতে পারেনা কোন ভাবেই।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকভিত্তিক তেমন কোন ইতিহাস গন্থও খুব একটা চোখে পড়েনা। এমনকি পুরোন ঢাকার মানুষের কথ্য ভাষা'র উপরও তেমন গবেষনাধর্মী বই খুজে পাওয়া দুষ্কর।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্হাপনার ইতাহাস নিয়েও খুব একটা গবেষনা হয়নি। সেদিন নীলখেত ঘুরতে ঘুরতে হঠাতই চোখে পড়লো ১৯৮৪ সালে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড থেকে প্রকাশিত Discover The Monuments of Bangladesh - A guide to their History, Location & Development by Dr. Nazimuddin Ahmed গ্রন্হখানা। কিনে এনে পড়া শুরু করলাম এবং ইতাহাস বিষয়ে আরো আগ্রহী হয়ে উঠলাম। বইটিতে লেখক দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্হাপনা, স্মৃতিস্তম্ভ এবং সৌধের ইতিহাস ও অবস্হান তুলে ধরেছেন বেশ ভালো ভাবেই। আলোকচিত্র সমৃদ্ধ এই গ্রন্থটি বেশ ভালো। কিন্তু এ থেকে শুধু একটি অংশেরই প্রয়োজনীয়তা মেটে। সামগ্রিকভাবে ইতিহাসের প্রয়োজনীয়তা অধরাই থেকে যায়।

অন্তর্জালিক লেখক গোষ্ঠী তথা ব্লগারদের মাঝেও এ বিষয়ে আগ্রহ খুব কম দেখা যায়। "ছাগু" লিখে গুগলে সার্চ দিলে যেখানে বাংলা বিভিন্ন ব্লগ সাইটের শত শত পোষ্ট আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে, ঢাকা বা ঢাকার ইতিহাস লিখে পোষ্ট দিয়ে আমাকে বিরস মনে কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। ইন্টারনেটের দুর্দান্ত বিশালত্ব সত্বেও এই মাধ্যমে খুব অল্প সংখ্যক লেখা এ বিষয়ে চোখে পড়ে।

পুরোন ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ভবনও এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে কর্পোরেট হামলায়। এনামুল করিম নির্ঝর তার 'আহা' ফিল্মে এসব দিক খুব দারুন ভাবে তুলে ধরেছিলেন। ভবনগুলো মেরামতের অভাবে আজ প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। কোন কোনটা ইতিমধ্যেই হারিয়ে গিয়েছে কালের গর্ভে। আর সাম্প্রতিক আমরা ঢাকাকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে যতোটা পারন্গম, শহরটির ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে ঠিক ততোটা নই বলেই বোধ হয়।

তাই এ সকল ব্যাপারে আগ্রহ জাগাটাই স্বাভাবিক। ইতিহাস যদিও বলা হয়ে থাকে বিজয়ীর দ্বারা লিখিত হয়, তবুও ইতিহাসের সূতোর পথ ধরেই আজ আমরা বর্তমানে এবং এই বর্তমানের হাত ধরেই আমরা ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবো।

কেউ যদি ঢাকা এবং তার ইতিহাসের উপর উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ এবং তার লেখকের নাম (ড: মুনতাসীর মামুন ব্যাতীত) জানাতে সক্ষম হন তবে অশেষ কৃতজ্ঞ থাকি। কেন জানি মনে হয় এ বিষয়ে গবেষনার যথেষ্ঠ অবকাশ এখনও রয়ে গিয়েছে।

ছবি কৃতজ্ঞতা: সামী মিয়াদাদের আলোকচিত্রী সত্বা। লালবাগের কেল্লা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29300992 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29300992 2011-01-02 23:59:54
ফেইসবুকের সামাজিক যোগাযোগের পেছনে বেড়ে ওঠা অসামাজিকতার শিকড় কেইস স্টাডি – ১

মেয়েটির মোবাইলে অজানা নাম্বার থেকে কল আসার পরিমান হঠাত করেই বেড়ে যায়। অজানা নাম্বার থেকে কল করা অপরিচিত সব ছেলেরা মেয়েটিকে লাকি (কাল্পনিক) সম্বোধন করে তার সাথে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করে। বলে ফেইসবুকে নাম্বারটি পেয়েছে। ফেইসবুকে কোন একাউন্ট না থাকায় মেয়েটি বুঝতে পারেনা তার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারটি কিভাবে ফেইসবুকে ছড়ালো। আর লাকি ই বা কে?

এভাবে দিনের পর দিন চলতে থাকে। মেয়েটির মোবাইলে অজানা অচেনা ছেলেরা ফোন করে লাকি কে চায়। রং নাম্বার বললে বিশ্বাস করে না এবং উল্টো অশ্লীল অশ্লীল সব মেসেজ পাঠাতে থাকে। অত:পর মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে মেয়েটি তার মোবাইল নাম্বার চেন্জ করতে বাধ্য হয়। অবসান ঘটে সকল যন্ত্রনার। যদিও মেয়েটির ফোন নাম্বার লাকির নাম্বার হিসেবে ফেইসবুকে কেনো ছড়ানো হলো এবং কে ছড়ালো সে বিষয়ে সে সর্বদা অজ্ঞই থেকে যায়।


কেইস স্টাডি – ২

রাত সাড়ে দশটার দিকে সাগরের (কাল্পনিক) মোবাইলে হঠাত একটা কল আসে। নাম্বারটি অপরিচিত। সাগর ধরবে কি ধরবেনা ইতস্তত: করতে করতে কলটি রিসিভ করে।

সাগর: হ্যালো, কে বলছেন।
ফোনদাতা: আপনি কি সাগর?
সাগর: জ্বি, আপনি কে বলছেন?
ফোনদাতা: ভাই, আপনি ফেইসবুকে যা করছেন তা তো ঠিক না।
সাগর: সরি আমি আপনার কথা কিছুই বুঝলাম না। কিসের ফেইসবুক?
ফোনদাতা হাসতে হাসতে কিছু অশ্লীল গালি ঝেড়ে দেয়। যা এইখানে লেখার অযোগ্য। সাগর সাথে সাথে ফোনটি কেটে দিয়ে হতভম্ব হয়ে বসে থাকে।

এভাবে বেশ কিছুদিন টেলিফোনে হুমকি-ধমকি চলার পর সাগর ফেইসবুক ঘাটাঘাটি শুরু করে এবং সমাধান করে টেলিফোনের হুমকির রহস্য। কেউ একজন সাগর নামে একটি প্রোফাইল তৈরী করেছে এবং অশ্লীল সব পোষ্ট দেয়া শুরু করেছে তারই নামে। এক পযার্য়ে সাগর দেখতে পায় তারই একটি ফটোর নীচে তার ফোন নাম্বার দিয়ে সেখানে মেয়েদের ফোন করার অনুরোধ করা হয়েছে। সাগর এরপর আর সেই নাম্বার ইউজ করতে পারেনি। ফোন নাম্বার বদলের পর তার জীবনে আবার শান্তি নেমে আসে। কিন্তু ফেইসবুকে নকল প্রোফাইলের সেই রহস্য সে বেধ করতে পারেনি। যদিও নকল প্রোফাইলটি ফেইসবুকের মাধ্যমে সে সরিয়ে ফেলতে সম্ভব হয়।


কেইস স্টাডি – ৩

রুমকি (RUMKI - কাল্পনিক) বুঝতেই পারেনা কিভাবে তার ছবিটি অন্য মানুষ তারই আরেকটি নকল প্রোফাইল তৈরী করে ব্যবহার করতে পারে? তার নিজেরই যেখানে একটি আসল প্রোফাইল রয়েছে? নকল প্রোফাইলের নামটিও রুমকি তবে U এর স্হলে আছে ডাবল O। প্রোফাইলে যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি তার। কম্পিউটারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপ ছবি থেকে তার ছবিটি আলাদা করে এখানে দেয়া হয়েছে। ক্যাপশানে খুব অশ্লীল কিছু কথা লেখা। প্রোফাইলের ফটো এ্যালবামে আরো যেসব ছবি রয়েছে তাও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্হানে তোলা। তবে ছবিগুলো কখন কে কোথায় তুলেছে সে সম্পর্কে রুমকি কোন ধারনা করতে পারেনা। কোন ফটোতে দেখা যাচ্ছে সে তার কোন বান্ধবীর সাথে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে বসে পড়াশুনো করছে, অন্য আরেকটিতে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে রিকশা খুজছে অথবা অন্য আরেকটিতে বন্ধুদের সাথে গল্প করছে। কেউ একজন খুব সতকর্তার সাথে ডিজিটাল ক্যামেরা বা মোবাইলের মাধ্যমে রুমকির অজান্তেই তার ছবিগুলো তুলে ফেইসবুকে ছেড়ে দিয়েছে অশ্লীল সব ক্যাপশান সহকারে। রুমকি প্রোফাইলটি সম্পর্কে জানতে পারে তার এক কাজিনের মাধ্যমে। অত:পর ফেইসবুক কতৃপক্ষের সাথে মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তারা প্রোফাইলটি রিমুভ করে দেন।


কেইস স্টাডি – ৪

পরিচিত একজনের কাছ থেকে ফ্রেন্ডস রিকোয়েস্ট পেয়ে সিরাজ আগুপিছু কোন কিছু না ভেবেই তাকে এ্যাড করে নেয়। যাকে এ্যাড করে তিনি তার গুরুজনস্হানীয়। সম্পর্কে ফুপা। তাই কিছুটা অবাকও হয় ফেইসবুকে তাকে দেখে। যাই হোক, কিছুদিন পরই তার ফুপাতো ভাইয়ের কাছ থেকে ফেইসবুকে সে একটি মেসেজ পায়। ফুপাতো ভাই সকলকে আবেদন জানিয়েছে তার বাবা ভেবে যাকে সবাই ফেইসবুকে এ্যাড করেছেন সেই প্রোফাইলটি আসলে তার বাবার নয়। অন্য কেউ শত্রুতা বশত: তার বাবার নামে একটি একাউন্ট খোলে তাদেরকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে। একই কান্ড করেছে তার ছোটবোনের বেলায়ও। ছোট বোনের একটি নকল প্রোফাইল খুলে তাতে নানা পর্নোগ্রাফিক ছবি আপলোড করেছে সেই অর্ধোন্মাদ লোকটি। সিরাজের মতো তাদের আরও অনেক আত্মীয়-স্বজন এসব নকল প্রোফাইলকে আসল ভেবে এ্যাড করে ভীতির মধ্যে আছেন। না জানি কার কোন কোন ছবি লোকটি হাতিয়ে নিয়েছে ফেইসবুকের মাধ্যমে। কম্পিউটারের মাধ্যমে এডিট করে না জানি আরও কত কি সব্বনাশ করে অজান-অচেনা এই শত্রুটি। ফেইসবুকের ভার্চুয়ালিটি বাস্তব জীবনের আতংকে পরিনত হয়েছে তাদের।

আপাতত: এই কয়টি ঘটনা বলেই কেইস স্টাডির পাট চুকালাম। উল্লেখিত নামগুলো কাল্পনিক হলেও ঘটনাগুলো কোন না কোন সময় কোন না কোন মানুষের জীবনে দূঘর্টনা হয়ে এসেছে এবং কিছু সময়ের জন্য হলেও তাদের জীবনকে করে তুলেছে দূবির্সহ। অনেককে বাধ্য হয়ে মোবাইল নাম্বারের মতো জরুরী বস্তুটিকে বদল করতে হয়েছে, অনেককে ফেইসবুকে প্রোফাইল খুলতে হয়েছে, অনেককে আজও কাটাতে হচ্ছে আতংকের মাঝে, দিনরাত পাহারা দিতে হচ্ছে ফেইসবুক নামক বিশাল মহীরুহকে।

ফেইসবুককে আমরা যতোই ভাচূর্য়ালিটির মাধ্যমে আড়াল করতে চাইনা কেন প্রকৃতই এটি কতটুকু ভাচুর্য়াল তা আমাদের ভেবে দেখার সময় এসেছে। সারা ইন্টারনেট বিশ্বে ফেইসবুক আজ এক মহীরুহের রূপ ধারন করেছে। যার ফলাফলে ইন্টারনেট সাইট রেংকিংয়ে গুগলের পরই আজ ফেইসবুকের স্হান দ্বিতীয়। ফেইসবুকে আমরা যে মানুষটিকে দেখি বা যে মানুষটির সাথে এর মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করি বাস্তবের আসল মানুষের সাথে তার কতটুকু মিল আর কতটুকু অমিল তা হয়তো কখনোই আমরা ভেবে দেখিনা। আসলেই ভার্চুয়ালিটি বলে কিছু আছে কিনা, বা ভার্চুয়াল বললেই আমরা আমাদের বাস্তব থেকে তাকে কতদূর দূরে সরিয়ে নিতে পারি তা নিতান্তই তর্কের ব্যাপার। একজন মানুষের বাস্তব জীবনের কতটুকু প্রভাব ফেইসবুকে পড়ছে অথবা ফেইসবুকের কতটুকু প্রভাব তার বাস্তব জীবনে অনুধাবিত হচ্ছে সেটাও নিতান্তই চিন্তার বিষয়।

আমার এক পরিচিত এবং প্রিয়জন ফেইসবুকের দূনার্ম করে বলে, মানুষ বাস্তবে যা করতে পারেনা কম্পিউটারের মাধ্যমে ফেইসবুকে বসে সেটাই সে করার চেষ্টা করে। তার মতে ফেইসবুক একটি ভুয়া জিনিস। যোগাযোগ রক্ষার জন্য ই-মেইলই যথেষ্ট। আমি ব্যক্তিগত ভাবে ফেইসবুকের ভক্ত কারন এটি ই-মেইল থেকে যথেষ্ঠ ইন্টারেকটিভ এবং এর মাধ্যমে আমি আমার আত্মীয়-বন্ধু-পরিচিত নানা প্রিয় মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারি। এই ফেইসবুকের মাধ্যমেই আমি আজ ফিরে পেয়েছি অনেক বছর আগের স্কুল জীবনের অনেক বন্ধুদের। আবার এই ফেইসবুকের মাধ্যমেই নানা জনের কাছ থেকে নানা তথ্য আদান-প্রদান করতে পারি। একজন ব্লগে একটি ভাল লেখা দিয়েছে, ফেইসবুকের মাধ্যমে আরও ১০ জন লেখাটি বিভিন্নজনের মাঝে ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করলেন, ফেইসবুকের এই এ্যাপ্লিকেশানটা বেশ উপকারী। গতকালই সাঈদ জুবেরী (কবি এবং ব্লগার) ভাইয়ের কল্যানে বেশ দীর্ঘ অথচ সুন্দর-মূল্যবান একটি কবিতা পড়া হয়েছে। এর বেশী ফেইসবুককে আমার তেমন কিছু মনে হয়না। যোগাযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদানের উতকৃষ্ট মাধ্যম।

কিন্তু ফেইসবুকের আপাত: এই যোগাযোগ মাধ্যমের আড়ালে বেড়ে চলেছে একটি অশুভ শক্তি। বিশ্বের তাবত বিজ্ঞানীরা নিজেদের নিয়োজিত করেছেন বিজ্ঞান গবেষনায়। তাদের একেকটি আবিষ্কার মানব সভ্যতার জন্য খুলে দিয়েছে একেকটি সম্ভাবনার দুয়ার। পৃথিবী এগিয়ে গিয়েছে উন্নতি থেকে উন্নতির পথে। তবুও চাদেঁর উল্টো পিঠের অন্ধকারের মতো প্রত্যেকটি আপাত: নির্দোষ আবিষ্কারের উল্টো পিঠে জমাটবদ্ধ থাকে নিকশ কালো অন্ধকার। স্বয়ং আইনস্টাইনই ভুলেও কল্পনা করেননি তার নির্দোষ সূত্র ধরে আমেরিকানরা বানিয়ে ফেলতে পারে ফ্যাটমেন অথবা লিটল বয় এবং গুড়িয়ে দিতে পারে হিরোশিমা অথবা নাগাসাকির মতো শহরকে।

ফেইসবুকের উল্টো পিঠেও লুকিয়ে রয়েছে এমন জমাটবদ্ধ অমানিশা। ফেইসবুক এতো খোলামেলা হয়ে গিয়েছে এখানে যেনতেন ভাবে একটি ইমেইল এড্রেস থাকলেই মানুষ রেজিস্ট্রেশান করছে এবং এতে ভেরিফিকেশানের বালাই নেই বললেই চলে। ই-মেইল থাকলেই একাউন্ট খোলা যাচ্ছে এবং মিশে যাওয়া যাচ্ছে ফেইসবুকের ভার্চুয়াল জনসমুদ্রে।

অবশ্য যাচাই করে নেয়া সম্ভবও নয়। পৃথিবীর কে কোথায় কার নামে উল্টোপাল্টা প্রোফাইল তৈরী করছে শ্লীল-অশ্লীল লিখছে, উল্টোপাল্টা ছিব আপলোড করছে তা ফেইসবুক কতৃপক্ষের পক্ষে জানা অসম্ভব। যদি না কেউ নিজ দায়িত্বে কতৃপক্ষকে রিপোর্ট করেন।

ফেইসবুক তাই অনেকের জন্য হয়ে উঠেছে অশান্তির অশুভ চক্র। বাস্তবিক কোন শত্রুতার জের ধরে ফেইসবুকে খুলে ফেলা হচ্ছে শত্রুর নামে একটি নকল প্রোফাইল, যে কোন ভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে তার ছবি এবং একটু এডিট করেই তা আপলোড করা হচ্ছে ফেইসবুকে। পরিচিত অপিরিচিত সবার কাছে তাকে সমৃদ্ধ করা হচ্ছে একজন সাইবার ব্যাশ্যা হিসেবে।

কিছুদিন আগেই এক পরিচিতজন ফোনে প্রথম আলো’র একটি সংবাদ আমাকে পড়ে শুনিয়েছিলো। আমার হাতের কাছে প্রথম আলো না থাকায় এই ডিজিটাল ব্যবস্হা। রংপুরের কোন এক মেয়ে সকাল বেলা কলেজে গিয়ে দেখে দেয়াল জুড়ে তার পর্নোগ্রাফিক ছবি। কোন এক অশ্লীল ছবিতে তার মুখকে এডিট করে কতিপয় নষ্টের এক দুষ্টচক্র ছবিগুলো প্রিন্ট করে কলেজের দেয়ালে সাটিয়ে দিয়ে চম্পট দিয়েছে। মেয়েটি লজ্জায় কলেজ থেকে বাড়ী ফিরে ঘটনা খুলে বলতেই পুলিশের মাধ্যমের সেই দুষ্টচক্রকে আটক করা সম্ভব হয়। ছেলেগুলো ল্যাপটপে মেয়েটির ছবি এবং এডিটকৃত ছবিগুলোও পাওয়া যায়। এটি সেই পুরোন থিওরী। প্রেম নিবেদনের পর ব্যর্থ হয়ে জিঘাংসাপূর্ন-অমানবিক-অসামাজিক আচরন।

এখন আর মানুষকে এতো কষ্ট করতে হয়না। কেউ একজন একটু গালি দিলো, চোখ রাঙালো, একটু মিস বিহেভ করলো, বসে পড়লাম কম্পিউটারের সামনে। খুলে ফেললাম একটি ভুয়া ই-মেইল এড্রেস জিমেইল অথবা ইহায়ুতে। তারপর রেজিষ্ট্রেশান করে ফেললাম ফেইসবুকে মিস বিহেভ করনেওয়ালার নাম দিয়ে। এবং ছড়িয়ে দিলাম তার নামের হাজার হাজার দূর্নাম। যতোই দিন যাচ্ছে মানুষ হিসেবে আমাদের মূল্যবোধ ততোই নীচু থেকে নীচুতর হচ্ছে।

প্রেম নিবেদনে ব্যর্থ হয়ে এসিড নিক্ষেপ একটি নিতান্তই স্বাভাবি ঘটনা আমাদের দেশে। পাড়ার বখাটে ছেলেরা স্কুলে পড়া মেয়েকে রাস্তায় বিরক্ত করবে এবং অত:পর কিছুদিন পরই এসিড নিক্ষেপ এবং একটি পরিবারকে ভাসিয়ে দেয়া হতভাগ্য সাগরে কান্ডারীবিহীন কলাগাছের ভেলাতে। এসিডের সহজলভ্যতা, স্কুল পড়ুয়া মেয়ে, পাড়ার বখাটে যুবক সবকিছু মিলে আমাদের দিনের পর দিন উপহার দিয়েছে এক একটি এসিডে ঝলসানো মুখ।

এতো গেলো পাড়ার বখাটে যুবকদের কথা। হাই সোসাইটি নামক জ্বলজ্বলে উচ্চবিত্তসম্পন্ন পরিবারের ছেলে মেয়েরা আজ মেতে উঠেছে ফেইসবুক সেক্সে। আমরা ফোন সেক্সের কথা জানি। এখন আমরা জানলাম ফেইসবুক তথা ভার্চুয়াল-সাইবার সেক্সের কথা। মনে পড়ে ৯০ দশকের শেষের দিকে যখন বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ আনবো আনবো করছি তখনই ট্যাবলয়েড মানবজমিনের প্রথম পাতায় একটি প্রতিবেদন বেরিয়েছিলো “সাইবার সেক্স” হেডিং দিয়ে। আমার ইন্টারনেট সংযোগের দফারফা করে দিয়েছিলো প্রতিবেদনটি। কোন মা-বাবা এরূপ প্রতিবেদন পড়ার পর নিশ্চই ১৭/১৮ বছরের ছেলের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ আনতে আগ্রহী হবেন না। যাই হোক, মাঝে মাঝে ফেইসবুকে এমন কোন কোন প্রোফাইলের সাক্ষাত পাই যে নিজের রাগ এবং ক্রোধকে সামলে রাখাই মুসকিল হয়ে পড়ে। ঐসব প্রোফাইলে ছেলেদের নাকু নাকু কথা এবং ফ্লার্টিং আর পার্ভাশনের রীতিনীতি দেখে হাসতে হাসতে বিষম লাগে। একটু খতিয়ে দেখলে বোঝা যায় প্রোফাইলটি আগাগোড়া ফেইক বা নকল। আমাদের বিজ্ঞ ফেইসবুক ব্যবহারকারীরাও বুঝতে পারছেন প্রোফাইলটি নকল, কারন কোন ভদ্র মেয়েই নিশ্চই নিজের নামে এমন অশ্লীল মন্তব্য অথবা পোষ্ট দেবেনা। কিন্তু তারপরও তারা নাকু নাকু কথা বলছেন এবং নিজেদের অবদমিত বাসনাকে ফেইসবুকের মাধ্যমের পূনর্তা দিচ্ছেন। আমরা বান্গালীরা আগাগোড়াই অবদমনের শিকার। আমরা রাস্তায় কোন সুন্দর মেয়ে দেখলে তাকিয়ে থাকি এবং বাসায় এসে সেই ফিগার কল্পনা করে হস্তমৈথুন করি। কিন্তু মুখে তা স্বীকার করিনা, বা অন্য কেউ করতে দেখলে আমরা রে রে করে নাক সিঁটকাই।

আমরা যারা পতিতালয়ে যেতে পারিনা, তারা ফেইসবুকের মাধ্যমে পতিতার সঙ কল্পনা করি; যারা অবাধ যৌনাচার করতে পারিনা, তারা কম্পিউটারের সামনে বসে পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে পূর্নতা দান করি আমাদের অবদমতিত বাসনার, ফেইসবুককে করে তুলি কামনার পীঠভূমি; আমারা যারা বাস্তবিকই কোন প্রেমের স্বাদ পাইনি, তারা ফেইসবুকের মাধ্যমের সন্ধান করে চলি অমূল্য প্রেমের; দীর্ঘকাল নারীবিহীন থাকতে থাকতে যাদের পুরুষান্গে জং ধরেছে তারা ফেইসবুকে একেকটি মেয়ের প্রোফাইল ছবি দেখতে দেখতে করে চলি ভার্চুয়াল সংগম; যেসব কামতপ্ত অষ্টাদশীরা এখনও জীবনের আমুল স্বাদ পাইনি তারা ফেইসবুকে বসেই গড়ে তুলি নিজেদের ভার্চূয়াল সংগমাগার। সামাজিক যোগাযোগের আড়ালে আমরা নিজেদের অবদমিত অস্তিত্বকে মূল অস্তিত্বের উপর ছড়ি ঘোরাতে দিই অবাধে।

এভাবে প্রত্যেক ভাল আবিষ্কার বা প্রযুক্তি সমাজের একাংশের ক্ষতি করে তীব্র যন্ত্রনায়। আমরা সমাজের অবদমন দেখি, ক্লীষ্টতা দেখি, যন্ত্রনা দেখি কিন্তু এর থেকে মুক্তির কোন সম্ভাবনা দেখতে পাইনা। মোবাইল ফোন আমাদের যোগাযোগের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করেছে তীব্র আবেগে। মানুষ শহরে বাজারে মাছ কিনতে কিনতে গ্রামের মায়ের সাথে কথা বলছে, “মা, একটা বিশাল কাতলা মাছ কিনলাম” কিন্তু এই মোবাইল আমাদের সমাজের একাংশকে বিপথগামী হতে প্রভাবকরূপে কাজ করেছে অসীম তীব্রতায়। একটি ঘটনা মনে পড়ে গেলো....

আমার অনেকদিনের বন্ধু হঠাত ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করলো মোবাইল ফোন ট্রেস করা যায় কিভাবে। মানে কেউ যদি ফোন করে তবে কোথা থেকে ফোন করেছে তা কি শুধু নাম্বার দিয়ে ট্রেস করা সম্ভব নাকি। আমি বললাম, হ্যা সম্ভব। তবে তা একমাত্র সেই অপারেটরের প্রকৌশলীরা ট্রেস করতে পারবে। আমি বা অন্য কেউ বাইরে থেকে তা ট্রেস করতে পারবেনা উপযুক্ত যন্ত্রের সাহায্য ব্যাতীত। অত:পর জিজ্ঞেস করলাম কাহিনী কি? ভাবীকে কেউ বিরক্ত করছে নাকি। স্বভাবত:ই বন্ধুর স্ত্রীর কথাই আমার মনে এলো। বন্ধু কিন্চিত ইতস্তত: করতে করতে বলে, না তোর ভাবী না, আমার শাশুড়ীকে কারা যেন ফোনে বিরক্ত করছে। মনে পড়ে, আমি ১০/১৫ সেকেন্ড কোন কথা বলতে পারিনি এবং এরপর হো হো করে হেসে উঠেছি। অবস্হা কত বেগতিক একটু কল্পনা করুন। শেষ পযর্ন্ত মা-শাশুড়ীরাও রেহাই পাচ্ছেন না।

এখন এসেছে ফেইসবুকের যুগ। পরিচিত-অপরিচিত, মাঠে-ঘাটে, বাসে-ট্রাকে, রিকশা-ঠেলাগাড়ী, ঘর-দোর-জানালা, হাটে-বাজারে, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদলত, দৈনিক পত্রিকা থেকে শুরু করে সাপ্তাহিক-পাক্ষিক-মাসিক সবকিছুতেই আজ ফেইসবুক বন্দনা। আমরা সবাই কয়েনের এক পিঠ নিয়েই লাফালাফি করে অন্য পিঠটার দিকে খুব একটা নজর দিই না। আমরা ফেইসবুকের একপিঠের উপকারীতা নিয়ে হৈচৈ করি, অন্য পিঠের অপকারীতা এবং সেই অপকারের কল্যানে মানুষের বাস্তব জীবনের নেমে আসা ঘোর অমানিশার কথা কেউ ভেবে দেখিনা। ভেবে দেখিনা ফেইসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাইবার অপরাধের এইসব কালপ্রিটের কথা, ভার্চুয়াল জনসমুদ্রে লুকিয়ে থাকা এইসব অপরাধীদের কথা। আমরা ভেবে দেখিনা ঐসব মানুষের কথা যারা সাইবার অপরাধের শিকার হয়ে নিজেদের জীবনকে অকল্পনীয় দূর্ভোগের শিকার হতে দেখেছেন। তাই আমিও তেলতেলে মুখে প্রশংসার বানী ঝরিয়ে চিতকার করে বলে উঠি

জয়তু ফেইসবুক.......<img src=" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29131813 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29131813 2010-04-09 17:35:40
স্বাধীনতাহীনতায় কে বাচিতে চায় বলো কে বাচিতে চায়
"স্বাধীনতাহীনতায় কে বাচিতে চায় বলো কে বাচিতে চায়....."
................................................................

এই পঙক্তির পরের পঙক্তি কি? কবিতা এবঙ কবির নাম কি?

দয়া করে কেউ জানলে একটু জানান।

সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29123370 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29123370 2010-03-25 22:33:23
বাংলা ভাষায় অনূদিত মহাভারতের কোন ডাউনলোড লিংক কি কেউ দিতে পারেন?
কিন্তু মহাভারত সম্পর্কে আমার জ্ঞান ছোটবেলায় পড়া সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত মকবুলা মনজুরের কিশোর ক্লাসিক "কিশোর মহাভারত" এর গন্ডি পেরোয়নি। মূল বস্তু গলাধ:করণ না করে তার রিভিউ নিয়ে মাতামাতি অনেকটা দুধের সাধ ঘোলে মেটানোর মতো। রিভিউ পড়ার আগে মূল মহাভারতের কয়েক পাতা নাড়াচাড়া করার তাগিদ অনুভব করছি। তাই হন্যে হয়ে এই তথ্য তালাশ।

বাংলা ভাষায় অনূদিত মহাভারতের কোন ডাউনলোড লিংক কি কেউ দিতে পারেন? নেটে অনেক অনেক রিভিউ পেলাম। আর পেলাম সংস্কৃত আর গুজরাটী ভাষার বিশাল মহাভারত। কিন্তু বাংলা ভাষায় আসল জিনিসের কোন লিংক পাচ্ছিনা। কারও জানা থাকলে সাহায্য করলে অশেষ কৃতজ্ঞ থাকি।

শুভেচ্ছা সবাইকে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29116433 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29116433 2010-03-14 23:10:04
যুদ্ধাপোরাধীর বিচার প্রসন্গে হাসান মোরশেদ ভাইয়ের ব্লগ লিংক (অবশ্য পাঠ্য এবং করনীয়) হাসান মোরশেদ'র লেখার লিংক


নতুন করে আমি আর কিছু লিখলাম না। উপরের লিংক থেকে লেখকের অনুমতি ক্রমে কপি-পেষ্ট করে দিয়ে দিলাম নিম্নরূপ....


ঘটনা কি?

ঘটনা হলো, যুক্তরাজ্য তার একটি আইন পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করছে, ফরেন সেক্রেটারী ডেভিড মিলিব্যান্ড ইতিমধ্যে এই ঘোষনা দিয়েছেন। কি আইন? আইনটি তৈরী হয়েছিল চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের আওতায় যার মুল কথা হচ্ছে- 'seek out and prosecute persons suspected of war crimes wherever and whoever they are, whatever their status, rank or influence, against whom good prima facie evidence has been laid.'

এই আইনের মুল ভিত্তি হচ্ছে Universal Jurisdiction- পৃথিবীর যে কোন দেশ তার দেশে আশ্রয় নেয়া প্রমানিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার অধিকার সংরক্ষন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক,ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, জার্মানী, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশে আশ্রয় নেয়া ভিনদেশী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে Universal Jurisdiction এর ভিত্তিতে।

আমাদের কি?

আমাদের অনেক কিছু। মুক্তিযুদ্ধের পর পর নেতৃস্থানীয় ঘাতক দালালদের একটা বড় অংশ রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছে যুক্তরাজ্যে। গোলাম আজম এখানে বসেই শুরু করেছিলো তার পুর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কর্মসূচী। বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ডের প্রধান ঘাতক চৌধুরী মইনুদ্দিন বহাল তবিয়তে আছে এখনো এখানে। এদের অনেকেই এখন আইনগত ভাবে যুক্তরাজ্যের নাগরিক।

এতো বছর এরা নিরাপদে এখানে আছে, কারন কার্যকর ভাবে এদের যুদ্ধাপরাধ কখনো প্রমান করা হয়নি। যদি বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেয়া ঘাতকদের যুদ্ধাপরাধ প্রমান করতে পারে, তাহলে বিদ্যমান আইনের কারনে যুক্তরাজ্যের বাধ্যবাধকতা আছে তাদের আদালতেই এদের বিচার করার।

কিন্তু এই আইন বাতিল হয়ে গেলে ঘাতকদের বেঁচে যাওয়ার সুযোগ তৈরী হয়।

আমরা যা করতে পারি

এই আইন বাতিলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে পার্লামেন্টের ভিতরে ও বাইরে নানা কর্মসূচী গৃহীত হয়েছে।

সাংসদদের একটা বড় অংশ, এমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ মানবাধিকার সংগঠন এবং আরো বিভিন্ন গ্রুপ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য নানামুখী উদ্যোগ গ্রহন করেছে।

আমরা যে কেউ ইচ্ছে করলেই অন্ততঃ একটি কর্মসূচীতে অংশ নিতে পারি, সেটি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে ই-মেইল করা।

আমি মেইলের একটা নমুনা এখানে দিয়ে দিচ্ছি। যে কেউ এটি কপি করে মেইল পাঠাতে পারেন


Subject: Don't change the law on universal jurisdiction

From: [YOUR NAME] To: "Gordon Brown - Prime Minister" ()

Dear Prime Minister

I am shocked at suggestions by the Foreign & Commonwealth Office Minister Ivan Lewis and Foreign Secretary David Miliband, that Britain may consider changing its laws to avoid any future attempts to bring to trial suspected war criminals, Israeli or otherwise.

The UK must not renege on its international treaty obligations, particularly those under the Fourth Geneva Convention (Article 146) to seek out and to bring to trial persons suspected of war crimes wherever and whoever they are, whatever their status, rank or influence, against whom good prima facie evidence has been laid.

I oppose any attempt to undermine the judiciary’s independence and integrity. A judge who finds sufficient evidence of a war crime must have power to order the arrest of a suspect, subject to the usual rights to bail and appeal.

The power to arrest individuals reasonably suspected of war crimes anywhere in the world should they set foot on UK soil is an efficient and necessary resource in the struggle against war crimes, and must not be interfered with. Nor should the government succumb to pressure from any foreign power to change this crucial aspect of the judicial process.

I therefore urge the government to state clearly that it will not change the law on universal jurisdiction, and will continue to allow victims of war crimes to seek justice in British courts.

Sincerely,

[YOUR NAME]

লাভ হবে?

হবে। জনমতের চাপে যুক্তরাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত বদলের অনেক অনেক উদাহরন আছে। যেহেতু এই সিদ্ধান্ত বদলের ফলে আমাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সম্ভাবনা নষ্ট হবার আশংকা আছে সেহেতু আমাদের দায়িত্ব চাপ সৃষ্টির ন্যুনতম সুযোগটি ও নেয়া।


দ্রষ্টব্য: কপি-পেষ্ট সম্পূর্ন লেখকের অনুমতিক্রমে করা। এ বিষয়ে কেউ অযথা জল ঘোলা করার চেষ্টা করবেন না। ধন্যবাদ সবাইকে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29106903 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29106903 2010-02-27 22:59:17
জলপাই রঙের তিক্ততা ১/১১'র রাতে একুশ নম্বর আঙুল বইটি পড়ার পর। হঠাত মারাত্মক টক কিছু খেলে আমরা যেমন মুখ বিকৃত করি, বইটি পড়ার পর আমার মনও তেমনি বিকৃত হয়ে উঠলো। আরিফ জেবতিক তার বইটির মাধ্যমে আমাকে কিছু বিকৃতি উপহার দিলেন। জন্জালে ভরা এই সমাজের পচা-গলা বিবেকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন।

১/১১'র রাতে একুশ নম্বর আঙুল আরিফ জেবতিক'র তৃতীয় প্রকাশিত গন্থ। এবারের একুশে বইমেলা ২০১০ এ জাগৃতি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই বইটিই আমার প্রথম পঠিত বই। আরো অনেক বই হয়তো কিনবো এবং পড়বো কিন্তু প্রথম হিসেবে ১/১১'র রাতে একুশ নম্বর আঙুল একটি বিশেষ স্হান দখল করে থাকবে।

অনেকে লক্ষ্য করে থাকবেন যে বইটিকে আমি কোন ক্যাটাগরিতে ফেলিনি। এটিকে ঠিক উপন্যাস বলা যায়না আবার গল্পও বলা যায়না। বড়ো গল্প বললে আবার কম বলা হয়ে যায়। বইটির শারিরিক কাঠামো, চারিত্রিক ব্যাপ্তি, কালিক বিস্তার সবকিছু মিলিয়ে এটিকে আমার উপন্যাসিকা বলে ভ্রম হয়। আমি এটিকে উপন্যাস বলতাম, যদি দেখতাম এর ব্যাপ্তি অনেক বিশাল, যদি আমি তানিমের সত্যিকার তানিম হয়ে উঠার গল্প এখানে পেতাম, প্রভু ইফতেখার সাহেব অথবা ইফতেখার স্যারের প্রভু হয়ে উঠার গল্প যদি আমি পেতাম, যদি বইটি একটি সময়কে ধারন করতে সক্ষম হতো, আমার এটিকে উপন্যাস বলেই ভ্রম হতো।

যদিও আমি এখানে একটি ঘটনার আড়ালে তথাকথিত একটি নির্দিষ্ট সময়ের নোংরা-গলা-পচা-গন্ধযুক্ত লাশের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। যে সময় আমাদের বোধ ছিলোন, বিবেক ছিলোনা, আমরা গোটা নির্বোধ জনপদ আশ্রয় নিয়েছিলাম এক মস্ত জলপাই বাগানের ভয়াবহ ছায়াতলে, আমাদের জীবন ভরে উঠেছিলো জলপাইয়ে, জলপাই সবুজ আমাদের ধর্ষন করেছিলো যথেচ্ছভাবে, আমরা জলপাইয়ের আচার খেয়ে সুখ অনুভব করেছিলাম, জলপাইয়ের টক খেয়ে মিষ্টি হাসি হেসেছিলাম, আমরা জলপাইয়ের মদ্য পান করে নেশাতুর চোখে বুনে চলেছিলাম স্বপ্নের পৃথিবী। তাই আমি ঘটনাটিকে রূপক হিসেবে একটি সময়ের যথেচ্ছাধারীদের কলুষতার, অমানবিকতার, কদর্যতার, হিংসার, লোভের, ক্ষমতার, দূর্নীতির, আমাদের জনগনের নির্বুদ্ধিতার, অন্ধত্বের, হুজুগের, ভাষাহীনতার, অসহায়ত্বের, নির্বাকতার, হৃদয়হীনতার, মননহীনতার, চামচামির প্রতিফলন হিসেবে দেখতে পাই।

বইটি আমাকে তানিমের গল্প শোনায়। নির্ভীক, অকুতভয়, রহস্যভেদী, ২৬ বছর বয়স্ক সাংবাদিক তানিম খলিল। টাংগাইলের মধুপুরে গ্রেফতারকৃত আদিবাসী নেতা চলেশ রিছিল রাষ্ট্রীয় হেফাজতে মৃত্যুবরন করলে দেশের প্রধান একটি দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক তানিম সেই হত্যারহস্য উদঘাটনে নেমে পড়ে। অত:পর চলেশ রিছিলের মৃত্যু রহস্যভেদ করতে করতে তার জীবনেও নেমে আসে জলপাই রঙের দুর্দমনীয় নিকশ কালো অন্ধকার। অন্ধকারে তানিম খাবি খায় ডাঙায় তোলা কই মাছের মতো, তানিম ভেঙে পড়ে কিন্তু মচকায় না, মচকায় কিন্তু মুখ খোলেনা। যন্ত্রনাকাতরতায় ভরে ওঠে তার জীবন, তার অস্তিত্ব তবু ক্রিয়াশীল থাকে ন্যায়ের মশাল নিয়ে, তার বিবেক সদা জাগ্রত থাকে মানুষের অধিকারের স্বপ্নে। আমরা সেই সাংবাদিক তানিমের গল্প জানতে পারি ১/১১'র রাতে একুশ নম্বর আঙুল উপন্যাসিকাটিতে।

তানিমের গল্প একটি বাস্তব ঘটনারই কাল্পনিক রূপান্তর। কাজেই এক্ষেত্রে লেখকের স্বাধীনতা কিছুটা খর্ব হয়। লেখক ইচ্ছে করলেই তার কল্পনাকে লাগামহীন ঘোড়া বা হাল বিহীন জাহাজের মতো বল্গাহীন ভাবে যেদিকে ইচ্ছে ছুটিয়ে দিতে পারেন না। বাস্তব ঘটনাভিত্তিক ফিকশানে লেখককে তাই খুব সাবধানে চরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে হয়, ঘটনার বর্ননা করতে হয়, ঘটনার সামন্জ্যস্যতা বজায় রাখতে হয়। তার উপর লেখকের বিষয় নির্বাচন ছিলো দেশের খুবই নাজুক একটি অংশকে নিয়ে। কাজেই লেখককে এখানে আরো সাবধান থাকতে হয়। শত সাবধানতা বশত: লেখকের কাছ থেকে যতটুকু উদারতা প্রয়োজন পাঠক হিসেবে আমি তা পেয়ে যাই।

স্কুলে বাংলা গদ্যে এক ধরনের প্রশ্নের উত্তর আমার খুব প্রিয় ছিলো। অমুক চরিত্র বিশ্লেষন করো, তমুক চরিত্র চিত্রনের মাধ্যমে লেখক সমাজের কোন দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন, এসব প্রশ্নের উত্তর পড়তে পড়তে আমার সামনে একেকটি নতুন পৃথিবীর দরজা খুলে যেতো। আমি চরিত্রের সাথে মিশে যাবার চেষ্টা করতাম। ১/১১'র রাতে একুশ নম্বর আঙুল বইটি পড়তে পড়তেও আমি চরিত্রগুলোর সাথে মিশে যেতে চেষ্টা করি। আমি তানিমের সাথে মিশে তার নিজস্ব জগতটাকে চেনার চেষ্টা করি, বীথির সাথে মিশে তার ছাপ-ছাপ কান্না মেশানো দীর্ঘশ্বাসকে বোঝার চেষ্টা করি, মোহাইমেনের সাথে মিশে তার প্রভু হয়ে ওঠার আকান্খাকে আকড়ে ধরতে চেষ্টা করি, ইফতেখারের সাথে মিশে তার ক্ষমতার নোংরামীকে চেনার চেষ্টা করি, তানিমের বসের সাথে মিশে তার কূটনীতিকে আত্মস্ত করার চেষ্টা করি, মোমিনুল হোসাইনের সাথে মিশে আমি তার প্রভু হয়ে ওঠার নেপথ্য গল্প জানতে চেষ্টা করি, এন্ড্রু সাথে মিশে আমি তার মানবতাবোধের কঠিন আবেগকে চেনার চেষ্টা করি, এমন কি ছোট্ট পিয়াসের সাথে আমি মিশে আমি তার জগতটাকে চেনার চেষ্টা করি।

গল্পটি আমার কাছে আর গল্প থাকেনা। গল্পটি আমার কাছে হয়ে ওঠে তানিমের নিরলস সংগ্রাম, বীথির আত্মত্যাগ, মোহাইমিনের গোপন কামনা, ইফতেখারের ধৃষ্টতা অথবা একজন মোমিনুলের নোংরামী। আমি একাধারে ভালবাসার স্বাদ পাই, তিক্ততার স্বাদ পাই, ত্যাগের স্বাদ পাই অথবা স্বাদ পাই জলপাইয়ের অম্লতার। তানিমের গল্প শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে মানবতার গল্প, দেশের পচে যাওয়া গলে যাওয়া ক্ষমতাবানদের, প্রভু নামধারী ব্যক্তিদের নেপথ্য হিংস্রতার গল্প, নির্যাতনের উপাখ্যান। আমরা বোকা জনগনের নাকের ডগায় অথচ দৃষ্টির আড়ালে কতশত চলেশ রিছিল, কত হাজার হাজার তানিমের হাহাকার ধ্বনি ভেসে বেড়ানোর গল্পই আমরা জানতে পারি আরিফ জেবতিকের ১/১১'র রাতে একুশ নম্বর আঙুল উপন্যাসিকাটিতে। শেষ পর্যন্ত তা হয়ে ওঠে গোটা জনপদের হাহাকার ধ্বনিতে।

লেখক আরিফ জেবতিকের একটি দিক আমার বেশ ভাল লেগেছে। লিখতে লিখতে আলগোছে তিনি কোন এক চরিত্রের মুখ দিয়ে সমাজের খুব তিক্ত কোন সত্য অতি সহজে বলিয়ে নেন। এটি লেখকদের একটি বিশেষ গুন। সবাই এটি পারেনা। এই লেখক পারেন। পড়তে পড়তে হঠাত একটি হোচট খেতে হয়। ভাবনার খোরাক জোগায় কোন কোন বাক্য অথবা যুক্তি। বন্ধুত্ব সম্পর্কে অথবা গোটা জাতির দুই ভাগ হয়ে ওঠা সম্পর্কে তানিমের ভাবনা কিছুক্ষনের জন্য হলেও আমাকে কপাল কোচকাতে বাধ্য করে। লেখকের সব যুক্তির সাথে হয়তো একমত হওয়া সম্ভব নয় তবু তার এই স্বত:স্ফুর্ততা আমাকে কাছে টানে।

বইটির বিন্যাস আমার কাছে কিছুটা দৃষ্টিকটু লেগেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে নতুন প্যারাগ্রাফ অপ্রয়োজনে টেনে আনা হয়েছে। কোন এক জায়গায় মুদ্রন প্রমাদে তানিম হঠাত তাসনিম হয়ে উঠেছে।

নামকরনের দিক থেকে বইটি সার্থক। একুশ নম্বর আঙুলের রূপককে লেখক বেশ ভালভাবেই বাস্তবতার ক্যানভাসে অন্কন করতে সক্ষম হয়েছেন। এখানেই গল্পটির স্বার্থকতা, লেখকের সাফল্য। পড়তে পড়তে পাঠক একুশ নম্বর আঙুলের রূপকাশ্রয়ী অর্থ সম্পর্কে ভাবতে থাকবেন। ভাবনাটা স্হায়ী হবে গল্পের একেবারে শেষ পর্যন্ত। যখন আপনি পড়বেন নিম্নোক্ত কথাটি –

একুশ নম্বর আঙুল হারানোর বেদনা একজন লেখক ছাড়া আর কেউ কোনদিন বুঝতে পারবে না।“

পুরো বইটি শেষ করার পর আমার মননও একুশ নম্বর আঙুল হরানোর বেদনায় ভারাতুর হয়ে পড়ে থাকে স্মৃতির ভাগাড়ে


দ্রষ্টব্য: রিভিউর নামকরনটি প্রিয় লেখক হুমায়ুন আজাদের "জলপাই রঙের অন্ধকার" থেকে ধার করা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29095044 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29095044 2010-02-11 00:44:54
পুরুষানুভূতি
হাসপাতালের রোগশোকময় বারান্দায় এসব কাব্যিক আবেগকে দলিতমথিত করে আমি মেয়েটির দিকে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করি। একটি নি:সন্গ চেয়ারে সে বসে আছে চেয়ারটির থেকেও আরো নি:সন্গ অবস্হায়; গুটিশুটি, যেন নিজের ভেতর নিজের ক্ষরণ টের পাচ্ছে মেয়েটি। দূর থেকে তার ছিড়ে যাওয়া সূতোর নেপথ্যের গল্প অনুভব করার চেষ্টা করি আমি। সূতোর ওপারে কে আছে? স্বামী-বাবা-মা-ভাই-বোন? কোন সে সূতো ছিড়ে এমন নি:সন্গ করে রেখে গিয়েছে মেয়েটিকে? আমি মনের ভেতর গল্পের ভেতরে নিজেকে প্রবেশ করানোর তাগিদ আরো জোরেসোরে অনুভব করতে থাকি।

মেয়েটির কাছে গিয়ে মাথায় হাত রাখতেই সে মুখ তুলে তাকায়। কোমল-মায়াময় এক অনুভূতি হতে থাকে আমার মনের ভেতর। কত হবে বয়েস? ১৮ কি ২০? মুখের দিকে তাকালে কি এক অজানা কষ্ট এসে আঘাত করে অন্তরের দেয়ালে। আমার হৃদয়ের দেয়ালের চুনসুরকী শত টুকরো হয়ে খসে পড়তে থাকে। আমি আমার কল্পনার ক্যানভাসে আকতে থাকি মেয়েটির যন্ত্রনা, ক্যানভাসের দেয়াল বেয়ে গলে গলে পড়তে থাকে তার বোবা কান্নার নিরবিচ্ছিন্ন সুর।

আমি মেয়েটির সূতোর সন্ধান করার চেষ্টা করি। শতব্যস্ত হাসপাতালে একজন অনুভূতিপ্রবন পুরুষের সন্ধান পেয়ে তার বেদনা গল-গল করে বেরুতে থাকে জলপ্রপাতের মতো। আমি তার বেদনায় ভেসে যেতে থাকি, মাথা তুলে নিজেকে বাচাতে গিয়ে আমি হাবুডুবু খেতে থাকি তার যন্ত্রনার জলধারায়। চিরাচরিত প্রতিটি হাসপাতালের জঘন্য বেদনাদায়ক ইতিহাস তার বিষাক্ত ফনা তুলে দাড়ায় তার সমগ্র অস্তিত্ব নিয়ে। আমি নিজের ভেতর নিজের মৃত্যু টের পাই।

মাতৃহারা মেয়েটি তার একমাত্র অবলম্বন বাবাকে এতো রাতে হাসপাতালে ভর্তি করতে গিয়ে চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে নি:সন্গতাকে সাথী করে এমন গুটিশুটি হয়ে বসে আছে। ব্যস্ততম হাসপাতালে তাদের দিকে তাকাবার সময় কারই বা থাকবে এতো রাতে? অনেক অনুযোগ-অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। মেয়েটির জন্য কিছু করার আমার মন আকুল হয়ে উঠলো। কি মায়াময় বিষন্ন দৃষ্টি। আমি যতোই দেখছি ততো তার দৃষ্টির গহীনে প্রবেশ করছি। কাঠালীচাপার গন্ধ প্রবলভাবে আমার অস্তিত্বকে বিলীন করে তোলে। আমি চোখ বুজে কাঠালীচাপার গন্ধে বিভোর হতে থাকি, সুখ স্বপ্নে কাতর হতে থাকি, রন্ধ্রে-রন্ধ্রে অনুভব করতে থাকি যন্ত্রনার বিভীষিকা।

হঠাত মেয়েটির গন্ধ আমার পুরুষানুভূতিকে দারুনভাবে গ্রাস করে। আমি নিজের ভেতর একজন পুরুষের উপস্হিতি টের পাই। পুরুষটি আমার অস্তিত্বকে বিলীন করে ফনা তোলা গোখরা সাপের মতো। আমি ডাক্তার থেকে ক্রমশ: পুরুষ হয়ে উঠতে থাকি। আমার শরীর থেকে খুলে পড়ে ডাক্তারে এপ্রোন, আমার মস্তিস্ক থেকে গল-গল করে বেরুতে থাকে ডাক্তারী সব কারিগরী জ্ঞান, বিবেকের যুক্তি, আমার সমগ্র অস্তিত্বে অনুভূত হতে থাকে অস্তিত্বে-অস্তিত্বে এক বিবমিষাময় যুদ্ধ। আমি লড়াই করতে থাকি নিজের সাথে, নিজের বিবেকের সাথে, নিজের ব্যক্তিত্বের সাথে, নিজের প্রয়োজনীয়তার সাথে, যুক্তির সাথে, আবেগের সাথে, যোগ্যতার সাথে, ক্ষমতার সাথে। আমি লড়াই করতে থাকি জগতসংসারঘরমনজানালাপ্রতিবেশপৃথিবী আমার সমগ্র অস্তিত্বের সাথে।

হৃদয়মননআবেগবিষাদযুক্তিতর্কচেতনাঅবচেতনা আমার ক্ষরনে ক্ষরনে ভরে ওঠে। পুরুষ হয়ে উঠতে উঠতে আমি স্বাদ নিতে থাকি মেয়েটির গ্রীবার, তার চুলের, তার ওষ্ঠের-কপোলের-বাহুদেশের-মুখমন্ডলের-স্তনের-কটিদেশের। আমি পতিত এক জমির ঘ্রাণের আঘাত পাই। আমি অস্তিত্বে লান্গলের হুন্কার শুনতে পাই, জমির হাহাকার শুনতে পাই। হাসপাতালের নির্জনতায় আমি আমার লান্গল দিয়ে চাষ করে যেতে থাকি ২০ বছরের এক পতিত জমি। আমি নিজের অস্তিত্বে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি, নিজের বিবেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি, যুক্তিতে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। আমি শুধু বিশ্বাস করি লান্গলে, আমি শুধু বিশ্বাস করি পতিত জমিতে, আমি লান্গল দিয়ে শুধু জমি চাষে বিশ্বাস করি, জমির ভেন্গে পড়া গড়ে ওঠায় বিশ্বাস করি, কাতরতায় বিশ্বাস করি, মাংসের ভেতর শুধু অনলে বিশ্বাস করি। আমার সমগ্র অস্তিত্ব পরাজিত হয় পুরুষানুভূতির সোনালী সাপের বিষাক্ত ফনার আবেশে। আমি শুধু পুরুষানুভূতিতে বিশ্বাস করি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29086840 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29086840 2010-01-27 20:37:37
ইউক্রেন প্রতিভা সিমোনোভা এবং তার যুদ্ধবিরোধী চিত্রকর্ম

মাঝে মাঝে কোন ভিডিও দেখলে খুব বিহ্বল হয়ে পড়ি। আজ অফিস থেকে এসেই মেইল চেক করতে গিয়ে দেখলাম বড় আপা লিংকটা পাঠিয়েছে। সাথে সাথে দেখা শুরু করলাম। অত:পর অভিভূত হলাম।

ভিডিওতে দেখা যাবে ২৪ বছর বয়স্কা ইউক্রেনীয়ান সেনীয়া সিমোনোভা কে। বালির ক্যানভাসে একের পর এক অদ্ভুত সব চিত্রকর্ম করে যাচ্ছেন। বালির উপর এই চিত্রকর্মটি "Ukraine’s Got Talent" এ্যাওয়ার্ড ২০০৯ জিতে নিয়েছে এবং অর্জন করেছে প্রায় ৭৫০০০ হাজার পাউন্ড !!!

আমরা সবাই আর্ট পেপারে বা কাগজের ক্যানভাসে বিভিন্ন রঙের খেলা দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু বালির উপর হাতের মাধ্যমে এমন চিত্রকর্ম সত্যিই বিরল। প্রথমেই আমার যা মনে হলো চিত্রকর্মটির অনস্তিত্বতা। কাগজের উপর পেনসিল এবং পেইন্ট ব্রাশ দিয়ে যে সব চিত্রকর্ম রচিত হয়েছে তাদের অস্তিত্ব অনন্তকাল। আমরা সেই আদিকাল থেকেই মোনালিসার হাসি নিয়ে গবেষনা করে আসছি। ভবিষ্যতেও আরো অনেক অনেক গবেষনা করে যাবো। কিন্তু এই চিত্রকর্মটির কোন স্হায়ীত্ব নেই। ভিডিওতেই এর স্হায়ীত্ব। এটি অনেকটা স্টেজ প্রোগ্রামের মতো। আমরা কোনদিন ল্যুভর মিউজিয়ামের গ্র্যান্ড গ্যালারীতে সিমোনোভার এমন বালির খেলা দেখতে যাবোনা। সিমোনোভার চিত্রকর্ম দেখতে হলে আমাদের ইউটিউবের আশ্রয় নিতে হবে।

সিমোনোভার ধারাবাহিক চিত্রকর্মটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিকার উপর নির্মিত। প্রথমেই আমরা দেখতে পাই দু'জন নর-নারী হাত ধরাধরি করে রাস্তার পাশের বেন্চে বসে তারকা খচিত রাত্রীর রূপ সূধা উপভোগ করছে।

তারপরই আমরা যুদ্ধ বিমানের আগমন বার্তা টের পাই এবং বেলা ভূমিতে ভেসে ওঠে একজন ক্রন্দনরত নারীর মুখচ্ছবি। যুদ্ধ এবং কান্নার কি অপূর্ব সম্মিলন। প্রতিটি যুদ্ধই আমাদের জীবনে দু:খ, দুর্দশা, হতাশা ডেকে আনে। হোকনা তা রাজনৈতিক অস্হিরতা বা পারিবারিক অস্হিরতা?

তারপরই চিত্রে একটি শিশুর আভির্ভাব ঘটে এবং শিশুর পবিত্রতা যুদ্ধের সকল কালিমা মুছে ক্রন্দনরত নারীটির মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলে। সিমোনোভা তার অপূর্ব দক্ষতা দিয়ে তার চিত্রকর্মটি প্রদর্শন করে চলেন।

তারপরই চিত্রকর্মটিতে আবার যুদ্ধের দামামা বেজে উঠে। সিমোনাভা'র হাত কাজ করে চলে দূর্মর গতিতে। যুদ্ধ আবার সব ওলোট-পালোট করে দেয়। আমরা আবার যুদ্ধে পতিত হই এবং যুদ্ধের হট্টগোল থেকে আরেকটি তরুনীর মুখমন্ডল ভেসে ওঠে যা ক্রমশ: একজন বৃদ্ধায় পরিনত হয়। বৃদ্ধাকে খুবই দু:খী

সেই বৃদ্ধার মুখ থেকে আমরা পরিবর্তিত ভাবে একজন অচেনা মৃত সৈনিকের স্মৃতিস্তম্ভের উদ্ভাবন দেখি। স্মৃতিস্তম্ভটি আমাদের যুদ্ধের নি:শংসতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। স্মৃতিস্তম্ভের দিকে মানুষের অসহায় দৃষ্টি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে ক্ষমতাবানদের কাছে আমরা কতো অসহায়, যুদ্ধের নিয়তি মেনে নিয়ে আমরা কত নিরুপায়।

শেষ দৃষ্যে দেখা যায় ঘরের ভেতর থেকে একজন মা এবং শিশু ঘরের বাইরে অপেক্ষারত একজন অচেনা মানুষের দিকে তাকিয়ে আছে যে জানালার কাচে হাত রেখে তাদের বিদায় সম্ভাষন জানাচ্ছে।

এখানেই সিমোনোভা তার চিত্রকর্মটির সমাপ্তি টানেন। চিত্রকর্মটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন দিক হচ্ছে দৃশ্যের পর দৃশ্যের পরিবর্তন। কি অপরিসীম দক্ষতায় সিমোনোভা একটির পর একটি দৃশ্যকে ফুটিয়ে তুলেন তার বালিময় ক্যানভাসে। যা এক কথায় অতুলনীয়। প্রথম দৃশ্য থেকে একেবারে শেষ দৃশ্য পর্যন্ত চিত্রকর্মটির অদ্ভুত, মায়াময় ট্রান্সিশান দর্শককে টেনে ধরে রাখবে এর শেষ দেখার জন্য।

ভিডিওটির আবহ সন্গীতের কাজও দুর্দান্ত মনে হয়েছে। দৃশ্যের সাথে সামন্জস্য রেখে আবহ সন্গীতের পরিবর্তনেও দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। প্রথম দৃশ্যের রোমান্টিক মিউজিক, যুদ্ধবিমানের আক্রমনে নেপথ্য কন্ঠের ধারাভাষ্য এবং সম্ভবত ইউক্রেনীয়ান (সঠিক জানিনা) ভাষা'র সন্গীত এবঙ পরপরই যুদ্ধের আবহ তৈরীতে নেপথ্য সন্গীত সম্মিলিতভাবে দারুন কাজ করেছে।

যুদ্ধবিরোধী নানা উপন্যাস এবং সিনেমার সাথে পরিচিত ছিলাম। সিমোনোভার চিত্রকর্মটি আমাদের আবার টেনে নিয়ে যায় ১৯৪১ সালে, জার্মান সৈন্যরা যখন সোভিয়েত আক্রমন করে সেই নাট্যমন্চে। Great Patriotic War নামক সেই যুদ্ধে প্রায় ১১ মিলিয়ন মানুষ নিহত হন। সিমোনোভা'র চিত্রকর্মটি এরিকমারিয়ার একেকটি উপন্যাসের গল্পকে চিত্রায়িত করে অথবা এঁকে দেয় হেমিংওয়ের উপন্যাসের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29065039 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29065039 2009-12-25 00:08:08
ZEITGEIST: চেতনা খননকারী এক ডকুমেন্টারী - পর্ব ২ (রেজারেকশান - স্বর্গযাত্রা!!!) ZEITGEIST: চেতনা খননকারী এক ডকুমেন্টারী-পর্ব ১ (যীশূখ্রীষ্টের জন্মবৃত্তান্ত)

বেশ আগে একটি পিশাচ কাহিনী পড়েছিলাম সেবা প্রকাশনীর কল্যানে। ডেভিড সেলজারের দ্যা ওমেন অবলম্বনে তিনখন্ডের অশুভ সংকেত। কাহিনীটি নিয়ে ‌৭০ দশকের শেষের দিকে দ্য ওমেন-ট্রিলজী মুক্তি পায়, যার প্রথম পর্বে গ্রেগরী পেক অভিনয় করেছিলেন রবার্ট থর্নের ভূমিকায়। বাইবেলের বিভিন্ন কাহিনী সমন্বয়ে ডেভিড সেলজার লিখেছিলেন তার অসামান্য ট্রিলজী।

এই ওমেনে আমরা পড়েছি যীশূর পুন:আবির্ভাবের গল্প। শয়তান পুত্র ডেমিয়েন পৃথিবীর সকল ক্ষমতা হস্তগত করতে যাচ্ছে তার রাজনৈতিক শক্তির মাধ্যমে। সে সময়ই এক তরুন জ্যোতির্বিদের পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে জেসাস বা যীশূ খ্রীষ্টের আবির্ভাবের ইন্গিত প্রকাশ পায়। জ্যোতির্বিদটি দেখতে পান যে পূর্বাকাশের তিনটি তারা (এদের নাম মনে করতে পারছিনা বলে স্বলাজ দু:খিত) ডিসেম্বর ২৫ তারিখে একই সরল রেখায় মিলতে যাচ্ছে, যা বাইবেল অনুযায়ী যীশূ’র জন্মদিন হিসেবে গৃহীত। এর অর্থ জেসাসের পুনরাগমন হতে যাচ্ছে।

যাই হোক ZEITGEIST ডকুমেন্টারীতেও এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। তারা বলছে যে জেসাসের জন্ম সম্পূর্নরূপে এ্যাস্ট্রোলজিকেল। আপনারা দেখবেন কিভাবে পূর্বাকাশের তিনটি তারা ডিসেম্বর ২৪ তারিখে সিরিয়াস (পূর্বাকাশের উজ্জলতম জ্যোতিষ্ক) এর সাথে সমান্তরালে পতিত হয়ে আগেভাগেই জেসাসের আগমনে বার্তা মানুষের মাঝে পৌছে দেয়। তিন তারকাকে “Three Kings” বলে অবিহিত করা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই তিনটি তারাই “Three Kings” বলে পরিচিত।

পূর্বাকাশের তিনটি তারা সিরিয়াসের সাথে একই সমান্তরাল রেখায় মিলে সূর্যোদয়ের স্হানটিকেই নির্দেশ করে। ডকুমেন্টারীটি আগেই এ ব্যাপরে নির্দেশনা দিয়েছে যে জেসাস বা যীশূখ্রীষ্টকেই সূর্য বলে চিহ্নিত করা হয়। যার অর্থ তারকারাজির সামন্তরাল রেখা যে স্হানের নির্দেশ করে সেখানেই জেসাস বা সূর্যের জন্ম। স্হানটি বেথেলহেম।

আমরা প্রায় সকলেই আমাদের পাঠ্যপুস্তকের কল্যানে ও’হেনরীর The Gift of the Magi গল্পটি পড়েছি। সেখানে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানলাম Magi অর্থ “জ্ঞানী ব্যক্তি”। গল্পের শিরোনামের অর্থ হচ্ছে জ্ঞানী ব্যক্তির উপহার। যাই হোক উপোরক্ত “Three Kings” –ই হচ্ছেন আসলে এই তিন জ্ঞানী ব্যক্তি। বাইবেলের কল্যানে আমরা জানি যে রাজা হেরোডের শাসনামলে জেসাসের জন্মের পর বেথেলহেমে পূর্বপ্রান্তীয় তিনজন জ্ঞানী ব্যক্তির আগমন ঘটে। উনারা শিশুটিকে ইহুদীদের রাজা হিসেবে অভিহিত করেন। বাইবেল, নিউ ট্যাস্টামেন্ট, ম্যাথিউ-চ্যাপ্টার-২ এর প্রথমেই এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

The Visit of the Magi After Jesus was born in Bethlehem in Judea, during the time of King Herod, Magi from the east came to Jerusalem and asked, “Where is the one who has been born king of Jews? We saw his star in the east and have come to worship him.”

এই তিন মেজাই বা জ্ঞানী ব্যক্তিই জেসাস বা যীশূর জন্মের নির্দেশনা দেন। এখানেই সিরিয়াসের সাথে তিন তারকা এবং তাদের সমান্তরাল রেখার সূর্যোদয়ের দিকে নির্দেশনার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। জেসাস এখানে গড’স সান এবং তিনজন জ্ঞানী ব্যক্তিই হচ্ছেন পূর্বাকাশের তিন তারকা। “Three Kings”

এখানে আপনার ভ্রু আবার কুন্চিত হবে। জেসাসের জন্মের সাথে প্রাচীন এ্যাস্ট্রোলজির এই যোগসাজশ দেখে। বিষ্ময়কর !!!

ZEITGEIST এরপর আলোকপাত করে কুমারী মাতা মেরীর দিকে। কন্স্টিলেশানে কুমারী মাতা মেরী রাশি VIRGO-র দিকে নির্দেশনা করেন। এটি একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হচ্ছে Virgin. বাঙলায় কুমারী। VIRGO রাশিটির প্রচীন সিম্বলটি আসলে ইংরেজী M কেই নির্দেশ করে। এবং আশ্চর্য হলেও সত্যি যে যীশূ’র কুমারী মাতা মেরীর নামের অদ্যাক্ষর M এবং প্রথম পর্বে পরিচিত ডাইনাইসিস, যাকে King of theKings নামে অভিহিত করা হতো, তার কুমারী মাতার নামের অদ্যাক্ষরও M। ভারতের বুদ্ধের কুমারী মাতার নামের অদ্যাক্ষরও M। দর্শকের ভ্রু এখানে আবারো কুন্চিত হবে এবং মনে প্রশ্ন জাগবে পুত্রেজন্মের একই ধরনের ইতিহাস সম্বলিত সকল কুমারী মাতার নাম দিয়ে শুরু M হওয়ার পেছনে রহস্য কি?
আপনাদের মনে অনেক অনেক প্রশ্ন জাগতে থাকবে এবং আপনারা সন্দেহে নিপতিত হবেন। সত্যিই কি যীশূর জন্ম পরবর্তী ঘটনাবলী কন্স্ট্যালেশান দ্বারা সীমাবদ্ধ?

এতো এতো যুক্তির ভীড়ে খেই হারাতে হারাতে আপনি গিয়ে পড়বেন রেজারেকশানের ব্যাখ্যার মহাসাগরে। এ জায়গাটায় ভূগলের জ্ঞান বেশ প্রয়োজনীয়। ডকুমেন্টারী আপনাকে যে দিকে চালিত করবে তা হলো সূর্যের পুনর্বার মৃত্যুর দিকে অধিগমন। যে কোন স্কুলের ছাত্রমাত্রই জানে যে শীতকালে দিন ছোট হয় এবং গ্রীষ্মকালে দিন হয় দীর্ঘ। সূর্য যতোই দক্ষিনে যেতে থাকে উত্তরে দিন ছোট হতে থাকে। আপনারা দেখবেন ডিসেম্বর ১ থেকে শুরু করে ডিসেম্বর ২২ পর্যন্ত সূর্যের ক্রমশ দক্ষিনে সরে যাবার দৃশ্য। যা পূর্ববর্তী ৬ মাস যাবত ক্রিয়াশীল কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা।

২২ শে ডিসেম্বর সবচেয়ে ছোট দিন। কেন? কারন ২২ শে ডিসেম্বর সূর্য আকাশের সবচেয়ে নীচু স্হানে অবস্হান করে এবং এই ২২ ডিসেম্বরের পরে ২৩, ২৪ পার করে ২৫ ডিসেম্বর সূর্য আবার ১ ডিগ্রী উত্তরে সরে যায়। দর্শকের ভ্রু আবার কুন্চিত হবে। জেসাস বা যীশূর জীবনের পার্থিব শেষভাগের সাথে সূর্যের এই আচরনের বিশ্ময়কর মিল খুজে আপনার মনে নানা প্রশ্ন উকিঝুকি দিতে থাকবে।

যীশূর ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কথা আপনি আমি আমরা সকলেই জানি। তিনি তিনদিন মৃত ছিলেন এবং তিনদিন পর শিশ্যরা গিয়ে তার দেহ আর পায়নি। কোথায় জেসাস? তিনি সৃষ্টিকর্তার নির্দেশে স্বর্গযাত্রা করেছেন। তিনি আবার ফিরে আসবেন। তার পুনরাগমন ঘটবে এবং পৃথিবীবাসীকে তিনি নাজাত দান করবেন। উপরে আমরা দেখেছি সূর্য দক্ষিন দিকে সরে যেতে যেতে ২২ ডিসেম্বর আকাশের সম্ভাব্য নীচু স্হানে পতিত হয়, যাকে সূর্যের মৃত্যু বলে অভিহিত করা হচ্ছে এবং তিনদিন পর ২৫ ডিসেম্বর সূর্য পুনরায় উত্তর দিকে সরে যায়। সূর্য তিনদিন মৃত থাকার পর পুনরায় স্বর্গের দিকে যাত্রা করে। এবং এই সূর্য হচ্ছেন জেসাস বা যীশূ।

আপনি আবার নড়েচড়ে বসবেন এবং সূর্যের দিক পরিবর্তনের সাথে যীশূ তথা অন্যান্য সূর্যদেবতাদের মৃত্যু এবং রেজারেকশান বা স্বর্গযাত্রার মিল খুজে পেয়ে ভ্রু কুচকে ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি শুরু করবেন।

ডকুমেন্টারীটির এ পর্যন্ত দেখে আপনি যীশূকে নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতে বসবেন। সত্যিই কি জেসাস বা যীশূ বলে কেউ ছিলেন। নাকি তিনি অন্য আর সবার মতো পৌরানিক চরিত্র? পুরান ঘাটাঘাটি করলে আপনি খুজে পাবেন জেসাসের জন্ম-মৃত্যুর সাথে মিল খুজে পাওয়া হাজারো চরিত্র। পৃথিবীর নানা স্হানে, নানা সময়ে তারা আবির্ভূত হয়েছিলেন। হিন্দুধর্মের কৃষ্ঞ, বৌদ্ধ ধর্মের বুদ্ধ, বারমুডার সালিভাহানা, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ওডিন, তিব্বতের ইন্দ্র, আফগানিস্তানে বালি, নেপালে জা’ও, সিরিয়ায় থান্নুয, আসিরিয়ায় আদাদ, গ্রীসে কুমারী আইও পুত্র এ্যাডোনিস, ককেশাসের প্রমিথিউস এমন আরো অনেকের সাথে জেসাস বা যীশূর জন্ম-মৃত্যুর মিল খুজে পাওয়া যায়। এরপর আপনি কন্সটেলেশানের সাথে যীশূর জীবনের অনেক মিল খুজে পাবেন, যোগসূত্র পাবেন সূর্যের দিক পরিবর্তনের সাথে যীশূর স্বর্গযাত্রা বা রেজারেকশানের।

কাজেই আপনার মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, কেন প্রাচীন এতোসব পৌরানিক চরিত্রের সাথে যীশূর এতো মিল? কেনই বা কন্স্ট্যালেশানের সাথে যীশূর এতো সামন্জস্য? কেনই বা সূর্যের দিক পরিবর্তনের দিন- তারিখ এবং জেসাস বা যীশূর মৃত্যু এবং স্বর্গযাত্রার দিন-তারিখের এত যোগসাজশ?

ZEITGEIST আপনাকে এই উত্তরই দেবার চেষ্টা করবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29062647 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29062647 2009-12-20 23:07:41
ZEITGEIST: চেতনা খননকারী এক ডকুমেন্টারী – পর্ব ১ (যীশূখ্রীষ্টের জন্মবৃত্তান্ত))
নাজিম উদ্দীন ভাইয়ের পোষ্ট

তখন থেকেই মুভিটি দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সংগ্রহ করতে না পারায় ZEITGEIST সম্পর্কে ইন্টারনেটে পড়াশুনো করেই কাটাতে হয়েছে এতোদিন। অবশেষে সংগ্রহ করে দেখার পালাও শেষ হয়ে গেল।

কোন কোন বই অথবা মুভি আছে আপনার চিন্তা-চেতনা-মননশীলতার গতি এবং দিককে কিছুটা হলেও পরিবর্তন করে। এমন কোন বই অথবা মুভি দেখার পর আপনি স্তব্ধ হয়ে বসে থাকবেন এবং যা পড়লেন অথবা দেখলেন সেটা নিয়ে গভীর চিন্তার নিপতিত হবেন। এমনই একটি ডকুমেন্টারী হচ্ছে ZEITGEIST. ডকুমেন্টারীটি দেখতে গিয়ে আপনি কঠিন কঠিন সব যুক্তির মুখোমুখি হবেন এবং এসব যুক্তিকে খন্ডাতে না পেরে অসহায় বোধ করবেন।

ZEITGEIST একটি জার্মান শব্দ, যার অর্থ স্পিরিট অব টাইম বা স্পিরিট অব এইজ। ৩ পর্বে বিভক্ত এই ডকুমেন্টারির নামকরনের সার্থকতা দর্শক প্রথম পর্বেই পেয়ে যাবেন। ৩-টি পর্ব তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছে, কিন্তু শেষে আপনাকে এসে যোগসূত্র মেলাতে হবে। যদিও প্রথম পর্বের সাথে পরবর্তী দুই পর্বের যোগসূত্র খুজে পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য।

ধর্ম প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের জীবনে এক বোঝা স্বরূপ। একে মানুষ গিলতেও পারেনা, আবার ফেলে দিতেও পারেনা। প্রথম পর্ব দেখার পর যে কোন খ্রীষ্টানই নিজের বিশ্বাসকে আবার যাচাই করে দেখবেন আমার ধারণা। আপনি ওখানে দেখবেন আধুনিক খ্রীশ্টান বিশ্বাসের সাথে খ্রীষ্টর্পূর্ব প্যাগান বিশ্বাসের কি বিশ্ময়কর মিল !!!

আমরা সকলেই জানি জেসাস বা যীশূ খ্রীষ্ট কুমারী মাতা মেরীর গর্ভে জন্মলাভ করেছেন। অনেকেই এই জন্ম নিয়ে সন্দেহ পোষন করে আসছেন, এখনও অনেকে সন্দেহ করেন। প্রথম পর্বটি দেখার পর আপনার মনেও সন্দেহ জাগবে, আপনার মনেও প্রশ্ন জাগবে, সত্যিই জেসাস বলে কেউ কি ছিলেন? নাকি তিনি ধর্মীয় অথবা রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা বাস্তবায়নের এক ঘৃন্য হাতিয়ার?

যীশূর জীবন বৃত্তান্ত আমাদের বলে দেয় যে তিনি ইংরেজি ৪ খ্রীষ্টাব্দের ডিসেম্বর ২৫ তারিখে কুমারী মাতা মেরীর গর্ভে বেথেলহেমে জন্মলাভ করেন। এই জন্ম আবার পূব দিগন্তীয় তিনটি নক্ষত্রের মাধ্যমে প্রমানিত ছিলো। যীশূর ১২ জন শিষ্য ছিলেন এবং তিনি বেশ অলৌকিক ক্ষমতাধারীও ছিলেন। তিনি অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি দান করতে পারেতন, কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য দিতে পারতেন, এমন কি মৃতকেও আল্লাহ’র রহমতে জীবিত করতে পারতেন। যীশূ সম্পর্কিত যে কোন গ্রন্থ বা মুভি দেখলেই আমরা এসব অলৌকিক কেরামতির সাথে পরিচিত হই। যীশূ ৩০ বছর বয়সে ব্যাপটাইজড হন এবং খ্রীষ্ট ধর্মের বানী প্রচার করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে রোমানদের বিরাগভাজন হয়ে খুব কাছের এক শিষ্যের বিশ্বাসঘাতকতায় যীশূ ধৃত হন এবং তাকে ক্রুসিফিকেশান নামক এক যন্ত্রনার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। অত:পর তিনি দেহত্যাগ করেন এবং তিনদিন পর সৃষ্টিকর্তা তাকে স্বর্গে তুলে নিয়ে যান। যাকে বলা হয় রেজারেকশান। যীশূকে নানা উপাধিতে ভুষিত করা হয়। যেমন The Light of the World, The Lamb of GOD, King of the Kings, Son of GOD ইত্যাদি।

যাই হোক ZEITGEIST এর প্রথম পর্ব আপনাকে নিয়ে যাবে খ্রীষ্টের জন্মের ৩০০০ বছর আগের প্রাচীন মিসরে। হোরাস, প্রাচীন মিসরের সূর্যদেবতা। যিনি দিন বা আলোর প্রতীক। যার ঐশ্বরিক যাদুটোনার বলে পৃথিবীতে প্রতিদিন সূর্যের মুখ দেখে। হোরাসের জন্ম প্রাচীন গ্রীসে খ্রীষ্টপূর্ব ৩০০০ সালের ডিসেম্বর ২৫ তারিখে কুমারী মাতা আইসিসের গর্ভে। তারও ১২ জন শিষ্য ছিলো এবং তিনিও নানা অলৌকিক যাদুটোনার ক্ষমতাধারী ছিলেন। হোরাসের জন্মও যীশূর মতো পূর্ব দিগন্তীয় নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে প্রমানিত। হোরাসও ৩০ বছর বয়সে ব্যাপটাইজড হন, অত:পর জীবনের শেষপ্রান্তে ক্রুশবিদ্ধ হন এবং মৃত্যুর তিনদিন পর রেজারেকশানের মাধ্যমে স্বর্গযাত্রা করেন।

তেমনি আপনি দেখবেন খ্রীষ্ট জন্মের ১২০০ বছর আগে প্রাচীন গ্রীসে এ্যাটিস নাম্নী আরেক দেবতা জন্ম গ্রহন করেছেন কুমারী মাতার গর্ভে। তিনিও ক্রুসিফিকেশানের মাধ্যমে তিনদিনের জন্য মৃত্যুবরন করেন এবং অত:পর রেজারেকশানের মাধ্যমে স্বর্গযাত্রী হন। ভারতে কৃষ্ঞ কুমারী দেবী দেভাকী গর্ভে খ্রীষ্টপূর্ব ৯০০ অব্দে জন্মলাভ করেন এবং পূর্বদিগন্তীয় নক্ষত্র তার জন্ম সম্পর্কে আগে থেকেই মানুষকে আলোকপাত করে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি কৃষ্ঞও নানা অলৌকিক যাদুটোনার অধিকারী ছিলেন এবং তিনিও রেজারেকশানের মাধ্যমে স্বর্গযাত্রী হন। হিন্দুরা হয়তো এ কারনেই পূনর্জন্মে বিশ্বাস করে।

আরেকজন দেবতার সাথে আপনি পরিচিত হবেন, প্রাচীন গ্রীসের ডাইনাইসিস। যাকে King of the Kings অথবা Alpha & Omega বলে অভিহিত করা হতো। খ্রীষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দের ২৫ ডিসেম্বর এই দেবতা কুমারী মাতা মাইরা’র গর্ভে তিনি জন্মগ্রহন করেন। এই দেবতাও নানা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন এবং তিনিও মৃত্যুর পর রেজারকশানের মাধ্যমে স্বর্গযাত্রী হন।

এরপর আপনি জানতে পারবেন দেবতা মিথ্রা’র কথা। তিনিও কুমারী মাতার গর্ভে খ্রীষ্টপূর্ব ১২০০ অব্দে একই ডিসেম্বরের ২৫ তারিখে জন্মগ্রহন করেন। তারও ১২ জন শিষ্য ছিলেন, অলৌকিক কর্মকান্ডে তিনিও ছিলেন সিদ্ধহস্ত এবং যীশূর মতো তিনিও তিনদিন মৃত থাকার পর রেজারেকশানের মাধ্যমে স্বর্গযাত্রী হন। এখানে আরেকটি বিষয়ের আলোকপাতে আপনার ভ্রু খানিকটা কুন্চিত হবে। মিথ্রাই রবিবারে উপাষনার দিন প্রচলন করেন।
এভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের নানা সময়ের নান দেবদেবী’র জীবন বৃ্ত্তান্তের সাথে যীশূর জীবন মিলে যায় এবং আপনাকে সন্দেহবাদী করে তোলে। আপনার মনে তখন সন্দেহ জাগা স্বাভাবিক, কেন ডিসেম্বরের ২৫ তারিখেই সবাই জন্মলাভ করেন? কেনই বা সকলে কুমারী মায়ের গর্ভে জন্মগ্রহন করেন? কেনই বা সকলেরই ১২ জন করে শিষ্য থাকে এবং আবার কেনই বা স্বর্গযাত্রার পূর্বে সকলেই তিন দিনের জন্য মৃত্যুবরন করেন? এমন অনেক প্রশ্ন আপনার মনে ভিড় করবে এবং যীশূ সম্পর্কে আপনার ভ্রু কুন্চিত হয়ে উঠবে।

আপনি প্রশ্ন করবেন সত্যিই কি যীশূ বলে কেউ ছিলেন নাকি সবই ধর্মীয় রাজনীতির উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মিথ্যা প্রচারনা। যীশূ পরবর্তী সুসমাচার গুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা আছে কি না তা নিয়ে এখনও তর্ক হয় এবং ZEITGEIST নামের ডকুমেন্টারীটি সম্পূর্ন ভিন্ন ভাবে আপনার চেতনাকে প্রভাবিত করবে। সন্দেহের বশে আপনিও প্রশ্ন করতে পারেন যীশূ কি সত্যি প্রাচীন সকল দেবদেবীর মতো কোন পৌরানিক চরিত্র, নাকি এই পৃথিবীতে যীশূ অথবা জেসাস নামক কারও আবির্ভাব সত্যিই ঘটেছিলো? যীশূ কি সত্যিই খ্রীষ্ট ধর্মের প্রবর্তক, নাকি সুসমাচারের মাধ্যমে রোমানরা যীশূকে শুধু ব্যবহারই করে এসেছে?

এসবকিছুর উত্তর আমরা পরবর্তী পর্বগুলোতে পাবো আশা করি।

(ZEITGEIST তিন পর্বে বিভক্ত প্রায় ২ ঘন্টার একটি ডকুমেন্টারী। এতে প্রথম পর্বে খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসের সাথে খ্রীষ্টপূব প্যাগান বিশ্বাসের যোগসূত্র দেখানো হয়েছে, দ্বিতীয় পর্বে সেপ্টেম্বর ১১ ঘটনাকে বিভিন্ন আঙিকে বিচার করা হয়েছে এবং শেষ পর্বে আলোচিত হয়েছে পলিটিক্যাল ইকোনমি কিভাবে বিশ্বকে গ্রাস করছে তার উপর বিস্তারিত তত্ব। এসব শুধুই যুক্তিবদ্ধ কিছু থিওরী। আপনি পাল্টা কোন যুক্তি দিয়ে এসব যুক্তিকে মূহুর্তেই ধ্বসিয়ে দিতে পারেন।)

(হঠাতই ZEITGEIST নিয়ে লিখতে ইচ্ছে হলো। কারন মুভিটি আমার চেতনাকে নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছে তাই লিখতে শুরু করলাম। যতো কম পর্বে পারা যায় লিখে শেষ করার চেষ্টা করবো। সবাইকে সিনেমাটি দেখার আহ্বান করছি।)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29061992 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29061992 2009-12-20 00:14:01
যে মুভিটি আমাকে অসম্ভবের স্বপ্ন দেখায়
তেমনই আশা আর স্বপ্ন নিয়েই বন্দী জীবনের ২০ টি বছর পার করে দিয়েছিলো The Shawshank Redemption এর এ্যান্ডি ডুফ্রেইন (টিম রবিন্স)। তিল তিল করে খুড়েছিলো তার স্বাধীনতার স্বপ্নকে। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মাঝেও সে তার অধ্যবসায় থেকে বিচ্যুত হয়নি। স্বপ্নপূরনের অজয়মাল্য নিয়েই এগিয়ে যায় হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এ্যান্ডি তার স্বাধীনতার সুড়ঙ ধরে। তার স্বপ্ন সে ছড়িয়ে দেয় আরও অনেকের মাঝে।

ছবিটি নিয়ে নতুন করে বলে দেবার প্রয়োজন নেই। স্টিফেন কিং এর উপন্যাস অবলম্বনে ফ্রান্ক দারাবন্ট’ এর প্রথম ছবিই হচ্ছে The Shawshank Redemption। ছবিটি আমাদের আশার গল্প শোনায়, হতাশার গল্প শোনায়, যন্ত্রনা-বেদনা-কান্না-হাসি-সুখ-দু:খ-ভালবাসা-স্বপ্ন-দু:স্বপ্ন-ত্যাগ-তিতিক্ষা-ধৈর্য্য-চেষ্টা-পরিশ্রম-অধ্যবসায়-বন্ধুত্ব-অনুপ্রেরনার গল্প শোনায়। গল্প শোনায় সমাজের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শত শত এন্ডি অথবা রেডের, হাজার হাজার ওয়ার্ডেন নর্টনের, আরো অনেক অনেক ব্রুক্সের, স্কিট, জিগার, ফ্লয়েড অথবা টমির।

অনেকে অনেক সময় ছবিটি দেখতে বলেছেন। অনেক অনেক ছবি দেখি, এই ছবিটি দেখা হয়ে ওঠেনি কখোনই। সময়ের অভাবেই বলা যায়, যদিও প্রায় বছর দুয়েক ধরেই ডিভিডিটি ঘরে পড়েছিলো। গতকাল ছুটির দিনে তাই ঘুম থেকে জেগেই ছবি বাছাই করতে গিয়ে কেন জানি শশ্যান্ক রিডেম্পশানই হাতে উঠে এলো। দেখলাম এবং বিহ্বল হয়ে বসে থাকলাম দেখার পর।

অনেক ছবিই মনে দাগ কাটে, রেশ ধরে থাকে মনের ভেতর অনেকদিন জুড়ে। কখনও কখনও এতো ভাল লাগে যে পর পর দুইবার দেখে ফেলি কোন কোন ছবি। কিন্তু দেখার পর বুঝলাম কেন শশ্যান্ক রিডেম্পশান IMDB রেটিং এ প্রথম স্হানের অধিকারী।

এন্ডি ডুফ্রেইন একজন ব্যাংকার। ছবির প্রথমেই একটি ঘরের বাইরে ডুফ্রেন্সকে গাড়ীতে দেখা যায় রিভলবার নিয়ে। সাথে সাথেই কোর্টরুমে ডুফ্রেইন আইনজীবীর জেরার মুখে। রেডিওর রোমান্টিক গানকে সাথী করে ডুফ্রেইন গাড়ী থেকে বেরিয়ে আসে এবং উকিলের মুখেই আমরা জানতে পারি এ্যন্ডির অপরাধ কি। গোপন প্রেমিক সহ স্ত্রী যখন অভিসারে এ্যান্ডি তার প্রেমিক সহ স্ত্রীকে হত্যা করে। এ্যান্ডি যাবতজীবন কারাদন্ড লাভ করে। এবং এর পরপরই শুরু হয় ছবির মূল কাহিনী। শশ্যান্ক স্টেট প্রিজনে এ্যান্ডির কারাজীবন।

শুরুর দিকে এ্যান্ডিকে খুব জড়োসড়ো মনে হয়। উচ্চশিক্ষিত ব্যাংকারকে অপরাধীদের মাঝে কেমন অন্যরকম মনে হয়। কিন্তু তার চারিত্রিক দৃঢ়তার সাথে আমরা প্রথম থেকেই পরিচিত হই। অনেকে যেখানে প্রথম রাতে কান্নাকাটি করে গার্ডদের ডাকাডাকি করে সেখানে এ্যান্ডিকে বিনা উতপাতেই রাতটি পার করে দিতে দেখা যায়। কখনো এ্যান্ডি কখনো বা রেডের নেপথ্য ধারাভাষ্যে ছবির কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে।

দিন গড়িয়ে যায়। নানা কাহিনী ঘটতে থাকে। এ্যান্ডির দিকে হাত বাড়ায় জেলখানার এক সমকামী’র দল। এ্যান্ডি অনেক কষ্টে নিজেকে রক্ষা করে। অন্যান্য সব জেলখানার মতো শশ্যান্ক স্টেট প্রিজনও ব্যতিক্রম নয়। অন্যান্য সকল জেলখানার মতো শশ্যান্কেও ছিদ্রের উপস্হিতি টের পাওয়া যায়। বন্দীদের কাছে চোরাপথে সিগারেট, বিয়ার আসতে থাকে। এবং এসবের নেতৃত্বে থাকে রেড (মর্গান ফ্রিম্যান)। ছবির প্রথমেই শোনা যায় রেডের নিজ গল্প।

রেড, ১৯৪৯ সালে এ্যান্ডি যখন জেলে আসে ততোদিনে ২০ বছরের জেল খাটা দাগী আসামী রেড। আরেকজন হত্যা মামলার আসামী। জেলখানার সবাই যখন নিজেকে নির্দোষ বলে দাবী করে রেডই নিজেকে একমাত্র অপরাধী বলে স্বীকার করে এবং নিজের নিয়তিকে মেনে নেয়। তাই হতাশ রেড যখন রেগে গিয়ে এ্যান্ডিকে আশাবাদের ধ্বংসাত্বক দিক গুলো তুলে ধরে আমি মোটেও অবাক হইনা। জেলখানার বদ্ধ পরিবেশে জীবনের বেশীরভাগ সময় পার করে দেয়া কারও কাছ থেকে এর বেশী কিই বা আশা করা যায়?

এই রেডের মাধ্যমেই এ্যান্ডি তার স্বাধীনতার স্বপ্নের বীজ বুনে। তার হাতে আসে একটি ছোট্ট হাতুড়ী। রেডের মুখেই আমরা শুনি এই হাতুড়ী দিয়ে জেলখানার দেয়াল খুড়ে বাইরের আলোর সন্ধান পেতে ৬০০ বছর অধ্যবসায় করে যেতে হবে। তাই এ্যান্ডি যখন সিনেমা দেখাকালীন সময়ে রিটা হেওয়ার্থকে চাইলো রেড মোটেও অবাক হলোনা। সে ভাবতেই পারেনি রিটা হেওয়ার্থের পেছনেই লুকিয়ে থাকবে ২০ বছরের কঠিন অধ্যবসায়, পরিশ্রম, ধৈর্য্য, সাফল্যের গোপন অস্ত্র।

এ্যান্ডি ইতিমধ্যে জেলখানার ধোপাখানা থেকে লাইব্রেরীতে কাজ পেতে সক্ষম হয়। ওয়ার্ডেন নর্টন নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ব্যাংকার এ্যান্ডিকে কাজে লাগাতে থাকেন। জেলখানার ভেতর এ্যান্ডির একটি প্রভাব সৃষ্টি হয়। ব্যাংক সংক্রান্ত যে কোন সমস্যার সমাধান পেতে জেল কর্মকর্তারা এ্যান্ডির পরামর্শের জন্য তার কাছে ধর্না দিতে থাকে।

ছবির কাহিনী শেষের দিকে দুর্দান্ত মোড় নেয়। রেসিংকারের গতিতে কাহিনী গড়িয়ে যেতে যেতে যেন হঠাত ইউটার্ন নেয় যখন টমি নামের একটি চরিত্রের আবির্ভাব ঘটে জেলে। এরপরেই আমরা জানতে পারি নেপথ্যের অনেক ঘটনা, তার পরিনতি এবং পাপ-পূণ্যের হিসেব নিকেশ কষা হয় ধীরে ধীরে।

ছবির কোন চরিত্রকেই দূর্বল বলে মনে হয়না। যদিও কেন্দ্রীয় চরিত্র এ্যান্ডি এবং রেড। ফ্যাট ফিশ থেকে শুরু করে টমি, এমনকি রেকর্ড প্লেয়িংয়ের সময় টয়লেটে আটকে থাকা গার্ড পর্যন্ত সবাই খুব সাবলীল। এ্যান্ডি যখন ইটালিয়ান সিঙারের রেকর্ড প্লে করে আবেগ ধরে রাখা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে। এ্যান্ডির কথা অনুযায়ী বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়, চিনচিন ব্যাথা করে। নিজেকে খুব মুক্ত মনে হয়। মনে হয় আমি নিজেও হাজার বছর ধরে এই দেহের মাঝে বন্দী, হঠাত করে শশ্যান্কের সকল বন্দীর মতো আমারো মুক্তি ঘটেছে। মুক্ত আমি শুনতে পাই এ্যান্ডির কন্ঠ, আমিও চিতকার করে এ্যান্ডির মতো বলতে থাকি

"I like to think they were singing about something so beautiful, it can’t be expressed in words and make your heart aches because of it. I tell you those voices soared higher and further than anybody in a gray place dares to dream. It was like some beautiful birds flapped into our drab little cage and made those walls dissolve away. And for the briefest of moment’s every last man at Shawshank felt free."

আমরা দেখতে পাই ৫০ বছর জেলখানায় থাকার পর মুক্তি পাওয়া বৃদ্ধ ব্রুক্সকে। বাইরের জীবনের সাথে খাপ খেতে না পেয়ে বৃদ্ধ ব্রুক্সের পরিনতি আমাদের বলে দেয় অনুল্লেখিত আরো হাজার হাজার গল্প। এভাবে কতশত খাপ না খাওয়া ব্রুক্স ঝরে পড়ে, আমরা তার খবরই রাখিনা। তারা আমাদের চোখে দাগী আসামী।

আমরা আরো দেখতে পাই টিম রবিন্স এবং মর্গান ফ্রিম্যানের অভিনয়। মর্গান ফ্রিম্যানের অভিনয় আগে অনেক দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। টিম রবিন্সের খুব একটা মুভি দেখা হয়নি। জানিওনা তার কি কি মুভি আছে কিন্তু আমি শুধু এটাই জানি টিম রবিন্স শশ্যান্ক রিডেম্পশানের এ্যান্ডি ডুফ্রেইন।

ছবিটি দেখার পর সত্যিই বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়। বিজয় দিবসের উতসবে যোগ না দেয়ার দু:খ এই ছবি দেখে ভুলে থাকা যায়, ভুলে থাকা যায় অন্তরের গভীরে উকিঝুকি মারা আরো শতশত ব্যাথার কষ্ট কল্পনাকে। শশ্যান্কের পাপমুক্তি আমাকে অপরাধী করে তুলে, বিষাদে ভরিয়ে তুলে। কেন ছবিটি এতোকাল দেখিনি সেজন্যে, কেন ছবিটি আমি দেখে ফেলেছি সেজন্য। আমি নিজেকে অপরাধী ভাবি, আমার মন বিষাদে ভরে যায়। আশাবাদের ফিসফিসানিতে আমার কান ভরে ওঠে, আমি নিজের ভেতর নিজের গুমরে ওঠার কান্না শুনতে পাই, আমি অনুপ্রেরনার অট্টহাসি শুনতে পাই, আমি শুনতে পাই এন্ডি ডুফ্রেইন আমার কানে ফিসফিসিয়ে বলছে....

“Remember Sami, Hope is a good thing...may be the best of things...and no good thing ever dies.”

(অনেক দিন লিখিনা। কেন লিখিনা তা বিবেচ্য নয়। কোন বই বা মুভি নিয়ে লিখবো ভাবিনি। যদিও প্রায়ই লিখতে ইচ্ছে করে। শশ্যান্ক আমাকে লিখতে বাধ্য করলো। নিজেকে পাপমুক্ত মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে ৫০ বছর পর কোন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছি।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29060809 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29060809 2009-12-17 23:05:40
Warning : Suspected Phishing Site !
বড়োই বিরক্তিকর !!!

ফিসিং সম্পর্কে নেটে ঘাটাঘাটি কইরা যা বুঝতে পারলাম তা হইলো, ফিসিংয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেটে ছড়ানো ছিটানো ঠগ-বাটপাররা মাইনসের ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ইউজার নেইম, পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ড নাম্বার সহ অন্যান্য গুরুত্বপর্ন তথ্য হ্স্তগত করতে সক্ষম হয়। এর পরের কাহিনী নিশ্চই খুইলা বলতে হইবোনা। যারা ই-ব্যাংকিং এর সাথে জড়িত এবং অনলাইনে প্রায়ই প‌্যামেন্ট করেন অথবা অকশন সাইটে ঘুরাঘুরি কইরা জিনিসপত্র কিনেন তাদের জন্য এইসব ফিসিং সাইট খুবই ধ্বংসাত্বক। বাটপারেরা তাদের ব্যাংকিং তথ্য হস্তগত কইরা ব্যাংক একাউন্ট খালি কইরা দিতে পারে অথবা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতায়া নিয়া ক্রেডিট কার্ড মালিকের ঘাড়ে বন্দুক রাইখা অনলাইনে পাখি শিকার করতে পারে। সো ফিসিং সাইট থাইকা সাবধান !!!

ফেইসবুকের তথ্য অনুসারে static.ak.fbcdn.net - এইটাও একটা ফিসিং সাইট। যদিও জানিনা কিছু তবুও সাধু সাবধান !!!

ফেইসবুকে কেউ কি আমার মতো এমন সমস্যায় পড়ছেন? লাভলুদারে দেখলাম একই সমস্যায় পড়ছেন। কিন্তু এ থেকে মুক্তি পাইবার উপায় কি? চ্যাটিং করতে গিয়া ফিসিং-এর পাল্লায় পইড়া গেলাম নাকি? কোন উচ্চপ্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন ব্লগার যদি সাহায্য করেন তো কৃতজ্ঞ থাকি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29029224 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29029224 2009-10-20 22:30:53
একটি নারীবাদী কবিতার অপেক্ষায়..... এটাকে তাই বলা যেতে পারে প্রথাগত প্রচেষ্টা...অথবা জনৈক উজবুকের
.............................................................................উন্মাদ অপচেষ্টা

এখানেই গলা টিপে ধরা যেতে পারে কবিতাটির
বিচ্ছিন্নভাবে অথবা তাৎক্ষনিক কল্পনাবিলাসে
শূন্যে মিলিয়ে যেতে পারে না দেখা প্রেয়সীর অস্ফুট চুম্বনে
অথবা সৃষ্টিশীলতার অদম্য বেদনামাখা গুমরে কাঁদা চিৎকারে
কবিতাটি জন্ম দিতে পারে অযুত নিযুত দৃশ্যকল্পের

ভেঙে পড়তে পারে নারীবাদী এই কবিতাটি
শতবর্ষের বিশ্বাসের মতো বা উদ্দাম ক্রীড়ারত ঐ দম্পতির মতো
চড়ুই কিংবা শালিক অথবা টিয়ে ঠোটের লালের মতো
ভেঙে পড়তে পারে গন্ড বেয়ে গড়িয়ে পড়া ঐ অশ্রুর মতো

লজ্জায়...শন্কায়...পুলকে...ক্লান্তিতে...অবহেলায়...অবিশ্বাসে...

কবিতাটি হয়ে উঠতে পারে ওলস্টোনক্রাফট অথবা রোকেয়ার আখ্যান
বলতে পারে পরাজিত সমাজপতির দ্বিধান্বিত সংস্কারের জটিলতা
সুলতানার স্বপ্নে বিভোর এক অবরোধবাসীনির
ভ্রান্তিবিলাসও বলা যেতে পারে কবিতাটিকে...
নোরার মতো ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে
শ্রান্ত নির্মেঘ বীভিশিকাময় রাত্রিতে...

কবিতাটি বিদ্রোহী হতে পারে প্রথার বিরুদ্ধে
ভেন্গে ফেলতে পারে শতকোটি বিশ্বাসের খেলাঘর
ধর্মীয় নারীবাদের সংজ্ঞা নিয়ে বাধাতে পারে অযৌক্তিক তর্ক
ধর্মাপতিমহাপতিদের চরনে ঠাই দিতে পারে তথাকথিত
..................................................................নারীবাদ কে

কবিতাটি ধর্ষিত হতে পারে কতিপয় ঐতিহাসিক শাস্ত্রীয় শকুন দ্বারা....

তবুও কবিতাটি আস্হাহীন থাকে এইসব তত্ব এবং তথ্যে
নারীর ক্রমশঃ নারী হয়ে ওঠার গল্প শুনে কবিতাটি
ভ্রুঁ কুঁচকে তাকায় জনৈক তাত্বিকের দিকে...উনি হাসেন...
বলেন, "তোমার নারীবাদ বুঝে কাজ নেই, তুমি লিঙের পূজক"

এটিকে তাই নারীবাদী কবিতা বলে ভ্রান্তি হয়
বিভ্রান্তির বেড়াজালে জড়িয়ে পড়া কবিতাটি চিরাচরিত নিয়মে
মেনে চলে পুরুষতান্ত্রিক নির্জলা কূটনীতি বাক্য
ক্লান্ত নদীর মতো গড়িয়ে চলে অমোঘ নিয়তিবাদের দিকে

যন্ত্রনার জীবাষ্মে ভরে ওঠে অমর ভাস্বর জটিল বিভ্রমে...বিহ্বলে...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29028706 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29028706 2009-10-19 22:35:44
উইকিপিডিয়ায় যুদ্ধাপোরাধীদের তথ্য বিকৃতি নিয়ে সচলায়তনে রাগিব ভাইয়ের একটি পোষ্ট - অবশ্য পাঠ্য
রাগিব ভাইয়ের পোষ্ট পড়ে যা জানলাম তা হলো জামাতীরা উইকিপিডিয়ায় গোলাম আযম, নিজামী এদের সম্পর্কে যে সব তথ্য রয়েছে তা থেকে খুব সুক্ষ্ম ভাবে কাটছাট করছে। তাদের '৭১ এর ভুমিকা সম্পর্কিত তথ্যগুলো জামাতীরা খুব সাবধানে মডারেট করছে।

ব্লগে যারা সময় ব্যায় করেন তারা এই ই্যসুতে অনেক কিছুই করতে পারেন। রাগিব ভাইও আহ্বান জানিয়েছেন।

সামহোয়ারের অনেক ব্লগাররা হয়তো সচলায়তনের লেখাটি স্কিপ করে যাবেন। তাই সামহোয়ারে লেখাটির লিংক দিলাম। যার যেমন সাধ্য যুদ্ধাপোরাধীদের প্রতিহত করুন ইন্টারনেটে তথ্য বিকৃতি থেকে। এদের বিষদাঁত ভেন্গে দিন।

নীচে রাগিব ভাইয়ের সচলায়তনের পোষ্ট

উইকিপিডিয়ায় যুদ্ধাপরাধীদের কালো থাবা -- প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে আপনাকেই!

http://www.sachalayatan.com/ragib/27130

সবাইকে ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29009312 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29009312 2009-09-12 20:52:17
আহ !!! ডিজিটাল বাংলাদেশ
বেশ আগে একটি রব উঠেছিলো আকাশে বাতাসে। অনেকটা হুজুগই বলা যায়। "একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেন্জ"। হুমায়ূন আজাদ তার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এই হুজুগ নিয়ে বেশ বক্র মন্তব্য করেছিলেন। আমরা যেখানে বিংশ শতাব্দীর চ্যালেন্জের মোকাবেলা করতে সক্ষম নই সেখানে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেন্জ নিয়ে লাফালাফি করা আমাদের জন্য বিলাসিতা মাত্র। তেমনি আমাদের এখনকার হুজুগ হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। যদিও ডিজিটাল বাংলাদেশের সংজ্ঞা আমরা আজও জানিনা। আমরা জনগনেরা তো গন্ডমূর্খ, দেশের তাবৎ নীতি-নির্ধারকেরাও হয়তো ডিজিটাল বাংলাদেশের সংজ্ঞা জানেন কিনা এতে আমার ঘোর সন্দেহ।

যদিও ইদানিং অহরহ মনে হয় যে আমরা হয়তো একটি ডিজিটাল ভুখন্ডে বসবাস করছি। আমাদের নাওয়া-খাওয়া থেকে শুরু করে ঘুম থেকে জাগরন পর্যন্ত, জন্ম-মৃত্যু-রোগ-শোক-হতাশা-কান্না-হাসি-প্রেম-ঘৃনা-যন্ত্রনা-কামনা-বাসনা-যৌনতা সবই হঠাত করেই ডিজিটালে রূপান্তরিত হয়েছে। আমি আমার প্রেমিকার সাথে এখন ডিজিটাল প্রেম করি, যদিও জানিনা ডিজিটাল প্রেম কাকে বলে, রাতে বউয়ের সাথে ডিজিটাল সন্গম করতে করতে, ঘুমের মাঝে ডিজিটাল স্বপ্ন দেখতে দেখতে জীবনটা আমার কেটে যাচ্ছে একটি ডিজিটাল ঘানি টেনে।

আমলারা এখন ডিজিটাল জটিলতা সৃষ্টি করেন, যাকে অনায়াসে বলা যায় আমলাতান্ত্রিক ডিজিটাল জটিলতা, রাজনীতিকেরা তাদের ডিজিটাল চতুরতায় ১০০১ টা ডিজিটাল প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হবার পর তার চেয়ে ডিজিটাল চতুরতায় তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো ভুলে গেলে নিদারুন অসহায়ের মতো বুঝতে পারি যে সত্যিই আমরা এক ডিজিটাল পৃথিবীতে প্রবেশ করেছি। কথা দেয়া থেকে শুরু করে কথা না রাখা পর্যন্ত সবই আজ ডিজিটাল। দেশের বুদ্ধিজীবিরা এখন একের পর এক ডিজিটাল টক-শো গুলোতে ডিজিটাল আলোচানা করে দেশকে ডিজিটাল সুখের সাগরে ভাসাতে ভাসাতে আমাদের নাকমুখপাছা দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গলগল করে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। প্রতিনিয়ত আমরা এখন ডিজিটাল ধর্ষনের শিকার হচ্ছি। কিন্তু সবই হচ্ছে আমাদের অজান্তে, যেহেতু আমরা মূর্খেরা কেউই ডিজিটালের সংজ্ঞা সম্পর্কে খুব একটা বিচলিত নই।

আজ রাস্তায় একজন নিতান্তই মজুর টাইম কত জানতে চাইলে উত্তর দেবার পর প্রতিউত্তরে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "এইটা কি ডিজিটাল টাইম?" আমি অবাক হয়ে হেসে উত্তর দিলাম, "হ্যাঁ, এইটা ডিজিটাল টাইম।" মজুরটি তার সন্গীটিকে জোরে হাটার জন্য তাড়া দিলেন। আমিও তাদের পিছু পিছু জোরে হাটা শুরু করলাম। পাছে আমাদের তথাকথিত ডিজিটাল টাইম আমাকে পিছু ফেলে চলে যাই। যতোই বলুন, আমরা তো ডিজিটাল বাংলাদেশের নিতান্তই গর্বিত গবেট।

আজ ইফতারে বসার আগমূহুর্তেই আমাদের এলাকাটি ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলো। ঠিক সন্ধ্যা ৭-টায় মহামূল্যবান বিদ্যুত চলে গিয়ে ডিজিটাল ভূ-খন্ডে প্রবেশের টিকিট আমাদের হাতে ধরিয়ে দিলেন। পরবর্তী ঘন্টাখানেক আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশে ছিলাম। আধো আলো-আধো অন্ধকারে আমরা উপর্যুপুরী ধর্ষিত হচ্ছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ দ্বারা এবং শাপ-শাপান্ত করছিলাম আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের মহাসম্মানিত ধারক-বাহকদের। এই ডিজিটাল অন্ধকার তো তাদেরই উপহার !!!

কিছুদিন আগে দেশের আধাসরকারী একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচিত এক কর্মকর্তার মুখে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে তার সিভি জমা দেবার কথা শুনে বেশ অবাক হয়ে প্রশ্ন করেছিলাম, "হঠাত্ এতো দিনের চাকুরী ছেড়ে প্রধান মন্ত্রীর অফিস? বিষয় কি?" উত্তরে মুচকী হেসে তার উত্তর, "ডিজিটাল বাংলাদেশ"। আমি বিশ্মিত হয়ে শুধাই, "ডিজিটাল বাংলাদেশ?" কর্মকর্তাটি ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্পে যোগদানের চেষ্টা করছেন। নিজের নিরাপদ দীর্ঘজীবনের চাকুরীটি ছেড়ে এহেন ঝুকিপূর্ন একটি প্রকল্পে যোগদানের কারন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আর কথা বাড়াননি। শুধু আরেকবার মুচকী হেসে জবাব দিয়েছিলেন, "আছে, লাভ আছে। না হলে কি আর এতো বড়ো রিস্ক নেই?" আমিও তখন আমার এ্যানালগ অনুধাবন শক্তি দিয়ে লাভের মোজেজাটি বুঝতে সক্ষম হয়েছিলাম। আর বিশেষ কথা বাড়াইনি।

খুবই সূক্ষ্ম, ডিজিটাল উপায়ে দেশের জ্বালানী সম্পদ তুলে দেয়া হচ্ছে বিদেশী বেনিয়াদের হাতে। ঐসব তেল-গ্যাস আমাদের এই ব-দ্বীপ টির জন্য ডিজিটাল হবার পথে নিতান্তই বাধা স্বরূপ। তাই ওগুলো যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব বিদেশীদের হাতে তুলে দিলেই আমাদের ডিজিটালকরন তরান্বিত হয়। কেউ টু-শব্দটি করার যো নেই। নড়েছো কি ডিজিটাল গুন্ডাবাহিনী খুবই ডিজিটাল উপায়ে পিটিয়ে তোমার ছাল-চামড়া তুলে নেবে। মনে পড়ে, বেশ আগে সদ্য প্রয়াত অর্থমন্ত্রী একবার বলেছিলেন যে আমাদের পেটে ভাত নেই তো মাটির নীচে তেল-গ্যাস দিয়ে কি হবে। ওগুলো জমিয়ে না রেখে বেচে দিয়ে কিছুটা আয় করতে পারলে ক্ষতি কি? তখন আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারকেরা বেশ হট্টগোল করেছিলেন। দেশ হয়ে উঠবে নাইজেরিয়া। কি নির্মম ডিজিটাল স্মৃতিশক্তি !!!

ডিজিটাল গুন্ডাবাহিনী আমাদের উপর চড়াও হন সম্পূর্ন ডিজিটাল পদ্মতিতে। দেশের ডিজিটাল মন্ত্রী-আমলারা দেখেও না দেখার ভান করেন। জেনেও না জানার ভান করেন। আমাদেরকে ধর্ষন করা হয় ডিজিটাল উপায়ে। আমরা ধর্ষিত হয়ে সুখী হই, দলিত মথিত হই, মুখ তুলে চিতকার করি এবং ডিজিটাল কুকুরবাহিনীর নিরন্তর ঘেউ ঘেউ শব্দে আবার মায়ের আচলের তলায় গিয়ে মুখ লুকোই। সম্পূর্ন ডিজিটাল উপায়ে আমরা ফুলের মালা গলায় বরন করি আমাদের এক ডিজিটাল বরপুত্রকে। উনার ডিজিটাল অতীত আমরা ভুলে যাই। আমাদের দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ডিজিটাল নদীতে ভেসে যায় বন্যার পানির তোড়ে। আমরা ধর্ষিত হই প্রতিনিয়ত। ডিজিটাল প্রশাসন দ্বারা, ডিজিটাল আমলাতন্ত্র দ্বারা, ডিজিটাল বাংলাদেশ দ্বারা।

এভাবে হয়তো একের পর এক আমরা ধর্ষিত হবো ডিজিটাল বাংলাদেশের দ্বারা। আমরা দেশের গন্যমান্য মুর্খরা ডিজিটাল বাংলাদেশের সংজ্ঞা না জেনেই তার সাথে সন্গমে লিপ্ত হই, তার শীৎকারে আমাদের দেহে কামনা জাগে, মনে ভালবাসা জাগে, আমরা উত্থিত লিন্গ নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ি ডিজিটাল বাংলাদেশের যোনিপ্রদেশে। আমরা কামনায় সিক্ত হই কিন্তু বুঝতে পারিনা পশ্চাতদেশ দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ আমাদের নিরন্তর ধর্ষন করে চলেছে। তবু আমরা সন্গম করতে করতে আবেগে কেঁপে উঠে বলি....

আহ !!! ডিজিটাল বাংলাদেশ....


ডিসক্লেমার: লেখাটি লেখার সময় আমার কামভাব জাগ্রত হওয়ায় ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে সন্গমে লিপ্ত হবার আকান্খা প্রকাশ করতেই তিনি নগ্ন হয়ে সামনে এসে দাড়ালেন। ঘন্টাখানেক তার সাথে সন্গমে লিপ্ত থাকার দরুন লেখা প্রকাশ কিন্চিত বিলম্বিত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29006521 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29006521 2009-09-08 01:24:34
You either die a hero......
You either die a hero or you live long enough to see yourself become a villain।

আমি দীর্ঘদিন কথাটি নিয়ে মনের মাঝে নাড়াচাড়া করতে করতে ইতিহাসের অনেককেই এভাবে খলনায়কে পরিণত হতে দেখে বিহ্বল বোধ করেছি। কাম্য মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে অনেকেই পরবর্তী জীবনে খলনায়কে পরিণত হয়েছেন নিদারুনভাবে। আমি মনে মনে ভেবেছি আগে মৃত্যু হলেই বরং ভালো ছিলো, তোমাকে খলনায়ক হয়ে মরতে হতো না। তুমি বীরের বেশেই মরতে পারতে।

ইন্টারনেটে বা অন্য কোথাও একটি ইংরেজি বাক্য দেখেছিলাম যার বাংলা অর্থ করলে দাড়ায়, "আমরা সকলেই স্বর্গে যেতে যাই, কিন্তু কেউই মৃত্যুকে সহজে মেনে নিতে পারিনা"। অনেকেই খুব উন্নাসিক ভাব দেখান বা যৌক্তিক বিচারে মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলেই মেনে নেন। তারা পরকালে বিশ্বাস করেন না বা আধুনিকতার পোষাকে আবৃত মনটিকে সবার সামনে জাহির করতে চান। আমি এমন মেনে নিতে পারিনা। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই। আজ আছি, কিন্তু একদিন আমি থাকবোনা, পৃথিবীর আলো-বাতাসে, মুখররিত জনপদে আমার কোন চিহ্ন থাকবেনা, এতে আমি খুব বিহ্বল বোধ করি। আমি ভীত, সন্ত্রস্ত হই আমার পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভেবে। আমার মৃত্যুর পর তাদের কি হবে ? আমি যদি কাল মারা যাই তো আমার মা বাবার কি হবে? আমি হয়তো খুবই দূর্বল মনের অধিকারী।

স্কুলে পড়াকালীন সময়ে আমার এক দাদা'র (বাবার চাচা) মৃত্যু আমাকে খুব নাড়া দিয়েছিলো। পরে মনে একটি প্রশ্নই জেগেছিলো, আমি মানুষটির মৃত্যুতে এতো উতলা হলাম কেন? বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "আমি তো আমার নিজের দাদা'র ব্যপারে এতো আবেগঘন নই, তবে এই দাদার মৃত্যুতে এতোটা শোক সন্তপ্ত হবার কারন কি?" বাবার উত্তরটা আজো আমাকে নাড়া দেয়। যদিও সম্পূর্নভাবে তা আমি মেনে নিতে পারিনা।
বাবা উত্তর দিয়েছিলেন, "তুমি তোমার নিজের দাদা'র সংস্পর্শ পাওনি, তাকে কাছে পাওনি, তোমার নিজের দাদা'র সাথে তোমার কোন স্মৃতি নেই, তাই নিজের দাদার ব্যাপারে তোমরা ফিলিংসটা কম। কিন্তু এই দাদাকে তুমি কাছ থেকে দেখেছো, তোমার অনেক স্মৃতি তার সাথে জড়িত, কাজেই উনার মৃত্যুতে তোমার উতলা হওয়াই স্বাভাবিক।" কথাটা আমি মেনে নিয়েছিলাম। তবু আমি যে কোন পরিচিত মানুষের মৃত্যু সংবাদে সামান্য হলেও বিচলিত হতাম। আমার মনে ভেসে উঠতো আমার কোন আপনজনের মৃত্যদৃশ্যের প্রতিচ্ছবি। নিজের মৃত্যুচিন্তা আমাকে বিহ্বল করে তুলতো।

আজও আমি বিহ্বল বোধ করি। কোন এক রাজনীতিবিদ, দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী, দেশের একটি প্রধান দলের নেতা কোথায় দূর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন এতে আমার বিন্দুমাত্র শোকাচ্ছন্নতা নেই। উনি সিলেটের জন্য মৌলভীবাজারের জন্য, হেনের জন্য, তেনের জন্য এই করেছেন, সেই করেছেন, তিনি ৬ অথবা ৮ বারের অর্থমন্ত্রী, তিনি বিধাতাসম বা ১০০১ টা পান্ড পুষেন বা ১৯১ জন ওলী আউলিয়ার দরবারে শিন্নি বিতরন করেন তাতে আমার বিন্দুমাত্র মাথা ব্যাথা নেই। আমি শুধু মৃত্যু দেখে হতাশাচ্ছন্ন হই, বিহ্বলিত হই, শোকাচ্ছন্ন হই। মৃত্যু আমাকে তার শীতল স্পর্শ দিয়ে বুঝিয়ে দেয়, একদিন কেউ আমরা থাকবোনা। জীবন নিরর্থক।

বাবার সাথে দেশ, কাল, রাজনীতি নিয়ে প্রায়ই তর্কযুদ্ধে লিপ্ত হই। অনেক আগে কোন এক ১৫-ই অগাষ্টে বাবাকে বলেছিলাম, "নিশ্চই বন্গবন্ধু এমন কোন কাজ করেছিলেন যে তাকে এমন শোচনীয় ভাবে মৃত্যু বরন করতে হয়েছে। ইহজীবনেই তিনি তার পাপের শাস্তি পেয়ে গিয়েছেন। মৃত্যুর পর তাঁকে সামান্য এক সৈনিকের বুটের লাথি খেতে হয়েছে।" বাবা আমার কোন উত্তরই দিতে পারেন নি। বেশ অনেক কাল পরে The Dar Knigh দেখে আমার প্রথম বন্গবন্ধুর কথাই মনে হয়েছে। আমি মনে মনে আউড়েছি

তুমি একজন বীরের মতোই মরতে পারতে....তুমি একজন বীরের মতোই মরতে পারতে....

তিনি মন্ত্রী হবার রেকর্ড করেছেন, তার পুত্রধন দূর্নীতিতে রেকর্ড করেছেন, হবিগন্জ, নবীগন্জ, মৌলভীবাজারে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন, এতকিছুর পরেও তার মৃত্যু আমাকে নিরর্থকতার সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে যায়। আমি ভাবি, এভাবে তোমার মৃত্যু কি কাম্য ছিলো? তুমি এমন কি করেছিলে যে, তোমাকে এমন ভাবে অপঘাতে মৃত্যু বরন করতে হবে? তুমি তো মন্ত্রীত্বে রেকর্ড করেছিলে, ক্ষমতার এহেন কোন দিক নেই যে তুমি যার ছোঁয়া পাওনি? অর্থ-বিত্ত-প্রতিপত্তি সবই একসময় তোমার নখদর্পনে ছিলো। তবু কেন এই নিগৃহীতের মৃত্যু?

আমি নিদারুন আশাহত হই। মৃত্যু নিয়ে মানুষের নোংরা খেলা দেখে হতাশ বোধ করি। আমি তার প্রতি কোন আবেগ বোধ করিনা, তার মৃত্যুতেও আমার কোন যন্ত্রনা নেই। যেমন নেই ইতিহাসের অনেক নামী-দামী-ক্ষমতাবান-বিধাততুল্য অনেক অনেক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে। হোক না তা মানুষের মতো মৃত্যু বা মহামানুষের মতো মৃত্যু বা নিতান্তই পশুর মতো মৃত্যু? তবু আমি মৃত্যু নিয়ে নোংরা খেলায় মেতে উঠতে পারিনা। আমার অন্তর ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে, মন ঘৃণায় কুকড়ে যায়।

তাই আমি ভাবি, ঈদে বাড়ী যাবার সময় ১৮ তারিখে নিতান্ত একটি মুরগীর ছানাকে বাচাতে গিয়ে আমাদের বাসটি হয়তো খাদে গিয়ে পড়বেনা বা চাকুরী সুবাদে ফেনী, রাজশাহী অথবা চট্টগ্রাম যাবার সময় আমার গাড়ীটি ধাক্কা দেবেনা কোন আন্তজেলা ট্রাককে বা রাস্তা পারাপারের সময় ৩ নাম্বার বা ১১ নাম্বার বাসটি আমার বুকের উপর দিয়ে হেটে যাবেনা, অতি প্রিয় কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, যার লেখায় আমি আচ্ছন্ন হয়ে থাকবো আজীবন, সেই শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন আজাদের মতো আমার ছিন্নভিন্ন দেহ হয়তো পড়ে থাকবেনা কোন ড্রেনের পাশে, আমার মৃত্যুও হয়তো হবেনা কোন দূর দেশে আত্মীয় পরিজনহীনতায়। আমাকে হয়তো দেখে যেতে হবেনা নিজের খলনায়ক হয়ে ওঠার নিদারুন পটভূমিটি। আমি হয়তো আমার প্রিয়জনের কোলে মাথা রেখে, ভালবাসার সংস্পর্ষে মূল্যবান শেষ নিঃশ্বাসটি ফেলে যেতে পারবো এই পৃথিবী বুকে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29005392 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29005392 2009-09-06 00:36:47
September on Jessore Road
মাঝে মাঝে কোন প্রিয় লেখক অথবা কবির সাথে সাক্ষাতের জন্য মনটা কেমন যেন করে ওঠে। ভাবনা আসে, যদি সাক্ষাত পেতাম কোন প্রিয় কবির, তাঁর স্বকন্ঠেই শুনে নিতাম প্রিয় প্রিয় কবিতার কয়েক ছত্র। ভাবনা আমার মনেই থেকে যায়। প্রিয় কবির দু’এক জনের সাথে দেখা হলেও তেমন কোন কান্ড আমার দ্বারা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

কবি মান্নান সৈয়দ জীবনবাবুকে নিয়ে লিখিত একটি কবিতায় দেখিয়েছিলেন যে কবির সাথে তাঁর দেখা হয়ে যাচ্ছে ঢাকা শহরেরই অতি চেনা সব এলাকায়। কবি জীবনবাবুর চুলে দেখতে পান রাত্রির থেমে থাকা, অক্ষিকোটরে দেখতে পান সবুজ প্রিজমের মতো নিয়ন আলো খেলা করছে ফড়িং এর মতো, দেখতে পান হেমন্তের শিশির ঘেরা তাঁর পদযুগল কোন এক আদিম দেবতার কাছে নতজানু হয়ে আছে, কবির পান্জাবীর পকেটে এক টুকরো চাঁদের উঁকি দেয়া দেখে সৈয়দ সাহেব চমকে উঠেন। একেই বলে হয়তো জীবনানন্দীয় পরাবাস্তববাদ।

আমারো মাঝে মাঝে খুব পরাবাস্তববাদী হয়ে উঠতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে ঢাকা শহরের এই ইটকাটকংক্রিটের শ্যাওলা ধরা ভন্ডামীতে কোন কোন কবির সাক্ষাত পেতে। প্রতি সেপ্টেম্বর এলেই আমার ইচ্ছে হয় কবি এ্যালেন গীনসবার্গের সাথে যশোর রোড ধরে হেটে যেতে। তারই কন্ঠে আবৃত্তি শুনতে শুনতে আমরা হয়তো পাড়ি দেব ভারতীয় সীমান্ত যশোর রোড ধরে। তিনি উদাত্ত কন্ঠে আবৃত্তি করতে থাকবেন...

America when will we end
the human war?
Go fuck yourself with your atom bomb…

অথবা

I saw the best mind of my generation destroyed by madness, starving hysterical naked,
Dragging themselves through the Negro streets at dawn looking for an angry fix…

অথবা

When I die
I don’t care what happens to my body
Through ashes in the air, scatter ‘em in the East river
Bury an um in Elizabeth New Jersey, B’nai Israel Cemetry
But I want a big funeral…

অথবা শুনতে পাবো

Stand up against governments, against God.
Stay irresponsible.
Stay only what we know & imagine.
Absolutes are Coercion.
Change is Absolute…

এই অর্ধোন্মাদ কবির সাথে আমার প্রথম পরিচয় ২০০০ সালের দিকে। তাঁর মৃত্যুর তিন বছর পর। অপার থেকেই তিনি আমাকে সাক্ষাত দিয়েছিলেন। তিনি আমার পরাবাস্তব জগতে সৃষ্টি করেছিলেন অনন্য সৃষ্টিশীলতা, সুললিত উন্মাদনা। প্রথম পরিচয়েই আমি তার প্রেমে পড়েছিলাম, তার কবিতার সান্নিধ্য চেয়েছিলাম। এমন উদাত্ত কবিতা, এমন শানিত আক্রমন, পংক্তিতে পংক্তিতে মাতৃভূমির সমালোচনা, ক্ষমতাধরদের ভেঙে পড়া হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবেনা আর কারো কবিতায়।

আরো লক্ষকোটিশতজনের মতো ’৭১ এর সেপ্টেম্বরে যশোর রোডের উদ্বাস্তুতায় এ্যালেনের সাথে আমার দেখা। লক্ষলক্ষ শিশুর সাথে আমিও কবির হাত ধরে আকাশ দেখছিলাম গোল গোল চোখ করে, লক্ষলক্ষ বাবার সাথে বৃষ্টিতে ভিজে লক্ষলক্ষ মায়ের ব্যাথাকে অনুভব করছিলাম, লক্ষলক্ষ ভাইয়ের দু:খ, বোনের কান্নাকে প্রত্যক্ষ করছিলাম।

আমি দেখছিলাম মানুষের যন্ত্রনাকাতরতা, একটুকরো রুটির জন্য আর্তি, অখন্ড নীরবতায়, উন্মাদনার দ্বারপ্রান্তে, কষ্টমাখা তীরবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়া। গৃহহীন, ভূমিহীন, বাস্তুহীন আত্মার আহাজারিতে আমি জর্জরিত হচ্ছিলাম। ছিন্ন হচ্ছিলো হৃদয় বুড়ো-বুড়ী-নারী-শিশুর আর্তচিৎকারে।

আমি যশোর রোড ধরে হেটে যাচ্ছিলাম এ্যালেন গীনসবার্গের সাথে। তিনি আমাকে উপহার দিচ্ছিলেন আমারি মাতা-পিতা-ভাই-বোনের কষ্ট কল্পনা। বর্ননা করছিলেন তাদের যন্ত্রনার বীভিশিকা। আমি পরাবাস্তবতায় হারিয়ে যাচ্ছিলাম। তাদের কষ্ট-যন্ত্রনা-কান্না-শোক-তীব্রতা আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে গলগল করে প্রবাহিত হচ্ছিলো শোনিত ধারার মতো। আমার হৃদয় কুকুড়ে গিয়েছিলো বর্বরতায়, নি:শংসতায়, নিপীড়নে। উন্মাদ কবি আমাকে পীড়ন করছিলেন তার কবিতা দিয়ে, তার সৃষ্টিশীলতা দিয়ে, তার শৈল্পিকতা দিয়ে। আমি এখনও সেই পীড়ন অনুভব করি, সেই সৃষ্টিশীলতা আমাকে আচ্ছন্ন করে, সেই শৈল্পিকতা আমাকে বিমোহিত করে। আমি হারিয়ে যাই সেপ্টেম্বরের সেই যশোর রোডে। ১৯৭১ সালে....


Millions of babies watching the skies
Bellies swollen, with big round eyes
On Jessore Road--long bamboo huts
Noplace to shit but sand channel ruts

Millions of fathers in rain
Millions of mothers in pain
Millions of brothers in woe
Millions of sisters nowhere to go

One Million aunts are dying for bread
One Million uncles lamenting the dead
Grandfather millions homeless and sad
Grandmother millions silently mad

Millions of daughters walk in the mud
Millions of children wash in the flood
A Million girls vomit & groan
Millions of families hopeless alone

Millions of souls nineteenseventyone
homeless on Jessore road under grey sun
A million are dead, the millions who can
Walk toward Calcutta from East Pakistan

Taxi September along Jessore Road
Oxcart skeletons drag charcoal load
past watery fields thru rain flood ruts
Dung cakes on treetrunks, plastic-roof huts

Wet processions Families walk
Stunted boys big heads don't talk
Look bony skulls & silent round eyes
Starving black angels in human disguise

Mother squats weeping & points to her sons
Standing thin legged like elderly nuns
small bodied hands to their mouths in prayer
Five months small food since they settled there

on one floor mat with small empty pot
Father lifts up his hands at their lot
Tears come to their mother's eye
Pain makes mother Maya cry

Two children together in palmroof shade
Stare at me no word is said
Rice ration, lentils one time a week
Milk powder for warweary infants meek

No vegetable money or work for the man
Rice lasts four days eat while they can
Then children starve three days in a row
and vomit their next food unless they eat slow.

On Jessore road Mother wept at my knees
Bengali tongue cried mister Please
Identity card torn up on the floor
Husband still waits at the camp office door

Baby at play I was washing the flood
Now they won't give us any more food
The pieces are here in my celluloid purse
Innocent baby play our death curse

Two policemen surrounded by thousands of boys
Crowded waiting their daily bread joys
Carry big whistles & long bamboo sticks
to whack them in line They play hungry tricks

Breaking the line and jumping in front
Into the circle sneaks one skinny runt
Two brothers dance forward on the mud stage
Teh gaurds blow their whistles & chase them in rage

Why are these infants massed in this place
Laughing in play & pushing for space
Why do they wait here so cheerful & dread
Why this is the House where they give children bread

The man in the bread door Cries & comes out
Thousands of boys and girls Take up his shout
Is it joy? is it prayer? "No more bread today"
Thousands of Children at once scream "Hooray!"

Run home to tents where elders await
Messenger children with bread from the state
No bread more today! & and no place to squat
Painful baby, sick shit he has got.

Malnutrition skulls thousands for months
Dysentery drains bowels all at once
Nurse shows disease card Enterostrep
Suspension is wanting or else chlorostrep

Refugee camps in hospital shacks
Newborn lay naked on mother's thin laps
Monkeysized week old Rheumatic babe eye
Gastoenteritis Blood Poison thousands must die

September Jessore Road rickshaw
50,000 souls in one camp I saw
Rows of bamboo huts in the flood
Open drains, & wet families waiting for food

Border trucks flooded, food cant get past,
American Angel machine please come fast!
Where is Ambassador Bunker today?
Are his Helios machinegunning children at play?

Where are the helicopters of U.S. AID?
Smuggling dope in Bangkok's green shade.
Where is America's Air Force of Light?
Bombing North Laos all day and all night?

Where are the President's Armies of Gold?
Billionaire Navies merciful Bold?
Bringing us medicine food and relief?
Napalming North Viet Nam and causing more grief?

Where are our tears? Who weeps for the pain?
Where can these families go in the rain?
Jessore Road's children close their big eyes
Where will we sleep when Our Father dies?

Whom shall we pray to for rice and for care?
Who can bring bread to this shit flood foul'd lair?
Millions of children alone in the rain!
Millions of children weeping in pain!

Ring O ye tongues of the world for their woe
Ring out ye voices for Love we don't know
Ring out ye bells of electrical pain
Ring in the conscious of America brain

How many children are we who are lost
Whose are these daughters we see turn to ghost?
What are our souls that we have lost care?
Ring out ye musics and weep if you dare--

Cries in the mud by the thatch'd house sand drain
Sleeps in huge pipes in the wet shit-field rain
waits by the pump well, Woe to the world!
whose children still starve in their mother's arms curled.

Is this what I did to myself in the past?
What shall I do Sunil Poet I asked?
Move on and leave them without any coins?
What should I care for the love of my loins?

What should we care for our cities and cars?
What shall we buy with our Food Stamps on Mars?
How many millions sit down in New York
& sup this night's table on bone & roast pork?

How many millions of beer cans are tossed
in Oceans of Mother? How much does She cost?
Cigar gasolines and asphalt car dreams
Stinking the world and dimming star beams--

Finish the war in your breast with a sigh
Come tast the tears in your own Human eye
Pity us millions of phantoms you see
Starved in Samsara on planet TV

How many millions of children die more
before our Good Mothers perceive the Great Lord?
How many good fathers pay tax to rebuild
Armed forces that boast the children they've killed?

How many souls walk through Maya in pain
How many babes in illusory pain?
How many families hollow eyed lost?
How many grandmothers turning to ghost?

How many loves who never get bread?
How many Aunts with holes in their head?
How many sisters skulls on the ground?
How many grandfathers make no more sound?

How many fathers in woe
How many sons nowhere to go?
How many daughters nothing to eat?
How many uncles with swollen sick feet?

Millions of babies in pain
Millions of mothers in rain
Millions of brothers in woe
Millions of children nowhere to go


September on Jessore Road by Allen Ginsberg


ছবির কৃতজ্ঞতা: আমার রুমের দরজায় টানানো যশোর রোডের আর্তচিৎকার এবং খালাতো ভাইয়ের মোবাইল ক্যামেরা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29003128 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/29003128 2009-09-01 21:24:21
এইটা কি ধরনের প্রতিক্রিয়াশীলতা?
তাই অনেকদিন ধইরা তাওপ্যাচ করতাছিলাম ব্লগীয় প্রতিক্রিয়াশীলতার উপর বিশ্লষনধর্মী কোন পোষ্ট দিমু। কিন্তু অনেকটা নিজের অলসতার কারনে, বা কঠিন এই বিষয়ের কারনে অনেকদূর আগায়াও আমি অনেকবার পিছায়া আসি। লেখার থিম নিয়া মাথায় নাড়াচাড়া করি, মাঝে মাঝে কিছু কিছু ব্লগ-টগ ঘুইরা নোট-ফোটও রাখি। মাঝে মাঝে মনে হয় ধুর!!! ফাও কামে সময় নষ্ট ক্যান? একটা পুতুপুতু টাই গল্প লিখি, বা কবিতা লিখি। কিন্তু এইবার আগায়া যাই। এই প্রতিক্রিয়াশীলতা দেইখা আর মন সায় দেয়না। প্রতিবাদী হইয়া উঠে।

খুব ধীরে ধীরে দেখি ব্লগটা প্রতিক্রিয়াশীলতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হইতেছে। মনে শংকা জাগে। ভয়াবহ শংকা। হয়তো ব্লগকে নিমজ্জিত করা হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে। এইখানকার ব্লগারেরা প্রতিক্রিয়াশীল, মডুরা আরো বেশী প্রতিক্রিয়াশীল। আস্তিকেরা প্রতিক্রিয়াশীল, নাস্তিকেরা আরো বেশী প্রতিক্রিয়াশীল। ব্লগের আগপাশতলা দেখি প্রতিক্রিয়াশীলতায় নিমজ্জিত। দলাদলিতে নিমজ্জিত, দালালীতে নিমজ্জিত।

ব্লগকে আগে অনেক ইন্টারেকটিভ মনে হইতো। ব্লগের লগে জড়িত থাকার কারনে কিছু ইতিহাসও জানা আছে বিধায় বুঝতে পারি ব্লগীয় বিবর্তনটা। আগে আমরা ছাগুগো লগে মারামারি করতাম। এখন মারামারি করি নিজেরা নিজেরা বিভিন্ন ই্যসুতে। মারামারি থাকবো, এইটা কোন খারাপ বিষয় না। খারাপ বিষয় হয় যখন তা প্রতিক্রিয়াশীলতায় রূপ নেয়।
নিজেরে মনে হয় এক বদ্ধ ঘরে আটকাবস্হায়। বন্ধ ঘরে আটকাইয়া কেউ যেন আমার গলা টিপে ধরছে। আগে স্বতস্ফুর্ত ভাবে একের পর এক পোষ্টে মন্তব্য করতাম। এখন মন্তব্য করতে গেলে নানা চিন্তায় মনকে ডুবিয়ে দেয়। পোষ্টের লেখক কি মনে করবেন, সহব্লগাররা কি মনে করবেন, কে আমারে ছাগু কইবেন, কে কোলে তুলবেন, কে আমার পাছা মারবেন, কে আমার চুমা দিবেন এমন অনেক অনেক ভালমন্দ চিন্তা আইসা মনে ভিড় করে। আটরশির পীরের মুরীদ এর থাইকা অনেক ভাল আছিলো।

ব্লগরে মনে হয় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র সংস্করন। বাস্তবের বাংলাদেশ আমারে ভার্চুয়ালেও ছাইড়া কথা কয়না। চারপাশে আমি বাংলাদেশ দেখি, প্রতিক্রিয়াশীলতা দেখি, মৌলবাদ (ব্লগারদের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে মৌলবাদ শব্দটা শুধু ধর্মের জন্য প্রযোজ্য নয়) দেখি। সারাদিনে বাংলাদেশের পুন্গিমারা খাইয়া, বলাৎকারিত হইয়া রাইতে যখন একটু শান্তির আশার ভার্চুয়াল লাইফটারে একটিভ করি, আমাকে পুনরায় পুন্গিমারা খাইতে হয়, ধর্ষিত হইতে হয়। বাস্তবের মতো এইখানেও আমার পুন্গিমারা হয়, পাছা মারা হয়, আমারে বলাৎকারিত হইতে হয়। আমার গলা টিপে ধরা হয়, আমার শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়।

আইজকাও ভার্চুয়াল লাইফটারে একটিভ করতেই আরিফ ভাইয়ের (অতি প্রিয় ব্লগার আরিফ জেবতিক) একটা পোষ্ট দৃষ্টি কাইড়া নেয়। ঘটনার ভিতরে ঢুকি। দেখি আরেক প্রিয় ব্লগার মুকুলের পোষ্টের রেফারেন্স আছে। প্রতিক্রিয়াশীলতার সূত্রানুযায়ী কিছুক্ষনের মাঝেই আরিফ ভাইয়ের পোষ্টটা প্রথম পাতা থাইকা সরায়া নেয়া হয়। কিছু পরে উনি আরেকটা পোষ্ট দেন। ঐটাও সরায়া নেয়া হয়। ধন্য আমি ধন্য হে...কইয়া গান গাইয়া উঠতে ইচ্ছা করে। যাই হোক, মুকুলের পোষ্টে গিয়া যা জানলাম তাতে মনে হইলো আবার কেউ আমারে পাছা মারছে, কেউ আমারে বলাৎকার করছে। এই পরিস্হিতিতে এমন অনুভূতি আমার হইতেই পারে।

ব্লগের অতি অতি পুরোন একজন ব্লগার হাসিব। ব্লগের প্রায় প্রথম লগ্ন থাইকাই এইখানে তার বিচরন। কোন এক অজ্ঞাত কারনে তিনি ব্যান খাইছেন। ব্যান মানে একেবারে ব্লগ বাতিল। তার ব্লগে গিয়া দেখলাম নোটিশখানা আমার দিকে চাইয়া ফিচকা হাসি দিতাছে। আমি মুখ কাচুমাচু কইরা চইলা আইলাম। কিন্তু কি কারনে এই বাতিল ঘোষনা তার কোন আশু সুরাহা করতে না পাইরা আমি কিছুক্ষন ভার্চুয়াল জগতের কোনায়কানায় ঘুরাঘুরি করলাম। মাগার কোন হদিশ করতে পারলাম না। চিন্তিত হইলাম এবং মনে হইলো প্রতিক্রিয়াশীলতার কথা। ব্লগীয় প্রতিক্রিয়াশীলতা।

অনেকেই ব্লগার হাসিব কে দেখতে পারেন না। তারা হয়তো এতে বেশ স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলবেন। তিনিও অনেককে দেখতে পারেন না। তারাও বেশ ফিচকা হাসি দেবেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা এই ব্লগের লেখককেও হাসিব কোন এক অজ্ঞাত কারনে দেখতে পারেন না। যার ফলস্রুতিতে আমি তার ব্লগে ব্লক। তার ব্লগে আমার মন্তব্য করার অধিকার নাই। অনেক আগেই হাসিব আমারে তার ব্লগে গলা টিপা ধরছেন। কিন্তু কি কারনে এই গলা টেপাটেপি তাতে আমি কোনদিন আগ্রহ দেখাইনাই এইখানেও সেই ব্যাপারে আগ্রহ নাই, বা আমাকে আনব্লক করার জন্য কোন হা-হুতাশ নাই। আমার স্বভাবটাই হয়তো এমন।

যাই হোক, আমার গলাটিপে ধরা হাসিব ভাইও যখন ব্যান খান বা তার ব্লগ বাতিল হয় তখনও আমি চুপ করে থাকতে পারিনা ন্যুনতম কিছু দায়িত্ববোধের কারনে। যে কোন প্রতিক্রিয়াশীলতাই আমার চোখকে অন্ধ করে দেয়, আমার হৃদয়কে মোহর করে দেয়। তাই আমি কিছু কওয়ার তাগিদ অনুভব করি। এবং কিছু কইতে গিয়া একটা বিশাল পোষ্টের অবতারনা করি।

মুকুল ভাইয়ের পোষ্টে দেখি আমার অতি অতি প্রিয় আরেক ব্লগার রাসেল........ এর কথাও লেখা আছে। তিনি ওয়াচে আছেন। তারে দূরবীন লাগাইয়া বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থাইকার বিচার বিবেচনা করা হইতেছে। কিন্তু মহান মডুরা কি জানেন তারা নিজেরা কে কতজন মিলে একজন রাসেলের সমান হইতে পারবেন? কতজন মডারেটর মিলে একজন রাসেলের সমান হতে পারবেন, রাসেলের মতো এক একটি অগ্নিস্ফুলিন্গ নামাতে পারবেন, রাসেলের মতো শেলের আঘাতে আঘাতে এই ব্লগকে এইসব মডুদের কতজন করতে পারবেন। রাসেল........ এর মতো ব্লগার আমার এই ব্লগে বিরল মনে হয়। আমরা তো সবাই মিলা খালি প্রতিক্রিয়া পোষ্টই দেই একের পর এক। আমি জেনারেল হইছি, আমি মইনইউ হইছি, আমি ওয়াচে আছি, ঐ ব্যাটা কি কইছে, ঐ ব্যাটা কারে চোখ মারছে, ব্লগজুড়ে এক সুবিশাল উৎসব।

রাসেল ভাইয়ের প্রতি দূরবীন নিক্ষেপ আমাকে বিহ্বল করে দেয়। ব্লগার ইউনুস খান আমাকে বিহ্বলতার হাত থেকে রেহাই দেন। তিনি জানান রাসেল ভাই মিলটন ভাইয়ের লেখায় কি এক কমেন্ট করার কারনে ওয়াচে আছেন। তাকে বিভিন্ন এ্যান্গেল থেকে বিচার বিবেচনা করা হচ্ছে।

আমার মনে প্রশ্ন জাগে এই বিচার বিবেচনা কে করেন? এইখানে ব্লগের বাইরে অথচ ব্লগে সাথে জড়িত কতজনের যোগ্যতা আছে একজন রাসেল........ কে বিচার বিবেচনা করার? এইখানে ব্লগের বাইরে অথচ ব্লগের সাথে জড়িত কতজনের একজন হাসিব কে বিচার বিবেচনার যোগ্যতা আছে? যখন অনেক উল্টাপাল্টা কান্ড দেখি এমন প্রশ্ন আমি করতেই পারি। তাদের যোগ্যতা নিয়াও প্রশ্ন তুলতে পারি।

যে কোন প্রতিক্রিয়াশীলতা আমারে নিদারুন বিহ্বল করে। বাস্তবে প্রতিক্রিয়াশীলতা, ভার্চুয়ালে প্রতিক্রিয়াশীলতা, জীবনের আগপাশতলা প্রতিক্রিয়াশীলতা দিয়া ধর্ষিত হইতে হইতে আমারো হয়তো একদিন প্রতিক্রিয়াশীল হইতে ইচ্ছা হইবো। আমিও কারও গলা টিপা ধরবো, তার শ্বাসরূদ্ধ কইরা তারে মারবো।

ব্লগারদের প্রতিক্রিয়াশীলতা আমাকে খুব একটা বিচলিত করেনা। নানান কিসিমের মানুষ। একটু প্রতিক্রিয়াশীলতা তো থাকবোই, এইভাইবা মনরে বুঝ দেই। যত যাই কই তারা তো আমার মতোই আম-জনতা, আই মিন ম্যাংগো-পিপল। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার যখন দেখি, স্বৈরাচারী শাসন যখন দেখি, আটরশির পীরের মুরিদের প্রতিকৃতি যখন দেখি, জলপাই রঙের অন্ধকার দেখি, যখন শুনি হল্ট-লেফটরাইট-লেফটরাইট-শ্যুট তখনতো আর নিজেরে সামলাইতে পারিনা। প্রতিবাদী হইতে ইচ্ছা হয়, বিপ্লবী হইতে ইচ্ছা হয়, ইচ্ছা হয় গুলির সামনে বুক পাইতা দেই নুরহোসেনের মতো, আসাদের মতো। কারন প্রতিক্রিয়াশীলতার সাথে আপোষ করতে ইচ্ছা হয়না, প্রতিক্রিয়াশীলতা নিয়া পথ চলতে মন চায়না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28914864 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28914864 2009-02-22 20:51:27
এইটা একটা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী পোষ্ট<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_17.gif" width="23" height="22" alt="X(" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_23.gif" width="23" height="22" alt="X((" style="border:0;" />
"আলো বলে, অন্ধকার তুই বড়ো কালো অন্ধকার বলে, ভাই তাই তুমি আলো"

সবসময়ই আমার তাই আলোর উল্টা পিঠটা দেখতে ইচ্ছা করে। অন্ধকার দেইখা আলোরে চিনতে ইচ্ছা করে। ইউনিতে পড়াকালীন সময়ে ডিসক্রিট ম্যাথমেটিক্সে একটা থিওরাম আছিলো "প্রুভ বাই কন্ট্রাডিকশান" বা এই টাইপের কিছু। থিওরামটা খুব মনে ধরছিলো। এইটা অনেকটা আলোরে চিনার জন্য আগে অন্ধকার চিনার মতো ব্যাপার।

যাই হোক অন্ধকার চেনার জন্য তাই অনেক উপায় বাইচা লই। যে কোন বিষয়ে আলো-অন্ধকার দুইটারেই চিনতে ইচ্ছা করে। যেমন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে জানতে গিয়া আমি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির বই-টইও পড়ার চেষ্টা করি। মুনতাসির মামুনের "রাজাকারের মন" দুইখন্ড পইড়া আমি বিস্তর অন্ধকারের দেখা পাই। তেমনি নিকশ কালো অন্ধকারের দেখা পাই গোলাম আযমের "জীবনে যা দেখলাম" পইড়াও।

আজকেও তেমন এক অন্ধকার দেখলাম। দেইখা মনটায় কৃতজ্ঞতায় ভরে গেল যে আবারো অন্ধকার দেইখা আলোরে চিনলাম। তাই কৃতজ্ঞতা পোষ্ট দিয়া কৃতজ্ঞতা টুকু জানাইলাম।

বাবুয়া সাহেব আমি আপনার প্রতি যারপরনাই কৃতজ্ঞ। আপনি আপনার মন্তব্যের মাধ্যমে আমাকে এক গুচ্ছ নিকশ কালো অন্ধকার উপহার দিয়েছেন। যার মাধ্যমে আমি অন্যদের আলোটুকু নিজের মাঝে ধারন করতে পারছি। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।<img src=" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28912597 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28912597 2009-02-17 22:10:00
ভালবাসার শরীর, শরীরের ভালবাসা (উৎসর্গ: বাসের জনৈক প্রেমিক/প্রেমিকা যুগল)
তেমনি ভালবাসার রহস্যময়তাও আমি বুঝে উঠতে সক্ষম নই। হয়তো কোনদিনই বুঝে উঠতে পারবোনা ভালবাসার সার্বিক রসায়ন। মানুষ কখন ভালবাসতে চায় বা প্রেমে পড়ে যায় অথবা কখন মানুষ একজন একান্ত সন্গীর অভাব বোধ করে এ নিয়ে বিস্তর গবেষনার পরও কোন ফলাফলে পৌছোতে পারা আমার দ্বারা সম্ভব হয়নি। গন্যমান্য মানসিক চিকিৎসকেরা হয়তো গবেষনার মাধ্যমে ভাল একটা ফলাফলে পৌছতে পেরেছেন এই ব্যাপারে।

বেশ ক’বছর আগে কোন এক পত্রিকায় ছোট্ট একটা নিবন্ধ পড়েছিলাম। যুক্তরাষ্ট্রের কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈনক গবেষক বৃন্দ মানবদেহে একটি হরমোন আবিষ্কার করেছেন যা মানুষের ভালাবাসা/প্রেম কে নিয়ন্ত্রন করে। হরমোনের খটোমটো নামটি এই মূহুর্তে মনে করতে পারছিনা বলে সবিনয় ক্ষমাপ্রার্থী। যাই হোক, সেই হরমোন কোন মানুষের দেহে নি:সৃত হলেই সেই মানুষটির মনে প্রবল প্রেম ভাব জেগে উঠে। তখনই মানুষ প্রেমে পড়ে বা কাউকে ভালবাসতে চায়। প্রত্যেক মানুষের জীবনেই নাকি কোন একসময় আসে যখন হরমোনটি নি:সৃত হয় এবং প্রবল ভালবাসার আবেগের তোড়ে সে ভেসে যেতে চায়, কাউকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়।

আমার কাছে থিওরীটি নিতান্তই উদ্ভট মনে হলেও গবেষকদল এখানেই থেমে থাকেননি। তারা আরও বলেছেন, ঐ হরমোন নি:সৃত ভালবাসা নাকি পরবর্তী জীবনে আর স্হায়ী থাকেনা। হরমোনের প্রভাব চলে গেলেই তা হয়ে উঠে দৈনন্দিন অভ্যেস, বা পারস্পরিক নির্ভরতার শেকল। দুইজন মানুষ একসাথে চলার কারনে তাদের মাঝে এক ধরনের নির্ভরতা তৈরী হয়, এক ধরনের অভ্যেসের জালে তারা জড়িয়ে পড়েন বলেই তারা পরস্পরকে ভালবাসতে থাকেন। ওটা পড়ার পর থেকেই মনে বার বার প্রশ্ন জাগে, আসলেই কি ভালবাসা এক সময় অভ্যেসে পরিনত হয়? সত্যিকার ভালবাসা কি এক সময় সত্যিই মরে যায়?

ভালবাসার শরীর নিয়ে নিরন্তর গবেষনায় চেতনাহানী হয় আমার। আরো অনেক পরে হুমায়ূন আজাদের একটি উক্তি বেশ ভাবিত করেছিলো। “মানুষ প্রেমে বাঁচেনা, মানুষ বাঁচে কামে”। শরীরের এই অপরিহার্যতাকে আমরা কখনোই উপেক্ষা করতে পারিনা। কিন্তু প্রিয় লেখক আমার প্রেমকে সম্পূর্ন উপেক্ষা করেছেন প্রবল অবহেলায়। “নারী” গ্রন্থের “প্রেম ও কাম” পরিচ্ছেদটি পাঠের পর আমার অস্তিত্ব এক নিকশ কালো অন্ধকারের গহীনে হারিয়ে যায়। আসলেই কি প্রেম মানুষের বেচে থাকার জন্য অপরিহার্য নয়, নিছকই পুরুষতান্ত্রিক ছলাকলা? এবং মানবজীবনে কামই অপরিহার্য প্রবলভাবে? এই যদি হয় তবে কামের শুরু কোথায়? শরীর নাকি বোধের অন্তর্গত অন্য কোন জগতে?

ভালবাসার শরীরটা তাই আজও আমি বুঝতে পারিনা। পিতা-মাতার সাথে সন্তানের, ভাইয়ের সাথে বোনের, বন্ধুর সাথে বন্ধুর ভালবাসার রসায়ন আমি আজও বোধ করতে পারিনি আমার মানসিক অস্তিত্ব দিয়ে। হয়তো এসবই আমার মানসিক সীমাবদ্ধতা বা আমার বোধের বাইরের কোন জগতেই এহেন কার্যকলাপের মূল নিহীত। ভালবাসায় যদি শরীরই মুখ্য হয় তবে কেন এইসব বিমূর্ত সম্পর্কের শেকল?

ভাবনা আমার মনে প্রচন্ড ভাবে জাকিয়ে বসে। ভাবতে ভাবতেই আমি এক ভালবাসা দিবস থেকে আরেক ভালবাসা দিবস বছরের পর বছর গুনতে থাকি। কোন কূল কিনারা খুজে পাইনা। বিহ্বল হই, হতাশ হই, ভেন্গে পড়ি, জেগে উঠি। তেমনি ভাবে ভেন্গে পড়তে পড়তে জেগে উঠতে উঠতে হঠাত আবার হুমায়ূন আজাদের একটি কথা মনে পড়লো আজ।
কোন এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন যে দেশে প্রত্যেক যুবাদের যদি সম্পুর্ন নিজস্ব একটি কক্ষ থাকতো তবে আর তারা পথে ঘাটে শরীর-সর্বস্ব প্রেম করে বেড়াতোনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন একটি ভবনে তার দুই ছাত্র ছাত্রীকে চুম্বনরত অবস্হায় দেখে তার এহেন মন্তব্য। আমি তার মন্তব্যটি নিয়ে প্রায়ই ভাবি এবং হতাশ হই। আমাদের এই দরিদ্র পীড়িত দেশের যুবারা কোথায় পাবে একান্ত নিজস্ব একটি কক্ষ যেখানে তারা একে অপরের শরীর ক্ষুধা নিবারন করবে? অথবা প্রেম করবে? প্রেম বলতে হয়তো শরীরের ক্ষুধা নিবৃত্তিকেই বোঝায়।

মানুষের ভালবাসাবাসি দেখার জন্য প্রত্যেক বছর ১৪’ই ফেব্রুয়ারী ঢাকা শহর ঘুরতে বের হবার জের ধরে আজও বের হয়েছিলাম। আমি প্রচন্ড আশাবাদী মানুষ। মানুষের আনন্দ দেখলে আমি আমার মনেও পুলক জাগে। বাসে বাসায় ফেরার সময় আমার সামনের সিটেই ২০/২২ বছেরর যে প্রেমিক/প্রেমিকা যুগল বসেছিলেন তারাই আমাকে পুনরায় প্রয়াত হুমায়ূন আজাদের উক্তির কথা স্মরন করিয়ে দিয়েছেন, এবং এই লেখাতেও তাদের অবদানের কথা আমি অস্বীকার করবোনা। তারা হয়তো আদতে কল্পনা করেননি পেছনে একজন যাত্রীরূপী ব্লগারকে তারা একটি লেখার রসদ উপহার দিচ্ছেন কর্মকান্ডের মাধ্যমে। যুগলটির কাছে আমি অশেষ কৃতজ্ঞ।

আমি হয়তো একটি কবিতা লিখতে পারতাম, সৃষ্টি করতে পারতাম কোন উপমা, প্রতীক অথবা চিত্রকল্প। মেয়েটির কোমর প্যাচানো প্রেমিকের ঐ হাতকে আমি মনে করতে পারতাম পূর্নিমার চাঁদকে নিয়ে কেলিরত এক সূর্যদেব, মেয়েটির স্তনের কমোলতাকে আমি মনে করতে পারতাম ভোরের আলোয় রান্গা ঝাক ঝাক নরোম কপিপাতা, প্রেমিকার লাজুক লাজুক হাসিকে আমি মনে করতে পারতাম একখন্ড ঝিনুক ব্যাধি, প্রেমিকার কাঁধে প্রেমিকের প্রতিটি চুম্বনকে আমি মনে করতে পারতাম রূপালী জোছনার আলোকছটা, দুধের মতো সাদা ঐ সমভূমিতে চুমুর দাগটিকে মনে করতে পারতাম লান্গলের ক্ষত চিহ্ন, মেয়েটির অজানুলম্বিত কেশে আমি গড়ে তুলতে পারতাম লক্ষ-কোটি নিয়ন আলো, প্রেমিকের চোখের কামকে আমি তুলনা করতে পারতাম ঐ লম্পট চাঁদের আলোর সাথে, প্রেমিকার দেহের শিহরনকে আমি রূপ দিতে পারতাম কোন অসাধারন চিত্রকল্পে, পাশে বসা যাত্রীর অস্বস্তীকে আমি রূপ দিতে পারতাম দীর্ঘ কোন ছন্দময় পংক্তিতে, আমার নিজের উপলব্ধিকে আমি সর্বোপরি একটি কবিতায় রূপ দিতে পারতাম।

কিন্তু আমি তা করতে চাইনা বা করতে পারিনা নিতান্ত অবহেল বশ:ত। তাদের এহেন কর্মমালা আমাকে খুব হতাশ করে এবং আমি মনে মনে অনেকবার উদ্ধত হই তাদের ডেকে কিছু একটা বলার জন্য। আশপাশের মানুষের অস্বস্তি আমাকেও অস্বাস্তিতে ফেলে দেয়। নিজের অনেক সীমাবদ্ধতার কারনে আমি কিছুই বলতে পারিনা। আমি তাদের বলতে গিয়েও বলতে পারিনা, হে তরুন-তরুনী যদি আমার সাধ্য থাকতো তবে আমি তোমাদের আজ আমার বাসার একটি কক্ষ ছেড়ে দিতাম। তোমরা যতো খুশী প্রেমে ভাসতে পারতে, কামে হাবুডুবু খেতে পারতে, উর্বর জমিতে লান্গলের সংঘর্ষে তোমরা ফসল ফলাতে পারতে, হে প্রেমিকা তুমি ফসল ফলাতে, তোমার জমিতে বীজ আসতো, তুমি গর্ভবতী হতে, আমার কক্ষটি গর্ববোধে ভাসতো, তোমার লান্গল প্রবল আবেগে তোমাকে বিদ্ধ করতো, তুমি কামকলার চারটি স্তর ভেদ করে ভেন্গে পড়তে, আবার গড়ে উঠতে লান্গলের চিতকারে, নুয়ে পড়তে শিশ্নের কাঠিন্যে।

আমি অধম তেমন কিছুই করতে পারিনা। আমি শুধু হুমায়ুন আজাদের উক্তিটিকে নাড়াচাড়া করতে থাকি। স্বার্থপরের মতো পুরো অস্তিত্বজুড়ে ফনা তুলে অমোঘ কাল-কেঁউটে। আমার অন্তর তথা মুখে জেগে ওঠে নিষ্ঠুর হাসি। আমি তাদের মনে মনে ধন্যবাদ দিই, চরম কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে তাদের প্রতিটি কর্মসাধনকে রূপান্তরিত করি কবিতার একেকটি পংক্তিতে এবং ভাবতে থাকি ব্লগে পরবর্তী লেখার উপজীব্য উপাত্ত নিয়ে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28911297 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28911297 2009-02-14 23:08:01
শিবিরের জন্মদিনে সামী'র ব্লগীয় অনুভুতি
আজও দেশে অনেকে জন্মেছে। অনেকেই হয়তো জন্মায়নি। না জন্মেই তারা চিরবিলীন হয়ে গিয়েছে মহাকালের গর্ভে। এই দিনে আরও অনেকেই জন্মেছিলেন, অনেকে জন্মাবেন। আমিও হয়তো এই দিনে জন্মাতে পারতাম। কিন্তু আমি এইদিনে জন্মাইনি। আমি আমার মা-বাবা’র কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ যে আমাকে এই দিনে জন্মানোর জন্য তারা কোন জৈবীক প্রক্রিয়ায় অংশ নেন নি। এই দিনে জন্মালে হয়তো আমি আজকের সামী হতাম না। হয়তো অন্য কিছু হতাম।

এটা ভেবেই আমার আনন্দ জাগে। আমি এই দিনে জন্মাইনি। আরও অনেক কিছুর জন্য আমার আনন্দ জাগে। কলেজে পড়ুয়াকালীন সময়ে ক্যাম্পাসে ক্যান্টিনের সামনে বসে আমরা বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিতাম। জোহরের আজান হলেই কোন এক বিশেষ সংগঠনের নেতারা এসে আমাদের নামাজের দাওয়াত দিতেন। আমাদের মাঝে অনেকেই যেত, বেশীরভাগই যেতনা। এই না যাওয়ার দলে থাকতেই আমি সচ্ছন্দ এবং আনন্দ বোধ করতাম। আমি অনেক আনন্দ বোধ করাতাম, উল্লসিত হতাম, নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতায় আমার মন ভরে যেত।

আমার বন্ধুদের এই নামাজে না যাওয়ার পেছনে হয়তো লক্ষ-কোটি কারন ছিলো। আমার একটাই কারন ছিলো। কোন শিবির কর্মীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ পড়া আর যাই হোক সামী’র জীবনের সাথে যায় না। শিবির কর্মী আর সামী একসাথে একই কাতারে দাড়িয়ে একই ঈমামের পেছনে দাড়িয়ে নামাজ পড়ছে, ভাবতেই আমার মনটা বিষিয়ে উঠতো। এই বিষটুকু আমার অন্তরে হয়তো আজীবনের জন্য শেকড় গেড়ে বসে আছে। আমি এই বিষটুকুকে খুব উপভোগ করি।

তখন বেশ ছোট ছিলাম। বয়স ৮/৯ হবে। সময়টা হবে ১৯৮৮/৮৯ এর দিকে। সিলেটে থাকতাম। স্কুলে যাই, খেলাধূলা করি, কমিক পড়ি, বাবার হাত ধরে বাজারে যাই, ফুপি-চাচুদের আদর খাই, মাঝে মাঝে দুষ্টুমি করলে মা-বাবা’র বকা খাই। অনেকটা ডেল কার্নেগীর দুশ্চিন্তাহীন জীবন। জীবনটা খুব দুশ্চিন্তহীন থাকেনা। চিন্তা এসে ভিড় করে নিশ্পাপ শিশু মনে। তখন আর মনটাও নিশ্পাপ থাকেনা। বিষে ভরে ওঠে। তীব্র-ঘৃন্য বিষ।

মনে পড়ে সময়টার কথা। বাবা বাগানে কাজ করছিলেন। বাবার পাশে আমি দাড়িয়ে বল দিয়ে খেলছিলাম। হঠাত একটি হোন্ডা মটরবাইক চালিয়ে দু'জন (তিনজনও হতে পারেন) এসে আমাদের বাসায় হাজির হলেন। বাবাকে এসে একটি খবর দিলেন। বাবার নাম ধরে বললেন, "ভাই, মুনীরকে ওরা স্ট্যাব করেছে। ড্রেনে ফেলে রেখে গিয়েছে।" বাবাকে বিহ্বল অবস্হায় দেখলাম তাদের সাথে আলাপ করছেন। "স্ট্যাব" শব্দের মানে আমি তখন জানতাম না। এখনও জানিনা। আমার কখনো এই শব্দের অর্থ জানতে ইচ্ছে হয়নি। "স্ট্যাব" শব্দটি আমার কাছে একটি মূর্তিমান বিভিষিকা।

সেদিন ৫ টি স্ট্যাব করা হয়েছিলো মুনীরকে। সে পড়েছিলো সিলেটেরই কোন এক রাস্তার পাশে ড্রেনে। খুনীরা কিরিচের আঘাতে জর্জরিত করে তাকে ড্রেনে ফেলে রেখে গিয়েছিলো। তারা হয়তো "নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার" বলে আঘাত করেছিলো কিরিচ দিয়ে। তারা হয়তো কোরানের বানীও উচ্চারন করেছিলো। তাদের একটুও হাত কাপেনি রামদা চালাতে, কিরিচ চালাতে, রক্ত ঝরাতে। তারা ছিলো ইসলামের সৈনিক। তারা ছিলো শিবির সৈনিক। তারা মুনীরকে হত্যা করেছিলো নির্মম ভাবে।

মুনীর। আমার মেঝ ফুপির সবচেয়ে ছোট দেবর। ১৯৮৮/৮৯ এর দিকে তিনি সিলেট এম, সি কলেজে পড়তেন। জাসদের রাজীনতি করতেন। ৮ ভাইবোনের মাঝে সবচেয়ে ছোট। সবার পরে এসেছিলেন। সবার আগেই চলে গেলেন। শিবিরের ইসলামী সৈনিকেরা সেদিন একজন পিতাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তু উপহার দিয়েছিলেন। তার আদরের ছোট ছেলের লাশ।

মুনীর চাচুর একটা স্মৃতিই আমার মনে আছে। আর কোন স্মৃতি আমি ইচ্ছে করেই মনে রাখিনা। আমাকে কোলে বসিয়ে তিনি একটি ম্যাজিক দেখিয়েছিলেন ফুপির পানচিনির সময়। হাতের মধ্যমা আর তর্জনী দিয়ে একটি মজার ম্যাজিক। অনেক বছর পর আমি আমার ৫ বছর বয়েসী ভাগ্নিকে কোলে বসিয়ে এই ম্যাজিকটি দেখিয়েছিলাম। আমার স্মৃতিপটে তখন মুনীর চাচুর ম্যাজিক দেখানোর দৃশ্যটি ভেসে উঠেছিলো। তবে আমি তার মতো লাশ হইনি। কেউ আমাকে কুপিয়ে ড্রেনে ফেলে যায়নি।

খবরটি পাওয়া মাত্র বাবা সাথে সাথে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তখন আমাদের বাসায় টেলিফোন ছিল না। বাবা’র মুখে শুনেছি সেদিন সারা রাত তারা সবাই এদিক ওদিক রক্তের জন্য ছুটেছিলেন। অনেক রক্তের প্রয়োজন ছিল আর মুনীর চাচুর রক্ত ছিলো খুব দূর্লভ। ও নেগেটিভ। যার কারনে এদিক ওদিক ছুটোছুটি করেও তারা খুব একটা রক্ত জোগাড় করতে পারেন নি। বাবা সেদিন বলছিলেন এসব খুব আক্ষেপ করে। পরেরদিন অনেকেই ওসমানী হাসপাতালে ভিড় করেছিলেন রক্তে দানের জন্য। কিন্তু তখন সব শেষ।

আর বিশেষ কোন স্মৃতিই আমার মনে নেই। তবু অনেক চেষ্টা করেও আমি ভুলতে পারিনি মুনীর চাচুর সেই অন্তিম শয়নের দৃশ্য। মৃত্যুর কিছু আগে হাসপাতালে তাকে আমি দেখতে গিয়েছিলাম। তখনও তিনি মৃতই ছিলেন। তার পাশের বেডে ছিলেন জুয়েল নামক আরেকজন।

যতটুকু মনে পড়ে জুয়েল ছিলেন খুবই কম বয়েসী। এসএসসি পাশ বা এই রকম কিছু একটা। আমি তাকেও দেখতে গিয়েছিলাম। তাকেও আমার মৃতই মনে হয়েছে। আরেকজন হিন্দু ছিলেন তাদের সাথে। তপন। বিয়ে করার কথা ছিলো কিছুদিন পর। কিন্তু বিয়ে আর করা হয়নি। শিবিরের কিরিচ তাকে বিয়ে করতে দেয়নি। তাদের সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা তেমন। তাই বলা হলোনা তাদের গল্প। চোখ বুজলেই তাদের নাম আমি দেয়ালে দেয়ালে লেখা দেখতে পাই।

এই ঘটনার পর পুরো সিলেট উত্তাল রূপ ধারন করে। চারিদিকে শুধু মুনীর-তপন-জুয়েল। আমি যেদিকেই যেতাম দেয়ালে দেয়ালে শুধু তাদের হত্যার বিচার চেয়ে স্লোগান লেখা থাকতো। সিলেটের এমন কোন দেয়াল নেই যা এদের খুনীর বিচারের দাবী চেয়ে শ্লোগান দেয়নি। আমি সেইসব দু:সহ স্মৃতি নিয়ে বড়ো হচ্ছিলাম।

মানুষের ছোটবেলা যেখানে ভরপুর ছিলো অনেক অনেক মধুময় স্মৃতিতে সেখানে শিবিরের সৈনিকেরা আমাকে উপহার দিয়েছিলেন হত্যার স্মৃতি, ধ্বংসের স্মৃতি, রক্তের স্মৃতি, বিষাদময়তার স্মৃতি, শ্লোগানের স্মৃতি, নি:সংশতার স্মৃতি। আমি তাদের কাছে অশেষভাবে কৃতজ্ঞ।

সেই কৃতজ্ঞতা আমি এখনও বয়ে বেড়াচ্ছি। শিবির দেখলেই ঘেন্নায় আমার মুখ থুথু তে ভরে যায়। আমার খুব ইচ্ছে হয় তাদের মুখে থুথু দেই। তাদের কে জিজ্ঞেস করি ইসলামকে বিক্রি করে, ইসলামকে বিকৃত করে, ইসলামকে পন্য বানিয়ে তাদের কেমন মুনাফা হচ্ছে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয় মুনীরকে আঘাত করার সময় তারা কি একবারও নিজের ভাইটির কতা ভেবেছিলো, জুয়েলকে খুন করার সময় একবারও কি তারা ভেবেছিলো একটি সদ্য কলেজ পড়ুয়া কিশোরের কথা? তপনের কথা বাদই দিলাম, সে বেচারাতো ছিলো মূর্তাদ-হিন্দু।

আমার তাই শিবির দেখলেই মনটা বিষিয়ে ওঠে। মুখটা ভরে ওঠে ঘৃণ্য থুথু তে, বমি আসে। ইচ্ছে করে আমি গলগল করে শিবিরের মুখে বমি করে দিই। কিন্তু বাস্তবে আমি তা করতে পারিনা। আমার সীমাবদ্ধতা আমাকে তা করতে দেয়না। তবু আমি চেষ্টা করি।

কলেজের প্রথম দিনই আমাকে শিবিরের পাল্লায় পড়তে হয়েছিলো। বাবা-মা’র সাথে ফর্ম আনতে গিয়েছি। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এম.সি কলেজে। অনেক স্মৃতি জড়ানো এই কলেজকে ঘিরে। শিবিরের একজন আমার সাথে কথা বলতে এলেন। তখন বুঝতে পারিনি তিনি শিবির। পরে বুঝেছিলাম। আমাকে নামধাম জিজ্ঞেস করতেই তিনি এমন ভাবে কথা (এখন সত্যিই মনে নেই) বলা শুরু করেছিলেন সাথে সাথেই আমি বুঝে গিয়েছিলাম তিনি কি। তাকে উত্তর দিয়েছিলাম, ভাইয়া কলেজে ছাত্ররাজনীতি ভাল না। আর ইসলাম নিয়ে রাজনীতি তো আরো খারাপ। তিনি আর কিছু বলেননি। প্রথম দিনই হয়তো এতো ঘাটাতে চাননি। বাবা আমাকে সেখান থেকে নিয়ে এসেছিলেন। পরে এ নিয়ে বকা খেতে হয়েছিলো এভাবে উদ্ধত ভাবে কথা বলার কারনে।

আমি সেদিন খুব তৃপ্তি পেয়েছিলাম। হয়তো কিছু্ই না। কিন্তু সদ্য মেট্রিক পাশ করা একটা ছেলের কাছে এটাই হয়তো অনেক কিছু ছিলো। পরে এই শিবির কর্মীরাই আমাদের নামাজের দাওয়াত দিতেন। ইসলামী সন্গীত শোনাতেন। দলবেধে আমাদের কাছে আসতেন নামাজের দাওয়াত দেয়ার জন্য। আমি দলের পেছন থেকে সটকে পড়তাম। আমার তাদের সাথে কথা বলার রুচী হতোনা। আমার বমি পেত, ঘেন্না হতো। শিবির কর্মীর মুখে ইসলামের বানীত, নামাজের দাওয়াতে আমার কিশোর মন বিদ্রোহী হয়ে উঠতো। তাদের কে আমার খুনীদের উত্তরসূরী মনে হতো। তাদের হাতেও আমি টাটকার রক্তের দাগ দেখতে পেতাম, কিরিচের হুন্কার দেখতে পেতাম, রামদার ঝনঝনানি শুনতে পেতাম। তাই এরকম নীরবে নিভৃতে হয়তো মুনীর-তপন-জুয়েলের এক বিন্দু রক্তের ঋনও আমি শোধ করতে পেরেছিলাম।



(ব্লগার সুদীপ্ত একটি পোষ্টে জিজ্ঞেস করেছিলেন মুনীর-তপন-জুয়েল কে? প্রশ্নটা শুনেই অনেক স্মৃতি এসে মনকে বিষিয়ে দিলো। মন্তব্যের উত্তরে এতোকিছু বলা সম্ভব ছিলোনা বলেই এই পোষ্টের অবতারনা।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28907707 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28907707 2009-02-06 23:54:53
একেই বলে সংশয়বাদের বিবর্তন (উৎসর্গ: ৩ নম্বর চোখ)<img src='http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_17.gif' />
অনেকভাবে চেষ্টা করেও যখন সকল চেষ্টা বিফলে যায়, নিজেদের আদর্শকে যখন তারা দেখে ব্লগীয় ধূলোয় লুটোপুটি খাচ্ছে, তখন তারা নিত্য নতুন সব লেখনীশক্তি নিয়ে বিপুল বিক্রমে ঝাপিয়ে পড়ে।

তারা এখন আইনের বুলি কপচায়। আগে তারা কপচাতো পরিসংখ্যানতত্ব, ধর্মতত্ব এবং আরো অনেক অনেক নোংরা আবর্জনা। সকল আঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে তারা আইনতত্বের দ্বারপ্রান্তে এসে কড়া নাড়ে। ধীরে ধীরে ব্লগার মনকে তথা সমাজকেই কলুষিত করার অপপ্রয়াস পায় তারা।

এমন বিবর্তনে আমি হতাশাগ্রস্ত হইনা। আমার বেশ আনন্দ জাগে। আমি বিমলানন্দ পাই। এবং মুচকি মুচকি ইসলামী হাসি হাসতে থাকি।<img src=" style="border:0;" />


(তিন নম্বর চউখরে উতসর্গিত)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28906399 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28906399 2009-02-04 00:59:28
স্বার্থান্বেষী ধার্মিক
গতকাল অনেকদিন পর জুমআ'র নামাজে গেলাম। তাও আবার ইজতেমার ময়দানে। গিয়ে এমনি অনুভূতি হলো যে আমি হয়তো স্বার্থান্বেষী ধার্মিকে পরিনত হচ্ছি। জীবনটা হয়তো কেটে যাবে পার্থিব-অপার্থিব সব স্বার্থকে সফল করার প্রচেষ্টায়। তাই হয়তো ধর্মকেও নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার অবলম্বন হিসেবে আমি বেছে নিই। ধর্ম হয়ে উঠে রাজনীতির হাতিয়ার।

এমনিতে ধর্মের প্রতি আমার প্রবল বিরাগ। অনেক অনেক অনুভূতির মতো এই ধর্মানুভূতিটুকুও আমার প্রায় মরতে বসেছে। একদিন হয়তো দেখা যাবে আমি শোকরানা নামাজ পড়ে এই অনুভূতিকে আজিমপুর গোরস্তানে গিয়ে সমাহিত করে আসবো বিপুল বেদনায়। এই অনুভূতিটুকু অনেক চেষ্টায়ও আমি তাড়িয়ে দিতে পারিনা শুধু স্বার্থান্বেষী মনোবৃত্তির কারনে।

নামাজ পড়িনা অনেকদিন। রোজাও রাখিনা। রোজাকে বলি উপোষ করা। সংযম বলতে যা বোঝায় তা হয়তো করা হয়ে উঠবেনা আজীবন। সর্বদা মনে এক অজানা লোভ নিয়ে ঘুরে বেড়াই। গাড়ীর লোভ, বাড়ির লোভ, নারীর লোভ...কতশত এমন হরেক রকম লোভ। আমি সংযমী হতে পারিনা। এই সমাজ-সংসার আমাকে সংযমী হতে শেখায় না।

হয়তো মুসলমানের তালিকা থেকে নামটি কাটাই গিয়েছে। দিনের পর দিন আমি ধর্মবিরাগী হয়ে দিন কাটাই নিদারুন আনন্দে, দুশ্চিন্তাহীন। শুধু নিজের কোন স্বার্থ দেখা দিলেই আমার মনে খোদাভক্তি জেগে ওঠে, স্বর্গের লোভ জেগে ওঠে, নরকের ভয় জেগে ওঠে, চোখের সামনে আমি স্বর্গীয় হুর-পরীর উন্মত্ত কাম-লীলা দেখতে পাই।

পরীক্ষার আগে আমি খোদা ভক্ত হয়ে উঠি, বিপদ-আপদ-জরা-জীর্নতা আসলেই আমি ধর্মকে অবলম্বন করার প্রয়াস পাই। চাকুরীর ইন্টারভিউর আগে আমাকে প্রায়ই জায়নামাজে দেখা যায়। চোখ থেকে হয়তো ফোটা ফোটা অশ্রুও পড়ে। বরাতের রাত, কদরের রাতে আমি নির্ঘুম রাত কাটাই। সবই স্বার্থ চরিতার্থের জন্যেই হয়তো। ধর্ম প্রেম আমার মনে খুব একটা বাসা বাধতে পারেনা। এমনিতে মুহম্মদ কে আমি আমার প্রিয় মানুষ হিসেবে ভাবতে পারিনা। আমার মনে কখনোই মুহম্মদ প্রেম জেগে ওঠেনা।

মুহম্মদকে কেউ আঘাত করলেও আমি প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠিনা। তার প্রতি কোন পার্থিব-অপার্থিব-মায়াময় কোন টান অনুভূত হয়না আমার মনের অন্দরে। ভাবি এটিতো পুরনো অতীতের পুনরাবৃত্তি। আমার ধর্মানুভূতি আহত হয়না, তাকে নিয়ে আমার পিজি, ডিএমসি, ল্যাবএইডে দৌড়াতে হয়না, ক্ষত থেকে বের হয়না অবারিত শোনিতধারা। যদিও সময়-অসময়ে মুহম্মদকে অবলম্বন করেই আমাকে বেঁচে থাকতে হয়। তাঁর মাঝে আমি আমার স্বার্থকে খুজে পাই।

তেমনি আমি অনেকের প্রতিই কোন টান অনুভব করিনা। জগতটাই হয়তো এমন বস্তুতান্ত্রিকতায় ভরপুর। মনে পড়ে, আমার এক দাদা'র মৃত্যুর পর আমি খুব কাঁদছিলাম। বাবা এসে সান্তনা দিলে তাঁকে আমি জিজ্ঞেস করি, "আমার নিজের দাদার প্রতিও তো আমার এতো টান নেই, তবে এই দাদা'র প্রতি এত টান কেন?" বাবা কোন উত্তর দেইনি। আমি এখন হয়তো তার উত্তর জানি। আমি আমার নিজের দাদা'র সান্নিধ্য পাইনি। জগতটা এভাবেই হয়তো আমার ছোট হয়ে আসে।

মানুষ হিসেবে নিজের সীমাবদ্ধতাকে কখনোই ছোট করে দেখতে ইচ্ছে হয়না। এইসব সীমাবদ্ধতাই হয়তো আমাকে স্বার্থপর করতে সাহায্য করে। কানে কানে দিয়ে যায় আমূল শয়তানী স্তবক বানী। শয়তানী স্তবকে আমিও পরিনত হই এক আমূল শয়তানে। আমি আমার সীমাবদ্ধতাকে, নিজের অজ্ঞানতাকে আকড়ে ধরেই বেড়ে উঠি। পরিনত হই শয়তানে। হয়ে উঠি স্বার্থপর। এক স্বার্থান্বেষী ধার্মিক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28904746 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28904746 2009-01-31 12:23:21
প্লোটোনিক লোভ!!!
ঐসব অবয়ব যখন চোখের সামনে ভেষে ওঠে অদ্ভুত এক লোভ খেলা করে মনের গহীনে। জন্মগত ভাবেই লোভটুকু হয়তো হৃদয় কটোরে লালিত হয় নিদারূন অবহেলায়। একদিন জেগে ওঠে মহীরূহের মতো। তবুও আত্মবিধ্বসী হতে হতে সমর্পন করি নিজেকে ঐ লোভের বালুচরে। ডুবে যাই, তাড়িত হই লোভের যন্ত্রনায়।

লোভটুকুকে কোন ভাবেই সংবরন করা যায়না। অদ্ভুত এক ভ্রান্তিময়তা ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র অস্তিত্বে। দৃষ্টির বিভ্রান্তিতে লোপ পায় স্বতস্ফুর্ত স্বাভাবিকতা। শুনতে পাই গুঢ়-গুঢ় সমর ধ্বনি। জগত জুড়ে দেখি লোভায়িত, লালাময় দৃষ্টি। এক নিমিষে যা গ্রাস করে সৃষ্টির সৌন্দর্য্যকে। লোভায়িত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি। মনের দেয়াল বেয়ে পড়ে ফোঁটা ফোঁটা অগ্নি-স্ফুলিঙ। নিজেকে করে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার। পড়ে থাকে থোকা থোকা ছাইভষ্মের নির্মিত পিরামিড।

এটাকে তাই বাস্তবসম্মত ভাবতে ভয় হয়। বাস্তবিকভাবে এমনতর লোভ সহ্য করা নিতান্তই দুঃসহ যন্ত্রনার সাথে নিরন্তর বন্ধুত্ব। তবুও প্ল্যাটোনিকতা থেকে বের হয়ে তা আছড়ে পড়েনা কামনার শারীরিক দেয়ালে। সৃষ্টি করেনা অদ্ভুত কোন রূপময়তা। লোভটুকুও আমার লভের মতোই প্ল্যাটোনিক থেকে যায়।



(এই টপিক নিয়া হইতে পারতো হাস্যরসে ভরপুর একখান বুলেট রম্য। প্ল্যাটোনিক লভ ভার্সেস প্ল্যাটোনিক লোভ। কিন্তু এখন কি থাইকা কি হইয়া গেল বুঝতে না পাইরা আমি কিন্চিত ভীত!!!!)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28904567 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28904567 2009-01-31 00:09:06
মসজিদের পবিত্রতা, মসজিদের অপবিত্রতা (উৎসর্গঃ জাতীয় মসজিদে যারা জুতাকে অস্ত্র বানিয়ে মারামারি করেন)
“জানিস, গীর্জা আর মসজিদের মাঝে পার্থক্যটি কোথায়?”

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কোথায়?”

“গীর্জা পবিত্রতা বোঝাতে তার আগে “পবিত্র” শব্দটি জোড়া দিতে হয়, কিন্তু মসজিদের আগে কোন “পবিত্র” শব্দ লিখতে হয়না। মসজিদ এমনিতেই পবিত্র। কিন্তু গীর্জার পবিত্রতা এমনিতে প্রকাশ পায়না। লিখে প্রকাশ করতে হয় যে তা পবিত্র। আমাদের মুসলমানদের অন্তর-মগজ সবকিছুতেই এটি ট্রেডমার্কড যে মসজিদ একটি পবিত্র স্হান, আল্লাহর ইবাদতের স্হান।”

মসজিদ ও গীর্জার তুলনামুলক নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা শেষে বন্ধু চুপ করলো। আমিও চুপচাপ তার কথাগুলো নিয়ে মাথার ভেতর নাড়াচাড়া করছিলাম। মনে হলো, সত্যিই তো মসজিদ কতো পবিত্র! আমরা সেখানে নামাজ পড়ি, আল্লাহ’র ইবাদত করি, দোআ ভিক্ষা চাই, পাপের প্রায়শ্চিত্ত করি, স্বীয় অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি। চারিদিকে শুধু আল্লাহ আর আল্লাহ, খোদার বিচরনে আমরা ভীত হই। মসজিদের পবিত্রতায় আমরা নুয়ে পড়ি।

পরবর্তীকালে অনেক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে “পবিত্র” শব্দটিকেই আমার কেন জানি ততো পবিত্র মনে হতো না। এখনও হয়না। এখন তো কোন কিছু পুত-পবিত্র শুনলেই মনে প্রশ্ন জাগে, “কেন পবিত্র? এটি কি শ্বাশত ভাবেই পবিত্র? নাকি শত আপেক্ষিকতার দায়ভারে এটি ন্যুজ। এটি কি সত্যি সত্যিই পবিত্রতার দাবীদার? যারা পবিত্র বলে দাবী করছেন তারা নিজেরা কতটুকু একে পবিত্র বলে মানছেন? নাকি এটি কোন চিরাচরিত ভন্ডামী?” এসব নানা হাবিজাবি প্রশ্ন মনে দানা বাধতে থাকে। “পবিত্র” শব্দটিই আজ অপবিত্রতার পরাকাষ্ঠাই বন্দী।

কোন কিছু যখন পবিত্র বলে দাবী করা হয়, দেখা যায় এটি কোন এক গোত্রের কাছে পবিত্র। মুসলমানের কাছে কোরান এবং মসজিদ পবিত্র, হিন্দুর কাছে গীতা এবং মন্দির পবিত্র, খ্রীষ্টানের কাছে বাইবেল এবং গীর্জা পবিত্র, বৌদ্ধের কাছে ত্রিপিটক এবং প্যাগোডা পবিত্র। এক গোত্র আরেক গোত্রের পবিত্রতাকে এক লহমায় নাকচ করে দিচ্ছেন। একজন মুসলমান কোরান পাঠের সময় অজু করে পাক-পবিত্র হয়ে যেমন সম্মান প্রদর্শন করেন, সেই একই মুসলমানের গীতা, বাইবেল অথবা ত্রিপিটক পাঠের সময় তেমন পাক-পবিত্র হতে হয়না, সম্মান প্রদর্শন করতে হয়না। হিন্দু, খ্রীষ্টান অথবা বৌদ্ধের বেলায়ও তেমনি একই কথা প্রযোজ্য।

বেশ আগে আমার এক বৃদ্ধা দাদী আমাদের বাসায় বেড়াতে এসে পড়ার টেবিলের উপর একই সাথে কোরান এবং বাইবেল রাখা দেখে আমার দিকে এমন ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন যেন আমি জলজ্যান্ত শয়তান। আমিও বেশ অপ্রস্তুত বোধ করেছিলাম, দাদীর ধর্মানুভূতিতে নিদারুন এই আঘাত প্রাপ্তির কারনে। বেশীর ভাগ মুসলমানই হয়তো এভাবে ঘৃনার দৃষ্টিতেই আমার দিকে তাকাবেন। আর এভাবেই আমি অপ্রস্তুত হবো তাদের ধর্মের পবিত্রতা হননের জন্য।

আমার খুব কাছের কিছু বন্ধু হঠাত একবার তাবলীগের চিল্লায় যাবার বন্দোবস্ত করলো। অগ্রদূত আমাদের একজন স্কুল শিক্ষক, যিনি তাবলীগ আন্দোলনের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জড়িত। আমাদের সাথেও উনার দীর্ঘদিন থেকে যোগাযোগ। উনি আমাকেও অনেক চাপাচাপি করেছিলেন, কিন্তু আমি যাইনি। কারন হিসেবে উনাকে বলতে পারতাম যে আমি মসজিদে ঘুমিয়ে মসজিদের পবিত্রতা হনন করার ঝুঁকিতে যেতে রাজি না। কিন্তু পাছে উনার ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে, সেই ভয়ে তাকে ও কথা বলা হয়নি।

উত্তর বন্গে ৪০ দিনের চিল্লা শেষে বন্ধুরা ফিরে এলে তাদের সাথে দেখা করতে গেলাম। অনেক মজার মজার অভিজ্ঞতার কথা তারা শেয়ার করলো। এক বন্ধু বললো সবচেয়ে মজার এবং সবচেয়ে করুন অভিজ্ঞতার কথা।

একরাতে যথারীতি সবাই ঘুমাতে গেল। মসজিদের ভেতরেই সবাই মেঝেতে তোষক বিছিয়ে শুয়ে আছে। ঘুমের ঘোরে সবাই কাতর। হঠাত আমার বন্ধুটির ঘুম ভেন্গে গেল। ঘুম ভাঙতেই সে দেখে যে তার পা’জামার বিশেষ এক স্হান ভেজা। লজ্জায় তার মাথা কাটা যাবার জোগাড়। সে বুঝতে পারলো, সে স্বপ্ন দেখেছে। আর তাতেই তার এই করুন অবস্হা। নিতান্তই গ্রীষ্মকাল ছিল। না হলে তার যে কি হতো? কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই সে গোসল করার উদ্দেশ্যে মসজিদের গোসলখানায় দৌড় দিল।
“তা স্বপ্নে কি দেখলি?” আমি আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করলাম। চোখ আমার চকচক করছে রগরগে একটি কাহিনী শোনার অপেক্ষায়। চোখের সামনে ভেসে উঠলো ঐশ্বরিয়া রাই অথবা প্রিয়াংকা চোপড়ার সাথে ক্রিয়ারত বন্ধুর শয্যা দৃশ্য। আমি আমার লিঙের উথ্থান টের পেলাম।

বন্ধুটি প্রথমে বলতে চায়না এহেন লজ্জার কথা। এমনিতেই স্বপ্নের কথা বলার পর তার বেশ অনুশোচনার ভাব টের পাওয়া যাচ্ছে। সবাই তাকে নিয়ে মুচকি মুচকি নি:শ্বব্দে হাসছে। কিন্তু মুখে কিছু বলছেনা, বন্ধুটির ক্ষেপে যাবার ভয়ে। তো অনেক চাপাচাপি, অনুরোধ, উপরোধের পর বন্ধু মন খারাপ করে বলতে শুরু করলো।

“আসলে ঐদিন আসরের নামাজের পর আমাদের আমীর সাহেব বেহেশতী হুরদের কথা আলোচনা করেছেন। হুরদের রূপ-সৌন্দর্য্য-আচার-ব্যবহার-তাদের গায়ের গন্ধের পবিত্রতা ইত্যাদি নানা বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেছেন। উনার কথা শুনতে শুনতেই আমি বেহেশতী হুরকে কাছে পাবার এক তীব্র আকান্খা বোধ করলাম। মাগরিবের নামাজের সময় অতিরিক্ত দুই রাক’আত নফল নামাজ পড়ে মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে প্রার্থনা করলাম যেন তিনি আমার ইবাদত কবুল এবং মন্জুর ফরমান, যাতে আমি বেহেশতবাসী হয়ে হুরদের সান্যিধ্য পেতে পারি। মন ও শরীরের এই অবদমন হয়তো আমার অবচেতন মন মেনে নিতে পারেনি। তাই হয়তো এমন স্বপ্ন দেখেছি।“

“তা কি স্বপ্ন দেখলি বলে ফেলনা, এতো ফেনাচ্ছিস কেন?” আমি কিন্চিত ধমকে উঠলাম।

“স্বপ্নে দেখলাম যে বেহেশতের একটি বাগান। অতি সুন্দরী এক হুরের সাথে আমি ক্রিয়ারত। যৌনলীলায় মত্ত। এবং তারই ফলস্বরূপ একপর্যায়ে আমার ভেজা পা’জামা। হুরটির রূপের বর্ননা দেয়া অতি কষ্টকর, আমাকে জিজ্ঞেস করবিনা।“ বলেই সে বিড়বিড় করে কি যেন পড়তে লাগলো। চোখ-মুখ লজ্জায় লাল তার।

আমি একটু হেসে গম্ভীর কন্ঠে বললাম, “তাহলেতো দোস্ত এখন মসজিদের আগেও "পবিত্র" শব্দটি লাগাতে হয়। তুমিতো ওটাকে অপবিত্র করে এলে।“

বন্ধুটি চমকে উঠে জিজ্ঞেস করলো, “এতো আগের কথাটি তুই এখনও মনে রেখেছিস?”
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28899705 http://www.somewhereinblog.net/blog/dadaemimasblog/28899705 2009-01-20 00:05:25